09/01/2026
সূরা কাহফ এর শানে নুজুল
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আ’নহুমা বর্ণনা করেছেন। কুরাইশরা নাযার ইবনে হারিস ও উকবাহ ইবনে মুঈতকে মদিনার ইয়াহুদী আলেমদের নিকট পাঠিয়ে দেয় এবং তাদেরকে বলে, তোমরা তাদের (ইয়াহুদীদের) কাছে গিয়ে তাদের সামনে মু’হাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমস্ত অবস্থা বর্ণনা করবে। কারণ, তারাই প্রথম (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছিলো। পুর্ববর্তী নবীগণ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি। সুতরাং মুহা’ম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তাদের মতামত কি, তা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে।
এই দুইজন তখন মদিনার ইয়াহুদী আলেমদের সাথে সাক্ষাত করে এবং তাদের সামনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রচার করা কথা ও তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করে। ইয়াহুদীরা কুরাইশদেরকে বলে, দেখ! আমরা তোমাদেরকে একটি চূড়ান্ত মীমাংসা হয় এমন কথা বলছি। তোমরা মক্কায় ফিরে গিয়ে তাঁকে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) তিনটি প্রশ্ন করবে। তিনি যদি উত্তর দিতে পারেন, তাহলে তিনি যে সত্য নবী এতে কোন সন্দেহ নেই। আর যদি উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তাঁর মিথ্যাবাদী হওয়া সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকবে না। তখন তোমরা তাঁর ব্যাপারে যা ইচ্ছা করতে পারো।
(১) তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করবে, পুর্বযুগে যেই যুবকগণ বেড়িয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের ঘটনা বর্ণনা করুন। এটা তো একটা বিস্ময়কর ঘটনা!
(২) তারপর তাঁকে ঐ ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, যিনি সমস্ত পৃথিবী ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে এসেছিলেন।
(৩) আর তাঁকে তোমরা “রুহ (আত্মার)” অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে।
যদি তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন তোমরা তাঁকে নবী বলে স্বীকার করে তাঁর অনুসরণ করবে। আর যদি উত্তর দিতে না পারেন তাহলে জানবে যে, তিনি মিথ্যাবাদী। সুতরাং যা ইচ্ছা তাই করবে। তারা দুইজন মক্কায় ফিরে গিয়ে কুরাইশদের বললো, চূড়ান্ত ফয়সালার কথা ইয়াহুদী আলেমগণ বলে দিয়েছেন। সুতরাং, চল আমরা তাকে প্রশ্নগুলি করি। অতঃপর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আগমন করে তাঁকে সেই তিনটি প্রশ্ন করলে তিনি তাদেরকে বললেন, “তোমরা আগামী কাল এসো, আমি তোমাদের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বলে দিব।” কিন্তু তিনি “ইন শা আল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)”, এই কথাটি বলতে ভুলে যান। এরপর পনের দিন অতিবাহিত হয়ে যায়, কিন্তু তাঁর কাছে না কোন ওহী আসে, আর না আল্লাহ তাআ’লার পক্ষ থেকে তাঁকে এই প্রশ্নগুলির জবাব জানিয়ে দেওয়া হয়।
এর ফলে মক্কাবাসী সন্দেহ করতে থাকে এবং পরস্পর বলাবলি করা শুরু করে, দেখ! একদিনের ওয়াদা ছিল। অথচ আজ পনের দিন কেটে গেল, তবুও সে কোন জবাব দিতে পারল না! এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিগুণ দুঃখে জর্জরিত হতে লাগলেন। একেতো কুরাইশদের জবাব দিতে না পারায় তাদের কথা শুনতে হচ্ছে, দ্বিতীয়ত ওহী আসা বন্ধ রয়েছে। এরপর জিবরাঈল আ’লাইহিস সালাম আগমন করেন এবং সুরা কাহফ অবতীর্ন হয়। এতে “ইন শা আল্লাহ” না বলায় তাঁকে ভবিষ্যতে কোন কাজ করবো বলার পূর্বে “ইন শা আল্লাহ” বলার গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়, ঐ যুবকদের ঘটনা বর্ণনা করা হয়, ঐ ভ্রমনকারীর বর্ণনা দেওয়া হয় এবং রুহের ব্যাপারেও জবাব দেয়া হয়।
সূরা কাহফ পাঠ করার ফজিলত
১। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর (আলো) আলোকিত করা হবে।”
রেফারেন্স:
• সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯
• সুনানে কুবরা (নাসাঈ)
ব্যাখ্যা:
এই নূর কিয়ামতের দিন ও দুনিয়ায় হেদায়াতের আলো হিসেবে কাজ করবে।
২। দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা
হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”
রেফারেন্স:
• সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯
অন্য বর্ণনায় এসেছে শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করলেও একই ফজিলত।
৩। ফেরেশতা অবতরণ ও রহমত নাযিল হওয়া
হাদিস:
হযরত উসাইদ ইবনে হুদাইর (রা.) রাতে সূরা কাহফ পাঠ করছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন নূরের মতো কিছু নেমে আসছে। তিনি ভয় পেয়ে পড়া বন্ধ করেন।
রাসূল ﷺ বলেন—
“ওটা ছিল ফেরেশতারা, যারা তোমার কিরআত শোনার জন্য নেমে এসেছিল।”
রেফারেন্স:
• সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৮
• সহিহ মুসলিম
৪। দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ
হাদিস:
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
রেফারেন্স:
• আল-মুস্তাদরাক লিল হাকিম
• আল-বায়হাকি
৫। ঈমান মজবুত হয় ও ধৈর্য শিক্ষা দেয়
সূরা কাহফে চারটি বড় পরীক্ষা উল্লেখ আছে যেগুলো সূরাটি পড়লে জানা যায় —
• ঈমানের পরীক্ষা (আসহাবে কাহফ)
• সম্পদের পরীক্ষা (দুই বাগানের মালিক)
• জ্ঞানের পরীক্ষা (মূসা আ. ও খিজির আ.)
• ক্ষমতার পরীক্ষা (যুলকারনাইন আ.)
এগুলো মানুষকে দুনিয়ার ফিতনা থেকে সাবধান করে।
#হাদিস #দরবারে_বারীয়া_শরীফ #ইসলামিক
Haramain Translation Videos In English: ► https://bit.ly/2V9X0UT ◄Translation Of Qur'an In Multiple Languages: ► https://bit.ly/3lhHb9g ◄Download Haramain An...