Hrishidham - ঋষিধাম Temple

Hrishidham - ঋষিধাম Temple পরমপুরুষ শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ, ১৯৪৮ সালে বাঁশখালী ঋষিধাম প্রতিষ্ঠা করেন।

'ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য কর্তৃক পুরীধামে জগন্নাথদেবের পুনঃপ্রতিষ্ঠা'দিগ্বিজয় যাত্রাকালে মরুঙ্ঘ পরিত্যাগ করে আচার্য শঙ্কর অ...
17/07/2026

'ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য কর্তৃক পুরীধামে জগন্নাথদেবের পুনঃপ্রতিষ্ঠা'

দিগ্বিজয় যাত্রাকালে মরুঙ্ঘ পরিত্যাগ করে আচার্য শঙ্কর অন্ধ্রপ্রদেশের নানা স্থানে ভ্রমণ করতে করতে কতিপয় কলিঙ্গদেশবাসীর অনুরোধে ক্রমে ক্রমে পুরীধামে এসে উপস্থিত হলেন। এসময় কেশরীবংশীয় রাজগণ পুরীধামে রাজত্ব করছিলেন। এরা কখন মগধের অধীনতা স্বীকার করে, কখনও বা পূর্বচালুক্যগণের অধীনতা স্বীকার করে একপ্রকার স্বাধীনতা রক্ষা করে আসছিলেন। এখানে এসে আচার্য জগন্নাথদেবের মন্দিরেই অবস্থান করতে লাগলেন এবং পদ্মপাদাদি শিষ্য সমেত শাস্ত্রার্থ ও হিতোপদেশ দিতে প্রবৃত্ত হলেন। তাঁর সেই বিশাল দিগ্বিজয় বাহিনী পুরীর সমুদ্রতীরে অবস্থান করতে লাগলেন।

আচার্য দেখলেন এখানে পূর্ববর্তী বৌদ্ধধর্মের প্রভাব অনেক বেশি, জগন্নাথ মন্দিরে পূজাদি হয় বটে, কিন্তু কোন বিগ্রহ নেই। পরে শুনলেন পূর্বে কালযবনের অত্যাচারকালে লুণ্ঠনভয়ে মন্দিরের সেবায়েত পাণ্ডাগণ জগন্নাথ বিগ্রহের উদর প্রদেশ স্থিত রত্নপেটিকা চিল্কা হ্রদের তীরে ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কালক্রমে উক্ত স্থানের লোকেরা ভুলে যান রত্নপেটিকা রাখার স্থানটিকে। আর সেইকারণে পূর্বপ্রচলিত দারুময় বিগ্রহেরও প্রতিষ্ঠা হয় নি। শালগ্রাম শিলা প্রভৃতিতে ভগবানের পূজা হতে থাকে।

পুরীবাসী কতিপয় ব্যক্তি আচার্য শঙ্করের নিকট নিবেদন করলেন—'ভগবন্। আপনার কীর্তিকলাপের কথা বর্তমানে ভারতবর্ষে যেরূপ শুনছি, তাতে মহাভাগ্যক্রমে আপনার দর্শন পেলাম। আপনি যোগবলে জগন্নাথের রত্নপেটিকা রাখার স্থানটিকে নির্ধারণ করে দেন, আমরা তাঁর পূজা করে ধন্য হয়।' আচার্য প্রফুল্ল চিত্তে বললেন—'আপনাদের সৎ সঙ্কল্প ভগবৎ ইচ্ছায় অবশ্যই পূর্ণ হবে।'

এই বলে আচার্য স্নানাদি সমাপনপূর্বক গভীর ধ্যানমগ্ন হলেন। তারপর 'জগন্নাথ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।'—এরূপ একটি মনোমুগ্ধকর স্তোত্র রচনা করে ভগবানের নিকট তাঁর দর্শন প্রার্থনা করলেন। যোগবলে অবিলম্বে আচার্যের মানসপটে চিল্কা হ্রদের তীরে ভূগর্ভে রত্নপেটিকার বিস্মৃত স্থানটি প্রতিফলিত হল। আচার্য পুরীবাসীদের বললেন—'আপনারা যে হ্রদের কথা বলছেন, তার তীরে একটি সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বটবৃক্ষ দেখবেন, তারই তলে মৃত্তিকা গর্ভে রত্নপেটিকা আছে, খননপূর্বক উদ্ধার করুন।'

জগদ্গুরুর উপদেশে রাজপুরুষগণ ঐ দিনই হ্রদতীরবর্তী যেটা বৃহৎ বটবৃক্ষ তার তলে খননপূর্বক রত্নপেটিকা উদ্ধার করলেন। পুরীবাসীগণ আশ্চর্য হলেন, তাঁদের আনন্দের আর সীমা রইল না। তাঁরা মহাসমারোহে আচার্যের সমীপে আসলেন। জগন্নাথদেব ও শঙ্করাচার্যের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল গোটা প্রাঙ্গণ। অনন্তর যথারীতি শুভতিথিতে মন্দিরে ভগবান্ জগন্নাথদেবের প্রতিষ্ঠাকার্য সম্পন্ন হল। আচার্য যথাবিধি শ্রীভগবানের পূজা-অর্চনাদি সম্পন্ন করলেন। এই দিব্য ঘটনার পর থেকে শ্রীক্ষেত্রে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কমে বৈদিক সনাতন ধর্মের শ্রীবৃদ্ধি হল। নীলাদ্রি বিজয় করে অনন্তর শঙ্করাচার্য পুরীতে অদ্বৈতসিদ্ধান্তসম্মত পঞ্চদেবতার পূজা এবং পঞ্চমহাযজ্ঞের প্রবর্তন করে দিগ্বিজয়বাহিনী সমেত মগধ রাজ্যের অভিমুখে প্রস্থান করলেন।......

তথ্যসূত্রঃ-

আচার্য শঙ্কর ও রামানুজ, লেখক- রাজেন্দ্রনাথ ঘোষ (স্বামী চিদ্ঘনানন্দ পুরী), উদ্বোধন কার্যালয় কলকাতা। এই বইটিতে মাধবাচার্যের সটীক শঙ্কর বিজয়ম, চিদ্বিলাসযতি রচিত শঙ্কর বিজয় বিলাস, অনন্তানন্দগিরি বিরচিত শঙ্কর-দ্বিগ্বিজয়, শঙ্কর জন্মভূমিতে প্রাপ্ত শঙ্করের কোন জ্ঞাতিপন্ডিত বিরচিত শঙ্করচরিত, সদানন্দ বিরচিত শঙ্করজয় অনুসারে ভগবান্ শঙ্করাচার্যের জীবনী বিষয়ে অসংখ্য তথ্য দেয়া হয়েছে।

আজ জগতের নাথ জগন্নাথ মহাপ্রভুর শুভ রথযাত্রা। কিন্তু আমরা জানি কি জগতের গুরু জগৎ গুরু আদি শঙ্করাচার্য ভগবান যদি অবতীর্ণ ন...
16/07/2026

আজ জগতের নাথ জগন্নাথ মহাপ্রভুর শুভ রথযাত্রা। কিন্তু আমরা জানি কি জগতের গুরু জগৎ গুরু আদি শঙ্করাচার্য ভগবান যদি অবতীর্ণ না হতেন তবে আজ আমরা না তো জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শন পেতাম না তো হতো রথযাত্রা।

অল্প বয়স্ক সন্ন্যাসী বেড়িয়েছেন পুরো ভারতে বৈদিক ধর্মের দিগ্বিজয়ী কীর্তি স্থাপনে । একে একে ভারতের সর্বত্র পৌঁছে পুনঃউদ্ধার করছেন নাস্তিক বিধার্মিক বৌদ্ধ-জৈন আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্থ বা দখলীকৃত হিন্দু তীর্থস্থল গুলোকে।

চতুরদিকে তখন বৌদ্ধ নাস্তিক্যবাদের প্রবল আস্ফালন । হাজার হাজার বছর পুরনো মন্দির , তীর্থ গুলো বৌদ্ধরা দখল করে নিয়ে , দেব বিগ্রহ ভেঙ্গেচুরে নদীতে ফেলে দিচ্ছে। তীর্থ গুলোকে বিহারে রূপান্তরিত করে নিয়েছে । বৈদিক ধর্ম যেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে । হিন্দুদের মধ্যে হাজারো অশুদ্ধ মত , সম্প্রদায় তৈরি হয়ে গেছে । এমন দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান সদাশিব নিজে জগদ্গুরু ভগবান আদি শঙ্করাচার্য রূপে অবতীর্ণ হন এবং বিশাল দিগ্বিজয়ী যাত্রায় ভারতের কোনায় কোনায় পৌঁছে সকল অশুদ্ধ মত খন্ডন , পরিমার্জন করে সত্য সনাতন বৈদিক হিন্দু ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন । তাঁর-ই অমর কীর্তির কারণেই আজকে আমরা জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শন পাচ্ছি । চলুন জানি সেই ইতিহাস ।

বিধর্মীরা তখন যখন-ই শুনতো ঐ বেদান্ত কেশরী ভগবৎপাদ শঙ্করাচার্য আসছেন, যখন ই তাঁর দিগ্বিজয়ী যাত্রা হতে মুহুর্মুহু বৈদিক মন্ত্রের ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠতো, শিষ্যদের সুউচ্চ ধ্বনি " হর হর শঙ্কর, জয় জয় শঙ্কর " ধ্বনি ধর্ম শত্রুদের হৃদয়ে যেন স্বয়ং যম ধ্বনি হয়ে বিধতো, তখন তারা বহু মাইল দূর থেকেই "ঐ দিগ্বিজয়ী ভগবান শঙ্করাচার্য আসছেন " শোনা মাত্রেই পলায়ন করতেন ।

জগদ্গুরু ভগবান আদি শঙ্করাচার্য তখন বিশাল দিগ্বিজয়ী যাত্রা করতে করতে সকল দূষিত মতবাদ এর পরিমার্জন , খন্ডন করে সনাতন বৈদিক হিন্দু ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে করতে এসে পৌঁছলেন পুরুষোত্তম ধাম শ্রী ক্ষেত্র জগন্নাথ পুরীতে।

কিন্তু এ কী! তিনি দেখলেন পুরী মন্দিরে দারুব্রহ্ম জগন্নাথ মহাপ্রভু, বলভদ্র, ভগবতী সুভদ্রা দেবী কারোর কোনো বিগ্রহ নেই । গর্ভগৃহে রত্নবেদী ফাঁকা পরে রয়েছে ।

এক পুরোহিত এসে জানায় শত শত বছর পূর্বে বৌদ্ধ শাসনকালে বিগ্রহ ধ্বংসের ভয়ে দারু ব্রহ্ম জগন্নাথ মহাপ্রভুর ব্রহ্ম পদার্থ একটি রত্ন পেটিকায় করে চিলকা হ্রদের তীরে পুঁতে রাখা হয়েছিল । যা আর কখনো পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনা শুনে ভগবান শঙ্করাচার্যের দু-নয়ন হতে অঝোর ধারায় অশ্রু নিঃসৃত হতে লাগলো ।

তৎক্ষণাৎ ভাবাবিষ্ট হয়ে জগন্নাথ মহাপ্রভুর উদ্দেশ্যে রচনা করলেন " জগন্নাথাষ্টকম " । পরম ব্রহ্ম জ্ঞানী , বেদান্ত কেশরী ভগবান শঙ্করাচার্য ভক্তি রসের নিদারুণ বিরহ সিক্ত নয়নে , আকুল আকুতি ভরা কন্ঠে গেয়ে উঠলেন -

মহাম্ভোধেস্তীরে কনকরুচিরে নীলশিখরে
বসন্ প্রাসাদান্তস্সহজবলভদ্রেণ বলিনা ।
সুভদ্রামধ্যস্থস্সকলসুরসেবাবসরদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৩ ॥

- যিনি মহাসমুদ্রের তীরদেশে, কনকোজ্জ্বল নীলাদ্রির শিখরে প্রাসাদাভ্যন্তরে বলশালী বলরাম ও সুভদ্রার মধ্যভাগে বাস করিতেছেন, যিনি সমস্ত দেবগণকে সেবা করার নিমিত্ত অবসর প্রদান করিতেছেন, সেই প্ৰভু জগন্নাথ দেব আমার নয়ন পথবৰ্ত্তী হউন।৩

স্তোত্র সমাপ্ত হলে স্বয়ং জগন্নাথ ভগবান সত্যিই ভগবান শঙ্করাচার্যের নয়নপথগামী হলেন , যোগ যুক্ত অবস্থায় জগৎ গুরু , স্বয়ং জগন্নাথ ভগবানের মার্গ দর্শন লাভ করলেন । স্বয়ং মহাপ্রভু তাঁকে বলে দিলেন তিনি কোথায় আছেন ।

তৎক্ষণাৎ সকল ভক্তবৃন্দ, গজপতি মহারাজ, পুরোহিতবৃন্দকে ভগবান শঙ্করাচার্য জানান , " হ্রদের তীরের সর্ব বৃহৎ অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচের মাটি খুঁড়লেই জগন্নাথ মহাপ্রভুর শ্রী বিগ্রহ ব্রহ্ম পদার্থ সমেত রত্ন পেটিকা টি পাবে । "

আচার্য নির্দেশ পেতেই মহারাজের নির্দেশে তৎক্ষণাৎ সকলে হ্রদের নিকটের সর্ব বৃহৎ অশ্বত্থ বৃক্ষের মূলের মাটি খুঁড়তেই পেয়ে যান সেই রত্ন পেটিকা ।

সকলে মহাআনন্দে গগনভেদী জয়জয়কারে ধ্বনি প্রতিধ্বনি তে ভরিয়ে তোলেন , " জয় জয় জগন্নাথ ! জয় জয় শঙ্কর। "

দিনটি ছিল বৈশাখ শুক্ল দশমী তিথি।

আচার্যের উপস্থিতিতে, আচার্য দ্বারা প্রথম পূজার মাধ্যমে, রাজ আজ্ঞায়, মহা ধুমধামে রথে করে বিশাল জন যাত্রায় শ্রী বিগ্রহ নিয়ে আসা হয় শ্রী মন্দির প্রাঙ্গণে।

মন্দিরের গর্ভগৃহে ভগবান শঙ্করাচার্য জগৎ বাসীর মুক্তি লাভ হেতু মুক্তিমন্ডপ স্থাপন করেন, জগন্নাথ মহাপ্রভু কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন । এবং পূজাপদ্ধতি , নিয়ম নিষ্ঠার সকল উপদেশ বিধিবিধান করে বলেন , ভবিষ্যতে জগন্নাথ পুরী হবে অদ্বৈত জ্ঞানের কেন্দ্র ভূমি ।

সেই থেকে পরম্পরাক্রমে, ভগবান আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত পূর্বাম্নায় শ্রী গোবর্ধন মঠের পদাসীন জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য গণই জগন্নাথ মহাপ্রভুর প্রধান সেবায়েত হিসেবে রথযাত্রায় সর্বপ্রথম জগন্নাথ মহাপ্রভুর পূজা অর্চনা করেন , ভক্ত মন্ডলী কে আশীর্বাদ প্রদান করেন এবং তারপর গজপতি মহারাজ পূজা অর্চনা করে , সোনার ঝাড়ু দ্বারা রথের সামনের রাস্তায় ঝাড়
দেন । আর রথের দড়িতে টান পরে ধীরে ধীরে মহাপ্রভু পৌঁছে যান মাসী বাড়িতে ।

সম্পূর্ণ জগতে পুরী গোবর্দ্ধন মঠের শঙ্করাচার্যই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রত্নবেদীর উপর শালগ্রাম শীলাপরে সিংহাসনে আসীন হবার অধিকারী । তিনিই গোবর্দ্ধন মঠের সকল ধার্মিক সিদ্ধান্তের মহানায়ক ।

আজ ভগবান শঙ্করাচার্য না থাকলে কেবল বৈষ্ণব গণের ই নয় হয়তো সকল হিন্দুর ই ভগবান জগন্নাথের দর্শন অব্দি সুলভ হতো না ।

তাই আজকের অতি পবিত্র জগন্নাথের রথযাত্রার বিশেষ দিনে বারংবার ভগবান জগন্নাথ এবং ভগবান শঙ্করাচার্যের শ্রী চরণ কমলে প্রণতি নিবেদন করছি ।

Hrishidham - ঋষিধাম Temple

#রথযাত্রা

28/05/2026

♦️হরি নাম সংকীর্তন অর্থাৎ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে - এই মহামন্ত্র কলির জীবের উদ্ধারে অনবদ্য এই কথা আমরা জানি। এই মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে সংকীর্তন বা যে কোনো দীক্ষার আগে এই মন্ত্রে কর্ণশুদ্ধি করতে হয়। এই মন্ত্র আমরা মূলত বিষ্ণুর মহামন্ত্র বলে জানি। কিন্তু আমি যদি বলি এই মন্ত্রটি বিষ্ণু মন্ত্র নয়!!!!!🥺🫪🫪🥺
চমকে গেলেন তো? এবার যেটা বলব আরও ভয়ংকর। বৈষ্ণব সমাজ হয়তো আমাকে পারলে মেরেই দেবে এই কথা শুনে। শাস্ত্র অনুসারে এটি দেবী ত্রিপুরা সুন্দরীর মন্ত্র***। 😁রেগে যাবেন না। আমি না, রাধা তন্ত্রম এমনই কথা বলছে। বৈষ্ণবদের সাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র হল রাধাতন্ত্রম। ওনারা শাক্তাদ্বেষী হয়ে এটি স্বীকার নাই করতে পারেন কিন্তু শাস্ত্র ওনারা অস্বীকার করবেন কি করে? বাসুদেব রহস্য এই রাধাতন্ত্রে বিশদ ভাবে বর্ণিত।
♦️ভগবান বিষ্ণু একদা মহাদেবের কাছে এসে ওঁনার বিদ্যা সিদ্ধির জন্য উপায় জানতে চাইলে মহাদেব ওঁনাকে তৃতীয় মহাবিদ্যা দেবী ত্রিপুরার সাধনা করতে বলেন। সেই অনুযায়ী বিষ্ণু মহাদেবের কাছ থেকে ত্রিপুরা মন্ত্র গ্রহণ করে কাশীধামে গিয়ে কঠোর সাধনা শুরু করেন । বহুকাল অতিবাহিত হলেও সিদ্ধি উনি পেলেন না। তখন দেবী আবির্ভূতা হয়ে ভগবান বিষ্ণুকে বলেন কুলাচার ছাড়া বিদ্যা সিদ্ধ হয় না। বিষ্ণু, শক্তি লক্ষ্মী বিনা সাধনা করছেন, তাই এই সাধনা অসম্পূর্ণ। এই বলে দেবী হরিনাম ভগবান বিষ্ণুকে প্রদান করেন। এই মন্ত্রের ঋষি বাসুদেব গায়ত্রী ছন্দ দেবতা ত্রিপুরা সুন্দরী পুরুষার্থ সাধনে বিনিয়োগ। এবং এই মন্ত্র কুলাচার রত বিপ্রের মুখ থেকে গ্রহণ করার নির্দেশ দেবী দিয়েছেন।
♦️এরপর দেবী এই মন্ত্রের অর্থ প্রদান করেছেন - 'হ' কার সাক্ষাৎ শিব, রেফ ত্রিপুরা দেবী, 'এ' কার যোনিপীঠ। পুনর্বার 'হ' কার চিন্ময় ঈশ্বর, রেফ শরীরধারী ব্যক্ত ঈশ্বর। 'হ' কার ও রেফ মিলিত 'হরি' শব্দ সাক্ষাৎ ত্রিপুরা মূর্তি। 'ক' কার কামরূপা কামরূপিনি নিত্যা শক্তি, ঋ কার পরমা শক্তি। ক কার ও 'ঋ' কারের মিলিত পদ বৈষ্ণবী কলা। 'ষ' কারের অর্থ ষোড়শকলা পূর্ণ শশধর, 'ণ' কার শান্তিপ্রদা শক্তি ও 'ষ' কার ও 'ণ' কারের মিলিত 'ষ্ণ' হল সাক্ষাৎ ত্রিপুর ভৈরবী। 'কৃষ্ণ কৃষ্ণ' এই পদের অর্থ জগন্ময়ী মহামায়া। 'হরে' শব্দ পুরুষাত্মক ব্রহ্ম। 'হরে রাম' এই শব্দার্থ জ্যোতির্ময়ী প্রকৃতি। রেফ হলেন ত্রিপুরা সুন্দরী, 'ম' কার জ্যোতির্ময়ী নিত্যা শক্তি। বিসর্গে কূল কুণ্ডলিনী শক্তি , 'রাম রাম' এই পদ শিব শক্তি জ্ঞাপক উভয়আত্মক। হরিনাম দীক্ষা স্বয়ং বৈষ্ণবী শক্তি। এই মন্ত্র কখনোই গোপনীয় নয়।
♦️এই মন্ত্র ভগবান বিষ্ণুকে প্রদান করে ত্রিপুরা দেবী বলেন - যে ওনার অংশ পদ্মিনী বা রাধিকা ধরা ধামে আবির্ভূতা হবেন। তিনি বিষ্ণুকে নির্দেশ দেন যে পৃথিবীতে উনি যেন মানব অবতার গ্রহণ করে রাধিকা সহযোগে কুলাচার দ্বারা বিদ্যা সাধন করেন। তবেই সেই বিদ্যা সিদ্ধি হবে। সেই নির্দেশ মতো বাসুদেব কৃষ্ণমূর্তিতে আবির্ভূত হন একমাত্র পুরুষার্থ সাধন করতে। রাধাতন্ত্রে এমনই বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে - শ্রী কৃষ্ণের শরীর বা দেহ সাক্ষাৎ প্রকৃতিরূপী কালী এবং ওনার পরদেহ বা আত্মা হলেন সাক্ষাৎ ব্রহ্মরুপী মহাবিষ্ণু। শক্তি বিনা ব্রহ্ম শব স্বরূপ। প্রকৃতিরূপী দেহ দ্বারাই শ্রী কৃষ্ণের ধরাধামে সমস্ত লীলা এবং ওনার সাধন ভজন। উনি কিভাবে কুলাচর সম্পাদন করেছিলেন তার বিস্তৃত ব্যাখ্যা এই তন্ত্রে দেখা যায়। সেখানে অমৃত পান এবং রাধিকার সাথে মৈথুন সাধনারও বিবরণ আছে।
♦️দেবী রাধার কুলদেবী ছিলেন কালী এবং উনি এক অক্ষরি কালীবীজ জপ করতেন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ইষ্টস্বরূপ কালিকার সাধন করতেন। শ্রী কৃষ্ণের নিশি রাত্রিতে দেবীর কূলাচার বিহিত সাধনা, সকালে প্রাতঃকৃত্য এবং গমনে শয়নে সর্বত্র শক্তি মন্ত্র জপের কথা সেখানে পরিষ্কার ভাবে বর্ণিত।
♦️সবকিছু পুরুষ ও প্রকৃতিময়। আমরা চারিদিকে যা যা দেখছি সবই প্রকৃতির খেলা। শ্রী কৃষ্ণের দেহ ধারণ ও লীলা প্রকৃতির বাইরে নয়। প্রকৃতির আশ্রয় করেই দেবতার অবতার। প্রকৃতি ছাড়া ব্রহ্ম শব বৎ। সেই ব্রহ্মকে আপনি শিব বলতে পারেন, বিষ্ণু বলতে পারেন। ব্রহ্ম নির্লিপ্ত, নিষ্কল, নির্বিকার, নির্বিকল্প, নির্মল , সাক্ষী স্বরূপ। শক্তি বিনা ওনার একটি তৃণকে হেলানোরও ক্ষমতা নেই। সেই প্রকৃতি রূপী শক্তির দ্বারাই ব্রহ্মের অবতার গ্রহণ। আবার প্রকৃতির সাধন করেই আবার ব্রহ্ম রূপে ফিরে যাওয়া। প্রকৃতির ইচ্ছাতেই সবকিছু। আবার ব্রহ্ম ও প্রকৃতি এক এবং অদ্বিতীয়। ব্রহ্মই প্রকৃতি রূপে লীলা করেন , এদিকে প্রকৃতি ব্রহ্ম রূপে সমগ্র সৃষ্টি করেন। এনারা অভিন্ন। দ্বৈত বাদে শুরু হলেও শেষ হয় অদ্বৈত বাদে। সবই ব্রহ্ম ও শক্তির লীলা ও খেলা , এর বাইরে কিছুই নেই। বৃথা আমরা বলি এই দেবতা বড় এই দেবতা ছোট। এগুলো মানুষের মনের ক্ষুদ্রতা। শ্রী কৃষ্ণের তনু হল প্রকৃতি রূপী কৃষ্ণবর্ণ স্বয়ং কালী এবং তাঁর আত্মা ব্রহ্মরূপ মহবিষ্ণু। যিনি কালী , তিনিই ব্রহ্মরূপী বৈষ্ণবী শক্তি আবার তিনিই বাসুদেব রূপী শ্রী কৃষ্ণ। এতে আমাদের সমস্যা কোথায় সেটাই তো বুঝিনা। যারা এই ভাদাভেদ করেন ওনাদের আরও অনেক কিছু জানা বাকি।

জয় গুরু 🙏

গুরুর স্বরূপ যখন অদ্ধয়, অব্যয়, সচ্চিদানন্দঘন, অখন্ডমন্ডলাকার এবং পরমেশ্বর, পরমাত্মা, পরব্রহ্ম, সনাতন, স্বতঃসিদ্ধ, স্বতঃস...
21/05/2026

গুরুর স্বরূপ যখন অদ্ধয়, অব্যয়, সচ্চিদানন্দঘন, অখন্ডমন্ডলাকার এবং পরমেশ্বর, পরমাত্মা, পরব্রহ্ম, সনাতন, স্বতঃসিদ্ধ, স্বতঃস্ফূর্ত, অনন্য, স্বয়ং এবং সর্বাত্মা, স্ববোধে বা আপনবোধে নিত্যসিদ্ধ তখন এমন কোন বস্তু নেই যা গুরুর বাইরে আছে। পরব্রহ্ম পরমাত্মা পরমেশ্বর তত্ত্বই হল গুরুতত্ত্ব। সদ্‌গুরু হলেন Existence, Consciousness and Bliss Absolute
গাড়িতে যেমন যন্ত্রপাতি ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও গাড়ি নিজে চলতে পারে না; চালকের প্রয়োজন হয়। ঠিক তমনই একজন সাধকের জীবনে পরিচালক শক্তি হল গুরুমূর্তি। তিনি বাইরে থেকে প্রেরণা দেন, প্রয়োজনীয় উপাদান যোগাণ, আবার ভিতরে বসে তিনিই set করে দেন। একেরই দ্বিবিধ প্রকাশ ও ব্যবহার ‘নরাকার দেহে তিনি নিরাকার স্বয়ং’।
Hrishidham - ঋষিধাম Temple

" গুরু " আর " সমুদ্র " দুটিই গভীর হয়। কিন্তু এই দুটির মাঝে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। "সমুদ্রের " গভীরতা মাপা যায় কিন্তু "গুর...
20/05/2026

" গুরু " আর " সমুদ্র " দুটিই গভীর হয়। কিন্তু এই দুটির মাঝে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। "সমুদ্রের " গভীরতা মাপা যায় কিন্তু "গুরুদেব" এর গভীরতা মাপা যায় না। " সমুদ্রের " গভীরতায় মানুষ ডুবে যায় আর " গুরুদেব " এর গভীরতায় মানুষ ভব সমুদ্র থেকে উদ্ধার হয়ে যায়। Hrishidham - ঋষিধাম Temple

বাংলাদেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভের প্রবর্তক যুগাবতার শিবকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১২৪ তম শুভ আবির্ভাব উ...
18/05/2026

বাংলাদেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভের প্রবর্তক যুগাবতার শিবকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১২৪ তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে বাঁশখালী ঋষিধামে ১৮, ১৯ ও ২০ মে ২০২৬ ইং রোজ সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার তিন দিনব্যাপী সংগীতানুষ্ঠান, নামযজ্ঞ, দীক্ষা দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
সমগ্র অনুষ্ঠান পৌরোহিত্য করবেন ঋষিধাম ও তুলসীধামের পূজনীয় মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ।🙏🏾 উক্ত অনুষ্ঠানে আপনারা সকলে আমন্ত্রিত।

**গুরু পরম্পরা প্রণাম মন্ত্র**সদাশিব সমারম্ভাং শংকরাচার্য মধ্যমাম্।অস্মদাচার্য পর্যন্তাং বন্দে গুরু পরম্পরাম্॥ বাংলা অর্...
14/05/2026

**গুরু পরম্পরা প্রণাম মন্ত্র**
সদাশিব সমারম্ভাং শংকরাচার্য মধ্যমাম্।
অস্মদাচার্য পর্যন্তাং বন্দে গুরু পরম্পরাম্॥
বাংলা অর্থ
*সদাশিব সমারম্ভাম: আদিতে পরমেশ্বর ভগবান সদাশিব থেকে যার সূচনা।।
*শংকরাচার্য মধ্যমাম: মধ্যবর্তী স্থানে (যাঁদের অবস্থান) আদি গুরু শঙ্করাচার্য।
*অস্মদাচার্য পর্যন্তাম: এবং বর্তমানের আমার নিজ শিক্ষক (গুরু) পর্যন্ত।
*বন্দে গুরু পরম্পরাম: সেই অখণ্ড গুরু পরম্পরা বা গুরুমণ্ডলীকে আমি ভক্তিভরে প্রণাম জানাই।অর্থাৎ, যে গুরু-শিষ্যের জ্ঞানধারা বা ঐতিহ্য ভগবান সদাশিব থেকে শুরু করে আদি শঙ্করাচার্য হয়ে আমার বর্তমান গুরুদেব পর্যন্ত পৌঁছেছে, আমি সেই সম্পূর্ণ গুরু পরম্পরাকে প্রণাম করি।
Hrishidham - ঋষিধাম Temple

শেষশৈলে নৃসিংহ গর্জন অনেকে শঙ্কর দিগ্বিজয়ের নৃসিংহ কর্তৃক ভগবৎপাদ শঙ্করাচার্যকে রক্ষা করার ঘটনা জানি। আমাদের সম্প্রদায়ে...
30/04/2026

শেষশৈলে নৃসিংহ গর্জন

অনেকে শঙ্কর দিগ্বিজয়ের নৃসিংহ কর্তৃক ভগবৎপাদ শঙ্করাচার্যকে রক্ষা করার ঘটনা জানি। আমাদের সম্প্রদায়ের বহু মন্ত্রের মধ্যে, শৃঙ্গেরী শারদা পীঠমের উপাসনা ঐতিহ্যে নৃসিংহ মন্ত্রের একটি অত্যন্ত বিশিষ্ট স্থান রয়েছে। সমস্ত জগদ্গুরুর মধ্যে যিনি মঠাধীশ হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকে নৃসিংহ উপাসনায় উচ্চস্তরে পৌঁছেছেন। তেমনি এক ঘটনার মধ্যে "শৃঙ্গেরী পূর্বাচার্য মঠাধীশ বৃদ্ধ নৃসিংহ ভারতী" সাথে জড়িত আছে।

যখন জগদ্গুরু তিরুমালা মন্দিরে বেঙ্কটেশ্বরের দর্শনের জন্যে গিয়েছিলেন, সেখানের বৈখানস ও পাঞ্চরাত্রিক সম্প্রদায়ের বৈষ্ণব পুরোহিত জগদ্গুরু থেকে কিছুটা ভাব দূরত্ব বজায় রেখেছে কেননা তিনি স্মার্ত্ত সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী।
যখনই জগদ্গুরু মন্দিরের বাইরে থাকতেন, তিনি পুরোপুরি নৃসিংহ মন্ত্র জপে নিমগ্ন থাকতেন। তেমনি একদিন গর্ভগৃহে যখন আরতি ও পূজা শুরু হলো, তখন একটা চমৎকার হয়েছে। খোদ সেই গর্ভগৃ থেকে প্রকাণ্ড সিংহের গর্জন শুনা গেলো, কিন্তু সেই গর্জনের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। সেই গর্জনে সমস্ত বৈষ্ণব পুরোহিত ও ভক্তরা ভীতসন্ত্রস্ত হলেন, এবং সকলে বাইরে বের হলেন। তখনি তারা সকলে জগদ্গুরুর কাছে আসেন, কিন্তু জগদ্গুরু তখনও জপ করতে করতে সমাধিস্ত ছিলেন।

যখন জগদ্গুরুর জপ শেষ করে সমাধি ভঙ্গ হলো, তখন কোলাহল শান্ত হলো। তিনি সকলকে বললেন যে স্বয়ং নৃসিংহ বেঙ্কটেশ্বরের মধ্যে এক হয়েছেন। কিন্তু সেই গর্জনকে প্রশমিত করার জন্যে জগদ্গুরু বেঙ্কটেশ্বরের সামনে ১৪ অক্ষর বিশিষ্ট বসন্ততিলক ছন্দে "শ্রীবেঙ্কটেশ করাবলম্বস্তোত্রম্" রচনা করেন;

শ্রীশেষশৈলসুনিকেতন দিব্যমূর্তে
নারায়ণাচ্যুত হরে নলিনায়তাক্ষ ।
লীলাকটাক্ষপরিরক্ষিতসর্বলোক
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ১॥

ব্রহ্মাদিবন্দিতপদাম্বুজ শঙ্খপাণে
শ্রীমৎসুদর্শনসুশোভিতদিব্যহস্ত ।
কারুণ্যসাগর শরণ্য সুপুণ্যমূর্তে
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ২॥

বেদান্ত-বেদ্য ভবসাগর-কর্ণধার
শ্রীপদ্মনাভ কমলার্চিতপাদপদ্ম ।
লোকৈক-পাবন পরাৎপর পাপহারিন্
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৩॥

লক্ষ্মীপতে নিগমলক্ষ্য নিজস্বরূপ
কামাদিদোষপরিহারক বোধদায়িন্ ।
দৈত্যাদিমর্দন জনার্দন বাসুদেব
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৪॥

তাপত্রয়ং হর বিভো রভসান্মুরারে
সংরক্ষ মাং করুণয়া সরসীরুহাক্ষ ।
মচ্ছিষ্যমপ্যনুদিনং পরিরক্ষ বিষ্ণো
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৫॥

শ্রীজাতরূপনবরত্নলসৎকিরীট-
কস্তূরিকাতিলকশোভিললাটদেশ ।
রাকেন্দুবিম্ববদনাম্বুজ বারিজাক্ষ
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৬॥

বন্দারুলোক-বরদান-বচোবিলাস
রত্নাঢ্যহারপরিশোভিত কম্বুকণ্ঠ ।
কেয়ূররত্ন সুবিভাসি-দিগন্তরাল
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৭॥

দিব্যাঙ্গদাঙ্কিতভুজদ্বয় মঙ্গলাত্মন্
কেয়ূরভূষণ সুশোভিত দীর্ঘবাহো ।
নাগেন্দ্র-কঙ্কণকরদ্বয়কামদায়িন্
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৮॥

স্বামিন্ জগদ্ধরণ বারিধিমধ্যমগ্ন
মামুদ্ধারয় কৃপয়া করুণাপয়োধে ।
লক্ষ্মীংশ্চ দেহি মম ধর্ম সমৃদ্ধিহেতুং
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ৯॥

দিব্যাঙ্গরাগপরিচর্চিতকোমলাঙ্গ
পীতাম্বরাবৃততনো তরুণার্ক ভাস
সত্যাঞ্চনাভপরিধান সুপত্তু বন্ধ
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ১০॥

রত্নাঢ্যদামসুনিবদ্ধ-কটি-প্রদেশ
মাণিক্যদর্পণসুসন্নিভজানুদেশ ।
জঙ্ঘাদ্বয়েন পরিমোহিতসর্বলোক
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ১১॥

লোকৈকপাবন-সরিৎপরিশোভিতাঙ্ঘ্রে
ত্বৎপাদদর্শন দিনে চ মমাঘমীশ ।
হার্দং তমশ্চ সকলং লয়মাপ ভূমন্
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ১২॥

কামাদি-বৈরি-নিবহোচ্যুত মে প্রয়াতঃ
দারিদ্র্যমপ্যপগতং সকলং দয়ালো ।
দীনং চ মাং সমবলোক্য দয়ার্দ্রদৃষ্ট্যা
শ্রীবেঙ্কটেশ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ১৩॥

শ্রীবেঙ্কটেশপদপঙ্কজষট্পদেন
শ্রীমন্নৃসিংহয়তিনা রচিতং জগত্যাম্ ।
এতৎপঠন্তি মনুজাঃ পুরুষোত্তমস্য
তে প্রাপ্নুবন্তি পরমাং পদবীং মুরারেঃ ॥ ১৪॥

এর দ্বারা বেঙ্কটেশ্বরের মধ্যে প্রকাশিত নৃসিংহের উগ্রমূর্তি শান্ত হলো। এই ঘটনায় কেবল নৃসিংহ উপাসনার গভীরতারই প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে মন্ত্র কেবল পাঠ করা হয় না, বরং তা উপলব্ধি করা হয়।

আরেকটি উপাখ্যান আমরা জানতে পারি শৃঙ্গেরী পূর্বাচার্য্য শ্রী অভিনব বিদ্যাতীর্থ মহাস্বামীর। বনবাসী মধুকেশ্বর মন্দিরের শান্তনৃসিংহ বিরাজ করে, জগদ্গুরু বলেছেন যে তিনি প্রত্যহ শান্তনৃসিংহের সঙ্গে সরাসরি আলাপ ও কথোপকথন করেছিলেন( নিচে ছবিতে সেই নৃসিংহদেবের সাথে আলাপ ও কথোপকথনের ছবি দেখতে পাই সেইসময়ের )। ইনি সেই জগদ্গুরু, যিনি সাক্ষাৎ দেবাদিদেব মহাদেবের কাছ থেকে যোগের উপদেশ পেয়েছিলেন, এমনকি তিনি একজন নৃসিংহ উপাসকও।

প্রতিবছরের মতো এবছরেরও নৃসিংহ চতুর্দশীর দিন শৃঙ্গেরী মঠে শৃঙ্গেরী মঠাধীশ কর্তৃক নৃসিংহদেবের অভিষেকাদি পূজন হয়ে থাকে। শৃঙ্গেরী মন্ত্ররাজমূর্তি নৃসিংহের বিগ্রহন, যিনি চক্র, শার্ঙ্গবাণ ও বরাভয় মুদ্রা ধারণ করে রাখেন। এটাই অদ্বৈতের সারমর্ম, শুধু ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি নয়, বরং সেই ঈশ্বরকেই নিজের প্রকৃত স্বরূপ হিসেবে উপলব্ধি করা। নৃসিংহ রক্ষামন্ত্র হচ্ছে এমন –

উগ্রোঽনুগ্রহ এবায়ং স ভক্তানাং নৃকেসরী

নমো লক্ষ্মীনৃসিংহাভ্যাম্

যথার্থ জ্ঞান বুদ্ধির অধীন নয় বস্তুর অধীন, যে বস্তু যেমন, সেরূপ জ্ঞানই তত্ত্বজ্ঞান। অদ্বৈতমতে পরমাত্মা ব্রহ্মই হলো নিত্য,...
24/04/2026

যথার্থ জ্ঞান বুদ্ধির অধীন নয় বস্তুর অধীন, যে বস্তু যেমন, সেরূপ জ্ঞানই তত্ত্বজ্ঞান। অদ্বৈতমতে পরমাত্মা ব্রহ্মই হলো নিত্য, আর জগৎ অনিত্য। একমাত্র ব্রহ্মেরই পারমার্থিক সত্তা আছে এবং পরাবিদ্যার সাহায্যেই ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়। ব্রহ্মজ্ঞানই সত্যজ্ঞান বা পরাবিদ্যা। এ জ্ঞান নিরপেক্ষ জ্ঞান যাকে অনুভব করা যায়। বিচারবুদ্ধি অনুভবের একটি উপায়।

অদ্বৈতবেদান্তের প্রধান প্রচারক ও ভাষ্যকার ভগবদপাদ আাদি শঙ্করাচার্য তাঁর শারীরকভাষ্যে পারমার্থিক সত্তা ও ব্যবহারিক সত্তার মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন। তাঁর মতে অবিদ্যার জন্যই জীব অনাত্মাকে আত্মার সঙ্গে অভিন্ন মনে করে। অবিদ্যা হলো ব্যবহারিক জ্ঞান। অবিদ্যায় জ্ঞান, জ্ঞেয় ও জ্ঞাতার পারস্পরিক ভেদ বর্তমান থাকে। শঙ্করের মতে ব্রহ্মেরই একমাত্র সত্তা আছে, ব্রহ্মের বাহিরে বা ভেতরে ব্রহ্ম ছাড়া আর কোন সত্তা নেই। ব্রহ্মের কোন প্রকার ভেদ নেই। পরাবিদ্যা সব রকমের ভেদরহিত জ্ঞান এবং নিরপেক্ষ জ্ঞান। আর অপরাবিদ্যা আপেক্ষিক জ্ঞান হলেও শঙ্করের মতে এ জ্ঞান পরাবিদ্যা বা অনপেক্ষ জ্ঞান লাভের সোপান স্বরূপ।

এই মতে, শ্রুতি থেকে ব্রহ্মের জ্ঞান হয়, তারপর যুক্তি-তর্কের সাহায্যে তার যৌক্তিকতা উপলব্ধ হয় এবং সর্বশেষ অনুভবের মাধ্যমে ব্রহ্মের সাক্ষাৎকার হয়। ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করার জন্য শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন হলো তিনটি উপায়। শ্রুতি ছাড়া অন্য কোন কিছু থেকে জীব ও ব্রহ্মের অভেদ জ্ঞান লাভ হয় না। শ্রুতির প্রামাণ্য নিরপেক্ষ। বেদান্তসূত্রে মহর্ষি বাদরায়ণও বলেছেন-
শাস্ত্রযোনিত্বাৎ’। (ব্রহ্মসূত্র-১/১/৩)
ভাবার্থ : শাস্ত্ররাশিই হলো ব্রহ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান লাভের উপায়।

শ্রুতিলব্ধ জ্ঞানের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করার জন্য যুক্তি-তর্কের প্রয়োজন হয়। কিন্তু শ্রুতির কথায় বিশ্বাস না থাকলে কেবলমাত্র যুক্তি-তর্কের দ্বারা আত্মোপলব্ধি হয় না। যে তর্ক শ্রুতির অনুগামী, সেই তর্কই গ্রহণযোগ্য। যেহেতু মানুষের বুদ্ধি এক প্রকার নয় সেজন্য তর্ক বিভিন্নরূপের হয়। একজন তার্কিক তাঁর তর্কক্ষমতা দ্বারা কোন তত্ত্বকে সিদ্ধ করতে পারেন, আবার তাঁর চেয়েও যুক্তিকুশল ব্যক্তি অধিকতর দক্ষতায় সেটার ত্রুটি প্রমাণ করে নিজ মতকে সিদ্ধ করতে পারেন। অতএব যুক্তি-তর্কের দ্বারা আমরা কোন স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না, কেবলমাত্র শ্রুতি বা উপনিষদ থেকেই আমরা সত্যকে প্রাপ্ত হতে পারি। যুক্তি তর্ককে আমরা শুধুমাত্র উপনিষদের অভিপ্রায়কে সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য ব্যবহার করতে পারি। শঙ্করের মতে তর্ক যেহেতু অপ্রতিষ্ঠা দোষে দূষিত সেজন্য তর্কের উপর নির্ভর করে শাস্ত্রের অর্থ নির্ণয় করা যুক্তিসঙ্গত নয়। বেদান্তসূত্রে বাদরায়ণও বলেছেন-

‘তর্ক অপ্রতিষ্ঠানাৎ অপি, অন্যথা অনুমেয়ম্ ইতি চেৎ, এবং অপি অবিমোক্ষপ্রসঙ্গঃ’। (ব্রহ্মসূত্র-২/১/১১)
ভাবার্থ : তর্ক অপ্রতিষ্ঠ; অতএব শ্রুতিসিদ্ধ ব্রহ্মের কারণত্ববাদ কেবলমাত্র তর্কের দ্বারা খণ্ডন করা চলে না।

বেদান্ত-সিদ্ধান্তের সত্যতা তর্ক বা যুক্তিনির্ভর তো নয়ই বরং উপনিষদ প্রতিপাদিত। বেদ নিত্য, তাই বেদ থেকে প্রাপ্ত অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কালই এক। শাস্ত্র মতে তর্কের দ্বারা সগুণ ব্রহ্মের জ্ঞান লব্ধ করা যাবে, কিন্তু পরব্রহ্মের বা নির্গুণ ব্রহ্মের জ্ঞান লাভ করা যায় না। তাই শঙ্করের মতে শ্রুতি বা শব্দই স্বত প্রমাণ। অন্যান্য প্রত্যক্ষ, অনুমানাদি প্রমাণসমূহ শব্দের (=বেদ) করুণা দ্বারাই প্রমাণিত হতে পারে। অতএব, প্রমাণ সম্পর্কে শঙ্করের ব্যাখ্যা জৈমিনি তথা ভাট্ট-মীমাংসকদের মতবাদেরই অনুরূপ।
প্রমাণ হলো যথার্থ জ্ঞানলাভের উপায়। শঙ্কর ছয় প্রকার প্রমাণ স্বীকার করেন, যেমন- প্রত্যক্ষ, অনুমান, শব্দ, উপমান, অর্থাপত্তি ও অনুপলব্ধি।

সনাতন ধর্মের ইতিহাসে আদি শঙ্করাচার্য এক অবিস্মরণীয় নাম। যখন ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক আকাশ ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল, তখন তি...
21/04/2026

সনাতন ধর্মের ইতিহাসে আদি শঙ্করাচার্য এক অবিস্মরণীয় নাম। যখন ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক আকাশ ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল, তখন তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বৈশাখ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে তাঁর পবিত্র জন্মজয়ন্তী পালিত হয়
শাস্ত্রমতে, ভগবান শিব কলিযুগে ধর্ম রক্ষার জন্য শঙ্করাচার্য রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লিঙ্গ পুরাণ, শিব পুরাণ এবং ভবিষ্য পুরাণে এই অবতারত্বের বর্ণনা পাওয়া যায়।

শিব পুরাণের শ্লোক অনুসারে:

**"কলৌ রুদ্রো মহাদেবো লোকানামনুগ্রহায় চ।
করিষ্যতি অবতারং শঙ্করো নাম নামতঃ।।"
(শিব পুরাণ, শত রুদ্র সংহিতা)

অনুবাদ: কলিযুগে মহাদেব রুদ্র লোককল্যাণের নিমিত্ত 'শঙ্কর' নামে অবতার গ্রহণ করবেন।

এছাড়াও লিঙ্গ পুরাণে বর্ণিত হয়েছে:

** "নিদধ্যাৎ সর্বশাস্ত্রেভ্যঃ সারং সংগৃহ্য যত্নতঃ।
শঙ্করঃ সবিভূত্যর্থং করিষ্যতি কলৌ তনুম্।।"

অনুবাদ: কলিযুগে ভগবান শঙ্কর সমস্ত শাস্ত্রের সার সংগ্রহ করে ধর্ম প্রচারের জন্য দেহ ধারণ করবেন

ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রীয় পরম্পরা অনুসারে, আদি শঙ্করাচার্য বর্তমান কেরল রাজ্যের পূর্ণা নদীর তীরে কালাডি গ্রামে এক বিপ্র (ব্রাহ্মণ) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল শিবগুরু এবং মাতার নাম আর্যাম্বা। নিঃসন্তান শিবগুরু ও আর্যাম্বা মহাদেবের কঠোর তপস্যা করেছিলেন। মহাদেব স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন যে, তিনি নিজেই তাঁদের পুত্র রূপে জন্ম নেবেন।

আদি শঙ্করাচার্যের দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল "অদ্বৈতবাদ"। তাঁর বিখ্যাত ঘোষণা যা কোটি গ্রন্থের সার হিসেবে পরিচিত:

"শ্লোকার্ধেন প্রবক্ষ্যামি যদুক্তং গ্রন্থকোটিভিঃ।
ব্রহ্ম সত্যং জগন্মিথ্যা জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ।।"

অনুবাদ: কোটি গ্রন্থে যা বলা হয়েছে, আমি তা অর্ধেক শ্লোকে বলছি— ব্রহ্মই একমাত্র সত্য, জগৎ মিথ্যা (পরিবর্তনশীল ও অনিত্য) এবং জীব প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্ম থেকে ভিন্ন নয়।

তিনি প্রস্থানত্রয়ী (উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা) এর ওপর ভাষ্য রচনা করে প্রমাণ করেছেন যে, পরমাত্মা ও জীবাত্মার অভেদত্বই বেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

শঙ্করাচার্য কেবল অদ্বৈত তত্ত্বই প্রচার করেননি, তিনি সাধারণ মানুষের উপাসনার জন্য 'পঞ্চায়তন পূজা' পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। যেখানে গণেশ, সূর্য, বিষ্ণু, শিব এবং শক্তি— এই পাঁচ দেবতাকে এক ব্রহ্মের বিভিন্ন রূপ হিসেবে পূজা করার বিধানের মাধ্যমে বহুধা বিভক্ত সনাতন জাতির ঐক্য স্থাপন করেন। তিনি ভারতবর্ষের চারদিকে চারটি মঠ স্থাপন করেন, যা আজও সনাতন ধর্মের স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে:

উত্তরে: জ্যোতির্মঠ (বদরীনাথ)

দক্ষিণে: শৃঙ্গেরি শারদা পীঠ

পূর্বে: গোবর্ধন মঠ (পুরী)

পশ্চিমে: সারদা মঠ (দ্বারকা)

আদি শঙ্করাচার্য মাত্র ৩২ বছর বয়স পর্য্যন্ত ধরাধামে ছিলেন, কিন্তু এই স্বল্প সময়ে তিনি যা দিয়ে গেছেন, তা সহস্রাব্দ ধরে মানবজাতিকে পথ দেখাচ্ছে। তাঁর রচিত ভজ গোবিন্দম্, নির্বাণষটকম্ এবং সৌন্দর্যলহরী আজও আমাদের ভক্তি ও জ্ঞানের প্রেরণা দেয়।

শঙ্কর জয়ন্তীর এই পুণ্য তিথিতে আমাদের প্রার্থনা হোক:

"শ্রুতি স্মৃতি পুরাণানাং আলয়ং করুণালয়ম্।
নমামি ভগবদ্গদপাদ শঙ্করং লোকশঙ্করম্।।"

অনুবাদ: যিনি শ্রুতি, স্মৃতি ও পুরাণের আধার, যিনি করুণার আধার এবং জগতের মঙ্গলকর্তা, সেই ভগবান শঙ্করাচার্যের চরণে প্রণাম জানাই।

তথ্যসূত্র:

শিব পুরাণ (শত রুদ্র সংহিতা)

লিঙ্গ পুরাণ

ব্রহ্মসূত্র শাঙ্কর ভাষ্য

মাধবীয় শঙ্কর বিজয়ম্

Hrishidham - ঋষিধাম Temple Hrishidham,bashkhali HinduNews24.Com - হিন্দুনিউজ২৪.কম

Address

Post Office-Gunagori, Banskhali, Chattogram
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hrishidham - ঋষিধাম Temple posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category