27/09/2026
বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটস্থ ইউনাইটেড কনভেনশন হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খ্যাতিমান ইসলামী বক্তা মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান।
বিভাগীয় সদস্যসচিব ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান। দারসুল কোরআন পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও ইসলামী আলোচক ড. মোহাম্মদ শফি উদ্দিন মাদানী।
প্রধান আলোচক মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী বলেন, “আমাদের এই উপমহাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মানসিক ধারণা তৈরি হয়ে গেছে যে, টুপি, লম্বা দাড়ি ও নির্দিষ্ট পোশাকই ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী পোশাক। ওয়াজ বা তাফসির উপস্থাপনের সময় পোশাকের ধরন যদি অসঙ্গত বা জোকারের মতো দেখায়, তাহলে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড কিংবা মক্কা-মদিনা থেকে অর্জিত বড় ডিগ্রি থাকলেও সাধারণ জনগণ সেই বক্তব্য সহজে গ্রহণ করবে না।”
তিনি বলেন, “অনেক আলেম-ওলামা ভাইরাল হওয়ার নেশায় মগ্ন হয়ে গেছেন। বিতর্কিত কথা বলে তারা গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে আলোচনায় আনার চেষ্টা করেন। মাহফিলের আলোচনায় বিতর্কিত কোনো বিষয় স্থান দেওয়া উচিত নয়।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেন, নির্বাচনের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, বিগত ছয় মাসে তাদের কার্যকলাপ দেখে জনগণ চরমভাবে হতাশ ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় সময় অতিবাহিত করছে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়ার যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকারের ছিল, তারা বর্তমানে সেসব অঙ্গীকারকে অস্বীকার করে আবারও দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন শুরু করেছে। এই ছয় মাসে তারা যেভাবে দেশের জনগণের ওপর একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে, ঠিক তেমনিভাবে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও মুসলিম জাতিসত্তার ওপরও একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে। দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও তারা ইতোমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে দ্বীন বিজয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ওলামায়ে কেরামের মধ্যকার ছোটখাটো বিষয়ে এখতেলাফ ও ঐক্যের অভাব। ইসলামী আন্দোলনের শাহাদাতবরণকারী নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজেদের সবকিছু কুরবানি দিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ বলেন, সামনে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল আয়োজনের পরিবেশ এতটা মসৃণ বা সুখকর হবে—এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। লক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এক ফেরাউন বিদায় হয়, অন্য ফেরাউনরা তার খালি জায়গা দখল করে। আমরা তাগুতের পরিচয় জানি। বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা ও কোরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই কাজে সেক্যুলার, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও বামপন্থীরা বাধা দেবে এবং তারা কোরআনের মাহফিল হতে দেবে না। কারণ তারা আবু জেহেল, আবু লাহাব ও ফেরাউনদের উত্তরসূরি। এসব বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জনগণের সঙ্গে ইসলামের গভীর সম্পর্ক স্থাপন, ঈমানি আবেগ তৈরি এবং সমাজে ইনকিলাব বা ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ওয়াজ মাহফিলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরীনদের এই ঐক্যবদ্ধ সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ইসলামের সঠিক প্রচার এবং ওয়াজ মাহফিলের ঐতিহ্য রক্ষায় মুফাসসির ও ওলামায়ে কেরামকে তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান বলেন, আল্লাহর আইনের কথা বললে রাজনীতির কথা মনে করা হয়। কিন্তু মানব রচিত আইনের কথা বললে বর্তমানে মানুষ খুশি হয়ে যায়। এই অপসংস্কৃতি ও কুধারণা থেকে মানুষকে বের করে আনার দায়িত্ব আলেম-ওলামাদের নিতে হবে।
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মহানগরীর উপদেষ্টা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব ওলামায়ে কেরামকে নিতে হবে। যথাযথভাবে পড়াশোনা করে সমাজে দাওয়াতের কাজ করতে হবে। মুশরিকদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি অধ্যাপক মাওলানা ড. বিএম মফিজুর রহমান আল-আযহারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা আবু হানিফা মোহাম্মদ নোমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, কক্সবাজার জেলার সভাপতি মাওলানা শফিউল হক জিহাদী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, রাঙামাটি জেলার সভাপতি এবিএম তোফায়েল উদ্দিন, বান্দরবান জেলার সভাপতি মাওলানা মুজিবুল হক ও খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি মাওলানা আবদুল জলিল।
সম্মেলনে তিন বছরের জন্য সেটআপ ঘোষণা করেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ।
বিভাগীয় সভাপতি: আল্লামা - সভাপতি: ডঃ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান
সেক্রেটারি: মাওলানা ডঃ মুহাম্মদ আবুল কালাম
জেলা সভাপতিবৃন্দ:
১. চট্টগ্রাম মহানগরী:
সভাপতি: মাওলানা আবু হানিফা মোঃ নোমান।
সেক্রেটারি: মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনী
২. চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা:
সভাপতি: মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী।
সেক্রেটারি: মাওলানা মনিরুল আলম জিহাদী
৩. চট্টগ্রাম উত্তর জেলা:
সভাপতি: মাওলানা মোঃ বোরহান উদ্দিন।
সেক্রেটারি: মাওলানা এমদাদুল হক নিজামী
৪. কক্সবাজার জেলা:
সভাপতি: মাওলানা শফিউল হক জিহাদী।
সেক্রেটারি: মাওলানা আবুল ফজল (খুটাখালি)
৫. বান্দরবান জেলা:
সভাপতি: মাওলানা মুজিবুল হক।
সেক্রেটারি: মাওলানা মোঃ রাশেদুল হক।
৬. রাঙামাটি জেলা:
সভাপতি: মাওলানা এবিএম তোফায়েল উদ্দিন।
সেক্রেটারি: অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আলম
৭. খাগড়াছড়ি জেলা:
সভাপতি: মাওলানা মোঃ আব্দুল জলিল।
সেক্রেটারি: মাওলানা মোঃ শাহাদাত হোসাইন