Tarbiyyah

Tarbiyyah "Invite to the way of your Lord with wisdom and good instruction, and argue with them in a way that is best.

Indeed, your Lord is most knowing of who has strayed from His way, and He is most knowing of who is [rightly] guided" [sura:An nahl-125]

05/10/2024

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
একবার এক ইঁদুরের একটি উটকে দেখে ভালো লেগে যায়। ইঁদুর তখন তার প্রিয় উটটার রশি ধরে টেনে নিতে লাগলো, উটও রশির অনুসরণ করে হেঁটে চললো, অবশেষে ইঁদুর তার বন্ধু উটকে নিয়ে নিজের ঘরের দরজায় উপস্থিত হলো, অবস্থাদৃষ্টে উট থেমে গেল, যেন সে বলতে লাগলো: “হয় তুমি এমন ঘর বানাবে যা তোমার প্রিয় বন্ধুর উপযোগী হয় নতুবা তুমি এমন বন্ধু গ্রহণ করবে যা তোমার ঘরের উপযুক্ত হবে।”
ঠিক অনুরূপভাবেই, হয় আপনি এমন সালাত আদায় করবেন যা আপনার প্রিয় উপাস্যের উপযোগী, নতুবা আপনি এমন উপাস্য গ্রহণ করবেন যা আপনার সালাতের সাথে উপযোগী হবে।
- বাদায়েউল ফাওয়ায়িদ ৩/৭৫৪।

03/10/2024

فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُ

"পুণ্যবতী নারীগণ অনুগত এবং আল্লাহ যে সকল জিনিসকে রক্ষণীয় গণ্য করেছেন,সেগুলোকে স্বামীদের অনুপস্থিতিতেও সংরক্ষণ করে।”

তারা স্বামীর সত্তা ও সম্পদে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনা। এ হচ্ছে নারীর সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য।এ দ্বারাই দাম্পত্য জীবন স্থায়ী ও সুখময় হয়।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সর্বোত্তম স্ত্রী হচ্ছে সে, যার দিকে তাকালেই তুমি আনন্দবোধ করবে, যাকে কোনো আদেশ দিলে সে তোমার আনুগত্য করবে এবং যখন তুমি তার কাছ থেকে দূরে কোথাও যাবে, তখন সে তোমার সম্পদ ও নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করবে।"

আর স্ত্রীর এই বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণকে আল্লাহর পথে জিহাদ সমতুল্য গণ্য করা হয়েছে।

ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন: জনৈকা মহিলা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি মহিলাদের প্রতিনিধি হয়ে আপনার কাছে এসেছি। জিহাদ তো আল্লাহ পুরুষদের উপর ফরজ করেছেন। পুরুষরা জয়ী হলে পুরস্কৃত হয়। আর নিহত হলে শহীদ হয় এবং আল্লাহর নিকট থেকে জীবিকার সরবরাহ পেতে থাকে। আর আমরা মহিলারা তাদের সংসারের রক্ষণাবেক্ষণ করি। এই জিহাদ থেকে আমরা কী পাবো?রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমার সাথে যে সকল মহিলার দেখা হবে, তাদের সবাইকে জানিয়ে দাও। স্বামীর আনুগত্য ও তার অধিকার প্রদান করা জিহাদে অংশগ্রহণের সমান। তবে এসব অধিকার যথাযথভাবে প্রদানকারী নারীর সংখ্যা খুবই কম।"

এ অধিকার এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান যে, ইসলাম স্বামীর আনুগত্যকে দীনি কর্তব্য পালন ও আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নের পাশাপাশি উল্লেখ করেছে।

আবদুর রহমান বিন আওফ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নারী যখন তার পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে, এক মাসের রোযা রাখবে, নিজের সতিত্ব ও শ্লীলতা রক্ষা করবে এবং নিজের স্বামীর আদেশ-নিষেধ পালন করবে, তখন তাকে বলা হবে: তুমি যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা করো, জান্নাতে প্রবেশ করো।" -আহমদ, তাবরানি।

♦️♦️উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত,রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে স্ত্রী এরূপ অবস্থায় মারা যায় যে, তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" যে জিনিসটি সর্বাধিক মহিলাকে দোযখে নিয়ে যায়, তা হলো- স্বামীর অবাধ্যতা এবং স্বামীর সহৃদয়তা ও মহানুভবতাকে অস্বীকার করা।

♦️♦️ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি দোযখ পরিদর্শন করলাম। দেখলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসী নারী। কারণ তারা তাদের উপকারকারীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ। তাদের কেউ কেউ এতই অকৃতজ্ঞ যে, যুগ যুগ কাল ধরেও তুমি যদি তার উপকার কর, তবে তোমার কাছ থেকে একটুখানি অপ্রীতিকর আচরণ পেলেই বলবে, তোমার কাছ থেকে ভালো কিছু কখনোই পাইনি।"-বুখারি।

আর আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "স্বামী যখন তার স্ত্রীকে তার বিছানার দিকে আহ্বান জানায় এবং স্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে, তারপর স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটিয়ে দেয়, তখন ফেরেশতারা সেই মহিলাকে সকাল পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকে।" -আহমদ, বুখারি, মুসলিম।

♦️♦️তবে এই আনুগত্য ন্যায়সঙ্গত হওয়া শর্ত। কেননা স্রষ্টার নাফরমানি হয় এমন কোনো কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা জায়েয নেই। কাজেই স্বামী তাকে কোনো অন্যায় কাজের আদেশ দিলে তার বিরোধিতা করা তার জন্য বাধ্যতামূলক।

স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নফল রোযা না রাখাও স্বামীর আনুগত্যের অংশ।অনুরূপ স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নফল হজ্জ না করা এবং স্বামীর বাড়ির বাইরে না যাওয়াও স্বামীর আনুগত্যের অংশ।আবু দাউদ তায়ালিসি আবদুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : স্ত্রীর নিকট স্বামীর অধিকার রয়েছে যে, স্বামী উটের পিঠের সংকীর্ণ আসনেও যদি তার সাথে সহবাস করতে চায়, তথাপি তাকে বাধা দেবেনা।ফরয রোযা ব্যতীত একদিনও স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে রোযা রাখবেনা। যদি তা করে, তবে তার গুনাহ হবে এবং তা (ইবাদত হিসেবে) কবুল হবেনা। আর তার অনুমতি ব্যতিরেকে তার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু দান করবেনা। যদি দান করে, তবে স্বামী তার জন্য সওয়াব পাবে, কিন্তু স্ত্রীর গুনাহ হবে। ....আর তার অনুমতি ব্যতিরেকে তার বাড়ি থেকে বের হবেনা। যদি বের হয়, তবে আল্লাহ ও গযবের ফেরেশতারা তার ওপর অভিশাপ দেবে, যতক্ষণ সে তওবা না করে অথবা ফিরে না আসে, এমনকি স্বামী যদি অত্যাচারী হয় তবুও।"

উৎস ফিকহুস সুন্নাহ -২য় খন্ড

17/09/2024

নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ফিকহী মাসআলা। ভিন্নমত অবশ্যই স্বাগতম। তবে আমার দৃষ্টিতে যা প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত তা তুলে ধরলাম।
একজন নারী হায়েয থেকে পবিত্রা হওয়ার পরে কোন সালাত কীভাবে পড়বে?
১- সুবহে সাদিকের পরে সূর্যোদয়ের পূর্বে পবিত্রা হলে কেবল ফজরের সালাত পড়বে। (সুন্নাত ও ফরয)
২- সূর্যোদয়ের পরে পবিত্রা হলে তখন জোহরের আগে আর কোনো ফরয সালাত তাকে পড়তে হবে না।
৩- সূর্যাস্তের পূর্বে পবিত্রা হলে তাকে সে দিনের যোহর ও আসর দুটিই পড়তে হবে।
৪- সূর্যাস্তের পরে পবিত্রা হলে তাকে মাগরিবের সালাত সময়মত পড়তে হবে (ফরয+সুন্নাত)। ইশার সালাত ইশার সময় মোতাবেক পড়তে হবে (ফরয+ সুন্নাত +বিতির)।
৫- ইশার সময়ের পরে পবিত্রা হলে তাকে মাগরিব ও ইশার সালাত উভয়টিই পড়তে হবে। (মাগরিবের শুধু ফরয কিন্তু ইশার ফরয +সুন্নাত +বিতির সালাত)।
৬- সুবহে সাদিকের আগে পবিত্রা হলে তাকে মাগরিবের ফরয আর ইশার ফরয + সুন্নাত + বিতির পড়তে হবে।

- মূল, ইবন বায, ফাতওয়া ২৯/৫২৫। ঈষৎ ব্যখ্যাকৃত।

17/09/2024

সলেহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন আমার বাবা পানির কুয়া থেকে বালতি ভর্তি পানি বের করতেন তখন তিনি 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেন। তখন আমি আমার পিতাকে বলতাম, হে আমার পিতা! আলহামদুলিল্লাহ কেন বলছেন? তা বলাতে কী উপকার বা ফায়দা রয়েছে? তখন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বললেন, হে আমার সন্তান! তুমি কী জান না? যে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَصۡبَحَ مَآؤُکُمۡ غَوۡرًا فَمَنۡ یَّاۡتِیۡکُمۡ بِمَآءٍ مَّعِیۡنٍ ﴿۳۰﴾
বলুন, তোমরা আমাকে জানাও, যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্ৰবাহমান পানি? (সূরা মুলক-৬৭:৩০)
-ইবনুল জাওযী, মানাকিবুল ইমাম আহমাদ (১৬৪-২৪১হি.)
অনুবাদ
ড. যায়নুল আবেদীন বিন নুমান
হাদীস ডিপার্টমেন্ট মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি আরব।

15/09/2024

প্রশ্ন : কাউকে উৎসাহ দিতে হাততালি দেয়া যাবে কি?

উত্তর : তালি বাজানো মুশরিকদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর কা‘বা গৃহের নিকট শুধু শিস ও করতালি দেয়াই ছিল তাদের ছালাত। সুতরাং অবিশ্বাসের কারণে তোমরা শাস্তি ভোগ কর’ (সূরা আল-আনফাল : ৩৫)। শায়খ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন উৎসব, অনুষ্ঠান বা উৎযাপনকে কেন্দ্র করে তালি বাজানো জাহেলী প্রথা। অনেকেই একে মাকরূহ বলে থাকলেও আসলে দলীলের আলোকে হারাম। কেননা এতে কাফিরদের সাদৃশ্য আছে, আর মুসলিমদেরকে কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে। মুমিনদের জন্য সুন্নাত হল- যখন তাঁরা ভাল কিছু দেখবে বা শুনবে, তখন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, যা একাধিক হাদীছ থেকে প্রমাণিত’ (শায়খ ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৫১)। শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কাউকে উৎসাহ দেয়ার জন্য তালি বাজানো সালাফে ছালেহীনের আদর্শ নয়। কোন বিষয়ে মুগ্ধ হলে তাঁরা ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন, তাও আবার নিম্নস্বরে একা একা, ঐক্যবদ্ধভাবে চিৎকার করে বলতেন না’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, সিডি নং-১০)। উল্লেখ্য, ছালাতে কোন ভুল হলে মহিলাদেরকে কেবল হাতে তালি বাজানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৪; ছহীহ মুসলিম, হাা/৪২১)।

মাসিক আল ইখলাস

14/05/2024

গত সপ্তাহে এক আপু বাসায় আসলেন।সম্পূর্ণ দ্বীনি প্রয়োজনে।নতুন করে এই পথে পা বাড়িয়েছে মাত্র।

শেখার আগ্রহ ছিল বেশ।তবে দ্বীনি জ্ঞানের জন্য সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন সেটা হল লেগে থাকা।একবার ছেড়ে দিলেন তো ব্যাস নিশ্চিত থাকুন আর হওয়ার সম্ভাবনা মাইনাস ১০%।আমার ঘরেরই একজন একমাস ধরে আজ কাল পরসু করব করব করে ভাল একটা এমাউন্ট পে করেও ক্লাস করতে পারেন নি কোন এক কুরআনের কোর্সের।,এসব একবার ছেড়ে দিলে আর হয়না।আমার নিজের কথায় বলি,করোনায় ২০২০ লন্ডন থেকে হওয়া একটা কোর্সের ক্লাস করার জন্য আমি অনেকগুলো রাত ছাদে ক্লাস করতাম প্রায় ৮-১০টা।মশা তো ছিলই।তবুও ছাড়িনি।কিন্তু ২০২১ এর শেষের দিকে আমার এম.বি.এ প্রথম সেমিস্টার দিতে গিয়ে যে আমি এই কোর্স ছাড়লাম আর সেটা শেষ করতে পারিনি।

শয়তান আপনাকে আপনার চেয়েও বেশি ভাল করে চেনে।যাই হোক বিচ্ছিন্ন আলাপ চলে আসছে।

আমি আপুর সমস্যাগুলো শুনছিলাম।আমি নিজেও ভাল করে জানি মডারেট সো কল্ড মুসলিম ফ্যামিলির দ্বীনের অবস্থা।

প্রথমে জানতে চেয়েছি উনি কাদের লেকচার শুনেন।নামগুলো শুনে বেশ খারাপ লেগেছে।ড: খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যারের কথা মনে পড়ছিল।স্যার বলতেন অনেকটা এমন করে"বাংলাদেশের মানুষের কাছে- জান্নাতের চাইতে আলু-পটলের দাম বেশি।কারণ মানুষ বাজার থেকে আলু-পটল কেনার সময়, বেছে বেছে যাচাই করে কিনে, কিন্তু জান্নাতের জন্য আমল করার সময় কোনো যাচাই-বাছাই করে না"

অনেকটা এমন করে বলতেন প্রিয় উস্তাদ ড: মানজুর ই ইলাহি।"মানুষ কোন ডাক্তার ভাল হবে সেটা ঠিকই বের করতে পারে,কিন্তু কোন আলেম সঠিক সেটা বের করতে পারে না"

তবে আপু সচেতন।বললাম,বাংলাদেশে তাহেরীও আলেম আবার স্পোকেন ইংলিশ এর কোর্স করানো ছেলেটাও নাকি......

বললাম আপতত শুনিও না উনাদের লেকচার যাদের নাম তুমি বলেছ।কিছু জ্ঞান অর্জন কর,বেসিক কিছু কোর্স কর তখন তুমিই বুঝতে পারবে আমি কেন এমন বলছি।এখন যদি শুনতে থাক তবে ফিতনায় পড়বে আর সব এলোমেলো হয়ে যাবে।

কাদের লেকচার শুনে সে প্রশ্ন আমি সবসময় সবার আগে করি।এতে করে একটা বইয়ের ৯০% কাভার করা যায়।

এরপর ফর‍য গোসল একটু বুঝিয়ে দেই।

তারপর ওযু।এই জায়গায় কত জন যে বিপত্তি ঘটিয়েছে!!
ভুলগুলো এখানেই হয়,
১.হাত ধোঁয়ার সময় কুনই থেকে অনলি কব্জি পর্যন্ত ধোঁয়া যেটা ছিল কুনই থেকে আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত
২.মাথা মাসেহ করার সময় চুলের অগ্রভাগ থেকে পেছনে আংগুল নিয়ে ছেড়ে দেওয়া,যদিও নিয়ম হল চুলের অগ্রভাগ থেকে পেছনে চুলের শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাবে আবার উল্টে সামলে আনবে যেখান থেকে শুরু করেছিল।এটা ছেলেরা করলেও মেয়েরা করেন না অনেকেই।যদিও ছেলে এবং মেয়ের কোন ভিন্নতা নেই।

আল্লাহ উনার প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।সাওম রেখে কষ্ট করে তিনি এসেছিলেন।একটু করে একটা হাদিসের সামারি শোনালাম,

কাসির ইবনু রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত:
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাদীনা হতে দামিশকে (অবস্থানরত) আবু দারদা (রাঃ)-এর নিকট এলো। তিনি প্রশ্ন করলেন, ভাই! তুমি কি প্রয়োজনে এসেছো? সে বলল, একটি হাদীসের জন্য এসেছি। আমি জানতে পারলাম যে, আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে সেই হাদীস বর্ণনা করছেন। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন, তুমি অন্য কোন প্রয়োজনে আসনি? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কোন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসনি? সে বলল, না; সে আরো বলল, আমি শুধুমাত্র সেই হাদীসটির খোঁজেই এসেছি। এবার তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ ‘ইল্‌ম লাভের উদ্দেশ্যে যে লোক পথ চলে আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাকে জান্নাতের পথে পৌঁছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইল্‌ম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর আসমান-যমীনের সকল প্রাণী (আল্লাহ তা‘আলার নিকট) আলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির জগতের মাছসমূহও।

আর এভাবেই মর্যাদা উন্নীত হয়।

06/05/2024

বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো সুন্নাহ।যদিও বিলুপ্ত প্রায়।সম্ভব হলে কাপড় গুটিয়ে/আলগা করে।

আল্লহুম্মা ছয়্যিবান নাফি'আন।

17/04/2024

এবার রমাদানে আমার এক কাজিনের কাজিনের মেয়ে হল।আপু মেয়ের নাম ঠিক করে পাঠিয়েছিলেন,ঠিক আছে কিনা জানানোর জন্য।আরবি তেমন না জানা আমি আবার এসবে চরম অনভিজ্ঞ।নামের অর্থতেই সমস্যাটা হল।যাই হোক নাম দিতে বললেন।সময় ছিল কম অন্যদিকে রমাদানসহ নিজের ব্যক্তিগত কাজ।নাম লিখে রাখি আমার আরবি বইগুলোর পেছনে।প্রায় ডজেনখানেকের ও বেশি বই ছিল অন্যের বাসায়।নিজের কাছে যা ছিল সবগুলোর শেষ পৃষ্ঠা উলটিয়ে উনাকে নাম পাঠানোর মত ফুরসত সে সময় আমার ছিল না।কিছু বিছিন্ন চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

সন্তানের জন্য সঠিক নাম সিলেকশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।মনে রাখা দরকার মা বাবার উপর সন্তানের যত গুলো হক আছে তার একটা এটা।

এখনকার ফ্যাশন হল যত কঠিন আর দুর্বোধ্য নাম রাখা যায় ততই যেন এলিট এলিট ভাব।যত পারা যায় ভিন্ন আর ইউনিক হতেই হবে।

নামের অর্থ বাতাস,আকাশ হলে তো হবে না।ধরুন কারো নামের অর্থ বাতাস, আমি বলছি না শরীয়াহ অনুযায়ী এটা নাম হতে পারবে না।হতে অবশ্যই পারবে।কিন্তু জায়েজ হওয়া আর উত্তম হওয়া তো এক না।ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তি আর ডিভোর্স জায়েজ কিন্তু তাই বলে তা তো উত্তম বলা হয় নি কোথাও।

সবচেয়ে জঘন্য ট্রেন্ড হল কুরআন থেকে গড়পড়তা নাম দিয়ে দেওয়া।কী এক করুন অবস্থা।কিছু বললেই বলে এটা তো কুরআনে আছে।আরে,কুরআনে তো অনেক কিছুই আছে।তাই বলে কী সব কিছু নাম হবে নাকি!
কুরআনে জাহান্নামের স্পেসিফিক নামের উল্লেখ আছে অথবা কারুন এর নাম।এখন ধুম করে কুরআনে আছে বলে এসব তো রেখে দেওয়া যাবে না।

বুঝতে হবে কুরআন আল্লাহর কালাম।এটা কিতাব।একটা কিতাবে অনেক কিছুই থাকবে।সেখানে নাম যেমন আসবে ঠিক তেমনি অন্য পার্টস অফ স্পিচ গুলোও আসবে।এখন আপনি কুরআনে আছে বলেই ধারাম করে একটা parts of speech কে তো নাম হিসেবে রেখে দিলে চলবে না।আপনার সব বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরী না।কিন্তু যে বিষয়ে জ্ঞান নাই সেই বিষয়টা তার দিকে নিবদ্ধ করতে হবে যার তা আছে।

আমার এক চাচার তিন মেয়ে।মেজ মেয়ের নাম জুওয়াইরিয়া...ইকরা।উনার যখন ছোট মেয়ে হয় আমাদেরই একজন সদস্য নাম রাখল "বিসমি"।বিসমি উনি কুরআন থেকেই নিয়েছিল।"ইক্বরা বিসমি রব্বি কাল্লাযী খলাক্ব" এই আয়াত থেকে।ওর ভাই হলে রব্বি রাখত কি না কে জানে!যদিও এই নাম রাখা যাবে কিনা সেটার আলাপ এখানে হচ্ছে না।যাই হোক,বিসমি নামটা রীতিমতো আমরা প্রায় বছর খানেক ডেকেছি।পরে কেমন করে যেন কার মাথায় আসল সে যখন বড় হবে কেউ যদি "বিসমি" কে টিজ করে ".....মি" টাইপ কিছু বলে তাহলে ব্যাপারটা সুন্দর হবে না।পরে ওর নাম চেইঞ্জ করা হল।

এখন আসি মোদ্দাকথায়।যিনি "বিসমি" নাম দিয়েছিলেন তিনি মূলত দুই বোনের নাম একই আয়াত থেকে রেখেছেন মিলিয়ে।তার উপর আবার কুরআনে আছে।ব্যাপারখানি যেন সোনায় সোহাগা।কিন্তু নূন্যতম আরবি জানলে এই ভুল আমাদের পরিবারের দ্বারা হত না। আরবি ব্যাকরণের একটা অংশ,মূলটা ছিল বা।মূলত এটা একটা parts of speech হিসেবেই আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে.আর আরবি তে "ইসম" মানে হল "নাম"।বা+ইসম মিলালে যদি বিসমি হয় তাহলে বিসমি এর বাংলা করলে অর্থ কী দাঁড়ায় ভাবুন।

অবশ্যই নামের প্রভাব সন্তানের উপর কম বেশি পড়ে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা দেখা যায়।আমার এক কাজিন আছে সে ছোট থেকে খুব ধার্মিক প্রকৃতির।একদম আরবির অর্থ না জানা আমি এখন যখন টুকটাক আরবি একটু বুজতে পারি এখন যখনই ওর কথা আসে তখনই বুঝি ওর "আবিদ" নামটার প্রভাব ওর জীবনে কতটা।

যাই হোক দুটো কথা নামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ
১.এটা আপনার উপর সন্তানের অনেকগুলো হকের একটি।
২.নামের প্রভাব মানুষের উপর পড়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।

16/04/2024

‎পছন্দের হাদিস:

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে কতিপয় লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করে বলল, হে আল্লাহর রসূল! কিয়ামাত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবো? রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ! তিনি আরো বললেনঃ দুপুরে মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? চন্দ্রের চৌদ্দ তারিখে মেঘমুক্ত অবস্থায় চন্দ্র দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? সকলে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তা হয় না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ঠিক তদ্রূপ কিয়ামাত দিবসে তোমাদের বারাকাতময় মহামহিম প্রতিপালককে দেখতে কোনই কষ্ট অনুভব হবে না যেমন চন্দ্র ও সূর্য দেখতে কষ্ট অনুভব কর না। সে দিন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে, ‘যে যার উপাসনা করতো সে আজ তার অনুসরণ করুক।’ তখন আল্লাহ ব্যতীত তারা অন্য দেব-দেবী ও মূর্তিপূজার বেদীর উপাসনা করত তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না; সকলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সৎ হোক বা অসৎ যারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করত তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে এবং কিতাবীদের (যারা দেব-দেবী ও বেদীর উপাসক ছিল না তারাও বাকী থাকবে)। এরপর ইয়াহূদীদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কার ‘ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র ‘উযায়র-এর। তাদেরকে বলা হবে মিথ্যা বলছো। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে আল্লাহ! আমাদের খুবই পিপাসা পেয়েছে। আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। প্রার্থনা শুনে তাদেরকে ইঙ্গিত করে মরীচিকাময় জাহান্নামের দিকে জমায়েত করা হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ আরেক অংশকে গ্রাস করতে থাকবে। তারা এতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এরপর খৃস্টানদেরকে ডাকা হবে, বলা হবে, তোমরা কার ‘ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র মাসীহ-এর (‘ঈসার) উপাসনা করতাম। বলা হবে, মিথ্যা বলছ। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। জিজ্ঞেস করা হবে, এখন কি চাও? তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের দারুণ পিপাসা পেয়েছে, আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। তখন তাদেরকেও পানির ঘাটে যাবার ইঙ্গিত করে জাহান্নামের দিকে হাকিয়ে নিয়ে জমায়েত করা হবে। এটিকে মরীচিকার ন্যায় মনে হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ অপর অংশকে গ্রাস করে নিবে। তারা তখন জাহান্নামে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকবে। শেষে সৎ হোক বা অসৎ এক আল্লাহর উপাসক ব্যতীত আর কেউ (ময়দানে) অবশিষ্ট থাকবে না। তখন আল্লাহ তা’আলা পরিচিত আকৃতিতে তাদের নিকট আসবেন। বলবেন, সবাই তাদের স্ব স্ব উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে, আর তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! যেখানে আমরা বেশী মুখাপেক্ষী ছিলাম সে দুনিয়াতেই আমরা অপরাপর মানুষ থেকে পৃথক থেকেছি এবং তাদের সঙ্গী হইনি। তখন আল্লাহ বলবেন, আমিই তো তোমাদের প্রভু। মু’মিনরা বলবে, “আমরা তোমার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি” আল্লাহর সঙ্গে আমরা কিছুই শারীক করি না। এ কথা তারা দুই বা তিনবার বলবে। এমন কি কেউ কেউ অবাধ্যতা প্রদর্শনেও অবতীর্ণ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, আচ্ছা, তোমাদের নিকট এমন কোন নিদর্শন আছে যদ্বারা তাঁকে তোমরা চিনতে পার? তারা বলবে অবশ্যই আছে। এরপর পায়ের ‘সাক’ (গোছা) উন্মোচিত হবে। তখন পৃথিবীতে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদাহ্‌ করত, সে মূহুর্তে তাদেরকে আল্লাহ সাজদাহ্‌ করার অনুমতি দিবেন এবং তারা সবাই সাজদাহ্‌বনত হয়ে পড়বে। আর যে কারো ভয়-ভীতি কিংবা লোক দেখানোর জন্য সাজদাহ্‌ করতো তার মেরুদণ্ড শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়া হবে। যখনই তারা সাজদাহ্‌ করতে ইচ্ছা করবে তখনই তারা চিত হয়ে পড়ে যাবে। অতঃপর তারা তাদের মাথা উঠাবে এবং তিনি তাঁর আসলরূপে আবির্ভূত হবেন। অতঃপর বলবেন, আমি তোমাদের রব, তারা বলবে, হ্যাঁ! আপনি আমাদের রব। তারপর জাহান্নামের উপর “জাস্‌র” (পুল) স্থাপন করা হবে। শাফা’আতেরও অনুমতি দেয়া হবে। মানুষ বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! “জাস্‌র” কী? রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটি এমন স্থান যেখানে পা পিছলে যায়। সেখানে আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাঁটা, দেখতে নাজ্‌দের সা’দান বৃক্ষের কাঁটার ন্যায়। মু’মিনগণের কেউ তো এ পথ চোখের পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বায়ুর গতিতে, কেউ উত্তম অশ্ব গতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ তো অক্ষত অবস্থায় নাযাত পাবে, আর কেউ তো হবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাযাতপ্রাপ্ত। আর কতককে কাঁটাবিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মু’মিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সে সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মু’মিনগণ তাদের ঐ সব ভাইদের স্বার্থে আল্লাহর সাথে এত অধিক বিতর্কে লিপ্ত হবে যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে যে, তোমাদের পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না। তারা বলবে, হে রব! এরা তো আমাদের সাথেই সিয়াম, সলাত আদায় করত, হাজ্জ করত। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আন। উল্লেখ্য এরা জাহান্নামে পতিত হলেও মুখমণ্ডল ‘আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। (তাই তাদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা হবে না।) মু’মিনগণ জাহান্নাম হতে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারোর তো পায়ের নলা পর্যন্ত, আবার কারো হাঁটু পর্যন্ত দেহ আগুন ছাই করে দিবে। উদ্ধার শেষ করে মু’মিনগণ বলবে, হে রব! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরো একদলকে উদ্ধার করে এনে বলবে, হে রব! অনুমতিপ্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসিনি। আল্লাহ বলবেন : আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন তাদের কাউকে ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ বলবেন : আবার যাও, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের কথা বলেছিলেন তাদের কাউকেও রেখে আসিনি।
সহাবা আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, তোমরা যদি এ হাদীসের ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে না কর তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটি যদি চাও তবে তিলাওয়াত করতে পার : “আল্লাহ অণু পরিমাণও যুল্‌ম করেন না এবং অণু পরিমাণ নেক কাজ হলেও আল্লাহ তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর নিকট হতে মহাপুরস্কার প্রদান করেন”— (সূরাহ আন্‌ নিসা ৪ : ৪০)। এরপর আল্লাহ তা’আলা বলবেন : ফেরেশতারা সুপারিশ করলেন, নাবীগণও সুপারিশ করলেন এবং মু’মিনরাও সুপারিশ করেছে, কেবলমাত্র আরহামুর রাহিমীন-পরম দয়াময়ই রয়ে গেছেন। এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে যারা কখনো কোন সৎকর্ম করেনি এবং আগুনে জ্বলে লাল হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতের প্রবেশ মুখের ‘নাহরুল হায়াতে’ ফেলে দেয়া হবে। তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পানি ভেজা উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। (রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ) তোমরা কি কোন বৃক্ষ কিংবা পাথরের আড়াল কোন শস্যদানা অঙ্কুরিত হতে দেখনি? যেগুলো সূর্য কিরণের মাঝে থাকে সেগুলো হলদে ও সবুজ রূপ ধারণ করে আর যেগুলো ছায়াযুক্ত স্থানে থাকে সেগুলো সাদা হয়ে যায়। সহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! মনে হয় আপনি যেন গ্রামাঞ্চলে পশু চরিয়েছেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এরপর তারা নহর থেকে মুক্তার ন্যায় ঝকঝকে অবস্থায় উঠে আসবে এবং তাদের গ্রীবাদেশে মোহরাঙ্কিত থাকবে যা দেখে জান্নাতীগণ তাদের চিনতে পারবেন। এরা হর ‘উতাকাউল্লাহ’-আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা’আলা সৎ ‘আমাল ব্যতীতই তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন। এরপর আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন : যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। আর যা কিছু দেখছ সব কিছু তোমাদেরই। তারা বলবে, হে রব! আপনি আমাদেরকে এত দিয়েছেন যা সৃষ্টজগতের কাউকে দেননি। আল্লাহ বলবেন : তোমাদের জন্য আমার নিকট এর চেয়েও উত্তম বস্তু আছে। তারা বলবে, কী সে উত্তম বস্তু? আল্লাহ বলবেন : সে হলো আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না।
ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেনঃ শাফা’আত সম্পর্কীয় এ হাদীসটি আমি ‘ঈসা ইবনু হাম্মাদ যুগবাতুর মিসরী-এর নিকট পাঠ করতে বললাম, আপনি লায়স ইবনু সা’দ থেকে নিজে এ হাদীসটি শুনেছেন? আমি কি আপনার পক্ষ থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করতে পারি? তিনি উত্তর করলেন, হ্যাঁ! এরপর আমি ‘ঈসা ইবনু হাম্মাদকে হাদীসটি এ সূত্রে শুনিয়েছি যে, ‘ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আমাদের প্রভুকে দেখতে পাবো? রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর করলেন : মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে ভীড়ের কারণে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? আমরা বললাম, না .....। এভাবে হাদীসটির শেষ পর্যন্ত তুলে ধরলাম। এ হাদীসটি হাফিয ইবনু মাইসারাহ্‌ বর্ণিত হাদিসেরই অনুরূপ। তিনি (আরবী) এ অংশটুকুর পর (আরবী) অর্থাৎ তাদের বলা হবে : তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা দেখছ।
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, আমার কাছে রিওয়ায়াতে পৌঁছেছে যে, ‘জাস্‌র’ (পুল) চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম ও তরবারি অপেক্ষা অধিক তীক্ষ্ণ।
তাছাড়া লায়সের হাদীসে (আরবী) বাক্যটির পরবর্তী অংশগুলো উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ৩৫১; ই.সে. ৩৬২)

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং:৩৪৩

যাই হোক যাদের আকীদাগত বিভ্রান্তি চরম তাদের জন্য এই হাদিস গলার কাটার মতো।যেহেতু এখানে আল্লাহর বেশ কিছু গুণের কথা এসেছে।
আমার আকিদা সহীহ সেসব বলে নিজেকে আমি ডিফেন্ড করছি না।

14/04/2024

"যদি পারো, তাহলে বিখ্যাত না হয়ে অখ্যাতই থাকো। তুমি অপরিচিতি থাকলে দিনশেষে কিছু যায় আসে না, তোমার প্রশংসা কেউ না করলেও কিছু যায় আসে না। লোকেরা যদি তোমাকে খারাপ জানে, কিন্তু রব্বুল ইজ্জত যদি তোমাকে ভালো জানে, তাহলে কারও পরোয়া করার দরকার নেই।"
— ফুদাইল ইবনু আইয়াদ (রহ.)
[আয-যুহদুল কাবির, ইমাম বাইহাকী, পৃঃ ১০০]
সংগৃহীত

19/03/2024

রবিবার সকাল ৭.০০ টার ট্রেন ছিল।ফিরছিলাম ঢাকা থেকে।পারতপক্ষে আমার প্রয়োজনে অন্য কারো সাহায্য নিয়ে তাকে কষ্ট দেওয়া আমার অপছন্দ। সে যেই হোক।মাহরাম ইস্যু না থাকলে হয়ত ভাইকে নিতাম না।

আমার ২ সিট অপজিটে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে এক পুরুষ বসেছিলেন।আমি উনার স্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছিল না।তবে পাশের মহিলা যে উনার স্ত্রী সেটা নিশ্চিত ছিলাম।লোকটার কোলে ৪/৫ বছরের একটা মেয়ে ছিল।শুরু থেকেই বাচ্চাটা উনার কোলে।গাড়িতে ঘুমানোর অভ্যেস কখনোই ছিল না আমার ।যতবারই চোখ পড়ল অবছা বুজতে পারছিলাম বাচ্চাটা উনার কোলেই।ভাবছি মহিলাটা কেন একটুও নিল না।লোকটার তো কষ্ট হচ্ছে।

অনেক সময় পর দেখলাম ২/১ বছরের আরও একটা বাচ্চা।তার মানে এতক্ষণ উনার স্ত্রীর কোলেই এই বাচ্চা ছিল।
আবারও মনে পড়ল কেন কুরআনে কারো ব্যাপারে অনুমান করতে নিষেধ করা হয়েছে।

পুরো ৫.৩০ ঘন্টার জার্নিতে পুরুষটার কোল একবারও খালি ছিল না।যদিও মহিলাটা ছেলেকে বাবার কাছে দিয়ে মেয়েকে সিটে বসিয়ে বেশ কিছু সময় রিলাক্স ছিলেন।

হাসান বসরিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মা বাবার সাথে ঝগড়া করা যাবে?বুঝতে পেরেছি কেন উত্তরে তিনি বলেছিলেন,তাদের জুতার সাথেও ঝগড়া করা যাবে না।কেন তাদের হক ও সন্তুষ্টির উপর এতো গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

মেয়ে বাচ্চাটার বুকে ন্যাপকিন ছিল।মেয়েটা কাঁদছিল।কিন্তু কান্নাটা খুব বেশি উচ্চ আওয়াজের ছিল না।আমার মুখোমুখি বাম সিটে বসা আরো একটা পিচ্চি ছিল তার মায়ের কোলে।বয়স তাও ৫/৬।পুরো ট্রেনের আমি আর এই দুই মেয়ে ছাড়া কম বেশি সবাই ঘুম।শুরু থেকেই এই মেয়ে দুষ্টুমি করে যাচ্ছে।এবার চকোলেট নিয়ে রীতিমতো চিল্লাফাল্লা করে কান্না।আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েছি।দীর্ঘ সময় এমন ভাল লাগার কথা না।

প্রাও সাড়ে চার ঘন্টা পর ভাইকে বলেছি দেখ বাবার কোলে যেই মেয়েটা আছে সে কিন্তু খুব একটা আওয়াজ করে কাঁদছে না।সে আমাকে কিছু সময় পর এইটুক বলল,আপু মেয়েটা মনে হয় কথা বলতে পারে না। এই ৪.৩০ ঘন্টায় এই মেয়ের দিকে কম করে হলেও ৩০ বার তাকিয়েছি আমি।পুরো ট্রেনে সে আর আমিই সজাগ ছিলাম।তাও আমি বুঝি নি।ভাই বলার পর তার আচরণ আরও ভালোভাবে নোটিশ করার চেষ্টা করেছি এবং ন্যাপকিন বুকে দেওয়ার অর্থ ও তখন বুঝেছি।

আমি তার মাকে একবার দেখতে পেয়েছি শেষে। বাবাটার কষ্ট অনুমান করার চেষ্টা করেছি।মেয়েটার জন্য দুয়া আসছিল খুব।দুয়াগুলো আমি মেয়েটার জন্য না হয়ত তার বাবার জন্যই করেছিলাম।

আবারও বুঝলাম কেন আল্লাহর সন্তুষ্টি এই বাবার সাথেই।

Address

2 No Gate
Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tarbiyyah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Tarbiyyah:

Share