10/06/2025
অধ্যায়-১
শ্লোক ৪০
অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্ৰদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ ।।
স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ ॥ ৪০ ॥
অধর্ম—অধর্ম; অভিভবাৎ—প্রাদুর্ভাব হলে; কৃষ্ণ—হে কৃষ্ণ; প্ৰদুষ্যন্তি - ব্যভিচারে প্রবৃত্ত হয়; কুলস্ত্রিয়ঃ—কুলবধুগণ; স্ত্রীষু—স্ত্রীলােকেরা; দুষ্টাসু—অসৎ চরিত্রা হলে; বার্ষ্ণেয়—হে বৃষ্ণিবংশজ; জায়তে - উৎপন্ন হয়; বর্ণসঙ্করঃ—অবাঞ্ছিত প্রজাতি।
অনুবাদ
হে কৃষ্ণ! কুল অধর্মের দ্বারা অভিভূত হলে কুলবধূগণ ব্যভিচারে প্রবৃত্ত হয় এবং হে বার্ষ্ণেয়! কুলস্ত্রীগণ অসৎ চরিত্রা হলে অবাঞ্ছিত প্রজাতি উৎপন্ন হয়।
তাৎপর্য
সমাজের প্রতিটি মানুষ যখন সৎ জীবনযাপন করে, তখনই সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি দেখা দেয় এবং মানুষের জীবন অপ্রাকৃত ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্ণাশ্রম প্রথার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সমাজ-ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তােলা, যার ফলে সমাজের মানুষেরা সৎ জীবনযাপন করে সর্বতােভাবে পারমার্থিক উন্নতি লাভ করতে পারে। এই ধরনের সৎ জনগণ তখনই উৎপন্ন হন, যখন সমাজের স্ত্রীলােকেরা সৎ চরিত্রবতী ও সত্যনিষ্ঠ হয়। শিশুদের মধ্যে যেমন অতি সহজেই বিপথগামী হবার প্রবণতা দেখা যায়, স্ত্রীলােকদের মধ্যেও তেমন অতি সহজেই অধঃপতিত হবার প্রবণতা থাকে। তাই, শিশু ও স্ত্রীলােক উভয়েরই পরিবারের প্রবীণদের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা ও তত্ত্বাবধানের একান্ত প্রয়ােজন। নানা রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়ােজিত করার মাধ্যমে স্ত্রীলােকদের চিত্তবৃত্তিকে পবিত্র ও নির্মল রাখা হয় এবং এভাবেই তাদের ব্যভিচারী মনােবৃত্তিকে সংযত করা হয়। চাণক্য পণ্ডিত বলে গেছেন, স্ত্রীলােকেরা সাধারণত অল্পবুদ্ধিসম্পন্না, তাই তারা নির্ভরযােগ্য অথবা বিশ্বস্ত নয়। সেই জন্য তাদের পূজার্চনা আদি গৃহস্থালির নানা রকম ধর্মানুষ্ঠানে সব সময় নিয়ােজিত রাখতে হয় এবং তার ফলে তাদের ধর্মে মতি হয় এবং চরিত্র নির্মল হয়। তারা তখন চরিত্রবান, ধর্মপরায়ণ সন্তানের জন্ম দেয়, যারা হয় বর্ণাশ্রমধর্ম পালন করার উপযুক্ত। বর্ণাশ্রম-ধর্ম পালন না করলে, স্বভাবতই স্ত্রীলােকেরা অবাধে পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করতে শুরু করে এবং তাদের ব্যভিচারের ফলে সমাজে অবাঞ্ছিত সন্তান-সন্ততির জন্ম হয়। দায়িত্বজ্ঞানশুন্য লােকদের পৃষ্ঠপােষকতায় যখন সমাজে ব্যভিচার প্রকট হয়ে ওঠে এবং অবাঞ্ছিত মানুষে সমাজ ছেয়ে যায়, তখন মহামারী ও যুদ্ধ দেখা দিয়ে মানব-সমাজকে ধ্বংসােন্মুখ করে তোলে।
#গীতারবাণী
#ভগবদগীতা
#গীতারউপদেশ
#গীতারজ্ঞান
#গীতারপথ