Kurratu Aiyun - কুররাতু আইয়ুন

Kurratu Aiyun - কুররাতু আইয়ুন Lifestyle�Grooming�Fitness�Motivation by sunnah�

একটা দেয়াল ভাঙলে রহমত, আরেকটা টিকে থাকলে রহমত--------------------------------------------------প্রতি জুমায় আমরা অনেকেই...
10/07/2026

একটা দেয়াল ভাঙলে রহমত, আরেকটা টিকে থাকলে রহমত
--------------------------------------------------

প্রতি জুমায় আমরা অনেকেই সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করি। গুহার তরুণদের ঘটনা, দুই বাগানের মালিক, মুসা (আ) আর খিজিরের সফর, যুল-কারনাইনের অভিযান—চারটা ঘটনাই আমাদের মুখস্থপ্রায়। কিন্তু একটু দাঁড়ান। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই চারটা আলাদা আলাদা গল্প আসলে একটা প্রশ্নেরই চারটা উত্তর?

প্রশ্নটা হলো—আল্লাহর হস্তক্ষেপ কখন দেখা যায়, আর কখন যায় না?

উস্তাদ নোমান আলী খান সূরা কাহাফের কাঠামো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখিয়েছেন, এই সূরার মূল বার্তা হলো: অদেখা বাস্তবতা, চোখের সামনের দেখা বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দৃশ্যমান জগতে কাজ করছে পদার্থবিজ্ঞান, মাধ্যাকর্ষণ, রসায়ন। আর অদৃশ্য জগতে নিরন্তর কাজ করছেন স্বয়ং আল্লাহ। চারটা ঘটনা এই একটা সত্যকেই চার দিক থেকে দেখায়।

প্রথম ঘটনা: গুহার তরুণেরা। এখানে আল্লাহর হস্তক্ষেপ ছিল প্রকাশ্য—কয়েকজন তরুণ শত শত বছর ঘুমিয়ে থাকলেন, যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। আর ফলাফলও ছিল প্রকাশ্য পরিত্রাণ। আল্লাহর হস্তক্ষেপ দেখা গেল, আর সেই হস্তক্ষেপেই এলো মুক্তি।

দ্বিতীয় ঘটনা: বাগানের মালিক। এখানেও আল্লাহর হস্তক্ষেপ প্রকাশ্য—আকাশ থেকে নেমে আসা দুর্যোগে গোটা বাগান ধ্বংস। কোনো মানুষ আগুন দেয়নি, কেউ কেটে ফেলেনি। কিন্তু এবার ফলাফলটা দেখতে বিপর্যয়। আল্লাহর হস্তক্ষেপ দেখা গেল, আর সেই হস্তক্ষেপে সব চলে গেল।

সত্যিই কি কেড়ে নিলো? লোকটা বাগান হারিয়ে কী বলেছিল, মনে আছে?

يَا لَيْتَنِي لَمْ أُشْرِكْ بِرَبِّي أَحَدًا
"হায়! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরিক না করতাম!" (১৮:৪২)

বাগান গেল, কিন্তু তওবা এলো। উস্তাদ বলেন—এটা আসলে দুঃসংবাদ নয়, সুসংবাদ। কারণ গুহার তরুণরা যদি বেঁচে ফিরেও ঈমান হারাতেন, সেই "পরিত্রাণ"-ই হতো আসল বিপর্যয়। পার্থিব রক্ষা পাওয়াটা আসল কল্যাণ নয়; ঈমানের উপর টিকে থাকাটাই আসল কল্যাণ।

এবার তৃতীয় ঘটনায় খেলাটা ঘুরে যায়। মুসা (আ) দেখলেন—খিজির নৌকা ফুটো করছেন, একটা বালককে হত্যা করছেন, বিনা পারিশ্রমিকে দেয়াল তুলে দিচ্ছেন। প্রতিটা কাজ ঘটছে মানুষের হাতে। আল্লাহর হস্তক্ষেপ কোথাও চোখে পড়ছে না। স্বয়ং মুসা (আ)-ও ধৈর্য রাখতে পারলেন না। অথচ সফরের শেষে খিজির পর্দাটা সরিয়ে দিলেন:

وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي
"আমি এসব নিজের ইচ্ছায় করিনি।" (১৮:৮২)

যা দেখতে মানুষের কাজ, তা আসলে ছিল আল্লাহরই পরিকল্পনা—শুধু হস্তক্ষেপটা ছিল অদৃশ্য।

চতুর্থ ঘটনা এর উল্টো পিঠ। যুল-কারনাইন পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছেন, অন্যায়ের বিচার করছেন, এক জাতিকে ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে বাঁচাতে লোহা-তামার বিশাল প্রাচীর তুলে দিচ্ছেন। এবারও সব ঘটছে মানুষের হাতে—তবে এবার ঘটছে কল্যাণ। আর এখানেই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ভালো কিছু যখন আমাদের হাত দিয়ে ঘটে, আমরা ভাবতে শুরু করি—এ তো আমারই কৃতিত্ব। যুল-কারনাইন সেই ফাঁদে পা দেননি। প্রাচীর শেষ করেই তিনি ঘোষণা দিলেন:

هَٰذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي
"এটা আমার রবের পক্ষ থেকে রহমত।" (১৮:৯৮)

এখন সবচেয়ে চমকপ্রদ মিলটা দেখুন। মুসা (আ)-এর সফর শেষ হয়েছিল একটা দেয়াল দিয়ে, যুল-কারনাইনের সফরও শেষ হলো একটা দেয়াল দিয়ে। খিজিরের দেয়ালটা তোলা হয়েছিল দুই এতিমের গুপ্তধন আড়াল করতে—সেই দেয়াল একদিন ভেঙে পড়বে, এতিমরা বড় হয়ে নিচ থেকে সম্পদ বের করবে। ভেঙে পড়াটাই সেখানে রহমত। আর যুল-কারনাইনের দেয়াল ঠেকিয়ে রেখেছে ইয়াজুজ-মাজুজকে—যতদিন দাঁড়িয়ে আছে, ততদিনই রহমত; যেদিন ভাঙবে, নেমে আসবে মহাবিপর্যয়।

একটা দেয়াল ভাঙলে রহমত। আরেকটা টিকে থাকলে রহমত। আর দুটোর পরিণতিই আল্লাহ বেঁধে দিয়েছেন একই শব্দে—খিজির বললেন "রাহমাতাম মির রাব্বিক", যুল-কারনাইন বললেন "রাহমাতুম মির রাব্বি", আর দুই দেয়ালের ভবিষ্যৎ নিয়েই এসেছে "ওয়া'দু রাব্বি"—আমার রবের প্রতিশ্রুতি। ভাঙা-গড়া কোনোটাই এলোমেলো নয়; সবটাই এক মহাপরিকল্পনার অংশ।

তাহলে সূরা কাহাফ আমাদের কী শেখালো? আল্লাহর হস্তক্ষেপ কখনো চোখে দেখা যায়, কখনো যায় না। যখন আসে, কখনো তাকে মনে হয় পরিত্রাণ, কখনো মনে হয় বিপর্যয়। কিন্তু এই পৃথিবীতে যা-ই ঘটুক—সেটা পুরস্কারও নয়, শাস্তিও নয়। আসল পুরস্কার আর আসল শাস্তি আখিরাতে। এখানে সবকিছুই শুধু পরীক্ষা— আল্লাহর হস্তক্ষেপ দেখা যাক, আর না-ই যাক।

এক প্যারায় মনে রাখুন: সূরা কাহাফের চার ঘটনা আসলে একটাই ছক—গুহার তরুণদের বেলায় আল্লাহর হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান, ফলাফল পরিত্রাণ; বাগানওয়ালার বেলায় হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান, ফলাফল দেখতে বিপর্যয় (আসলে তওবার দরজা); খিজিরের বেলায় হস্তক্ষেপ অদৃশ্য, কষ্টগুলো আসে মানুষের হাত ধরে; যুল-কারনাইনের বেলায় হস্তক্ষেপ অদৃশ্য, কল্যাণও আসে মানুষের হাত ধরে। দুই সফরের শেষেই দেয়াল—একটা ভাঙলে রহমত, আরেকটা টিকে থাকলে রহমত। শিক্ষা একটাই: দুনিয়ায় যা ঘটে সবই পরীক্ষা, প্রকৃত ফলাফল আখিরাতে।

ইয়া আল্লাহ! আপনার পরিকল্পনা যখন চোখে দেখা যায় না, তখনও আপনার উপর সুধারণা রাখার তৌফিক দিন। আমাদের জীবনের ভাঙা দেয়ালগুলোকে রহমত বানিয়ে দিন। আমিন।

—নোমান আলী খানের আলোচনা অবলম্বনে

16/06/2026

আপনি ফেইসবুক‌ স্ক্রল করছিলেন,

হঠাৎ দেখলেন আপনার বেকার বন্ধুটি খুব ভালো একটি চাকরি পেয়ে গেছে।

আপনি মনে মনে বলে উঠলেন, "আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহুম্মা বারিক! হে আল্লাহ, আমার বন্ধুটির আয় রোজগারে বরকত দিন এবং তাকে কর্মজীবনে অনেক উন্নতি করার তৌফিক দান করুন।"

সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

আপনার বান্ধবীর বিয়ের দাওয়াত পাওয়ার পর আপনি মন থেকে দোয়া করলেন, " হে আল্লাহ! আমার বান্ধবীর দাম্পত্য জীবন আপনি সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন।

" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

আপনি পার্কে হাঁটছিলেন, দেখলেন ফুটফুটে একটি বাচ্চা খেলা করছে। আপনি বাচ্চাটির উদ্দেশ্যে দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! শিশুকে সুস্থ-সবল রেখে নেক হায়াত দান করুন।

" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

বাসায় ফেরার সময় দেখলেন এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে আছে।

আপনি তাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করার পর তার জন্য দোয়া করলেন, " হে আল্লাহ! আপনি লোকটিকে সুস্থতা দান করুন এবং তার জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট দূর করে দিন।"

সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

আমি কিন্তু কোনো রূপকথার গল্প বলছি না।

আমাদের সাথে ঠিক এমনটাই হয়। এই মর্মে একটি হাদিস আছে,

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফেরেশতা তার দোয়ার সময় আমীন বলতে থাকেন। যখনই সে তার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করে, তখন ফেরেশতা বলেন, আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ।"
~ সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৮৯৫।

আমাদের সমাজটা হিংসা-বিদ্বেষে ভরে গেছে।

আমরা অন্যের ভালো সহ্য করতে পারিনা। কারো ভালো দেখলে দোয়া করা তো দূরের কথা বরং অনেকে অন্যের সুখ নষ্ট করার জন্য কালো জাদুও করে!

অথচ আল্লাহর দেওয়া বিধান কতই না চমৎকার!

অন্যের ভালো চাইলে, অন্যের জন্য ভালো দোয়া করলে, তাতে বরং নিজেরই উপকার হয়। কেননা, ফেরেশতাদের দোয়া তো কখনো বিফল হয়না।

এই সুন্দর হাদিসটি না জানার কারণেই হয়ত অনেকর মনে এখনো হিংসার ময়লা রয়ে গেছে।

তাই পোস্টটি শেয়ার করে সবার কাছে রাসুল (সঃ)-এর বাণী পৌঁছে দিন।

কে জানে?

হয়ত আপনার করা একটি শেয়ারই অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে!

লেখা: রুমকি কাজী

প্রোডাক্টিভিটি বা টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে ফজরের পর জেগে থাকার ব্যাপারটা। সকালের বারাকাহপূর...
13/06/2026

প্রোডাক্টিভিটি বা টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে ফজরের পর জেগে থাকার ব্যাপারটা। সকালের বারাকাহপূর্ণ, ডিস্ট্রাকশন মুক্ত সুদীর্ঘ দুই-চার ঘন্টা সময় কাজে লাগানোর বিষয়টা।

অনেকেই বলে থাকেন সফলতা শুরু হয় এখানে। পুরো দুনিয়া যখন ঘুমিয়ে থাকে, সে সময়টা যে কাজে লাগাতে পারে সে-ই বাকিদের চেয়ে এগিয়ে যায়।

কিন্তু সফলতা আসলে এখানে শুরু হয় না। সফলতা শুরু হয় সকাল শুরু হওয়ারও আগে- আগের সন্ধ্যায়।

ফজরের পর জেগে থাকতে পারিনা- এটা একটা কমন অভিযোগ।

কিংবা যদিও আপনি জোর করে জেগে থাকেন এই সময়টাতে আপনার ব্রেইন যেভাবে ফাংশন করা উচিত সেভাবে ফাংশন করতে পারেনা যদি আপনি রাতে পর্যাপ্ত না ঘুমান।

তাই আপনার আজকের সকাল কেমন হবে, সকালের বারাকাহ আপনি কতটুকু অর্জন করতে পারবেন এটা নির্ভর করে আপনার গত সন্ধ্যার অ্যাক্টিভিটি কেমন ছিল তার উপর।

আপনি অর্ধ রাত পার করে ঘুমাবেন, ঘুমানোর আগে লম্বা সময় মোবাইল স্ক্রল করে চোখ আর ব্রেইনকে এত ক্লান্ত করবেন যে ক্লান্তি দূর করতে ১২-১৫ ঘন্টার লম্বা ঘুম প্রয়োজন হবে, তাহলে আপনি কিভাবে আশা করেন যে সকালে উঠে আপনি ফুল অফ রিদম থাকবেন!

ঘুম নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে সবগুলোর কমন আউটকাম এমন ছিল যে রাত ৯/১০টা থেকে ২/৩ টা পর্যন্ত ঘুমের কোয়ালিটি টপ লেভেলে থাকে। এ সময় অল্প ঘুমিয়েও আপনার শরীর- ব্রেইন বেশি রিকভার করে। কিন্তু আপনি গভীর ঘুমের এই সময়ে ঘুমান না। রাতের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে অনেক বেলা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ঘুমালেও এসময় কোয়ালিটি স্লিপ হয়না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকালবেলার বারাকাহ চেয়ে দুয়া করেছেন। এই বারাকাহ পেতে চাইলে আপনাকে সুন্নাহ মেনে ইশার পরে ঘুমাতে যেতে হবে।

আপনার শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সুস্থতা, আপনার ফিটনেস, আপনার হরমোনাল ব্যালেন্স, আপনার এইজিং প্রসেস, আপনার মুড, আপনার সারাদিনের এনার্জি ইত্যাদি সবকিছু নির্ভর করে আপনার এই সন্ধ্যার রুটিনের উপর, আপনি কখন ঘুমাতে যাচ্ছেন তার উপর।

মুসলিমদের দিন সূর্যোদয়ের সাথে শুরু হয়না৷ আগের সন্ধ্যার চন্দ্রোদয়ের সাথে শুরু হয়। একটা কোয়ালিটি স্লিপ কমপ্লিট করে উঠে, শেষ রাতে নিরিবিলি আসমানী রহমতের বারিধারায় অবগাহন শেষে চনমনে মুডে, ফুল অফ এনার্জি নিয়ে মুসলিম সকালকে স্বাগত জানায়, দিনের যাবতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।

আপনি আপনার ইবাদত, সুস্থতা, ব্যস্ততা ইত্যাদি যা কিছু নিয়েই কাজ করতে চান, আগে আপনার ঘুমের রুটিন ঠিক করুন। সারাদিন যা-ই করুন, আপনার দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে আপনি ঘুমানোর আগের ও পরের সময়টুকু কিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তার উপর।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে কখনো হাই তুলেননি, অথচ উনি ফজরের অনেক আগে থেকে জেগে থাকতেন। এই তথ্যটা জানলে অবাক লাগেনা?

এর পিছনের সিক্রেট কি ভেবে বলুন তো?

আজকের সন্ধ্যা থেকেই রুটিন ফিক্স করার কাজে লেগে যান।

26/05/2026

বিসমিল্লাহ
জিলহজের নয় তারিখে করণীয় আমাল
ইফতার থেকে ইফতার পযন্ত
--------
আরবি তারিখ শুরু হয় সূর্যাস্ত থেকে। আট তারিখ ইফতারির সময় থেকে নয় তারিখের ফজিলত শুরু হয়ে যায়।
১. অত্যন্ত গুরুত্ব আর মহব্বতের সাথে ওজু করব। হাম্মাম (ওয়াশরূম)-এর দোয়া, সুন্নত, আদাব আদায় করব। ৮ তারিখে মাগরিবের আগে গুরুত্বের সাথে দোয়া করব। ইফতারির সময় দোয়া কবুল হয়। রোজাদার হলে সুন্নত মনে করে ইফতার করব। ইফতারিতে আগে বেজোড় খেজুর খাবো, তারপর তিনচুমুকে পানি-শরবত পান কর। দোয়া পড়ব।
২. দ্রুত মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে মাগরিব আদায় করব। মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুন্নত আদায় করব। দুই রাকাত সুন্নত ও নফল আদায় করব। সলাতপরবর্তী মাসনুন দোয়া-জিকির মহব্বতের সাথে আদায় করব।
৩. প্রতিটি ক্ষেত্রের দোয়া, জিকির, সুন্নত, আদাবগুলো গুরুত্ব ও মহব্বতের সাথে আদায় করব। কথাবার্তা, কাজকর্মের ফাঁকে ফাঁকে ইস্তেগফার-তাওবা, দুরুদ শরিফ, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম পড়ব। বেশি বেশি তাকবীরে তাশরীক বলব।
৪. জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ ফজর থেকে নিয়ে তের যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) প্রত্যেক ফরয নামাযের পর নারী-পুরুষ সকলের জন্য একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। তাকবীরে তাশরীক হল-
اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ.
৫. আগে আগে মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করব। ওজুর পর দুই রাকাত তাহিয়াতুল ওজু আদায় করব, মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত তাহিয়াতুল মসজিদ আদায় করব।
৬. ফরজ নামাজের আগে ও পরের সুন্নতগুলো গুরুত্ব আর মহব্বতের সাথে আদায় করব। ফরজ নামাদের আগের সুন্নতের নিয়তের সাথে মিলিয়ে তাহিয়াতুল ওজু ও তাহিয়াতুল মসজিদের নিয়তও করতে পারব।
৬. আজান ও ইকামতের জবাব দিব। আজান ও ইকামতের মাঝে দোয়া কবুল হয়। এই সময় বেশি বেশি দোয়া করব। পাঁচওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করব।
৭. ইশার পর যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়ব। শোয়ার আগে ওজু করে নিব। তাহাজ্জুদের নিয়তে কমপক্ষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করব। শোয়ার সময় মাসনুন দোয়া-জিকির, সুন্নত-আদাবগুলো আদায় করব।
৮. বিতির নামাজ ভোররাতে তাহাজ্জুদের পর পড়ার চেষ্টা করব। গুরুত্ব আর মহব্বতের সাথে তাহাজ্জুদ আদায় করব। সম্ভব হলে ৮ রাকাত আদায় করব। তাহাজ্জুদের সুর করে দীর্ঘ কেরাত পড়ার চেষ্টা করব। মুনাজাতে চোখের পানি আনার আপ্রাণ চেষ্টা করব। তাহাজ্জুদের সুন্নত, আদাব, দোয়া-জিকিরগুলো আদায় করার চেষ্টা করব। সুন্নত মনে করে সাহরি খাবো। সাহরিতে নিত্যদিনের খাবারের সাথে খেজুর খাওয়ার চেষ্টা করব।
৯. গুরুত্বের সাথে ঘুমমুক্ত থেকে জামাতের সাথে ফজর পড়ার চেষ্টা করব। ফজরের পর ইশরাক পর্যন্ত জায়নামাজে থাকব। ইশরাক ও চাশতের নামাজ আদায় করব। উভয় নামাজ চার রাকাত করে পড়ার চেষ্টা করব। সকাল ও সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো মহব্বত ও গুরুত্বের সাথে আদায় করব।
৮. সারাদিন যতবেশি সম্ভব কুরআন তিলাওয়াত করব। অন্তত কয়েকটা আয়াত অর্থ ও তাফসীরসহ পড়ার চেষ্টা করব। কয়েকটা হাদীস অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ পড়ার চেষ্টা করব।
৯. সাধ্যমতো দান-খয়রাত করার চেষ্টা করব। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার চেষ্টা করব। মা-বাবার জন্য দোয়া করব। বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করার চেষ্টা করব।
১০. কারো সাথে সম্পর্ক খারাপ থাকলে, শুধরে নেয়ার চেষ্টা করব। কয়েকজনকে ভালো কাজের দাওয়াত দিব। ইফতারের আগে দোয়া করব। সময়মতো ইফতার করব। রোজাদারকে ইফতার করনোর চেষ্টা করব। হাজি সাহেবগণ জিলহজের ৯ তারিখে রোজা না রাখা সুন্নত। হাজি সাহেবগণ জিলহজের নয় তারিখে যতবেশি সময় দোয়া-মুনাজাতে সময় কাটানোর চেষ্টা করবেন। অন্যরা বারবার তাওবা-ইস্তেগফার করব। দুরুদ শরীফ পাঠ করব।
রাব্বে কারীম আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
রাব্বে কারীম আমাদের কাজে ইখলাস দান করুন।
রাব্বে কারীম আমাদের কাজকে রিয়ামুক্ত করে দিন।

ওয়াফফাকানাল্লাহ
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান
রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম

👉ইন শা আল্লাহ আগামীকাল থেকে অর্থ্যাৎ ২৭ মে বুধবার ৯ জিলহজ্জ ফজরের, ফরজ নামাজের পর থেকে তাকবিরে তাশরিক পড়ব সবাই।।এইদিন থে...
26/05/2026

👉ইন শা আল্লাহ আগামীকাল থেকে অর্থ্যাৎ ২৭ মে বুধবার ৯ জিলহজ্জ ফজরের, ফরজ নামাজের পর থেকে তাকবিরে তাশরিক পড়ব সবাই।।এইদিন থেকে ১৩ জিলহজ্জ অর্থ্যাৎ ৩১ মে রবিবার আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

👉ছেলেরা উচ্চ স্বরে আর মেয়েরা নিচু স্বরে পড়বে।।

🤏এছাড়াও সব সময় এই তাকবিরে তাশরিক পড়া যাবে।।।

[এই জিলহজ্জ মাসে এই আমল করে প্রত্যেকে নিজের আমলের পাল্লা টা ভারি করি]

Sharjil Shaakil
#কুররাতু_আইয়ুন
#সারজিল_শাকিল



💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕💕

Address

Chittagong
GPO-4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kurratu Aiyun - কুররাতু আইয়ুন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share