17/06/2020
কারো মৃত্যুতে আনন্দ ও ঘৃনার প্রকাশ:
ইসলামী দৃষ্টিকোণ
‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’—এটাই অনিবার্য নিয়তি। বাস্তব পরিণতি। কেউ আগে, কেউ পরে—পার্থক্য এতটুকুই।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
‘প্রত্যেক প্রাণিকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কেয়ামতের দিন তোমাদের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে,সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১৮৫)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
‘প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং তোমরা আমার কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৫)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,
أَيْنَمَا تَكُونُواْ يُدْرِككُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ
‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন,মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও।’ (সুরা আন নিসা, আয়াত : ৭৮)
পার্থিব, বারযাখ ও পরকাল- আল্লাহ মানুষের জন্য এই তিনটি জগত সৃষ্টি করেছেন। ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জগত থেকে মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের পদার্পণ ঘটে চিরস্থায়ী জীবনের প্রথম জগত ‘বারযাখে’। সেখান থেকেই কিয়ামতের মাধ্যমে শুরু হবে তার পারলৌকিক অনন্ত জীবন। জান্নাত কিংবা জাহান্নামে। তাই বলা যায়, যে মারা গেল তার যেন কিয়ামত শুরু হয়ে গেল। পার্থিব জীবনের আমলের উপরই নির্ভর করবে তার পারলৌকিক জীবনের সফলতা কিংবা ব্যর্থতা। সুখ কিংবা দুঃখ। এই সত্যগুলো মুমিনমাত্রই স্বীকার ও বিশ্বাস করে।
জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ফয়সালা হবে পরিপূর্ণভাবে স্রষ্টা মহিয়ানের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তে। কিন্তু পার্থিব জীবনে দেখা যায়, কারো মৃত্যু মানুষকে ব্যথিত করে। করে শোকাভীভূত। আবার কারো মৃত্যু মানুষকে দেয় আনন্দ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস। কারো মৃত্যুর পর মানুষের মুখে মুখে শোনা যায় তার সৎকর্মের বিবরণ। আবার কারো মৃত্যুর পর লোকমুখে বয়ে বেড়ায় তার অপকর্মের ভয়ানক চিত্র। এ সবই মূলত ঐ কৃতকর্মেরই ফলাফল।
আসলে, মৃত মানুষদের নিয়ে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? আমরা কি ব্যথিত হবো, তাদের গুণাগুনসমূহ আলোচনা করবো ও তাদের জন্য দুআ করবো? নাকি আনন্দ প্রকাশ করবো? তাদের অপকর্মগুলো তুলে ধরবো? করবো ইচ্ছামত গালমন্দ?
এই বিষয়টি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্যই আমাদের আজকের এই প্রয়াস।
এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্য ও সালফে সালেহীনদের জীবনধারা থেকে যা জানা যায়, তার সংক্ষিপ্তসার হচ্ছে:
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত অবস্থান দান করেছেন। এই সম্মানকেই আমরা বলি, হিউম্যান ডিগনিটি। এই সম্মান মানুষ হিসেবে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলেরই প্রাপ্য। তাই মানুষকে জীবদ্দশায় যেভাবে সম্মান করতে হবে, মৃত্যুর পরও সেভাবে সম্মান করতে হবে।
আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন:
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ
“আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি” (সূরা আল-ইসরা: ৭০)। ।
"أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ كِفَاتًا
“আমি কি জমিনকে জীবিত ও মৃতদের জন্য ধারনকারী বানাই নি” - সূরা আল-মুরসালাত: ২৫)।
উম্মুল মুমিনীনি ‘আইশা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (স.) ইরশাদ করেন:
«كَسرُ عَظمِ المَيتِ ككَسرِه حَيًّا»،
“মৃত ব্যক্তি হাড় ভাঙ্গা জীবিত ব্যক্তির হার ভাঙ্গার মতই”। (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, আহমাদ , বায়হাকী)।
মৃত ব্যক্তিকে দাফন-কাফন করা এই সম্মানেরই একটি অংশ। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, কাফন পরানো, বহন করে নিয়ে যাওয়া ও দাফন করার সময়ও খুব সতর্কতা ও কোমলতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যাতে তার কষ্ট না হয়। তার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা না হয়।
ইমাম বুখারী (র.) আব্দুর রহমান বিন আবি লাইলা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
كَانَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ وَقَيْسُ بْنُ سَعْدٍ قَاعِدَيْنِ بِالْقَادِسِيَّةِ, فَمَرُّوا عَلَيْهِمَا بِجَنَازَةٍ, فَقَامَا, فَقِيلَ لَهُمَا: إِنَّهَا مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ - أَيْ: مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ - فَقَالَا: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتْ بِهِ جِنَازَةٌ, فَقَامَ, فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهَا جِنَازَةُ يَهُودِيٍّ, فَقَالَ: أَلَيْسَتْ نَفْسًا.
সাহল বিন হুনাইফ ও কইস বিন সা‘দ কাদিসিয়্যাহতে অবস্থান করছিলেন। তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযাহ/মৃত লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। তখন তারা দু’জনেই দাঁড়িয়ে গেলেন। তাদেরকে বলা হলো: এটিতো একজন অমুসলিমের লাশ। তারা জবাব দিলেন: রাসূল (স.) এর পাশ দিয়ে একটি লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। তখন রাসূল (স.) কে বলা হলো, এটা তো একজন ইয়াহুদির লাশ? রাসূল (স.) বলেন, সে একটি মানবাত্মা নয়”?।।
এমন কি যুদ্ধের ময়দানে নিহত শত্রু যোদ্ধার লাশ পর্যন্ত বিকৃত করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাদীসে এসেছে:
" نهى رسول الله عن المثلة" .(أحمد عن المغيرة بن شبعة ).
“রাসূল (স.) লাশ বিকৃত করতে নিষেধ করেছেন”।
হযরত ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন,
أذى المؤمن فى موته كأذاه فى حياته
“মৃত্যুর পর মুমিনকে কষ্ট দেয়া তাকে জীবদ্দশায় কষ্ট দেয়ার মতই”। (ইবনু আবি শাইবাহ)।
এ সব দলীল দ্বারা প্রতিভাত হলো যে, মৃত মানুষেরও জীবিতদের মত সম্মানিত করেছে ইসলাম। এতে ধর্ম-বর্ণ ও অন্য কোন পার্থক্য ধর্তব্য নয়।
মানবতার ধর্ম ইসলামেই শুধু মানুষের এই সম্মান কল্পনা করা যায়।
সুতরাং মৃত ব্যক্তিদের দুর্নাম ছড়ানো, তাদের প্রতি ঘৃনা প্রকাশ করা, মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধা সৃষ্টি করা, তথা কারো মৃত্যুতে উল্লাস ও মাতামাতি করা, মিষ্টি বিতরণ করা, কবরের উপরে পৈশাচিক ভঙ্গিতে আঘাত করা, লাশের উপর হায়েনার মত নৃত্য পরিবেশন করা,
- সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী চরম অন্যায় কাজ। অসভ্যপনার ভয়ানক বহিপ্রকাশ।
এ মর্মে নীচের হাদীসগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ক. ইমাম বুখারী হযরত ‘আইশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (স.) বলেন:
لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ ; فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا
“ তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কারণ, তারা স্বীয় কর্মফল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।”
হাদীসটি মৃত ব্যক্তিকে গাল দেওয়া এবং তাদের দোষ র্চ্চা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ। আর এটি খারাপ স্বভাবের একটি। নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত রাসূলের বাণীর অবশিষ্ট অংশে: “কারণ, তারা স্বীয় কর্মফল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ, তারা তাদের স্বীয় কর্ম খারাপ হোক বা ভালো হোক সে পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন। আর গাল দেওয়া তাদের কাছে পৌঁছবে না, বরং তা জীবিতদের কষ্ট দেয়। যেমন অন্য হাদীসে রয়েছে।
খ. ইমাম রিমিযী মুগীরা (রা.) থেকে সহীহ সনদে রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূল (স.) বলেছেন:
"لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَتُؤْذُوا الْأَحْيَاءَ".
“তোমারা মৃতকে গালি দিও না। তাহলে জীবতদের কষ্ট দেয়া হবে”। (ইমাম নাসাঈও ইবনু আব্বাস (রা.) অনুরূপ একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন)।
গ. ইমাম তিরমিযী ও আবু দাউদ হযরত ‘আইশা (রা) থেকে রেওয়ায়েত করেন যে, আল্লাহর নবী বলেছেন:
"خيْرُكم خيْرُكم لأهْلِه، وأنا خيْرُكم لأهْلي، وإذا ماتَ صاحبُكم فدَعَوهُ"؛
“তেমাদের মধ্যে সে ই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর যখন তোমাদের কোন সাথী মারা যাবে, তাকে রেহাই/ছেড়ে দাও”।
শেষোক্ত কথাা “তাকে ছেড়ে দাও” এর একটি ব্যাখ্যা হলো:
"فدَعوه، لا تَقَعوا فيهِ"، أي: فاترُكوا ذِكرَه بكلامٍ سيِّئٍ، بل اذْكروهُ بالذِّكْرِ الحسَنِ وإلَّا فلتُمْسِكوا عن ذِكرِه.
তার মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি করো না। তার ব্যাপারে কোন খারাপ মন্তব্য করো না। বরং তার সুন্দর দিকগুলো আলোচনা করো। অন্যথায়, তার ব্যাপারে চুপ থাকো।
ঘ. ইমাম নাসাঈ কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীসে রয়েছে:
"ذُكِرَ عند النبي صلى الله عليه وسلم هالكٌ بسوء، فقال: لا تذكروا هلكاكم إلا بخير". (وفي رواية أبي داود الطيالسي : لا تذكروا موتاكم إلا بخير).
“রাসূল (স.) এর কাছে একজন মৃত ব্যক্তিকে নিন্দনীয় ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। রাসূল (স.) তখন বললেন: তোমরা মৃতদেরকে সুন্দর ভাবে স্মরণ করো”।
ঙ. ইবনু ‘উমার (রা.) রাসূল থেকে রেওয়ায়েত করেন, রাসূল (স.) বলেন:
اذْكُرُوا مَحَاسِنَ مَوْتَاكُمْ وَكُفُّوا عَنْ مَسَاوِيهِمْ
'তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজগুলোর আলোচনা করো এবং মন্দ কাজের আলোচনা থেকে বিরত থাকো।' (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু হিব্বান).
সুতরাং বোঝা গেল যে, স্বাভাবিক অবস্থায় কারো মৃত্যুতে খুশী হওয়া বা মৃত ব্যক্তির বদনাম ছড়ানো, তার সুনাম-সুখ্যাতি নষ্ট করা, গর্হিত কাজ।
তবে মৃত ব্যক্তি যদি জীবদ্দশায় নিম্নোক্ত কোন একটি শ্রেণীভুক্ত থাকে, তাহলে তার মৃত্যুতে আনন্দিত হওয়া এবং তার কৃতকর্ম প্রকাশ করা বৈধ। তাতে গুনাহ হবে না।
ক. যালিম: যারা মানুষকে যুলুম করে। মানুষের হক্ক নষ্ট করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা চর্চা করে।
খ. মুফসিদ: যারা জমিনে ফাসাদ ও বিপর্য় সৃষ্টি করে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে।
গ. ফাসিক: যারা প্রকাশে নাফরমানি করে। কিংবা গোপনে নাফরমানি করে প্রকাশ্যে তা বলে বেড়ায়। যাকে ইলামে মুজাহির বলা হয়। এদের কারণে সমাজের নৈতিক পবিত্রতা ও মূল্যবোধ কলুষিত হয়।
ঘ. বিদ‘আতী: ইসলামে মনগড়া আচার-অনুষ্ঠান প্রবিষ্ট করে এবং তাতে ধর্মের রং লাগিয়ে দেয়। ফলে মানুষ ধর্মের নামে অধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।
ঙ. ইসলামের সাথে শত্রুতা পোষণকারী। যারা সব সময় ইসলাম ও মুসলমানদের অনিষ্ট সাধনে ব্যস্ত থাকে।
এ সব লোকের ধ্বংস বান্দাদের উপর আল্লাহর নিয়ামত স্বরূপ। বরং বৃক্ষলতা ও পশুপাখীদের জন্যও নিয়ামত। এ জন্য আহলুস সুন্নাহ শুধু তাদের মৃত্যুতেই নয়: বরং তাদের অসুস্থতা, জেলবন্দী হওয়া বা তাদের উপর আরোপিত মুসিবতেও আনন্দ ব্যক্ত করেন।
এদের ধ্বংস ও মৃত্যুর মাধ্যমে মুমিন মনে শান্তি আসে। চারিদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস শোনা যায়। নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলার সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। মাযলুমের আর্তনাদ বন্ধ হয়। মানুষের মনে জমাটবদ্ধ কষ্টগুলোর বরফ গলতে থাকে। আঘাতের পলেস্তারা খসে খসে পড়তে থাকে।
এককথায়, সামগ্রীক নিরাপত্তা ও স্বস্তির উপলদ্ধি নেমে আসে। আর এ সবই হলো আল্লাহর নিয়ামত। এবং মাযলুমকে সাহায্য করার আসমানী ওয়াদার এক প্রকার বাস্তবায়ন। তাই এদের মৃত্যুতে খুশী হওয়ার মনে হলো, আল্লাহর নিয়ামতে খুশী হওয়া। সুদিন ফিরে আসার প্রত্যশায় উজ্জীবিত হওয়া।
এই মর্মে কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ একাধিক স্থানে প্রমাণাদি পাওয়া যায়। যেমন:
১. আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
"وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ. وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ"
“... আর তিনি মুমিনদের পরাণ ঠান্ডা করবেন। এবং তাদের অন্তরসমূহের ক্রোধ দূর করবেন” (সূরা আততাওবাহ: ১৪,১৫)।
এ কথা সত্যি যে, যালিমের শাস্তি ও পতন হচ্ছে, নিহত মুমিন ও মাযলুমের আপনজনদের মনের শিফা স্বরূপ।
ইমাম তবারী এই আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যায় বলেন:
قال الطبري: "يقول: ويبْرِئ داء صدور قوم مؤمنين بالله ورسوله، بقتل هؤلاء المشركين بأيديكم، وإذلالكم وقهركم إياهم، وذلك الداء، هو ما كان في قلوبهم عليهم من الموجدة بما كانوا ينالونهم به من الأذى والمكروه".(جامع البيان: ١٤/ ١٦٠)
“কাফিরগণ মুমিনদেরকে যে কষ্ট দিয়েছে, নির্যাতন করেছে, সে কারণে আল্লাহ ও রাসূলে বিশ্বাসী মুমিনদের মধ্যে যে অসুস্থতা বা কষ্ট জমা হয়েছে, আল্লাহ তোমাদের মাধ্যমে কাফিরদের পতন ঘটিয়ে, তাদেরকে নিহত ও পরাভূত করে সেই কষ্ট নামক ব্যধি সারিয়ে দিবেন।
২. অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
"فقُطع دابر القوم الذين ظلموا والحمد لله رب العالمين"
“অতঃপর অত্যচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কেটে ফেলা হলো আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বের রব্ব আল্লাহর জন্যই” (সূলা আন‘আম: ৪৫)।
এই আয়াতটিকে গণ্য করা হয়, যালিমের পতনে আনন্দিত হওয়ার মূল দলীল হিসেবে। আল্লাহ স্বয়ং যালিমকে ধ্বংস করে নিজের প্রশংসা নিজেই করছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদেরকেও যালিমদের পতনে সানন্দে তাঁর প্রশংসা করার শিক্ষা প্রদান করছেন।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যমখশারী বলেন:
إيذانٌ بوجوب الحمد عند هلاك الظلمة وأنه من أجلِّ النعم"
“এই আয়াতের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, অত্যাচারীর পতনে আল্লাহর প্রশংসা করা ওয়াাজিব। এবং এটি একটি মহা নিয়ামত”।
ইমাম শাওকানী বলেন:
وفيه :تعليم للمؤمنين كيف يحمدونه سبحانه عند نزول النعم التي من أجلها هلاك اللظلة, الذين يفسدون في الأرض ولايصلحون؛ فإنهم أشداء على عباد الله من كل شيئ.
“এই বাণীর মধ্যে মুমিনদের জন্য এই শিক্ষা রয়েছে যে, কিভাবে তারা আল্লাহর নিয়ামত অবতীর্ণ হলে তাঁর শুকরিয়া করবে। যালিমদের ধ্বংস নিয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম নিয়ামত। কারণ, তারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে। জমিনকে ইছলাহ করে না। তারা আল্লাহর বান্দাদের প্রতি সবার চেয়ে কঠোর।
৩. নুহ (আ.) আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছিলেন:
{وَقَالَ نُوحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا (26) إِنَّكَ إِن تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا (27)
“নুহ বললেন, হে আমার রব্ব! ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী কাফিরদের একজনকেও তুমি রেহাই দিও না। তুমি যদি তাদেরকে অবশিষ্ট রাখো, তবে তারা তোমার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং দুরাচারী ও কাফির ছাড়া অন্য কারো জন্ম দেবে না”- সূরা নুহ,আয়াত: ২৬, ২৭)।
فيه دلالة صربحة على تمنى نبي الله نوح أن يهلك الله الكافرين، وهذ مقتض للفرح.
এই দু‘আ থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, নুহ (আ.) আল্লাহর কাছে কাফিরদের ধ্বংস কামনা করেছিলেন। যার মধ্যে তাদের মৃত্যুতে আনন্দ ব্যক্ত করার অর্থ নিহিত আছে।
৪. আল্লাহ তা‘আলা পারস্য বাহিনীর পরাজয় ও নিহত হওয়ায় মুমিনদের আনন্দের কথা ব্যক্ত করে বলেন:
وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ
সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে” – (সূরা আর-রূম: ৪)।
এখানে যদিও কাফিরদের পরাজয়/ মৃত্যুতে মুমিনদের আনন্দের কথা বলা হয়েছে, তবে এ কথাও সত্যি যে, অনেক সময় যালিমদের অনিষ্ট কাফিরদেরকেও হার মানায়।
৫. আল্লহর বাণী:
فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنظَرِينَ
অতঃপর আসমান ও যমীন তাদের জন্য কাঁদে নি এবং তারা অবকাশপাপ্তও ছিলো না”- (সূরা আদ-দুখান:২৯)।
عن سعيد بن جُبير، قال: أتى ابن عباس رجل، فقال: يا أبا عباس، أرأيت قول الله تبارك وتعالى: "فما بكت عليهم السماء والأرض وما كانوا منظرين"؛ فهل تبكي السماء والأرض على أحد؟ قال: نعم، إنه ليس أحد من الخلائق إلا له باب في السماء منه ينزل رزقه، وفيه يصعد عمله، فإذا مات المؤمن فأغلق بابه من السماء الذي كان يصعد فيه عمله، وينزل منه رزقه، بكى عليه؛ وإذا فقده مُصَلاه من الأرض التي كان يصلي فيها، ويذكر الله فيها بكت عليه، وإن قوم فرعون لم يكن لهم في الأرض آثار صالحة، ولم يكن يصعد إلى السماء منهم خير، قال: فلم تبك عليهم السماء والأرض.(جامع البيان: ٨/ ٣٧٣)
হযরত সায়ীদ বিন যুবাইর বলেন, ইবনু আব্বাসের কাছে একজন লোক আসলেন। বলেলেন, হে ইবনু আব্বাস! আপনি কি আল্লহু সুবহানাহু ওয়াতাআলার এই বাণী নিয়ে ভেবেছেন?আকাশ ও যমীন কি কারো জন্য কাঁদে?
তিনি বললেন: হ্যাঁ। প্রতেক সৃষ্টির জন্য আকাশে একটি দুয়ার আছ যেটি দিয়ে তার রিযিক আসে এবং ঐ জায়গা দিয়েই তার আমলগুলো উপরে ওঠে। মুমিন যখন মারা যায়, তখন যেই দুয়ার দিয়ে তার আমল আকাশে ওঠতো ও তার রিযিক নেমে আসতো, সেই দুয়ারটি তার জন্য কাঁদতে থাকে। যেই যমীনে বসে সে নামায পড়তো, আল্লাহর যিকির করতো ঐ যমীনও তার জন্য কাঁদতে থাকে। পৃথিবীর কোথাও যেহেতু ফেরাউনের কওম কোন ভালো আমলের চিহ্ন রেখে যায় নি, না গিয়েছে আকাশে তাদের কোন উত্তম আমল, তাই তাদের জন্য আকাশ-যমীন কেউ কাঁদে নি।”
وقال ابن جزي: "فيه ثلاثة أقوال: الأول: أنه عبارة عن تحقيرهم، وذلك أنه إذا مات رجل خطير، قالت العرب في تعظيمه: بكت عليه السماء والأرض، على وجه المجاز والمبالغة، فالمعنى: أن هؤلاء ليسوا كذلك؛ لأنهم أحقر من أن يبالى بهم. الثاني: قيل: إذا مات المؤمن بكى عليه من الأرض موضع عبادته، ومن السماء موضع صعود عمله، فالمعنى: أن هؤلاء ليسوا كذلك؛ لأنهم كفار، أو ليس لهم عمل صالح.
الثالث: أن المعنى ما بكى عليهم أهل السماء ولا أهل الأرض، والأول أفصح، وهو منزع معروف في كلام العرب".
(التسهيل: ٢/ ٢٦٨)
ইবনুল যিযযি বলেন: এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনটি মত আছে:
ক. এর দ্বারা তাদের তুচ্ছতা ও মূল্যহীনতা বোঝানো হয়েছে।
খ. মুমিন যখন মারা যায়, তখন যমীনে তার ইবাদাতের জায়গাগুলো কাঁদতে থাকে। আকাশে তার আমল উত্তোলনের স্থানও কাঁদতে থাকে।
গ. এর অর্থ হলো:
আকাশ ও যমীনের অধিবাসীরা তাদের জন্য কাঁদে নি।
ব্যক্তিদের মৃত্যুতে যেহেতু, আকাশ ও যমীন কেঁদে ওঠে, তাই এর উল্টো অর্থ দাঁড়ায়: আসমা-যমীন খারাপ লোকদের মৃত্যু ও পতনে আনন্দিত হয়ে ওঠে। সুতরাং তাদের মৃত্যুতে মুমিনদের আনন্দিত হওয়াটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ, তারা ওদের থেকে অনেক অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছে।
৬. আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
1. قوله تعالى ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحاً وَجُنُوداً لَمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيراً ) الأحزاب/ 9 .
হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্চাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।
وفي الآية بيان أن إهلاك أعداء الله تعالى من نعَم الله على المسلمين التي تستوجب ذِكراً وشكراً .
এই আয়াতের নির্গলিত ভাবধারা হচ্ছে, আল্লাহর দুশমনদের ধ্বংস মুসলমানদের উপর আল্লাহ তা‘আলার এ সব নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত, যে জন্য তাদের আল্লাহর যিকর ও শুকর ওয়াজিব অবধারিত হয়ে যায়।
৭. বুখারী ও মুসলিমে উদ্ধৃত এই হাদীসটি:
عن أبي قتادة بن ربعي الأنصاري قال: مُرَّ على النبي صلى الله عليه وسلم بجنازة، فقال: ((مُستريح ومُستراح منه))؛ فقالوا: "يا رسول الله، ما المستريح وما المستراح منه؟"، قال صلى الله عليه وسلم: ((إن العبد المؤمن يستريح من نَصَبِ الدنيا وأذاها إلى رحمة الله تعالى، والعبد الفاجر يستريح منه العباد والبلاد والشجر والدواب).
হযরত কাতাদাহ বিন রিবঈ আন-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স.) এর পাশ দিয়ে একটি জানাযাহ যাচ্ছিলো। তখন রাসূল (স.) বললেন, সে নিজে আরাম পেয়েছে ও অন্যরা তার থেকে আরাম পেয়েছে। সাহাবারা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! “সে নিজে আরাম পেয়েছে ও অন্যরা তার থেকে আরাম পেয়েছে”- এর অর্থ কি? রাসূল (স.) জবাব দিলেন: মুমিন বান্দা (মৃত্যুর মাধ্যমে) দুনিয়ার কষ্ট-ক্লান্তি থেকে আল্লাহর রহমাতের পানে চলে গিয়ে আরাম লাভ করে। আর ফাজির (পাপিষ্ঠ) বান্দা থেকে অন্যান্য বান্দারা, যমীন, গাছপালা ও পশুপ্রাণী আরাম লাভ করে – (বুখারী, মুসলিম)।
ফাজির বা পাপিষ্ঠের মৃত্যুতে আল্লাহর বান্দারা রেহাই পায়, এ কথার অর্থ হলো: তার অনিষ্ট দূর হওয়া।ফাজির বিভিন্নভাবে মানুষকে কষ্ট দেয়। যেমন: সরাসরি যুলুম করে কষ্ট দেয়। তদ্রূপ, নিষিদ্ধ/হারাম কাজ করেও কষ্ট দেয়। কারণ, বাধা দিতে গেলে মিনদেরম কষ্ট হয়, বরং সম্ভবত তার অনিষ্ট দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। আর বাধা না দিলে চুপ থাকার অপরাধে অপরাধী হতে পারেন।
পশু-প্রাণীদের শান্তি পাওয়া অর্থ হলো:
পাপিষ্ঠরা প্রাণীদেরকেও অন্যায়ভাবে মারে, কখনো না খাইয়ে রাখে কিংবা অতিরক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয়।
في هذا الحديث بيَّن النبي صلى الله عليه وسلم أن الفاجر حين يموت يكفي العباد شره، ويريحهم من فجوره وغطرسته، بل حتى الشجر والدواب يستريحون منه، وفيه عظيم دلالة على أنَّ هذه الراحة نعمة من نعم الله الجليلة التي لا بد من شُكرها، وأول أبواب شكرها: الفرح بها.
এই হাদীসের মধ্যে রাসূল (স.) যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, তা হলো: ফাজির/দুরাচার তার মৃত্যর মাধ্যমে অন্যদেরকে নিজের অনিষ্ট থেকে রেহাই দেয় এবং তার ঔদ্ধত্য, সীমালঙ্ঘন ও পাপচার থেকে লোকদরকে শান্তি দেয়। এমনকি বৃক্ষরাজি, পশুপ্রাণীরাও তার থেকে বেঁচে যায়। এ কথার মধ্যে যে অর্থটি লুকিয়ে আছে, তা হচ্ছে, এই মানসিক শান্তি আল্লাহ তা‘আলার একটি মহানিয়ামত। যার শুকরিয়া করা বাঞ্জণীয়। আর এই শুকরিয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে: এই নিয়ামত পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করা।
হাফিজ ইবনু হাযার বলেন:
وَالَّذِي يَظْهَرُ أَنَّ الْمُرَادَ بِالْفَاجِرِ أَعَمُّ مِنْ أَنْ يَكُونَ كَافِرًا أَوْ فَاسِقًا
আমার ধারণায়, হাদীসে উল্লিখিত ফাজির শব্দটি কাফির ও ফাসিক শব্দদ্বয়ের চেয়েও ব্যাপাকার্থবোধক।
৮.
عن أَنسٍ قَالَ: مرُّوا بجنَازَةٍ فَأَثْنَوا عَلَيْهَا خَيرًا، فَقَالَ النبيُّ ﷺ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مرُّوا بِأُخْرَى فَأَثْنَوا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَال النَّبيُّ ﷺ: وَجبَتْ، فَقَال عُمرُ بنُ الخَطَّاب : ما وَجَبَتْ؟ قَالَ: هَذَا أَثْنَيتُمْ علَيْهِ خَيرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الجَنَّةُ، وهَذَا أَثْنَيتُم عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أنتُم شُهَدَاءُ اللَّهِ في الأرضِ متفقٌ عَلَيْهِ.
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা একটি জানাযাহ নিয়ে যাচ্ছিলো এবং মৃত ব্যক্তির সুনাম করছিলো। তখন রাসূল (স.) বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেলো। অতঃপর আরেকটি জানাযাহ নিয়ে যাচ্ছিল তারা এবং মৃত লোকটির দুর্নাম করছিলো। রাসূল (স.) তখন বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলো। ‘উমার বিন খাওাব (রা.) তখন জিজ্ঞেস করলেন, কী ওয়াজিব হয়ে গেলো? রাসূল (স.) জবাব দিলেন: তোমরা যে ব্যক্তির সুনাম করছিলে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর তোমারা যার দুর্নাম করছিলে, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা যমীনে আল্লাহ সাক্ষী। (বুখারী ও মুসলিম)।
৯.
وعن أَبي الأَسْوَدِ قَالَ: قَدِمْتُ المدِينَةَ، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ ، فَمَرَّتْ بِهِمْ جنَازةٌ، فأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِها خَيْرًا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بأُخْرى، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِها خَيرًا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بِالثَّالِثَةِ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا شَرًّا، فَقَال عُمَرُ: وَجَبَتْ، قَالَ أَبُو الأَسْودِ: فَقُلْتُ: وَمَا وَجَبَتْ يَا أميرَ المُؤمِنينَ؟ قَالَ: قُلتُ كما قَالَ النَّبيُّ ﷺ: أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لهُ أَربعةٌ بِخَيرٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجنَّةَ، فَقُلنَا: وثَلاثَةٌ؟ قَالَ: وثَلاثَةٌ، فقلنا: واثنانِ؟ قال: واثنانِ، ثُمَّ لم نَسْأَلْهُ عَن الواحِدِ. رواه البخاري.
হযরত আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় পরে একদিন ‘উমারের কাছে বসে ছিলাম। ঐ সময় একটি জানাযাহ যাচ্ছিল সেই জায়গা দিয়ে। লোকেরা মৃত লোকটির প্রশংসা করছিলো। তখন ‘উমার বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলো। অতঃপর আরেকটি জানাযাহ আসলো। সেই ব্যক্তিরও প্রশংসা করা হলো। ‘উমার (আবারও) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলো। অতঃপর তৃতীয় আরেকটি লাশ যাচ্ছিলো। লোকেরা মৃতব্যক্তির বদনাম করছিলো। ‘উমার বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলো।
আবুল আসওয়াদ মুমিনীন! কী ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি বললেন, আমি তা ই বলেছি, যা নবীজি (স.) বলেছেন: চারজন ব্যক্তি যদি কাউকে ভালো লোক বলে সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন। অতঃপর আমরা বললাম: যদি তিনজন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন: তিনজন হলেও। আমরা বললাম: যদি দুই জন হয়? তিনি বললেন: দু’জন হলেও। অতঃপর আমরা একজনের ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। (বুখারী)।
وفي الحديثين: إقرار النبي صلى الله عليه وسلم، وإقرار عمر؛ للصحابة بذكر مساوئ الميت، ويلزم من ذلك: فرحهم بموته!
এই হাদীসদ্বয় থেকে জানা গেলে যে, সাহাবারা মৃত ব্যক্তির মন্দ দিকগুলো আলোচনা করেছিলেন। এবং রাসূল (স.) ও তারপর ‘উমার (রা.) তাদের এই কাজের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। যা থেকে ঐ ব্যক্তির মৃত্যুতে তাদের সন্তুষ্টি ও আনন্দ প্রকাশ পাওয়ার অর্থই অনিবার্য হয়ে ওঠে।
১০.
عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: لما أَمر النبي يوم بدر بأولئك الرَّهْط فأُلقُوا في الطَّوِيِّ، عتبة وأبو جهل وأصحابه، وقف عليهم فقال: ((جزاكم الله شرًّا مِن قومِ نبيٍّ؛ ما كان أسْوأَ الطَّرْد وأشدَّ التكذيب!))، قالوا: "يا رسول الله، كيف تُكلِّم قومًا جَيَّفُوا؟!"، فقال: ((ما أنتم بأفْهَم لقولي منهم)).
হযরত আইশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: “বদর দিবসে নবী (স.) এর নির্দেশক্রমে (কোরেশ বাহিনীর নিহত) লোকদেরকে একটি সংকীর্ণ কুপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। যাদের মধ্যে উতবাহ, আবু জাহল ও তার সাথীরা ছিলো। এরপর রাসূল (স.) সেখানে দাঁড়িয়ে বলেন: “আল্লাহ তোমাদেরকে নবী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নিকৃষ্ট প্রতিদান দিন। কত নিকৃষ্টই না ছিলো আমাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া এবং কতই না ভয়ানক ছিলো তোমাদের মিথ্যাচার!! সাহাবাগণ বললেন: হে আল্লাহর রসূল, আপনি মৃত লাশের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? রাসূল (স.) উত্তর দিলেন: তোমরা তাদের চেয়ে আমার কথা বেশি বুঝতে পারো না।”
এই সব আয়াত ও হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কাফির, মুনাফিক ও মুফসিদিনদের মৃত্যুতে খুশী হওয়া বৈধ। তাদের অপকর্মের যথাযথ কর্মফল প্রার্থনা করাও বৈধ।
একটি প্রশ্ন ও তার জবাব:
যে সব হাদীসে মৃতের বদনাম ও মৃতকে গালমন্দ করতে নিষেধ করা হয়েছে, সে সব হাদীসের ব্যাখ্যা কী হবে?
এর উত্তর দিয়েছেন ইমাম নববী (র.)। তিনি বলেন:
قال النووي رحمه الله تعالى : "فالجواب : أن النهي عن سب الأموات هو في غير المنافق وسائر الكفار ، وفي غير المتظاهر بفسق أو بدعة ، فأما هؤلاء فلا يحرم ذكرهم بشر للتحذير من طريقتهم ، ومن الاقتداء بآثارهم والتخلق بأخلاقهم
“মৃতদের গালি দেয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে,তা ঐ সব লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যারা:
ক. মুনাফিক. খ. কাফির. গ. প্রকাশ্যে নাফরমানি করে. ঘ. যারা প্রকাশ্যে বিদআত করে।
এই লোকদের মন্দ দিকগুলো তুলে ধরে অন্যদেরকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা, তাদের অনুকরণ এবং তাদের মন্দ আখলাক থেকে বিরত রাখা উদ্দেশ্য হলে তা হারাম হবে না।
ইমাম সান‘আনী বলেন: ইমাম নববী বলেছেন:
যালিম, ফাজির, মুফসিদ, মুজাহির, মুবতাদি (বিদআতকারী)র মৃত্যুতে খুশী হওয়ার অর্থ ও পদ্ধতি কী?
আসুন, এ গুলো জেনে নেয়া যাক সালাফদের জীবনাচার থেকে। তারা কিভাবে আনন্দ প্রকাশ করতেন যালিম, ফাসিক ও বিদআতদ্রষ্টাদের মৃত্যুতে।
১.বিশর আল-মারিসীর(بشر المريسي
) মৃত্যু:
فرح العلماء واستبشروا بموت المريسي، وشكروا الله تعالى على ذلك.
وعن بشر بن الحارث، قال: جاء موت هذا الذي يقال له: المريسي وأنا في السوق، فلولا أنه كان موضوع شهرة؛ لكان موضع شكر وسجود، والحمد لله الذي أماته، هكذا قولوا.
(تاريخ بغداد: ٧/ ٦٧).
বিশর আলমারিসীর মৃত্যুর পর সমকালীন আলেমগণ আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এবং এটিকে একটি সুসংবাদ হিসেবে গ্রহণ করে আল্লাহর শুকরিয়া করেছেন। এই লোকটি প্রথম জীবনে অনেক বড় আলিম ও মুত্তাকী ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে মুতাযেলী চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে বিভ্রান্ত ফেরকাহ জাহামিয়্যাহ ( الجَهْمِيَّة)দের নেতৃত্ব দান করে।
প্রসিদ্ধ মনিষী বিশর বিন আলহারিস বলেন:
মারিসীর মৃত্যু সংবাদ যখন পৌঁছালো আমার কাছে, আমি তখন বাজারে ছিলাম। বাজার না হলে আমি ওখানে আল্লাহর শুকরিয়ায় সিজদায় পড়ে যেতাম। আল্লাহর সমস্ত শুকরিয়া। যিনি তাকে মৃত্যু দিয়েছেন। আলিমগণ সবাই এ কথাই বলছিলেন।
২. অত্যাচারী শাসক হাজ্জাজের মৃত্যু:
وعندما أُخبر الحسن البصري: بموت الحجاج؛ فسجد. (تهذيب تاريخ دمشق: ٤/ ٨٥
প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হাসান আল-বসরী হাজ্জাজের মৃত্যুর সংবাদ শুনে সিজদায় পড়ে গিয়েছিলেন।
روى ابن سعد في طبقاته قال: أخبرنا عبدالحميد بن عبدالرحمن الحِماني، عن أبي حنيفة عن حماد قال: "بَشَّرتُ إبراهيم بموت الحَجَّاج، فسجد، ورأيته يبكي من الفرح".
ইমাম আবু হানীফা, হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, হাম্মাদ বলেছেন: আমি যখন ইব্রাহীম আন-নাখাঈকে হাজ্জাজের মৃত্যু সংবাদ প্রদান করলাম, তিনি সিজদায় চলে গেলেন। তার চোখে আমি আনন্দাশ্রু দেখেছি। (তাবাকাতু ইবনু সাদ ৬/২৮০)।
৩. হযরত আলী (রা.) আল-মুখাদ্দাজ(المخدَّج) নামক খারেজীর মৃ্ত্যুতে সিজদাতুশ শুকর আদায় করেছিলেন।
শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রা.) এ ব্যাপারে বলেন,
وقاتل أمير المؤمنين علي بن أبى طالب رضي الله عنه الخوارجَ ، وذكر فيهم سنَّة رسول الله المتضمنة لقتالهم ، وفرح بقتلهم ، وسجد لله شكراً لما رأى أباهم مقتولاً وهو. " مجموع الفتاوى " ( 20 / 395 ) .
আমীরুল মুমেনীন আলী (রা.) খাওয়ারেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মর্মে রাসূলের (স.) সুন্নাত উল্লেখ করেছিলেন। তাদের নিহত হওয়ার সংবাদে তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন। যখন তাদের প্রধানকে নিহত দেখলেন, তখন তিনি সিজদাতুশ শুকর করেছিলেন। যার নাম ছিলো, যুসসাদাইয়্যাহ (ذو الثُّدَيَّة)।
৪. পথভ্রষ্ট বিদআতী ইবনু আবি দাউদ যখন পক্ষাঘাত রোগে আন্ত্রান্ত হয়েছিলেন, তখন আহলুস সুন্নাহগণ আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। এমন কি ইবনু শিরা‘অহ আল-বাসরী (ابن شراعة البصري:)এই কবিতা রচনা করেছিলেন:
أفَلَتْ نُجُومُ سُعودِك ابنَ دُوَادِ ... وَبَدتْ نُحُوسُكَ في جميع إيَادِ
فَرِحَتْ بمَصْرَعِكَ البَرِيَّةُ كُلُّها ... مَن كَان منها مُوقناً بمعَادِ
لم يَبْقَ منكَ سِوَى خَيَالٍ لامِعٍ ... فوق الفِرَاشِ مُمَهَّداً بوِسادِ
وَخَبتْ لَدَى الخلفاء نارٌ بَعْدَمَا ... قد كنت تَقْدحُهَا بكُلِّ زِنادِ.. .
" تاريخ بغداد " للخطيب البغدادي ( 4 / 155 ) .
ইমাম আল-খল্লাল বলেন:
قيل لأبي عبد الله – أي : الإمام أحمد بن حنبل - : الرجل يفرح بما ينزل بأصحاب ابن أبي دؤاد ، عليه في ذلك إثم ؟ قال : ومن لا يفرح بهذا ؟ .
ইমাম আহমাদকে বলা হলো: ইবনু আবি দাউদের সাথীদের বিপদাপদ দেখে কেউ যদি আনন্দ প্রকাশ করে, তবে কি গুনাহ হবে? আহমাদ বললেন: এতে খুশী না হয়ে কি কেউ পারে?
৭. ইবনু কাসীর (র.) উল্লেখ করেছেন যে, বাগদাদের অন্যতম স্বৈরশাসক আল-হাসান বিন সাফী বিন বাজদান আত-তুর্কীর মৃত্যুর পর
فرح أهل السنة بموته فرحاً شديداً ، وأظهروا الشكر لله ، فلا تجد أحداً منهم إلا يحمد الله " البداية والنهاية " ( 12 / 338 ) .
আহলুস সুন্নাহ ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করেছিলেন এবং এমন কেউই ছিলেন না যিনি আলহামদুলিল্লাহ বলেন নি।
৮. ইবনু কাসীর আরো বলেন, ইমাম খাফফাফ যখন শিয়া ফকীহ ইবনুল মুআল্লিমের মৃত্যুর সংবাদ শুনলেন, তখন শুকরিয়ার সিজদা করেছিলেন এবং লোকদের অভিনন্দন জানাতে বসে গেলেন এবং বললেন:
ما أبالي أي وقت مِتُّ بعد أن شاهدت موت ابن المعلم (البداية والنهاية: ١٢/ ٢٠
ইবনুল মুআল্লিমের মৃত্যু যেহেতু দেখেছি, এখন যখনই মৃত্যু আসুক, তাতে কোন পরোয়া নেই।
উপসংহার:
১. মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে হাসাহাসি করা, মৃতের বদনাম ছড়ানো, মৃতের প্রতি ঘৃণা ও তাকে নিয়ে কোন প্রকার ট্রলিং করা বা কারো মৃত্যুতে আনন্দ প্রকাশ করা, ইসলামে নিষিদ্ধ। জঘন্য গুনাহর কাজএটিই হলো মৃতদের ব্যাপারে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।
২. তবে হ্যাঁ। মৃত ব্যক্তি যদি যালিম, ফাজির, ফাসিক, মুফসিদ (সমাজে বিশৃঙ্খলা,ফেৎনা-ফাসাদ সৃষ্টিকারী) ও মুজাহির (প্রকাশ্যে গুনাহ করে বেড়ায়), বেদআতি পর্যায়ের ও ইসলামের সাথে শত্রুতা পোষণকারী হয়, তবে তার মৃত্যুতে আনন্দিত হওয়া বৈধ। কারণ, তাদের মৃত্যু মুমিন সমাজের জন্য নিয়ামত। নিয়ামতে সন্তোষ প্রকাশ করা অনস্বীকার্য। তদুপরি, তাদের অপকর্মগুলো সমাজের সামনে তুলে ধরে সবাইকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা একটি ঈমানী দায়িত্ব। যেন কেউ না বুঝে তাদের চিন্তাচেতনা ও কর্মকান্ড দ্বারা আক্রান্ত না হতে পারে।
৩. তবে এ ক্ষেত্রে কতগুলো জিনিসি মনে রাখতে হবে, তাহলো:
ক. তাদেরকে অসুন্দর ভাষায় গালি দেয়া যাবে না। কারণ, ইসলামে গালি স্বীকৃত নয়। রাসূল (স.) বলেন:
ليس المؤمن بالطعان، ولا اللعان، ولا الفاحش، ولا البذيء
“মুমিন কখনো (অন্যায়ভাবে) অন্যের ছিদ্রান্বেষণকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ও অসভ্য (রুচিহীন ভাষা ব্যবহারকারী) হতে পারে না- (আততিরমিযী)।
খ. তারা যে সব অপকর্ম প্রকাশ্যে করেছে, সে গুলোই বলা যাবে। যা গোপনে করেছে, সেগুলো বলা উচিত নয়। আল্লাহ গোপন রাখা পছন্দ করেন। তদ্রূপ, যে অপকর্ম তারা করে নি, সেগুলো তাদের দিকে আরোপণ করা যাবে ন। তা হবে অপবাদ।
গ. তাদের লাশ বিকৃত করা; লাশের গায়ে জুতা মারা; লাশের উপর হায়েনার মত নৃত্য করা; কবরের উপর ঝাড়ু মারা -এ জাতীয় কাজ করা যাবে না। এগুলো হচ্ছে, কাফেরদের আচরণ। জাহেলী যুগের অবিশ্বাসী অসভ্যরা এ ধরনের আচরণ করতো। এ জন্যই আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ উহুদের প্রান্তরে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন:
للهم ارزقني غدا رجلا شديداً بأسه شديداً حرده ,فأقاتله ويقاتلني!! ثم يأخذني فيجدع أنفي وأذني !فإذا لقيتك غدا قلت لي: يا عبدالله فيم جدع أنفك وأذناك؟؟ فأقول فيك وفي رسولك فتقول :صدقت
“হে আল্লাহ! আগামী কাল একজন শক্তিশালী, বলিষ্ঠ ও কঠোর মনোভাবাপন্ন একজন (কাফির) কে আমার কাছে এনে দিও। আমি তার সাথে যুদ্ধ করবো, সে আমার সাথে যুদ্ধ করবে। অতঃপর আমাকে হত্যা করবে, আমার নাক-কান কেটে নিবে। আগামীকাল অর্থাৎ কিয়ামতের ময়দোনে তুমি যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ইয়া আব্দুল্লাহ! তোমার নাক কান কী কারণে কাটা হয়েছে? আমি বলবো, তুমি ও তোমার রাসূলের পথে। তখন তুমি বলবে: তুমি সত্যি বলেছো”।
লাশের অবমাননা, লাশের নাক-কান কেটে মালা বানানো, এগুলো কাফিরদের অভ্যাস ছিলো বলেই আব্দুল্লাহ ঐ কথাগুলো বলেছিলেন।
তিনি মূলত শাহাদাত