নির্বাণ মৈত্রী

নির্বাণ মৈত্রী This page only for all Buddhism. page Regulation,
1. Only for Buddhism post not another post!
2.Thi This page only for all Buddhist. Page Regulation

1.

Only for Buddhism post not another post!
2.This group only for Buddhism!
3.But if you interest you can join to!
4.Always follow rules 1!
5.Thank you.

‘জীবেন অন্যের সমাপ্ত করা কর্মকে দেখে লাভ নেই, দেখ কী বাকি আছে তাকে সম্পুর্ন কর।”
30/06/2023

‘জীবেন অন্যের সমাপ্ত করা কর্মকে দেখে লাভ নেই, দেখ কী বাকি আছে তাকে সম্পুর্ন কর।”

“এক মূহুর্তে একটি দিন পাল্টে যেতে পারে, এক দিনে একটি জীবন পাল্টে যেতে পারে, একটি জীবন বিশ্ব পাল্টে দিতে পারে।”
29/06/2023

“এক মূহুর্তে একটি দিন পাল্টে যেতে পারে, এক দিনে একটি জীবন পাল্টে যেতে পারে, একটি জীবন বিশ্ব পাল্টে দিতে পারে।”

“মানুষের মুখের কথা অনেকটা ধারালো চুরির মত, যা মানুষকে বাহিরে থেকে কম ভিতর থেকে ক্ষত বিক্ষত করে।”
28/06/2023

“মানুষের মুখের কথা অনেকটা ধারালো চুরির মত, যা মানুষকে বাহিরে থেকে কম ভিতর থেকে ক্ষত বিক্ষত করে।”

‘হাজারটি যুদ্ধ জেতার চেয়ে নিজের মন কে জেতা অনেক ভ্যাল।”
28/06/2023

‘হাজারটি যুদ্ধ জেতার চেয়ে নিজের মন কে জেতা অনেক ভ্যাল।”

“আমাদের অহংকারের সাথে করা সঠিক কাজের চেয়ে বিনম্রতার সাথে ভুল করা অনেক ভাল।”
27/06/2023

“আমাদের অহংকারের সাথে করা সঠিক কাজের চেয়ে বিনম্রতার সাথে ভুল করা অনেক ভাল।”

বৌদ্ধরা কি গরুর মাংস খেতে পারে? CAN BUDDHIST EAT BEEF?বৌদ্ধরা কি গরুর মাংস খেতে পারে?দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদাদের নিয়ম নীতি...
26/06/2023

বৌদ্ধরা কি গরুর মাংস খেতে পারে? CAN BUDDHIST EAT BEEF?
বৌদ্ধরা কি গরুর মাংস খেতে পারে?
দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদাদের নিয়ম নীতি পালন করে আসা অনেকেই মনে করে গরুর মাংস খাওয়া বৌদ্ধধর্মে নিষেধ। আর দীর্ঘদিন চলে আসা এ রীতিকে ভিত্তি করে অনেকেই মুখরোচক গল্প সমাজে প্রচার করে। যেমনঃ- কেউ কেউ বলে গোখাদককে সম্যক দেবতাগণ অপছন্দ করেন এবং অপদেবতারা ক্ষতি করে| কেউ বলে গরু হচ্ছে মায়ের মত তাই মায়ের মাংস কি কখনো খাওয়া যায়? ……ইত্যাদি, ইত্যাদি। কেউ গরুর মাংস খাবে কি খাবে না তা নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর যেহেতু হিন্দুদের সংস্পর্শে থাকতে থাকতে বৌদ্ধরাও গরুর মাংস খাওয়াকে অপছন্দ করে তাই গরুর মাংস খেতে কাউকে আমি উদ্বুদ্ধও করবনা। কিন্তু যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে এটাকে কেউ কেউ বন্ধ করতে চান, দেবতার নাম দিয়ে যখন অপ-প্রচার চালায় তখন কিছু বলতে বাধ্য হই। যাই হোক এবার আসল কথায় আসি। তথাগত বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘদের সুশৃঙ্খলভাবে চলার পথনির্দেশক হিসেবে বিনয়ের প্রবর্তন করেছেন। পক্ষান্তরে গৃহীদের চলার জন্য সরাসরি কোন গৃহী বিনয় প্রবর্তন করেননি, শুধুমাত্র পঞ্চশীল প্রতিপালনের কথাই বলেছেন। তবে সুত্ত পিটকে গৃহীদের নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা পাওয়া যায় যেখানে গৃহীদের জন্য কোনটি মঙ্গল কোনটি অমঙ্গল, কোনটি করা উচিত কোনটি করা অনুচিত এসবের বর্ণনা রয়েছে। আর এ বিষয়গুলোকেই আমরা গৃহী বিনয় হিসেবে ধরে নেই। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়- মঙ্গল সূত্রে বুদ্ধ বলেছেন মাতাপিতার সেবা করা উত্তম মঙ্গল। অর্থ্যাৎ মাতাপিতাকে সেবা করার উপদেশ-ই এখানে দেওয়া হয়েছে। আবার পরাভব সূত্রে দেখা যায় রাগী ব্যক্তির পরাজয় ঘটে এক কথায় রাগকে বর্জন করতেই এখানে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। এভাবেই গৃহী বিনয়গুলো আমরা ধারণ করার চেষ্টা করি।

এবার আসি মাংসের বিষয়ে। বিনয়ের অন্তর্গত মহাবর্গে ১০ প্রকার মাংস খাওয়াকে বুদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য নিষেধ বলে প্রজ্ঞাপ্ত করেছেন। যেমন: সিংহ, বাঘ, চিতাবাঘ, ভালুক, নেকড়ে বাঘ ইত্যাদি। নিষিদ্ধ ঘোষিত দশ প্রকার মাংসের মধ্যে গরুর মাংস নেই। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন বুদ্ধ প্রাণীহত্যা থেকেই বিরত থাকার জন্য বারবার বলেছেন তবে মাংসের বিরুদ্ধে তেমন কোন নিষেধাজ্ঞা নেই আবার অবাধে খাবার বিধানও বলা নেই। এমনকি দেবদত্ত এক সময় বুদ্ধের কাছে প্রার্থনাও করেছিলেন বুদ্ধের শিষ্যরা যেন নিরামিষভোজী হয়। বুদ্ধ উপমা দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে মাংসের সাথে তার কোন বিরোধ নেই, বিরোধ মূলত হত্যার বিরুদ্ধেই। তবে এই দশ প্রকার মাংস নিষিদ্ধ করার একটা কারণ ছিল আর তা হচ্ছে এই দশ প্রকার মাংস যারা খায় তাদের শরীর দিয়ে ঐ প্রাণীর গন্ধ যায়। যেহেতু তৎকালীন সময়ে বেশ কিছু ভিক্ষু অরণ্যে অবস্থান করতেন তাই তারা এই মাংসগুলো খেলে এবং শরীর থেকে গন্ধ বের হলে অরণ্যের সেই সব জীবিত প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে এই কারণেই কেবলমাত্র ঐ দশপ্রকার মাংসকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া মাংস খাওয়ার আগে বুদ্ধ ত্রিকুটী পরিশুদ্ধের কথা বলেছেন। সেগুলি হচ্ছে কোন ভিক্ষু যদি দেখেন, শুনেন কিংবা তাঁর মনে সন্দেহ উৎপন্ন হয় যে তাকে দান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রাণী হত্যা করা হয়েছে তবে সেই মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। যাই হোক এখান থেকে এটা স্পষ্ট যে, ত্রিকুটী পরিশুদ্ধ থাকলে ভিক্ষুসংঘের গরুর মাংস খেতে কোন বাধা নিষেধ নেই।

কেউ যদি বলে স্বয়ং বুদ্ধ গরুর মাংস খেয়েছিলেন তবে সেটাকেও কিন্তু পুরোপুরি মিথ্যা বলা যাবে না। বিনয় পিটকের পারাজিকাতে পাওয়া যায়, বুদ্ধের ভিক্ষুণীদের মধ্যে ঋদ্ধিশ্রেষ্ঠ অর্হৎ উৎপলবর্ণা বুদ্ধকে তার তৎকালীন সেবক উদায়ীর মাধ্যমে একটি গাভীর মাংস দান করেছিলেন। কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে সংক্ষেপে বলছি কাহিনীটি- উৎপলবর্ণা একসময় এক অন্ধবনে ধ্যান করছিলেন। এক চোর একটি গাভীকে হত্যা করে তার মাংস নিয়ে ঐ অন্ধবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উৎপলবর্ণাকে দেখতে পেয়ে ভাবলেন এই সন্ন্যাসিনী যদি আমার চুরির বিষয়টি গ্রামে বলে দেন তবে আমার মহাক্ষতি হবে এই ভেবে কিছু উৎকৃষ্ট মাংস সেখানে রেখে যান। এবং বড় করে বলে যান যে- কোন সন্ন্যাসী/সন্ন্যাসীনী চাইলে এই মাংস নিতে পারে। উৎপলবর্ণা সেই চোরের ফেলে যাওয়া মাংসগুলোকে খাওয়ার উপযোগী করে বুদ্ধকে দান দেওয়ার উদ্দেশ্যে আকাশপথে বেনুবনে যান। সেসময় বুদ্ধ পিন্ডাচরনে বের হয়ে যাওয়ায় উদায়ীকেই বুদ্ধের উদ্দেশ্যে গরুর মাংস দিয়ে আসেন।বুদ্ধ খেয়েছেন কিনা এটা স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও যেহেতু উৎপলবর্ণা ঋদ্ধিশ্রেষ্ঠ অর্হৎ ছিলেন তাই ধরে নেওয়া যায় বুদ্ধের অভোগ্য কিছু তিনি বুদ্ধের জন্য দান দিতে নিয়ে যাননি । আর এই যুক্তিতে বুদ্ধ গরুর মাংস খেয়েছেন বললেও মিথ্যা ভাষণ হয়না তবে কোথাও পরিস্কার করে কিছুই উল্লেখ নেই ।এখানে উল্লেখ করতে হয় উৎপলবর্ণার মাংস দান দেওয়ার সময় উদায়ী তাকে চীবর দানে বাধ্য করেন এই বিষয়ে উদায়ীকে নিন্দা করে বুদ্ধ বিনয় প্রজ্ঞাপ্ত করেন। কিন্তু গরুর মাংস না খাওয়ার জন্য কোন বিনয় প্রজ্ঞাপ্ত করেননি।

এবার সুত্তনিপাত এর ব্রাহ্মণধম্মিক সুত্রের কথা আলোচনা করা যাক, এখানে জনৈক ব্রাহ্মণের অনুরোধে পুর্বেকার ব্রাহ্মণেরা কি কি করতেন না তা বুদ্ধ বর্ণনা করেছেন- পূর্বেকার ব্রাহ্মণেরা প্রাণীবধ করিতেন না (শুধু গরু নয় কোন প্রাণীই না), ভা্র্যা ক্রয় করিতেন না, তাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ তিনি কোন অবস্থাতেই মৈথুন সেবন করিতেন না ….ইত্যাদি। গরুকে আমাদের মাতা, পিতা, ভাই বা অন্যান্য আত্মীয়ের ন্যায় মনে করিয়া যজ্ঞে গো হত্যা করিতেন না। কিন্তু বর্তমান ব্রাহ্মণেরা(বুদ্ধের সময়কালীন)যখন গো হত্যা করেন তখন দেবতারা অসন্তুষ্ট হয়ে যান।এখন এ বিষয়ে বলতে হয় শুধু গরু নয় যেকোন প্রাণী হত্যা করলেই দেবতারা অসন্তুষ্ট হন। এজন্যই প্রাণীহত্যা থেকে বিরত থাকার কথা প্রথম শীলে রয়েছে। ফেসবুকে অনেকে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যেহেতু গরুকে মাতা পিতার সাথে তুলনা করা হয়েছে সেহেতু গরুর মাংস খাওয়া কি উচিত? তাদের বলতে হয় গরুর সাথে মাতা পিতার তুলনা হয়েছে এটা যদি বলেন তবে বলতে হয় এই একই সুত্রে গরুকে ছাগলের ন্যায় বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ছাগলকেও মাতা পিতার সাথে তুলনা করতে হবে। আবার করণীয় সুত্রে বলা হচ্ছে মাতা যেমন একমাত্র পুত্রকে ভালবাসেন সেভাবে অন্যান্য প্রাণীর কথা ভাবতে বলা হয়েছে। তাহলে প্রত্যেক প্রাণীই তো আপনার পুত্রসম হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তাদের যুক্তি অনুসারে নিজের সন্তানের মাংস তো কেউ খেতে পারে না। এসব আসলে যুক্তির জন্য যুক্তি দেওয়া। বুদ্ধ যদি আসলেই গরুকে মা বাবা মনে করতেন তবে গরু শুধু গৃহীদের মা বাবা নয় ভিক্ষুদেরও তো মা বাবা হয়। সেক্ষেত্রে ভিক্ষুসংঘরা কিভাবে মা-বাবার মাংস খাবেন?কারণ তাদের তো গরু মাংস খেতে বারণ করেননি। আসলে যুক্তি আর বাস্তবতা সব সময় এক হয়না। আসল কথা হচ্ছে বুদ্ধ সবসময় সর্বজীবের প্রতি মৈত্রী পোষণ করেছেন। তাই শুধু গরু নয় কোন প্রাণীকেই হত্যার ব্যাপারে তিনি উৎসাহিত করেননি। এখানে হত্যা আর মাংস কে এক করে ফেলতেছি তাই সমস্যাটা হচ্ছে। আবার অনেকে নিজের মতকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে নানা যু্ক্তি দিয়ে বেরায়। কিন্তু উপরোল্লিখিত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, বৌদ্ধদের জন্য গরুর মাংস খাওয়াতে কোন বাধা নিষেধ নাই। বাধা নিষেধ হচ্ছে গরু/প্রাণী হত্যায়।

পরিশেষে, এটাই বলতে চাই, যে সমাজে যে বিষয়টা বেশীরভাগ মানুষ পছন্দ করেন না সেটা না করাই ভাল। আপনার সমাজ যদি গরুর মাংস খাওয়াটাকে অপছন্দ করে, সহজভাবে না নেয় তবে সামাজিক জীব হিসেবে সেটা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে কোন কিছু বারন করা মানতে পারিনা বলেই উপরোল্লিখিত আলোচনা। আমার কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে গঠনমূলক সমালোচনাই করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে শেষ করছি।

“জীবন কোন ভাল মানুষকে ঠোকানো মনে, হীরের খনিতে পাথর কুড়িয়ে ফিরে আশা।”
26/06/2023

“জীবন কোন ভাল মানুষকে ঠোকানো মনে, হীরের খনিতে পাথর কুড়িয়ে ফিরে আশা।”

কীভাবে মহান আলেকজান্ডার বৌদ্ধ চিত্রকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট  খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে ভারতবর্ষে পা রাখ...
25/06/2023

কীভাবে মহান আলেকজান্ডার বৌদ্ধ চিত্রকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে ভারতবর্ষে পা রাখেন, তখন দুটো ভিন্ন সভ্যতা (ভারতীয় ও গ্রীক) একে অপরের সম্মুখীন হয় এবং একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বুদ্ধকে প্রথম মানুষের চেহারায় উপস্থাপনা করা হয় ২য় এবং ১ম শতাব্দী মাঝামাঝি সময়ে বুদ্ধকে প্রথম মনুষ্য প্রতিরূপ (এনথ্রোপোমরফিক রিপ্রেজেন্টেশন) তৈরি করা হয়। তার আগে বুদ্ধকে শুধু বোধি বৃক্ষ, স্তূপ, খালি আসন, পদচিহ্ন এবং চাকার মত চিহ্নের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হতো। গ্রীক সেনারা ব্যাকট্রিয়া রাজ্য জয় করার পর, বুদ্ধের মানব চিত্র অঙ্কিত হয়।

বুদ্ধের এই মানবরূপটি নিঃসন্দেহে হেলেনীয় স্টাইল দ্বারা অনুপ্রাণিত। তার সেই ভাস্কর্যরূপটি অবিলম্বে শিল্পের উচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়। এই সময়ের বুদ্ধের স্থাপত্য ও বুদ্ধের ভাস্কর্য বৌদ্ধ শিল্পকে প্রভাবিত করে এবং এটাই বুদ্ধের স্থায়ী রূপ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে যায়। এই সময়ের বুদ্ধকে সুন্দর এবং হেলেনীয় পোশাক পরা অবস্থায় বেলভেদেরে অ্যাপোলোর (৩৩০খ্রিস্টাব্দ) মত দেখাত। তাকে একটি হালকা টোগা পরিহিত, কনস্ট্রাপস্টো ঢঙে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ও ভূমধ্যসাগরীয় কোঁকড়ানো কেশবিণ্যাসে দেখানো হয়েছে। বুদ্ধের কিছু মূর্তিতে মার্বেল দ্বারা হাত ও পা তৈরির গ্রিক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। আজকাল অনেক গবেষকই ভাবছেন, বুদ্ধের মূর্তি কি কোনো একজন প্রাচীন রাজার প্রতিনিধিত্ব করে কিনা যিনি বুদ্ধের প্রতিমূর্তি চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছিলেন।

মহান ম্যাসেডোনীয় রাজার বৌদ্ধ পথচিহ্ন
৩২৬ অব্দে, আলেকজান্ডার ভারতের উত্তরের রাজ্যগুলো জয় করেন। কয়েক বছর আগে, ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার ব্যাকট্রিয়া এবং গান্ধার আক্রমণ করেন, যখন এই অঞ্চল সার্মানিক (śramanic) প্রভাবাধীন (সম্ভবত বৌদ্ধ ও জৈন) ছিল। কিংবদন্তী আছে যে ব্যাকট্রিয়া থেকে দুজন যুবক, তাপাস্সু এবং বাহালিকা, বুদ্ধের সঙ্গে সাক্ষাত করে এবং তার শিষ্য হয়ে ওঠে। তারা বৌদ্ধ প্রজ্ঞার প্রশিক্ষক হয়ে নিজ বাড়ি ফিরে আসে। ম্যাসেডোনীয় রাজার সেনাবাহিনী আসার আগ পর্যন্ত এই বৌদ্ধ কেন্দ্র নিরাপদ ছিল। ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার এবং পাঞ্জাবের পৌরভাস এর রাজা পোরাসের মধ্যে একটি কঠিন (the Battle of the Hydaspes) যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বিজয়ী হবার পর, আলেকজান্ডার একটি ধর্মের সাথে পরিচিত হন, যা তাকে প্রভাবিত করেছিল। তিনি এশিয়ার এই অংশের সংস্কৃতি দ্বারাও অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

ঐতিহাসিক ভাবে, বিভিন্ন দার্শনিক, যেমন অ্যানাক্সারকাস, পেরো, এবং ওনেসিক্রিটাসকে আলেকজান্ডার আভিযানের সময় তাঁর সফর সঙ্গি হিসেবে রেখেছিলেন। তারা প্রায় ১৮ মাস আধুনিক ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। সেসব জায়গায় তারা বিভিন্ন সাধু সন্ন্যাসীদের সাথে সাক্ষাত করেন। কিন্তু তাদের ছাড়াও তারা ‘নগ্ন দার্শনিক’ বা জিমনোসোফাইটিস নামে পরিচিত সন্নাসীদের সাথে তারা পরিচিত হন। স্ট্রাবো বলেছেন, ওনেসিট্রিকাস নামক একজন সিনিক দার্শনিক ভারতে শিখেছিলেন যে, যা কিছুই একজন মানুষের সঙ্গে ঘটে তা ভাল বা খারাপ কোনটাই না। বিষয়গুলো নিছকই স্বপ্ন হিসেবে মানুষের কাছে উপস্থাপিত হয়। সেটাই সর্বশ্রেষ্ঠ দর্শন যা মনকে আনন্দ ও বিষাদ উভয় হতেও মুক্তি দান করে।

পেরো (Pyrrho) একজন সন্দেহবাদী ছিলেন যিনি পাইরোনিজম নামে দার্শনিক ধারা তৈরি করেছিলেন। তিনিও ভারতে ভ্রমনের পর লেখেন, কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই। কিন্তু এটাও বলেন, মানুষের জীবন প্রচলিত রীতিনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই দুই দার্শনিকদের বিবৃতিগুলো বৌদ্ধ ধর্মের সাথে প্রাচীন গ্রীকদের ধর্মের মধ্যে সংযোগ দেখাচ্ছে। সে সময়ের প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের চেয়ে বৌদ্ধধর্ম কতটা আকর্ষণীয় এটি এই বিষয়েও আলোকপাত করে।

বুদ্ধের হেলেনীয় সংরক্ষক

গ্রিকো-বুদ্ধিজম হল হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি ও বৌদ্ধধর্মের মধ্যে একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমন্বয় (সিনক্রেটিজম),যার অস্তিত্ব ৫ম শতক পর্যন্ত ছিল। এটি শুধুমাত্র একটি গ্রিক বিশ্বাস ছিল না, বরং এটি পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের অংশেও প্রভাব বিস্তার করেছিল। পরবর্তীতে, এটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীক ও বিবরণ – চীন, ফিলিপাইন, কোরিয়া, জাপান, সাইবেরিয়া, এবং ভিয়েতনাম মতো মধ্য ও উত্তর এশিয়ার দেশগুলোতে গৃহীত হয়। বৌদ্ধধর্মের উপর হেলেনীয় প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় গ্রীক বীর, কিউপিড এবং অন্যান্য কিছু প্রতীকের ব্যবহার দ্বারা যা গ্রিক সংস্কৃতির অঙ্গ। সবচেয়ে বিষ্ময়কর সম্ভবত বুদ্ধের রক্ষাকারী বজ্রপাণির রিপ্রেজেন্টেশন যা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির হেরাক্লেসের সাথে মিলে যায়। আবার গ্রিকো-বুদ্ধিজম সংস্কৃতির প্রভাবে গ্রীক দেব বোরিয়াস (উত্তর বায়ুর দেবতা), জাপানি বায়ু দেবতা ফুজিন-এ রূপান্তরিত হয়। মাতৃ দেবী হারিতি, গ্রিক টাইকে দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। এটলাসও এই গ্রিকো-বুদ্ধিস্ট সংস্কৃতিতে চলে আসে। তিনি স্থাপত্যের একটি নিরবচ্ছিন্ন উপাদান হিসেবে জড়িত ছিলেন।

প্রচীন ব্যাকট্রিয়ার ধ্বংসাবশেষ

ব্যাকট্রিয়া রাজ্য প্রায় দু’শ বছর গ্রীকদের অধীনে ছিল। ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের অভিযান থেকে ১২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পর্যন্ত গ্রিকো-ব্যাকট্রিয়ান রাজ্য টিকে ছিল। এই সময়কালে, রাজ্য সীমানার প্রায় সবগুলো এলাকা পুরোপুরি হেলেনীয় ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননের ফলাফল হতে জানা যায় যে অক্সাস-এ আলেকজান্দ্রিয়া (আল-খানুম) মত শহরে, গ্রেকো-ব্যাকট্রিয় রাজাদের মুদ্রাসংক্রান্ত শিল্প ছিল, যা হেলেনীয় বিশ্বের সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া এটি সাম্রাজ্যের একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল যেখানে গ্রীক ইতিহাসে বৃহত্তম সোনা ও রূপার মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল।

১ম শতাব্দিতে মধ্য এশিয়ায় বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটে এবং এটি ইসলামী আগ্রাসন পর্যন্ত শক্তিশালী থাকে। গ্রিকো-বুদ্ধিস্ট সংস্কৃতির সাথে সংযুক্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বামিয়ানের মহান বুদ্ধের মূর্তি সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ছিল। এগুলো ৫ম এবং ৯ম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়েছিল। এদের স্থাপত্য সৌন্দর্য অতিমাত্রায় হেলেনীয় শৈলীর। ৫ম শতাব্দী থেকে ব্যাকট্রিয়ার অধিকাংশ শিল্পই ধ্বংস হয়ে গেছে।

২০ শতকে আফগানিস্তান যুদ্ধের সময়, প্রাচীন অনেক নিদর্শন ধ্বংস করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালে, বামিয়ানের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং মূল্যবান বুদ্ধ মূর্তি, তালেবান শাসকেরা ধ্বংস করে দেয়। একসময় ইউনেস্কো দ্বারা সুরক্ষিত, এই মূল্যবান সম্পদ চিরতরে হারিয়ে গেছে।

মহান আলেকজান্ডারের বাণী ও অনুভূতি এখনও এশিয়ার মানুষের অন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। বামিয়ান বুদ্ধের ধ্বংস বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জন্য একটি বেদনাদায়ক ক্ষতি ছিল। তালেবান শাসন দ্বারা ধ্বংসের চৌদ্দ বছর পরে, ৭ জুন ২০১৫ সালে একটি চীনা দম্পতি জিনউ ঝাং এবং হং লিয়াং থ্রিডি লেজার লাইট প্রোজেকশন টেকনোলজি দ্বারা খালি গহ্বরটি পূর্ণ করেছিলেন। সম্ভাব্য ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রায় ১৫০ জন স্থানীয় মানুষ হলোগ্রাফিক মূর্তির অপাবরণ দেখতে ছুটে আসে।

Address

Nandankanan
Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নির্বাণ মৈত্রী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to নির্বাণ মৈত্রী:

Share