31/08/2022
সলফে সালেহীন বিদ্বেষ কে প্রতিষ্ঠা করতে বানোয়াট বর্ণনার আশ্রয় কেনো?
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে গোমরাহ বলার ব্যাপারে কী ইজমা হয়েছিলো?? (নাউযুবিল্লাহ)
⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼
66- حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن علي بن مخلد الوراق- لفظا- قال في كتابي عَنْ أَبِي بَكْر مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّه بن صالح الأسدي الفقيه المالكي قَالَ: سمعت أبا بكر بْن أَبِي داود السجستاني يوما وهو يقول لأصحابه: ما تقولون في مسألة اتفق عليها مالك وأصحابه، والشافعي وأصحابه، والأوزاعي وأصحابه، والحسن بن صالح وأصحابه، وسفيان الثوري وأصحابه، وأحمد بن حنبل وأصحابه؟ فقالوا له: يا أبا بكر لا تكون مسألة أصح من هذه. فقال: "هؤلاء كلهم اتفقوا على تضليل أبي حنيفة
ইমাম আবু বাকর বিন আবি দাউদ আস সাজিস্তানি রহিমাহুল্লাহ তার সাথীদের একদা একদিন বললেনঃ
একটি মাসয়ালার ব্যাপারে তোমরা কি বলো যেই মাসয়ালাটির উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন ইমাম মালিক এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম শাফেয়ী এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম আওযায়ী এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম আল হাসান বিন স্বলিহ এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম সুফিয়ান সাওরী এবং উনার সাথীবৃন্দ ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং উনার সাথীবৃন্দ?
ইমাম ইবনে আবি দাউদ রহ এর সাথীবৃন্দ জবাবে উনাকে বললেনঃ অহে বকরের পিতা,তখন তো এই মাসয়ালাটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো মাসয়ালায় হবে না!!
তখন তিনি আবু বকর বিন আবি দাউদ রহ তার সাথীবৃন্দদেরকে বললেনঃ ইনারা সকলেই আবু হানিফার ভ্রান্ত হওয়া কিংবা গোমড়াহ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছিলন।
(তারীখে বাগদাদ)"
নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক.... মাআজাল্লাহ
🍂তাহক্বীক্বঃ~ বর্ননাটি জাল, বানোয়াট ।।
ইমাম আবু দাউদ রহ. এর ছেলে আবু বকর আব্দুল্লাহ হলো কাজ্জাব তথা মিথ্যাবাদী ।
ইমাম আবূ দাউদ রহঃ নিজেই তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ-কে কাজ্জাব ও পদলোভী বলেছেন।
سمعت علي بن عَبد الله الداهري يقول: سَمعتُ أحمد بن مُحَمد بن عَمْرو بن عيسى كركر يقول: سَمعتُ علي بن الحسين بن الجنيد يقول: سَمعتُ أبا داود السجستاني يقول ابني عَبد الله هذا كذاب.
وكان ابن صاعد يقول كفانا ما قال أبوه فيه.
আলী ইবনুল হুসাইন ইবনিল জুনাইদ বলেন আমি আবু দাউদ সিজিস্তানীকে (সুনানে আবু দাউদ এর লেখক, বিখ্যাত ইমাম) বলতে শুনেছি, "আমার ছেলে আব্দুল্লাহ কাজ্জাব বা চরম মিথ্যাবাদী।"
ইবনে আদী রহিঃ বলেন, "ইবনে সায়েদ রহিঃ বলতেন, "তার পিতা তার ব্যাপারে যা বলেছে আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট।"
(আল কামিল ফী দুআফা লি ইবনে আদী,
পৃঃ ৫/৪৩৬ রাবী নং ১১০১)
سمعت عبدان يقول: سَمعتُ أبا داود السجستاني يقول ومن البلاء أن عَبد الله يطلب القضاء.
আবু দাউদ সিজিস্তানী রহঃ বলেনঃ , "আমার ছেলে আব্দুল্লাহ সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো, সে বিচারকের পদ কামনা করে।. (অর্থাৎ পদলোভী)।"
سمعت مُوسَى بْنَ الْقَاسِمِ بْنِ مُوسَى بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُوسَى الأَشْيَبِ يقول، حَدَّثني أبو بكر، قَالَ: سَمِعْتُ إبراهيم الأصبهاني يقول أبو بكر بن أبي داود كذاب
ইব্রাহিম বিন আওয়ামা আল আস্ববাহানী রহঃ বলেনঃ আবূ বকর বিন আবি দাউদ মিথ্যাবাদী।
(আল কামিল ফী দুআফা লি ইবনে আদী,
পৃঃ ৫/৪৩৬ রাবী নং ১১০১)
ইমাম দারাকুতনী রহঃ বলেনঃ
قال السُّلَمِيُّ: سألت الدَّارَقُطْنِيّ عن أبي بكر بن أبي داود، فقال: أنه كثير الخطأ في الكلام على الحديث
আবু বকর ইবনে আবু দাউদ হাদীসের কালামের উপর তথা জরাহ তাদিল বিষয়ে প্রচুর ভুল কারী ছিলো।
(মাউসুয়াতে আক্বওয়াল আবুল হাসান আদ দারাকুতনী, রাবীঃ ১৮৬৬)
سَمِعْتُ عَبد اللَّهِ بْنَ مُحَمد الْبَغَوِيُّ يَقُولُ وَقَدْ كَتَبَ إِلَيْهِ بن أَبِي دَاوُدَ رُقْعَةٌ يَسْأَلُهُ عَنْ لَفْظِ حَدِيثٍ لِجِدِّهِ بَيَّنَ لَهُ مِنْ لَفْظِ غَيْرِهِ فِيهِ وَالْحَدِيثُ الَّذِي سَأَلَهُ جِدُّهُ عَنْ مُحَمد بْنِ قَيْسٍ أَبُو سَعْدٍ الصَّاغَانِيُّ، عَن أَبِي جَعْفَر الرازي عَن الرَّبِيعِ، عَن أَبِي الْعَالِيَةِ، عَن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ جَاءَ الْمُشْرِكُونَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا انْسِبْ لَنَا رَبَّكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ} فَقَالَ الْبَغَوِيُّ لَمَّا قَرَأَ رُقْعَتَهُ أَنْتَ وَاللَّهِ عِنْدِي مُنْسَلِخٌ مِنَ الْعِلْمِ.
ইবনে আদী. রহিঃ বলেন আমি মুহাম্মাদ আল-বাগাভীকে বলতে শুনেছি...... (মধ্যখানে একটি ঘটনা রয়েছে) ..... অতঃপর চিরকুটটি পড়ে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাভী রহঃ আব্দুল্লাহ বিন আবূ দাউদ সম্পর্কে বললেন, "আল্লাহর শপথ! তুমি আমার নিকট ইলম থেকে বিচ্যুত ব্যক্তি।"
(আল কামিল ফী দুআফা লি ইবনে আদী,
পৃঃ ৫/৪৩৬ রাবী নং ১১০১)
↓↓
🏝০১🏝 প্রকৃতপক্ষে ইমাম আবূ দাউদ রহঃ ইমাম আবূ হানিফার রহঃ সম্পর্কে দুআ করতেনঃ
حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن بْنِ يَحْيَى رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ أَنا أَبُو بكر مُحَمَّد بن بكر بن عبد الرازق التَّمَّارُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنَ الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ السِّجِسْتَانِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ يَقُولُ رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ الشَّافِعِيَّ كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ كَانَ إِمَامًا
ইমাম আবূ দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ—
আল্লাহ মালেকের উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!
আল্লাহ ইমাম শাফেয়ী রহঃএর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!
আল্লাহ আবু হানিফা রহঃএর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!!
(আল-ইনতিক্বা লি ইবনে আব্দুল বার,পৃষ্ঠাঃ ৩২, জামেউল বায়ানিল ইলম পৃষ্ঠাঃ ২/১১১৩ বর্ননা নং ২১৮৬ )
🏝🌲🏝 আবার ইমাম আবূ দাউদ রহঃ ইমাম আবূ হানিফার রহঃ বিষয়ে বলেছেনঃ—
٢٧٧- سمعتُ أَبا داود يقول: أَبو حنيفة خير من ألف مثل عمرو بن عُبيد.
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ আমর ইবনে উবাইদের মতো লোকের চাইতে হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ ছিলেন ৷
(সুয়ালাতে আবূ দাউদ,পৃঃ ৬৭, বর্ননা নং ২৭৭ )
↓
🏝০২🏝 ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহঃ বলেন:-
قَالَ وَنا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ أَبِي قُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ ضُرَيْسٍ يَقُولُ شَهِدْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ وَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ مَا تَنْقِمُ عَلَى أَبى حنيفَة قَالَ لَهُ وَمَاله قَالَ سمعته يَقُول آخذ بِكِتَاب الله فمالم أَجِدْ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَمَا لَمْ أَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ ولافى سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَخَذْتُ بِقَوْلِ أَصْحَابِهِ آخُذُ بِقَوْلِ مَنْ شِئْتُ مِنْهُمْ وَأَدَعُ مَنْ شِئْتُ مِنْهُمْ وَلا أَخْرُجُ مِنْ قَوْلِهِمْ إِلَى قَوْلِ غَيْرِهِمْ
وَذَكَرَ الدُّولابِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْهَاشِمِيُّ قَالَ نَا على بن الْحسن بن على بن شَقِيق أَبُو الْحسن المروزى قَالَ سَمِعت أَبَا بكر يذكر عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ شَدِيدَ الأَخْذِ لِلْعِلْمِ ذَابًّا عَنْ حَرَمِ اللَّهِ أَنْ تُسْتَحَلَّ يَأْخُذُ بِمَا صَحَّ عِنْدَهُ مِنَ الأَحَادِيثِ الَّتِي كَانَ يَحْمِلُهَا الثِّقَاتُ وَبِالآخَرِ مِنْ فِعْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَبِمَا أَدْرَكَ عَلَيْهِ عُلَمَاءَ الْكُوفَةِ ثُمَّ شَنَّعَ عَلَيْهِ قَوْمٌ يَغْفِرُ الله لنا وَلَهُم نَا عبد الوارث
‘ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) ছিকাহ রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মধ্যে সেটা গ্রহণ করতেন যা তাঁর নিকট ‘সহীহ’। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের মধ্যে শেষটি গ্রহণ করতেন। এবং যার উপর কুফার আলেমগণকে পেয়েছেন সেটা গ্রহণ করতেন। এরপর একশ্রেণির লোক তার নিন্দা করেছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করুন।’
-[ফাযাইলু আবী হানীফা ওয়া আখবারুহু ওয়া মানাকিবুহু, ইবনে আবিল আওয়াম পৃ. ৯৯; আলইনতিকা, ইবনে আবদুল বার পৃ. ২৬২ ]
🏝০৩🏝 ইমাম আবূ ইউসুফ কাজী রহঃ বলেনঃ
أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن سَمَّاعَة يَقُول سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول مَا خَالَفت ابا حنيفَة فِي شَيْء قطّ فتدبرته إِلَّا مذْهبه الَّذِي ذهب إِلَيْهِ أنجي فِي الْآخِرَة وَكنت رُبمَا ملت إِلَى الحَدِيث وَكَانَ هُوَ أبْصر بِالْحَدِيثِ الصَّحِيح مني ما رأيت أحدا أعلم بتفسير الحديث ومواضع النكت التي فيه من الفقه من أبي حنيفة
যে সকল বিষয়েই আমি ইমাম আবূ হানীফার রহঃ সাথে বিরোধিতা করেছি, সে বিষয়েই আমি পরে চিন্তা করে দেখেছি যে, আবূ হানীফার মত ই আখিরাতে নাজাতের অধিক উপযোগী। অনেক সময় আমি হাদীসের দিকে ঝুঁকে পড়েছি, কিন্তু আবূ হানিফা রহঃ ই সহীহ হাদীসের বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক সমঝদার ছিলেন। হাদীসের ব্যাখ্যায় এবং হাদীসের মধ্যে ফিকহের যে সকল নির্দেশনা রয়েছে তা অনুধাবন করায় আবূ হানীফার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও পারদর্শী আমি কাউকে দেখি নি।
(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফাহ, পৃ. ২৫, খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৩৪০)
🏝০৪🏝 ইবনে মুবারক রহঃ সম্পর্কে তার ছাত্র ইসমাঈল ইবন দাউদ রহঃ বলেনঃ~
قَالَ أَبُو يَعْقُوبَ وَأنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ إِجَازَةً قَالَ نَا جَدِّي قَالَ نَا مُحَمَّد بن مُسلم قَالَ سَمِعت اسماعيل ابْن دَاوُد يَقُول كَانَ ابْن الْمُبَارك يذكر عَن أَبى حنيفَة كل خير ويزكيه ويقرضه ويثنى عَلَيْهِ
ইবনুল মুবারাক রহঃ আবূ হানীফা রহঃ সম্পর্কে সবসময়ই ভাল বলতেন, তাঁর বিশ্বস্ততা ও বুজুর্গির কথা বলতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।’’
[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১৩৩ ।]
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিঃ বলতেন:
أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا عَليّ بن صَالح الْبَغَوِيّ عَن الْحسن بن عَرَفَة الْعَبْدي قَالَ قَالَ عبد الله بن الْمُبَارك لَا نكذب الله فِي أَنْفُسنَا إمامنا فِي الْفِقْه أَبُو حنيفَة وَفِي الحَدِيث سُفْيَان فَإِذا اتفقَا لَا أُبَالِي بِمن خالفهما لولا أن أغاثني الله بأبي حنيفة وسفيان كنت كسائر الناس. ... أبو حنيفة أفقه الناس.
‘‘আমাদের নিজেদের বিষয়ে আল্লাহকে মিথ্যা বলব না! ফিকহের বিষয়ে আমাদের ইমাম আবূ হানীফা এবং হাদীসের বিষয়ে আমাদের ইমাম সুফইয়ান সাওরী। আর যখন দুজন কোনো বিষয়ে একমত হন তখন আমরা তাঁদের বিপরীতে আর কাউকে পরোয়া করি না।’’... ‘‘আল্লাহ যদি আমাকে আবূ হানীফা রহঃ এবং সুফইয়ান সাওরী রহঃ দ্বারা উদ্ধার না করতেন তাহলে আমি সাধারণ মানুষই থাকতাম।’’ ‘‘আবূ হানীফা রহঃ মানুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকীহ।’’
[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ১৪০; খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৩৩৭; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৩৯৮]
🏝০৫🏝. ইবনে সাঈদ আল কাত্তান রহঃ বলেন
لا نكذب الله ما سمعنا أحسن من رأى أبى حنيفة، وقد أخذنا بأكثر أقواله. قال يحيى بن معين: وكان يحيى بن سعيد يذهب في الفتوى إلى مذهب (قول) الكوفيين ويختار قوله من أقوالهم ويتبع رأيه من بين أصحابه.
‘‘আল্লাহকে মিথ্যা বলব না! আবূ হানীফার রহঃ মতের চেয়ে উত্তম মত আমি শুনি নি। অধিকাংশ বিষয়ে আমরা তাঁর মত অনুসরণ করি। (তাঁর ছাত্র) ইয়াহইয়া ইবন মায়ীন রহঃ বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সায়ীদ আল কাত্তান রহঃ ফাতওয়ার বিষয়ে কূফীদের মাযহাব অনুসরণ করতেন, কূফীদের মধ্য থেকে আবূ হানীফার রহঃ বক্তব্য পছন্দ করতেন এবং তাঁর মত অনুসরণ করতেন।’’
দাওরী, তারীখ ইবন মায়ীন ৩/৫১৭; ৪/২৮৩; মিয্যী, তাহযীবুল কামাল ২৯/৪১৭-৪৪৪; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৩৯০-৪০৩; ইবন আদী, আল-কামিল ৭/৯; ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব ১০/৪০১-৪০২।
🏝০৬🏝. ওয়াক্বী রহঃ সম্পর্কে তার ছাত্র ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন রহঃ বলেন:
2109 - وَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْأَزْدِيُّ الْحَافِظُ الْمَوْصِلِيُّ فِي الْأَخْبَارِ الَّتِي فِي آخِرِ كِتَابِهِ فِي الضُّعَفَاءِ قَالَ: يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أُقَدِّمُهُ عَلَى وَكِيعٍ» وَكَانَ يُفْتِي بِرَأْيِ أَبِي حَنِيفَةَ وَكَانَ يَحْفَظُ حَدِيثَهُ كُلَّهُ، وَكَانَ قَدْ سَمِعَ مِنَ أَبِي حَنِيفَةَ حَدِيثًا كَثِيرًا
আমি ওকী রহঃ-এর উপরে স্থান দেওয়ার মত কোনো মুহাদ্দিস দেখি নি। তিনি আবূ হানীফার রহঃ মত অনুসারে ফাতওয়া দিতেন। তিনি তাঁর সব হাদীস মুখস্থ রাখতেন। তিনি আবূ হানীফা রহঃ থেকে অনেক হাদীস শুনেন।
[ইবন আব্দুল বার্র, জামিউ বায়ানিল ইলম ২/২৯০-২৯১; আল-ইনতিকা, পৃ. ১৩৬।]
এ থেকে জানা যায় যে, ইমাম ওকী রহঃ শুধু ইমাম আবূ হানীফার রহঃ ফিকহী মতই অনুসরণ করতেন না, উপরন্তু তিনি তাঁকে হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করতেন এবং তাঁর সকল হাদীস মুখস্থ রাখতেন।
🏝০৭🏝 মুগীরাহ ইবনে মিক্বসাম রহঃ তার ছাত্র বুখারী মুসলিমের রাবী জারীর ইবন আব্দুল হামীদ দাববী রহঃ কে বলেছিলেনঃ
أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن ابراهيم الْمصْرِيّ قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن مغلس قَالَ ثَنَا يحيى بن أَكْثَم قَالَ سَمِعت جَرِيرًا قَالَ قَالَ لي الْمُغيرَة بن مقسم الضَّبِّيّ جَالس أَبَا حنيفَة فَلَو كَانَ إِبْرَاهِيم حَيا لَكَانَ مُحْتَاجا إِلَى مُجَالَسَته إِيَّاه هُوَ وَالله يحسن ان يتَكَلَّم فِي الْحَلَال وَالْحرَام
‘‘তুমি আবূ হানীফার রহঃ মাজলিসে বসবে, তাহলে ফিকহ শিখতে পারবে। কারণ (কুফার প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফকীহ, মুগীরার উস্তাদ) ইবরাহীম নাখয়ী (৯৫ হি) যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনিও আবূ হানীফার মাজলিসে বসতেন। ... আল্লাহর কসম! হালাল ও হারামের বিষয়ে সে ভালভাবে কথা বলার যোগ্যতা রাখে।’’
[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ৭৯; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৪০৩; তারীখুৃল ইসলাম ৯/৩১২।
🏝০৮🏝 সুলাইমান ইবনে আ'মাশ রহঃ তাঁর ছাত্র আলী ইবন মুসহির রহঃ কে বলেনঃ
وَحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ قَالَ نَا مُحَمَّد بن عبيد بن عنام قَالَ نَا مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ الاعمش يَقُول وَسُئِلَ عَن مسئلة فَقَالَ إِنَّمَا يُحْسِنُ الْجَوَابَ فِي هَذَا وَمِثْلُهُ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ الْخَزَّازُ أَرَاهُ بُورِكَ لَهُ فِي عِلْمِهِ
আবূ হানীফার রহঃ কাছ থেকে আমাদের জন্য হজ্জের নিয়মকানুন লিখে আন। আ'মাশ রহঃকেই মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: এসব মাসয়ালা গুলোর উত্তর তো কেবল কাপড় ব্যবসায়ী নুমান ইবন সাবিতই রহঃ ভালো বলতে পারে। আমার মনে হয় তার ইলমে বরকত প্রদান করা হয়েছে।’’
[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৬]
🏝০৯🏝. আবূ হানীফার রহঃ নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে শুবা ইবনুল হাজ্জাজের মতামত ব্যাখ্যা করে ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মায়ীন রহঃ (২৩৩ হি) বলেন:
قَالَ وَنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ قَالَ نَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ سُئِلَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَقَالَ ثِقَةٌ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا ضَعَّفَهُ هَذَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ يَكْتُبُ إِلَيْهِ أَنْ يحدث ويأمره وَشعْبَة شُعْبَة
ইবনে মাঈন রহঃ কে আবূ হানিফার রহঃ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলো.। তিনি বলেনঃ আবূ হানিফা রহঃ সিক্বাহ। আমি ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে দুর্বল বলতে কাউকেই শুনিনি। এই তো শুবা ইবনুল হাজ্জাজ রহঃ তিনি হাদীস বর্ণনার অনুরোধ করে আবূ হানীফা রহঃ কে পত্র লিখেছেন। আর শু’বা তো শু’বাই।’’
[[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৭ ]
🏝১০🏝 হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান রহঃ আমিরুল মু'মিনীন ফীল হাদীস শু'বা বিন হাজ্জাজ রহঃ এর সূত্রে বলেনঃ
أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا نصر بن عَليّ قَالَ سَمِعت خَالِد بن الْحَارِث يَقُول سَمِعت شُعْبَة يَقُول سَمِعت حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان يَقُول... كَانَ وَالله حسن الْفَهم جيد الْحِفْظ
‘‘আল্লাহর কসম! আবু হানিফার রহঃ অনুধাবন শক্তি সুন্দর এবং তাঁর মুখস্থ শক্তি ভাল ছিল।’’
(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ২৩)
🏝১১🏝 হাসান ইবনে স্বলেহ রহঃ বলেনঃ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَلَبِيُّ قَالَ نَا سُلَيْمَان بن يُوسُف ونا أَبُو مُحَمَّد المقرى قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى قَالا نَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ صَالِحٍ يَقُولُ كَانَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ فَهْمًا عَالِمًا مُتَثَبِّتًا فِي عِلْمِهِ إِذَا صَحَّ عِنْدَهُ الْخَبَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ
নুমান ইবন সাবিত বিজ্ঞ আলিম ছিলেন, ইলমের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে সচেতন ছিলেন। কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোনো হাদীস সহীহ বলে প্রমাণিত হলে তিনি তা পরিত্যাগ করে অন্য দিকে যেতেন না।’’
[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৮]
🏝১২🏝 ইসরাঈল ইবন ইউনূস ইবন আবী ইসহাক সাবীয়ী রহঃ বলেনঃ
أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا أَبُو غَسَّان قَالَ سَمِعت أسرائيل يَقُول نعم الرجل النُّعْمَان مَا كَانَ أحفظه لكل حَدِيث فِيهِ فقه وَأَشد فحصه عَنهُ وأعلمه بِمَا فِيهِ من الْفِقْه وَكَانَ قد ضبط عَن حَمَّاد فَأحْسن الضَّبْط عَنهُ
হ্যাঁ, নুমান রহঃ নামক ব্যক্তিটি যে সকল হাদীসের মধ্যে ফিকহ রয়েছে সেগুলি খুব ভালভাবে ও পরিপূর্ণভাবে মুখস্থ রাখতেন, সেগুলির বিষয়ে সর্বোচ্চ অনুসন্ধান করতেন এবং সেগুলির মধ্যে বিদ্যমান ফিকহী নির্দেশনাও তিনি সবেচেয়ে ভাল জানতেন। এ বিষয়ে তাঁর স্মৃতি, অনুসন্ধান ও জ্ঞান ছিল অবাক করার মত। খলীফাগণ, আমীরগণ ও উযীরগণ তাঁকে সম্মান করেছেন।
তিনি হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমান রহঃ থেকে ফিকহ সংরক্ষণ করেন এবং খুব ভালভাবেই সংরক্ষণ করেন।
[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ২৩)
🏝১৩🏝 আল্লামা ইবনুল কাইয়্যূম (৭৫১ হি.) বলেনঃ
وأئمة الحديث كالشافعي والإمام أحمد ومالك وأبي حنيفة وأبي يوسف والبخاري وإسحاق
হাদীস শাস্ত্রে ইমাম শাফেঈর রহঃ অনুরুপ ইমাম হলেন: ইমাম আহমদ, মালেক, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, বুখারী এবং ইসহাক রহঃ ।
(ই’লামুল মুয়া’ক্কিয়ীন: ১/২৫৯)
🏝১৪🏝 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন:—
"ﻭﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺃﻋﻠﻢ ﻭﺃﻓﻘﻪ ﻣﻦ اﻟﻄﺤﺎﻭﻱ ﻭﺃﻣﺜﺎﻟﻪ.
আর আবু হানীফা রহ. ইমাম ত্বহাবী রহ. ও তার মত যারা রয়েছেন তাদের চেয়ে বড় জ্ঞানী ও বড় ফকীহ।" [মিনহাজুস সুন্নাহ, খন্ড:৮, পৃষ্ঠা:১৯৭]
অন্যত্র বলেছেনঃ
وَمَنْ ظَنَّ بِأَبِي حَنِيفَةَ أَوْ غَيْرِهِ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ أَنَّهُمْ يَتَعَمَّدُونَ مُخَالَفَةَ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ لِقِيَاسِ أَوْ غَيْرِهِ فَقَدْ أَخْطَأَ عَلَيْهِمْ وَتَكَلَّمَ إمَّا بِظَنِّ وَإِمَّا بِهَوَى
‘‘যদি কেউ ধারণা করে যে, আবূ হানীফা রহঃ অথবা মুসলিমদের অন্য কোনো ইমাম কিয়াস বা অন্য কোনো অজুহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সহীহ হাদীসের বিরোধিতা করেছেন তবে তার ধারণাটি অন্যায় ও ভুল বলে গণ্য। ঐ ব্যক্তি হয় আন্দাজে, অথবা প্রবৃত্তির তাড়নায় এরূপ কথা বলেছে।’’
[মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/৩০৪-৩০৫]
🏝১৫🏝আবূ আব্দুর রাহমান আব্দুল্লাহ ইবন দাউদ ইবন আমির কূফী রহঃ বলেন:
أخبرنَا عمر بن إِبْرَهِيمُ قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا نصر عَن عَليّ قَالَ ثَنَا عبد الله بن دَاوُد قَالَ من أَرَادَ ان يخرج من ذل الْعَمى وَالْجهل ويجد لَذَّة الْفِقْه فَلْينْظر فِي كتب أبي حنيفَة
أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد المسكي قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد ابْن كأس قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مَحْمُود الصيدلاني قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن شُجَاع قَالَ قَالَ عبد الله بن دَاوُد مَا يعيب ابا حنيفَة إِلَّا أحد رجلَيْنِ جَاهِل لَا يعرف فضل قَوْله أَو حَاسِد لم يقف على علمه فحسده ينبغي للناس أن يدعوا في صلاتهم لابي حنيفة، لحفظه الفقه والسنن عليهم
‘‘যদি কেউ অন্ধত্ব ও মুর্খতার লাঞ্ছনা থেকে বের হতে চায় এবং ফিকহের স্বাদ লাভ করতে চায় তবে তাকে আবূ হানীফার বইগুলো পড়তে হবে। হিংসুক অথবা জাহিল এ দুয়ের একজন ছাড়া কেউ আবূ হানীফার বিষয়ে মন্দ বলে না। মানুষদের উচিত তাদের সালাতের মধ্যে আবূ হানীফার জন্য দুআ করা; কারণ তিনিই মানুষদের জন্য ফিকহ এবং সুন্নাহ (হাদীস) সংরক্ষণ করেছেন।’
(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফাহ, পৃ. ৮৫; যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৪০২; ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/১১৪)
🏝১৬🏝হাফিজুল হাদীস ইমাম ইয়াযিদ ইবন হারূন ওয়াসিতী (২০৬হি) রহঃ বলেন:—
اُخْبُرْنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا تَمِيم بن الْمُنْتَصر قَالَ كنت عِنْد يزِيد بن هَارُون فَذكر أَبُو حنيفَة فنال إِنْسَان مِنْهُ فَأَطْرَقَ طَويلا قَالُوا رَحِمك الله حَدثنَا فَقَالَ كَانَ أَبُو حنيفَة تقيا نقيا زاهدا عَالما صَدُوق اللِّسَان احفظ اهل زَمَانه سَمِعت كل من أَدْرَكته من أهل زَمَانه يَقُول إِنَّه مَا رأى أفقه مِنْهُ
‘‘আবূ হানীফা আল্লাহ-ভীরু, পবিত্র ও সংসার বিরাগী আলিম ছিলেন। তিনি সত্যপরায়ণ এবং তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় হাফিযে হাদীস ছিলেন। তাঁর যুগের যত মানুষকে আমি পেয়েছি সকলকেই বলতে শুনেছি: ফিকহের বিষয়ে আবূ হানীফার রহঃ চেয়ে অধিক পারদর্শী আর কাউকে দেখেন নি।’’
[সাইমারী, আখবারু আবি হানিফাঃ ৪৮)
🏝১৭🏝 বুখারীর রাবী ঈসা ইবনে ইউনুস রহঃ বলেন:—
قَالَ نَا جَعْفَرُ بْنُ إِدْرِيسَ الْقَزْوِينِيُّ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الطَّرَسُوسِيُّ قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ الشَّاذَكُونِيَّ قَالَ قَالَ عِيسَى بن يُونُس لاتتكلمن فِي أَبِي حَنِيفَةَ بِسُوءٍ وَلا تُصَدِّقَنَّ أَحَدًا يسئ الْقَوْلَ فِيهِ فَإِنِّي وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ أَفْضَلَ مِنْهُ وَلا أَوْرَعَ مِنْهُ وَلا أَفْقَهَ مِنْهُ
তোমরা কেউ আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে মন্দ বলো না ৷ যে আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে খারাপ বলে, তাকে বিশ্বাস করো না ৷ কেননা, আল্লাহর কসম! আমি আবূ হানিফার রহঃ চাইতে উত্তম কাউকে দেখিনি ৷ তার চাইতে অধিক সাবধানী কাউকে দেখিনি, তার চাইতে শ্রেষ্ঠ ফকীহ কাউকে দেখিনি ৷
(আল ইনতিকাঃ ১৩৭)
🏝১৮🏝মুহাদ্দিস ইবনে দাউদ আল খুরায়বী রহঃ বলেনঃ
وقال أيضًا - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى قَالَ ابْنُ أَبِي دَاوُدُ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، سَمِعْتُ ابْنَ دَاوُدَ يَعْنِي الخُرَيْبِيَّ يَقُولُ: «النَّاسُ فِي أَبِي حَنِيفَةَ حَاسِدٌ وَجَاهِلٌ».
“মানুষ আবু হানীফা রহঃ সম্পর্কে হয় মূর্খতার স্বীকার অথবা হিংসার। ”
[মানাকিবে ইমাম আবু হানিফা আব্দুর আব্দুর রশীদ নোমানী ১/১২৩]
🏝১৯🏝 হাফস ইবনে গিয়াস রহঃ বলেনঃ
كلام أبي حنيفة في الفقه أدق من الشعر لا يعيبه إلا جاهل.
‘‘ফিকহের বিষয়ে আবূ হানীফার বক্তব্য চুলের চেয়েও সুক্ষ্ম। জাহিল-মুর্খ ছাড়া কেউ তাঁকে খারাপ বলে না।’’
[যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৪০৩।]
🏝২০🏝 ইমাম যহাবী রহঃ বলেনঃ.
قُلْتُ: الإِمَامَةُ فِي الفِقْهِ وَدَقَائِقِه مُسَلَّمَةٌ إِلَى هَذَا الإِمَامِ، وَهَذَا أَمرٌ لاَ شَكَّ فِيْهِ.
وَلَيْسَ يَصِحُّ فِي الأَذْهَانِ شَيْءٌ ... إِذَا احْتَاجَ النَّهَارُ إِلَى دَلِيْلِ
ইলমুল ফিকহ ও এর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে নেতৃত্বের মর্যাদা ইমাম আবূ হানিফার রহঃ জন্য সংরক্ষিত। এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
‘‘যদি দিবসকে প্রমাণ করতে দলিলের প্রয়োজন হয় তবে আর বুদ্ধি-বিবেক বলে কিছুই থাকে না’’।
[যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৪০৩।]
সুতরাং, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির মতো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমামের বিষয়ে কোনো রকমের সমালোচনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বনাশা আহলে হাদিস ফিরকার ফেতনা থেকে হেফাজত করুন।