Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

Darul Uloom Mueenul Islam  দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ
(3)

জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর মুখপত্র“মাসিক মুঈনুল ইসলাম”জুন- ২০২৬ইং সংখ্যায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ লেখা আছে....-------...
26/05/2026

জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর মুখপত্র
“মাসিক মুঈনুল ইসলাম”
জুন- ২০২৬ইং সংখ্যায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ লেখা আছে....
------------------------------------------------------
▬ মুসলিম উম্মাহর নৈতিক অবক্ষয় কারণ ও উত্তরণের পথ

▬ ব্যক্তিগত বিষয়, সামাজিক দায় ও ইসলামী প্রজ্ঞার দাবি

▬ অল্পেতুষ্টির দৌলত: দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্তির পথ

▬ মুসলিম বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নেপথ্য কারণ

▬ হিজরী নববর্ষ: মুসলিম উম্মাহর স্বকীয়তা ও আদর্শিক পুনর্জাগরণের পয়গাম

▬ বিশ্বে একই দিনে ঈদ পালনের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী

▬ আখলাকি সঙ্কট, আত্মবিস্মৃতি ও উত্তরণের পথ

▬ পার্বত্য চট্টগ্রাম: খ্রিস্টায়ন ও ইসলামভীতির নেপথ্যে

▬ আল্লাহর হুকুম পালনে সীমালঙ্ঘন করলে ধ্বংস অনিবার্য

▬ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও মুসলিম বিশ্বের অস্থিরতা

▬ শরীয়তের আলোকে মুহাররম মাসে কথিত শোক পালন

▬ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?

▬ দাম্পত্যের সার্থকতা: প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি ও সঠিক তারবিয়াত

▬ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: কার লাভ কার ক্ষতি?

▬ পুরুষের মুখাবয়বে দাড়ি: সুন্নাহর সৌন্দর্য

▬ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মর্মকথা

▬ আসমানী প্রজ্ঞা, ইনসাফ ও সৃষ্টির তাসবীহ

▬ শহীদ ইয়াহইয়া আস সিনওয়ার (রহ.)এর ধারাবাহিক উপন্যাস: কাঁটা ও সুরভী

▬ জনপ্রিয় পাঠকের ধর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্নোত্তর বিভাগ- ‘জিজ্ঞাসা-সমাধান’
-----------------------------------------------------
* রেজিঃ ডাকযোগে ১ বছরের সাবস্ক্রিপশন: মাত্র ৩০০ টাকা!

* ঘরে বসেই রেজি: ডাকে পত্রিকাটি নিয়মিত পেতে চাইলে যোগাযোগ করুন- মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ- ০১৭২২-২২৯৬২১

* একসাথে ৫/১০ কপি নিতে চাইলে আকর্ষনীয় ডিসকাউন্টে আলাদা ব্যবস্থা আছে।

ঈদুল আযহাঃ করনীয়, বর্জনীয় এবং আমাদের দায়িত্ব- হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.)-----------------------মুসল...
26/05/2026

ঈদুল আযহাঃ করনীয়, বর্জনীয় এবং আমাদের দায়িত্ব
- হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.)
-----------------------
মুসলিম উম্মাহর জীবনে অন্যতম একটি ইবাদত ‘ঈদুল আযহা’। আত্মত্যাগ ও মানবতার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর মুসলমানের সামনে হাজির হয় এ ইবাদাত । যিলহজের দশ তারিখ (১ আগস্ট) মহাসমারোহে পালিত হবে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এই ইবাদত।

ঈদের দিন মুমিন মুসলমানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। নিজেকে পরিপাটি ও সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়ে এসব আমল পালন করতে হয়।

ঈদের দিনের বিশেষ আমল/ সুন্নাহ
১. অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। [বায়হাকী, হাদীস নং-৬১২৬]

২. মিসওয়াক করা। [তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/৫৩৮]

৩. গোসল করা। [ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩১৫]

৪. শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৪৮]

৫. সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৪৮, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং -৭৫৬০]

৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-৭৫৬০]

৭. ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদের নামাযের পর নিজের কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম। [বুখারী, হাদীস নং-৯৫৩, তিরমিজী, হাদীস নং-৫৪২, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৬০৩]

৮. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৭]

৯. ঈদের নামায ঈদগাহে আদায় করা, বিনা অপরাগতায় মসজিদে আদায় না করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৫৬, আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৮]

১০. যে রাস্তায় ঈদগাতে যাবে, সম্ভব হলে ফিরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৮৬]

১১. পায়ে হেটে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৪৩]১২. ঈদুল আযহায় যাবার সময় পথে এ তাকবীর আওয়াজ করে পড়তে থাকবে। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-১১০৫]

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

ঈদ হল মুসলমানদের শান-শওকত প্রদর্শন, তাদের আত্মার পরিশুদ্ধতা, তাদের ঐক্য সংহতি ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। কিন্তু দুঃখজনক হল- বহু মুসলিম এ দিনটাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে জানে না। তারা এ দিনে বিভিন্ন অনৈসলামীক কাজ-কর্মে মশগুল হয়ে পড়ে। এ ধরনের কাজ-কর্ম থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিৎ। নিম্নে এ ধরনের কিছু কাজের আলোচনা করা হল-

১. কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন ধরনের কাজ বা আচরণ করা। “[আবু দাউদ ৩৫১২]

২. পুরুষ কর্তৃক মহিলার বেশ ধারণ করা ও মহিলা কর্তৃক পুরুষের বেশ ধারণ করা ।” [সহীহ আল-জামে হাদীস নং ৪৫৮৪ ]

৩. বেগানা মহিলা পুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা। [মুসলিম:৩৯৭১]

৪. গান-বাদ্য বাজানো। [বুখারী পৃ: ২৯৪ অধ্যায়: ১৭]

ঈদুল আযহায় পরিচ্ছন্নতা ও আমাদের দায়িত্ব

ঈদুল আযহা বা কুরবানি ঈদে খাবার-দাবারের প্রাচুর্য যেমন থাকে, তেমনি কুরবানি পশুর বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনাও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। এই ময়লা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আবার পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় যা অনেক সময় নানা রোগ বালাইও নিয়ে আসে। আমরা অধিকাংশ মানুষই পশু কুরবানির জন্য তেমন কোনো সতর্কতা অবলম্বন করি না।

যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজের কুরবানিকৃত পশুর বর্জ্যও কোনো রকমে ফেলে চলে আসি। অথচ এজন্য প্রত্যেকের সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান থাকার পাশাপাশি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব আছে।

আশেপাশের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পশুর হাটের বর্জ্য মাটি চাপা দিতে হবে। আর শহরে তো সিটি কর্পোরেশনের গাড়িই আছে। কুরবানি পশুর কোনো বর্জ্যই নর্দমা, নালা, ড্রেন এসব জায়গায় ফেলা যাবে না।

কুরবানির পর পশুর রক্ত, বর্জ্য এগুলো খোলা স্থানে ফেলে রাখা উচিত নয়। গর্ত করে সেখানে পুতে ফেলতে হবে। রক্ত ও নাড়িভুড়ি যেহেতু খুব অল্প সময়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় তাই তা মাটি চাপা দিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। আবার মাটি থেকে সরানো সম্ভব না হলে পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। অন্যথায় জীবাণু জন্মে তা থেকে নানা রোগ ছড়াবে।

এছাড়া কুরবানি পশুর চামড়ার ক্ষেত্রে তা খোলা জায়গায় পরিষ্কার করতে হবে। ময়লা দুর্গন্ধ ছড়াবে এমন জায়গায় এই কাজ না করাই ভালো। কুরবানি পশুর চামড়া নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে আমাল করার তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

লেখক: মুহতামিম, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহজাারী, চট্টগ্রাম।

যেসব কারণে হজ্জে ‘দম’ দিতে হয় এবং ‘দম’ আদায়ের নিয়ম----------------প্রশ্ন: আমরা জানি, হজ্জের মধ্যে জিনায়েতের কারণে দম দি...
26/05/2026

যেসব কারণে হজ্জে ‘দম’ দিতে হয় এবং ‘দম’ আদায়ের নিয়ম
----------------
প্রশ্ন: আমরা জানি, হজ্জের মধ্যে জিনায়েতের কারণে দম দিতে হয়। এই দম দেয়ার নিয়ম কী? এবং এটি কারা খেতে পারবে?

– আবু বকর, পাবনা।

ফতোয়া: উট, গরু ও ছাগল; এই তিন শ্রেণির প্রাণির যেকোনো একটি দিয়েই জিনায়েতের দম আদায় করা যায়। তবে সর্বোত্তম হলো দমের জন্য উট নির্বাচন করা। তারপর গরু, এরপর ছাগল।

তবে দুটি ক্ষেত্রে তথা জুনুবী অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারত করলে বা উকূফে আরাফার পর সহবাস করলে দম স্বরূপ ছাগল দেওয়া জায়েয হবে না; বরং উট বা গরু দিতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে কুরবানীর পশুর যে হুকুম, দমের ক্ষেত্রেও সেই হুকুম প্রযোজ্য।

জিনায়াতের দম কুরবানীর তিন দিনসহ বছরের যে কোনো সময়ে আদায় করতে পারবে। তবে হারাম শরীফের চৌহদ্দিতেই আদায় করতে হবে। যবাই করার পর প্রাণীর রশি, লাগাম ও গোশত মিসকীনদেরকে সদাকা করে দিবে।

হারাম শরীফের মিসকীনদের তুলনায় যদি হারামের বাইরের মিসকীনরা বেশি মুখাপেক্ষী না হয়, তাহলে হারাম শরীফের মিসকীনদেরকেই সদাকা করা উত্তম।

হজ্জে দুই ধরনের দম দেয়া হয়। এক. দমে শোকর। যেমন- হজ্জে তামাত্তু ও হজ্জে কেরানের দম। এ প্রকারের দম থেকে দমদাতাসহ অন্য যে কোনো ব্যক্তিই খেতে পারবে। দুই. দমে জিনায়াত ও ইহসার। অর্থাৎ- হজ্জে কোনো ওয়াজিব তরক হওয়ার দরুন যেই দম আবশ্যক হয়।

এমনিভাবে ইহরাম বাঁধার পর হজ্জে যেতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যে দম আবশ্যক হয়, এ প্রকারের দম থেকে দমদাতা নিজে ভক্ষণ করতে পারবে না। এমনিভাবে কোনো ধনী মানুষও তা থেকে ভক্ষণ করবে না। এটি গরীব মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দিতে হবে। (ফাতহুল কাদীর- ৩/১৬১, ৩/১৬২, রদ্দুল মুহতার- ২/৬১৬, আল বাহরুর রায়েক- ৩/৭৮)।

উত্তর দিয়েছেন- আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন
মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসীর-
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।

পবিত্র কুরবানীঃ ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করে- মাওলানা মুনির আহমদ (হাফি.)-----------------আদিকাল হতেই কুরবানীর রীতি চলে আ...
26/05/2026

পবিত্র কুরবানীঃ ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করে
- মাওলানা মুনির আহমদ (হাফি.)
-----------------
আদিকাল হতেই কুরবানীর রীতি চলে আসছে। হযরত আদম (আ.)এর পুত্রদ্বয় হাবিল ও কাবিল এক বিশেষ ব্যাপারে ফলাফল নির্ণয়ের জন্য যথাক্রমে হাবিল একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা এবং কাবিল কিছু শস্য কুরবানী স্বরূপ পেশ করেছিলেন। হাবিলের কুরবানী কবুল হল। আসমান থেকে একটি অগ্নি শিখা এসে হাবিলের দুম্বা ভস্ম করে দিল। আর কাবিলেরটা কবুল হল না, তার শস্য আসমানী আগুন জ্বালালো না। সে সময় কুরবানী কবুল হওয়া না হওয়ার এরূপ নিশানাই সাব্যস্ত ছিল।

হযরত ইব্রাহীম (আ.)কে আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে বহু রকমের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এবং তিনিও প্রতিটি পরীক্ষায় চরম কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘খলিলুল্লাহ্ (আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু)’ উপাধীতে ভূষিত হন।

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় ছেলে হযরত ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানী করতে আদিষ্ট হয়ে সকল স্বার্থ দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে, সকল মায়া-মুহাব্বত বিসর্জন দিয়ে হুকুমের যথার্থ তা’মীল করেছিলেন। ফলে ইরশাদে ইলাহী নাযিল হয়, “ক্বাদ সাদ্দাকতার রুইয়া…”।

অর্থাৎ- ‘হে নবী! আপনি স্বপ্নের আদেশকে যথানুরূপ বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর কর্তব্য পরায়ণতা, খোদাভক্তি ও নিষ্ঠার চরম পরাকাষ্ঠা প্রত্যক্ষ করে মহান আল্লাহ্ খুশী হয়ে বেহেশ্তী দুম্বা পাঠিয়ে দেন। ইসমাঈল (আ.)এর পরিবর্তে দুম্বা কুরবানী হয়। তাই আজ কুরবানীর নামে হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম-সাধনা ও প্রেম-নৈকট্যের দৃষ্টান্ত ও আত্মত্যাগ নিয়ে প্রতি বছর বিশ্ব মুসলিম আল্লাহর দুয়ারে সমাগত হয়।

সুতরাং আমাদের মাঝে হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর চরম আত্মত্যাগ অবিস্মৃত স্মৃতিরূপে ভাষ্কর হয়ে আছে। সাথে সাথে আল্লাহ্ তাআলা পরবর্তীদের জন্য সেই কুরবানীকে একটি পালনীয় রীতি হিসেবে সাব্যস্ত করেন। ইরশাদ হচ্ছে- “ফাত্তাবিউ মিল্লাতা ইব্রাহীমা হানীফা” অর্থাৎ ‘একনিষ্ঠভাবে তোমরা ইব্রাহীমী মিল্লাতের অনুসরণ কর।’ (সূরা আলে ইমরান- ৯৫)।

মোটকথা, ‘কুরবানী’ হচ্ছে ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রদর্শনের মাধ্যমে মাহান আল্লাহর অধিক নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জনের অনন্য সোপান। কুরবানীর মাধ্যমে বান্দা স্বীয় খাহেশাতকে বিসর্জন দিয়ে মহান আল্লাহর সমীপে আত্মনিবেদন পূর্বক তাঁর আদেশ সম্পর্কিত হুকুম পালন করতঃ তাঁর নৈকট্য লাভে অগ্রসর হয় বিধায় এটিকে ‘কুরবান’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

লক্ষণীয় যে, হযরত ইসমাঈল (আ.) যবেহ না হলেও হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর আন্তরিকতা ও পূর্বাপর সকল প্রস্তুতিকেই আল্লাহ্ তাআলা ‘বাস্তবায়ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা কবুল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তাআলা তো দেখেন মানুষের আন্তরিকতাময় ইচ্ছাকে।

প্রতি বছর আমরা যে পশু কুরবানী করছি, তার গোশত তো আমরাই খাচ্ছি। তার চামড়া-হাড় দ্বারা তো আমারাই উপকৃত হচ্ছি। কুরবানীর পশুর কোন কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। তাহলে এই কুরবানীর উদ্দেশ্য কি? কালামে পাকে ইরশাদ হচ্ছে, “লাঁই ইয়ানালাল্লাহা লুহুমুহা ওলা দিমাউহা ওলা কিন ইয়ানালাল্লাহুত্ তাক্বওয়া মিনকুম”। অর্থাৎ-‘ কুরবানীর পশুর গোস্ত আল্লাহ্ তাআলার কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে না তার রক্ত। তবে তোমাদের তাক্বওয়াই তাঁর কাছে যায়। (সূরা হজ্ব- ৩৭)। আল্লাহ্ তাআলা পরীক্ষা নেন কেবল আমাদের মনোবৃত্তিরই।

কিন্তু আজ আমাদের সামাজের দিকে তাকালে কি দেখতে পাই? আমারা দেখতে পাই, কুরবানীকে যেন গোশত ভক্ষণের এক মহোৎসব মনে করা হয়। সমাজের যারা সম্পদশালী, তারা যেন কুরবানীর পশু ক্রয় করতে এক রকম প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন। কে কত চড়া দামে পশু ক্রয় করবেন, এটাই হয়ে উঠে মূখ্য বিষয়।

আর যারা অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল, দরিদ্র, তারা ঈদুল আযহা আসলেই এক মহাচিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তারা কুরবানী না দিতে পারায় মনো বেদনায় ব্যথিত হন। নিজেদের সমর্থহীনতার কথা বিবেচনা করা হয় না; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু সামাজিকতা মেইনটেন করার জন্য কুরবানী করা হয়। এমন কি তারা কুরবানী করার জন্য ঋণ পর্যন্ত করতেও বাধ্য হয়। জিজ্ঞেস করলে বলে- সবাই দিচ্ছে, আমি দিব না; এটা কেমন হয়। তাছাড়া বাড়ীতে স্ত্রী-পরিজন নিয়ে গোশত খাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

সাত ভাগে কুরবানী দেওয়া যায়। সাতভাগে কুরবানী দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের নিয়্যাতের কতটা নিষ্ঠতা থাকে, তা ভাবার বিষয়। যে সমাজে দুই জন লোক এক হতে পারে না, ভাই ভাই দ্বন্দ্ব-কলহ্ লেগেই থাকে। ফলে সাত ভাগের কুরবানীর ক্ষেত্রে গোশত ভাগ বণ্টনের সময় দেখা যায় তুমুল বাক বিতন্ডা। এতে গোশত ভক্ষণের উদ্দেশ্যটাই যেন ফুটিয়ে তোলা হয়। অথচ একমাত্র মহান আল্লাহর হুকুম তা’মিল ও তাঁকে রাজি-খুশী করার জন্যই কুরবানী দেয়ার ব্যাপারে সবার নিয়্যাত এক থাকা অপরিহার্য। না হলে কুরবানী হবে না। অথচ আমরা ক’জনই বা সেদিকে লক্ষ্য রাখি!

কিন্তু যদি হযরত ইসমাঈল (আ.)এর যবেহই মঞ্জুরে ইলাহী হত এবং হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর হাতে তাঁর কুরবানী হত, আর সেই আমলের পরম্পরায় আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানদেরকে যবেহ করার হুকুম হত, তা কত কঠিন ব্যাপারই না ছিল! তথাপি মুসলমান হিসেবে জীবন যাপন করলে আমাদের তা পালন করতেই হত। এ ক্ষেত্রে পরম করুণাময় আল্লাহ্ আমাদের উপর বড় মেহেরবানী করেছেন যে, তিনি পশু কুরবানীকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন।

তাই ইব্রাহীমী কুরবানীর স্মৃতি গাঁথা ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। খলীলী ইশকের দীক্ষায় উজ্জিবিত হয়ে আহকামে ইলাহীর সামনে নিজের খাহেশাত বা কামনা বাসনাকে কুরবান করতে হবে। সর্বান্তকরণে নিজেকে সঁপে দিতে হবে ইসলামের তরে। প্রকৃতপক্ষে কুরবানী হচ্ছে ত্যাগের এক সমুজ্জল দৃষ্টান্ত।

বলাবাহুল্য, পশু কুরবানী তো একটি প্রতিকী আমল। এর অন্তর্নিহিত কৃতজ্ঞতা-ই একে অর্থবহ করে তুলেছে। কারণ, আল্লাহর জন্য সবচেয়ে প্রিয় বস্তু বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়েই কুরবানীর সূচনা হয়। তাই কুরবানীর প্রক্কালে সর্বাগ্রে নফ্সানী খাহেশাত, প্রবৃত্তি, লোভ-লালসা ও দুনিয়ামুখিতার গলায় ছুরি চালাতে হবে। নিজের মনের খেয়াল খুশিতে নয়, বরং আল্লাহ্ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ মোতাবেক সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে চলার সংকল্প করতে হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহিতার আশঙ্কায় সর্বপ্রকার অনৈসলামিক বা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

মানুষ যেখানে সারাক্ষণ নিজের সামান্য কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার জন্য, নিজের চাহিদা পূরণের জন্য যে কোন রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে, সেখানে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নির্দেশ পালন কল্পে, তাঁর রহমতের দারে কড়া নাড়ার জন্য, তাঁর দয়া দৃষ্টি নিজের দিকে আকর্ষণ করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে সর্বোচ্চ কুরবানী করতে হবে। এ ত্যাগ এ কুরবানী পশু কুরবানী থেকে শুরু করে আত্মোৎসর্গ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। খোদাভীতির সামনে পরিবেশ পরিস্থিতি, সমাজ সংস্কার আর পার্থিব ভয়-ভীতিকে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালবাসার সামনে মানুষের সহায় সম্পদ পরিবার পরিজন এবং নিজের জীবনের ভালবাসাসহ অন্যান্য যাবতীয় প্রেম-ভালবাসাকে উৎসর্গ করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

আল্লাহর হুকুম পালনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) যেরূপ প্রবল মনোবল নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন, ইবলীস শয়তানও তত কঠোর প্রতিরোধ নিয়ে বাঁধা দিয়েছিল। কিন্তু শয়তান তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি রমিয়ে জিমার (পাথর নিক্ষেপ) করে শয়তানকে বিতাড়িত করেছিলেন। যার স্মৃতি আজ হজ্বের আমল হিসেবে গন্য। আর মরদুদ শয়তান পরাস্ত হয়ে চির লাঞ্ছনা কুড়িয়েছে। আজ মীনা প্রান্তরের সেই ‘জমরাত’ জগৎকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, প্রকৃত মু’মিনের নিকট শয়তানী চক্রান্ত অতি তুচ্ছ এবং প্রস্তরাঘাতে দূরে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য।

ঐ স্তম্ভ জগদ্বাসীকে বলছে যে, যে কোন প্রকার সৎকাজে অগ্রসর হওয়ার সময় যদি শয়তান কোন প্রকার বাঁধার সৃষ্টি করে, তাহলে আল্লাহর এ ক’জন সেরা নবীর নিদর্শন স্মরণ করে তওবা স্বরূপ ভীষণ প্রস্তরাঘাতে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে অনেক দূরে নিক্ষেপ কর।

আল্লাহর আদেশ পেয়ে হযরত ইব্রাহীম (আ.) পার্থিব মায়া পরিত্যাগ করে প্রাণপ্রিয় পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়ে ছিলেন। অনুরূপভাবে আমাদেরকেও প্রকৃত মুসলমান হতে হলে কিভাবে শত প্রেম ভালবাসা, মায়া-মুহাব্বাত ছিন্ন করে, শত বাধাবিঘ্ন, শয়তানী কুচক্র পদদলিত করে কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়, আর কিভাবেই বা পরম দয়ালু আল্লাহ্ তাআলা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য লালায়িত বান্দাকে শত সহস্র বিপদ হতে অচিন্তনীয় ভাবে সম্পূর্ণ রূপে রক্ষা করেন, কুরবানী তাই শিক্ষা দেয়।

আজও কুরবানীর ব্যাপারে শয়তান ওয়াসওয়াসা দিয়ে প্রতিরোধে তৎপর হয়। কিন্তু মিল্লাতে ইব্রাহীমির ধারক আল্লাহর খাঁটি মুসলমান বান্দাগণ শয়তানকে পরাজিত করে আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করেন। তথাপি শয়তান কতক লোককে তার দলে ভিড়াতে সক্ষম হয়। তাদের কেউ শয়তানী প্ররোচণায় কুরবানী দ্বারা কেবল নাম কামনার ধান্ধায় থাকে। আবার কেউ ওয়াজীব দায়িত্ব আদায়ে অনীহা দেখায়। উপরন্তু অনেকে কুরবানীকে নির্মম পশু হত্যা ও অপচয় বলে ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি পর্যন্তও করে বসে।

ইসলাম তো হচ্ছে সবান্তকরণে আল্লাহর সমীপে আত্মনিবেদন করার নাম। আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর সৃষ্টি পশু কুরবানী করবে, এতে সংকীর্ণমনা হওয়ার আবকাশ নেই। এ ব্যাপারে যারা বিরূপ উক্তি করে, তাদের অনেকে ইসলামী নামের অধিকারী হলেও মূলতঃ তারা ধর্মদ্রোহী নাস্তিক মুরতাদদের কাতারেই তাদের অবস্থান আবিষ্কার করা উচিত।

ঈদুল আযহার পশু কুরবানী যেহেতু আল্লাহর আদেশ পালন ও ইবাদত; তাই এক্ষেত্রে মনে কোন সংকীর্ণতার স্থান দেয়া জায়েয নেই। বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর এ হুকুম পালন করতে হবে। তাই তো এ দিনের নাম ‘ঈদ’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কুরবানী তথা আল্লাহর হুকুম পালন করতে পারার খুশির দিন।

মূলতঃ হযরত ইব্রাহীম (আ.) যেমন কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তে প্রমাণ করেছিলেন, “ইন্নাসালাতি ওয়া নুসুকি ওয়ামাহ্ ইয়াইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” অর্থাৎ- “আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্ব পালনকর্তা মহান আল্লাহর জন্যই নিবেদিত।” (সূরা আন্আম- ১৬২)। আমাদেরকেও কুরবানীতে ঐ আদর্শই অনুসরণ করতে হবে।

‘কুরবানী’ প্রতি বছর আসে যায়, আমাদের বারবার ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করে। সারা বছরের কর্মতৎপরতায় কুরবানীর শিক্ষাকে ধারণ করে রাখাই সচেতন ধার্মিকের কাজ।

সুতরাং, আসুন! আমরা কুরবানীর শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে ত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আল্লাহর অধিক নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজেকে সর্বান্তকরণে সঁপে দেই ইসলামের তরে। আল্লাহ্ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন॥

কুরবানির পশুর গোশত ও চামড়ার বিধান- হযরত আল্লামা আহমদ দীদার কাসেমী (দা.বা.)-----------------কুরবানির পশুর গোশত নিজে খাবে,...
26/05/2026

কুরবানির পশুর গোশত ও চামড়ার বিধান
- হযরত আল্লামা আহমদ দীদার কাসেমী (দা.বা.)
-----------------
কুরবানির পশুর গোশত নিজে খাবে, নিজের পরিবারকে খাওয়াবে, আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়ে দেবে এবং গরিব-মিসকিনকে সাদকা করবে। গোশত বিতরণের মুস্তাহাব পদ্ধতি হলো তিন ভাগ করে এক ভাগ পরিবার-পরিজনের জন্য রাখবে এবং বাকি দুই ভাগের এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে আর এক ভাগ গরিব-মিসকিনকে বণ্টন করে দেবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি- ১/৪৭৩)।

কয়েক ব্যক্তি একসঙ্গে শরিক হয়ে যদি একটি পশু কোরবানি করে তবে পাল্লা দ্বারা মেপে সমানভাবে গোশত বণ্টন করে নেবে। অনুমান করে বণ্টন করা জায়েয নয়।

কেননা ভাগে কমবেশি হলে তা সুদ বলে গণ্য হবে। অবশ্য যদি গোশতের সঙ্গে মাথা, পায়া এবং চামড়াও ভাগ করে দেয়, তবে যেভাগে মাথা, পায়া ও চামড়া থাকবে সে ভাগে যদি গোশত কম হয়, তবে এই বণ্টন শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু যে ভাগে গোশত বেশি সেই ভাগে মাথা, পায়া বা চামড়া দিলে বণ্টন শুদ্ধ হবে না, সুদ হবে এবং গুনাহগার হতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি- ২/২৩২)।

কোরবানির গোশত অমুসলিমকেও দেওয়া বৈধ। কিন্তু মজুরি বাবদ দেওয়া বৈধ নয়। অবশ্য মুসলিমদের দেওয়াই উত্তম। কসাইকে গোশত বানানোর মজুরি হিসেবে গোশত, চামড়া, রশি ইত্যাদি দেওয়া বৈধ নয়। পারিশ্রমিক দিতে হলে তা ভিন্নভাবে আদায় করবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ৫/৩০)

কোরবানির গোশত কোরবানিদাতার জন্য বিক্রি করা মাকরুহ তাহরিমি। যদি কেউ বিক্রি করে তাহলে এর মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়ে শামি- ৫/৪৭৭)।

গরু, মহিষ বা উটের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি শরিক থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে গোশত ভাগ করে নেওয়ার পরিবর্তে যদি সব গোশত একত্রে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে বা রান্না করে তাদের খাওয়ায় তবে এটাও জায়েজ। কিন্তু শরিকদের কোনো একজন ভিন্ন মত প্রকাশ করলে তা জায়েজ হবে না। (মাসায়িলে ঈদাইন, পৃষ্ঠা ১৮৩)।

কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি সময় জমিয়ে রাখাও জায়েজ এবং কোরবানির পশুর রশিও সদকা করা মুস্তাহাব। (হিদায়া : ৪/৪৫০; মাসায়িলে ঈদাইন, পৃষ্ঠা ১৮৪)

কোরবানির পশুর চামড়া দান করে দেবে এবং নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। আর বিক্রি করলে তার মূল্য গরিব ও মিসকিনদের দান করতে হবে। বিক্রীত পয়সা নিজে খরচ করে যদি অন্য পয়সা দান করে, তবে আদায় হবে—তবে মাকরুহ হবে। কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য মাদরা ও মসজিদের মেরামতের কাজে অথবা মাদরাসার শিক্ষক, দায়িত্বশীল, ইমাম-মুয়াজ্জিন প্রমুখ ব্যক্তিকে বেতন হিসেবে প্রদান করা জায়েজ নেই। (হিদায়া : ৪/৪৩৪; মাসায়িলে ঈদাইন, পৃষ্ঠা ১৯২)

কোরবানির পশুর গোশত কাটা ইত্যাদি কারণে যথোচিত মূল্যের কমে কসাইয়ের কাছে চামড়া বিক্রয় করা বৈধ নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৪/২৩৪)।

লেখক: মুহাদ্দিস- জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

ওজন দরে গরু ক্রয় করে কুরবানী করা জায়েয হবে কি?--------------------প্রশ্ন: জনাব মুফতি সাহেব হুজুর! আমাদের নারায়ণগঞ্জে গত...
26/05/2026

ওজন দরে গরু ক্রয় করে কুরবানী করা জায়েয হবে কি?
--------------------
প্রশ্ন: জনাব মুফতি সাহেব হুজুর! আমাদের নারায়ণগঞ্জে গত বৎসর এক গরুর ব্যবসায়ী কোরবানীর ঈদের পূর্বে জীবিত আস্ত গরু কেজী প্রতি মূল্য নির্ধারণ করে ওজন দরে বিক্রির ঘোষণা দেয়। ক্রেতাগণ তার গরুর পালে গিয়ে যার যে গরু পছন্দ হয় বিক্রেতাকে তা দেখিয়ে দিলে তিনি তার লোকজন দিয়ে গরু পরিমাপক স্কেলে তুলে ওজন করে কেজী প্রতি নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করেন।

এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, এভাবে জীবিত পশু ওজন করে বেচা-কেনা জায়েয হবে কি? এবং এভাবে ক্রয় করা পশু দিয়ে কুরবানী করা শরীআতের দৃষ্টিতে বৈধ হবে কি? সমাধান জানালে উপকৃত হবো।

জবাব: এক সময় তো গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ইত্যাদি পশু-পাখি ওজন করে বেচ-কেনার প্রথা ছিল না। বরং ক্রেতাগণ এসবের হাটে গিয়ে যেটা তার পছন্দ হতো বিক্রেতার সাথে দাম-দর করে ক্রয় করে নিতেন। এটাই ছিল পশু-পাখি বেচা-কেনার ক্ষেত্রে সমাজের প্রাচীন রীতিনীতি। আমাদের প্রিয় নবী কারীম (সা.)এর যুগেও এই নীতি ছিল। বর্তমানে পাখি; যেমন হাঁস, মুরগী ওজন করে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রথা কয়েক যুগ আগে থেকে সারা বিশ্বে চালু হয়েছে। নতুন করে গরু, ছাগলও ওজন করে বিক্রির কথা শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শরীআতের ধারা মতে, যদি ক্রেতা কোন গরু বা ছাগল চয়েজ করার পর বিক্রেতার সঙ্গে আলোচনা করে তার পছন্দের গরু/ছাগলটি কেজী প্রতি মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিতে উভয়ে সম্মত হয়ে বেচা-কেনার চুক্তি সম্পন্ন করে, শরীআতে ইসলামিয়ার আলোকে এই বেচাকেনা বৈধ বলে বিবেচিত হবে।

যখন এই বেচা-কেনা জায়েয বা বৈধ, তখন এ পদ্ধতিতে ক্রয় করা পশু দ্বারা কুরবানীও বৈধ। (সূত্র- ফাতাওয়ায়ে উসমানী, খণ্ড- ৩, পৃষ্ঠা- ৯৯এর টিকা দ্রষ্টব্য এবং আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড- ৬ পৃষ্ঠা- ৪৯৭)।

উত্তর দিয়েছেন- আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন
মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসীর-
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কুরবানীর টাকা উত্তোলন প্রসঙ্গে ফতোয়া- হযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)----------------প্রশ...
25/05/2026

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কুরবানীর টাকা উত্তোলন প্রসঙ্গে ফতোয়া
- হযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)
----------------
প্রশ্ন: বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য খাবার, বইপত্র ও চিকিৎসাসেবামূলক কিছু কাজ করার দাবি করে থাকে। মাঝে মাঝে তাদের এই ধরণের কাজের সচিত্র সংবাদও আমরা দেখতে পাই। তাদের কার্যক্রম হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধসহ সকল ধর্ম-বর্ণ এবং নারী-পুরুষের অবাধ অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়।

কিশোর কুমার দাশ নামের একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্তৃক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৪ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম শাখা এবং সবশেষে ২০২১ সালে খাগড়াছড়িতে বিদ্যানন্দের দ্বাদশ শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে দেশব্যাপী বিদ্যানন্দের মোট ১৭টি শাখা রয়েছে।

সংস্থাটির কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তর থেকে ব্যাপক সন্দেহ ও সংশয়মূলক উক্তি শোনা যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সংগঠনটি মূলত: একদিকে সেবার আড়ালে সুকৌশলে হিন্দুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠায় সুকৌশলে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা, ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চেতনাবোধ উৎখাত এবং ইসলাম অসমর্থিত নারী-পুরুষের অবাধ চলাচলে উৎসাহ দান অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন স্তরের জ্ঞানী-গুণি ও বিজ্ঞজনদের থেকে এমন সন্দেহও শোনা যায়, সংস্থাটি সেবার আড়ালে কার্যত: ভারতের চরম মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়া হিন্দুত্ববাদি বিজেপি সরকারের হয়ে বাংলাদেশে গোয়েন্দাবৃত্তির কাজেও লিপ্ত।

গত কয়েক বছর আছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন কর্তৃক তাদের কথিত সেবামূলক কাজ পরিচালনার লক্ষে দেশের মুসলমানদের প্রতি যাকাতের অর্থ প্রদান করার আহ্বান জানালে দেশের বিজ্ঞ মুফতিয়ানে কেরাম সর্বসম্মত ফতোয়া দিয়েছেন যে, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে যাকাত দেওয়া জায়েয হবে না।

চলতি কুরবানী মৌসুমে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন মুসলমান দাতাদের পক্ষ থেকে কুরবানী আদায়ের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। তাদের প্রচারণায় নানা স্লোগান ও পরিভাষা ব্যবহার করে মুসলিম সমাজে আগ্রহ তৈরি করা হচ্ছে। কুরবানী অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রতিদিন নানান ছিন্নমূল মানুষজন এবং গরু-ছাগলের ছবি দিয়ে ফেসবুকে নিত্যনতুন প্রচারণা চালাচ্ছে। কুরবানীর অর্থ সংগ্রহ নিয়ে তাদের মূল প্রচারণাটি নিম্নে তুলে ধরা হল-

“অসহায় মানুষদের জন্য হোক আপনার প্রিয় কুরবানী।
শুরু হয়ে গেছে আমাদের কুরবানীর প্রস্তুতি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আমাদের দাতাদের কাছ থেকে অসহায় মানুষদের জন্য কুরবানীর আহবান আসছে।ইতিমধ্যে আমাদের কুরবানী টিম পশু কেনার জন্য নেমে পড়েছে।আপনার আমার চারপাশে বহু মানুষ আছে যারা চাইলেও কুরবানী দিতে পারেনা।ঈদের দিন আপনি হয়তো মজা করে গোস্ত খাচ্ছেন কিন্তু কেও দূর থেকে চেয়ে চেয়ে দেখছে ।অনেকে লজ্জায় হয়তোবা চাইতে পারছেনা ।

সে সব মানুষগুলোর জন্য প্রতিবারের মত এইবারো আমরা আয়োজন করতে যাচ্ছি কুরবানির কার্যক্রম। আপনিও চাইলে শরিক হতে পারেন এই মহতী কাজে।
আস্ত গরু – ৯৪,৪৩০ টাকা
গরুর এক ভাগ – ১৩,৪৯০ টাকা
ছাগল – ১৪,৯৮০ টাকা ।”

বাজারে নানা জাতের, সাইজের ও দামের গুরু ও ছাগল বিক্রয় হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটার দামের সাথে অন্যটার দামের কোন মিল থাকে না। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডশেন গণহারে আস্ত গরু ৯৪,৪৩০ টাকা, গরুর এক ভাগ- ১৩৪৯০ টাকা এবং ছাগল ১৪৯৮০ টাকা দাম ঘোষণা দিয়ে ঢালাওভাবে টাকা সংগ্রহ করছে। এ পর্যায়ে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কিশোর কুমার দাশের প্রতিষ্ঠিত এবং ব্যাপক সন্দেহ ও সংশয়যুক্ত সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে মুসলমানগণ ইসলামের অন্যতম নিদর্শন পবিত্র কুরবানী আদায়ের উদ্দেশ্যে টাকা দেওয়া জায়েয হবে কিনা? এতে দাতার জিম্মা থেকে কুরবানীর ওয়াজিব বিধান আদায় হবে কিনা? তাছাড়া পূর্ণ গরু, সাত ভাগের এক ভাগ গরুর অংশ ও আস্ত খাসির গড় দাম নির্ধারণ করে কুরবানীর টাকা ঢালাওভাগে কালেকশন করা জায়েয হবে কিনা? এই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বর্তমানে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটা ফতোয়া দেওয়া সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা।

জবাব ও শরয়ী সমাধান
حامدا ومصليا ومسلما أما بعد

কুরবানী নামায ও রোযার মতো আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে নির্ধারিত স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। যা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَر অর্থাৎ ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন ও কুরবানী আদায় করুন’। (সূরা কাউসার, আয়াত : ২)।

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- قُلْ إِنَّ صَلَاتِيْ ونُسُكِيْ ومَحْيَايَ ومَمَاتِي لِلّٰه رَبِّ العَالَمِين অর্থাৎ- ‘আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য উৎসর্গিত’। (সূরা আনআম, আয়াত : ১৬২)।

অতএব, মৌলিকভাবে কুরবানীর সাথে গোশত বিতরণের কোন সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য নিজে গোশত খাওয়া বা অন্য কাউকে বিতরণ করা নয়; যেহেতু এটি কেবলই আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রণিত একটি ইবাদত, সে হিসেবে এর গোশত কারও জন্যই খাওয়া জায়েয না হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বড়ই মেহেরবান। তাই তিনি এমন খুশির দিনের মেহমানদারী হিসেবে নিজে মেজবান হয়ে প্রথমত কুরবানী দাতাকে নিজের কোরবানীকৃত পশু থেকে খাওয়ার বৈধতা দিয়েছেন। এবং ইচ্ছা অনুযায়ী অসহায়-দরিদ্রদেরকে দান করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

কুরআনে মাজীদে ইরশাদ হয়েছে – فَكُلُوْا مِنْهَا وَاَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ অর্থাৎ ‘তখন তার গোশত থেকে নিজেরাও খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তদেরকেও খাওয়াও এবং তাদেরকেও, যারা নিজ অভাব প্রকাশ করে না। (সূরা হজ্ব- ১৩৬)।

হাদীসে ইরশাদ হয়েছে- كُلُوْا وَادّخِرُوْا وَتَصَدّقُوْا অর্থাৎ ‘তোমরা (কুরবানীর গোশত থেকে) নিজে খাও, জমা করে রাখ এবং দান-খয়রাত কর’। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৬৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৪৪২৬; মুআত্তা মালিক, হাদীস ২১৩৫)।

সুতরাং উল্লিখিত ফাউন্ডেশন কর্তৃক কুরবানীর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য থেকে সরে এসে জাতির সামনে এটাকে শুধুমাত্র গোশত বিলানোর কর্মসূচিতে রূপান্তর করাটা ইসলামের মেজাজ পরিপন্থী। অধিকন্তু প্রত্যেকেরই নিজ কুরবানী নিজ হাতে করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে নিজ হাতে কুরবানী করেছিলেন। উপরন্তু খাইরুল কুরুন তথা নবী ও নবী পরবর্তী সাহাবা-তাবেয়ীদের যুগে ইসলামে এমন সম্মিলিত পদক্ষপে গোশত বিতরণ কর্মসূচির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

দ্বিতীয়ত “বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন” অমুসলিম এবং হিন্দুত্ব ও নাস্তিক্যবাদি ধ্যান-ধারণার লোকজন দ্বারা পরিচালিত এমন একটি সংগঠন, যাদের জীবনাচার ও কর্মপন্থায় ইসলামী আদর্শ ও শরীয়ী বিধি-বিধান মেনে চলার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ ও আনুগত্য দেখা যায় না। সুতরাং তাদের কাছে কুরবানীর মত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের দায়িত্ব অর্পণ করা, যা পরবর্তীতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় শরয়ী পদ্ধতিতে সম্পাদন হওয়া এবং উপযুক্ত প্রাপ্য ব্যক্তিদের কাছে গোশত পৌঁছানোর ব্যাপারে সন্দেহ ও সংশয় মুক্ত নয়। এতদসত্ত্বে তাদের উপর কুরবানীর এই গুরুদায়িত্ব ন্যাস্ত করা ইবাদতের প্রতি চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার নামান্তর। অথচ কুরআনে কারীমে ইবাদতের প্রতি উদাসীনদের ব্যাপারে কঠোর ধমকি এসেছে। ইরশাদ হয়েছে-فويل للمصلين، الذين هم عن صلاتهم ساهون، الذين هم يراءون، অর্থাৎ ‘ধ্বংস ঐ সকল মুসল্লীদের জন্য, যারা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন এবং যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করে’। (সূরা মাউন, আয়াত- ৪-৬)।

তাছাড়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন কর্তৃক কোরবানীর পশুর গড় দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার কারণে ব্যাপারটা আরো ঘোলাটে ও সংশয়যুক্ত হয়ে ওঠেছে। কেননা স্বভাবতই প্রতিটি পশু একই দামের হওয়া অসম্ভব। সুতরাং ক্রয়ের ক্ষেত্রে পশুর দাম কম বেশি হলে অতিরিক্ত বা অবশিষ্ট অর্থ, কিংবা ঘাটতির ক্ষেত্রে আয় ব্যয় খাত কি হবে; সে বিষয়টাও অস্পষ্ট। যা উক্ত চুক্তি বাতিল হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

তৃতীয়ত এটি এমন একটি সংগঠন, যাদের বিরুদ্ধে ধর্মহীনতা এবং ইসলামবিদ্বেষী চিন্তা-চেতনা লালন ও প্রচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যেমন, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাশ প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে বলেছেন- “যে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদেরও পার্থিব-অপার্থিব কোনো কিছু পাওয়ার আশায় কাজটা করা যাবে না”। (দৈনিক প্রথম আলো- ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ইং)। এর মানে তারা পরকালের সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করেন না বলে স্পষ্ট স্বিকারোক্তি দিলেন।

সুতরাং কোরবানির মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের দায়িত্ব এমন ধর্মহীন নাস্তিক্যবাদি ধ্যান-ধারণা লালনকারী সংগঠনের হাতে সোপর্দ করা কীভাবে জায়েয হতে পারে? অথচ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- إنا لا نستعين في أمر ديننا بمن ليس على ديننا অর্থাৎ আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে এমন কারো সহযোগিতা নিতে পরি না, যে আমাদের দ্বীনের উপরে নেই। (আল মবসুত লিসসারাখসী ৪/১৪৬, মুছান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস নং- ৩৩১৬২)।

চতুর্থত বিভিন্ন মহল ও ব্যক্তিবর্গের ধারণা মতে, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বাহ্যিকভাবে নিজেদেরকে সেবা মূলক সংগঠন বলে প্রচারণা চালালেও এটি একটি হিন্দুত্ববাদী ও নাস্তিক্য চিন্তা চেতনাধারী সংগঠন। যার ভিতরগত কার্যক্রম ইসলাম বিদ্বেষী। সাধারণ জনগণ ও মুসলমানদের প্রতারিত করার জন্য এরা সেবার মুখোশ ধারণ করেছে মাত্র। উপরোক্ত ধারণা যদি বাস্তব সম্মত হয়, তাহলে তাদেরকে কুরবানীর জন্য টাকা দেওয়া কোনভাবেই শরীয়ত সম্মত নয়। বরং এ ধরণের ফাউন্ডেশন ও তার কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য। الله أعلم بالصواب

শরয়ী প্রমাণাদি
(1) ﴿یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ ٱلۡكَـٰفِرِینَ أَوۡلِیَاۤءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِینَۚ أَتُرِیدُونَ أَن تَجۡعَلُوا۟ لِلَّهِ عَلَیۡكُمۡ سُلۡطَـٰنࣰا مُّبِینًا﴾ (النساء ١٤٤)

(2) سَمِعْت أبي وذَكَر حَديثًا رواه ابنُ وَهبٍ، عَنْ عَبدِ اللهِ بنِ السَّمْحِ، عن عُمَرَ بنِ صُبَيحٍ، عن خالِدِ بنِ مَيمونٍ، عن يُونُسَ بنِ عُبَيدٍ، عن الحَسَنِ، عن جابِرِ بنِ عَبدِ اللهِ أنَّهم قالوا: يا رَسولَ اللهِ، إنَّ المُشرِكينَ يتسَرْولون ولا يأتَزِرون؟ قال: فتَسَرْوَلوا أنتم واتَّزِروا، قالوا: وإنَّ المُشرِكين يتخَفَّفون ولا ينتَعِلون؟ قال: فتخَفَّفوا أنتم وانتَعِلوا، وخالِفوا أولياءَ الشَّيطانِ بكُلِّ ما استطَعْتُم.

الراوي: جابر بن عبد الله • أبو حاتم الرازي، علل ابن أبي حاتم (١٤٥٥) • عُمَرُ بنُ صُبَيحٍ وخالِدُ بنُ مَيمونٍ خُراسانيَّانِ

(3) مَطْلَبٌ لَا يَجُوزُ اتِّخَاذُ الْكَافِرِ فِي وَلَايَةٍ (قَوْلُهُ: هُوَ حُرٌّ مُسْلِمٌ) فَلَا يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ عَبْدًا لِعَدَمِ الْوَلَايَةِ وَلَا يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ كَافِرًا؛ لِأَنَّهُ لَا يَلِي عَلَى الْمُسْلِمِ بِالْآيَةِ بَحْرٌ عَنْ الْغَايَةِ وَالْمُرَادُ بِالْآيَةِ قَوْله تَعَالَى ﴿وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلا﴾ [النساء: ١٤١] (قَوْلُهُ: بِهَذَا إلَخْ) أَيْ بِاشْتِرَاطِ الْإِسْلَامِ لِلْآيَةِ الْمَذْكُورَةِ، زَادَ فِي الْبَحْرِ وَلَا شَكَّ فِي حُرْمَةِ ذَلِكَ أَيْضًا اهـ: أَيْ لِأَنَّ فِي ذَلِكَ تَعْظِيمَهُ وَقَدْ نَصُّوا عَلَى حُرْمَةِ تَعْظِيمِهِ بَلْ قَالَ فِي الشُّرُنْبُلَالِيَّةِ وَمَا وَرَدَ مِنْ ذَمِّهِ أَيْ الْعَاشِرِ فَمَحْمُولٌ عَلَى مَنْ يَظْلِمُ كَزَمَانِنَا وَعُلِمَ مِمَّا ذَكَرْنَاهُ حُرْمَةُ تَوْلِيَةِ الْفَسَقَةِ فَضْلًا عَنْ الْيَهُودِ وَالْكَفَرَةِ. اهـ.

قُلْت: وَذَكَرَ فِي شَرْحِ السِّيَرِ الْكَبِيرِ أَنَّ عُمَرَ كَتَبَ إلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَلَا تَتَّخِذْ أَحَدًا مِنْ الْمُشْرِكِينَ كَاتِبًا عَلَى الْمُسْلِمِينَ، فَإِنَّهُمْ يَأْخُذُونَ الرِّشْوَةَ فِي دِينِهِمْ وَلَا رِشْوَةَ فِي دِينِ اللَّهِ تَعَالَى قَالَ وَبِهِ نَأْخُذُ فَإِنَّ الْوَالِيَ مَمْنُوعٌ مِنْ أَنْ يَتَّخِذَ كَاتِبًا مِنْ غَيْرِ الْمُسْلِمِينَ ﴿لا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ﴾ [آل عمران: ١١٨] . اهـ. (قَوْلُهُ: لِمَا فِيهِ مِنْ شُبْهَةِ الزَّكَاةِ) أَيْ وَهُوَ مِنْ جُمْلَةِ الْمَصَارِفِ، فَيُعْطَى كِفَايَتَهُ مِنْهُ نَظِيرَ عَمَلِهِ وَلِذَا لَوْ هَلَكَ مَا جَمَعَهُ لَا شَيْءَ لَهُ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي الزَّيْلَعِيِّ، فَكَانَ فِيهِ شَبَهُ الْأُجْرَةِ وَشَبَهُ الصَّدَقَةِ. (رد المحتار- 2/309)

(4) قال: ويستحب له أن يذبح هديه أو أضحيته بيده لما روي { أن النبي صلى الله عليه وسلم ساق مائة بدنة في حجة الوادع فنحر نيفا وستين بنفسه وولى الباقي عليا رضي الله عنه} ، وفي هذا دليل على أن الأولى أن يذبح بنفسه ، فأما إذا لم يقدر على ذلك ، ولم يهتد لذلك فلا بأس بأن يستعين بغيره ; لأن فعل الغير بأمره كفعله بنفسه .

قال: ولا أحب أن يذبحه يهودي أو نصراني ; لأن هذا من باب القربة فلا يستعان فيه بالكافر قال : صلى الله عليه وسلم : {إنا لا نستعين في أمر ديننا بمن ليس على ديننا} (المبسوط للسرخسي ٤/١٤٦)

(5) وَإِذَا كَانَ مَجْهُولًا جَهَالَةً فَاحِشَةً. فَلَا تَكُونُ هَذِهِ الْوَكَالَةُ صَحِيحَةً وَلَوْ بَيَّنَ الثَّمَنَ. كَالتَّوْكِيلِ فِي اشْتِرَاءِ الثَّوْبِ وَالدَّابَّةِ. (درر الحكام في شرح مجلة الأحكام ٣/‏٥٧٥ — علي حيدر)

– আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, মুহাদ্দিস, মুফতি, মুফাসসির- আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

Address

Fotika, Hathazari
Chittagong
4330

Telephone

+8801638234535

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Darul Uloom Mueenul Islam দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী:

Share