Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

Darul Uloom Mueenul Islam  দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ
(3)

খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি গঠন। সভাপতি হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ খলী...
28/08/2026

খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি গঠন।

সভাপতি হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ খলীল আহমাদ কুরাইশী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীরেরও দায়িত্ব পালন করছেন।

সাধারণ সম্পাদক হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস হযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন হাফিজাহুল্লাহ।

গতকাল ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় হাটহাজারী মাদরাসা মিলনায়তনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, দক্ষিন জেলা ও মহানগরসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

আঁধারঘেরা তমসায় পঙ্কিল মানবজাতিকে উদ্ধারে ধরণীতে সুবহে সাদিকের মতো উদিত হয়েছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী, সায়্যিদুল ...
26/08/2026

আঁধারঘেরা তমসায় পঙ্কিল মানবজাতিকে উদ্ধারে ধরণীতে সুবহে সাদিকের মতো উদিত হয়েছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী, সায়্যিদুল মুরসালীন রাসূলুল্লাহ (সা.)। তাঁর শুভজন্ম ও প্রাক-নবুওয়াতের অলৌকিক নিদর্শনসমূহের বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক তাহকীক, তেইশ বছরের নবুওয়াতী জীবনের কালজয়ী বিপ্লব এবং ওফাতের অন্তিম অসিয়ত নিয়েই এই বিশেষ নিবেদন।

প্রচলিত অসার আনুষ্ঠানিকতা ও কৃত্রিম আড়ম্বর নয়; সীরাতের অমল আলোকবর্তিকা ও সুন্নাতের নিখাদ অনুসরণের মাধ্যমে রাসূলে কারীম (সা.)এর সুমহান আদর্শকে জীবনধারায় প্রস্ফুটিত করাই উম্মাহর একমাত্র মুক্তির পথ।
-----------------------------------------------------
* রেজিঃ ডাকযোগে ঘরে বসে পত্রিকা পেতে ১ বছরের গ্রাহক ফি: মাত্র ৩০০ টাকা! (ডাক খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি)

* ঘরে বসেই পত্রিকাটি নিয়মিত পেতে চাইলে যোগাযোগ করুন- মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ- ০১৭২২-২২৯৬২১

* একসঙ্গে ৫/১০ কপি আকর্ষনীয় ছাড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পত্রিকা পৌঁছে যাবে প্রাপকের ঠিকানায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরিচয়, মর্যাদা ও অনুপম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা যত গভীর হবে, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও অনুসর...
26/08/2026

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরিচয়, মর্যাদা ও অনুপম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা যত গভীর হবে, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও অনুসরণের আকাঙ্ক্ষাও তত বৃদ্ধি পাবে।

পবিত্র কুরআন কীভাবে তার প্রিয় রাসূল ﷺ-কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে? তাঁর রিসালাতের ব্যাপ্তি, মর্যাদা, চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, আনুগত্যের গুরুত্ব এবং উম্মতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কুরআনের আয়াতের আলোকে তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধে।

“পবিত্র কুরআনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচয়, মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য”—দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.)-এর এই প্রবন্ধটি পাঠ করলে কুরআনের আলোকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মহান মর্যাদা ও অনুপম জীবনাদর্শ সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ হবে।
-----------------------------------------------------
* রেজিঃ ডাকযোগে ঘরে বসে পত্রিকা পেতে ১ বছরের গ্রাহক ফি: মাত্র ৩০০ টাকা! (ডাক খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি)

* ঘরে বসেই পত্রিকাটি নিয়মিত পেতে চাইলে যোগাযোগ করুন- মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ- ০১৭২২-২২৯৬২১

* একসঙ্গে ৫/১০ কপি আকর্ষনীয় ছাড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পত্রিকা পৌঁছে যাবে প্রাপকের ঠিকানায়।

কথিত ঈদে মিলাদুন্নবী ও নবীপ্রেম: একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ- মাওলানা সাকিব আমজাদ জমিরী (হাফি.)-----------------------কথিত ঈদ...
26/08/2026

কথিত ঈদে মিলাদুন্নবী ও নবীপ্রেম: একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
- মাওলানা সাকিব আমজাদ জমিরী (হাফি.)
-----------------------
কথিত ঈদে মিলাদুন্নবী কি সত্যিই ইসলামের অংশ? এই প্রশ্নটি নিয়ে মুসলিম সমাজে বহু বিতর্ক বিদ্যমান। প্রচলিত জশনে জুলুস ও মিলাদুন্নবীর আয়োজনকে যারা শরীয়তের অংশ মনে করেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেও এই প্রশ্নটি করা জরুরি যে, এমন উদযাপনের ভিত্তি কি কোরআন, হাদিস, ইজমা নাকি কিয়াস?

হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে আমাদের এই দ্বীনের মাঝে এমন কোনো বিষয় উদ্ভাবন করবে, যা এর মধ্যে নেই; তা প্রত্যাখ্যাত।” (সহীহ মুসলিম – ১৭১৮)।

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, কোনো আমল বা বিষয় শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে তা অবশ্যই কোরআন, হাদিস, ইজমা অথবা কিয়াসের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। অন্যথায়, তা বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত বলে গণ্য হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামের প্রথম তিন স্বর্ণযুগ—সাহাবি, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈদের যুগে কোনো আমল প্রচলিত ছিল কি না। এই তিন যুগের কোনো এক যুগে যদি কোনো আমল প্রমাণিত না হয়, তবে তা পরবর্তীকালে উত্তম বা সাওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

কিন্তু প্রচলিত কথিত মিলাদুন্নবীর আয়োজন কি সাহাবী, তাবেঈ বা তাবে-তাবেঈদের যুগে প্রচলিত ছিল? ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, খোলাফায়ে রাশেদার ৩০ বছরে, এমনকি ১১০ হিজরি পর্যন্ত সাহাবিদের যুগেও মিলাদ মাহফিলের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ১৭০ হিজরি পর্যন্ত তাবেঈদের যুগেও এর কোনো প্রমাণ নেই, এমনকি ২২০ হিজরি পর্যন্ত তাবে-তাবেঈদের যুগেও এর প্রচলন দেখা যায় না।

যদি সাহাবিদের নবীপ্রেমের কথা বলি, তবে তা ছিল নজিরবিহীন। তারা রসুল (সা.)-এর জন্য নিজেদের জীবন, সম্পদ, এমনকি পরিবারকেও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)কে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য এর চেয়ে বড় কোনো উদাহরণ হতে পারে না। অথচ এমন গভীর ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তারা মিলাদুন্নবীর মতো কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেননি।

চার মাজহাবের ইমামগণ এবং সিহাহ সিত্তার ইমামগণের জীবনীতেও মিলাদের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। এমনকি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত পীর শায়খ আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) (মৃত্যু: ৫৬১ হি.) এবং খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি আজমিরি (রহ.) (মৃত্যু: ৬৩২ হি.)-এর মতো যুগবরণ্য সুফি সাধকরাও মিলাদ মাহফিলের প্রচলন করেননি। তাদের মাধ্যমে যে নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

তাহলে যে কাজ সাহাবি, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈদের যুগে সাওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হয়নি, তা আজ কীভাবে অসীম বরকতের কাজ হতে পারে? এই মৌলিক প্রশ্নটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, প্রচলিত এসব আচার-অনুষ্ঠান কি সত্যিই সুন্নাত ও নবীপ্রেমের কাজ, নাকি বিদআত এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অসন্তুষ্টির কারণ?

যদি কেউ কোরআন, হাদিস বা ইসলামের প্রথম তিন স্বর্ণযুগের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই মিলাদের প্রচলন প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমরাও তাদের সঙ্গে একমত হতে বাধ্য হব। কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ কারো পক্ষে পেশ করা সম্ভব হবে না।

তাই, আমাদের উচিত ইসলামকে তার মৌলিক রূপে অনুসরণ করা এবং এমন কোনো আমল থেকে বিরত থাকা, যার ভিত্তি কোরআন ও হাদিসে নেই।
--------------------------
লেখক: শিক্ষক, আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী।

যেমন ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পবিত্র জীবনচরিত- শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.)-----------------------------সর...
26/08/2026

যেমন ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পবিত্র জীবনচরিত
- শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.)
-----------------------------
সর্বযুগের মানুষের কান্ডারী হিসেবে মহান রাব্বুল আলামীন উম্মতের প্রিয় খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। আমরা তাঁর উম্মত হতে পেরে আল্লাহ পাকের দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। সাধারণ উম্মতের মধ্যে সিংহ ভাগই রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পবিত্র অবয়ব আকৃতি স্বভাব ইত্যাদি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল নয়। তাই তো আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক আদর্শ অনুসরণে পুরোপুরি সক্ষম হচ্ছি না। আমরা সকলে যাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক অবয়ব, রুচি ও আখলাকসহ সার্বিক জীবনধারা সম্বন্ধে সম্যক অবগত হয়ে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনায় মনোযোগী হতে পারি, সে মানসেই প্রবন্ধটি নিবেদন করছি।

বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থের বর্ণনা মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মধ্যম অবয়ব, উজ্জ্বল গৌরকান্তি, সাদা ও লাল মিশ্রিত রং, প্রশস্ত ললাট, যুগল ভ্রু, পটলচেরা চোখ, মাংস বিরল মার্জিত চেহারা বিশিষ্ট, দাঁত মোবারক খুব ঘন সন্নিবিষ্ট ছিল। উচ্চ গ্রীবা, মাথা বড় এবং বক্ষস্থল ছিল সুপ্রশস্ত। মাথার চুল মোবারক বেশি কোঁকড়ানো বা একেবারে সোজা ছিল না। ঘন দাড়ি, সুরমা রং এর গভীর কালো চোখ, ঘন লম্বা পলক, মাসল বাহুমূল, সুলম্বিত বাহু, বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত হাল্কা চুলের রেখা এবং দু’বাহুতেও হালকা পশম ছিল। দু’হাত চওড়া এবং মাসলবহুল ছিল। সুগঠিত পদযুগলের গুচ্ছদেশ ছিল হাল্কা ধরনের। পায়ের পাতার মধ্যভাগে কিছুটা খালি ছিল। উদাহরণত পায়ের নিচ দিয়ে এক দিকের পানি অন্য দিকে চলে যেতে পারত। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সুঠাম, অপূর্ব কান্তিময় দেহাবয়ব প্রথম দৃষ্টিতেই লোকের অন্তরে গভীর প্রভাব বিস্তার করত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযি.) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইহুদি ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর গঠিত চেহারার দিকে দেখেই বলে উঠেছিলেন আল্লাহর কসম, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর হতে পারে না। (তিরমিযী)।

হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রাযি.) নামক জনৈক সাহাবিকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিল, রাসূলুল্লাহ (সা.)এর চেহারা কি তরবারীর মত চমকাত? সাহাবী (রাযি.) জবাব দিলেন, না; বরং পূর্ণিমা চাঁদের মত ছিল। (মিশকাত)।

এ সাহাবী (রাযি.)ই অন্যত্র বর্ণনা করেছেন, মেঘের লেশচিহ্ন হীন এক শুক্ল পক্ষের রাত্রিতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)এর চেহারা মোবারকের দিকে একবার, আরেকবার আকাশের পূর্ণ চন্দ্রের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে তাঁর পবিত্র চেহারা চাঁদ অপেক্ষা উজ্জ্বলতর প্রতিভাত হচ্ছিল। (মিশকাত, তিরমিযী)।

হযরত বারা (রাযি.) বলেন, আমি উত্তম পোশাক পরিহিত বহু সৌখিন লোক দেখেছি। কিন্তু হুযূর (সা.)এর চাইতে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন চেহারার কোন লোক আজ পর্যন্ত আমার দৃষ্টি গোচর হয়নি। (মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পবিত্র দেহ থেকে নির্গত ঘামের মধ্যেও এক প্রকার সুগন্ধ অনুভূত হত। (মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর শরীর মোবারক অত্যন্ত মসৃন এবং চামড়া খুব কোমল ছিল। হযরত আনাস (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)এর গায়ের রং অত্যন্ত সুন্দর এবং শরীর মসৃন ছিল। গায়ের মধ্যে ঘর্মবিন্দু যেন মোতির ন্যায় চমকাতে থাকত। তাঁর পবিত্র বদন ছিল রেশমের চাইতেও মসৃন এবং গন্ধ ছিল মেশক আম্বরের চাইতেও সুগন্ধময়। (মিশকাত, বুখারী, মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক পিঠে দু’বাহুমূলের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত ছিল। তা সাধারণত কবুতরের ডিমের আকৃতি বিশিষ্ট লাল রং এর সামান্য উত্থিত এক টুকরো মাংস বলেই মনে হত। (মুসলিম)।

শামায়েলে তিরমিযীতে হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত আছে যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোহরে নবুওয়াত দেখেছি। সেটি তাঁর মোবারক পিঠের উপরিভাগের দু’বাহুমূলের মধ্যস্থলে কবুতরের ডিম্বাকৃতি বিশিষ্ট একটি লাল রং এর ভাসা মাংস পি-ের মত ছিল।

বিভিন্ন সহীহ বর্ণনা একত্রিত করে বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, গর্দানের নিচে দু’বাহুমূলের মধ্যভাগে ঈষৎ লম্বা ডিম্বাকৃতি বিশিষ্ট তিলের মত লাল রং-এর একটু স্থান ছিল। এ বিশেষ চিহ্নটিকেই মোহরে নবুওয়াত বলে অভিহিত করা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক মাথার কেশ অধিকাংশ সময় গর্দান পর্যন্ত প্রলম্বিত থাকত। মক্কা বিজয়ের সময় যারা তাঁকে লক্ষ করেছেন, তারা দেখেছেন যে, মাথার মোবারক কেশ চারভাগে বিভক্ত হয়ে গর্দান পর্যন্ত ঝুলে আছে।

আরবের মুশরিক পৌত্তলিকেরা মাথার চুলে সিঁথি কাটত। রাসূলুল্লাহ (সা.) যেহেতু প্রথম থেকেই মুশরিকদের যাবতীয় আচার-আচরণের বিরোধীতা করে আহলে কিতাবদের মত আচার অবলম্বন করতেন, তাই প্রথম প্রথম তিনি চুলে সিঁথি কাটতেন না। মক্কা বিজয়ের পর যখন পৌত্তলিকদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকল না, তখন থেকে তিনি সিঁথি কাটতে থাকেন।

মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় মোবারক চুলে তেল ব্যবহার করতেন, অন্তত একদিন অন্তর চিরুনী ব্যবহার করতেন। ইন্তিকালের সময় দাড়ি মোবারকের কয়েকখানা কেশ সাদা দেখা গিয়েছিল।

রাসূলুল্লাহ (সা.) পথ চলার সময় দ্রুত চলতেন। সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন, মনে হত যেন উঁচু ভূমি থেকে নিচের দিকে অবতরণ করছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর কথাবার্তা অত্যন্ত মধুর এবং হৃদয়গ্রাহী ছিল। মুচকি হাসির সাথে প্রত্যেকটি শব্দ ও বাক্য পৃথক পৃথকভাবে সুস্পষ্ট উচ্চারণ করতেন। এত সহজ ও সাবলীল ভাষায় কথা বলতেন যে, শ্রোতা মাত্রই তা অতি সহজে অনুধাবন করতে এবং স্মরণ রাখতে পারত। কোন গুরুত্বপূর্ণ কথা হলে তা তিনবার পর্যন্ত উচ্চারণ করতেন। ভাষণ দান করার সময় সাধারণত আকাশের দিকে দৃষ্টি রেখে গুরুগম্ভীর স্বরে বলতেন।
হযরত উম্মে হানী (রাযি.) বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কা’বা শরীফে কুরআন পাঠ করতেন, তখন আমরা বাড়িতে শুয়ে শুয়ে সুস্পষ্ট শুনতে পেতাম। (ইবনে মাজাহ)।

হযরত খাদীজা (রাযি.)এর পূর্ববর্তী স্বামীর পক্ষে হিন্দ নামে এক পুত্র ছিলেন। তিনি কথোপকথনে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। কথোপকথনের মাধ্যমেই তিনি যে কোন বিষয়ে জীবন্ত আওয়াজ তুলে ধরতে সমর্থ ছিলেন। হযরত ইমাম হোসাইন (রাযি.) একদিন তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর বক্তৃতা রীতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তিনি বলেছিলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় চুপচাপ থাকতেন। প্রয়োজন ছাড়া সচরাচর কথা বলতেন না। দেখলে মনে হত যে, এক গভীর ভাবনায় যেন তিনি ডুবে আছেন। কথা বলার সময় প্রত্যেকটি শব্দ পৃথক পৃথকভাবে অত্যন্ত সুস্পষ্ট উচ্চারণ করতেন। কথার মধ্যে কোন ইশারা করতে হলে সম্পূর্ণ হাত তুলে ইশারা করতেন। কোন বিস্ময়সূচক কথা বলার সময় হাত উল্টে নিতেন। বক্তৃতার সময় কখনও কখনও মোবারক এক হাতের উপর আর এক হাত রাখতেন। কথায় কথায় কোথাও হাসির কথা এসে গেলে দৃষ্টি নীচের দিকে নামিয়ে নিতেন। তিনি কদাচিৎ মুচকি হাসতেন। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক হাসি। (শামায়েলে তিরমিযী)।

হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, যখনই আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)এর খেদমতে হাযির হতাম, তিনি আমাকে দেখেই মুচকি হাসতেন। কোনদিন এমন হয়নি, যখন তিনি আমাকে দেখে হাসেননি।

কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, অধিক হাসি পেলে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর উপরিভাগের একপাটি দাঁত মোবারক কখনও কখনও প্রকাশ হয়ে পড়ত। কিন্তু হযরত ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)এর মতে এ বর্ণনা ঠিক নয়। কেননা দন্তপাটি প্রকাশ পেতে পারে এমনভাবে তিনি কখনও হাসতেন না।

উম্মাহাতুল মুমিনীনগণের মধ্যে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি.)এর চেয়ে আর কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মহান চরিত্র ও গুণাবলীর বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করতে পারেননি। তিনি বলেছেন, কখনও কাউকে কটূ কথা বলার স্বভাব রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ছিল না। কটূ কথার পরিবর্তে কখনও মন্দ ব্যবহারও করতেন না; বরং তা পরিত্যাগ অথবা ক্ষমা করে দিতেন। (তিরমিযী)।

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)কে দু’টি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণের ক্ষমতা দেয়া হলে যা সহজ হত তাই গ্রহণ করতেন, অবশ্য তা যদি কোন পাপ কাজ না হত। নতুবা তা থেকে দূরে থাকতেন। কখনও নিজের কোন ব্যাপারে কারও কাছ থেকে কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ পাকের আদেশের বিরোধিতা করত, তাহলে স্বয়ং তার উপর ব্যবস্থা নিতেন। অর্থাৎ আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আল্লাহপাকের নির্দেশানুযায়ী তিনি তাদের শাস্তির বিধান প্রয়োগ করতেন। (বুখারী, মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনও চিহ্নিত করে কোন মুসলমানকে অভিশাপ দেননি। কখনও কোন দাস-দাসী, কোন নারী এমনকি পশুকেও নিজের মোবারক হাতে মারধর করেননি। কারও কোন আবেদন কখনও প্রত্যাখ্যান করেননি। তবে তা যদি নাজায়েয কিছু না হত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন মোবারক সুন্দর হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় মুচকি হেসে হেসে প্রবেশ করতেন। বন্ধুজনের মধ্যে কখনও পা ছড়িয়ে বসতেন না। (ইবনে সা’আদ)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কথাবার্তা ধীরে ধীরে এমনভাবে বলতেন, যদি কেউ মনে রাখতে চাইত, তবে সহজেই তা করতে পারত। (বুখারী, মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় মোবারক জীবন থেকে তিনটি বিষয়কে সম্পূর্ণ রূপে দূর করে দিয়েছিলেন। যেমন- পরস্পরে কূটতর্ক করা, প্রয়োজনাতিরিক্ত কথা বলা এবং লক্ষ্যহীন কোন কিছুর পেছনে লেগে থাকা। অপর লোকদের ক্ষেত্রেও রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনটি বিষয়ে সংযমী ছিলেন। কাউকে মন্দ বলতেন না, কাউকে দোষারোপ করতেন না এবং কারো আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অনুসন্ধানে লিপ্ত থাকতেন না। যে কথা মানুষের জন্য কল্যাণকর, তাই বলতেন। (শামায়েলে তিরমিযী)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পূণ্যবান জীবনের বরকতময় স্বভাবের বর্ণনা এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। তাঁর পূণ্যবান জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এবং প্রতিটি কর্ম উম্মতদের জন্য শিক্ষনীয় ও বরকতময় বটে। বক্ষমান প্রবন্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক স্বভাবের যে সামান্য বর্ণনা আমরা জানতে পারলাম, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ তথা অনুসরণ অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক স্বভাবের অনুসারী হতে পারলে নিশ্চিত তার জীবন সার্থক, তা বলাবাহুল্য।

তাই আসুন, আমরা সকলে নিজেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মোবারক স্বভাবের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে গড়তে সাধ্যমত চেষ্টা করি। আল্লাহ পাক মেহেরবাণী করে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সফল অনুসারী হয়ে নিজেদের জীবনকে প্রকৃত সুন্নাহ তথা নববী আদর্শে সাজিয়ে তোলার তাওফীক দান করুন।
------------------
লেখক: প্রখ্যাত আলেম-দ্বীন ও শায়খুল হাদীস, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

উম্মাহাতুল মু’মিনীন বা রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পুণ্যবতী সহধর্মিনীগণ- হযরত আল্লামা মুহাম্মদ ওমর কাসেমী (দা.বা.)--------------...
26/08/2026

উম্মাহাতুল মু’মিনীন বা রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পুণ্যবতী সহধর্মিনীগণ
- হযরত আল্লামা মুহাম্মদ ওমর কাসেমী (দা.বা.)
-------------------
হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)এর জীবনের বিভিন্ন সময়ে মতান্তরে এগার জন মহিয়সী রমণীকে স্বীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদেরকে ‘উম্মাহাতুল মু’মিনীন’ বা ‘উম্মতের জননী’ নামে অভিহিত করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বপ্রথম হযরত খাদিজা (রাযি.)কে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেছিলেন। প্রথমা স্ত্রী বেঁচে থাকাকালীন তিনি দ্বিতীয় কোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি। সুপ্রিয় পাঠক সমীপে উম্মত জননীগণের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরছি।

হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাযি.)
---------------
তাঁর পিতার নাম খুয়াইলিদ এবং মাতার নাম ফাতিমা বিনতে যাইদা। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর পতিত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি দু’জন স্বামীর ঘর করেছিলেন। প্রথম পক্ষে দু’জন পুত্র সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষে মাত্র একজন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। প্রথম পক্ষের ‘হিন্দ’ নামক এক পুত্র ইসলাম গ্রহণ করেন অতঃপর জঙ্গে জামালে হযরত আলী (রাযি.)এর পক্ষে যুদ্ধ করে শাহাদত বরণ করেন।

হযরত খাদিজা (রাযি.)এর গর্ভে হযরত নবী কারীম (সা.)এর একজন পুত্র মতান্তরে দু’জন পুত্র জন্মগ্রহণের পর বাল্যকালে ইন্তিকাল করেন। পরবর্তীতে চার জন কন্যা যথাক্রমে হযরত যাইনাব (রাযি.), হযরত রুকাইয়্যা (রাযি.), হযরত উম্মে কুলসূম (রাযি.) এবং খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা (রাযি.) যথারীতি সংসার জীবন-যাপন করেন। হযরত ফাতিমা (রাযি.)এর বংশধারার মাধ্যমেই আহলে বাইতের রক্তধারা আজও দুনিয়ায় বিদ্যমান রয়েছে।

হযরত খাদিজা (রাযি.) ৪০ বছর বয়সে ২৫ বছর বয়সী যুবক হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর সাথে মুবারক দাম্পত্য জীবন শুরু করেন এবং ২৫ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালবেসেছেন। যে কারণে তাঁর জীবদ্দশায় অন্যকোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি।

একদিন হযরত আয়েশা (রাযি.) নবী কারীম (সা.)কে বলেছিলেন, “একজন বৃদ্ধা, তাও মারা গেছেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করা সত্ত্বেও আপনি সবসময় শুধু তাঁরই স্মৃতিচারণ করে থাকেন”। জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “কখনও তোমরা তাঁর চেয়ে উত্তম নও। হে আয়েশা! যখন মানুষ আমাকে মিথ্যাবাদী বলত, তখন সে-ই আমাকে সত্যবাদী বলে মেনে নিয়েছিল। যখন মানুষ কাফির ছিল, তখন সে-ই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। যখন আমার কোন সাহায্যকারী ছিল না, তখন সে-ই আমাকে সাহায্য করেছিল”।

উল্লেখ্য, ইসলামের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে হযরত খাদিজা (রাযি.) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত খাদিজা (রাযি.) হিজরতের পর ৬৫ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তিকাল করেন। নবীপত্নীগণের মধ্যে একমাত্র তাঁরই কবর পবিত্র মক্কায় অবস্থিত। আজও মুসলমানরা শ্রদ্ধাভরে তাঁর কবর যিয়ারত করে থাকেন।

হযরত সাওদা (রাযি.)
--------------
হযরত খাদিজা (রাযি.)এর ইন্তিকালের পর রাসূলুল্লাহ (সা.)এর নিঃসঙ্গতা অবলোকন করে হযরত খাওলা বিনতে হাকিম (রাযি.) তাঁর সম্মতিক্রমে হযরত সাওদা (রাযি.)এর পিতার বরাবরে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করেন। পরবর্তীতে হযরত সাওদা (রাযি.)এর সম্মতিক্রমে হযরত জামআ (রাযি.) চারশ’ দিরহাম মোহর ধার্য করেন এবং নিজেই মুবারক বিবাহ পড়িয়ে দেন।

হযরত সাওদা (রাযি.) ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রথম স্বামী হযরত সাফ্ওয়া ইবনে উমায়ের (রাযি.)এর সঙ্গে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। আবিসিনিয়া থেকে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের কিছুদিন পর তাঁর স্বামী ইন্তিকাল করায় একমাত্র পুত্র হযরত আব্দুর রহমানকে নিয়ে বিধবা জীবন কাটান। পরবর্তীতে তাঁর উক্ত পুত্র জালুলার যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।

হযরত সাওদা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সা.)এর আনুগত্য ও নির্দেশ পালনে সব স্ত্রীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। উদারতা ও দানশীলতায় তিনি হযরত আয়েশা (রাযি.) ব্যতীত সবার উপরে ছিলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ ও স্থূল দেহের অধিকারী। এ কারণে তাঁর চলাফেরার গতি ছিল খুব মন্থর।

তাঁর মাধ্যমে মাত্র পাঁচটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং যার একটি মাত্র বুখারী শরীফে উল্লেখ হয়েছে। তিনি হযরত উমর (রাযি.)এর খিলাফতের শেষ সময়ে মদীনায় ইন্তিকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে দাফন হন।

হযরত আয়েশা (রাযি.)
--------------
নবুওয়্যাতের দশম বর্ষে হযরত খাওলা বিনতে হাকিমের প্রস্তাবনায় রাসূলে কারীম (সা.)এর সাথে চারশ’ দিরহাম মোহরে পবিত্র শাওয়াল মাসে মাত্র ৬ বছর বয়সে হযরত আয়েশা (রাযি.)এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর নবীজি (সা.) মাত্র এক বছর মক্কায় ছিলেন। হযরত আয়েশা (রাযি.)এর পিতা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সার্বক্ষণিক সাথী ছিলেন। তাঁর মাতার নাম হযরত উম্মে রুম্মান (রাযি.)।

মদীনায় হিজরতের পর নবী কারীম (সা.) ও হযরত আবুবকর (রাযি.) তাঁদের স্ব-স্ব পরিবার পরিজন নিয়ে মদীনায় আসার পর মাত্র ৯ বছর বয়সে শাওয়াল মাসে হযরত আয়েশা (রাযি.)এর মুবারক দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। তাঁর বয়স যখন মাত্র আঠার বছর তখন নবী কারীম (সা.)এর ওফাত হয়। এরপর তিনি ৪৮ বছর দুনিয়ায় বেঁচে ছিলেন। হিজরী ৫৭ সনে ৬৬ বছর বয়সে তিনি মদীনায় ইন্তিকাল করেন। হযরত আবু হুরাইরাহ (রাযি.) তাঁর নামাযে জানাযার ইমামতি করেন এবং রাতেই তাঁকে জান্নাতুল বাকী গোরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি ২২১০টি হাদীস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে এককভাবে ৫৪টি হাদীস বুখারী শরীফে এবং ৬৮টি মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে। কারো কারো মতে শরীয়তের বিধিমালার এক চতুর্থাংশ তিনিই বর্ণনা করেন। তিনি একাধারে মুহাদ্দিসা ও ফক্বিহা ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি অনেক জটিল বিষয়ে ফায়সালাসহ ফাতওয়া প্রদান করতেন। বিশিষ্ট সাহাবীগণও অনেক জটিল ব্যাপারে তাঁর ফাতওয়ার শরণাপন্ন হতেন।

হযরত হাফ্সা (রাযি.)
-------------------
তিনি ছিলেন ইসলামের লৌহমানব হযরত উমর (রাযি.) ও হযরত যাইনাব বিনতে মাজঊন (রাযি.)এর কন্যা। নবুওয়্যাতের ৫ বছর পূর্বে তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম বিবাহ হযরত খুলাইস ইবনে হুযাইফা (রাযি.)এর সাথে সম্পাদিত হয়। স্বামীর সঙ্গে মদীনায় হিজরত করার পরবর্তীতে তাঁর স্বামী বদর যুদ্ধে আহত হয়ে মদীনায় শাহাদাত বরণ করেন। নিঃসন্তান হযরত হাফ্সা (রাযি.) বিধবা হয়ে যাওয়ায় হযরত উমর (রাযি.) বেশ চিন্তিত ছিলেন। হযরত নবী কারীম (সা.) ইসলামের এ বীর পুরুষের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করতে গিয়ে নিজেই প্রস্তাব দিয়ে তাঁকে বিবাহ করেন।

হযরত হাফসা (রাযি.)এর মেজায পিতার মত একটু কড়া ছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সাথে কথায় সমান উত্তর দিতে অভ্যস্ত ছিলেন। হযরত উমর (রাযি.) বিষয়টি জ্ঞাত হয়ে তাঁকে সাবধান করে দিয়ে তিরস্কার করেন।

হযরত আয়েশা (রাযি.)এর সাথে তাঁর সবচেয়ে বেশি হৃদ্যতা ছিল। অবশ্য মাঝেমধ্যে তাঁদের উভয়ের মধ্যে স্বপত্নী সূলভ ছোটখাটো বিরোধও হত।

হিজরী ৪৫ সনে হযরত মুআবিয়া (রাযি.)এর আমলে তিনি মদীনায় ইন্তিকাল করেন। যৎসামান্য আসবাবপত্র ছিল, তা তিনি গরিব-মিসকীনদের মধ্যে অন্তিমকালে বিলিয়ে দেন। তৎকালীন মদীনার শাসনকর্তা হযরত মারওয়ান ইবনে হাকাম (রহ.) তাঁর জানাযার নামাযে ইমামতি করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) এবং তাঁর পুত্রগণ তাঁর লাশ কবরস্থ করেন। হযরত আবু হুরাইরাহ (রাযি.)ও তাঁর দাফনে অংশগ্রহণ করেন।

হযরত যাইনাব বিনতে খুযাইমাহ (রাযি.)
------------------
প্রথমে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাযি.)এর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পাদিত হয়। উহুদের যুদ্ধে তাঁর স্বামী শহীদ হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বিধবা অবস্থায় তাঁকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর তিনি মাত্র ৩/৪ মাস বেঁচে ছিলেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জানাযার নামায পড়ান। জান্নাতুল বাকীতে তাঁর দাফন হয়।

তিনি গরিব-মিসকীনদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন। তাই তিনি ‘উম্মুল মাসাকীন’ বা মিসকীনদের জননী নামেই সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন। হযরত খাদিজা (রাযি.)এর পরে একমাত্র তিনিই রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মুবারক হাতে কবরস্থ হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন।

হযরত উম্মে সালামা (রাযি.)
---------------
তাঁর প্রকৃত নাম হিন্দ এবং ডাক নাম উম্মে সালামা। তাঁর পিতার নাম সুহাইল এবং মাতার নাম আতিকা। তাঁর প্রথম বিবাহ সম্পন্ন হয় রাসূলুল্লাহ (সা.)এর দুধ ভাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল আসাদ (রাযি.)এর সঙ্গে। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করে স্বামীর সাথে হাবশাতে হিজরত করেন। পরবর্তীতে হাবশা থেকে মক্কায় ফিরে আসেন এবং দ্বিতীয় দফায় মহিলাদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মদীনায় হিজরত করেন। তাঁর স্বামী উহুদ যুদ্ধে মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তীতে মদীনায় শাহাদাত বরণ করেন। সে সময় তিনি সন্তানসম্ভবা ছিলেন। সন্তান প্রসবান্তে ইদ্দত পালনের পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই প্রস্তাব পাঠিয়ে তাঁকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন।

তিনি উম্মুল মু’মিনীনগণের মধ্যে সর্বশেষে মদীনায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর ইন্তিকালের তারিখ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য বর্ণনা মতে তিনি ৮৪ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।

মেধা ও পান্ডিত্যে হযরত আয়েশা (রাযি.)এর পরেই তাঁর স্থান সর্বজন স্বীকৃত। হযরত আয়েশা (রাযি.)এর মতামতের পর তাঁর মতামতকেই প্রাধান্য দেয়া হত। হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রাযি.) মতান্তরে হযরত আবু হুরাইরাহ (রাযি.) তাঁর জানাযার নামাযে ইমামতি করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে তাঁর দাফন হয়।

হযরত যাইনাব বিনতে জাহাশ (রাযি.)
----------------
হযরত যাইনাব বিনতে জাহাশ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ফুফাত বোন ছিলেন। প্রথমে হযরত যায়েদ (রাযি.)এর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পাদিত হলেও তিনি হযরত যায়েদ (রাযি.)এর সাথে ঘর করতে অনীহা প্রকাশ করার প্রেক্ষিতে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ৩৫ বছর বয়সে নবী কারীম (সা.)এর স্ত্রী হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হযরত আয়েশা (রাযি.)এর সমকক্ষতা আশা করতেন।

তিনি ইবাদত-বন্দেগীতে ছিলেন অত্যন্ত মিতব্যয়ী ও উদার চিত্তের অধিকারীনী। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করে কষ্টে জীবন-যাপন করেও সবকিছু আল্লাহর রাহে ব্যয় করতেন।

হযরত উমর (রাযি.)এর খিলাফতকালে ২০ হিজরীতে তিনি মদীনায় ইন্তিকাল করেন। তিনি তাঁর কাফনের সরঞ্জাম নিজেই আগাম ব্যবস্থা করে রাখেন। হযরত উমর (রাযি.) তাঁর নামাযে জানাযার ইমামতি করেন। হযরত উসামা (রাযি.), হযরত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ (রাযি.) প্রথমে তাঁর লাশ জান্নাতুল বাকীর কবরে নামান। নবীজি (সা.)এর ইন্তিকালের পর নবীপত্নীদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইন্তিকাল করেন।

হযরত জুওয়াইরিয়াহ (রাযি.)
-------------
তাঁর পিতার নাম হারিস ইবনে যারারা। তাঁর পিতা মুস্তালিক গোত্রাধিপতি ছিলেন। মুনাফ ইবনে সাফ্ওয়ানের সাথে তাঁর প্রথম বিবাহ হয়। মুরাইসীর যুদ্ধে তাঁর স্বামী নিহত হওয়ায় তিনি যুদ্ধ বন্দিনীরূপে মদীনায় আনীত হন। যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে তিনি হযরত সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস (রাযি.)এর ভাগে পড়েন। তৎকালীন আইন মোতাবেক অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে ঊনিশ উকিয়া স্বর্ণ মুক্তিপণের শর্ত চূড়ান্ত করত রাসূলুল্লাহ (সা.)এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত সাহায্য প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। দয়ার নবী (সা.) তাঁর মুক্তিপণ আদায়ের নিশ্চয়তা প্রদান করেন এবং বিবাহের প্রস্তাব পেশ করলে তিনি বিবাহে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

পরবর্তীতে এ বিবাহের খবর জানাজানি হলে সাহাবায়ে কিরাম বনী মুস্তালিক গোত্রের প্রায় সাত শতাধিক যুদ্ধবন্দীকে (যারা দাসদাসী হিসেবে ইতোমধ্যে সাহাবীগণের মধ্যে বন্টিত হয়ে ছিলেন) মুক্তি প্রদান করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর এই দাম্পত্য সম্পর্কের শুভ প্রতিক্রিয়া বহুদূর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। কোন কোন বর্ণনা মতে হযরত জুওয়াইরিয়াহ (রাযি.)এর অনুরোধেই এ মুক্তির ঘটনা ঘটে। তিনি ৫০ হিজরী সনে ৬৫ বছর বয়সে মদীনায় ইন্তিকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে তাঁর দাফন হয়।

হযরত উম্মে হাবীবাহ (রাযি.)
---------------------
তাঁর প্রকৃত নাম রামলা এবং উপনাম উম্মে হাবীবাহ। তিনি নবুওয়্যাতের ১৭ বছর পূর্বে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশের সাথে বিবাহ হয়। নবুওয়্যাতের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ইসলাম গ্রহণের গৌরব লাভ করেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হাবশায় হিজরত করেন। সেখানে হাবীবাহ নামে তাঁদের এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

আবিসিনিয়ায় পৌঁছে তাঁর স্বামী খ্রীস্ট ধর্ম গ্রহণ করলেও তিনি ইসলাম ধর্মের উপর অটূট থেকে স্বামী পরিত্যক্তারূপে দিন কাটান। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বিপন্নাবস্থা ও ঈমানের দৃঢ়তার বিষয় জানতে পেরে হযরত উমর ইবনে উমাইয়া মুযারী (রাযি.)কে বাদশা নাজ্জাশীর কাছে হযরত উম্মে হাবীবাহ (রাযি.)এর জন্য বিবাহের পয়গাম নিয়ে প্রেরণ করেন। বাদশা নাজ্জাশীর প্রস্তাবনায় হিজরতকারী মুসলমানদের উপস্থিতিতে ৪০০ স্বর্ণমুদ্রা মোহরের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পাদিত হয়। বাদশা নাজ্জাশী নিজে মোহরের অর্থ পরিশোধ করে ওলীমা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে বাদশা নাজ্জাশী বেশ কিছু উপঢৌকনসহ সাহাবী হযরত শরাইবিল ইবনে হাসনা (রাযি.)এর মাধ্যমে হযরত উম্মে হাবীবাহ (রাযি.)কে মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)এর খেদমতে প্রেরণ করেন। তিনি হিজরী ৪৪ সনে মদীনায় ইন্তিকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে দাফন হন।

হযরত মাইমুনাহ (রাযি.)
---------------
হযরত মাইমুনাহ (রাযি.)এর পিতার নাম হারিস এবং মাতার নাম হিন্দা। প্রথম স্বামী মাসঊদ ইবনে উমাইরীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে দ্বিতীয় স্বামী আবু রহম ইবনে উজ্জার মৃত্যুর পর তিনি নবী কারীম (সা.)এর পত্নী হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর খেদমতে উৎসর্গ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করার প্রেক্ষিতে ‘সরিফ’ নামক স্থানে দয়ার নবী (সা.)এর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পাদিত হয়। হযরত আব্বাস (রাযি.) উক্ত বিবাহ পড়ান।

দীর্ঘদিন পর তিনি একই স্থানে ইন্তিকাল করেন এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) তাঁর জানাযার নামায পড়ান এবং লাশ কবরস্থ করেন। তাঁর ইন্তিকালের সন সম্বন্ধে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে তিনি হিজরী ৫১ সনে ‘সরিফ’ নামক স্থানে ইন্তিকাল করেন।

হযরত সাফিয়্যাহ (রাযি.)
--------------
তাঁর প্রকৃত নাম যাইনাব, পিতার নাম হুওয়াই ইবনে আখ্তাব, মাতা বনু কুরাইযা গোত্রের সর্দারের কন্যা। তাঁর পিতা বনু নযীর গোত্রের প্রধান তথা খাইবার অধিপতি ছিলেন। যুদ্ধবন্দিনী হিসেবে মদীনায় পৌঁছে পরবর্তীতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)এর স্ত্রী হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। যুদ্ধলব্ধ মালের দলপতির জন্য রক্ষিত সর্বোৎকৃষ্ট অংশকে ‘সাফিয়্যাহ’ বলা হয়। এই সুবাদেই তাঁকে সাফিয়্যাহ নামে ডাকা হত।

তাঁর প্রথম স্বামীর নাম সালাম ইবনে মাশকামুল কাবশী। প্রথম স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে কানানা ইবনে আবুল হাফীফ-এর সাথে দ্বিতীয় বিবাহ হয়। কানানা খাইবার যুদ্ধে নিহত হয়। একজন সর্দারের কন্যা হওয়ার সুবাদে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে মুক্ত করে দেন। তাঁর নিজের অভিপ্রায়ের প্রেক্ষিতে খাইবার থেকে ফেরার পথে ‘সাহবা’ নামক স্থানে দয়ার নবী (সা.)এর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পাদিত হয় এবং সঙ্গে রক্ষিত খাদ্য সামগ্রী দিয়েই ওলীমা অনুষ্ঠান করা হয়।

হযরত নবী কারীম (সা.) তাঁকে বিশেষ মুহাব্বত করতেন। সর্বক্ষেত্রেই তাঁর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির প্রতি তিনি বিশেষ খেয়াল রাখতেন। তিনি হিজরী ৫০ সনে মদীনায় ইন্তিকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে দাফন হন।

হযরত মারিয়া ক্বিবতিয়া (রাযি.)
------------------
হযরত মারিয়া ক্বিবতিয়া (রাযি.) সম্পর্কে সাধারণ সীরাত গ্রন্থে তেমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে তিনি ‘আলিয়া’ নামক স্থানে বসবাস করতেন এরূপ বর্ণনা রয়েছে। হিজরী ৮ম সনে তাঁরই গর্ভে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সর্বকনিষ্ঠ পুত্র সন্তান হযরত ইবরাহীম (রাযি.) জন্মগ্রহণ করেন। হযরত ইবরাহীম (রাযি.) মতান্তরে দু’বছর বয়সের পূর্বেই ইন্তিকাল করেন। নবী কারীম (সা.) স্বয়ং তাঁর কনিষ্ঠ পুত্রের জানাযার নামায পড়ান এবং জান্নাতুল বাকীতে হযরত উসমান ইবনে মাযঊন (রাযি.)এর কবরের পাশেই সমাহিত করেন। হযরত ইবরাহীম (রাযি.)এর ইন্তিকালের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.)এর মুবারক চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রুধারা নেমে আসে। এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, জবাবে সাহাবীদেরকে বলেন, এটা পিতৃস্নেহ অশ্রুর ধারায় বিগলিত হয়ে নেমে এসেছে।

কোন কোন বর্ণনায় নবী কারীম (সা.)এর বিবিগণের সংখ্যা ৯ জন বর্ণিত হয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ বর্ণনা মতে তাঁর সম্মানিতা স্ত্রীগণের সংখ্যা ১১ জন। তবে হযরত যাইনাব বিনতে খুযাইমা (রাযি.) এবং মারিয়া ক্বিবতিয়া (রাযি.)এর বর্ণনা খুবই স্বল্প পাওয়া যায়। যেহেতু তাঁরা উভয়ে খুব স্বল্প সময় নবী কারীম (সা.)এর একান্ত সান্নিধ্যে ছিলেন। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ (সা.)এর স্ত্রীগণের সংখ্যা ৯ জন বলা হয়।

কোন কোন বর্ণনা মতে হযরত মারিয়া ক্বিবতিয়া (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ক্রীতদাসী ছিলেন বলে উল্লেখ আছে। তবে তিনি তাঁর সন্তান গর্ভে ধারণ করেছেন- এ সুবাদে বিশেষ মর্যাদার অধিকারীনী হবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হযরত নবী কারীম (সা.)এর সম্মানিতা স্ত্রীগণের মধ্যে একমাত্র হযরত আয়েশা (রাযি.)ই কুমারী ছিলেন। অন্যান্য স্ত্রীগণের সবাই ২য়, ৩য় অথবা ৪র্থ স্বামী হিসেবেই তাঁর সান্নিধ্য প্রাপ্ত হন। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর প্রত্যেকটি বিবাহের নেপথ্যে বিশেষ বিশেষ কারণ নিহিত ছিল। কারো ঈমানের দৃঢ়তার জন্য, কারো কষ্ট লাঘবের জন্য, কারো মার্যাদা রক্ষার জন্য এবং কারো ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ থাকার জন্য বিবাহগুলো অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর সবগুলো বিবাহই পূতপবিত্র। এ ব্যাপার বিরূপ মন্তব্যকারীরা অভিশপ্ত এবং লা’নতপ্রাপ্ত। রহমতে দুআলম (সা.)এর সব কাজই আল্লাহ তাআলা কর্তৃক অনুমোদিত। তাই এ ব্যাপারে বান্দার মন্তব্যের কোন অধিকারই থাকতে পারে না।
-----------------------------
লেখক: ফারেগে দারুল উলূম দেওবন্দ এবং উস্তাদুল ফিক্বহ ওয়াল হাদীস ও সহযোগী শিক্ষাসচিব- আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

জীবনের সর্বাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ‍সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবেহযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)-------------------...
26/08/2026

জীবনের সর্বাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ‍সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে
হযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)
----------------------------
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও মুফতি আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) বলেছেন, জীবনের সর্বাবস্থায় হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)এর ‍সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে। এতেই মুমিন জীবনের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে শান্তি ও কামিয়াবী নিহিত।

সম্প্রতি পবিত্র সীরাতুন্নবী বিষয়ে দারুল উলূম হাটহাজারীতে তার সাথে সাক্ষাতপ্রার্থী একদল তরুণ আলেমের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ইসলামের প্রতিটি বিধানই মানব কল্যাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণা করলে দেখা যাবে, ইবাদত-বন্দেগী থেকে শুরু করে ইসলামী বিধান ও নির্দেশণার সবকিছুই যদি মেনে চলা হয়, তাহলে জগতে শান্তি আর শান্তি বিরাজ করবে। কোথাও কোন জুলুম-অত্যাচার থাকবে না। অবিচার ও বেইনসাফি থাকবে না। সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে। মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। আর ইসলামের বিধানকে চিনতে ও বুঝতে হলে রাসূল (সা.)এর সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ৩১ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন, “হে রাসূল! (স.) আপনি বলুন! যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও, তবে আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়”। আল্লাহতায়ালা সূরা হাশনের ৭নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন, “রাসূল (স.) তোমাদের যা আদেশ দেন, তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাক”। সূরা নিসার ৮০নং আয়াতে তিনি আরো ইশাদ করেছেন, “যে রাসূলের (স.) আনুগত্য করল,সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল,আমি আপনাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রেরণ করিনি”।

আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) বলেন, পবিত্র কুরআনে সুন্নাহর অনুকরণ-অনুস্বরণের জন্য অত্যাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন এ কথাও বলেছে,কেউ যদি সুন্নাহর অনুসরণ না করে,তবে তার ঈমান যথাযথ হবে না। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,তোমার পালনকর্তার কসম! সে লোক ঈমানদার হবে না,যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে অর্থাৎ নবী (সা.)কে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্টিচিত্তে তা কবুল করে নেবে।

হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (স.)এর সুন্নাহ আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে তিনি ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস আঁকড়ে থাকবে, ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না। যথা- আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।

আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) উপস্থিত তরুণ আলেমদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আল্লাহ নিজ রহমতে আপনাদেরকে বাছাই করে দ্বীনি ইলম অর্জনের তাওফীক দান করেছেন। সুতরাং এই ইলমকে নিয়ামত হিসেবে গ্রহণ করে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা দিতে হবে। নিজের জীবনকে আপনারা সুন্নাহ অনুযায়ী গড়ে তুলবেন। আর দ্বীনি তালিমকে নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করবেন। এতে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, আদর্শ সমাজ ও দেশগড়ায় আপনাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। যাতে আপনাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সম্মান ও মর্যাদাজনক হবে, ইনশাআল্লাহ।

তরুণ আলেমদের উদ্দেশ্যে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) বলেন, জীবন চলার পথে আপনারা সর্বক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সুন্নাতের পূর্ণ অনুসরণ করে চলবেন। গুরুত্বের সাথে জামাআতের সাথে নামায আদায় করবেন। দৈনিক কুরআন তিলাওয়াত করবেন। সকল উম্মতে মুহাম্মদীর ইহ-পরকালীন কল্যাণে নিজেদেরকে সদা নিয়োজিত রাখবেন। ইলমে ওহী এবং হুযূর (সা.)এর তরীক্বার প্রচার-প্রসারকে আল্লাহ তাআলার বিরাট এক নিয়ামত হিসাবে ধারণ করবেন, যে নিয়ামতের বিপরীতে জগতের সব কিছু নগন্য ও তুচ্ছ। সাধ্যমতো দেশ, জাতি ও উম্মাহর কল্যাণে কাজ করে যাবেন। পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, সমাজের কল্যাণে সজাগ থাকবেন। যেখানেই থাকুন না কেন, দ্বীনি ইলমের প্রচার-প্রসারে কাজ করে যাবেন এবং দাওয়াত ও তাবলীগে সময় লাগাবেন। সুস্থির ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে দ্বীনি কাজ আঞ্জাম দিবেন।

এ পর্যায়ে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) তরুণ আলেমদের উদ্দেশে রাসূল (সা.)এর অন্তিম অসিয়তের উল্লেখ করে বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)এর সাহাবায়ে কেরামের প্রতি শেষ অসিয়ত ছিল তিনি ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্কে ভয় করার এবং (তোমাদের আমিরের কথা) শোনার ও তাঁর অনুগত থাকার উপদেশ দিচ্ছি, হোক না সে ইমাম একজন হাবশী গোলাম। আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তাদের মধ্যে অল্প দিন পরই মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার হিদায়াত প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। অর্থাৎ- সুন্নাতের উপর খুব অটল ও অবিচল থাকবে। নবাবিষ্কৃত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা, প্রত্যেক নবাবিষ্কৃত কাজই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী”।

আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) রাসূল (সা.)এর আরেকটি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সাহাবী আবু যর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার হুযূর (সা.)এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাকে কিছু নসীহত করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে আল্লাহ্কে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা, তাঁর ভয়ই সকল কাজের সৌন্দর্য। আমি বললাম, আরও কিছু নসীহত করুন। তিনি বললেন, “কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকরকে তোমার জন্য আবশ্যক করে নাও। কেননা, এর দ্বারাই আকাশে তোমার ব্যাপারে আলোচনা হবে এবং পৃথিবীতে হবে তোমার জন্য নূর”। প্রিয় নবী (সা.)এর এই নসীহতই আপনাদের জীবন পরিচালনার জন্য পথনির্দেশিকা হিসেবে যথেষ্ট মনে করি।

তিনি বলেন, আপনারা সাহাবা, তাবেয়ী, তবে-তাবেয়ী, মুহাদ্দেসীন, মুজতাহিদীন, আউলিয়ায়ে কেরাম, আকাবিরে দেওবন্দ ও আকাবিরে হাটহাজারী’র মাসলাকের সাথে গভীরভাবে জড়িত হওয়ায় আপনাদের কাঁধেও দাওয়াতের মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের উদ্দেশ্যে এ ক্ষেত্রে আপনাদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শকে আক্বীদা ও আমল, তথা জীবনের সর্বক্ষেত্রে শক্ত হাতে ধারণ করে চলতে হবে। আপনারা ইলমী দক্ষতা, খোদাভীতি, একনিষ্ঠতা, আল্লাহর উপর ভরসা ও সুন্নাত অনুসরণের মজবুত হাতিয়ার নিয়ে দেশ ও জাতির পথপ্রদর্শনে আত্মনিয়োগ করবেন। এবং তালিম, দাওয়াত ও তাবলীগ, ইমামত, বক্তৃতা-বিবৃতি, ওয়াজ-নসীহত ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে পথহারা এই জাতিকে পথের দিশা দান করবেন। মনে রাখবেন, এ পথ অমসৃণ ও অনেক কণ্টকাকীর্ণ। ধৈর্য, সহনশীলতা, দৃঢ়তা, গাম্ভীর্যতা, ত্যাগ-তিতীক্ষা ও সহমর্মিতা দ্বারা এসব বাধা অতিক্রম করতে হবে। পদদলিত করতে হবে যশ ও খ্যাতির লোভ লালসাকে। এতেই নিহিত রয়েছে সুদীর্ঘ এক যুগ ব্যাপী কঠোর সাধনার সার্থকতা। আপনারাই হচ্ছেন ভবিষ্যত জাতির কান্ডারী, দ্বীনের ধারক-বাহক। তাই আপনাদেরকে ইলম, আখলাকের প্রতিটি স্তর অতি মেহনত ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অতিক্রম করতে হবে। দোয়া করি, মহান আল্লাহ আপনাদেরকে দেশ ও জাতির জন্য সঠিক পথপ্রদর্শক হিসেবে কবূল করুন।

Address

Fotika, Hathazari
Chittagong
4330

Telephone

+8801638234535

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী:

Shortcuts

Share