Rahnuma

Rahnuma Islamic Page

দাতা গঞ্জেবখস লাহুরী (রা.)'র প্রেরিত শহর কুতুব ছিলেন গাউসে জমান আল্লামা তৈয়্যব শাহ (রা.)'র গাড়িচালক আর গাড়িছিল তেলবিহীন!...
30/05/2026

দাতা গঞ্জেবখস লাহুরী (রা.)'র প্রেরিত শহর কুতুব ছিলেন গাউসে জমান আল্লামা তৈয়্যব শাহ (রা.)'র গাড়িচালক আর গাড়িছিল তেলবিহীন!

সিলসিলায়ে আলীয়া কাদেরিয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত ও খাদেম হজুর কিবলার খলীফা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ওয়াজের আলী সওদাগর সাহেব গাউসে জমান, মুর্শিদে বরহক্ব, হযরতুলহাজ্ব, আল্লামা হাফেজ, ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রাঃ) কে সাথে নিয়ে এদেশে আসার উদ্দেশ্যে একদা সিরিকোট শরীফ হতে প্রাইভেটকার যোগে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। গাড়ি চলাকালীন সময়ে ড্রাইভার বার বার পেছনের সীটে বসা হুজুর কিবলার সাথে পশতু ভাষায় কথা বলছিলেন। এমনকি কোন এক সময় স্টিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে পেছনে ঝুঁকে হুজুর তৈয়্যব শাহর সাথে কথা বলে যাচ্ছিলেন গাড়ীর চালক। ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে সওদাগর সাহেব চালককে সামনের দিকে তাকিয়ে ঠিকমতো গাড়ি চালানোর জন্য কয়েকদফা সতর্ক করেন। হঠাৎ ড্রাইভার বলেন, "কেয়া সমঝে সওদাগর সাহেব! হাম ড্রাইভার নেহী, কভী হাম গাড়ি নেহী চালায়া ইয়ে গাড়িমে তৈলভী নেহী। গাড়ি আপনা চলতা হ্যাঁয়। ম্যায় শহর কুতুব হো দাতা গঞ্জবখসনে হামকো ভেজা, হুজুরকো এয়ারপোর্ট পৌঁছনে কেলিয়ে আয়া।" একথা শুনে সওদাগর সাহেব খামোশ হয়ে গেলেন। কিছুদূর যাবার পর গাড়ি বিমান বন্দরেরর রাস্তা ছেড়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। বিমান ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় ক্রমশঃ এগিয়ে আসছে অথচ ড্রাইভার অন্যপথে গাড়ি চালাচ্ছে সওদাগর সাহেব ভাবলেন এ যাত্রা নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে না, যাত্রা বাতিল হয়ে গেল বলে মনঃক্ষুন্ন হলেন। মুখফুটে কিছু বলছেন না, হুজুর কিবলাও নির্বাক। কিছুক্ষণ চলার পর গাড়ি এক বাড়ির সামনে গিয়ে থামলে গাড়িওয়ালা সামনে হুজুরকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করে ঘরে নিয়ে যান। সেখানে মেহমানদারি করা হলো। হুজুর বিশ্রামে গেলেন। ইতোমধ্যে উড়োজাহাজের সিডিউল সময় পার হয়ে গেছে। বিশ্রাম শেষে হুজুর চা-নাস্তা সেরে পুনঃযাত্রা শুরু হলো বিমানবন্দর অভিমুখে।
২/৩ ঘন্টা বিলম্বে পৌঁছে সওদাগর সাহেব বোডিং কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন যে তাঁদের ফ্লাইট আধঘন্টা পর করাচীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। অর্থাৎ হুজুরের সিডিউল ফ্লাইট প্রায় তিন ঘন্ট লেট। সওদাগর সাহেব পথিমধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার রহস্য হৃদয়ঙ্গম করলেন।

#সুবহানআল্লাহ!

#তথ্যসূত্রঃ মাসিক তরজুমান, জিলহজ্ব ১৪৩৮হিজরি সংখা, পৃঃ ১৩

#বিঃদ্রঃ
আগামী ১৫ জিলহজ্ব ১৪৪৭ হিজরি, ০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার গাউসে জমান, মুর্শিদে বরহক্ব, হযরতুলহাজ্ব, আল্লামা হাফেজ, ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রা.)'র ৩৪তম সালানা ওরস মোবরারক চট্টগ্রাম ষোলশহর জামেয়া ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

❛আসহাবে কাহ্’ফ কা কুত্তা নেক্ লোগোঁ কী ছোহবত কী ওয়াজাহ্ চে জান্নাত’মে জায়েগা, অওর হজরত নূহ (আ.) কে বেটা বুরোঁ কী ছোহবত...
30/05/2026

❛আসহাবে কাহ্’ফ কা কুত্তা নেক্ লোগোঁ কী ছোহবত কী ওয়াজাহ্ চে জান্নাত’মে জায়েগা,
অওর হজরত নূহ (আ.) কে বেটা বুরোঁ কী ছোহবত কী ওয়াজাহ্ চে আযাবে ইলাহী চে বাচ্ ন চেকা,
যবকে শয়তান কো নেক আমল অওর ইবাদত নে
কুচ্ ফায়েদা ন দিয়া।❜

অর্থ: আসহাবে কাহাফ্ এর কুকুর সৎলোকের সংশ্রবের কারণে জান্নাতে যাবে। আর হযরত নূহ (আ.) এর সন্তান অসৎ লোকের সাহচর্যের কারণে আল্লাহর শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পায়নি; যেমনিভাবে, শয়তানকে স্বীয় সৎকার্য ও ইবাদত কোন উপকারিতা দেয়নি।

আওলাদে রাসুল‌ গাউসে জামান হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.) এই মহান মাতৃ গর্বের অলির আগামী ১৫যিলহজ্ব ২ই জুন ২০২৬/রোজ মঙ্গলবার ৩৪তম পবিত্র সালানা ওরশ মোবারক 🌸 সফল হোক,

28/05/2026

আলহামদুলিল্লাহ
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, ও হালিশহর থানার চামড়া কালেকশন পরবর্তী সংরক্ষণের জন্য নিদিষ্ট স্হানে জমায়েত চলমান,,,

23/05/2026

🌹কন্যা সন্তান আল্লাহ তালার পক্ষ হতে বড় নেয়ামত,,,!
🎤 মাওলানা গোলাম হুসাইন আলকাদেরী
খতুব:- বাইতুল আমান জামে মসজিদ।
৩৮নং ওয়ার্ড়, বন্দর চট্টগ্রাম।

হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (রাঃ) এর                      সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ #রাসুল (দঃ)'র ইশক দ্বারা উদ্ভাসিত এমন একজন...
17/05/2026

হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (রাঃ) এর
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
#রাসুল (দঃ)'র ইশক দ্বারা উদ্ভাসিত এমন একজন মহাপুরুষ হচ্ছেন, ছাহেবে এলমে লুদুনি, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, ত্রিশ পারা সম্বলিত দরুদ শরীফের কিতাব মজমুয়ায়ে ছালাওয়াতে রাসুল (দঃ) এর প্রণেতা, তৎ জমানার গাউস, খাজায়ে খাজাগান খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (কঃ)। তিনি নবী করিম (দঃ) আধ্যাত্মিক সম্পদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী, সুন্নাতে নববীর তীক্ষ্মধার তলোয়ার এবং শরীয়ত, তরীকত ও মারেফাতের একনিষ্ট সাধক। খাজা চৌহরভী (কঃ) এতদাঞ্চলে সুন্নীয়তের স্বপ্নদ্রষ্টা। গাউছে জমান, কুতুবুল আউলিয়া, পাক-ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী মাওলানা ছৈয়দ আহমদ শাহ ছিরিকোটি (রহঃ) এর সাক্ষাত পীর।
জন্ম ও বংশঃ খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (কঃ) ১২৬২ হিজরী সনে সীমান্ত প্রদেশের (বর্তমান উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পাকিস্তান) হাজারা জিলার হরিপুর শহরের নিকটবর্তী চৌহর শরীফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন, খলিফাতুল মোসলেমীন ইমামুত ত্বরিকত শের-ই-খোদা হযরত আলী (রাঃ) এর বংশধর। কথিত আছে, খাজা চৌহরভী (কঃ) পূর্ববর্তী বংশধর, ইরাকের কুফা নগরীতে বসবাস কালে তৎকালীন খলিফার নির্দেশে পবিত্র কোরআন শরীফকে ‘মানব সৃষ্ট গ্রন্থ’ হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে নিজেদের ‘দৌলত-ই-ঈমান’ হেফাজতে করার মানসে কূফা নগরী হাতে প্রথমে পারস্য এবং পরে আফগানিস্তানের প্রস্তরময় পার্বত্য এলাকায় হিজরত করেন। পরবর্তীতে সেখান হতে পূর্ব পুরুষের একটি শাখা দুর্গম খাইবার পাস অতিক্রম করে সীমান্ত প্রদেশের হাজারা জিলার চৌহর শরীফে এসে বসতী স্থাপন করেন। খাজা চৌহরভী (কঃ) এর বুজর্গ পিতা ছিলেন, তৎজমানার একজন উচ্চস্তরের অলি ও আল্লাহতায়ালা লোকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়, সমগ্র মানবজাতির অহংকার ও গাউছে জামান। তাঁর পিতার নাম হযরত খাজা ফকির মোহাম্মদ (রহঃ) তিনি হযরত খিজির (রহঃ) হিসেবে খ্যাত ছিলেন। হযরত খিজির (আঃ) দর্শন লাভ করায় তিনি ‘খিজির’ উপাধিতে ভূষিত হন।
শৈশবকালঃ খাজা চৌহরভী (কঃ) মাত্র ৮ বছর বয়সে তাঁর বুজর্গ পিতাকে হারান। প্রকাশ আছে যে, এসময় তাঁর পিতা খাজা ফকির মোহাম্মদ প্রকাশ খিজির (রহঃ) মন্তব্য করেন, “একই খাপে দু’টি তলোয়ার রাখা যায় না।” খাজা চৌহরভী অতি ছোট বয়সে নিজকে সম্পূর্ণরূপে কু-রিপুর প্রভাবমুক্ত করে পুতঃ পবিত্রভাবে তৈরী লক্ষ্যে এক কঠিন সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। একাক্রমে ৪০ দিন যাবৎ দুনিয়ার যাবতীয় মোহ-লোভ-লালসা ত্যাগ করে একটি ছোট্ট কামরায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন এবং প্রথমে বমি ও পরে রক্তবমি করতেন। এ কঠোর সাধনায় তাঁর আসল উদ্দেশ্য হাসিল পূর্বক পবিত্র দেহমন নূরানীয়তে উদ্ভাসিত হয়ে গেল। এই অল্প বয়সে তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদার শুভ সূচনার কথা সকলের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেল। তাঁর পুরো শৈশবকালটাই ছিল আধ্যাত্মিক কর্মকান্ডে ভরপুর।
স্বভাব-চরিত্রঃ তিনি স্বল্পভাষী ছিলেন। গল্প গুজব অনর্থক কথাবার্তা হতে বিরত থাকতেন। ফকির দাবিদারদের মত জোশ বা উচ্চস্বরের কথাবার্তা জবানে পাকে কখনো উচ্চারণ করতেন না। তাঁর জীবনাদর্শ-রাসুলে পাক (দঃ) এর আদর্শ ও নীতির বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি জজবাত ও জালালিয়ত মুক্ত ছিলেন। রুবুবিয়ত ও রহমানিয়তের রঙে তাঁর কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে রঞ্জিত ছিল। তাঁর চাল-চলন, কথোপকথন, আচার ব্যবহার, ব্যক্তি জীবন, ধর্মীয় জীবন এবং সামাজিক জীবনাচারণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই শফিউল মুজনেবিন রাসুলে করিম (দঃ) এর সুন্নাত এর প্রতিফলন ছিল পরিপূর্ণ হারে। তিনি অত্যন্ত সাধাসিধা জীবন যাপন করতেন।
গাউছে জমান খাজা চৌহরভীঃ তাসাউফ পন্থীদের শিরোতাজ, মায়ারেফে লুদুনিয়ার প্রস্রবন, উলুমে ইলাহিয়ার ধারক খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (কঃ) যে আপন যুগে ‘গাউছে জামান’ ছিলেন তা সন্দেহাতীত। এ প্রসঙ্গে একটি ছোট্ট ঘটনা উল্লেখযোগ্য। “একদিন একব্যক্তি হুজুর চৌহরভী (রহঃ) এর কাছে জানতে চাইলেন, হুজুর বর্তমানে গাউছে জামান কে? উত্তরে খাজা চৌহরভী বললেন, ঐ ব্যক্তিই গাউছে জমান, তিনি যদি (অদূরে একটি বৃক্ষ দেখিয়ে) ঐ বৃক্ষকে নির্দেশ দেন “হে বৃক্ষ- তুমি এখানে এস।” এ বাক্য পবিত্র মুখ থেকে বের হতে না হতেই তাঁর বাড়ীর সম্মুখস্থ ঐ বৃক্ষটি নড়ে উঠে আপন স্থান ছেড়ে চৌহরভী (কঃ) এর দিকে চলে আসতে লাগল। তখন হুজুর চৌহরভী (রহঃ) ঐ বৃক্ষকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আরে আমিতো এখনও তোমাকে আহ্বান করিনি। আমি শুধু প্রশ্নকারীকে বুঝাতে উদাহারণ দিচ্ছিলাম মাত্র। অলৌকিক ঘটনা দৃষ্টে লোকটির আর বুঝতে বাকি ছিল না যে, খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (কঃ) ছিলেন তৎকালীন গাউছে জমান।”
মজমুয়ায়ে সালাওয়াতির রাসুল (দঃ) ইলমে লাদুনির ধারক বাহক খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (কঃ) জাহেরীভাবে কোন মাদ্রাসা, মক্তব কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেননি। এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানহীন এ সাধক প্রিয়নবী (দঃ) এর শানে বিশ্বের অদ্বিতীয় গ্রন্থ, ত্রিশপারা সম্বলিত দরুদ শরীফের কিতাব “মুহায়য়্যিরুল উকুল ফি বয়ানে আওসাফ-ই-আরলিল উকুল মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতির রাসুল (দঃ) রচনা করেন। প্রতি পারা ৪৮ পৃষ্ঠা করে ১৪৪০ পৃষ্ঠার এ বিশাল গ্রন্থখানা তিনি ১২ বছর ৮ মাস ২০ দিনে রচনা সম্পন্ন করেন। সম্পূর্ণ কিতাব ২ খন্ডে বিভক্ত। এখানে দরুদ শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (যা পবিত্র কোরআনের আয়াত সমতুল্য)। খাজা চৌহরভী (কঃ) কে এ কিতাব রচনা করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি শুধু কাগজের উপর কলম বসিয়ে রাখতাম। আর সরকারে দো আলম (দঃ) নূরানী চেহারা মুবারকের প্রতি মুতাওয়াজ্জুহ হয়ে বসতাম। এদিকে আপন গতিতে চলতে শুরু করে আমার কলম। পরবর্তীতে সেটাই “মজমুয়ায়ে সালাওয়াতির রাসুল (দঃ) তথা ত্রিশ পারা দরুদ শরীফ এর গ্রন্থ” এ পরিণত হয়ে গেল। আরবী ভাষার দুর্লভ শব্দ গাঁথুনী অসংখ্য, রাওয়ায়েত সম্বলিত আর দু®প্রাপ্য তথ্য। কোরআন-হাদিসের নিগূঢ় রহস্য বর্ণনায় এক রতœভাণ্ডার এই ত্রিশপরা দরূদ শরীফের কিতাব প্রথম দর্শনেই সবাই আশ্বর্যান্বিত হয়ে কৌতুহল উদ্দীপক মনে একে অপরের কাছে প্রশ্ন করলে উত্তর একটাই। আর তা হলো এটা খোদা প্রদত্ত ইলমে লুদুনী ছাড়া আর কী-বা হতে পারে? শত সহ্রস্রবছর গবেষণা করে এমন একটি কিতাবের এক-দশমাংস লিখা কোন জাহেরী আলেমের পক্ষে সম্ভব হবে না। খাজা চৌহরভী (কঃ) বিরচিত ত্রিশপারা সম্বলিত দরূর শরীফের অদ্বিতীয় গ্রন্থখানি মহান আল্লাহর কুদরত। নবী পাকের (দঃ) মুজিজা ও তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির এক অনুপম দলীল। তিনি এতে প্রিয় নবী (দঃ) এর জীবনের বিভিন্ন দিক ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাগতিক, আধ্যাত্মিক, ইহালৌখিক, পারলৌকিক এককথায় রসুল জীবনের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ তুলে ধরার প্রয়াস পান। এ গ্রন্থটিতে সর্ববৃহৎ দরূদ শরীফ গ্রন্থের পাশাপাশি তাফসীর, হাদিস, ফিকহ, উসুল, মানতেক, বালাগাত, আকাঈদ, ইতিহাস, সুফীতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, শরীয়ত, ত্বরীকত, দর্শন তথা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ হিসেবে মন্তব্য করেছেন বিখ্যাত পণ্ডিতজন। এ গ্রন্থে হাজার হাজার নবীর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে যা পৃথিবীর অন্য কোন গৃন্থে এক সাথে এতগুলো নবীর নাম সুন্নিবেশিত হয়নি। মোদ্দাকথা অলৌকিকতাও আধ্যাত্মিকতার মানদন্ডে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এ গ্রন্থের আবেদন শাশ্বত চিরন্তন। এটি গভীর আলোচনা ও গবেষণার অবকাশ রয়েছে। এ গ্রন্থ বিশ্ব মুসলিমের জন্য এক অদ্বিতীয় বরকতময় ও প্রামাণ্য গ্রন্থ। বিশেষ করে আহলে সুন্নাতের জন্য এক অতীব গৌরবের বস্তু। এটি বর্হিবিশ্বের সুন্নী মনীষী এ মসুলমানদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এক গৌরবময় অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মুজমুয়ায়ে সালাওয়াতির রাসুল (দঃ) খাজা চৌহরভী (কঃ) এর বাহ্যিক এবং তাত্ত্বিক জ্ঞান সমুদ্রের একটি বিন্দুমাত্র। যা তাঁর শোকাবহ ওফাতের পরই তাঁর স্থলাভিষিক্ত প্রধান খলিফা, শায়কুল মাশায়েখ, পীরে ত্বরীকত কুতুবুল আউলিয়া আল্লামা হাফেজ ক্বারী মাওলানা সৈয়দ আহমদ শাহ্ চিরিকোটি (রহ) কর্তৃক মুদ্রিত হয়ে কিতাব আকারে এ দুনিয়াবাসীর সামনে মহান নেয়ামত স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
আল্লামা শেরে বাংলা (রহঃ) এর মন্তব্য ঃ খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী (কঃ) এর ইহকাল থেকে বিদায় নেয়ার পরও বিশ্বের বিখ্যাত পণ্ডিত ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রশংসায় সবসময় রসানাসিক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ইমামে আহলে সুন্নাত, মুসলিম মিল্লাতের নয়নমনি, গাজী-এ-দ্বীনও মিল্লাত, আশেকে রাসুল (দঃ) আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা আলকাদেরী (রহঃ) এই মহান অলি-এ-কামেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। আল্লামা শেরে বাংলা খাজা চৌহরভরি যথাযর্থ মূল্যায়নে কার্পণ্য করেননি। কারণ ফার্সি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে “অলি-অলিকে চিনেন।” এ মূল্যায়নের মাধ্যমে এ প্রবাদ বাক্যের বাস্তবতা পরিলক্ষিত হয়। গাজী শেরে বাংলা (রহঃ) স্বয়ং একজন বিশ্ববরেণ্য আলেম। কোরআন-সুন্নাহ, ফিকহ ও তাসাউফ বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলছিলায়ে আলিয়া কাদেরীয়ার খেলাফত প্রাপ্ত পীরে কামেল ছিলেন। তিনি তাঁর রচিত ‘দিওয়ান-ই-আজিজ’ ফর্সি কাব্য সম্ভারে খাজা চৌহরভীর শানে একটি কবিতা রচনা করেন। এতে তিনি যুগের আছেফ, পবিত্র আল কোরআনের বিচ্ছিন্নহরফের রহস্য উদ্ঘাটনকারী খাজা আবদুর রহমান চৌহরভীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি (হযরত চৌহরভী) কাশ্ফ ও কারামতের ভান্ডার, যুগের রাজমুকুট তাঁরই জন্য। তাঁর কামালিয়াত বা পূর্ণতা লিখা ও বর্ণনার অতীত।”
কারামত কারামত বা অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন-মহাত্মা আউলিয়ায়ে কেরামের বেলায়তের মাপকাঠি নয়। বরহক ক্ষেত্রে সুন্নাতে রাসুল (দঃ) এর পরিপূর্ণ অনুসরণ ও নবী প্রেমই বুজুর্গীয় প্রকৃত চাবিকাটি। আশেকে রাসুল (দঃ) খাজা চৌহরভী (কঃ) এর পবিত্র জিন্দেজীর প্রতিটি মুহুর্তই সুন্নাতে রাসুল (দঃ) এর বাস্তব প্রতিফলন। প্রকৃতপক্ষে এটাই হচ্ছে তাঁর মোবারক জীবনের সবচেয়ে বড় কেরামত। রাসুলের (দঃ) প্রেমে নিমজ্জিত হয়ে মজমুয়ায়ে সালাওয়াতির রাসুল (দঃ) নামে অদ্বিতীয় দরুদ শরীফের কিতাব রচনা খাজা চৌহরভীর কারামতের অপূর্ব নিদর্শন। তার পবিত্র হায়াতে জিন্দেগীতে প্রচুর অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়। যা তাঁর উচ্চ কামালিয়তের পরিচয় বহন করে। খাজা চৌহরভী নিজেকে সবসময় গোপন রাখতে ভালবাসতেন বিধায় একান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনেক অনেক কেরামত প্রকাশ হয়ে যায়। এসব কেরামতের কয়েকটি অতি সংক্ষেপে পাঠকমহলের উদ্দেশ্যে এখানে উপস্থাপন করলাম।
কারিগর হলো হাফেজ ছাহেবঃ খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (রহঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হরিপুর মাদ্রাসা-এ-ইসলামিয়া নির্মাণ করিগর এতো বড়ো একটি মাদ্রাসার নির্মাণ বাবত কোন মজুরী নেননি। খাজা চৌহরভীর আধ্যাত্মিক কামালিয়াত সম্পর্কে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। তাই কারিগর মনে মনে নিয়ত করলেন যে, মাদ্রাসা নির্মাণ বসত কোন মজুরী তিনি নেবেন না। এর বদলা হিসেবে তিনি কোরআনে হাফেজ হতে চান। মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলো। কিন্তু বিনিময়ে কোন মজুরী নিলেন না কারিগর। একান্ত দৃঢ় প্রত্যয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন কবে তাঁর আশা পূরণ হবে। একদিন সত্যি সত্যিই সেই স্বপ্নের দিনটি এসে গেল। একরাতে স্বপ্নে খাজা চৌহরভী কারিগরের সামনে উপস্থিত। কারিগরের সামনে রাখা হয় একটি কোরআন শরীফ। কোরআন শরীফের একের পর এক করে শেষ পর্যন্ত সব পৃষ্ঠা উল্টানো হলো তাঁর সামনে। দেখতে না দেখতে কোরআনুল করীমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছয় হাজার ছয়শত ছেষট্টি আয়াত তাঁর দৃষ্টিতে পড়তেই মুখস্ত হয়ে গেল। এরপর হতেই তিনি সম্পূর্ণ কোরআন শরীফের হাফেজ হয়ে গেলেন। আলোড়ন সৃষ্টি করলো এ ঘটনা সর্বত্র। একজন কারিগর তাঁর নিয়ত গুণে দুনিয়াবী লোভ সংবরণ করে পবিত্র আল কোরআনের হাফেজ হয়ে গেলেন। আলহামদুুলিল্লাহ।
ইহকাল থেকে খাজা চৌহরভীর বিদায়ঃ কুতুবে আলম দাওরাল, ত্বরীকতের মুরশিদ, হাকিকতের গুপ্ত রহস্যাবলীর অন্তরদ্রস্টা, খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (কঃ) ১৩৪২ হিজরীর ১লা জিলহজ্ব শনিবার বাদে মাগরিব মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বাহ্যিকভাবে ইহকাল থেকে বিদায় নেন। দুনিয়ায় তাঁর সংক্ষিপ্ত জিন্দেগী ছিল ৮০ বছর। পাকিস্তানের পবিত্র চৌহর শরীফে তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে। সবসময় নবী (দঃ) প্রেমিকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে তাঁর সমাধিস্থল। সকলেই এ মহান অলির ফয়ুযাত লাভে ধন্য হচ্ছেন।
প্রতি বছর ১ লা জিলহজ্ব খাজা চৌহরভী (কঃ) পবিত্র ওরশ শরীফ বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মত আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ষোলশহর আলমগীর খানকাহ শরীফ সহ ঢাকা খানকাহে কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া সহ সারা বিশ্বে উদযাপিত হয়। এতে লক্ষ লক্ষ নবী-অলি প্রেমিকদের ঢল নামে এবং তারা অশেষ পূন্য হাসিল পূর্বক সঠিক পথের সন্ধান লাভ করেন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এই মহান অলিয়ে কামেলের ফয়ুজাতে লাভে ধন্য করুন এবং তাঁর অনুসৃত আদর্শ ও নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে উভয় জাহানে কামিয়াবী নসিব করুন।
#আমিন...
www.anjumantrust.org

আগামী ১লা জিলহজ্জ ১৯ই মে রোজ মঙ্গলবার খলিফায়ে শাহ জিলান খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (রাঃ)'র সালানা ওরস মোবারক সফল হউক।
16/05/2026

আগামী ১লা জিলহজ্জ ১৯ই মে রোজ মঙ্গলবার খলিফায়ে শাহ জিলান খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (রাঃ)'র সালানা ওরস মোবারক সফল হউক।

চট্টগ্রাম আলমগীর খানকা শরীফে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, হযরত খাজা চৌহরভী, গাউসে জমান তৈয়্যব শাহ কেবলা (রা.)'র ওরস মোবারক উদযাপন ও আ...
09/05/2026

চট্টগ্রাম আলমগীর খানকা শরীফে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, হযরত খাজা চৌহরভী, গাউসে জমান তৈয়্যব শাহ কেবলা (রা.)'র ওরস মোবারক উদযাপন ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার চামড়া কালেকশনের বিষয়ে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর প্রস্তুতি সভা।

জামেয়ার ময়দানে শাহান শাহে  সিরিকোট (রহ:) ৬৭তম সালানা ওরস মোবারকে (ভিডিও কলে) গুরুত্বপূর্ণ নিছিহত  দোয়া মোনাজাত করেন পীরে...
01/05/2026

জামেয়ার ময়দানে শাহান শাহে সিরিকোট (রহ:) ৬৭তম সালানা ওরস মোবারকে (ভিডিও কলে) গুরুত্বপূর্ণ নিছিহত দোয়া মোনাজাত করেন পীরে বাঙ্গাল সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবের শাহ (মা:আ:জি:)।…❤️❤️জামেয়ার ময়দানে হাজার আশেকে রাসূলে মিলন মেলা❤️❤️

শাহানশাহ এ সিরিকোট -জিন্দাবাদ ----+-----কী এক জান্নাতি সম্পর্ক ভাইয়ে ভাইয়ে  --- অথচ দু'জনেই গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ হুজু...
30/04/2026

শাহানশাহ এ সিরিকোট -জিন্দাবাদ
----+-----
কী এক জান্নাতি সম্পর্ক ভাইয়ে ভাইয়ে --- অথচ দু'জনেই গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ হুজুরের সাজ্জাদানশীন খলিফা। এইতো সেদিনের কথা ( ১৫ মার্চ ২০২৬ সকালে) সউদী আরবের দাম্মাম এয়ারপোর্টে যখন পরপর আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেল ইরানি হামলার কারণে -- তখন আমাদের টা ছিল নবম ফ্লাইট -- নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘন্টা চলে গেল কোন খবর ছাড়া। নিশ্চিত ছিল আমাদেরটাও বাতিল ঘোষণা হবে, কারণ আগের রাত থেকে যেতে না পারা যাত্রীরা সব বিমানবন্দরে উদ্বিগ্ন অপেক্ষায় কাতর হয়ে আছে। এমন সময়ে পীর সাবির শাহ্ হুজুর ফোন করে দোয়া চাইলেন হুজুর কেবলা তাহের শাহ্ হুজুরের কাছে। হুজুর কেবলা ছোট ভাই পীর সাহেব কে দোয়া করলেন এবং অভয় দিলেন। সুবহানাল্লাহ, একটু পরই বিমান কর্তৃপক্ষের সুসংবাদ এলো। হুলস্থুল করে সবাই রওনা হয়ে গেলাম দাম্মাম টু মদিনা মুনাওয়ারা।
(মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, সেইদিনের অন্যতম সফরসঙ্গী )

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rahnuma posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Rahnuma:

Share