18/02/2026
রোজার প্রথম দিন অনেকেই হয়তো সূরা বাকারা পড়বেন। আসুন উস্তাদ নোমান আলী খানের কাছ থেকে সংক্ষেপে এই সূরার বিষয়বস্তু জেনে নিই।
আমি সংক্ষেপে সূরা বাকারার কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই, ইনশাআল্লাহ্। এটি কুরআনের সর্ববৃহৎ সূরা। এই সূরার বিষয়বস্তুকে খুব সহজেই নয় ভাগে ভাগ করা যায়। এটি একটি দীর্ঘ সূরা, আয়াত সংখ্যা ২৮৬। এর রয়েছে পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত ৯টি অংশ। আমি আপনাদের নিকট এই নয়টি অংশের পরিচয় তুলে ধরব এবং কীভাবে সবগুলো অংশ একটি আরেকটির সাথে সম্পর্কযুক্ত তাও উপস্থাপন করবো।
প্রথম অংশে আল্লাহ্ কুরআনের শ্রোতামণ্ডলীকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যারা কুরআনের দাওয়াতের সম্মুখীন হয়েছে। এক, যারা কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে। দুই, যারা কুরআনকে একেবারেই অস্বীকার করেছে, এর সাথে যাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিন, যারা ঈমানের দাবি করে কিন্তু আসলে তাদের ঈমান নেই, মুনাফিকেরা। তাহলে তিন গ্রুপ হলো, বিশ্বাসীরা, অবিশ্বাসীরা এবং মুনাফিকেরা। সূরাতুল বাকারার এটা হলো প্রথম অনুচ্ছেদ। আপনারা একে বলতে পারেন, প্রথম অংশ।
আর দ্বিতীয় অংশে আল্লাহ্ বলেন...এই ধারণা যারা প্রকাশ্যে স্বীকার করে, যারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করে, যারা মুনাফেকি করে -- এই তিন প্রকার মানুষ সবসময় ছিল। বস্তুত, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকের এই ধারণাগুলো শুরু হয় আদম (আ) এর ঘটনা থেকেই। তাই, এর পরেই এসেছে আদম (আ) এর কথা এবং কীভাবে তিনি পৃথিবীতে প্রেরিত হোন। এটা হলো দ্বিতীয় অংশ।
দ্বিতীয় অংশ শেষ হওয়ার পর আমরা আরও এগিয়ে যাই। আর আল্লাহ্ বলেন যেভাবে আদমকে একটি বিশেষ সৃষ্টি হিসেবে ধরাপৃষ্ঠে দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিলো... তাঁকে আসলে প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিলো। যিনি তাঁর উত্তরাধিকারকে এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্মের নিকট হস্তান্তর করবেন।
এভাবে মানবজাতি যখন চারদিকে যথেষ্ট পরিমাণে ছড়িয়ে পড়বে, তখন, শুধু একজনকে দায়িত্ব নিলে হবে না। একটি সমগ্র জাতিকে দায়িত্ব নিতে হবে। এই কারণে বনী ইসরাইলকে বাছাই করা হয়েছিলো আদর্শ জাতি হিসেবে, আল্লাহর হেদায়েতের ধারক বাহক হিসেবে। যেন তাঁরা আল্লাহর হেদায়েত অনুসরণ করার সৌন্দর্য দেখাতে পারে গোটা মানবজাতিকে। এই দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিলো। এই বিষয়ে দীর্ঘ একটি আলোচনা রয়েছে যে, আল্লাহ্ কীভাবে তাদেরকে সেই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, অন্যান্য জাতির উপর তাদেরকে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলেন যেন তারা সেই রোল মডেলের ভূমিকা পালন করতে পারে। পরে তুলে ধরা হলো কীভাবে তারা আল্লাহর আশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করলো না। এটা হলো সূরা বাকারার তৃতীয় অংশ।
এখান থেকে আল্লাহ্ আরেকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের মহানবী (স) এর রাসূল হওয়া ইসরাইলীরা মেনে নিতে পারছিল না। তারা মনে করতো, নবুয়তের দায়িত্ব তো ইসরাইলীদের। একজন ইসরাইলী-ই কেবল নবী হতে পারে। মুহাম্মাদ (স) তো একজন আরব। একজন আরব কীভাবে ওহী পেতে পারে। তাই, আল্লাহ্ কী করলেন? তিনি একটু পেছনে সরে এসে ইব্রাহীম (আ) সম্পর্কে কথা বলা শুরু করলেন। কেন? কারণ, বনী ইসরাইলীদের যদি আরবদের সাথে কোনো সম্বন্ধ না থাকে তাদের তো ইব্রাহীম (আ) এর সাথে সম্বন্ধ থাকার কথা।
একটা ব্যাপার এখানে খেয়াল করেছেন? এই সূরায় ঘটনা শুরু হয়েছিলো আদম (আ) কে নিয়ে, যিনি হলেন আদি পিতা। ঠিক এরপরেই একটি জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এরপর আমরা ইব্রাহীম (আ) সম্পর্কে কথা বলবো। এর একটু পরেই নতুন জাতি সম্পর্কে কথা বলা হবে। পিতা > জাতি, পিতা > জাতি। এমন একটি মিল এখানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরেকটি মজার বিষয় হলো, আদম (আ) কে পরীক্ষা করা হয়েছিলো। তিনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে তাঁকে এর জন্য ক্ষতিপূরণ করতে হয়। বনী ইসরাইলকেও পরীক্ষা করা হয়েছিলো, তারাও পাশ করতে পারেনি। তাদের সুযোগ ছিল ক্ষতিপূরণ করার। তারপর এসেছে ইব্রাহীম (আ) এর কথা। তাঁকেও পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু, তিনি তাঁর সকল পরীক্ষায় পাশ করেন।
সবশেষে আসছে আমাদের উম্মাহর কথা। আল্লাহ্ বলছেন আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো। তিনি বলেন - "ওয়ালানাব লুয়ান্নাকুম বিশাই...।" আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো। দেখি, তোমরা কেমন করো। দেখি, তোমরা কি আদমের মত ভুল করবে? নাকি বনী ইসরাইলের পথ অনুসরণ করবে? এবং ভুল করতে থাকবে। নাকি তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আ) এর ঐতিহ্য ধারণ করবে? যিনি সব পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন। فَأَتَمَّهُنَّ - অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন। (২:১২৪) বিষয়গুলো এভাবেই একটি আরেকটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত।
যখন ইব্রাহীম (আ) সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে, ব্যাপারটা অসাধারণ সুন্দর যে, আল্লাহ্ অর্ধেক অংশে তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ) সম্পর্কে কথা বলেন, আর অন্য অর্ধেক অংশে তাঁর নাতি ইয়াকুব (আ) সম্পর্কে কথা বলেন। যার অন্য নাম হল ইসরাইল। ব্যাপারটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ, আল্লাহ্ বলেছেন এরা উভয় ইব্রাহীমের বৈধ বংশধর। তাঁরা উভয়েই ছিলেন মুসলিম। আল্লাহ্ উভয়জনের মুখ থেকে মুসলিম শব্দ উল্লেখ করেন।
তাই, আমরা বুঝতে পারি রাসূলুল্লাহ (স) তাদেরকে যে বার্তার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তা দারুণ সত্য, ইব্রাহীম (আ) এর মূল বার্তাটাই তিনি প্রচার করছেন। যখন তোমরা ইসরাইলীরা রাসূল (স) কে আরব হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করছ, তখন ইবলিসের সাথে তোমাদের খুব একটা পার্থক্য নেই, যে আদম (আ) কে অস্বীকার করেছিল তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিলো বলে। তাই, সেই ভুল পথে পা বাড়িও না। রাসূল (স) কে গ্রহণ করে নাও।
এটা করার পর, আমরা আবার পিতার আলোচনায় ফিরে আসছি। এখন, তাঁর যেহেতু দুইটি বংশ ধারা আছে, তিনি তাঁর পেছনে একটি উত্তরাধিকার রেখে যাবেন, একটি প্রতিষ্ঠান রেখে যাবেন। সেই প্রতিষ্ঠানটি কি? তিনি ক্বাবা নির্মাণ করলেন। তিনি মরুভূমির মাঝখানে এই ঘর নির্মাণ করলেন।
এই ঘর নির্মাণ করার সময় তিনি একজন রাসূলের জন্য দুআ করলেন। এখন, ইসরাইলীদের বলা হচ্ছে মুহাম্মাদ (স) তোমাদের নিজেদের পিতা ইব্রাহীম (আ) এর দুআর ফসল। তিনি তোমাদের নিজেদের পিতার প্রার্থনার জবাব। মুহাম্মাদ (আ) হলেন ইব্রাহীম (আ) এর উত্তরাধিকারের পরিপূরণ। তোমাদের তাঁকে নিজেদের নবী মনে করা উচিত এবং নবী মুহাম্মাদ (স) এর প্রতি অনুগত হওয়া উচিত। ঠিক যেভাবে তোমরা ইব্রাহীম (আ)কে মানো। এরপর তারা ক্বাবার পরিবর্তন দেখতে পেলো। কারণ, রাসূল (স) জেরুলেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিলেন। এই আয়াতগুলো নাজিল হওয়ার কারণে তিনি মক্কার দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে লাগলেন। এটা হল সূরার পঞ্চম বিষয়বস্তু। ক্বাবার পরিবর্তনের পর...এখন যেহেতু রাজধানীর পরিবর্তন হয়েছে, যেটা আগে জেরুজালেম ছিল, তখন ইয়াহুদিরা মনে করতো আমরা আসলে ততটা ভিন্ন নই।
এখন, আমরা মক্কার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছি, তাদের কাছে ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। তারা ভাবল, এরা তো এখন নতুন জাতি। আল্লাহ্ নতুন জাতি হিসেবে আমাদের উদ্বোধন করলেন। তিনি বলেন, كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ - না, এটা আসলে সূরা আলে-ইমরানে এসেছে। এখন, বলা হচ্ছে - وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا - "আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি।" তোমরা এখন নতুন জাতি। তোমাদের এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মুসলিম উম্মাহর জন্য এখান থেকে "ইয়া আইউহাল লাজিনা আমানু" পরিভাষার ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। "তোমরা যারা ঈমান এনেছ", "তোমরা যারা ঈমান এনেছ।" এভাবে অফিশিয়াল্লি মুসলিম উম্মাহকে সম্বোধন করা হচ্ছে।
নতুন জাতি গঠিত হলে তার জন্য তো একটা রাজধানী থাকা চাই। যেটা হলো আমাদের ক্বাবা। তার জন্য আবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়াজন করতে হয়। জাতি সমূহের যেমন স্বাধীনতা দিবস থাকে। আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে স্বাধীনতার মাস। কুরআনের মাস, রামাদান। সেই মাসের কথাও এই সূরায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। ক্বাবাকে কেন্দ্র করে যে ধর্মানুষ্ঠান আয়োজন করা হয় তার নির্দেশনাও এই সূরায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। নতুন জাতির নামও এই সূরায় নাজিল করা হয়েছে। রাসূল প্রদান করা হয়েছে।
সুতরাং, এখন আমরা পুরোপুরি নতুন একটি স্বাধীন জাতিতে পরিণত হলাম। যে জাতি তার নিজের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা সমূহের সম্মুখীন হবে। এটা হলো পরবর্তী বিষয়বস্তু। এরপরে সূরা বাকারার বিশাল একটা অংশ জুড়ে অনেকগুলো আইন-কানুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনগুলো রোজা নিয়ে, হজ্ব নিয়ে, তালাকের আইনকানুন, সামাজিক আইনকানুন, প্রাথমিক কিছু উত্তরাধিকার আইনের কথাও এসেছে, যাকাতের উল্লেখও করা হয়েছে। সবধরনের আইনকানুনের উল্লেখ করা হয়েছে, পারস্পরিক লেনদেন বিষয়ে, ইয়াতিমদের দেখাশোনার বিষয়ে। এইরকম সবধরনের নিয়মকানুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অবিশ্বাস্য রকমের নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় - যা এতো বড় যে, এই সেশনে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু জেনে রাখুন যে, এগুলোর উল্লেখেও অবিশ্বাস্য রকমের বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়।
চলুন, আবার পেছন থেকে দেখে আসি আমরা এখন কোথায়? আমরা শুরু করেছিলাম, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকদের নিয়ে। এটা ছিল সেকশন এক। আদম (আ) এর ঘটনা ছিল সেকশন দুই। সেকশন তিন ছিল বনী ইসরাইলকে নিয়ে এবং কীভাবে তারা আশানুরূপ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলো। সেকশন চার ছিল, তাদের উচিত ছিল তাদের পিতা ইব্রাহীমের ঐতিহ্য ধারণ করা। ইব্রাহীম (আ) এর কথা বলতে গিয়ে বলা হল, তিনিই ক্বাবা নির্মাণ করেছেন। এটা ছিল সেকশন পাঁচ। সেকশন ছয় হলো, মুসলিম উম্মাহ এখন নতুন জাতি এবং তাদেরকেও পরীক্ষা করা হবে। সেকশন সাত-এ বলা হলো, কী দিয়ে তাদের পরীক্ষা করা হবে? এই আইন-কানুন গুলো তোমাদের মেনে চলতে হবে। লম্বা একটা সেকশন আইন-কানুনের। আমরা এখন এখানেই আছি। সেকশন সাত পর্যন্ত।
আমি বলেছিলাম এই সূরায় নয়টি সেকশন রয়েছে। সেকশন আটে এসেছে কুরআনের সবচেয়ে লম্বা একটি সেকশন কীভাবে লোভ সামলাতে হবে। কোথায় তোমার টাকা ব্যয় করা উচিত, কোথায় টাকা ব্যয় করা উচিত নয়, কীভাবে তোমার টাকা আয় করা উচিত আর কীভাবে তোমার টাকা আয় করা উচিত নয়। কীভাবে তোমাদের ব্যবসা করা উচিত আর কীভাবে করা উচিত নয়। অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই সূরার বিশাল একটি অংশ জুড়ে আলোচনা করা হয়েছে। কুরআনের অন্য কোথাও আর এরকম করা হয়নি। এই ব্যাপারটা এখানে মোকাবেলা করা হয়েছে।
ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমরা যদি পেছনে ফিরে দেখি, আদম (আ) এর ঘটনায় সমস্যা ছিল লোভ নিয়ে। তাই, আল্লাহ্ এখানে বলেছেন মানুষ এখন যেহেতু পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছে তাদের জন্য লোভ-লালসা বিরাট এক সমস্যা হিসেবে দেখা দিবে। তাই, এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।
পরিশেষে, আমরা সূরা বাকারার শেষ দুই তিনটা আয়াতে এসে পৌঁছলাম। যে সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, যে কেউ রাতে এগুলো তিলাওয়াৎ করবে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। সমগ্র কুরআনের অন্যতম গভীর দুআগুলোর একটি। এই দুআ আসলে সমগ্র সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটা আসলে আমরা যেখান থেকে শুরু করেছি তার একটা উপসংহার। কারণ, সূরার শেষে আমরা আসলে আল্লাহর নিকট দুআ করছি, আমাদের উপর যেন সেরকম বোঝা চাপিয়ে না দেন, যেমনটা তিনি আমাদের আগে আসা জাতির উপর অর্পণ করেছেন। কারণ, তারা সেই বোঝা বহন করতে পারেনি। এবং শেষে এর প্রতি মুনাফেকি আচরণ করতে থাকে। আমরা আল্লাহর নিকট দুআ করছি, আমাদের ঈমান রক্ষা করার জন্য। মুনাফেকি থেকে রক্ষা করার জন্য। এবং আমরা দুআটা শেষ করি, কাফেরদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে।
মনে আছে তো? প্রথম অংশ ছিল, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকদের নিয়ে। শেষ অংশ হলো এমন একটি দুআ... ইয়া আল্লাহ্! আমাদের ঈমান রক্ষা করুন। আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদেরকে মুনাফেকিতে পড়তে দিবেন না। এবং আমাদেরকে কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন। তো, এটা প্রায় সূরার শুরুর একটি প্রতিক্রিয়া।
এর মাধ্যমে এটা সমগ্র ইসলাম ধর্মের একটি সারাংশ তুলে ধরে। কুরআনের অন্যতম গভীর একটি সূরা। রাসূল (স) কুরআনের প্রথম সাতটি সূরা সম্পর্কে বলেছেন, যে এগুলো ধরে রাখবে, ফাহুয়া হিবর। সে আসলে একজন স্কলার। মানে আপনার প্রথম সাতটি সূরার বাহিরে আর জ্ঞানের দরকার নেই। তাহলে আপনার রয়েছে গভীর গভীর জ্ঞান।
আল্লাহ্ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদেরকে এই সূরার শক্তিমত্তা, গঠনপ্রণালী এবং অসম্ভব সুন্দর পাঠগুলো আয়ত্ত করার তৌফিক দান করুন। আমি সম্ভবত ১৫ বছর ধরে সূরা বাকারা অধ্যয়ন করছি। আমার মনে হয় আমি এখনো এর উপর প্রাথমিক জ্ঞানও অর্জন করতে পারিনি।
আল্লাহ্ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদেরকে কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করার উপকার এবং শক্তিমত্তা অনুভব করার তৌফিক দান করুন।
- নোমান আলী খান
Nouman Ali Khan
#নোমানআলীখান