05/12/2025
শুক্রবার, কাহাফ পড়ছিলাম
আবারও একটা নতুন ইনসাইটস পেলাম
নতুন ইনসাইট নিয়েই আজকের লেখা
খুব সম্ভবত কাহাফ নিয়ে ৭ম লেখা।
শুরু করি, বিসমিল্লাহ:
প্রতিটা সূরারই একটা থিম থাকে
সেই থিমকে রিফ্লেক্ট করার জন্য আমরা এক বা একাধিক শব্দ বা ফ্রেইজ রিপিট হতে দেখি
এগুলোকে আমরা এঙ্কর বলি
যেমন সূরা মারিয়ামে এঙ্কর হিসেবে আছে "রহমান" শব্দটি কিংবা
সূরা রহমানে এঙ্কর হিসেবে আছে "ফাবি আইয়ে আলা ই রাব্বিকুমা তু কাজ্জিবান" ফ্রেইজটি
এই এঙ্কর গুলোই বলা যায় সুরা গুলোর মূল থিমকে ডিকটেট করে।
কাহাফে এমন এঙ্কর পেলাম দুটো
"টেস্ট" আর "ফলো"
কিভাবে? চলুন দেখা যাক!
সূরাটা শুরুই হয়েছে একটা চরম সত্য দিয়ে
"তিনি পৃথিবিটা এমন এট্রাকটিভ ওয়েতেই বানিয়েছেন যেন তিনি আমাদেরকে টেস্ট করতে পারেন" [কুরআন ১৮:০৫]
সেই টেস্ট গুলো কি ধরণের হবে
সেটা আবার ৪ টা ভিন্ন কেস স্টাডিতে ডিটেইলসে ডিসকাস করুন।
তবে আজকের ইনসাইট টেস্ট না, আজকের ইনসাইটস হচ্ছে "ফলো" নিয়ে
"ফলো" দিয়ে স্টার্ট করলাম দেখবেন "টেস্ট" অটোমেটিক ফলো করছে!
"ফলো" শব্দটির আরবি হলো "ইত্তেবাআ"
এসেছে মোট ৪ বার আর এসেছে রুট "তা বা য়া" থেকে যার মূল অর্থই হলো "ফলো করা"
আরবি লিট্রেচার ঘাঁটলে দেখা যায় এই "ইত্তেবাআ" নানা ভাবে ব্যবহার হয়, যেমন
মরুভূমিতে একজন ট্রেকার যখন বালুর ওপর কারো পায়ের চিহ্ন ধরে এগোতে থাকে সেটা "ইত্তেবাআ"
একটি শিশু যখন তার বাবা–মায়ের ছত্রছায়ায় বড় হতে থাকে সেটাও "ইত্তেবাআ"
আবার একজন ছাত্র যখন তার উস্তাদের চাল চলন অনুকরণ করে সেটাও কিন্তু "ইত্তেবাআ"
তাছাড়া একজন সৈনিক যখন নিষ্ঠার সাথে তার কমান্ড পালন করে সেটা যেমন "ইত্তেবাআ"
তেমনি একজন যাত্রী যখন তার পরিচিত রাস্তায় চলতে থাকে সেটাও হলো "ইত্তেবাআ"
অর্থাৎ "ইত্তেবাআ" হচ্ছে পুরো একটা স্পেকট্রাম!
এই "ইত্তেবাআ" খুব সূক্ষ্মভাবে পুরো সূরার সেন্ট্রাল স্কেলেটন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
আমাদেরকে সে একটি প্রশ্ন বারবার ছুঁড়ে দিচ্ছে
ফলো করছো তো কাকে করছো?
প্রথম গল্পে গুহাবাসীর কাছে আমরা শিখি
সোসাইটি যখন তোমাকে পুশ করবে তখন তুমি কাকে ফলো করবে?
গুহাবাসী কোনো সোসাইটি বা ট্রেন্ড ফলো করেনি
ফলো করেছিল স্রেফ এক ইলাহকে!
তবে এই ফলোশিপের গল্পেই আরেকটা ইম্পর্ট্যান্ট আছে যা আমরা প্রায়শই ইগনোর করি
আর তা হলো
যুবকরা যখন মারা গেলো তখন সেখানকার মানুষেরা তাদেরকে কি ভাবে সম্মান করলো
তারা তাদের কে অতি সম্মান দেখতে গিয়ে সেখানে একটা সেজদার জায়গা বানিয়ে ফেললো
যেই শিরক থেকে বাঁচার জন্য তাদের এত লড়াই
তাদেরকেই কিনা উল্টো শিরকের উসীলা বানিয়ে নিলো
তাদের উপর মসজিদ বানালো, সেটাকে ঘিরে নতুন নতুন মিনিংলেস রিচুয়ালস স্টার্ট করলো!
সো লেসনটা বেশ স্পষ্ট
আমরা কোনটা ফলো করবো?
মিনিংফুল ট্রুথ নাকি মিনিংলেস রিচুয়ালস!
সামারি: প্রথম গল্প হচ্ছে শিরক ভার্সেস ইমানকে ফলো করার টেস্ট।
এবার আসি দ্বিতীয় গল্পে, দুই বাগানীর গল্প
এবারের থিম নিজেকে নিয়ে!
তুমি কাকে ফলো করছো?
নিজের ইগোকে না সত্যকে?
নিজের অহংকারকে না বিনয়কে?
অহংকারী বন্ধু স্রষ্টাকে না ফলো করে তার ইগোকে ফলো করলো
তার ডাউনফলের কারণ ছিল তার অহংকার
সামারি: দ্বিতীয় গল্প হচ্ছে প্রাচুর্যের মাঝে বিনয়কে ফলো করার টেস্ট।
এবার আসি তৃতীয় গল্পে, মুসা আ ও খিজির আ এর গল্প
এখানেই প্রথম "ফলো" ডিরেক্ট অ্যাপিয়ার হয়
মুসা আ খিজির আ কে ডিরেক্ট প্রশ্ন করেন
"আমি কি আপনাকে ফলো করতে পারি?"
সাথে প্রমিজও করলেন যে তিনি ধৈর্যশীল হয়েই থাকবেন
মুসা আ এর আখলাক আমাদেরকে শিখায়
সত্যকে ফলো করতে হলে শুধু ইনটেনশন না
বিনয় থাকতে হবে আর বিনয়ের সাথে সবরও থাকতে হবে।
খেয়াল করুন, এই গল্পে মুসা আ ইনস্ট্রাকশন ফলো করতে স্ট্রাগল করেছিলেন
সেখান থেকে আমরা বুঝি যে
ফলো করতে হলে কন্ট্রোলকে গিভ আপ করতে হবে
ফলো করতে হলে ডিভাইন উইসডম কে ট্রাস্ট করতে হবে!
সামারি: তৃতীয় গল্প হচ্ছে টাফ টাইমে ডিভাইন উইসডমের উপর সবরকে ফলো করার টেস্ট।
এবার আসি চতুর্থ গল্পে, জুলকারনাইন আ ও তার অভিযানের গল্প
এই এক গল্পেই "ইত্তেবাআ" শব্দটি এসেছে পরপর তিনবার!
খেয়াল করে দেখুন
এই গল্পে তিনি জুলকারনাইন আ কে কেন মেনশন করেছেন?
তার মিলিটারি পাওয়ার, তার অর্থ, তার ব্রিলিয়ান্স এর জন্য?
তাকে মেনশন করেছেন তার প্রিন্সিপালের জন্য
জুলকারনাইন নিজের নিজের ইচ্ছায় জার্নি গুলো করেননি
করেছিলেন উপরের ইন্সট্রাকশনে
প্লাস তিনি যেখানেই গিয়েছেন সেখানে গিয়েও কিন্তু ইমোশন দেখাননি
দেখিয়েছেন জাস্টিস।
যারা গ্র্যাটফুল তাদেরকে পুরস্কৃত করার কথা বলেছেন
আর যারা দুর্বৃত্ত তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন
সাথে তিনি মজলুমদের রক্ষা করেছেন
এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দেয়াল দাঁড় করিয়েছেন
এমনকি সেটা দাঁড় করিয়ে অহংকার দেখাননি বরং রবের প্রতি বিনয় দেখিয়েছেন।
জুলকারনাইন আ দেখিয়েছেন যে
আসল পাওয়ার নাফ্সকে ফলো করে নয় বরং রাইট প্রিন্সিপালকে ফলো করে পাওয়া যায়।
সামারি: চতুর্থ গল্প হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়েও জাস্টিসকে ফলো করার টেস্ট।
ফাইনালি এই সূরাতেই আরেকটা গল্প আছে
আমরা যেটা বেমালুম ভুলে যাই
তা হলো সৃষ্টির আদি গল্প
এখানে ইবলিশের ইতিহাস তুলে ধরে অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন
এতো কিছু জানার পরেও
"আমাকে বাদ দিয়ে কি তোমরা ইবলিশ ও তার সন্তানদেরকেই ফলো করবে!" [কুরআন ১৮:৫০]!
সো বলা যায় কাহাফের প্রতিটা গল্পই হচ্ছে এক একটা ডিফারেন্ট কেস স্টাডি যে
আপনি কাকে ফলো করছেন?
সাইকোলোজিকালি, "আপনি কাকে ফলো করছেন?" এটা বের করার একটা সহজ আর সিম্পল টেকনিক আছে
টেকনিকটা হচ্ছে ব্রেইনকে অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করা!
ব্রেইনকে অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করলে সে অটো পাইলট মুড্ থেকে মেনুয়াল মুডে অ্যাক্টিভেট হয়
আর এই ম্যানুয়াল মুডে আমরা তখন কন্ট্রোল নিতে পারি!
ট্রাই করে দেখতে পারেন
প্রতিটা কাজের আগে কনসাসলি, পসিবলী লাউডলি, অ্যাক্টিভলি নিজেকে প্রশ্ন করুন
"এই মুহূর্তে আমি কাকে ফলো করছি?"
কোনো একটা খারাপ ভিডিও দেখার আরজ এসেছে?
অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করুন
এই একশনে করে আমি কাকে ফলো করছি?
নিজের নাফ্সকে নাকি নিজের দ্বীনকে?
সুন্দরী ললনাকে দেখে তাকাতে ইচ্ছে করছে?
অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করুন
এই একশনে করে আমি কাকে ফলো করছি?
নিজের নাফ্সকে নাকি নিজের দ্বীনকে?
দেখবেন উত্তর চোখের সামনে ভেসে উঠেছে!
কাহাফ আসলে একটা গাইডেন্স
"কি ফলো করবো" আর "কি ফলো না করবো"
"কিভাবে ফলো করবো" আর "কিভাবে ফলো না করবো" এর গাইডেন্স
এর প্রতিটা টেস্টই হচ্ছে ফলোশিপের টেস্ট।
তো প্রতি শুক্রবার কেন পড়তে হবে?
পড়তে হবে আমাদের ফলোশিপকে রিসেট করার জন্য
কারণ পুরো সপ্তাহ জুড়ে আমরা
আমাদের ডিজায়ার কে ফলো করছি
আমাদের স্ট্রেস কে ফলো করছি
আমাদের ভয় কে ফলো করছি
আমাদের ডিস্ট্রাকশনকে ফলো করছি
নানান ধরণের ট্রেন্ডকে ফলো করছি
কাহাফ হচ্ছে আমাদের সাপ্তাহিক কম্পাস
এই রিডিং এর মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে সপ্তাহে সপ্তাহে ফিসফিস করে মনে করিয়ে দেন
"তাদেরকে না, আমাকে ফলো করো"
ফলো করো সর্ব অবস্থায়
ফলো করো যখন তুমি যুবক
ফলো করো যখন তুমি ধনী
ফলো করো যখন তুমি কনফিউসড কিংবা
ফলো করো যখন তুমি পাওয়ারফুল!
©সামিউল হক
#কোরআন_শিক্ষা