22/07/2026
বৌদ্ধধর্মে পরকীয়া সম্পর্কে কি বলে?
========================
বৌদ্ধধর্মে পরকীয়া বা অবৈধ শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ককে একটি গুরুতর অনৈতিক কর্ম (অকুশল কর্ম) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৌদ্ধ নীতিশাস্ত্রের মূল ভিত্তি হলো "পঞ্চশীল" বা পাঁচটি নীতি, যার মধ্যে তৃতীয় শীল বা নীতিটিই সরাসরি যৌন আচরণ সম্পর্কিত।
১. তৃতীয় শীল (কামেসু মিচ্ছাচারা বেরমণি)
বৌদ্ধধর্মে সাধারণ গৃহীদের জন্য যে পঞ্চশীল পালনের নির্দেশ রয়েছে, তার ৩ নম্বর নীতিটি হলো:
Complete Wellbeing
"কামেসু মিচ্ছাচারা বেরমণি সিক্খাপদং সমাদিয়ামি"
(অর্থ: অবৈধ কামাচার বা কায়িক ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা গ্রহণ করছি।)
পরকীয়া সরাসরি এই নীতিটি লঙ্ঘন করে। বৌদ্ধধর্ম মতে, যখন কেউ বিয়ে বা পারস্পরিক সম্পর্কের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে অন্য কারও সাথে শারীরিক বা মানসিক সম্পর্কে জড়ায়, তখন সে এই নীতি ভঙ্গ করে এবং সমাজে ও নিজের মনে অশান্তি সৃষ্টি করে।
২. কেন পরকীয়াকে অনুচিত বলা হয়েছে?
কারও ক্ষতির কারণ হওয়া (অহিংসা নীতি): পরকীয়ায় নিজের জীবনসঙ্গী, অপর পক্ষের সঙ্গী এবং পরিবারের মানসিক কষ্ট সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তিই হলো কারও ক্ষতি না করা (অহিংসা) এবং সবার প্রতি করুণা পোষণ করা।
তৃষ্ণা ও আসক্তি (তণ্হা): অতিরিক্ত কায়িক লালসা ও আসক্তিই দুঃখের মূল কারণ। পরকীয়া মূলত অনিয়ন্ত্রিত লালসা এবং কামনার বহিঃপ্রকাশ।
প্রতারণা ও অসত্য আচরণ: পরকীয়ায় লিপ্ত হতে হলে সত্য গোপন ও মিথ্যা বলতে হয়, যা পঞ্চশীলের চতুর্থ নীতি (মিথ্যা না বলা)-কেও লঙ্ঘন করে।
পরাভব সূত্রে গৌতম বুদ্ধের বাণী: পরাভব সূত্র-এ গৌতম বুদ্ধ স্পষ্টভাবে বলেছেন, নিজের স্ত্রীর বা স্বামীর প্রতি সন্তুষ্ট না থেকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো একজন মানুষের পতন ও মানসিক অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ।
৩. কর্মফল (Karma) ও এর প্রভাব
বৌদ্ধধর্ম অনুযায়ী প্রতিটি কর্মের একটি নির্দিষ্ট ফল রয়েছে। পরকীয়াকে একটি অকুশল বা পাপ কর্ম মনে করা হয়।
ইহকালে প্রভাব: পরকীয়ায় লিপ্ত ব্যক্তি আত্মগ্লানি, ভয়, পারিবারিক অশান্তি এবং বিশ্বাসের ঘাটতিতে ভোগে, যা তার মানসিক শান্তি চিরতরে বিনষ্ট করে।
পরকালে বা জন্মান্তরে প্রভাব: অকুশল কর্ম করার ফলে পরবর্তীতে চেতনার অবনতি ঘটে এবং তা দুঃখময় পুনর্জন্মের কারণ হতে পারে।
সংক্ষেপে: বৌদ্ধধর্মে পরমেশ্বর বা ঈশ্বরের ভয় দেখিয়ে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না; বরং নিজের মনকে শুদ্ধ রাখা এবং অন্যের কষ্ট না দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। তাই পরকীয়াকে তীব্র তৃষ্ণা, অসত্য ও ক্ষতিকর আচরণ হিসেবে সম্পূর্ণ অনুচিত ও বর্জনীয় বলে গণ্য করা হয়।
Collected