সনাতন ধর্মের জ্ঞান-বিজ্ঞান

সনাতন ধর্মের জ্ঞান-বিজ্ঞান Science of Sonaton

20/06/2025

প্রশ্ন ১৪। সর্বলোকমহেশ্বর আনন্দময় পরমেশ্বর ভগবানের সৃষ্ট জগতে আনন্দ নেই কেন?




অধ্যায়-১শ্লোক ৪৬সঞ্জয় উবাচএবমুক্ত্বার্জুনঃ সংখ্যে রথােপস্থ উপাবিশৎ।বিসৃজ্য সশরং চাপং শােকসংবিগ্নমানসঃ ॥ ৪৬ ॥সঞ্জয়ঃ উবা...
16/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪৬

সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্ত্বার্জুনঃ সংখ্যে রথােপস্থ উপাবিশৎ।
বিসৃজ্য সশরং চাপং শােকসংবিগ্নমানসঃ ॥ ৪৬ ॥

সঞ্জয়ঃ উবাচ—সঞ্জয় বললেন; এবম্ —এভাবে; উক্ত্বা —বলে; অর্জুনঃ—অর্জুন; সংখ্যে—যুদ্ধক্ষেত্রে; রথােপস্থে - রথের উপর; উপাবিশৎ—উপবেশন করলেন; বিসৃজ্য - ত্যাগ করে; সশরম্ —শরযুক্ত; চাপম্ - ধনুক; শােক—শােক দ্বারা; সংবিগ্ন—অভিভূত; মানসঃ—চিত্তে।

অনুবাদ

সঞ্জয় বললেন- রণক্ষেত্রে এই কথা বলে অর্জুন তাঁর ধনুর্বাণ ত্যাগ করে শােকে ভারাক্রান্ত চিত্তে রথােপরি উপবেশন করলেন।

তাৎপর্য

শত্রুসৈন্যকে নিরীক্ষণ করতে অর্জুন রথের উপর দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি শােকে এতই মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর গাণ্ডীব ধনু ও অক্ষয় তূণ ফেলে দিয়ে, তিনি রথের উপর বসে পড়লেন। এই ধরনের কোমল হৃদয়বৃত্তি-সম্পন্ন মানুষই কেবল ভগবদ্ভক্তি সাধন করার মাধ্যমে সমগ্র জগতের যথার্থ মঙ্গল সাধন করতে পারেন।

#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

16/06/2025

প্রশ্ন ১৩। ভগবান সর্বশক্তিমান। ইচ্ছা মাত্রেই সব কিছু করতে পারেন। কলিযুগে প্রতিনিয়ত অন্যায় হিংসা প্রতারণা হানাহানি চলছে। তিনি তো ইচ্ছা করলে এসব পাপকর্ম থেকে মানুষকে বিরত করে জগতের মঙ্গল বিধানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিতে পারেন। কিন্তু নিচ্ছেন না কেন? তাহলে কি এই জগতে দুর্বিষহ পরিস্থিতিটা তাঁরই ইচ্ছার প্রকাশ?




অধ্যায়-১শ্লোক ৪৫যদি মামপ্রতীকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ । ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ ॥ ৪৫ ॥যদি—যদি; মাম্ ...
15/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪৫

যদি মামপ্রতীকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ ।
ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ ॥ ৪৫ ॥

যদি—যদি; মাম্ —আমাকে; অপ্রতীকারম্—প্রতিরােধ রহিত; অশস্ত্রম্ - নিরস্ত্র; শস্ত্রপাণয়ঃ—শস্ত্রধারী; ধার্তরাষ্ট্রাঃ—ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রেরা; রণে - রণক্ষেত্রে; হন্যু - হত্যা করে; তৎ—তবে; মে—আমার; ক্ষেমতরম্ —অধিকতর মঙ্গল; ভবেৎ - হবে।

অনুবাদ

প্রতিরােধ রহিত ও নিরস্ত্র অবস্থায় আমাকে যদি শস্ত্রধারী ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রেরা যুদ্ধে বধ করে, তা হলে আমার অধিকতর মঙ্গলই হবে।

তাৎপর্য

ক্ষত্রিয় রণনীতি অনুসারে নিয়ম আছে, শত্রু যদি নিরস্ত্র হয় অথবা যুদ্ধে অনিচ্ছুক হয়, তবে তাকে আক্রমণ করা যাবে না। কিন্তু অর্জুন স্থির করলেন যে, এই রকম বিপজ্জনক অবস্থায় তাঁর শত্রুরা যদি তাকে আক্রমণও করে, তবুও তিনি যুদ্ধ করবেন না। তিনি বিবেচনা করে দেখলেন না, শত্রুপক্ষ যুদ্ধ করতে কতটা আগ্রহী ছিল। অর্জুনের এই ধরনের আচরণ ভগবদ্ভক্তোচিত কোমল হৃদয়বৃত্তির পরিচায়ক।
#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

অধ্যায়-১শ্লোক ৪৪অহাে বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্ ।যদ্ রাজ্যসুখলােভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ ॥ ৪৪ ৷অহো - হায়; বত - ক...
14/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪৪

অহাে বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্ ।
যদ্ রাজ্যসুখলােভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ ॥ ৪৪ ৷

অহো - হায়; বত - কী আশ্চর্য; মহৎ—মহা; পাপম্ - পাপ; কর্তুম্ - করতে; ব্যবসিতাঃ - সংকল্পবদ্ধ; বয়ম্ —আমরা; যৎ—যেহেতু; রাজ্য-সুখ-লােভেন - রাজ্যসুখের লােভে; হন্তম্ - হত্যা করতে; স্বজনম্ —আত্মীয়-স্বজনদের; উদ্যতাঃ - উদ্যত।

অনুবাদ

হায়! কী আশ্চর্যের বিষয় যে, আমরা রাজ্যসুখের লােভে স্বজনদের হত্যা করতে উদ্যত হয়ে মহাপাপ করতে সংকল্পবদ্ধ হয়েছি।

তাৎপর্য

স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষকে মাতা-পিতা, ভাই-বন্ধুকে হত্যা করতে দেখা যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এর অনেক নজির আছে। কিন্তু ভগবদ্ভক্ত অর্জুন সদাসর্বদা নৈতিক কর্তব্য অকর্তব্যের প্রতি সচেতন, তাই তিনি এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকাকেই শ্রেয় বলে মনে করেছেন।

#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

অধ্যায়-১শ্লোক ৪৩উৎসন্নকুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন। নরকে নিয়তং বাসাে ভবতীত্যনুশুশ্রুম ॥ ৪৩ ॥ উৎসন্ন -  বিনষ্ট; কুলধর্...
13/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪৩

উৎসন্নকুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন।
নরকে নিয়তং বাসাে ভবতীত্যনুশুশ্রুম ॥ ৪৩ ॥

উৎসন্ন - বিনষ্ট; কুলধর্মাণাম্—যাদের কুলধর্ম আছে তাদের; মনুষ্যাণাম্—সেই সমস্ত মানুষের; জনার্দন—হে কৃষ্ণ; নরকে - নরকে; নিয়তম্ - নিয়ত; বাসঃ—অবস্থিতি; ভবতি—হয়; ইতি—এভাবে; অনুশুশ্রুম—আমি পরম্পরাক্রমে শ্রবণ করেছি।

অনুবাদ

হে জনার্দন! আমি পরম্পরাক্রমে শুনেছি যে, যাদের কুলধর্ম বিনষ্ট হয়েছে, তাদের নিয়ত নরকে বাস করতে হয়।

তাৎপর্য

অর্জুনের সমস্ত যুক্তি-তর্ক তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, পক্ষান্তরে তিনি সাধুসন্ত আদি মহাজনদের কাছ থেকে আহরণ করা জ্ঞানের ভিত্তিতে এই সমস্ত যুক্তির অবতারণা করেছিলেন। প্রকৃত জ্ঞান উপলব্ধি করেছেন যে-মানুষ, তাঁর তত্ত্বাবধানে এই জ্ঞান শিক্ষালাভ না করলে, এই জ্ঞান আহরণ করা যায় না। বর্ণাশ্রম-ধর্মের বিধি অনুসারে মানুষকে মৃত্যুর পূর্বে তার সমস্ত পাপ মােচনের জন্য কতকগুলি প্রায়শ্চিত্ত বিধি পালন করতে হয়। যে সব সময় পাপকার্যে লিপ্ত থেকে জীবন অতিবাহিত করেছে, তার পক্ষে এই বিধি অনুসরণ করে প্রায়শ্চিত্ত করাটা অবশ্য কর্তব্য। প্রায়শ্চিত্ত না করলে তার পাপের ফলস্বরূপ মানুষ নরকে পতিত হয়ে নানা রকম দুঃখকষ্ট ভােগ করে।
#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

অধ্যায়-১শ্লোক ৪২দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ ।উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ শাশ্বতাঃ ॥ ৪২ ৷৷দোষৈঃ—দোষ দ্বার...
12/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪২

দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ ।
উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ শাশ্বতাঃ ॥ ৪২ ৷৷

দোষৈঃ—দোষ দ্বারা; এতৈঃ—এই সমস্ত; কুলঘ্নানাম্ - কুলনাশকদের; বর্ণসঙ্কর - অবাঞ্ছিত সন্তানাদি; কারকৈঃ—কারক; উৎসাদ্যন্তে—উৎপন্ন হয়; জাতিধর্মাঃ— জাতির ধর্ম; কুলধর্মাঃ—কুলের ধর্ম; চ - ও; শাশ্বতাঃ - সনাতন।

অনুবাদ

যারা বংশের ঐতিহ্য নষ্ট করে এবং তার ফলে অবাঞ্ছিত সন্তানাদি সৃষ্টি করে, তাদের কুকর্মজনিত দোষের ফলে সর্বপ্রকার জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প এবং বংশের কল্যাণ-ধর্ম উৎসন্নে যায়।

তাৎপর্য

সনাতন-ধর্ম বা বর্ণাশ্রম-ধর্মের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থায় যে চারটি বর্ণের উদ্ভব হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ যাতে তাদের জীবনের চরম লক্ষ্য মুক্তি লাভে সক্ষম হয়। তাই, সমাজের দায়িত্বজ্ঞানশুন্য নেতাদের পরিচালনায় যদি সনাতন-ধর্মের যথাযথ আচরণ না করা হয়, তবে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ক্রমে ক্রমে মানুষ তাদের জীবনের চরম লক্ষ্য বিষ্ণুকে ভুলে যায়। এই ধরনের সমাজ-নেতাদের বলা হয় অন্ধ এবং যারা এদের অনুসরণ করে, তারা অবধারিতভাবে অন্ধকূপে পতিত হয়।

#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

12/06/2025

প্রশ্ন ১২। আমরা জানি সমুদ্র পৃথিবীর মধ্যেই আছে। অথচ শাস্ত্রে বলা হয়েছে ভগবান বিষ্ণু বরাহ রূপ ধারণ করে এই পৃথিবীকে সমুদ্র থেকে উত্তোলন করলেন। এর রহস্যটা কি?




অধ্যায়-১শ্লোক ৪১সঙ্করাে নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ।পতন্তি পিতরাে হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ ॥ ৪১ ॥ সঙ্করঃ—এই প্রকার...
11/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪১

সঙ্করাে নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ।
পতন্তি পিতরাে হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ ॥ ৪১ ॥

সঙ্করঃ—এই প্রকার অবাঞ্ছিত সন্তান; নরকায়—নারকীয় জীবনের জন্য সৃষ্টি, এব— অবশ্যই; কুলঘ্নানাম্ - কুলনাশক; কুলস্য - বংশের; চ—ও; পতন্তি—পতিত হয়; পিতরঃ - পিতৃপুরুষেরা; হি—অবশ্যই; এষাম্ —তাদের; লুপ্ত—লুপ্ত; পিণ্ড - পিণ্ডদান; উদক-ক্রিয়াঃ—তৰ্পণক্রিয়া।

অনুবাদ

বর্ণসঙ্কর উৎপাদন বৃদ্ধি হলে কুল ও কুলঘাতকেরা নরকগামী হয়। সেই কুলে পিণ্ডদান ও তর্পণক্রিয়া লােপ পাওয়ার ফলে তাদের পিতৃপুরুষেরাও নরকে অধঃ পতিত হয়।

তাৎপর্য

কর্মকাণ্ডের বিধি অনুসারে পিতৃপুরুষের আত্মাদের প্রতি পিণ্ডদান ও জল উৎসর্গ করা প্রয়ােজন। এই উৎসর্গ সম্পন্ন করা হয় বিষ্ণুকে পূজা করার মাধ্যমে, কারণ বিষ্ণুকে উৎসর্গীকৃত প্রসাদ সেবন করার ফলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তিলাভ হয়। অনেক সময় পিতৃপুরুষেরা নানা রকমের পাপের ফল ভােগ করতে থাকে এবং অনেক সময় তাদের কেউ কেউ জড় দেহ পর্যন্ত ধারণ করতে পারে না। সুক্ষ্ম দেহে প্রেতাত্মারূপে থাকতে বাধ্য করা হয়। যখন বংশের কেউ তার পিতৃপুরুষদের ভগবৎ-প্রসাদ উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করে, তখন তাদের আত্মা ভূতের দেহ অথবা অন্যান্য দুঃখময় জীবন থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি লাভ করে। পিতৃপুরুষের আত্মার সদ্ গতির জন্য এই পিণ্ডদান করাটা বংশানুক্রমিক রীতি। তবে যে সমস্ত লােক ভক্তিযােগ সাধন করেন, তাঁদের এই অনুষ্ঠান করার প্রয়ােজন নেই। ভক্তিযােগ
সাধন করার মাধ্যমে ভক্ত শত-সহস্র পূর্বপুরুষের আত্মার মুক্তি সাধন করতে পারেন। শ্রীমদ্ভাগবতে (১১/৫/৪১) বলা হয়েছে -

দেবর্ষিভূতাপ্তনৃণাং পিতৃণাং
ন কিঙ্করাে নায়মৃণী চ রাজন্ ।
সর্বাত্মনা যঃ শরণং শরণ্যং
গতাে মুকুন্দং পরিহৃত্য কৰ্তম্ ॥

“যিনি সব রকম কর্তব্য পরিত্যাগ করে মুক্তি দানকারী মুকুন্দের চরণকমলে শরণ নিয়েছেন এবং ঐকান্তিকভাবে পন্থাটি গ্রহণ করেছেন, তাঁর আর দেব-দেবী, মুনিঋষি, পরিবার-পরিজন মানব-সমাজ ও পিতৃপুরুষের প্রতি কোন কর্তব্য থাকে না। পরমেশ্বর ভগবানের সেবা করার ফলে এই ধরনের কর্তব্যগুলি আপনা থেকেই সম্পাদিত হয়ে যায়।”

#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

অধ্যায়-১শ্লোক ৪০ অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্ৰদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ ।।স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ ॥ ৪০ ॥অধর্...
10/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৪০

অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্ৰদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ ।।
স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ ॥ ৪০ ॥

অধর্ম—অধর্ম; অভিভবাৎ—প্রাদুর্ভাব হলে; কৃষ্ণ—হে কৃষ্ণ; প্ৰদুষ্যন্তি - ব্যভিচারে প্রবৃত্ত হয়; কুলস্ত্রিয়ঃ—কুলবধুগণ; স্ত্রীষু—স্ত্রীলােকেরা; দুষ্টাসু—অসৎ চরিত্রা হলে; বার্ষ্ণেয়—হে বৃষ্ণিবংশজ; জায়তে - উৎপন্ন হয়; বর্ণসঙ্করঃ—অবাঞ্ছিত প্রজাতি।

অনুবাদ

হে কৃষ্ণ! কুল অধর্মের দ্বারা অভিভূত হলে কুলবধূগণ ব্যভিচারে প্রবৃত্ত হয় এবং হে বার্ষ্ণেয়! কুলস্ত্রীগণ অসৎ চরিত্রা হলে অবাঞ্ছিত প্রজাতি উৎপন্ন হয়।

তাৎপর্য

সমাজের প্রতিটি মানুষ যখন সৎ জীবনযাপন করে, তখনই সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি দেখা দেয় এবং মানুষের জীবন অপ্রাকৃত ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্ণাশ্রম প্রথার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সমাজ-ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তােলা, যার ফলে সমাজের মানুষেরা সৎ জীবনযাপন করে সর্বতােভাবে পারমার্থিক উন্নতি লাভ করতে পারে। এই ধরনের সৎ জনগণ তখনই উৎপন্ন হন, যখন সমাজের স্ত্রীলােকেরা সৎ চরিত্রবতী ও সত্যনিষ্ঠ হয়। শিশুদের মধ্যে যেমন অতি সহজেই বিপথগামী হবার প্রবণতা দেখা যায়, স্ত্রীলােকদের মধ্যেও তেমন অতি সহজেই অধঃপতিত হবার প্রবণতা থাকে। তাই, শিশু ও স্ত্রীলােক উভয়েরই পরিবারের প্রবীণদের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা ও তত্ত্বাবধানের একান্ত প্রয়ােজন। নানা রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়ােজিত করার মাধ্যমে স্ত্রীলােকদের চিত্তবৃত্তিকে পবিত্র ও নির্মল রাখা হয় এবং এভাবেই তাদের ব্যভিচারী মনােবৃত্তিকে সংযত করা হয়। চাণক্য পণ্ডিত বলে গেছেন, স্ত্রীলােকেরা সাধারণত অল্পবুদ্ধিসম্পন্না, তাই তারা নির্ভরযােগ্য অথবা বিশ্বস্ত নয়। সেই জন্য তাদের পূজার্চনা আদি গৃহস্থালির নানা রকম ধর্মানুষ্ঠানে সব সময় নিয়ােজিত রাখতে হয় এবং তার ফলে তাদের ধর্মে মতি হয় এবং চরিত্র নির্মল হয়। তারা তখন চরিত্রবান, ধর্মপরায়ণ সন্তানের জন্ম দেয়, যারা হয় বর্ণাশ্রমধর্ম পালন করার উপযুক্ত। বর্ণাশ্রম-ধর্ম পালন না করলে, স্বভাবতই স্ত্রীলােকেরা অবাধে পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করতে শুরু করে এবং তাদের ব্যভিচারের ফলে সমাজে অবাঞ্ছিত সন্তান-সন্ততির জন্ম হয়। দায়িত্বজ্ঞানশুন্য লােকদের পৃষ্ঠপােষকতায় যখন সমাজে ব্যভিচার প্রকট হয়ে ওঠে এবং অবাঞ্ছিত মানুষে সমাজ ছেয়ে যায়, তখন মহামারী ও যুদ্ধ দেখা দিয়ে মানব-সমাজকে ধ্বংসােন্মুখ করে তোলে।

#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

অধ্যায়-১শ্লোক ৩৯ কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ ।ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোহভিভবত্যুত ॥ ৩৯ ॥কুলক্ষয়ে - বংশন...
09/06/2025

অধ্যায়-১
শ্লোক ৩৯

কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ ।
ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোহভিভবত্যুত ॥ ৩৯ ॥

কুলক্ষয়ে - বংশনাশ হলে; প্রণশ্যন্তি - বিনষ্ট হয়; কুলধর্মাঃ - কুলধর্ম; সনাতনাঃ— চিরাচরিত; ধর্মে—ধর্ম; নষ্টে—নষ্ট হলে; কুলম্ —বংশকে; কৃৎস্নম্ —সমগ্র; অধর্মঃ—অধর্ম; অভিভবতি—অভিভূত করে; উত - বলা হয়।

অনুবাদ

কুলক্ষয় হলে সনাতন কুলধর্ম বিনষ্ট হয় এবং তা হলে সমগ্র বংশ অধর্মে অভিভূত হয়।

তাৎপর্য

বর্ণাশ্রম সমাজব্যবস্থায় অনেক রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া আছে, যা পরিবারের প্রতিটি লােকের যথাযথ পারমার্থিক উন্নতি সাধনে সহায়তা করে। পরিবারের প্রবীণ সদস্যেরা পরিবারভুক্ত অন্য সকলের জন্ম থেকে আরম্ভ করে মৃত্যু পর্যন্ত শুদ্ধিকরণ সংস্কার দ্বারা তাদের যথাযথ মঙ্গল সাধন করার জন্য সর্বদাই তৎপর থাকেন। কিন্তু এই সমস্ত প্রবীণ লােকদের মৃত্যু হলে, মঙ্গলজনক এই সমস্ত পারিবারিক প্রথাকে রূপ দেওয়ার মতাে কেউ থাকে না। তখন পরিবারের অল্পবয়স্ক সদস্যেরা অমঙ্গলজনক কাজকর্মে লিপ্ত হতে পারে এবং তার ফলে তাদের আত্মার মুক্তির সম্ভাবনা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। তাই, কোন কারণেই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা উচিত নয়।

#গীতারবাণী

#ভগবদগীতা

#গীতারউপদেশ

#গীতারজ্ঞান

#গীতারপথ

Address

Chandgaon
Chittagong
4221

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সনাতন ধর্মের জ্ঞান-বিজ্ঞান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share