08/12/2025
দুলহায়ে হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী মৌলানা সূফী সৈয়দ সালেকুর রহমান শাহ রাহেভান্ডারী(কঃ)-
একদা দুলহায়ে হয়রত (কঃ) এঁর একমাত্র পীরজাদা মৌলানা সূফী সৈয়দ খাজা সুলতান মাহমুদ( খাজা মিয়া) (রঃ) এর শ্বশুর বাড়ী দরবারে গাউসে হাওলাপুরী হতে কয়েকজন মেহমান আসার খবর দেয়া হলো।এদিকে দুলহায়ে হয়রত কঃ'র ঘরে, মেহমানদারীর সুব্যবস্থা না থাকায় তাঁর কন্যা শাহজাদী জাহানারা কাশেম চৌধুরী তাঁর বাবাজানকে বললেন, মা (হয়রতের বড় বিবি) বলছেন, মেহমান আসবে, কিন্তু মেহমানদারীর তো কোনো ব্যবস্থা নেই!
উত্তরে দুলহায়ে হয়রত (কঃ) বললেন, মওলা দিলে ব্যবস্থা হবে, না দিলে হবে না, যাও! হয়রত আকদছ (কঃ) এই উত্তর শোনার পর এবার দ্বিতীয় বিবির দ্বারা দুলহায়ে হয়রতের প্রতি মেহমানদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করা হলে, এবারও তিনি উত্তরে বললেন, আমার মওলা খাওয়ালে খাই, না খাওয়ালে খাই না। মেহমানদেরও খাওয়ালে খাবে, না খাওয়ালে খাবে না।
এরপর কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দেখা গেলো, বোয়ালখালী থানার অন্তর্গত সরোয়াতলী গ্রাম হতে তাজা খাসি, ছাগল, সরু (পোলাও) চাল, তেল, মরিচ, মসল্লা, তরিতরকারি অর্থাৎ খানা তৈরীর যাবতীয় সরঞ্জামাদি নিয়ে কয়েকজন মুরিদ দরবারে এসে হাজির হলো!তারা তাদের বাবাজান কেবলা (কঃ) কে আদবের সাথে তাজেমী সিজদাহ্ আরজ করলেন।
এরপর বাবাজান আদেশ করলেন, যাও এই সকল সামগ্রী তোমাদের মা-জানকে বুঝিয়ে দাও। তোমাদের মা-জান সেই সকাল বেলা থেকে অস্থির হয়ে আছেন। তাই বলা বাহুল্য দুলহায়ে হয়রত (কঃ) এর কার্য্যকলাপের সীমানা কেউ সঠিকভাবে উপলব্ধি ও নির্ণয় করতে পারবে না। ক্ষনিক সময়ের ব্যবধানে তাঁর ঘরে সুস্বাদু রকমারি খাবারের বিপুল সমাহার হলো এবং মেহমানদারীর জন্য এসে গেলো। এটা কি তাঁর অলৌকিক শক্তির নিদর্শন নয়?
নুরুন আলা নুরী মওলা হয়রত আকদছ (কঃ) অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তির ভান্ডারে পরিপূর্ণ। যখন যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। অফুরন্ত তাঁর "রাহে ভান্ডার দরবার শরীফে" অসাধারণ বাতেনী রাজস্বী ক্ষমতা, হক দরবার, হক রাহে ভান্ডার দরবার শরীফ, হক গাউসুল আযম! আরজ জানাই যেন, তাঁর প্রেম-প্রীতি বাতেন ও মারফত এলমের সাগরে ডুব দিয়ে আশেক তার পিপাসিত আত্মাকে হয়রত আকদছ (কঃ) এর প্রেম রঙে রঞ্জিত করে দোজাহানের কামেয়াবী হাসিল করতে সক্ষম হন!
আমীন!