15/05/2026
ঐতিহাসিক মাজার ও সুফি স্থাপনায় বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং মাজার-দরগাহ সুরক্ষায় ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘শাহেন শাহে সিরিকোট ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরাম বাংলাদেশ’ এর বিবৃতি;
গত ১৪ মে, ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে একদল উগ্রবাদী ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক পরিকল্পিত এবং বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় শাহেন শাহে সিরিকোট ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরাম বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। হামলায় মাজারের ফকির-সেবায়েতদের মারধর, নারীদের ওপর আক্রমণ এবং মাজার সংলগ্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনায় আঘাত নয়, বরং এটি বাংলার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুফি সংস্কৃতির মূলে কুঠারাঘাত।
বিবৃতিতে ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) ১৫শ শতাব্দীতে এ দেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমন করেছিলেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই মাজার ও মসজিদ কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ নয়, বরং এ দেশের কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই পবিত্র স্থানে হামলার ঘটনাকে তথাকথিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক বিরোধী বক্তব্য এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এই হামলার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে বলে আমরা মনে করি।
বিগত কয়েক মাসে সারাদেশে ১৯টি মাজারে ধারাবাহিক হামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে ৩ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এই অরাজকতা বন্ধে এবং সুফি সাধকদের স্মৃতি রক্ষার্থে শাহেন শাহে সিরিকোট ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরাম বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করছে:
আমাদের ৫ দফা দাবি:
১. রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন: বাংলাদেশের সকল মাজার ও দরগাহ সুরক্ষায় অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও কার্যকর ‘জাতীয় নীতিমালা’ প্রণয়ন করতে হবে।
২. সুরক্ষা কমিটি গঠন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সুফি সমাজের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় মাজার ও দরগাহ সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করতে হবে।
৩. তালিকা প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ: এ পর্যন্ত হামলার শিকার সকল মাজার, দরগাহ ও খানকার পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণসহ যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল: মাজার ভাঙচুর ও হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক: দেশের সকল মাজার ও খানকাকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের আওতায় এনে সেগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও ভক্ত-আশেকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে, আমরা বিশ্বাস করি যে সুফিবাদের দর্শনই হলো শান্তি ও মানবতা। এই সম্প্রীতির বাংলাদেশে সুফি সাধকদের মাজার ও পবিত্র স্থাপনার ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার অবিলম্বে আমাদের এই ৫ দফা দাবি মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি।
বিবৃতি
চট্টগ্রাম, ১৫মে ২০২৬ইং