10/06/2026
বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতিতে শ্রীরামের স্থান এবং সমসাময়িক কিছু বাস্তবতা।
বাঙালি হিন্দু সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। এই সমাজের সংস্কার ও আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন রাজা রামমোহন রায়। একইসাথে, বাংলা গদ্যসাহিত্যের আদি যুগের অন্যতম পথপ্রদর্শক রামরাম বসু (১৭৫৭-১৮১৩), যিনি এই ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙালি সনাতন স্বকীয়তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম' মহামন্ত্র এবং কৃত্তিবাসী রামায়ণ। অনেকের ধারণা, বাংলায় শ্রীরামের উপাসনা সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়, যা আসলে সঠিক নয়। বাঙালির প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সূচনাও কিন্তু শ্রীরামচন্দ্রের হাত ধরেই হয়েছিল। লঙ্কা জয়ের উদ্দেশ্যে লঙ্কারাজ রাবণকে বধ করতে তিনি শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন।
তবে বাঙালি হিন্দুরা মূলত ঈশ্বরকে 'মাতৃরূপে' আরাধনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। উদাহরণস্বরূপ, দুর্গাপূজার মূল কেন্দ্রজুড়ে থাকেন তিনজন নারী শক্তি (দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী), আর পাশে থাকেন দুজন পুরুষ দেবতা (কার্তিক, গণেশ)। মাতৃপ্রধান এই আরাধনার পাশাপাশি শিব, কৃষ্ণ এবং রামচন্দ্রও সমানভাবে পূজিত হয়ে আসছেন। তাই শ্রীরামকে বাঙালি সংস্কৃতির বাইরে ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
ধর্মীয় অধিকার ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের প্রশ্ন?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অবকাঠামোগত ও ধর্মীয় উন্নয়নে কিছু বৈষম্যের চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি অর্থায়নে দেশজুড়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যা একই সাথে একটি বড় ধর্মীয় কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছে।
অনুপাত ও সমঅধিকারের নীতি অনুযায়ী, জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে অন্তত ৩৯টি মন্দির বা ধর্মীয় কেন্দ্র নির্মিত হওয়া যৌক্তিক ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা তো দূরের কথা, গাইবান্ধায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত একটি মন্দিরে শ্রীরামের মূর্তির উপস্থিতি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আপত্তি তোলার ঘটনা ঘটেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত। এই ধরনের অপশক্তি যাতে সাধারণ মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
-শ্রী তুর্য রুদ্র,
প্রতিষ্ঠাতা,রাম সেবক।