29/06/2023
"দুল্লভঞ্চ মনুস্সত্ত"
ব্যাখ্যা - মনুষ্য জন্ম দূর্লভ।
প্রঃ কেনো?
উঃ
প্রথমতঃ
একবার মনুষ্য জন্ম প্রাপ্তিতে অকল্পনীয় পূণ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। এ ক্ষয়কৃত বিপুল পূণ্যরাশী পূণঃ অর্জনে সীমাহীন কুশল কর্ম সম্পাদনের প্রয়োজন। সকলে তা সম্পাদন করতে পারে না। যৎপ্রেক্ষিতে, পরবর্তীতে মনুষ্য জন্ম লাভ করা অতীব দূরূহ হয়ে পড়ে।
তারওপর, বহু সত্ত্ব মনুষ্য জন্ম প্রাপ্ত হলেও; অনেকেই বিকলাঙ্গ হয়, জন্মবধির হয়, রোগগ্রস্থ হয়, বহুবিধ জটিলতার সৃষ্টি হয় বেঁচে থাকতে, অনেকের মাতৃগর্ভেই জীবনাবসান হয়।
অনেকক্ষেত্রেই,
মাতা সামাজিক নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে সন্তান গর্ভে ধারণ করলেও লোকলজ্জার ভয়ে, গর্ভপাত করান।
সে হিসেবে, তারা মনুষ্য গর্ভে উৎপন্ন হলেও, আরো অনেকের ন্যায় জন্মলাভ করতে পারে না…
দ্বিতীয়তঃ
অধিকাংশ সত্ত্বই বেশীরভাগ কুশল কর্ম সম্পাদন পূর্বক মুখে নির্বাণ শান্তি প্রার্থণা করলেও, মনে ঠিকই বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই স্বর্গে গমনের এবং স্বর্গসুখের প্রতি লোভান্বিত চিত্তে প্রার্থণা করে। যৎকারণে, তাদের মধ্যে যারা সত্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে অমলিন চিত্তে প্রার্থণা করে তাদের অনেকে মৃত্যুর পর স্বর্গে গমন করে।
তৃতীয়তঃ
ব্রহ্মলোকে গমন সহজ নয়। স্বর্গে যতো সহজে যাওয়া যায়,
ব্রহ্মলোকে যেতে তার চাইতেও বেশী কোটি কোটি গুণ অধিকতর পূণ্যবলের প্রয়োজন।
তদুপরি, যারা শীলগুণ সম্পন্ন, সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী পরায়ন, কোনো প্রাণীরই ক্ষতি করেন না, জীবনাবসান ঘটান না, নিদেনপক্ষে (দান-শীল-ভাবনা) এ লৌকিক স্তরে নিজেকে সমুন্নত রাখেন, তাদের কিছু কিছুই কেবলমাত্র ব্রহ্মলোকে গমন করেন।
অপরদিকে, তথাগত "অষ্ট অক্ষন"র মধ্যে ব্রহ্মলোককেও অন্তর্ভূক্ত করেছেন, তাদের অকল্পনীয়াধিক আয়ুষ্কালের জন্যে।
এ জন্মলাভে নিজের কোনোই লাভ হয় না…
***
এবারে মূল কারণে আসি,
কেনো তথাগত মনুষ্য জন্মকে দূর্লভ বলেছেনঃ
স্বর্গে কেবলই সুখ। তদুপরি, আয়ুষ্কালও সুদীর্ঘ্য (ব্রহ্মলোকের তুলনায় সামান্য)। সেখানে কেবল আহার, মৈথুন সুখ এবং গীত-বাদ্যে সত্ত্বগণ রমিত হতে থাকেন। কোনোই কুশল কর্ম সেখানে করে পূণ্যার্জনের সুযোগ হয় না। কেবল পূণ্যবল ক্ষয় হতেই থাকে।
দুঃখ সেখানেও বিদ্যমান। কিন্তু, সদ্ধর্মাচরণ দ্বারা প্রাপ্ত জ্ঞানের অপ্রতুলতার কারণে অধিকাংশ সত্ত্বগণ তা বোধনে অক্ষম থাকে।
সেখান হতে চ্যুত হবার প্রাক্কালে স্মৃতিতে সত্ত্বগণ থাকতে পারে না বিধায় পরবর্তী গতি অনিশ্চিত থাকে।
নরকেও অবিরত দুঃখ। শাস্তি প্রাপ্ত হয়ে, সত্ত্বগণ দিবা-রাত্রি রোদন করতে থাকে। পূণ্যকর্ম সম্পাদন কি প্রকারে সম্ভব, তথায়?!
স্বর্গে, সদ্ধর্মজ্ঞ্যান প্রাপ্ত হওয়া যায় না। আচরণ করা যায় না। ভাবনানুশীলন করা যায় না। শুধুমাত্র সাধুবাদও প্রদানের ক্ষমতা সত্ত্বদের থাকে না, বিহারে রমিত হতে থাকার কারণে…
অনেকেই,
স্বর্গ এমনকি ব্রহ্মলোক হতেও চ্যুত হয়ে সরাসরিই তির্য্যক যোনিতে জন্মগ্রহণ করে। অনেকে আবার, সেখান হতেই কর্মের প্রভাবে সরাসরি নরক গমন করে থাকে….
কেবল এবং কেবলমাত্র,
মনুষ্যলোকেই সুখ-দুঃখ সরাসরি জ্ঞ্যাত হওতঃ স্মৃতিসম্পন্ন থেকে মুক্তির পথে স্থির থাকা যায়। কুশল কর্মাদি সুসম্পাদন করা যায়। ভাবনানুশীলন করা যায়। শীলগুণ অটুট রাখা সম্ভব।
তথাগতের সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কারঃ
"চতুরার্য্য সত্য"
"আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ"
" প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি "
যথাযথরূপে জ্ঞ্যাত হওয়া সম্ভব।
এটি আর অন্য কোনো লোকভূমিতেই সম্ভবপর নহে…
"দুঃখ সত্য"
স্বীয়ার্জিত পূণ্যতেজ এবং অবিরত সদ্ধর্মজ্ঞ্যানার্জন সহযোগে আচরিত প্রচেষ্টার বলে এ সত্যকে জানা ও বোঝা সম্ভব যা দুঃখ হতে মুক্তির একমাত্র উপায়। এটি অন্য আর কোনো লোকভূমিতেই সম্পাদন সম্ভব নয়।
এ মনুষ্য জন্মও অদূর ভবিষ্যতে সত্ত্বগণের জন্যে মহাসুদূর্লভ হয়ে যাবে, তাঁদেরই অবিরত সম্পাদনজনিত পাপকর্মাদির কারণে…
¥ সকলের যথাযথ সদ্ধর্মজ্ঞ্যানোর্জন সহকারে স্থির চিত্তে,
আচরণের গভীর চেতনাৎপন্ন হউক ¥
~ Angkur Barua Sandwipan
সদস্যঃ মঙ্গল গোঁসাই বিদর্শন ধর্মচর্চা সংঘ।