চাটগাইয়া ভক্ত /Chittagong Devotees

চাটগাইয়া ভক্ত /Chittagong Devotees হরে কৃষ্ণ! আত্মকল্যাণে আপনাকে স্বাগতম!!!

⭕ পত্নী কি তার পতিদেব- এর নাম ধরে ডাকতে পারবে ??হরে কৃষ্ণ 🙏স্বামী হলেন স্ত্রীর মহাগুরু। নারীদের শরীর কঠোর তপস্যার উপযুক্...
20/05/2026

⭕ পত্নী কি তার পতিদেব- এর নাম ধরে ডাকতে পারবে ??

হরে কৃষ্ণ 🙏

স্বামী হলেন স্ত্রীর মহাগুরু। নারীদের শরীর কঠোর তপস্যার উপযুক্ত নয়, সেজন্য ব্রহ্মা নারীদের মুক্তির জন্য পুরুষের সাথে বিবাহের বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। স্বামী শ্রীকৃষ্ণের সেবা করবে, স্ত্রী তার স্বামীর সেবা করবে যেন স্বামী নির্বিঘ্নে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করতে পারেন। এজন্য স্ত্রীকে বলা হয় ধর্মপত্নী। স্বামী ধর্ম করে যে ফল লাভ করবে স্ত্রীও তার ফলভাগী হবে। উপরন্তু বৈষ্ণব স্বামীতে সেবাপরায়ণতার জন্য স্ত্রীরা বৈষ্ণবসেবার ফলও লাভ করেন। এভাবে স্ত্রীদের জাগতিক ও পারমার্থিক কল্যাণ নিশ্চিতে বিধান দিয়েছেন ব্রহ্মা। শাস্ত্রে অনুসূয়ার মতো মহাসতী নারীদের কথা জানা যায়, যারা স্বামী সেবা দ্বারা এত পুণ্য লাভ করেছেন যে কেবল খেলার ছলে ইন্দ্রাদি দেবতাদেরও পরাস্ত করে দিতেন। আজও বৃন্দাবনে গেলে দেখবেন, গোবর্ধন পরিক্রমায় স্বামী প্রতি পদে পদে গোবর্ধনকে দণ্ডবৎ প্রণাম করছে, আর স্বামীর প্রতিটি প্রণামের সাথে সাথে স্ত্রীরা তাদের স্বামীর চরণধুলি মাথায় নিচ্ছেন। 🙇‍♂️🙏

দেবী লক্ষ্মী, দেবী পার্বতী ওনাদের স্বামীকে 'হে প্রাণনাথ', 'হে পতিদেব', হে স্বামীন' 'হে আর্য' 'হে চক্রধর' 'হে শূলপাণি ' এভাবে সম্বোধন করেন। ❤️‍🩹🙏

স্বামী মহাগুরু হওয়ায় তার নাম ধরে ডাকা নিষেধ করা হয়েছে মনুসংহিতায়। ✏️

সতী স্ত্রী স্বামীকে প্রভু, স্বামী, আর্য, প্রিয়, প্রিয়তম ইত্যাদি কিংবা কোন সম্বন্ধ অনুসারে যেমন 'ওমুকের বাবা' এভাবে ডাকেন। তবে ভক্ত পরিমহলে স্বামীকে 'প্রভু' বলে ডাকা অধিক প্রচলিত। 🙌🙏

হরে কৃষ্ণ 🙏

゚ ゚

19/05/2026

পুরুষোত্তম মাস (১৭ই মে - ১৫ই জুন, ২০২৬)

প্রিয় ভক্তগণ,
কৃপাপূর্বক আমাদের বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। জয় শ্রীল প্রভুপাদ!

আমরা সৌভাগ্যবান যে শীঘ্রই পবিত্র পুরুষোত্তম মাস (অধিক মাস) – যা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণের প্রতি আমাদের ভক্তি এবং আন্তরিক সেবা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে এক সর্বোত্তম সময়, তাতে প্রবেশ করতে চলেছি। এই বছর পুরুষোত্তম মাস ১৭ই মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ই জুন পর্যন্ত হবে এবং ভক্তিবৃক্ষ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সমগ্র বিশ্বব্যাপী ভক্তগোষ্ঠীকে এই অত্যন্ত বিশেষ মাসের সর্বোচ্চ সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করতে চায়।

শাস্ত্রে এই মাসকে অনন্য শক্তিসম্পন্ন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্বে এই অধিক মাস যথাযথ সম্মান না পেয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সমীপবর্তী হলেন, যিনি কৃপাপরবশ হয়ে এই মাসকে নিজের ‘পুরুষোত্তম’ নাম এবং দিব্য গুণাবলি প্রদান করলেন। এভাবে এই মাসকে সকল মাসের রাজা হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি সামান্য পারমার্থিক অনুশীলনেও অধিক ফল প্রদানে সক্ষম। বলা হয় যে, এই সময়ে যত ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করা হয় তা সহস্রগুণ অধিক কল্যাণ বয়ে আনে, এবং এমনকি ভক্তির সামান্য আচরণও কাউকে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের নিকটে নিয়ে আসতে পারে।

✨ কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের এক সুবর্ণ সুযোগ
আমরা সকল ভক্তবৃন্দের প্রতি বিনীত নিবেদন জানাচ্ছি যে, এই পরম পবিত্র মাসে আপনারা কেবল নিজেদের সাধনাকেই গভীর করবেন না, বরং অন্যদেরও শ্রীকৃষ্ণের চরণে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস করুন। আপনার মন্দির ও স্থানীয় ভক্তসমাজে প্রচার করার কিছু বিশেষ উপায় নিচে দেওয়া হলো:

শ্রীবিগ্রহের উদ্দেশ্যে দীপদান
* শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ বা চিত্রপটে প্রতিদিন প্রদীপ অর্পণ করুন।
* মন্দিরে প্রতিদিন সম্মিলিত দীপদানের আয়োজন করার পাশাপাশি ভক্তদের নিজ নিজ গৃহেও দীপদান করতে উৎসাহিত করুন। দীপদানকালে ভক্তরা রাধাকৃষ্ণের দিব্য মহিমা সংবলিত ভজন কীর্তন করতে পারেন, যেমনটি দামোদর মাসে অনুষ্ঠিত হয়।


পুরুষোত্তম মাস চ্যালেঞ্জ

এই মাসব্যাপী ভক্তিমূলক সেবায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা 'পুরুষোত্তম মাস চ্যালেঞ্জ' নামক একটি অনলাইন কার্যক্রমের আয়োজন করেছি। আমরা সকলকে এতে অংশগ্রহণের জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। দয়া করে আমাদের ওয়েবসাইটটি দেখুন এবং স্থানীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে প্রেরণ করুন:
👉 *purusottamachallenge.com*

পারমার্থিক পথে যে কেউ, যে স্তরেই থাকুন না কেন, এই চ্যালেঞ্জটি তাদের সকলের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে। মাসব্যাপী অংশগ্রহণকারীরা জপ, গ্রন্থ অধ্যয়ন, প্রার্থনা নিবেদন এবং হরিকথা শ্রবণের মতো বিভিন্ন ভক্তিমূলক কার্যের মাধ্যমে নির্দেশিত হবেন। প্রতি সপ্তাহে আরও বেশি কার্যক্রমসহ ভক্তির এক একটি নতুন স্তর উন্মোচিত হবে এবং অবশেষে আমরা আশা রাখি প্রত্যেকে পারমার্থিক অনুপ্রেরণা অনুভব করবে। চ্যালেঞ্জটি সরল ও সুসংবদ্ধ, যেখানে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা এটিকে নতুন অংশগ্রহণকারী ভক্ত এবং অভিজ্ঞ ভক্ত উভয়ের জন্য আদর্শ করে তুলেছে, যাতে তারা তাদের ভক্তি অনুশীলনকে দৃঢ়নিষ্ঠ করে তুলতে পারে এবং এই পরম পবিত্র মাসে দীর্ঘস্থায়ী পারমার্থিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

বি.দ্র: চ্যালেঞ্জটি কেবল ইংরেজি ভাষায় অনুষ্ঠিত হবে।

আমরা আরও উৎসাহ জানাই, দামোদর মাসের মতো উৎসাহ সহকারে এই বিশেষ মাসে প্রচারকার্য পরিচালনা করুন, তবে এক্ষেত্রে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের উপর মনোনিবেশ করুন। (যশোদা-দামোদরের পরিবর্তে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের চিত্রপট ব্যবহার করে)।

ভক্তগণ পুরুষোত্তম মাসকে কেন্দ্র করে গৃহ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন।
* শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের মহিমসূচক ভজন কীর্তন করা
* ঘৃতপ্রদীপ অর্পণ
* 'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ'-র পঞ্চদশ অধ্যায় (পুরুষোত্তম যোগ) পাঠ করুন, শ্লোক আবৃত্তি করুন বা প্রবচন প্রদান করুন
* গোপাল মন্ত্র জপ
* প্রীতিভরে একসাথে মহাপ্রসাদ আস্বাদন

মন্দির এবং বৈষ্ণবদের সেবা
এই মাসে যথাসম্ভব স্থানীয় মন্দিরে সেবা ও সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
* মন্দিরে আরও নিয়মিত যাতায়াত করুন এবং শ্রীবিগ্রহের উদ্দেশ্যে দীপদান করুন
* স্ব-সামর্থ্য অনুযায়ী মন্দির ও ব্রাহ্মণ-বৈষ্ণবদের সেবা ও অনুদান প্রদান করুন
* শাস্ত্র-দান বা গ্রন্থ বিতরণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করুন।

পারমার্থিক জ্ঞান বিতরণই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান, যা শ্রীল প্রভুপাদ ও পূর্ববর্তী আচার্যদের পরম সন্তোষ বিধান করে।

📦 প্রচারের জন্য 'ডিজিটাল কিট'
আপনাদের প্রচার সেবা সহজতর করতে আমরা একটি ডিজিটাল কিট প্রস্তুত করেছি, যেখানে পাবেন:
* পুরুষোত্তম মাসের মহিমা
* শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৫তম অধ্যায় (বিভিন্ন ভাষায়)
* শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অতি মনোরম চিত্র
* উপযুক্ত ভজন-কীর্তনের লিপি ও অডিও/ভিডিও লিঙ্ক
* গোপাল মন্ত্র (লিপি ও অডিও)
অনুগ্রহপূর্বক আপনাদের কার্যক্রম ও প্রচারে এই বিষয়গুলোর পূর্ণ ব্যবহার করুন।

📊 যুক্ত থাকুন

সকল প্রচারক ও নেতৃবৃন্দের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা আপনাদের সম্মিলিত প্রচারকার্যের প্রতিবেদনটি প্রদত্ত গুগল ফর্মের মাধ্যমে আমাদের জানান। আপনাদের প্রচারের সংবাদ আমাদের সকলকে যুক্ত রাখবে এবং আমরা একে অন্যের সেবার দ্বারা অনুপ্রেরণা লাভ করব।

যদি কোনো ভক্ত বা পরিবার প্রচারকাজে বিশেষ অবদান রাখেন, তবে আমরা তাদের বিশেষ সম্মাননা সনদ এবং শ্রীধাম মায়াপুর থেকে সংগ্রহযোগ্য একটি উপহার সনদপত্র প্রদান করব।

আসুন, শ্রীল প্রভুপাদ এবং শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের প্রীতি বিধানের জন্য আমরা এই বিরল ও শক্তিসম্পন্ন সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভক্তি বৃদ্ধি করি, একে অন্যকে অনুপ্রাণিত করি এবং একত্রে সেবা করি।

আপনাদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: [email protected]

আপনাদের সেবায়,
অমৃতা গৌরাঙ্গী দেবী দাসী
ইসকন কংগ্রিগেশনাল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি (ইসকন ভক্তিবৃক্ষ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়) - (Bhakti months বা ভক্তি মাস শাখা)

শাস্ত্রে নির্দেশিত এই মাসের জন্য ভজন -

রাধা কৃষ্ণ প্রাণ মোর"
- নরোত্তম দাস ঠাকুর-
(১)
রাধাকৃষ্ণ প্রাণ মোর যুগল-কিশোর।
জীবনে মরণে গতি আর নাহি মোর।।

(২)
কালিন্দীর কূলে কেলি-কদম্বের বন।
রতন বেদীর উপর বসাব দু’জন।।

(৩)
শ্যামগৌরী-অঙ্গে দিব (চুয়া) চন্দনের গন্ধ।
চামর ঢুলাব কবে, হেরিব মুখচন্দ্র।।

(৪)
গাঁথিয়া মালতীর মালা দিব দোঁহার গলে।
অধরে তুলিয়া দিব কর্পূর-তাম্বুলে।।

(৫)
ললিতা-বিশাখা-আদি যত সখীবৃন্দ।
আজ্ঞায় করিব সেবা চরণারবিন্দ।।

(৬)
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসের অনুদাস।
সেবা অভিলাষ করে নরোত্তমদাস।।

এই মাসের জন্য নির্দেশিত মন্ত্র -

গোবর্ধনধরং বন্দে গোপাল গোপরূপিণম্।
গোকুলোৎসবমীশানং গোবিন্দং গোপিকাপ্রিয়ম্।।

“আমি গিরি গোবর্ধনধারী ভগবানকে প্রণাম করি, যিনি সুন্দর গোপবালকরূপে নিরন্তর গোপদের সঙ্গে ক্রীড়া করেন। তিনিই গোকুলের অধিপতি, যেখানে প্রতিদিন উৎসবের দিন।”

বন্দে নবঘনশ্যামং দ্বিভুজং মুরলীধরং।
পীতাম্বরধরং দেবং সরাধং পুরুষোত্তমম্।।

“আমি নবঘনশ্যাম কৃষ্ণকে প্রণাম জানাই, (যাঁর গায়ের রঙ নবীন মেঘের মতো), যিনি দুই হাতে বাঁশি ধরে আছেন। আমি সেই পুরুষোত্তমের ভজনা করি, যিনি তাঁর পীতাম্বর বস্ত্রে অত্যন্ত মনোহর।”

হরে কৃষ্ণ আগামী ১৩ মে ২০২৬,বুধবার পবিত্র " অপরা একাদশী" ব্রত।ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন। অপর...
12/05/2026

হরে কৃষ্ণ
আগামী ১৩ মে ২০২৬,বুধবার পবিত্র " অপরা একাদশী" ব্রত।ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন।

অপরা একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য:

মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে কৃষ্ণ! জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি এবং তার মাহাত্ম্যই বা কি, আমি শুনতে ইচ্ছা করি। আপনি অনুগ্রহ করে তা বর্ণনা করুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মহারাজ! মানুষের মঙ্গলের জন্য আপনি খুব ভাল প্রশ্ন করেছেন। বহু পুণ্য প্রদানকারী মহাপাপ বিনাশকারী ও পুত্রদানকারী এই একাদশী ‘অপরা’ নামে খ্যাত। এই ব্রত পালনকারী ব্যক্তি জগতে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ব্রহ্মহত্যা, গোহত্যা, ভ্রুণহত্যা, পরনিন্দা, পরস্ত্রীগমন, মিথ্যাভাষণ প্রভৃতি গুরুতর পাপ এই ব্রত পালনে নষ্ট হয়ে যায়। যারা মিথ্যাসাক্ষ্যদা ন করে, ওজন বিষয়ে ছলনা করে, শাস্ত্রের মিথ্যা ব্যাখ্যা প্রদান করে, জ্যোতিষের মিথ্যা গণনা ও মিথ্যা চিকিৎসায় রত থাকে, তারা সকলেই নরকযাতনা ভোগ করে। এসমস্ত ব্যক্তিরাও যদি এই ব্রত পালন করে, তবে তারা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়। ক্ষত্রিয় যদি স্বধর্ম ত্যাগ করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায়, তবে সে ঘোরতর নরকগামী হয়।

কিন্তু সেও এই ব্রত পালনে মুক্ত হয়ে স্বর্গগতি লাভ করে। মকররাশিতে সূর্য অবস্থানকালে মাঘ মাসে প্রয়াগ স্নানে যে ফল লাভ হয়; শিবরাত্রিতে কাশীধামে উপবাস করলে যে পুণ্য হয়; গয়াধামে বিষ্ণুপাদপদ্মে পিন্ডদানে য পাওয়া যায়; সিংহরাশিতে বৃহস্পতির অবস্থানে গৌতম নদীতে স্নানে, কুম্ভে কেদারনাথ দর্শনে, বদরিকাশ্রম যাত্রায় ও বদ্রীনারায়ণ সেবায়; সূর্যগ্রহণে কুরুক্ষেত্রে স্নানে, হাতি, ঘোড়া, স্বর্ণ দানে এবং দক্ষিণাসহ যজ্ঞ সম্পাদনে যে ফল লাভ হয়, এই ব্রত পালন করলে অনায়াসে সেই ফল লাভ হয়ে থাকে। এই অপরা ব্রত পাপরূপ বৃক্ষের কুঠার স্বরূপ, পাপরূপ কাষ্ঠের দাবাগ্নির মতো, পাপরূপ অন্ধকারে সূর্যসদৃশ এবং পাপহস্তির সিংহস্বরূপ। এই ব্রত পালন না করে যে ব্যক্তি জীবন ধারণ করে জলে বুদবুদের মতো তাদের জন্ম-মৃত্যুই কেবল সার হয়। অপরা একাদশীতে উপবাস করে বিষ্ণুপূজা করলে সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গতি হয়। এই ব্রতকাথা পাঠ ও শ্রবণ করলে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়। ব্রহ্মান্ডপুরণে এই ব্রত মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

12/05/2026

শ্রীপাদ দয়ানিধি গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী প্রভুর অন্তিম প্রবচন( ০৮ মে,২০২৬ইং দাউদকান্দি নামহট্ট)

৯ই মে রাত ২ টায় নিত্যধাম যাত্রা করেছেন।
মাত্র ৪ ঘন্টার ব্যবধান।

দয়াকরে, একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আশা করি, ভালো কিছু পাবেন।🙏😍শাস্ত্র অনুসারে চরণে প্রণাম বা চরণ স্পর্শ শুধুমাত্র একটি প্রথা ন...
11/05/2026

দয়াকরে, একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আশা করি, ভালো কিছু পাবেন।🙏😍

শাস্ত্র অনুসারে চরণে প্রণাম বা চরণ স্পর্শ শুধুমাত্র একটি প্রথা নয়, এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আধ্যাত্মিক এবং বৈজ্ঞানিক ক্রিয়া।
#শাস্ত্রানুসারে প্রণাম প্রধানত সাষ্টাঙ্গ ও পঞ্চাঙ্গ — এই দুই প্রকার ।
#প্রণামের প্রধান প্রকারভেদ ও বিধি:

#সাষ্টাঙ্গ প্রণাম: শরীর, মন ও বাক্য মিলিয়ে আটটি অঙ্গ (দুই হাত, দুই পা, দুই হাঁটু, বক্ষ, মস্তক, দৃষ্টি, মন ও বচন) দ্বারা ভূমিতে লুটিয়ে প্রণাম করা ।
#পঞ্চাঙ্গ প্রণাম: বাহু, হাঁটু, মস্তক, বাক্য ও দৃষ্টি—এই পাঁচ অঙ্গ দ্বারা প্রণাম ।
#প্রণামের নিয়ম: সাধারণত দেবতাকে ডানে রেখে, গুরুজন বা শ্রীগুরুদেবকে সরাসরি এবং ভগবানকে বামে রেখে প্রণাম করতে হয় ।

#প্রণাম ও নমস্কারের মধ্যে পার্থক্যঃ-
প্রণাম ও নমস্কারের মূল পার্থক্য হলো—প্রণাম হলো গুরুজন বা দেবতাদের চরণে নত হয়ে ভক্তি নিবেদন করা, যা শারীরিক ও মানসিক সমর্পণ বোঝায় ।
অন্যদিকে, নমস্কার হলো দুই হাত জোড় করে সমবয়সী বা পরিচিতদের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানানো। প্রণাম সাধারণত পা ছুঁয়ে করা হয়, আর নমস্কারে সাধারণত কপালে বা বুকে হাত ঠেকিয়ে সম্মান দেখানো হয়।

☝️ মনে রাখবেন, স্ত্রী জাতি কখনই সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করিবেন না। কারণ ধরণীমাতা স্তনযুগলের ভাড় সহ্য করিতে পারেন না।
📒 শাস্ত্রমতে চরণে প্রণামের প্রধান তাৎপর্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

🙇‍♂️ ১. অহংকার নাশ ও নম্রতা প্রকাশ:
মানুষের সমস্ত অহংকার তার মাথায় থাকে। বড়দের বা গুরুজনদের চরণে মাথা নত করে প্রণাম করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের অহংকারকে বিসর্জন দেন এবং অত্যন্ত নম্রভাবে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। শাস্ত্রে বলা হয়, অহংকার নাশ না হলে প্রকৃত জ্ঞান বা আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব নয়।

✋২. আশীর্বাদ ও পজিটিভ শক্তির আদান-প্রদান:
শাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয় যে, মানুষের শরীরে শক্তির কেন্দ্রবিন্দু আছে। যখন কেউ গুরুজনদের চরণ স্পর্শ করে প্রণাম করেন এবং গুরুজন তাঁর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন, তখন একটি শক্তির চক্র (energy circuit) তৈরি হয়। বলা হয়, এই সময় বড়দের শরীর থেকে জ্ঞান, গুণ, এবং পজিটিভ শক্তি আশীর্বাদ হিসেবে ছোটদের শরীরে প্রবাহিত হয়।

🫶 ৩. শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন:
বাবা-মা, শিক্ষক এবং গুরুজনরা আমাদের জীবনে যে অবদান রাখেন, তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটি একটি মাধ্যম। তাঁদের ত্যাগ এবং স্নেহের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রণাম করা হয়।

🫥 ৪. পুণ্য লাভ ও বিঘ্ন নাশ:
শাস্ত্র মতে, নিষ্ঠার সঙ্গে বড়দের চরণে প্রণাম করলে অনেক পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের পথে আসা বিভিন্ন বাধা বা বিঘ্ন দূর হয়। এটি ব্যক্তিকে মানসিক শান্তি এবং আত্মবিশ্বাস জোগায়।

✳️ ৫. বৈজ্ঞানিক কারণ:
আধুনিক যুগে অনেকে এর একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও খুঁজে পান। মানুষের শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের শেষ প্রান্ত হাত এবং পায়ের আঙুলে থাকে। যখন কেউ বড়দের চরণ স্পর্শ করেন, তখন দুই শরীরের স্নায়ুর মিলনে একটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় শক্তির প্রবাহ ঘটে। এছাড়া, প্রণাম করার সময় শরীর বেঁকে যায়, যা এক ধরণের ব্যায়াম এবং এটি রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে।




আগামী ১৭ই মে থেকে  বিশেষ মাস পুরুষোত্তম মাস শুরু হতে যাচ্ছে। (১৭মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ) পুরুষোত্তম মাসে যে সমস্ত ধর্মীয়...
03/05/2026

আগামী ১৭ই মে থেকে বিশেষ মাস পুরুষোত্তম মাস শুরু হতে যাচ্ছে। (১৭মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত )
পুরুষোত্তম মাসে যে সমস্ত ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করা হবে তা অন্য সকল মাস থেকে ১০ হাজার গুণফল বেশি লাভ হবে।
এই পুরুষোত্তম মাস ৩ বছর পর পর আসে।
চলুন এই মাসে কি কি পালন করা উচিত এবং তার কি মহিমা ও পালন না করলে কি ক্ষতি হতে পারে জেনে জেনে নেই।

#পুরুষোত্তম_ব্রতে_কি_কি_পালনীয় : -
১. প্রাতঃস্নান ও মঙ্গলারতি
২. তুলসীতে জল দান
৩. হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ
৪. কীর্তন
৫. শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও শ্রবণ
৬. সন্ধ্যায় ভগবানকে প্রদীপ নিবেদন
৭. স্তোত্র পাঠ ( চৌরাগ্রগণ্য পুরুষাষ্টকম্)
৮. বৈষ্ণব সেবা ও বৈষ্ণবদের দান দক্ষিণা করা ।
৯. বিশেষ সংখ্যা ৩৩ ( রাধা কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে ৩৩ দণ্ডবৎ প্রণাম, ৩৩ সংখ্যা প্রদীপ নিবেদন, ৩৩ সংখ্যা ফল ও পুষ্প প্রদান, ৩৩ বার মন্দির পরিক্রমা এছাড়া ভগবানের অন্যান্য সেবায় ৩৩ সংখ্যা ব্যবহার)
১০. চারটি নিয়ম পালন ( কমপক্ষে নিরামিষ খাওয়া, নেশা না করা, জোয়া না খেলা, অবৈধ সংঘ না করা)

#পুরুষোত্তম_ব্রত_পালনের_মহিমা :-
১. স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম পবিত্র বৈশাখ, কার্তিক ও মাঘ মাস অপেক্ষায় এই অধিমাসকে অধিক মহিমা প্রদান করেছেন এবং একে নিজ নাম "পুরুষোত্তম" দ্বারা অলংকৃত করেছেন। (পৃ: - ৭)
২. শাস্ত্রে বিভিন্ন রকমের পাপ ও দোষের প্রতিকার রূপে এই পুরুষোত্তম ব্রতের বিধান রয়েছে। ( পৃ: ৮)
৩. ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন আমার যে সমস্ত গুণ আছে সে সমস্ত গুণ আমি এই মাসে অর্পণ করলাম। ( পৃ: ১৪)
৪. অন্য সকল মাসের অধিপতি বলা হয় এই মাসকে। ( পৃ: ১৪)
৫. যিনি সকল প্রকার কামনাশুন্য বা সকল কামনা যুক্ত হয়েও এ মাসের নিয়ম পালন করেন তিনি সকল কর্ম ভস্মাসাৎ করে আমাকে প্রাপ্ত হন। (পৃ: ১৪)
৬. এই মাসে ভক্তদের কখনোই অপরাধ হয় না ভগবানের সেবা করতে গিয়ে। (পৃ: ১৪)
৭. এই পুরুষোত্তম মাসের যিনি ভক্তিপূর্বক আমার নাম জপ ও আমার অর্চন করেন তিনি ধন-পুত্রাদি লাভে পরে অবশেষে গোলোকবাসী হন। (পৃ: ১৪)
৮. পুরুষোত্তম মাস পালনে জাগতিক সুখ প্রদানসহ ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার যোগ্যতাও লাভ করা যায়। (পৃ: ১৫)
৯. পুরুষোত্তম মাস সকল মাসের শ্রেষ্ঠ। এই মাসের মহিমার ১৬ ভাগের ১ ভাগেরও সমান নয় অন্য সকল মাসের মহিমা। ( পৃ : ১৭)
১০. পুরুষোত্তমাসে মাত্র একবারও যদি কেউ পূণ্যতীর্থে স্নান করেন ১২ হাজার বছর ধরে গঙ্গাস্নানের বা বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে প্রবেশ করলে গঙ্গা বা গোদাবরী স্নানে যে ফল লাভ হয় তা প্রাপ্ত হওয়া যায়। ( পৃ : ১৭)
১১. পুরুষোত্তম মাসের স্নান, দান ও কৃষ্ণ নাম করলে সমস্ত দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্ত হওয়া যায় এবং সর্বসিদ্ধিরাভ ও মনোবাসনা পূরণ হয়। ( পৃ: ১৭)
১২. পুরুষোত্তম ব্রত পালনের পঞ্চপান্ডবরা তাদের হারানো রাজ্য ফিরে পেল এবং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় অবশেষে ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হলেন। ( পৃ: ২৩)
১৩. ভক্তি ভরে পুরুষোত্তম ব্রত মাহাত্ম্য শ্রবণে সৌভাগ্য লাভ ও ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। ( পৃ: ২৪)
১৪. পুরুষোত্তম ব্রত পালনের ভক্তদের সমস্ত বাসনা পূরণ হয় । ( পৃ: ২৪)
১৫. পুরুষোত্তম মাসের প্রাতঃস্নান করলে সমস্ত তীর্থ ড় স্নানের ফল লাভ হয়।
#পুরুষোত্তম_ব্রত_পালন_না_করলে_কি_হতে_পারে :-
১. পুরুষোত্তম মাসের যে সকল মহামূঢ় হরিনাম জপ-দানাদি করেন না ও সৎকর্ম, স্নান করেনা এবং দেব, তীর্থ ও ভক্তদের প্রতি বিদ্বেষ করে সেই সকল দুষ্ট দুর্ভাগা স্বপ্নেও কোন সুখ পায় না। (পৃ : ১৪)
২. যে সকল ব্যক্তি পুরুষোত্তম মাসের গুরুত্ব না দিয়ে নিন্দা করে সে কখনো সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন না। ( পূর্বজন্মে দ্রৌপদী মেধা ঋষির কন্যার থাকা সত্ত্বেও সে পুরুষোত্তম মাসের নিন্দা করেছিল এবং তা পালন করে নাই তাই তার জন্য তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি পুরুষোত্তম ব্রত পালনে রাজ্যসুখ ও ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হয় ) (পৃ: ১৭-২৩)
হরে কৃষ্ণ🙏🙏
(সংগৃহীত)

‎উগ্রবীর  গণ্ডভেরুণ্ড-নৃসিংহদেব ‎কর্তৃক শিবের শরভাবতার নাশ !! ‎‎ভগবান নৃসিংহদেবের শ্রেষ্ঠত্ব শ্রুতি, স্মৃতি, তন্ত্র সর্ব...
03/05/2026

‎উগ্রবীর গণ্ডভেরুণ্ড-নৃসিংহদেব
‎কর্তৃক শিবের শরভাবতার নাশ !!

‎ভগবান নৃসিংহদেবের শ্রেষ্ঠত্ব শ্রুতি, স্মৃতি, তন্ত্র সর্বত্রেই বর্ণিত। শ্রীনৃসিংহদেব হলেন পরমব্রহ্মে শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণাবতার। নৃসিংহতাপনী উপনিষদ ও বিভিন্ন মহাপুরাণ ও উপপুরাণে তাকে অপরাজেয়, অবিনশ্বর ঈশ্বর বলে সম্বোধন করা হয়েছে। আর অন্যদিকে শিব গরুড়পুরাণে ভগবান নৃসিংহদেবকে বলেন, আপনি সহস্ররুদ্রের (সহস্র শিব) ন্যায় তেজস্বী।অথাৎ এক পরমেশ্বর বিষ্ণুরূপী নৃসিংহদেব সহস্র শিবের শক্তি প্রদর্শন করেন।

'সহস্ররুদ্রতেজস্ক সহস্রব্রহ্মসংস্তুত।

[গরুড়পুরাণ, পূর্ব্বখণ্ড, ২৩৬/১৮]

অনুবাদ:হে ভগবান! আপনি সহস্ররুদ্রের ন্যায় তেজস্বী, সহস্র ব্রহ্মা আপনার স্তুতি করেন।

তাহলে শিবপুরাণ ও লিঙ্গপুরাণ নামক তমোগুণময়ী পুরাণে ভগবান নৃসিংহদেবের পরাজয় নিয়ে যে কথা আছে, তা কিভাবে সত্য হতে পারে? উত্তর - কখনো সত্য হতে পারে না, এবং স্বয়ং শিবও তা পদ্মপুরাণে মাতা পার্বতীর নিকট ব্যক্ত করেছেন। বৈষ্ণবশ্রেষ্ঠ শিবজী মহারাজ কেন ভগবান শ্রীহরির নৃসিংহ অবতার নিয়ে এরূপ মোহনবাক্য প্রয়োগ করেছেন তা এ পোস্টের শেষাংশে বর্ণিত হয়েছে। প্রথমে চলুন আমরা প্রামাণ্য শাস্ত্রসমূহ হতে জেনে নি, বাস্তবে কি ঘটেছিলো-

শ্রীমদ্ভাগবতের সপ্তম স্কন্ধের বর্ণনা অনুযায়ী, হিরণ্যকশিপুকে হত্যার সময় নৃসিংহদেব যে ক্রোধ প্রকাশ করেছিলেন, হিরণ্যকশিপুকে হত্যার পরও সে ক্রোধ কমে নি। তখন ব্রহ্মা,শিব ইত্যাদি দেবগণের নির্দেশে প্রহ্লাদ মহারাজ নৃসিংহদেবের ক্রোধ দমন করেন।কিন্তু ‎শ্রীব্রহ্মান্ড মহাপুরাণে অন্য এক মন্বন্তরের একটি কাহিনী বর্ণিত আছে, যেখানে হিরণ্যকশিপুকে বধের পর ভগবান নৃসিংহদেবের ক্রোধ কিছুতেই শান্ত হচ্ছিল না। তখন ব্রহ্মাদি দেবতারা ভয় ভীত হয়ে বৈষ্ণবশিরোমণি শিবের নিকট গিয়ে নৃসিংহদেবের ক্রোধ নিবারণের ব্যবস্থা করতে বলেন। তখন শিবজী মহারাজ নিজের দেহ সম্ভূত এক অতিকায় জীবের সৃজন করলেন, যা 'শরভ' নামে পরিচিত। শিবের এ শরভাবতার নৃসিংহদেবের সাথে যুদ্ধ করতে আসলে শ্রীনৃসিংহদেব তা দেখে পূর্বাপেক্ষা অধিক ক্রোধান্বিত হয়ে উঠেন এবং তিনি শরভের চেয়েও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন, যে রূপটি 'গণ্ডভেরুণ্ড নৃসিংহ' নামে বন্দনীয়। ভগবান গণ্ডভেরুণ্ড নৃসিংহদেব শরভাবতারের সাথে ১৮ দিন পর্যন্ত অবিরাম যুদ্ধ করেন এবং একপর্যায়ে তিনি শরভাবতারকে ধরে তাঁর ব্রজতীক্ষ্মনখের দ্বারা শরভের বক্ষ চিঁড়ে শরভকে হত্যা করেন। শরভাবতার যখন ব্যর্থ হলেন তখন দেবতাদের অনুরোধে মহাভয়ংকরী শ্রীনৃসিংহদেবের ক্রোধ নিবারণ করেন ভক্তশ্রেষ্ঠ প্রহ্লাদ মহারাজ। চলুন দেখে নেওয়া যাক, শ্রীব্রহ্মান্ড মহাপুরাণে কি বলা আছে-

‎তো যুধ্যমানৌ তু তদা চিরেণ বলবত্তরৌ ।
‎ন শমং জগ্মতুর্দেবৌ নৃসিংহশরভাকৃতী ॥ ৬৯ ॥
‎ততঃ ক্রুদ্ধো মহাকাযো নৃসিংহো ভীমনিস্স্বনঃ ।
‎সহস্রকরজৈস্ত্রস্তস্য গাত্রাণি পীডযন্ ॥ ৭০ ॥
‎ততঃ স্ফুরচ্ছটাচোটো রুদ্রং শরভরূপিণম্ ।
‎ব্যদারযন্নখৈস্তীক্ষ্ণৈর্হিরণ্যকশিপুং যথা ॥ ৭১ ॥

‎[ ব্রহ্মান্ড পুরাণ, ক্ষেত্রমাহাত্ম্যখন্ডম, অধ্যায় ৮, শ্লোক ৬৯-৭১; তেলেগু সংস্করণ ]

‎অনুবাদ: অতঃপর দুই পরাক্রমশালী শক্তি অর্থাৎ নৃসিংহ ও শরভের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা দীর্ঘকাল (১৮ দিন) চলতে থাকে এবং বিধ্বংসী এ যুদ্ধে কেউই কিছুতে শান্ত হচ্ছিলেন না। অতঃপর ভগবান নৃসিংহদেব তার মহাবিকট মহাক্রোধী রূপ ( #গণ্ডভেরুণ্ড নৃসিংহরূপ ) ধারণ করলেন এবং তাঁর সহস্র হাতে রুদ্রের এই শরভাবতারকে ধরে তাঁর তীক্ষ্ণ ও মারাত্মক নখ দিয়ে শরভের বক্ষটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন, ঠিক যেভাবে তিনি হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করেছিলেন।

‎ব্রহ্মান্ডপুরাণের দক্ষিণ ভারতীয় সংস্করণ থেকে রেফারেন্স-

‎तो युध्यमानौ तु तदा चिरेण बलवत्तरौ ।
‎न शमं जग्मतुर्देवौ नृसिंहशरभाकृती ॥ ६९ ॥
‎ततः क्रुद्धो महाकायो नृसिंहो भीमनिस्स्वनः ।
‎सहस्रकरजैस्त्रस्तस्य गात्राणि पीडयन् ॥ ७० ॥
‎ततः स्फुरच्छटाचोटो रुद्रं शरभरूपिणम् ।
‎व्यदारयन्नखैस्तीक्ष्णैर्हिरण्यकशिपुं यथा ॥ ७१ ॥

‎-[ ब्रह्माण्ड पुराण, क्षेत्र महात्म्यखंडम ८।६९-७१ ]

‎অনুবাদ: এরপর দুই শক্তিমান এবং তাদের শক্তিশালী শক্তি দ্বারা, অর্থাৎ নৃসিংহ এবং শরবের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে এবং উভয়েই শান্ত হননি এবং তীব্র লড়াই করেন। এরপর ভগবান নৃসিংহ, ক্রোধে পরিপূর্ণ এবং বিশাল শারীরিক রূপ ধারণ করে, তাঁর হাজার হস্তের নক দ্বারা এই শরবকে ধরেন এবং রুদ্র কর্তৃক সৃষ্ট শরবের বক্ষ ছিঁড়ে ফেলেন, তাঁর ধারালো এবং মারাত্মক নক ব্যবহার করে এবং হিরণ্যকশিপুকে যেভাবে হত্যা করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই শবকে হত্যা করেন।

‎[ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ, ক্ষেত্র মাহাত্ম্য খণ্ড, অধ্যায় ৮, শ্লোক ৬৯-৭১]

‎শ্রীনৃসিংহদেবের প্রলয়ংকারী রূপ যে শরভের চেয়েও ভয়ংকর তা শ্রীপদ্মপুরাণে বর্ণনা করা হয়েছে-

‎দংষ্ট্রাসু সিংহশার্দ্দূলাঃ শরভাশ্চ মহোরগাঃ।
‎কন্ঠে চ দৃশ্যতে মেরুঃ স্কন্ধেষ্বপি মহাদ্রয়ঃ।।

‎[ পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ২৩৮, শ্লোক ১০৪ ]

‎অনুবাদ: ভগবান নৃসিংহদেবের দাঁতগুলো সিংহ, বাঘ এমনকি #শরভ ও মহাসর্প সমূহের উৎপত্তিস্থল (অর্থাৎ অত্যন্ত ভয়ংকর), নৃসিংহদেবের বজ্রকন্ঠ এদের চেয়েও ভয়ানক, মেরুপর্বতের মতো সুদৃঢ় , ভগবানের স্কন্ধও বিশাল পর্বতের মত।

‎শিবাবতার বিধ্বংসী শ্রীনৃসিংহদেবকে পদ্মপুরাণে তাই 'বীরভদ্রজিৎ' নৃসিংহরূপে বন্দনা করা হয়েছে-

‎জগদেকস্বরূপায় নৃসিংহায় নমোহস্ত তে।
‎ভালে দধার যো দেবো নৃসিংহো #বীরভদ্রজিৎ।।

‎[ পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ১৭৪, শ্লোক ৮৫ ]

‎অনুবাদ: যে #বীরভদ্রজিৎ নৃসিংহ দেব ললাটে সুতপ্ত দ্বাদশ সূর্যবিম্ব ধারণ করেন, সে জগদেকস্বরূপ নৃসিংহদেবকে নমস্কার করি।।

শৈব সর্বস্ব খন্ডনম্ গ্রন্থে শ্রীবিজয়েন্দ্রতীর্থ কিছু পুরাণের উদ্ধৃতি প্রদান করেন, যার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে, নৃসিংহদেব শিবের শরভ অবতারকে নিধন করেন।

নিকৃত্য বাহূরুশিরা বজ্রকল্পমুখৈর্নখৈঃ |
মেরুপৃষ্ঠে নৃসিংহেন শরভশ্চাথ সোঽপতৎ ||

[বামন পুরাণ]

অনুবাদ: নৃসিংহদেব বজ্রের ন্যায় তীক্ষ্ণ নখসমূহ দ্বারা শরভের বাহু, উরু ও মস্তক ছিন্নভিন্ন করে দিলেন; ফলে শরভ মেরু পর্বতের পৃষ্ঠে (শিখরে) পতিত হলো।

স চঞ্চুপঞ্চাননমষ্টপাদং পক্ষদ্বয়াঢ্যং ঘননীলগাত্রম্ |
স্ফুরন্মহাতীব্রসহস্রহস্তং সহস্রশস্ত্রং শরভস্বরূপম্ ||
করদাদয় প্রত্যেকং মুখং চঞ্চুপুটদ্বয়ম্ |
বিদার্য চ নৃসিংহস্তং হিরণ্যকশিপুং যথা ||

[ কূর্ম পুরাণ]

অনুবাদ: যার চঞ্চু (পাখির ঠোঁট) ও সিংহের ন্যায় মুখ, আটটি পা, দুটি ডানা এবং ঘন নীল বর্ণের শরীর—সেই সহস্র হাত ও সহস্র অস্ত্রধারী শরভরূপী প্রাণীকে নৃসিংহদেব তিনি যেভাবে হিরণ্যকশিপুকে বিদীর্ণ করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই শরভের চঞ্চুযুক্ত মুখ ও অঙ্গসমূহ বিদীর্ণ করলেন।

ততঃ ক্ষণেন শরভো নাদপূরিতদিঙ্মুখঃ |
অভ্যাশমগমদ্বিষ্ণোর্ব্যনদদ্ভৈরবস্বনম্ ||
স তমভ্যাগতং দৃষ্ট্বা নৃসিংহঃ শরভং রুষা |
নখৈবিদারয়ামাস হিরণ্যকশিপুং যথা ||

[ অগ্নি পুরাণ ]

অনুবাদ: তৎক্ষণাৎ শরভ সমস্ত দিক প্রকম্পিত করে গর্জন করতে করতে এবং ভয়ংকর শব্দ করতে করতে বিষ্ণুর (নৃসিংহের) অভিমুখে ধাবিত হলো। তাকে ধেয়ে আসতে দেখে নৃসিংহদেব ক্রুদ্ধ হলেন এবং যেভাবে হিরণ্যকশিপুকে বিদীর্ণ করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই নখ দিয়ে শরভকে বিদীর্ণ করলেন।

এছাড়াও লক্ষ্মী নারায়ণ সংহিতা,শাণ্ডিল্য সংহিতা ইত্যাদি পঞ্চরাত্র শাস্ত্র এবং বিষ্ণুযামল তন্ত্রে
বর্ণিত হয়েছে, নৃসিংহদেব শিবের শরভ অবতারকে নিধন করেন।

যৎপ্রভাবাচ্চ শরভং রূপং বৈ ধৃতবান্ হরঃ । ৬০ ॥

[লক্ষ্মী নারায়ণ সংহিতা ১.৩৮০.৬০]

অনুবাদ: যার(বিষ্ণু) প্রভাবেই শিব শরভ রূপ ধারণ করেছিলেন।

সহস্রভুজদণ্ডস্য নৃসিংহস্য মহোজসি।
শরভঃ শলভো জাতস্ততঃ কোহন্যঃ পরো হরেঃ॥ ২২॥

[শাণ্ডিল্য সংহিতা (ভক্তি খণ্ড) ৩.২.২২]

অনুবাদ: সহস্র বাহুযুক্ত ভগবান নৃসিংহের মহাতেজের সামনে সেই শরভেশ্বর একটি সামান্য পতঙ্গের (পোকার) মতো মনে হলো। হরি (বিষ্ণু) ব্যতীত আর কে পরমেশ্বর হতে পারে ?

হন্তংভ্যাগতম্ রৌদ্রং শরভং নরকেসরী। নখৈর্বিদারয়ামাস হিরণ্যকশিপুং যথা।।

[শেষ-সংহিতা ২৩/১৪]

অনুবাদ: ভগবান নরকেসরী শরভরূপী রুদ্রকে বধ করার জন্য এগিয়ে আসলো এবং হিরণ্যকশিপুর ন্যায় শরভকেও নখ দ্বারা বিদারণ করলেন।

ওঁ নমো ভগবন্ বিষ্ণো আদিবৈকুণ্ঠনায়ক।
পরাৎপরায় দেবায় পরেশায় নমো নমঃ॥ ১॥
পরব্রহ্মায় বিশ্বায় বিশ্বনাথায় তে নমঃ।
পরমাত্মায় গুহ্যায় জগজ্জননহেতবে।
সৃষ্টিস্থিত্যন্তরূপায় আদিভূতায় তে নমঃ॥ ২॥
নমস্তে নারসিংহায় গণ্ডভেরুণ্ডরূপিণে।
নমস্তে ব্যাঘ্রবক্ত্রায় সর্বদুঃখবিনাশিনে॥ ৩॥
নমস্তে অশ্ববক্ত্রায় সর্ববিদ্যাপ্রদায়িনে। নমো
বরাহবক্ত্রায় সর্বসম্পৎপ্রদায়িনে॥ ৪॥
নমো বানরবক্ত্রায় সর্বশত্রুবিনাশিনে।
নমো গরুড়বক্ত্রায় দুষ্টপন্নগহারিণে॥ ৫॥
নমো ভল্লুকবক্ত্রায় শত্রুস্তম্ভনকারিণে।
অষ্টাস্য গণ্ডভেরুণ্ডরূপায় শীঘ্রগামিনে॥ ৬॥
কল্পান্তকালনির্ঘোষগর্জিতায়োগ্ররূপিণে।
অনেকেকোটি শরভভক্ষণায় মহাত্মনে॥ ৭॥
দ্বাত্রিংশৎকোটিহস্তায় দ্বাত্রিংশায়ুধধারিণে।
মহতে ভীমরূপায় নারসিংহায় তে নমঃ॥ ৮॥

[বিষ্ণুযামল তন্ত্র, অষ্টমুখগন্ডভেরুণ্ড নৃসিংহ কল্প, ব্রহ্মসনৎকুমার সংবাদ, শরভশিবকৃত স্তব, শ্লোক ১-৮]

বঙ্গানুবাদঃ ওঁ, আদি বৈকুণ্ঠের অধিপতি ভগবান বিষ্ণুকে প্রণাম। যিনি সর্বোচ্চেরও ঊর্ধ্বে, সেই পরম প্রভুকে আমি প্রণাম করি।১। হে পরম ব্রহ্ম, আপনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বজনীন প্রভু। হে রহস্যময় পরমাত্মা, আপনিই বিশ্ব সৃষ্টির কারণ। আপনাকে প্রণাম, যিনি সৃষ্টি, স্থিতি এবং লয়ের মূল রূপ।২।আপনাকে প্রণাম, যিনি গণ্ডভেরুণ্ড রূপে নৃসিংহ। হে ব্যাঘ্র-বদন (বাঘের মুখবিশিষ্ট) প্রভু, আপনি সমস্ত দুঃখ বিনাশ করেন।৩
আপনাকে প্রণাম, যার অশ্বের (ঘোড়ার) ন্যায় মুখ এবং যিনি সমস্ত জ্ঞান প্রদান করেন। আপনাকে প্রণাম, যার বরাহের (শূকরের) ন্যায় মুখ এবং যিনি সমস্ত
ঐশ্বর্য প্রদান করেন।৪। বানর-বদন প্রভুকে প্রণাম, যিনি সমস্ত শত্রুকে বিনাশ করেন। গরুড়-বদনকে প্রণাম, যিনি দুষ্ট সর্পদের ধ্বংস করেন।৫। আপনাকে প্রণাম, যিনি ভল্লুকবক্ত্র এবং যিনি শত্রুকে স্তম্ভিত করেন। হে অষ্ট-মুণ্ডধারী, আপনি গণ্ডভেরুণ্ড রূপ ধারণ করেছেন এবং আপনি দ্রুত গমন করেন।৬। হে প্রলয়কালের বা যুগান্তের প্রচণ্ড বজ্রনির্ঘোষ রূপী। হে মহাত্মা, আপনি লক্ষ লক্ষ শরভ (পৌরাণিক প্রাণী) গ্রাস করেছেন।৭।
তিনি বত্রিশ কোটি হাত এবং বত্রিশটি অস্ত্র ধারণ করেন। হে ভগবান নৃসিংহের মহান এবং ভীতিপ্রদ রূপ, আমি আপনাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করি।৮।

তাহলে পরমবৈষ্ণব শিবজী মহারাজ কেন শিবপুরাণ ও লিঙ্গপুরাণে নিজ আরাধ্যদেব শ্রীহরির বিরুদ্ধে এরূপ মোহনবাক্য প্রয়োগ করে বিভ্রাট সৃষ্টি করলেন?

‎তার উত্তরে স্বয়ং শিব নিজেই পার্বতীকে বলেছেন। পদ্মপুরাণে যোগেশ্বর শিব মাতা পার্বতীকে বলেছেন, তিনি নিজের ইচ্ছাতে এরূপ করেন নি, তিনি শ্রীহরির নির্দেশে অসুরমোহনার্থে তামসিক পুরাণসমূহে নিজেকে শ্রীহরির চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য এসকল মোহন বাক্য বলেছেন, যাতে জগতের আসুরিক লোকেরা বিষ্ণুভক্তির পথ থেকে সরে গিয়ে বেদবিরুদ্ধ পন্থাকে আশ্রয় করে বিনাশ প্রাপ্ত হয়।

‎অসুরেরা বিষ্ণুভক্তির ছল করে তপস্যা দ্বারা শক্তি লাভ করে সে শক্তি দিয়ে দেবলোকাদি দখল করার উপক্রম হলে দেবতারা শ্রীহরির নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। সে সময় শ্রীহরি শিবকে নির্দেশ দেন, তিনি যেন জগতে শিবপুরাণ, লিঙ্গপুরাণাদি তামসিক পুরাণ, তামসিক স্মৃতি ও পাশুপত শাস্ত্র প্রচার করেন এবং শৈব ও মহাশৈব নামক বেদবিরুদ্ধ পাষন্ড সম্প্রদায় সৃষ্টি করেন। শিবের এ প্রচারণায় তখন যারা প্রকৃতই অসুর, বিষ্ণুভক্তির ছল করছে, তারা বিষ্ণুবিমুখ হয়ে যাবে এবং তাদের পতন ঘটানো দেবতাদের পক্ষে সহজ হবে।

‎পুরাণানি চ শাস্ত্ৰাণি ত্বয়া সত্ত্বেন বৃংহিতাঃ।
‎কপালচৰ্ম্মভস্মাস্থিচিহ্নাসমরসৰ্ব্বশঃ। ৩০
‎ত্বমেব ধৃতবান্ লোকান্ মোহয়ম্ব জগত্ৰয়ে ।
‎তথা পাশুপতং শাস্ত্ৰং ত্বমেব কুরু সৎস্কৃতঃ ॥৩১
‎কঙ্কালশৈবপাষণ্ডমহাশৈবাদিভেদতঃ।
‎অলক্ষ্যঞ্চ মত সম্যগ্বেদবাহ্যং নরাধমাঃ ॥ ৩২
‎ভস্মাস্থিধারিণঃ সর্ব্বে ভবিষ্যন্তি হচেতসঃ।
‎ত্বাং পরত্বেন বক্ষ্যন্তি সৰ্ব্বশাস্ত্রেষু তামসাঃ ॥৩৩
‎তেষাং মতমধিষ্ঠায় সর্ব্বে দৈত্যাঃ সনাতনাঃ।
‎ভবেয়ুস্তে মদ্বিমুখাঃ ক্ষণাদেব ন সংশয়ঃ ॥৩৪
‎অহপ্যবতারেষু ত্বাঞ্চ রুদ্র মহাবল।
‎তামসানাং মোহনার্থং পূজয়ামি যুগেযুগে।
‎মতমেতদবষ্টভ্য পতস্ত্যেব ন সংশয়ঃ ॥৩৫

‎(পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ২৩৫, শ্লোক ৩০-৩৫)

‎অনুবাদ : শ্রীহরি শিবকে বললেন- "হে শিব! তুমি সংকোচ পরিত্যাগ করে জগতে #তামসিক_পুরাণ ও অন্যান্য তামসশাস্ত্রের প্রচার করো। তুমি কপাল, চর্ম্ম, ভস্ম ও অস্থি চিহ্ন ধারণ করে ত্রিজগতের অখিল লোককে মোহিত কর। তুমি পাশুপাত্‌ শাস্ত্ৰ প্রণয়ন করে তা প্রচার কর। তুমি কঙ্কাল, শৈব, পাষণ্ড ও মহাশৈব প্রভৃতি বিভিন্ন সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত করে বেদবিরুদ্ধ মত অলক্ষ্যে প্রবর্তিত কর। এইরূপ করলে সকলে ভস্মাস্থিধারণ করে অধম হবে ও জ্ঞানহীন হয়ে যাবে। তখন তারা তামসিক হয়ে তোমাকেই সকল শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠ বলে কীৰ্ত্তন করবে। (যারা বিষ্ণুভক্তির ছল করে ত্রিলোকে উৎপাত সৃষ্টি করে) সে সকল সনাতন দানবগণ এ বেদবিরুদ্ধ মত গ্রহণ করে ক্ষণকাল মধ্যে নিঃসংশয় বিষ্ণুবিমুখ হয়ে যাবে। হে মহাবল রুদ্র ! আমিও যুগে যুগে অবতার পরিগ্রহ করে তামসিক লোকদের মোহিত করার জন্য তোমার পূজা করব। তা দেখে দানবেরাও সেই মতের অনুবর্তী হইয়া নিঃসংশয় পতিত হইবে।

‎এটুকু বর্ণনার পর এর পরের অধ্যায়ে ভক্তপ্রবর শিবজি মহারাজ তার দ্বারা প্রচারিত তামসিক পুরাণসমূহের নাম বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন- ' তামসিক পুরাণ অনুসারীগণ নিশ্চিতভাবে নরকপ্রাপ্ত হন।

‎মাৎস্যং কৌৰ্ম্মং তথা লৈঙ্গং শৈবং স্কান্দং তথৈব চ।
‎অগ্নেয়ঞ্চ ষড়েতানি তামসানি নিবোধ মে॥ ১৮।।

‎( পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ২৩৬, শ্লোক- ১৮ )

‎অনুবাদ : শিব বললেন, "মৎস্যপুরাণ, কুৰ্ম্মপুরাণ, লিঙ্গপুরাণ, শিবপুরাণ, স্কন্দপুরাণ ও অগ্নিপুরাণ - এই ছয়খানি পুরাণ তামসিক পুরাণ।"

সাত্ত্বিকা মোক্ষদাঃ প্রোক্তা রাজসাঃ সর্ব্বদা শুভাঃ।।২১
‎তথৈব তামসা দেবি নিরয়প্রাপ্তিহেতবঃ ॥২২।।

‎(পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ২৩৬, শ্লোক ২১- ২২)

‎অনুবাদ: শিব পার্বতীকে বললেন, হে দেবি ! পদ্মপুরাণাদি সাত্ত্বিক পুরাণসমূহ মোক্ষ প্রদান করে। ব্রহ্মান্ডপুরাণাদি রাজসিক পুরাণ সর্ব্বদা শুভ এবং #শিবপুরাণ, #লিঙ্গপুরাণাদি তামসিক পুরাণগুলো নিশ্চিতভাবে #নরক প্রাপ্তির কারণ বলে নির্দিষ্ট।

পদ্ম পুরাণে ছয়টি সাত্ত্বিক এবং ছয়টি রাজসিক পুরাণের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে
ব্রহ্মান্ড, মার্কণ্ডেয় ইত্যাদি রাজসিক পুরাণ সর্বদা শুভ বা মঙ্গলবিধান করে।তাই তা সর্বদা মান্য। আর ভাগবত, বিষ্ণু, পদ্মপুরাণ ইত্যাদি সাত্ত্বিক পুরাণ মোক্ষ বা মুক্তি প্রদান করে। অপপ্রচারকারীর দাবী হল বৈষ্ণবগণ নাকি তামসিক পুরানের সাথে সাথে রাজসিক পুরাণকে মানে না। কিন্তু এটি তাদের ভূল প্রচার। আমরা কোথাও এ ধরনের কথা বলি নি। কেননা শাস্ত্রই আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে ব্রহ্মান্ড ইত্যাদি রাজসিক পুরাণ পরম মঙ্গলময়ী।
আর বিষ্ণুভক্তির শিক্ষা দিচ্ছে স্কন্ধ ইত্যাদি তামসিক পুরাণের শিক্ষাকে আমরা সাদরে গ্রহণ করি।কিন্তু শিব,রুদ্র ইত্যাদি তামসিক পুরাণে বিস্তৃতভাবে বিষ্ণুভক্তির বিপরীত কথা বলে হয়েছে, তাই শাস্ত্র নির্দেশে তা সর্বতোভাবে পরিত্যজ্য।

বৈষ্ণবং নারদীয়ঞ্চ তথা ভাগবতং শুভম্।
গারুড়ঞ্চ তথা পাদ্মং বরাহং শুভদর্শনে। ১৯।।
সাত্ত্বিকানি পুরাণানি বিজ্ঞেয়ানি শুভানি বৈ।
ব্রহ্মাণ্ডং ব্রহ্মবৈবর্তং মার্কণ্ডেয়ং তথৈব চ ।। ২০।।
ভবিষ্যং বামনং ব্রাহ্মং রাজসানি নিবোধ মে।
সাত্ত্বিকা মোক্ষদাঃ প্রোক্তা রাজসাঃ সর্ব্বদা শুভাঃ।।২১। তথৈব তামসা দেবি নিরয়প্রাপ্তিহেতবঃ।। ২২।।

(পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ২৩৬, শ্লোক ১৯ - ২২)

অনুবাদ: বিষ্ণু, নারদীয়, মঙ্গলময় শ্রীমদ্ভাগবত, গরুড়, পদ্ম ও বরাহ- এই শুভ সপ্ত পুরাণ সাত্ত্বিক বলে জ্ঞাত হও। ব্রহ্মাণ্ড, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত, মার্কণ্ডেয়, ভবিষ্য, বামন ও ব্রহ্ম এই সকল পুরাণ রাজস বলে জানবে। হে দেবি! সাত্ত্বিক পুরাণ সকল মোক্ষ বলে উক্ত হয়েছে। রাজসিক পুরাণ সর্ব্বদা শুভ এবং তামস পুরাণ নরকপ্রাপ্তির হেতু বলে নিদির্ষ্ট।

~ সদ্গুণ মাধব দাস

30/04/2026

সকলকে শ্রী শ্রী নৃসিংহ চতুর্দশীর শুভেচ্ছা ❤️

30/04/2026
🌼 নৃসিংহ চতুর্দশীর পূজা পদ্ধতি (সহজ নিয়ম)🙏 ১. সকালবেলা প্রস্তুতিভোরে উঠে স্নান করুনপরিষ্কার কাপড় পরুনঘর বা পূজার স্থান প...
29/04/2026

🌼 নৃসিংহ চতুর্দশীর পূজা পদ্ধতি (সহজ নিয়ম)
🙏 ১. সকালবেলা প্রস্তুতি
ভোরে উঠে স্নান করুন
পরিষ্কার কাপড় পরুন
ঘর বা পূজার স্থান পরিষ্কার করুন
🪔 ২. সংকল্প (প্রতিজ্ঞা)
ভগবান নরসিংহের সামনে বসে মনে মনে বলুন—
“আমি আজ নৃসিংহ চতুর্দশীর ব্রত পালন করছি”
🌿 ৩. পূজার উপকরণ
ফুল, তুলসী পাতা 🌸
ধূপ, দীপ 🪔
ফল, মিষ্টি 🍎
গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল
🔥 ৪. পূজার ধাপ
প্রথমে প্রদীপ জ্বালান
ধূপ জ্বালিয়ে প্রণাম করুন
ভগবান নরসিংহকে ফুল ও তুলসী অর্পণ করুন
ফল-মিষ্টি নিবেদন করুন
📖 ৫. স্তোত্র ও পাঠ
“নরসিংহ কবচ” বা নাম জপ করুন
প্রহ্লাদের কাহিনি শুনুন বা পড়ুন
🌙 ৬. উপবাস ও সন্ধ্যা পূজা
অনেক ভক্ত সারাদিন উপবাস রাখেন
সন্ধ্যা/প্রদোষ কালে বিশেষ পূজা করা হয়
🙏 ৭. প্রার্থনা
ভক্তিভরে প্রার্থনা করুন—
“হে নরসিংহ দেব, আমাদের ভয় ও বাধা থেকে রক্ষা করুন”
🍚 ৮. প্রসাদ গ্রহণ
পূজা শেষে প্রসাদ গ্রহণ করুন
দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়
✨ বিশেষ কথা:
এই ব্রত ভক্তদের জীবনে সাহস, সুরক্ষা ও শান্তি নিয়ে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।

🌼 নরসিংহ দেবের অভিষেক পদ্ধতি (বাড়িতে)
🙏 ১. প্রস্তুতি
সকালে স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরুন
পূজার জায়গা পরিষ্কার করুন
নরসিংহ দেবের মূর্তি/ছবি (মূর্তি হলে অভিষেক করা যাবে) স্থাপন করুন
🪔 ২. প্রয়োজনীয় উপকরণ
পরিষ্কার জল / গঙ্গাজল
দুধ 🥛
দই
মধু 🍯
ঘি
চিনি (বা গুড়)
👉 এগুলো মিশিয়ে “পঞ্চামৃত” তৈরি করা যায়
ফুল 🌸
তুলসী পাতা
ধূপ, প্রদীপ
পরিষ্কার কাপড়
💧 ৩. অভিষেকের ধাপ
👉 (ক) সংকল্প
মনে মনে বলুন—
“আমি ভগবান নরসিংহ দেবের অভিষেক করছি”
👉 (খ) জল দিয়ে স্নান
প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে মূর্তি ধুয়ে নিন
👉 (গ) পঞ্চামৃত অভিষেক
দুধ, দই, মধু, ঘি, চিনি দিয়ে একে একে বা মিশিয়ে অভিষেক করুন
👉 (ঘ) আবার জল স্নান
শেষে আবার পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন
🌸 ৪. শৃঙ্গার ও পূজা
পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মূর্তি মুছে দিন
ফুল ও তুলসী অর্পণ করুন
ধূপ ও প্রদীপ জ্বালান
📿 ৫. জপ ও প্রার্থনা
জপ করুন 👉 “ওঁ নৃসিংহায় নমঃ”
ভক্তিভরে প্রার্থনা করুন—
“হে নরসিংহ দেব, আমাদের রক্ষা করুন”
🍚 ৬. প্রসাদ
পঞ্চামৃত প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করুন
পরিবারে বিতরণ করুন
✨ গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
মূর্তি না থাকলে ছবিতে অভিষেক না করে শুধু মানসিকভাবে করুন
সবকিছু ভক্তি ও পরিষ্কার মনে করা সবচেয়ে জরুরি
সন্ধ্যায় আবার আরতি করলে ভালো

Address

Dhaka
Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when চাটগাইয়া ভক্ত /Chittagong Devotees posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share