Ramakrishna Mission Sevashrama Iরামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম,চট্টগ্রাম

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • Ramakrishna Mission Sevashrama Iরামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম,চট্টগ্রাম

Ramakrishna Mission Sevashrama Iরামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম,চট্টগ্রাম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ramakrishna Mission Sevashrama Iরামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম,চট্টগ্রাম, Religious organisation, S. S. Khaled Road, West Asker Dighi, Jamal khan, Chittagong.

Started in 1921,Ramakrishna Mission Sevashrama,Chattogram is a branch center of the world wide Ramakrishna Math & Ramakrishna Mission founded by Swami Vivekananda in 1897 with it’s headquarters at Belur Math, Howrah, West Bengal.

...পূজার পূর্বকৃত্যসকল দর্শন করিতে করিতে মা অর্ধবাহ্যদশা প্রাপ্ত হইলেন; এবং ঠাকুরের ইঙ্গিতে , পূর্বমুখে উপবিষ্ট পূজকের দ...
17/05/2026

...পূজার পূর্বকৃত্যসকল দর্শন করিতে করিতে মা অর্ধবাহ্যদশা প্রাপ্ত হইলেন; এবং ঠাকুরের ইঙ্গিতে , পূর্বমুখে উপবিষ্ট পূজকের দক্ষিণভাগে আলিম্পনভূষিত পীঠে উত্তরাস্য হইয়া উপবেশন করিলেন । সম্মুখস্থ কলসের মন্ত্রপূত বারি দ্বারা ঠাকুর বারংবার শ্রীশ্রীমাকে যথাবিধানে অভিষিক্তা করিলেন। অনন্তর মন্ত্র শ্রবন করাইয়া তিনি এখন প্রার্থনামন্ত্র উচ্চারণ করিলেন,-“হে বালে, হে সর্বশক্তির অধীশ্বরী মাতঃ ত্রিপুরাসুন্দরী, সিদ্ধিদ্বার উন্মুক্ত কর; ইঁহার( শ্রীমায়ের) শরীর মনকে পবিত্র করিয়া ইহাতে আবির্ভূত হইয়া সর্বকল্যাণ সাধন কর!”

অতঃপর শ্রী শ্রীমার অঙ্গে মন্ত্রসকলের যথাবিধানে ন্যাস পূর্বক ঠাকুর সাক্ষাৎ দেবীজ্ঞানে তাঁহাকে পূজা করিলেন এবং ভোগ নিবেদন করিয়া নিবেদিত বস্তুসকলের কিয়দংশ স্বহস্তে তাঁহার মুখে প্রদান করিলেন। বাহ্যজ্ঞান তিরোহিত হইয়া শ্রীশ্রীমা সমাধিস্থা হইলেন। ঠাকুরও অর্ধবাহ্যদশায় মন্ত্রোচ্চারণ করিতে করিতে সম্পূর্ণ সমাধিমগ্ন হইলেন। সমাধিস্থ পূজক সমাধিস্থা দেবীর সহিত আত্মস্বরূপে পূর্ণভাবে মিলিত ও একীভূত হইলেন।

পূর্বপূর্ব সাধনকালে ব্যবহৃত বস্ত্র, আভরণ ও রুদ্রাক্ষের মালাদি সমুদয় দ্রব্য, সেই সকল সাধনার ফল এবং নিজেকে দেবী পাদপদ্মে সমর্পণ করিলেন।’

- ষোড়শী পূজা।

🌺 ষোড়শী পূজা 🌺 ১৮৭২ সালের ৫ জুন,এই ফলহারিণী কালী পূজার  দিনেই শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীমাকে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন। দক্ষি...
16/05/2026

🌺 ষোড়শী পূজা 🌺
১৮৭২ সালের ৫ জুন,এই ফলহারিণী কালী পূজার দিনেই শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীমাকে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ঠাকুরের বসবাসের ঘরে হয়েছিল পূজার আয়োজন। রাত নটার কিছু পরে শ্রীশ্রীমা তাঁর জন‍্য নির্দিষ্ট পূজার আসনে এসে বসলেন। এতো আর কোনো সাধারণ পূজা নয়! এ যে স্বয়ং ভগবান, ভগবতীর চরণে তাঁর সাধনার সমস্ত ফল অর্পণ করবেন -- তার‌ই আয়োজন। এ যে বিশ্বের আধ‍্যাত্মিক ইতিহাসের এক এবং অদ্বিতীয় ঘটনা হতে চলেছে। এর আগে কখনো কোনো অবতার, কোনো সিদ্ধপুরুষ তাঁর বিবাহিত স্ত্রীর চরণে এভাবে নিজের সমস্ত সাধনালব্ধ ফল সমর্পণ করেননি। আধ‍্যাত্মিক দৃষ্টিকে সরিয়ে রেখে সামাজিক দৃষ্টিতে দেখলে ,এই অভূতপূর্ব ঘটনাকে মনে হয় , যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছিতা ও বঞ্চিতা নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদানের ঘটনা।
মন্ত্রপূত কলসীর জলে ঠাকুর বারবার শ্রীশ্রীমায়ের অভিষেক করলেন। মা তখন অর্ধবাহ‍্যদশায় নিমগ্না। ঠাকুর প্রার্থনামন্ত্র উচ্চারণ করলেন --" হে বালে, হে সর্বশক্তির অধীশ্বরী মাতঃ ত্রিপুরসুন্দরী , সিদ্ধিদ্বার উন্মুক্ত কর ; ইঁহার শরীর মনকে পবিত্র করিয়া ইঁহাতে আবির্ভূতা হ‌ইয়া সর্বকল‍্যাণ সাধন কর। " পূজাশেষে ঠাকুর ভোগ নিবেদন করলেন। তিনি সামনে আসীন দেবী শ্রীশ্রীমায়ের মুখে নিজের হাতে ভোগের থেকে কিছু মিষ্টি অর্পণ করলেন।
দেখতে দেখতে অর্ধবাহ‍্যদশায় থাকা শ্রীশ্রীমা সমাধিস্থা হলেন। ঠাকুর‌ও মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে সমাধিরাজ‍্যে চলে গেলেন। স্বামী গম্ভীরানন্দ লিখেছেন - " সে ভূমিতে আত্মসংস্থ পূজক ও পূজিতা আত্মস্বরূপে পূর্ণভাবে একীভূত হ‌ইলেন। " পূজার শেষে ঠাকুর নিজেকে , তাঁর জপের মালা প্রভৃতি এবং তাঁর সাধনার সমস্ত ফল দেবীর চরণে চিরকালের মত অর্পণ করলেন ; তারপর মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে তাঁকে প্রণাম করলেন -" হে সর্বমঙ্গলের মঙ্গলস্বরূপে , হে সর্বকর্ম নিষ্পন্নকারিণী , হে শরণদায়িনী , ত্রিনয়নী, শিবগেহিনি গৌরি, হে নারায়ণি, তোমাকে প্রণাম করি। "
পূজা শেষ হল। ঠাকুর শ্রীশ্রীমায়ের মধ‍্যে সুপ্ত দেবীত্বের পূর্ণবিকাশ সাধন করলেন সেদিন। পূজা শেষে নহবতের ঘরে ফেরার সময় শ্রীশ্রী মায়ের মনে হল ঠাকুর তাঁকে প্রণাম করেছিলেন। সে প্রণাম তিনি ফিরিয়ে দেননি। তিনি ঠাকুরকে মনে মনে প্রণাম করলেন এবং নহবতে ফিরে এলেন।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

শ্রীরামকৃষ্ণের ষোড়শীপূজার তাৎপর্যস্বামী তত্ত্ববিদানন্দ  দশ মহাবিদ্যার অন্যতম ষোড়শী। তাঁর নামান্তর শ্রীবিদ্যা, ত্রিপুরা...
16/05/2026

শ্রীরামকৃষ্ণের ষোড়শীপূজার তাৎপর্য
স্বামী তত্ত্ববিদানন্দ

দশ মহাবিদ্যার অন্যতম ষোড়শী। তাঁর নামান্তর শ্রীবিদ্যা, ত্রিপুরা, সুন্দরী, ত্রিপুরসুন্দরী, মহাত্রিপুরসুন্দরী, ললিতা ইত্যাদি। দেবী ষোড়শীর আবির্ভাব সম্বন্ধে নারদপঞ্চরাত্রে বর্ণিত হয়েছে, 'একবার স্বর্গের অপ্সরারা কৈলাসে মহাদেবকে দর্শন করতে যান। শিব তাঁদের সামনেই দেবীকে কয়েকবার কালী কালী বলে ডাকেন। এতে দেবী লজ্জা পেয়ে যান এবং মনে মনে স্থির করেন কালীরূপ ত্যাগ করে বিশুদ্ধ গৌরীরূপ ধারণ করবেন। এমন সংকল্প করে দেবী কৈলাস থেকে অন্তর্হিতা হয়ে যান। শিব তখন একা। এমন সময়ে একদিন নারদ উপস্থিত। শিবকে একা দেখে দেবর্ষি তাঁকে দেবীর কথা জিজ্ঞাসা করলেন। শিব বললেন, "দেবী আমাকে ত্যাগ করে অন্তর্হিতা হয়েছেন।" নারদ ধ্যানস্থ হয়ে দেখলেন দেবী সুমেরুর উত্তর পার্শ্বে অবস্থান করছেন। তিনি তখনি সেখানে চলে গেলেন এবং অনেক স্তবস্তুতি করে দেবীকে প্রসন্ন করলেন। দেবী নারদকে শিবের সংবাদ জিজ্ঞাসা করলেন। নারদ বললেন, "মা, মহেশ্বর আবার বিবাহের উদ্যোগ করছেন। তুমি শীঘ্র গিয়ে তা বন্ধ কর।" দেবী তখন এমন অপূর্ব সুন্দর রূপ ধারণ করলেন কোথাও যার তুলনা মিলে না এবং মুহূর্তমধ্যে শিবসান্নিধানে উপস্থিত হয়ে শিবের হৃদয়ে নিজের ছায়া দেখতে পেলেন। ভাবলেন ইনি বোধহয় অন্য কোনও দেবী। সেইজন্য অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে শিবকে অকৃতজ্ঞ প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী ইত্যাদি বলে তিরস্কার করতে লাগলেন। শিব বললেন — "দেবী, ধ্যানস্থ হয়ে জ্ঞানদৃষ্টিতে দেখ, দেখবে আমার হৃদয়ে তোমারই ছায়া !" দেবী তাই করলেন এবং ছায়াটি যে তাঁর নিজেরই ছায়া তা দেখে শান্ত হলেন। এবার দেবী শিবকে সেই ছায়ার তত্ত্ব জিজ্ঞাসা করলেন। শিব উত্তরদান প্রসঙ্গে বললেন —. "ত্রিভূবনে সর্বশ্রেষ্ঠ রূপ ধারণ করেছ বলে তুমি স্বর্গে মর্ত্যে পাতালে এবং অন্যত্র সুন্দরী পঞ্চমী শ্রী এবং ত্রিপুরসুন্দরী নামে প্রসিদ্ধ হবে আর সর্বদা ষোড়শবর্ষীয়া বলে ষোড়শী বলে খ্যাত হবে" । ' বামকেশ্বর তন্ত্রে বলা হয়েছে — ত্রিপুরা পরমা শক্তি। তিনি জ্ঞাতৃ, জ্ঞান ও জ্ঞেয়— রূপে জগতের আদ্যা। তিনি স্থূল, সূক্ষ্ম ও ত্রৈলোক্যের জনয়িত্রী জননী। দেবী ষোড়শীকেই আবার বলা হয় শ্রীবিদ্যা, যেহেতু তিনি সর্বদা শ্রী প্রদান করেন।

শাক্ত তন্ত্রসম্মত শক্তিসাধনায় দুটি ধারা — একটি কালীকুল, অপরটি শ্রীকুল। কুল শব্দের অর্থ এখানে সম্প্রদায়। দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি, তত্ত্বস্বরূপ সম্বন্ধে মতপার্থক্য তান্ত্রিক আচারে ভিন্নতাই এই দুই সম্প্রদায় প্রবর্তিত হওয়ার মূলে। যাঁরা কালীকুলের উপাসক তাঁদের মতে দেবী কালিকা আদ্যাশক্তি, পরব্রহ্মস্বরূপিনী। তিনিই সর্বদেবপ্রসবিনী এবং সকল দেবতার আরাধ্যা। ভারতের পূর্বাঞ্চলের শক্তি উপাসকরা মূলত কালীকুলের উপাসক এবং দেবী কালিকাই তাঁদের উপাস্যা। দক্ষিণ ভারতের শক্তিসাধকরা শ্রীকুলের উপাসক ।যেহেতু এই কুলের আরাধ্যা দেবী শ্রীবিদ্যা সেইজন্য এই সম্প্রদায়ের নাম শ্রীকুল। অথবা দার্শনিক বিচারে এই কুলের অনুগামীরা যেহেতু বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী শ্রীকন্ঠের অনুগামী তাই তাঁদের নাম শ্রীকুল।

আবার কালীকুল ও শ্রীকুল শব্দের অন্য ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়। নিরুত্তরতন্ত্রে বলা হয়েছে যে কালীকুল ও শ্রীকুল হল নির্দিষ্ট কয়েকজন দেবতার সমষ্টি। কালী, তারা, রক্তকালী, ভুবনেশ্বরী, মহিষমর্দিনী, ত্রিপুরা, ত্বরিতা, দুর্গা, বিদ্যা ও প্রত্যঙ্গিরা — এরা হলেন কালীকুলের দেবতা। আর শ্রীকুলের দেবীবৃন্দ হলেন — সুন্দরী, ভৈরবী, বালা, বগলা, কমলা, ধূমাবতী, মাতঙ্গী, বিদ্যা-স্বপ্নাবতী, মধুমতী ও মহাবিদ্যা।

সুধী ভক্তমণ্ডলী,আগামী ১৬ মে ২০২৬ শনিবার রাত্রি ৮টায় অত্র রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমে শ্রীশ্রীফলহারিণী কালিকা পূজা অনুষ্ঠিত ...
11/05/2026

সুধী ভক্তমণ্ডলী,
আগামী ১৬ মে ২০২৬ শনিবার রাত্রি ৮টায় অত্র রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমে শ্রীশ্রীফলহারিণী কালিকা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আপনারা পূজা অনুষ্ঠানে যোগদান করে আনন্দ বর্ধন করবেন।

অনুষ্ঠানসূচী:
রাত্রি ৭:৩০মি.–৮:৩০মি. পর্যন্ত মাতৃসঙ্গীত পরিবেশন
রাত্রি ৮:০০মি.- বিশেষ পূজারম্ভ
রাত্রি ৮:৩০মি. - শ্রীশ্রীফলহারিণী কালিকাপূজা ও ষোড়শী পূজানুষ্ঠানের তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা।
পূজা শেষে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ ধারণ।

নিবেদক
স্বামী শক্তিনাথানন্দ
অধ্যক্ষ
রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, চট্টগ্রাম
-----------------------------------------------------------------------------

পূজা উপলক্ষে সকল প্রকার দান সাদরে গৃহীত হবে।

আশ্রমের বার্ষিক অনুষ্ঠান সূচী...
09/05/2026

আশ্রমের বার্ষিক অনুষ্ঠান সূচী...

"তিনি আমাদের 'আমি' সেজে আছেন। ভালোবাসছেন, ভালোবাসাচ্ছেন, ভালোবাসা নিচ্ছেন। শ্রীভগবান সব সেজে, বহু হয়ে নিজেকে নিয়ে নিজে...
07/05/2026

"তিনি আমাদের 'আমি' সেজে আছেন। ভালোবাসছেন, ভালোবাসাচ্ছেন, ভালোবাসা নিচ্ছেন। শ্রীভগবান সব সেজে, বহু হয়ে নিজেকে নিয়ে নিজে খেলা করছেন। এতো বুঝি না, ধারনা করতে পারিনা, তাই বোঝার জন্য মন্ত্রকে, শ্রীগুরুদেবকে আশ্রয় করতে হয়। শ্রীভগবানই গুরুরূপে আমাদের নাগালে এসে ধরা দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দেন। তাঁর শরীরটি পাঞ্চভৌতিক নয়। চিন্ময় উপাদানে তিনি নিজেই নিজেকে সৃজন করেন।
প্রেমে গড়া তাঁর মূরতি, প্রেমেতেই তাঁর বসতি!!"
~ পরমপূজনীয় শ্রীমৎ স্বামী সুহিতানন্দ জী মহারাজ
(ভক্তির পথ ধরে - উদ্বোধন,মাঘ সংখ্যা)

১৮৯০ সালের মার্চ মাসে মা গয়াতে গিয়ে গয়াকৃত্যাদি সমাপন করেন।ঐ সময় মা বৈদ্যনাথ দর্শন করে বোধগয়া মঠ দর্শনেও গিয়েছিলেন...
01/05/2026

১৮৯০ সালের মার্চ মাসে মা গয়াতে গিয়ে গয়াকৃত্যাদি সমাপন করেন।ঐ সময় মা বৈদ্যনাথ দর্শন করে বোধগয়া মঠ দর্শনেও গিয়েছিলেন।এই মঠ দেখে ,মা বলেছিলেন--- "তাদের কত সব জিনিসপত্র, কোনো অভাব নেই কষ্ট নেই দেখে কাঁদতুম , আর ঠাকুর কে বলতুম, ঠাকুর, আমার ছেলেরা থাকতে পায় না, দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের যদি এমন একটি থাকবার জায়গা হতো।
তা ঠাকুরের ইচ্ছায় মঠটি হলো।।"

যাঁর ঐকান্তিক প্রার্থনায়, ইচ্ছায় ও আশীর্বাদে রামকৃষ্ণ মিশনের আজ ১৩০ বছর অতিক্রান্ত, যাঁর কৃপায় এই রামকৃষ্ণ মিশন আজ সারা বিশ্বে সগর্বে নিজ ঐতিহ্য-আধ্যাত্মিকতা-শিক্ষা-সেবাধর্মকে বিস্তার করেছে, সেই সঙ্ঘজননী শ্রীশ্রীমায়ের শ্রীপাদপদ্মে প্রণতি নিবেদন করি।

বুদ্ধের জীবনালোচনায় স্পষ্ট প্রতীত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি আদৌ ঈশ্বরে বিশ্বাসী না হয়, তাহার যদি কোন দার্শনিক মতে বিশ্বাস ন...
01/05/2026

বুদ্ধের জীবনালোচনায় স্পষ্ট প্রতীত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি আদৌ ঈশ্বরে বিশ্বাসী না হয়, তাহার যদি কোন দার্শনিক মতে বিশ্বাস না থাকে, সে যদি কোন সম্প্রদায়ভুক্ত না হয়, অথবা কোন মন্দিরেতেও না যায়, এমন কি প্রকাশ্যে নাস্তিক বা জড়বাদীও হয়, তথাপি সে সেই চরম অবস্থা লাভ করিতে সমর্থ।
তাঁহার মতামত বা কার্যকলাপ বিচার করিবার অধিকার আমাদের কিছুমাত্র নাই। আমি যদি বুদ্ধের অপূর্ব হৃদবত্তার লক্ষভাগের একভাগের অধিকারী হইতাম, তবে আমি নিজেকে ধন্য মনে করিতাম।

হইতে পারে বুদ্ধ ঈশ্বরে বিশ্বাস করিতেন, অথবা হয়তো বিশ্বাস করিতেন না, তাহা আমার চিন্তনীয় বিষয় নয়। কিন্তু অপরে ভক্তি, যোগ বা জ্ঞানের দ্বারা যে পূর্ণ অবস্থা লাভ করে, তিনিও তাহাই লাভ করিয়াছিলেন। কেবল ইহাতে উহাতে বিশ্বাস করিলেই সিদ্ধিলাভ হয় না।

কেবল মুখে ধর্মের কথা, ঈশ্বরের কথা আওড়াইলেই কিছু হয় না। তোতা পাখীকেও যাহা শিখাইয়া দেওয়া যায়, তাহাই সে আবৃত্তি করিতে পারে। নিষ্কামভাবে কর্ম করিতে পারিলেই তাহা দ্বারা সিদ্ধিলাভ হইয়া থাকে।
- স্বামী বিবেকানন্দ।

🌕 বুদ্ধপূর্ণিমা 🌕

ভগবান তথাগত বুদ্ধের আবির্ভাব,বোধি ও মহাপরিনির্বাণ - এর পুণ্যতিথি।

অজ্ঞানতিমিরে লোকে প্রাদুর্ভূতঃ প্রদীপকঃ।
নমো'স্তু বোধিসত্ত্বায় সম্বুদ্ধায় নমো নমঃ।।

" আজ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস। "                                      ---স্বামী বলভদ্রানন্দ (পূজনীয় মহারাজের ভাষণ...
01/05/2026

" আজ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস। "

---স্বামী বলভদ্রানন্দ

(পূজনীয় মহারাজের ভাষণ ও প্রবন্ধ থেকে সংকলিত।)

সহধর্মিণী সারদা দেবীকে ষোড়শীদেবী রূপে পূজা করার মাধ্যমেই শ্রীরামকৃষ্ণের সমস্ত সাধনা কার্যত শেষ হয়।
এরপর জগজ্জননী তাঁকে জানিয়ে দেন: তিনি অবতার, তাই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ক্রমে ক্রমে মুক্ত হয়ে গেলেও , তাঁর কখনো মুক্তি নেই। কারণ তিনিই সেই ভগবান, যিনি ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যুত্থান হলে ধর্ম পুনঃস্থাপন করার জন্য ও সাধু-প্রকৃতির মানুষকে পরিত্রাণ করার জন্য যুগে যুগে আসেন। যুগে যুগে তিনি এসেছেন এবং যুগে যুগে আবারও তাঁকে আসতে হবে অনুরূপ পরিস্থিতি হলে
এই অবতারে তাঁকে কি কি মহান ব্রত পালন করতে হবে, তাও জগজ্জননী তাঁকে জানিয়ে দিলেন, যেমন:---সব ধর্মই এক ঈশ্বরে পৌঁছানোর বিভিন্ন পথ, 'যত মত তত পথ', এই চিরন্তন সত্য তাঁর মাধ্যমেই সর্বপ্রথম জগতের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হবে। কর্মযোগ অবলম্বন করে মানুষ এই যুগে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। এই যুগে নারী জাতির প্রগতি হবে, ইত্যাদি।
এর মধ্যেই আরো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য সম্বন্ধে জগজ্জননী তাঁকে অবহিত করিয়ে দিলেন, সেটি হল:
যে সমস্ত উদারভাব তিনি তাঁর নিজ জীবনে স্বয়ং আচরণ করে উপলব্ধি করেছেন, সেগুলির ধারক ও বাহক স্বরূপ এক নবীন ভাবের উদার ধর্মসম্প্রদায় তাকে গড়ে দিয়ে যেতে হবে। এই সম্প্রদায়ের মাধ্যমেই তিনি চলে যাওয়ার পরেও তাঁর ভাবরাশি জগতে থেকে যাবে। পরবর্তীকালে এই সম্প্রদায় সম্বন্ধেই স্বামী বিবেকানন্দ বলবেন: এটি একটি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়, যার মধ্যে সম্প্রদায়ের গুণগুলি আছে কিন্তু দোষগুলি নেই। সম্প্রদায়ের গভীরতা ও নিষ্ঠা আছে, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা নেই, সম্প্রদায়ের সংকীর্ণতা, গোড়ামি, অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ প্রমুখ নেতিবাচক দিকগুলি নেই। এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়ই রামকৃষ্ণ সংঘ।

" উদার ও নবীন ভাবে একটি সংঘ গড়তে হবে" জগজ্জননী শ্রীশ্রীঠাকুরকে শুধুমাত্র এই নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি। একইসঙ্গে ঠাকুরকে তিনি কিছু কিছু রত্নসদৃশ মানুষের মুখচ্ছবি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁদেরকে স্তম্ভ করে এই সংঘ গড়ে উঠবে। সেই রত্নসদৃশ মানুষগুলির মধ্যে নরেন, রাখাল, শরৎ, শশী প্রমূখ ভবিষ্যতের সন্ন্যাসীবৃন্দ যেমন আছেন,তেমনি আছেন নাগমশাই, মাস্টারমশাই, পূর্ণচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ গৃহী শিষ্যবৃন্দ।

আজ যাকে আমরা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন নামক দুটি যুগ্মসংস্থা হিসেবে জানি, তাদের দুটিকে নিয়েই বর্তমান পৃথিবীর রামকৃষ্ণ সংঘ। এই সংঘই সেই উদার, সাম্প্রদায়িকতা-বিহীন, নবীন সম্প্রদায়---যাকে গড়ে যাওয়ার আদেশ শ্রীরামকৃষ্ণ জগজ্জননীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন এবং এরপর দক্ষিণেশ্বর-পর্ব থেকেই যিনি সেই সংঘ নিজের হাতে তৈরি করার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন।

জগজ্জননীর কাছ থেকে এই নির্দেশ লাভের পর এরপর শ্রীরামকৃষ্ণ প্রতিদিন আকুল ভাবে তার ভাবী শিষ্যদের জন্য কেঁদেছেন: "ওরে তোরা কে কোথায় আছিস আয়, আমি যে তোদের না দেখে থাকতে পারছি না।" মা কালীর দর্শন লাভের জন্য শ্রীরামকৃষ্ণ যেমন ব্যাকুল ভাবে কেঁদেছেন, ভাবীসংঘের এই চিহ্নিত শিষ্যবৃন্দের জন্য তাঁর ক্রন্দন ব্যাকুলতায় তার চেয়ে কম ছিল না।

তাঁর এই ব্যাকুল আহ্বানেই সম্ভবত কলকাতার শিক্ষিত যুবকের দল একে একে তাঁর পদপ্রান্তে এসে উপস্থিত হতে থাকেন--- শ্রীঅরবিন্দের মতে, যে ঘটনাটি থেকেই ভারতের নবজাগরণেরও সূচনা ।
শ্রীরামকৃষ্ণ প্রথম থেকেই সেই যুবক বৃন্দকে তাঁর অপার্থিব ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে ফেলেন।এবং এইভাবেই সেই যুবকবৃন্দ তাঁদেরও অজ্ঞাতসারে ভবিষ্যতের সংঘমালিকায় গাঁথা হয়ে যান।

একই সঙ্গে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ সঙ্ঘের নেতা এবং সংঘজননীও। নহবতের নিভৃত ঘেরাটোপে সেই সংঘ জননী লোক চক্ষুর আড়ালে, কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণের অদৃশ্য অঙ্গুলীহেলনে কখন তিনি শ্রীরামকৃষ্ণের সন্তানদের আপন সন্তানরূপে বরণ করে নিয়েছেন, শ্রীরামকৃষ্ণ-পরিবারকে নিজেরই পরিবার করে তুলেছেন,এককথায় ভবিষ্যতের "সংঘজননী" হয়ে উঠেছেন--- তা বোধ হয় তিনি সেইসময় বুঝতে পারেননি। সুস্পষ্টভাবে বুঝেছেন ঠাকুরের দেহত্যাগের পরে, যখন তিনি দৃঢ় স্বরে বলেছেন:" ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে সকলেই আমার সন্তান", "পাপী তাপীদের ভার আমরা নেব না তো কারা নেবে?" "ঠাকুর কি শুধু রসগোল্লা খেতেই এসেছিলেন?"

ঠিক একই সময়ে শিষ্যবৃন্দের মধ্য থেকেও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ভবিষ্যতের সংঘনেতা। তিনি নরেন্দ্রনাথ, নরশ্রেষ্ঠ। ঠাকুরের ভালবাসা ও আস্থারও তিনি শ্রেষ্ঠতম ও যোগ্যতম ভাগীদার। প্রতিভায় শ্রেষ্ঠ, আধ্যাত্মিকতায় শ্রেষ্ঠ, গান- বাজনা- মনীষা সবেতে শ্রেষ্ঠ, সর্বোপরি শ্রেষ্ঠ ভালোবাসায়, স্বার্থত্যাগে , নেতৃত্বশক্তিতে। তিনি ভবিষ্যতের স্বামী বিবেকানন্দ।।
তাই লেডি মিন্টো যখন বেলুড় মঠ দর্শন এসেছিলেন , তখন মহাপুরুষ মহারাজ তাঁকে বলেছিলেন: স্বামী বিবেকানন্দ নন, শ্রীরামকৃষ্ণই বেলুড় মঠসহ সমগ্র রামকৃষ্ণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
তাহলে স্বামী বিবেকানন্দের কি ভূমিকা? তাঁরও ভুমিকা অনন্য। যেমন শ্রীরামকৃষ্ণকে বাদ দিলে এই সংঘ আমরা কল্পনা করতে পারি না--- কারণ তিনিই হলেন এই সংঘের উৎস ও পরিকল্পক ,তেমনি স্বামী বিবেকানন্দকে বাদ দিয়ে এই সঙ্ঘকে ধারণা করা অর্থহীন। কারণ, এই সংঘের আদর্শ, বাস্তব রূপ, ভবিষ্যৎ কর্তব্য ও উপযোগিতা ---এইগুলি শ্রীরামকৃষ্ণ দেহত্যাগের আগে একমাত্র তাঁকেই বিশেষ করে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন এবং বারবার স্বামী বিবেকানন্দর জীবন ও কর্ম থেকে ভবিষ্যতে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে, শ্রীরামকৃষ্ণ এই সংঘকে যে অনন্য উদারতা ও গভীরতায় মন্ডিত দেখতে চেয়েছেন, তা স্বামীজিই একমাত্র সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তিনি ছাড়া আর যিনি সেটি বুঝেছেন তিনি হলেন সংঘজননী শ্রীমা সারদা দেবী, আধ্যাত্মিকতায় যিনি একমাত্র শ্রীরামকৃষ্ণেরই সমতুল এবং শ্রীরামকৃষ্ণের অপর প্রতিমা।

রামকৃষ্ণ মঠের প্রকৃত সূচনা শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগের ঠিক পরেই বরানগর মঠে---যদিও "রামকৃষ্ণ মঠ" নামটি প্রচলিত হয়ে উঠেছে আরো অনেক পরে।

১৮৯৩ এর জুলাই-অগাস্ট মাস থেকে ১৮৯৬ সালব্যাপী স্বামী বিবেকানন্দের পাশ্চাত্য জীবনের প্রথম পর্ব। বিদেশে খ্রিস্টীয় চার্চ এবং অন্যান্য সংগঠন দেখে স্বামীজীর মনে দৃঢ় ধারণা জন্মে, শ্রীরামকৃষ্ণ যে তাঁকে বারবার করে বলে গেছিলেন তাঁর গুরুভাইদের সবাইকে একত্র করে ভালবাসা দিয়ে এক জায়গায় বেঁধে রাখতে অর্থাৎ সঙ্ঘবদ্ধ করে রাখতে, সেই সংঘের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা আধুনিক যুগে কত বেশী।
তাই "পাশ্চাত্য বিজয়" শেষে ভারত তথা কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অব্যবহিতপরেই তিনি তাঁর গুরুদেবের স্বপ্নদৃষ্ট সংঘকে গুরুদেবের নামেই প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮ ৯৭ তারিখে তিনি কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১ মে ১৮৯৭ তারিখে তিনি বাগবাজারে বলরাম বসুর বাড়িতে শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী ও গৃহি অনুরাগীদের মিলিত একটি সভায় রামকৃষ্ণ মিশনের অনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন।
সংঘের সূচনা বীজাকারে হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরে, সেই বীজ ক্রমশ চারারূপে বড় হয়েছে শ্যামপুকুর এবং কাশীপুরে, ঠাকুরের জীবনের অন্ত্যলীলা পর্বে। কিন্তু বাস্তব জগতে তার প্রথম দৃশ্যমান রূপ বরানগর মঠে।
"মঠ" আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা প্রশাসনিক দিক থেকে "স্ট্রাকচার্ড" বা গোছালো হয়ে ওঠে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠার পর। স্বামীজীর জীবদ্দশাতেই ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে "রামকৃষ্ণ মঠ" আইনগতভাবে একটি ট্রাস্ট হিসাবে রেজিস্ট্রি-কৃত হয় এবং স্বামীজীর দেহত্যাগের সাত বছর পর ১৯০৯ সালে "রামকৃষ্ণ মিশন" আইনগতভাবে একটি সোসাইটি রূপে রেজিস্ট্রি-কৃত হয়। উদ্দেশ্য হিসাবে যদিও ঠিক হয় যে, রামকৃষ্ণ মঠ প্রধানত আধ্যাত্মিক কর্মে লিপ্ত থাকবে এবং রামকৃষ্ণ মিশন বিশেষভাবে নিযুক্ত হবে সেবা মূলক কর্মে, বাস্তব ক্ষেত্রে মঠ ও মিশনের কার্যাবলীর এই দুটি ভাগ সাধারণত একাকার হয়ে যায়। এর কারণ, রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শ অনুযায়ী মানুষের সেবাও ঈশ্বরেরই আরাধনা এবং ঠাকুরঘরের পূজা যেমন পূজা, প্রতিটি কাজও তেমনি পূজা।

রামকৃষ্ণ মঠ শুধুমাত্র সাধু-ব্রহ্মচারীদের প্রতিষ্ঠান, কিন্তু রামকৃষ্ণ মিশন সন্ন্যাসী ও গৃহীর সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান, যাঁরা সকলেই শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদাদেবী ও বিবেকানন্দের আদর্শকে মিশনের ভিত্তি ও নিয়ামক বলে গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু সূচনার আগেও সূচনা আছে। ১ মে, ১৮৯৭ তারিখে বলরাম মন্দিরে স্বামীজি যে সভাটির মাধ্যমে রামকৃষ্ণ মিশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন, এই সভা শুরুর একটু আগেই স্বামীজি বলেন: শ্রীশ্রীমায়ের কোন থাকার নির্দিষ্ট জায়গা নেই, তাঁর ভরণপোষণেরও কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। সঙ্ঘপ্রতিষ্ঠার জন্য যে স্থায়ী তহবিল হয়েছে তা থেকে মাসিক কিছু টাকা আমি মায়ের ভরণপোষণের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতে চাই। সকলেই স্বামীজীর এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলে স্বামীজী তখন বলেন:" তাহলে তোমরা বলো প্রতি মাসে মাকে কত টাকা দেওয়া যায়?" তখন কেউ কেউ বললেন: মাসে দু টাকা ,কেউ বললেন ৫ টাকা বা ৭ টাকা, দশ টাকার উপরে কেউ উঠতে পারলেন না; কারণ তিনি ব্রাহ্মণের বিধবা ও একা মানুষ, এর বেশি তাঁর কি প্রয়োজন! স্বামীজীর মুখটা তখন দুঃখে কালো হয়ে গেল। তিনি আবেগ-দীপ্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন: "শ্রীশ্রীমাকে কি তোমরা শুধু তোমাদের গুরুপত্নী, শ্রীরামকৃষ্ণের সহধর্মিনী বলেই মনে করো? মা অতটুকু নয় রে ভাই। মা হচ্ছেন আদ্যাশক্তি, জগজ্জননী, এই যে সংঘ হতে যাচ্ছে, মা এই সংঘের রক্ষাকর্ত্রী পালনকারিণী, মা এই সংঘের সঙ্গজননী। মাসে ২৫ টাকার কমে কিছুতেই দেওয়া চলবে না। "
এইভাবে সারদাদেবীকে সংঘের জননী রূপে বরণ করে, সংঘজননীর শ্রীচরণে সঙ্ঘনেতার শ্রদ্ধার্ঘ্য-অর্পণের মাধ্যমে রামকৃষ্ণ মিশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা।
🙏🏼🪷🙏🏼

মতির্ন কৃষ্ণে পরতঃ স্বতো বা মিথো'ভিপদ্যেত গৃহব্রতানাম্ । অদান্তগোভির্বিশতাং তমিস্রং পুনঃ পুনশ্চর্বিতচর্বণানাম্ ।। (ভাগবত...
30/04/2026

মতির্ন কৃষ্ণে পরতঃ স্বতো বা
মিথো'ভিপদ্যেত গৃহব্রতানাম্ ।
অদান্তগোভির্বিশতাং তমিস্রং
পুনঃ পুনশ্চর্বিতচর্বণানাম্ ।।
(ভাগবত ৭/৫/৩০)

প্রহ্লাদ বললেন- ইন্দ্রিয়গুলি অসংযত হওয়ার ফলে, জড় ভোগে অত্যধিক আসক্ত ব্যক্তিরা নারকীয় জীবনের পথে এগিয়ে যায় এবং পুনঃপুনঃ চর্বিত বস্তুর চর্বণ করে। অন্যের উপদেশে বা নিজের চেষ্টায়, কিংবা উভয় পক্ষের সংযুক্ত প্রচেষ্টায় – কোনভাবেই কখনও তাদের শ্রীকৃষ্ণে মতি হয় না। (প্রহ্লাদ উক্তি)

(শ্রীশ্রীমা রামেশ্বর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর)কেদারবাবু বলিলেন,” মা রামেশ্বর প্রভৃতি কেমন সব দেখেছিলেন – সব বলুন। আপনার কা...
25/04/2026

(শ্রীশ্রীমা রামেশ্বর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর)
কেদারবাবু বলিলেন,” মা রামেশ্বর প্রভৃতি কেমন সব দেখেছিলেন – সব বলুন। আপনার কাছে ওই সকল কিছুই শোনা হয় নি।“
শ্রীশ্রীমা বলিলেন,”বাবা,যেমনটি রেখে এসেছিলাম,ঠিক তেমনটিই আছেন।”
পূজনীয়া গোলাপ মা তখন ওদিকে বারান্দায় যাচ্ছিলেন, তিনি মায়ের কথা শুনে বলিলেন,”কি বললে মা?” শ্রীশ্রীমা একটু চমকিত হইয়া বলিলেন,” কই? কি বলবো? বলছি এই- -তোমাদের কাছে যেমন শুনেছিলুম,তেমনটি দেখে বড়ো আনন্দ হয়েছিল।“ তখন গোলাপ-মা একটু হাসিয়া বলিলেন,” তা না মা ! আমি সব শুনেছি,এখন আর কথা ফেরালে কি হবে? কেমন গো কেদার?”

(স্বামী ঈশানন্দের মাতৃসান্নিধ্যে থেকে)

🪷 সীতানবমী 🪷
- আজ সীতানবমীতে শ্রীশ্রীমায়ের দর্শন ,শ্রীশ্রী মাতৃমন্দির, জয়রামবাটী।

Address

S. S. Khaled Road, West Asker Dighi, Jamal Khan
Chittagong
4000

Opening Hours

Monday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30
Tuesday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30
Wednesday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30
Thursday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30
Friday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30
Saturday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30
Sunday 06:00 - 12:00
16:00 - 20:30

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ramakrishna Mission Sevashrama Iরামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম,চট্টগ্রাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share