Ashiqui -E- Muhammad saw

Ashiqui -E- Muhammad saw Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ashiqui -E- Muhammad saw, Religious Center, Chittagong.

31/08/2022

যারা তাবিজ কে শিরক/হারাম বলছেন— তারা আহলে হাদীসদের আক্বাবির ইবনে তাইমিয়্যা, ইবনে কাইয়ূম, সিদ্দিক হাসান খাঁন, ইমাম আহমদ রহিঃ দেরকে মুশরিক/হারামী বলতেছেন না কেনো ??

🍀 ইমাম আহমদ রহঃ নিজেই তাবিজ দিতেন:-

قَالَ الخلال: وَحَدَّثَنَا عبد الله بن أحمد، قَالَ: رَأَيْتُ أَبِي يَكْتُبُ التَّعْوِيذَ لِلَّذِي يُفْزَعُ، وَلِلْحُمَّى بَعْدَ وُقُوعِ الْبَلَاءِ.

[كِتَابٌ لِعُسْرِ الْوِلَادَةِ]

ِ: قَالَ الخلال: حَدَّثَنِي عبد الله بن أحمد: قَالَ رَأَيْتُ أَبِي يَكْتُبُ لِلْمَرْأَةِ إِذَا عَسُرَ عَلَيْهَا وِلَادَتُهَا فِي جَامٍ أَبْيَضَ، أَوْ شَيْءٍ نَظِيفٍ، يَكْتُبُ حَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ: {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ بَلَاغٌ} [الأحقاف: 35] [الْأَحْقَافِ: 35] ، {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا} [النازعات: 46] [النَّازِعَاتِ: 46]

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ বলেন, আমি আমার বাবা আহমদ বিন হাম্বল রহঃ কে ভয় ও জ্বর এর পরবর্তী কষ্টের জন্য তাবিজ লিখে দিতে দেখেছি ৷

অন্যত্র আব্দুল্লাহ বলেনঃ

আমি আমার বাবা আহমদ বিন হাম্বল রহঃ কে দেখেছি সন্তান প্রসবে কষ্ট পাওয়া মহিলাকে সাদা বাটি বা অনুরূপ পরিষ্কার বস্তুতে ইবনে আব্বাস রাঃ এর হাদীসের মতো করে এই কথাগুলো দ্বারা তাবিজ লিখতেঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ: {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ بَلَاغٌ} [الأحقاف: 35] [الْأَحْقَافِ: 35] ، {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا} [النازعات: 46] [النَّازِعَاتِ: 46]

(ইবনে কাইয়ূম, যাদুল মা'আদঃ ৪/৩২৭)
https://al-maktaba.org/book/21713/1837

একই কথা আত্ব ত্বীব্বুন নববীতেও বলা হয়েছে ৷ দেখুনঃ ২৭০ পৃষ্ঠা
https://al-maktaba.org/book/23649/269


🌻ইমাম মালেক রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়-

قيل : فيكتب للمحموم القرآن؟
قال: لابأس به، ولابأس أن يرقى بالكلام الطيب، ولا بأس بالمعاذة تعلق، وفيها القرآن وذكر الله إذا أحرز عليها جلد.

জ্বরাক্রান্ত রোগীর জন্য কুরআনের আয়াত লিখে দিতে কোনো অসুবিধা আছে? তিনি জবাবে বললেন, না কোনো অসুবিধা নেই এবং উত্তম কথা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতেও নিষেধ নেই। তেমনিভাবে কুরআন ও আল্লাহর নাম-সিফাত সম্বলিত তাবীয পরিধান করতেও অসুবিধা নেই, যদি তা চামড়া দিয়ে আবৃত করা হয়।

-কিতাবুল জামে লি আবু যায়দ আল কায়রাওয়ানী, পৃষ্ঠাঃ ২৩৭-২৩৮
https://al-maktaba.org/book/33381/134

31/08/2022

ইমাম আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে মাঝেমধ্যে মশহুর কিছু মুহাদ্দিসদেরও বিরুপ মন্তব্যের মূল কারণ হলোঃ
আবূ হানিফা রহ. বিদ্বেষীদের কোনো কুমন্ত্ৰনা বা কানে বিদ্বেষের বিষ ঢালার বিষয়টিতে আমল দেওয়া এবং একইসাথে আবূ হানিফা রহ. সম্পৰ্কে ভালোভাবে যাচাই বাছাই বা গবেষনা না করেই ফয়সালা বলে দেওয়াঃ

3163 - حَدثنَا يحيى قَالَ حَدثنَا عبيد بن أبي قُرَّة قَالَ سَمِعت يحيى بن ضريس يَقُول شهِدت سُفْيَان وَأَتَاهُ رجل فَقَالَ مَا تنقم على أبي حنيفَة قَالَ وَمَاله قَالَ سمعته يَقُول آخذ بِكِتَاب الله فَمَا لم أجد فبسنة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَإِن لم أجد فِي كتاب الله وَلَا سنة آخذ بقول أَصْحَابه آخذ بقول من شِئْت مِنْهُم وأدع قَول من شِئْت ولاأخرج من قَوْلهم إِلَى قَول غَيرهم فَإِذا مَا انْتهى الْأَمر أَو جَاءَ الْأَمر إِلَى إِبْرَاهِيم وَالشعْبِيّ وَابْن سِيرِين وَالْحسن وَعَطَاء وَسَعِيد بن الْمسيب وَعدد رجَالًا فقوم اجتهدوا فأجتهد كَمَا اجتهدوا قَالَ فَسكت سُفْيَان طَويلا ثمَّ قَالَ كَلِمَات بِرَأْيهِ مَا بَقِي أحد فِي الْمجْلس إِلَّا كتب نسْمع التَّشْدِيد من الحَدِيث فنخافه ونسمع اللين فنرجوه لَا نحاسب الْأَحْيَاء وَلَا نقضي على الْأَمْوَات نسلم مَا سمعنَا وَنكل مَا لم نعلم إِلَى عالمه ونتهم رَأينَا لرأيهم
ইয়াহইয়া ইবন দুরাইস বলেন, আমি সুফইয়ান সাওরীর রহ. কাছে বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় একব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন, যিনি ইলম ও ইবাদতে বড় মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। তিনি বললেন, আপনি কেন আবূ হানীফার প্রতি বিরক্ত? তিনি বলেন: কেন? তাঁর কি হয়েছে? লোকটি বলে: আমি তাঁকে যা বলতে শুনেছি তা ইনসাফ ও দলিলপূর্ণ। তিনি বলেন: ‘‘আমি আল্লাহর কিতাবের উপর নির্ভর করি। আল্লাহর কিতাবে যা না পাই সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সুন্নাত ও নির্ভরযোগ্য রাবীদের সূত্রে নির্ভরযোগ্য রাবীদের থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসগুলোর উপর নির্ভর করি। কিতাব ও সুন্নাতে যা না পাই সে বিষয়ে সাহাবীগণের বক্তব্যের উপর নির্ভর করি। তাঁদের মধ্য থেকে যার মত ইচ্ছা গ্রহণ করি এবং যার মত ইচ্ছা বাদ দেই, তবে তাঁদের মত ছেড়ে অন্য কারো কথার দিকে যাই না। আর যখন বিষয়টি ইবরাহীম নাখয়ী, শা’বী, ইবন সীরীন, ... তাবিয়ীদের পর্যায়ে আসে তখন তাঁরা যেমন ইজতিহাদ করেছেন আমিও তেমন ইজতিহাদ করি।’’ এ কথা শুনে সাওরী দীর্ঘসময় চুপ করে থাকেন। ... এরপর বলেন: আমরা অনেক সময় কঠিন বা খারাপ কথা শুনি, তখন তাতে ভীত হই, কখনো নরম কথা শুনি তখন আশাবাদী হই। আমরা জীবিতদের হিসাব লই না এবং মৃতদের বিচারও করি না। যা শুনি তা মেনে নিই এবং যা না জানি তা যিনি জানেন তার উপর ছেড়ে দিই। তাঁদের মতের বিপরীতে আমাদের মতকেই অভিযুক্ত করি।’’

[তারীখে ইবন মায়ীন, দূরীর সংকলনঃ ৪/৬৩]

পরিষ্কার বোঝা গেল যে, অনেক সময় মানুষেরা ইমাম সাওরীর রহ: কাছে যেয়ে, ইমাম আবূ হানীফার নামে এমন সব কথা বলত যে তিনি তাঁর ঈমানী চেতনায় ক্রুদ্ধ ও ক্ষুদ্ধ হয়ে বিরূপ মন্তব্য করতেন। আবার যখন তিনি ভাল কথা শুনতেন তখন তাঁর প্রতি ভাল ধারণা পোষণ করতেন। ইবন মায়ীন রহ. শুধু ভাল বিষয়ই উল্লেখ করেছেন।

حدثنا مسلم بن إبراهيم، قال: سمعت حماد بن سلمة يقول: أعض الله أبا حنيفة بكذا وكذا، لا يكني، فقال ابن معين: «أساء أساء» .

হাম্মাদ বিন সালামাহ (বিদ্বেষ বশতঃ) আবূ হানিফা রহ. সম্পৰ্কে বললোঃ আল্লাহ আবূ হানিফা কে এমন এমনভাবে লজ্জিত করুক। তিনি কোনো কিনায়া(ইঙ্গিত করে)বলেন নি।
অতঃপর ইবনে মায়ীন রহ. বললেনঃ হাম্মাদ বেয়াদবী করেছে, হাম্মাদ মন্দ বলেছে।

(সুয়ালাতু ইবনে জুনাইদ লি ইবনে মাঈনঃ ৩১৮)

ইয়াহইয়া ইবন মায়ীন রহ. অন্যত্ৰ বলেন:

أصحابنا يفرطون في أبي حنيفة وأصحابه.

আমাদের সাথীরা, অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণ আবূ হানীফা ও তাঁর সাথীদের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করেন।’’
[জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহী ২/২৯০]


🏝🌳 সুফিয়ান সাওরী রহঃ বলেনঃ

وَذَكَرَ الدُّولابِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْهَاشِمِيُّ قَالَ نَا على بن الْحسن بن على بن شَقِيق أَبُو الْحسن المروزى قَالَ سَمِعت أَبَا بكر يذكر عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ شَدِيدَ الأَخْذِ لِلْعِلْمِ ذَابًّا عَنْ حَرَمِ اللَّهِ أَنْ تُسْتَحَلَّ يَأْخُذُ بِمَا صَحَّ عِنْدَهُ مِنَ الأَحَادِيثِ الَّتِي كَانَ يَحْمِلُهَا الثِّقَاتُ وَبِالآخَرِ مِنْ فِعْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَبِمَا أَدْرَكَ عَلَيْهِ عُلَمَاءَ الْكُوفَةِ ثُمَّ شَنَّعَ عَلَيْهِ قَوْمٌ يَغْفِرُ الله لنا وَلَهُم نَا عبد الوارث

আবূ হানিফা রহঃ ছিলেন হালাল হারামের বিষয়ে খুবই অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি ছিকাহ রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মধ্যে সেটাই গ্রহণ করতেন যা তাঁর নিকট ‘সহীহ’। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের মধ্যে শেষটি গ্রহণ করতেন। এবং যার উপর কুফার আলেমগণ দেরকে পেয়েছেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা গ্রহণ করতেন। এরপর একশ্রেণির লোক তার নিন্দা করেছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করুন।’

[ফাযাইলু আবী হানীফা ওয়া আখবারুহু ওয়া মানাকিবুহু, ইবনে আবিল আওয়াম পৃ. ৯৯; আলইনতিকা, ইবনে আবদুল বার পৃ. ২৬২]


أَخبرنا الخلال ، قال: أَخبرنا الحريري أن النخعي حدثهم، قال: حَدَّثَنَا عُمَر بن شهاب العبدي، قال: حَدَّثَنَا جندل بن والق، قال: حَدَّثَنِي مُحَمَّد بن بشر، قال: كنت أختلف إِلَى أبي حنيفة وإلى سفيان ......فأتي سفيان فيقول: من أين جئت؟ فأقول من عند أبي حنيفة فيقول: لقد جئت من عند أفقه أهل الارض.

মুহাম্মদ ইবনে বিশর রহ. বলেনঃ আমরা আবূ হানিফা রহ. এবং সুফিয়ান সাওরীর রহ. নিকট আসা যাওয়া করতাম।.....

একদিন সুফিয়ানের রহ. নিকট আসলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কার কাছ থেকে এসেছেন?
বললামঃ আবূ হানিফার রহ. কাছ থেকে। তখন সুফিয়ান রহ. বললেনঃ আপনি এমন এক ব্যক্তির নিকট থেকে আমার কাছে এসেছেন, যিনি দুনিয়ার শ্ৰেষ্ঠতম ফকীহ।।

(তাহযিবুল কামালঃ ২৯/৪৩১)


قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَلِيحِ بْنِ وَكِيَعٍ: نَا يَزِيدُ بْنُ كُمَيْتٍ، سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ وَشَتَمَهُ رَجُلٌ وَاسْتَطَالَ عَلَيْهِ، وَقَالَ لَهُ: يَا كَافِرُ يَا زِنْدِيقُ، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: «غَفَرَ اللَّهُ لَكَ، هُوَ يَعْلَمُ مِنِّي خِلافَ مَا تَقُولُ»
قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ، يَقُولُ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَحْلَمَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ»

একবার এক ব্যক্তি তাঁকে অপবাদ দিয়ে তার সাথে দুর্ব্যবহারস্বরূপ বললো:হে কাফের! হে যিন্দীক! আবূ হানিফা রহঃ উত্তরে বলেন: আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, তিনি জানেন যে তুমি যা বলেছ আমি তা নই।’

ইয়াজিদ ইবনে হারুন রহঃ বলেন আমি আবু হানিফা রঃ থেকে অধিক ধৈর্যশীল আর দেখেনি!

(মানাকিবু আবূ হানিফা লিয যহাবীঃ ২৫)

ইয়াজিদ ইবনে হারুন রহ. অন্যত্ৰ বলেনঃ

اُخْبُرْنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا تَمِيم بن الْمُنْتَصر قَالَ كنت عِنْد يزِيد بن هَارُون فَذكر أَبُو حنيفَة فنال إِنْسَان مِنْهُ فَأَطْرَقَ طَويلا قَالُوا رَحِمك الله حَدثنَا فَقَالَ كَانَ أَبُو حنيفَة تقيا نقيا زاهدا عَالما صَدُوق اللِّسَان احفظ اهل زَمَانه سَمِعت كل من أَدْرَكته من أهل زَمَانه يَقُول إِنَّه مَا رأى أفقه مِنْهُ

আবূ হানীফা রহ. আল্লাহ-ভীরু, পবিত্র ও সংসার বিরাগী আলিম ছিলেন। তিনি সত্যপরায়ণ এবং তাঁর যুগের «সবচেয়ে বড় হাফিযে হাদীস» ছিলেন । তাঁর যুগের যত মানুষকে আমি পেয়েছি সকলকেই বলতে শুনেছি: তিনি ফিকহের বিষয়ে আবূ হানীফার রহঃ চেয়ে অধিক পারদর্শী আর কাউকে দেখেন নি।’’

[সাইমারী, আখবারু আবি হানিফাঃ ৪৮)

↓↓


🏝🌱 🏝তারিখে বাগদাদে নিম্ম সনদসহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) এর একটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে-

ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﺃَﺑُﻮ ﺑﺸﺮ ﺍﻟﻮﻛﻴﻞ، ﻭﺃﺑﻮ,ﺍﻟﻔﺘﺢ ﺍﻟﻀﺒﻲ، ﻗﺎﻻ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋُﻤَﺮ,ﺑﻦ ﺃَﺣْﻤَﺪ ﺍﻟﻮﺍﻋﻆ،ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ,ﺃَﺣْﻤَﺪ ﺑﻦ ﻣُﺤَﻤَّﺪ ﺑﻦ ﻋﺼﻤﺔ,ﺍﻟﺨﺮﺍﺳﺎﻧﻲ، ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺣْﻤَﺪ ﺑﻦ,ﺑﺴﻄﺎﻡ، ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﻟﻔﻀﻞ,ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺠﺒﺎﺭ، ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺃﺑﺎ,ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺣﻤﺪﻭﻥ ﺑﻦ,ﺃﺑﻲﺍﻟﻄﻮﺳﻲ، ﻳﻘﻮﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﻋﺒﺪ,ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻙ، ﻳﻘﻮﻝ: ﻗﺪﻣﺖﺍﻟﺸﺎﻡ ﻋﻠﻰ ,ﺍﻷﻭﺯﺍﻋﻲ ﻓﺮﺃﻳﺘﻪ, ﺑﺒﻴﺮﻭﺕ، ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻲ: ﻳﺎ ﺧﺮﺍﺳﺎﻧﻲ، ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺒﺘﺪﻉ ﺍﻟﺬﻱ,ﺧﺮﺝ ﺑﺎﻟﻜﻮﻓﺔ، ﻳﻜﻨﻰ: ﺃﺑﺎ ﺣﻨﻴﻔﺔ، ﻓﺮﺟﻌﺖ ﺇﻟﻰ ﺑﻴﺘﻲ ﻓﺄﻗﺒﻠﺖ ﻋﻠﻰ ﻛﺘﺐ ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ، ﻓﺄﺧﺮﺟﺖ ﻣﻨﻬﺎ ﻣﺴﺎﺋﻞ ﻣﻦ ﺟﻴﺎﺩ ﺍﻟﻤﺴﺎﺋﻞ، ﻭﺑﻘﻴﺖ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﻳﺎﻡ،ﻓﺠﺌﺖ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ، ﻭﻫﻮ ﻣﺆﺫﻥ ﻣﺴﺠﺪﻫﻢ ﻭﺇﻣﺎﻣﻬﻢ، ﻭﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻓﻲ ﻳﺪﻱ، ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻲ: ﺃﻱ ﺷﻲﺀ ,ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ؟ ﻓﻨﺎﻭﻟﺘﻪ، ﻓﻨﻈﺮ ﻓﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔ ﻣﻨﻬﺎ ﻭﻗﻌﺖ ﻋﻠﻴﻬﺎ، ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻨﻌﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ، ﻓﻤﺎ ﺯﺍﻝ ,ﻗﺎﺋﻤﺎ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﺃﺫﻥ ﺣﺘﻰ ﻗﺮﺃ ﺻﺪﺭﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ، ﺛﻢ ﻭﺿﻊ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻓﻲ ﻛﻤﻪ، ﺛﻢ ﺃﻗﺎﻡ ,ﻭﺻﻠﻰ، ﺛﻢ ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺣﺘﻰ ﺃﺗﻰ ﻋﻠﻴﻬﺎ، ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻲ: ﻳﺎ ﺧﺮﺍﺳﺎﻧﻲ، ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻌﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﻫﺬﺍ؟ ﻗﻠﺖ: ﺷﻴﺦ ﻟﻘﻴﺘﻪ ﺑﺎﻟﻌﺮﺍﻕ، ﻓﻘﺎﻝ: ﻫﺬﺍ ﻧﺒﻴﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ، ﺍﺫﻫﺐ ﻓﺎﺳﺘﻜﺜﺮ ﻣﻨﻪ، ﻗﻠﺖ: ﻫﺬﺍ ﺃَﺑُﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺍﻟﺬﻱ ﻧﻬﻴﺖ ﻋﻨﻪ .

ইবনে মুবারক রহঃ বলেন, আমি ‘‘শামে’’ ইমাম আওযায়ী (রহ.) এর নিকট আগমন করলাম। আমি তাঁর সঙ্গে ‘‘বৈরুতে’’ সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে খোরাসানী! (আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক), আবূ হানিফা রহঃ নামে কুফার আবির্ভূত এই ‘বিদআতী’ কে?
ইমাম ইবনুল মুবারক রহঃ বলেন, এই কথা শুনে আমি ঘরে ফিরে এলাম। ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) এর কিতাবগুলো অধ্যয়ন শুরু করলাম। এরপর, তিন দিন ধরে সেখান থেকে উত্তম মাসয়ালাগুলো নির্বাচিত করলাম। তৃতীয় দিন কিতাবটি নিয়ে আমি ইমাম আওযায়ী (রহ.) এর কাছে আসলাম।

(ইমাম আওযায়ী (রহ.) এলাকার মসজিদের মুয়াজ্জিন ও ইমাম ছিলেন) । ইমাম আওযায়ী (রহ.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কোন কিতাব? আমি কিতাবটি তাঁকে দিলাম। তিনি একটি মাসয়ালা দেখলেন, যাতে আমি লিখেছিলাম, ‘‘নু’মান’’ বিন ছাবেত বলেছেনঃ~

আযান দেয়ার পর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় কিতাবের শুরু অংশটা পড়লেন। কিতাবটি তিনি
জামার হাতার মাঝে রাখলেন। এরপর ইকামাত বললেন এবং নামাজ আদায় করলেন। নামায শেষে তিনি কিতাবটি পড়া শুরু করলেন।

কিতাবটি পড়া শেষ করে, তিনি বললেন, হে খোরাসানী! (আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক),
এই ‘‘নু’মান’’ বিন সাবেত কে? আমি বললাম, তিনি আমার একজন শায়েখ, যার সঙ্গে আমি ইরাকে সাক্ষাৎ করেছি। ইমাম আওযায়ী (রহ.) বললেন, তিনি অনেক বড় শায়খ!! তার কাছে যাও এবং আরও ইলম হাসিল করো।

তখন আমি বললাম, তিনিই হলেন, ইমাম আবূ হানিফা রহঃ! যার কাছে যেতে আপনি (ইতিপূর্বে) নিষেধ করেছিলেন।

(তারিখে বাগদাদ, বাশারঃ ১৫/৪৬৩)


🏝🌳 একই ঘটনা শাইখ মুহাম্মদ আওয়ামা হাফিঃ বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ-

হাদীস শাস্ত্রের বিখ্যাত ইমাম আওযাই রহঃ। ইমাম যাহাবী যাকে শাইখুল ইসলাম ও হাফিজ উপাধিতে ভূষিত করেন।

ইমাম আবু হানীফার ছাত্র এবং আমীরুল মুমিন ফিল হাদীস আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহঃ বলেন-

” আমি আওযাই রহঃ এর সঙ্গে দেখে করতে সিরিয়া গেলাম। তার সাথে সাক্ষাৎ হলো বৈরুতে। আমাকে দেখা মাত্রই বললেন-

এই খুরাসানী! বলোতো, কুফায় আবির্ভূত এই বিদায়াতি লোকটি কে- যাকে আবু হানীফা বলা হয়?!

আমি তাকে কোন উত্তর না দিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।এসে হযরত আবু হানীফার রহ. গ্রন্থাবলী পড়তে শুরু করলাম। ভালো দেখে কিছু মাসয়ালা চয়ন করতে লাগলাম। তিনদিন কেটে গেলো এভাবে। তৃতীয় দিন গেলাম আওযাইর কাছে- মসজিদে। তিনি মহল্লার মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং ইমাম।

আমার হাতে সংকলিত গ্রন্থ। দেখেই বললেন-

এটা কি বই? আমি তার হাতে তুলে দিলাম। একটি মাসয়ালায় চোখ ফেললেন। আমি তাতে লিখে রেখেছি- নুমান বলেছেন…. আযানের পর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গ্রন্থের শুরুর অংশটা পড়ে ফেললেন। তারপর গ্রন্থটি আস্তিনে রেখে ইকামত দিলেন। নামায পড়ালেন। নামায শেষে বইটি বের করে পড়ে শেষ করলেন। শেষ করার পর আমাকে বললেন –

হে খুরাসানী! এই নোমান ইবনে সাবিত লোকটা কে?

আমি বললাম- তিনি আমার একজন শায়খ, ইরাকে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বললেন – তিনি তো এক মহান শায়খ! যাও! তার কাছে গিয়ে আরো কিছু শিখো! আমি বললাম-
هذا أبو حنيفة الذي نهيت عنه
ইনিই যেই আবু হানীফা- যার সান্নিধ্যে যেতে আপনি বারণ করেছিলেন। “

আরেকটি বর্নণায় আছে- আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহঃ বলেছেন-

তারপর আওযাই রহঃ এর সঙ্গে দেখা হয় মক্কা মুকাররমায়। আমি দেখি আওযাই রহঃ সেই মাসাইয়িলগুলো নিয়ে আবু হানীফা রহঃ এর সঙ্গে কথা বলছেন। আর আমি যা লিখেছিলাম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহঃ তা আরও বিশদভাবে তুলে ধরছিলেন। তাদের বৈঠক ভাঙ্গার পর আমি আওযাই রহঃ কে বললাম –

আবু হানীফা রহঃ কে কেমন দেখলেন?
আওজায়ি রহি. বললেন-

غبطت الرجل بكثرة علمه ووفور عقله،واستغفر الله تعالى،لقد كنت في غلط ظاهر، الزم الرجل، فإنه بخلاف ما بلغني عنه
তাঁর বিপুল জ্ঞান আর বিস্তীর্ণ বুদ্বিমত্তায় ঈর্ষান্বিত হয়েছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।আমি খোলামেলা ভুলের মধ্যে ছিলাম। তুমি তাঁর সঙ্গ ছেড়না। তাঁর সম্পর্কে আমরা যা জেনেছি বাস্তবে তিনি তার বিপরীত।

(শাইখ আওয়ামা, আসারুল হাদীসিশ শরীফঃ ১২৪-১২৫ পৃষ্ঠা]


🏝🌳 হাফিজুদ্দিন কারদারী (রহ.) তার প্রণীত মানাকিবে এ সম্পর্কিত ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ-

ﻣﻦ ﺭﻭﺍﻳﺔ ﺃﺧﺮﻯ ﻣﻦ ﻛﻼﻡ ﺍﺑﻦﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻙ ﻧﻔﺴﻪ ،ﻗﺎﻝ

( ( ﺛﻢ ﺍﻟﺘﻘﻴﻨﺎﺑﻤﻜﺔ، ﻓﺮﺃﻳﺖ ﺍﻷﻭﺯﺍﻋﻰ ﻳﺠﺎﺭﻯ ﺃﺑﺎ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻓﻰ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻤﺴﺎﺋﻞ، ﻭﺍﻹﻣﺎﻡ ﻳﻜﺸﻒ ﻟﻪ ﺑﺄﻛﺜﺮ ﻣﻤﺎ ﻛﺘﺒﺖ ﻋﻨﻪ، ﻓﻠﻤﺎ ﺍﻓﺘﺮﻗﺎ ﻗﻠﺖ ﻟﻸﻭﺯﺍﻋﻰ : ﻛﻴﻒ ﺭﺃﻳﺘﻪ؟ ﻗﺎﻝ : ﻏﺒﻄﺖ ﺍﻟﺮﺟﻞ, ﺑﻜﺜﺮﺓ ﻋﻠﻤﻪ ﻭﻭﻓﻮﺭ ﻋﻘﻠﻪ، ﻭﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ، ﻟﻘﺪ ﻛﻨﺖ ﻓﻰ ﻏﻠﻂ ﻇﺎﻫﺮ، ﺍﻟﺰﻡ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﺄﻧﻪ ﺑﺨﻼﻑ ﻣﺎ ﺑﻠﻐﻨﻰ ﻋﻨﻪ ))

আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, অতঃপর আমি ইমাম আওযায়ী (রহ.) এর সঙ্গে ‘মক্কায়’ সাক্ষাৎ করলাম। ইমাম আওযায়ী (রহ.) কে দেখলাম, তিনি ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) এর সাথে উক্ত মাসায়ালাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) মাসয়ালাগুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন। তারা দু’জন যখন পৃথক হলেন, আমি ইমাম আওযায়ী (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁকে (ইমাম আবূ হানিফা রহ.) কে কেমন মনে হলো?

ইমাম আওযায়ী (রহ.) বললেন, ‘‘আমি তাঁর ইলমের আধিক্য ও প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তা দেখে ঈর্ষা বোধ করছি। সেই সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তাঁর সম্পর্কে আমি সুস্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিলাম। লোকমুখে তাঁর সম্পর্কে যা শুনেছি, তিনি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

(মানাক্বিবু লি হাফিজুদ্দিন কারদারী.পৃঃ ৪৫)


🏝🌳 উক্ত ঘটনাটি অন্য বর্ননায় এভাবে এসেছে: -

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ) –যিনি ছিলেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী (রহ)-এর বিশিষ্ঠ উস্তাদ এবং একই সাথে ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ)-এর সুযোগ্য শাগরেদও ছিলেন ।

একবার তিনি সিরিয়া গেলেন বিশিষ্ঠ ফকীহ ইমাম আওযায়ী (রহ)-এর নিকট ইলমে- হাদীস শিক্ষা করার জন্য । আর প্রথম সাক্ষাতেই ইমাম আওযায়ী (রহ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন:
ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺒﺘﺪ ﻉ ﺍﻟﺬﻯ ﺧﺮﺝ ﺑﺎ ﻟﻜﻮ ﻓﺔ ﻭﻳﻜﻨﻰ ﺍﺑﺎ ﺣﻨﻴﻔﺔ؟
“কূফাতে এ কোন বিদাতীর জন্ম হল, যাকে আবু-হানিফা বলে ডাকা হয়?”

আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ) তাঁর এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিলেন না ।

বরং উত্তর না দিয়ে স্বীয় হুজরায় চলে আসলেন এবং তিন দিনের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি জটিল ফিক্কহী মাসায়েল ও তার সমাধান সংগ্রহ করে পুনরায় ইমাম আওযায়ী (রহ)-এর খেদমতে এসে পেশ করলেন ।

মাসাআলাগুলোর শীর্ষে লিখা ছিল-
( ﻗﺎﻝ : ﻧﻌﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ) ﺭ ﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ
ইমাম আওযায়ী (রহ) পড়া শুরু করলেন । এক বৈঠকে সব শেষ করলেন । মাসআলা গুলোর জটিলতা এবং তার গবেষনা পদ্ধতি আঁচ
করতে পেরে ইমাম আওযায়ী রহঃ বিস্ময়াভিভূত হয়ে গেলেন । তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ)- কে জিজ্ঞেস করলেন, কে এই নো’মান
ইবনে ছাবিত?

ইবনে মুবারক (রহ) বললেন, তিনি ইরাকের এক মহান বুযুর্গ এবং আমার উস্তাদ । যার শিষ্যত্ব গ্রহনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তখন ইমাম আওযায়ী (রহ) বললেন, বাস্তবিকই তিনি একজন মহান ব্যক্তি । আমিও তার সাথে সাক্ষাৎ করবো এবং এ ধরনের কিছু জটিল ফিকহী মাসায়েলের ব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করবো।

ইবনে মুবারক (রহ) যেন অবাক হয়ে বললেন, হযরত! গত পরশু যাকে আপনি বিদয়াতী বলেছিলেন, তিনিই হলেন এই নো’মান ।

ইমাম আওযায়ী (রহ) তখন তাঁর ভুল উপলব্দি করলেন । কিছু দিন পর হজ্ব উপলক্ষে তিনি মক্কা মুকাররমায় গেলেন। আর সেখানেই ইমাম আবু হানিফা (রহ)-এর সাথে এক সুযোগ্য সাক্ষাত লাভ করেন । তারপর গুরত্বপূর্ণ কিছু ফিক্কহী মাসয়ালা নিয়ে একে অপরে আলোচনায় বসেন । আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ)ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ।

বৈঠক শেষ হলে ইমাম আ’যম (রহ) যখন চলে গেলেন তখন ইমাম আওযায়ী (রহ) বলতে লাগলেন-
ﻏﺒﻄﺖ ﺍﻟﺮ ﺟﻞ ﺑﻜﺜﺮ ﺓ ﻋﻠﻤﻪ ﻭ ﻭ ﻓﻮ ﺭ ﻋﻘﻠﻪ ٠ ﻭ ﺍﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ٠ ﻟﻘﺪ ﻛﻨﺖ ﻓﻰ ﻏﻠﻂ ﻇﺎ ﻫﺮﺍﻟﺰ ﻡ ﺍﻟﺮ ﺟﻞ ﻓﺎ ﻧﻪ ﺑﺨﻠﻼﻑ ﻣﺎ ﺑﻠﻐﻨﻰ ﻋﻨﻪ ٠
“লোকটির (ইমাম আবু-হানিফা রহ)- এর জ্ঞানের বিশালতা এবং বুদ্ধি ও বোধশক্তির গভীরতায় আমি ঈর্ষান্বিত। আমি আমার কু-ধারনার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি । সত্তিই আমি জঘন্য ভুলের শিকার ছিলাম । এখন আমি আর তার সঙ্গ ত্যাগ করবো না । ইতিপূর্বে তাঁর সম্পর্কে যা আমাকে জানানো হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্নই বাস্তবতার পরিপন্থি এবং বানোয়াট”।

(আল-খাইরাতুল হিসান, পৃঃ-৩৩)


🏝🌳 ইসমাইল বিন বিশর বর্ণনা করেন যে, একবার আমরা ইমাম মক্কী বিন ইবরাহীম রহ. (যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ) এর দরসের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম।

তিনি বর্ণনা শুরু করলেন حدثنا ابو حنيفة উপস্থিতদের মধ্যে এক অপরিচিত ব্যক্তি চিৎকার করে বললোঃ-
حدثنا عن ابن جريج ولا تحدثنا عن ابى حنيفة
(আমাদেরকে ইবনে জুরাইজের হাদীস বর্ণনা করুন। আবু হানীফার হাদীস বর্ণনা করবেন না।)

তখন তার উপর ইমাম মক্কী রহঃ এত রাগান্বিত হলেন যে, চেহাড়ার রঙ পরিবর্তন হয়ে গেল।

তিনি বলতে লাগলেনঃ-
انا لا نحدث السفهاء حرمت عليك ان تكتب عنى قم من مجلسى .
(আমরা বেয়াকুফ ও নির্বোধদের কাছে হাদীস বর্ণনা করি না। আমার কাছ থেকে হাদীস লিখা তোমার জন্য হারাম। তুমি আমার মজলিস থেকে উঠে যাও।)

সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তিকে দরসের মজলিস থেকে উঠানো না হলো তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন না। আর যখন সে বের হলো তখন আবার সেই حدثنا ابو حنيفة এর সিলসিলা ও ধারাবাহিকতা শুরু হলো।

(ছদরুল আয়িম্মা মক্কী কৃত “মানাকিবুল ইমাম আযম” ১/২০৪)

মাক্কী বিন ইব্রাহিম রহঃ অন্যত্ৰ বলেন:-

وقال النخعي: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الفارسي، قال: سمعت مكي بن إبراهيم ذكر أبا حنيفة، فقال: كان أعلم أهل زمانه
আবূ হানিফা রহঃ ছিলেন তৎকালিন যামানার সবচাইতে বড় আলেম ৷৷
(তাহযিবুল কামাল ২৯/৪৩৩)

🏝💠 মুহাদ্দিস ইবনে দাউদ আল খুরায়বী রহঃ যথার্থই বলেছেন-

الناس في ابي حنيفة حاسد و جاهل

মানুষ আবু হানীফা সম্পর্কে হয় মূর্খতার স্বীকার অথবা হিংসার।

[নুমানী, মাকানাতু আবী হানীফা-১২৭ পৃষ্ঠা]

31/08/2022

সলফে সালেহীন বিদ্বেষ কে প্রতিষ্ঠা করতে বানোয়াট বর্ণনার আশ্রয় কেনো?

ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে গোমরাহ বলার ব্যাপারে কী ইজমা হয়েছিলো?? (নাউযুবিল্লাহ)
⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼⇼

66- حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن علي بن مخلد الوراق- لفظا- قال في كتابي عَنْ أَبِي بَكْر مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّه بن صالح الأسدي الفقيه المالكي قَالَ: سمعت أبا بكر بْن أَبِي داود السجستاني يوما وهو يقول لأصحابه: ما تقولون في مسألة اتفق عليها مالك وأصحابه، والشافعي وأصحابه، والأوزاعي وأصحابه، والحسن بن صالح وأصحابه، وسفيان الثوري وأصحابه، وأحمد بن حنبل وأصحابه؟ فقالوا له: يا أبا بكر لا تكون مسألة أصح من هذه. فقال: "هؤلاء كلهم اتفقوا على تضليل أبي حنيفة

ইমাম আবু বাকর বিন আবি দাউদ আস সাজিস্তানি রহিমাহুল্লাহ তার সাথীদের একদা একদিন বললেনঃ

একটি মাসয়ালার ব্যাপারে তোমরা কি বলো যেই মাসয়ালাটির উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন ইমাম মালিক এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম শাফেয়ী এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম আওযায়ী এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম আল হাসান বিন স্বলিহ এবং উনার সাথীবৃন্দ,ইমাম সুফিয়ান সাওরী এবং উনার সাথীবৃন্দ ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং উনার সাথীবৃন্দ?

ইমাম ইবনে আবি দাউদ রহ এর সাথীবৃন্দ জবাবে উনাকে বললেনঃ অহে বকরের পিতা,তখন তো এই মাসয়ালাটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো মাসয়ালায় হবে না!!

তখন তিনি আবু বকর বিন আবি দাউদ রহ তার সাথীবৃন্দদেরকে বললেনঃ ইনারা সকলেই আবু হানিফার ভ্রান্ত হওয়া কিংবা গোমড়াহ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছিলন।

(তারীখে বাগদাদ)"

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক.... মাআজাল্লাহ

🍂তাহক্বীক্বঃ~ বর্ননাটি জাল, বানোয়াট ।।

ইমাম আবু দাউদ রহ. এর ছেলে আবু বকর আব্দুল্লাহ হলো কাজ্জাব তথা মিথ্যাবাদী ।

ইমাম আবূ দাউদ রহঃ নিজেই তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ-কে কাজ্জাব ও পদলোভী বলেছেন।

سمعت علي بن عَبد الله الداهري يقول: سَمعتُ أحمد بن مُحَمد بن عَمْرو بن عيسى كركر يقول: سَمعتُ علي بن الحسين بن الجنيد يقول: سَمعتُ أبا داود السجستاني يقول ابني عَبد الله هذا كذاب.

وكان ابن صاعد يقول كفانا ما قال أبوه فيه.

আলী ইবনুল হুসাইন ইবনিল জুনাইদ বলেন আমি আবু দাউদ সিজিস্তানীকে (সুনানে আবু দাউদ এর লেখক, বিখ্যাত ইমাম) বলতে শুনেছি, "আমার ছেলে আব্দুল্লাহ কাজ্জাব বা চরম মিথ্যাবাদী।"

ইবনে আদী রহিঃ বলেন, "ইবনে সায়েদ রহিঃ বলতেন, "তার পিতা তার ব্যাপারে যা বলেছে আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট।"

(আল কামিল ফী দুআফা লি ইবনে আদী,
পৃঃ ৫/৪৩৬ রাবী নং ১১০১)


سمعت عبدان يقول: سَمعتُ أبا داود السجستاني يقول ومن البلاء أن عَبد الله يطلب القضاء.

আবু দাউদ সিজিস্তানী রহঃ বলেনঃ , "আমার ছেলে আব্দুল্লাহ সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো, সে বিচারকের পদ কামনা করে।. (অর্থাৎ পদলোভী)।"

سمعت مُوسَى بْنَ الْقَاسِمِ بْنِ مُوسَى بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُوسَى الأَشْيَبِ يقول، حَدَّثني أبو بكر، قَالَ: سَمِعْتُ إبراهيم الأصبهاني يقول أبو بكر بن أبي داود كذاب

ইব্রাহিম বিন আওয়ামা আল আস্ববাহানী রহঃ বলেনঃ আবূ বকর বিন আবি দাউদ মিথ্যাবাদী।

(আল কামিল ফী দুআফা লি ইবনে আদী,
পৃঃ ৫/৪৩৬ রাবী নং ১১০১)

ইমাম দারাকুতনী রহঃ বলেনঃ

قال السُّلَمِيُّ: سألت الدَّارَقُطْنِيّ عن أبي بكر بن أبي داود، فقال: أنه كثير الخطأ في الكلام على الحديث

আবু বকর ইবনে আবু দাউদ হাদীসের কালামের উপর তথা জরাহ তাদিল বিষয়ে প্রচুর ভুল কারী ছিলো।
(মাউসুয়াতে আক্বওয়াল আবুল হাসান আদ দারাকুতনী, রাবীঃ ১৮৬৬)

سَمِعْتُ عَبد اللَّهِ بْنَ مُحَمد الْبَغَوِيُّ يَقُولُ وَقَدْ كَتَبَ إِلَيْهِ بن أَبِي دَاوُدَ رُقْعَةٌ يَسْأَلُهُ عَنْ لَفْظِ حَدِيثٍ لِجِدِّهِ بَيَّنَ لَهُ مِنْ لَفْظِ غَيْرِهِ فِيهِ وَالْحَدِيثُ الَّذِي سَأَلَهُ جِدُّهُ عَنْ مُحَمد بْنِ قَيْسٍ أَبُو سَعْدٍ الصَّاغَانِيُّ، عَن أَبِي جَعْفَر الرازي عَن الرَّبِيعِ، عَن أَبِي الْعَالِيَةِ، عَن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ جَاءَ الْمُشْرِكُونَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا انْسِبْ لَنَا رَبَّكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ} فَقَالَ الْبَغَوِيُّ لَمَّا قَرَأَ رُقْعَتَهُ أَنْتَ وَاللَّهِ عِنْدِي مُنْسَلِخٌ مِنَ الْعِلْمِ.

ইবনে আদী. রহিঃ বলেন আমি মুহাম্মাদ আল-বাগাভীকে বলতে শুনেছি...... (মধ্যখানে একটি ঘটনা রয়েছে) ..... অতঃপর চিরকুটটি পড়ে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাভী রহঃ আব্দুল্লাহ বিন আবূ দাউদ সম্পর্কে বললেন, "আল্লাহর শপথ! তুমি আমার নিকট ইলম থেকে বিচ্যুত ব্যক্তি।"

(আল কামিল ফী দুআফা লি ইবনে আদী,
পৃঃ ৫/৪৩৬ রাবী নং ১১০১)

↓↓
🏝০১🏝 প্রকৃতপক্ষে ইমাম আবূ দাউদ রহঃ ইমাম আবূ হানিফার রহঃ সম্পর্কে দুআ করতেনঃ

حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن بْنِ يَحْيَى رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ أَنا أَبُو بكر مُحَمَّد بن بكر بن عبد الرازق التَّمَّارُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنَ الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ السِّجِسْتَانِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ يَقُولُ رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ الشَّافِعِيَّ كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ كَانَ إِمَامًا

ইমাম আবূ দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ—

আল্লাহ মালেকের উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!
আল্লাহ ইমাম শাফেয়ী রহঃএর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!
আল্লাহ আবু হানিফা রহঃএর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!!

(আল-ইনতিক্বা লি ইবনে আব্দুল বার,পৃষ্ঠাঃ ৩২, জামেউল বায়ানিল ইলম পৃষ্ঠাঃ ২/১১১৩ বর্ননা নং ২১৮৬ )

🏝🌲🏝 আবার ইমাম আবূ দাউদ রহঃ ইমাম আবূ হানিফার রহঃ বিষয়ে বলেছেনঃ—

٢٧٧- سمعتُ أَبا داود يقول: أَبو حنيفة خير من ألف مثل عمرو بن عُبيد.

ইমাম আবূ হানিফা রহঃ আমর ইবনে উবাইদের মতো লোকের চাইতে হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ ছিলেন ৷
(সুয়ালাতে আবূ দাউদ,পৃঃ ৬৭, বর্ননা নং ২৭৭ )


🏝০২🏝 ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহঃ বলেন:-

قَالَ وَنا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ أَبِي قُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ ضُرَيْسٍ يَقُولُ شَهِدْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ وَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ مَا تَنْقِمُ عَلَى أَبى حنيفَة قَالَ لَهُ وَمَاله قَالَ سمعته يَقُول آخذ بِكِتَاب الله فمالم أَجِدْ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَمَا لَمْ أَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ ولافى سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَخَذْتُ بِقَوْلِ أَصْحَابِهِ آخُذُ بِقَوْلِ مَنْ شِئْتُ مِنْهُمْ وَأَدَعُ مَنْ شِئْتُ مِنْهُمْ وَلا أَخْرُجُ مِنْ قَوْلِهِمْ إِلَى قَوْلِ غَيْرِهِمْ
وَذَكَرَ الدُّولابِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْهَاشِمِيُّ قَالَ نَا على بن الْحسن بن على بن شَقِيق أَبُو الْحسن المروزى قَالَ سَمِعت أَبَا بكر يذكر عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ شَدِيدَ الأَخْذِ لِلْعِلْمِ ذَابًّا عَنْ حَرَمِ اللَّهِ أَنْ تُسْتَحَلَّ يَأْخُذُ بِمَا صَحَّ عِنْدَهُ مِنَ الأَحَادِيثِ الَّتِي كَانَ يَحْمِلُهَا الثِّقَاتُ وَبِالآخَرِ مِنْ فِعْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَبِمَا أَدْرَكَ عَلَيْهِ عُلَمَاءَ الْكُوفَةِ ثُمَّ شَنَّعَ عَلَيْهِ قَوْمٌ يَغْفِرُ الله لنا وَلَهُم نَا عبد الوارث

‘ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) ছিকাহ রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মধ্যে সেটা গ্রহণ করতেন যা তাঁর নিকট ‘সহীহ’। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের মধ্যে শেষটি গ্রহণ করতেন। এবং যার উপর কুফার আলেমগণকে পেয়েছেন সেটা গ্রহণ করতেন। এরপর একশ্রেণির লোক তার নিন্দা করেছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করুন।’

-[ফাযাইলু আবী হানীফা ওয়া আখবারুহু ওয়া মানাকিবুহু, ইবনে আবিল আওয়াম পৃ. ৯৯; আলইনতিকা, ইবনে আবদুল বার পৃ. ২৬২ ]

🏝০৩🏝 ইমাম আবূ ইউসুফ কাজী রহঃ বলেনঃ

أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن سَمَّاعَة يَقُول سَمِعت أَبَا يُوسُف يَقُول مَا خَالَفت ابا حنيفَة فِي شَيْء قطّ فتدبرته إِلَّا مذْهبه الَّذِي ذهب إِلَيْهِ أنجي فِي الْآخِرَة وَكنت رُبمَا ملت إِلَى الحَدِيث وَكَانَ هُوَ أبْصر بِالْحَدِيثِ الصَّحِيح مني ما رأيت أحدا أعلم بتفسير الحديث ومواضع النكت التي فيه من الفقه من أبي حنيفة

যে সকল বিষয়েই আমি ইমাম আবূ হানীফার রহঃ সাথে বিরোধিতা করেছি, সে বিষয়েই আমি পরে চিন্তা করে দেখেছি যে, আবূ হানীফার মত ই আখিরাতে নাজাতের অধিক উপযোগী। অনেক সময় আমি হাদীসের দিকে ঝুঁকে পড়েছি, কিন্তু আবূ হানিফা রহঃ ই সহীহ হাদীসের বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক সমঝদার ছিলেন। হাদীসের ব্যাখ্যায় এবং হাদীসের মধ্যে ফিকহের যে সকল নির্দেশনা রয়েছে তা অনুধাবন করায় আবূ হানীফার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও পারদর্শী আমি কাউকে দেখি নি।

(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফাহ, পৃ. ২৫, খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৩৪০)

🏝০৪🏝 ইবনে মুবারক রহঃ সম্পর্কে তার ছাত্র ইসমাঈল ইবন দাউদ রহঃ বলেনঃ~

قَالَ أَبُو يَعْقُوبَ وَأنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ إِجَازَةً قَالَ نَا جَدِّي قَالَ نَا مُحَمَّد بن مُسلم قَالَ سَمِعت اسماعيل ابْن دَاوُد يَقُول كَانَ ابْن الْمُبَارك يذكر عَن أَبى حنيفَة كل خير ويزكيه ويقرضه ويثنى عَلَيْهِ

ইবনুল মুবারাক রহঃ আবূ হানীফা রহঃ সম্পর্কে সবসময়ই ভাল বলতেন, তাঁর বিশ্বস্ততা ও বুজুর্গির কথা বলতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।’’

[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১৩৩ ।]

আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিঃ বলতেন:

أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا عَليّ بن صَالح الْبَغَوِيّ عَن الْحسن بن عَرَفَة الْعَبْدي قَالَ قَالَ عبد الله بن الْمُبَارك لَا نكذب الله فِي أَنْفُسنَا إمامنا فِي الْفِقْه أَبُو حنيفَة وَفِي الحَدِيث سُفْيَان فَإِذا اتفقَا لَا أُبَالِي بِمن خالفهما لولا أن أغاثني الله بأبي حنيفة وسفيان كنت كسائر الناس. ... أبو حنيفة أفقه الناس.
‘‘আমাদের নিজেদের বিষয়ে আল্লাহকে মিথ্যা বলব না! ফিকহের বিষয়ে আমাদের ইমাম আবূ হানীফা এবং হাদীসের বিষয়ে আমাদের ইমাম সুফইয়ান সাওরী। আর যখন দুজন কোনো বিষয়ে একমত হন তখন আমরা তাঁদের বিপরীতে আর কাউকে পরোয়া করি না।’’... ‘‘আল্লাহ যদি আমাকে আবূ হানীফা রহঃ এবং সুফইয়ান সাওরী রহঃ দ্বারা উদ্ধার না করতেন তাহলে আমি সাধারণ মানুষই থাকতাম।’’ ‘‘আবূ হানীফা রহঃ মানুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকীহ।’’

[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ১৪০; খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৩৩৭; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৩৯৮]

🏝০৫🏝. ইবনে সাঈদ আল কাত্তান রহঃ বলেন

لا نكذب الله ما سمعنا أحسن من رأى أبى حنيفة، وقد أخذنا بأكثر أقواله. قال يحيى بن معين: وكان يحيى بن سعيد يذهب في الفتوى إلى مذهب (قول) الكوفيين ويختار قوله من أقوالهم ويتبع رأيه من بين أصحابه.

‘‘আল্লাহকে মিথ্যা বলব না! আবূ হানীফার রহঃ মতের চেয়ে উত্তম মত আমি শুনি নি। অধিকাংশ বিষয়ে আমরা তাঁর মত অনুসরণ করি। (তাঁর ছাত্র) ইয়াহইয়া ইবন মায়ীন রহঃ বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সায়ীদ আল কাত্তান রহঃ ফাতওয়ার বিষয়ে কূফীদের মাযহাব অনুসরণ করতেন, কূফীদের মধ্য থেকে আবূ হানীফার রহঃ বক্তব্য পছন্দ করতেন এবং তাঁর মত অনুসরণ করতেন।’’

দাওরী, তারীখ ইবন মায়ীন ৩/৫১৭; ৪/২৮৩; মিয্যী, তাহযীবুল কামাল ২৯/৪১৭-৪৪৪; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৩৯০-৪০৩; ইবন আদী, আল-কামিল ৭/৯; ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব ১০/৪০১-৪০২।

🏝০৬🏝. ওয়াক্বী রহঃ সম্পর্কে তার ছাত্র ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন রহঃ বলেন:

2109 - وَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْأَزْدِيُّ الْحَافِظُ الْمَوْصِلِيُّ فِي الْأَخْبَارِ الَّتِي فِي آخِرِ كِتَابِهِ فِي الضُّعَفَاءِ قَالَ: يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أُقَدِّمُهُ عَلَى وَكِيعٍ» وَكَانَ يُفْتِي بِرَأْيِ أَبِي حَنِيفَةَ وَكَانَ يَحْفَظُ حَدِيثَهُ كُلَّهُ، وَكَانَ قَدْ سَمِعَ مِنَ أَبِي حَنِيفَةَ حَدِيثًا كَثِيرًا

আমি ওকী রহঃ-এর উপরে স্থান দেওয়ার মত কোনো মুহাদ্দিস দেখি নি। তিনি আবূ হানীফার রহঃ মত অনুসারে ফাতওয়া দিতেন। তিনি তাঁর সব হাদীস মুখস্থ রাখতেন। তিনি আবূ হানীফা রহঃ থেকে অনেক হাদীস শুনেন।

[ইবন আব্দুল বার্র, জামিউ বায়ানিল ইলম ২/২৯০-২৯১; আল-ইনতিকা, পৃ. ১৩৬।]

এ থেকে জানা যায় যে, ইমাম ওকী রহঃ শুধু ইমাম আবূ হানীফার রহঃ ফিকহী মতই অনুসরণ করতেন না, উপরন্তু তিনি তাঁকে হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করতেন এবং তাঁর সকল হাদীস মুখস্থ রাখতেন।

🏝০৭🏝 মুগীরাহ ইবনে মিক্বসাম রহঃ তার ছাত্র বুখারী মুসলিমের রাবী জারীর ইবন আব্দুল হামীদ দাববী রহঃ কে বলেছিলেনঃ

أخبرنَا أَبُو حَفْص عمر بن ابراهيم الْمصْرِيّ قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن مغلس قَالَ ثَنَا يحيى بن أَكْثَم قَالَ سَمِعت جَرِيرًا قَالَ قَالَ لي الْمُغيرَة بن مقسم الضَّبِّيّ جَالس أَبَا حنيفَة فَلَو كَانَ إِبْرَاهِيم حَيا لَكَانَ مُحْتَاجا إِلَى مُجَالَسَته إِيَّاه هُوَ وَالله يحسن ان يتَكَلَّم فِي الْحَلَال وَالْحرَام

‘‘তুমি আবূ হানীফার রহঃ মাজলিসে বসবে, তাহলে ফিকহ শিখতে পারবে। কারণ (কুফার প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফকীহ, মুগীরার উস্তাদ) ইবরাহীম নাখয়ী (৯৫ হি) যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনিও আবূ হানীফার মাজলিসে বসতেন। ... আল্লাহর কসম! হালাল ও হারামের বিষয়ে সে ভালভাবে কথা বলার যোগ্যতা রাখে।’’

[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ৭৯; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৪০৩; তারীখুৃল ইসলাম ৯/৩১২।

🏝০৮🏝 সুলাইমান ইবনে আ'মাশ রহঃ তাঁর ছাত্র আলী ইবন মুসহির রহঃ কে বলেনঃ

وَحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ قَالَ نَا مُحَمَّد بن عبيد بن عنام قَالَ نَا مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ الاعمش يَقُول وَسُئِلَ عَن مسئلة فَقَالَ إِنَّمَا يُحْسِنُ الْجَوَابَ فِي هَذَا وَمِثْلُهُ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ الْخَزَّازُ أَرَاهُ بُورِكَ لَهُ فِي عِلْمِهِ

আবূ হানীফার রহঃ কাছ থেকে আমাদের জন্য হজ্জের নিয়মকানুন লিখে আন। আ'মাশ রহঃকেই মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: এসব মাসয়ালা গুলোর উত্তর তো কেবল কাপড় ব্যবসায়ী নুমান ইবন সাবিতই রহঃ ভালো বলতে পারে। আমার মনে হয় তার ইলমে বরকত প্রদান করা হয়েছে।’’

[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৬]

🏝০৯🏝. আবূ হানীফার রহঃ নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে শুবা ইবনুল হাজ্জাজের মতামত ব্যাখ্যা করে ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মায়ীন রহঃ (২৩৩ হি) বলেন:

قَالَ وَنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ قَالَ نَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ سُئِلَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَقَالَ ثِقَةٌ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا ضَعَّفَهُ هَذَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ يَكْتُبُ إِلَيْهِ أَنْ يحدث ويأمره وَشعْبَة شُعْبَة

ইবনে মাঈন রহঃ কে আবূ হানিফার রহঃ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলো.। তিনি বলেনঃ আবূ হানিফা রহঃ সিক্বাহ। আমি ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে দুর্বল বলতে কাউকেই শুনিনি। এই তো শুবা ইবনুল হাজ্জাজ রহঃ তিনি হাদীস বর্ণনার অনুরোধ করে আবূ হানীফা রহঃ কে পত্র লিখেছেন। আর শু’বা তো শু’বাই।’’

[[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৭ ]

🏝১০🏝 হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান রহঃ আমিরুল মু'মিনীন ফীল হাদীস শু'‍বা বিন হাজ্জাজ রহঃ এর সূত্রে বলেনঃ

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم المقرىء قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن مُحَمَّد بن مغلس قَالَ ثَنَا نصر بن عَليّ قَالَ سَمِعت خَالِد بن الْحَارِث يَقُول سَمِعت شُعْبَة يَقُول سَمِعت حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان يَقُول... كَانَ وَالله حسن الْفَهم جيد الْحِفْظ

‘‘আল্লাহর কসম! আবু হানিফার রহঃ অনুধাবন শক্তি সুন্দর এবং তাঁর মুখস্থ শক্তি ভাল ছিল।’’

(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ২৩)

🏝১১🏝 হাসান ইবনে স্বলেহ রহঃ বলেনঃ

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَلَبِيُّ قَالَ نَا سُلَيْمَان بن يُوسُف ونا أَبُو مُحَمَّد المقرى قَالَ نَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى قَالا نَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ صَالِحٍ يَقُولُ كَانَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ فَهْمًا عَالِمًا مُتَثَبِّتًا فِي عِلْمِهِ إِذَا صَحَّ عِنْدَهُ الْخَبَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ

নুমান ইবন সাবিত বিজ্ঞ আলিম ছিলেন, ইলমের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে সচেতন ছিলেন। কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোনো হাদীস সহীহ বলে প্রমাণিত হলে তিনি তা পরিত্যাগ করে অন্য দিকে যেতেন না।’’

[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৮]

🏝১২🏝 ইসরাঈল ইবন ইউনূস ইবন আবী ইসহাক সাবীয়ী রহঃ বলেনঃ

أخبرنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد قَالَ ثَنَا أَبُو غَسَّان قَالَ سَمِعت أسرائيل يَقُول نعم الرجل النُّعْمَان مَا كَانَ أحفظه لكل حَدِيث فِيهِ فقه وَأَشد فحصه عَنهُ وأعلمه بِمَا فِيهِ من الْفِقْه وَكَانَ قد ضبط عَن حَمَّاد فَأحْسن الضَّبْط عَنهُ

হ্যাঁ, নুমান রহঃ নামক ব্যক্তিটি যে সকল হাদীসের মধ্যে ফিকহ রয়েছে সেগুলি খুব ভালভাবে ও পরিপূর্ণভাবে মুখস্থ রাখতেন, সেগুলির বিষয়ে সর্বোচ্চ অনুসন্ধান করতেন এবং সেগুলির মধ্যে বিদ্যমান ফিকহী নির্দেশনাও তিনি সবেচেয়ে ভাল জানতেন। এ বিষয়ে তাঁর স্মৃতি, অনুসন্ধান ও জ্ঞান ছিল অবাক করার মত। খলীফাগণ, আমীরগণ ও উযীরগণ তাঁকে সম্মান করেছেন।
তিনি হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমান রহঃ থেকে ফিকহ সংরক্ষণ করেন এবং খুব ভালভাবেই সংরক্ষণ করেন।

[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ২৩)

🏝১৩🏝 আল্লামা ইবনুল কাইয়্যূম (৭৫১ হি.) বলেনঃ

وأئمة الحديث كالشافعي والإمام أحمد ومالك وأبي حنيفة وأبي يوسف والبخاري وإسحاق

হাদীস শাস্ত্রে ইমাম শাফেঈর রহঃ অনুরুপ ইমাম হলেন: ইমাম আহমদ, মালেক, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, বুখারী এবং ইসহাক রহঃ ।

(ই’লামুল মুয়া’ক্কিয়ীন: ১/২৫৯)

🏝১৪🏝 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন:—


"ﻭﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺃﻋﻠﻢ ﻭﺃﻓﻘﻪ ﻣﻦ اﻟﻄﺤﺎﻭﻱ ﻭﺃﻣﺜﺎﻟﻪ.
আর আবু হানীফা রহ. ইমাম ত্বহাবী রহ. ও তার মত যারা রয়েছেন তাদের চেয়ে বড় জ্ঞানী ও বড় ফকীহ।" [মিনহাজুস সুন্নাহ, খন্ড:৮, পৃষ্ঠা:১৯৭]

অন্যত্র বলেছেনঃ

وَمَنْ ظَنَّ بِأَبِي حَنِيفَةَ أَوْ غَيْرِهِ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ أَنَّهُمْ يَتَعَمَّدُونَ مُخَالَفَةَ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ لِقِيَاسِ أَوْ غَيْرِهِ فَقَدْ أَخْطَأَ عَلَيْهِمْ وَتَكَلَّمَ إمَّا بِظَنِّ وَإِمَّا بِهَوَى

‘‘যদি কেউ ধারণা করে যে, আবূ হানীফা রহঃ অথবা মুসলিমদের অন্য কোনো ইমাম কিয়াস বা অন্য কোনো অজুহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সহীহ হাদীসের বিরোধিতা করেছেন তবে তার ধারণাটি অন্যায় ও ভুল বলে গণ্য। ঐ ব্যক্তি হয় আন্দাজে, অথবা প্রবৃত্তির তাড়নায় এরূপ কথা বলেছে।’’

[মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/৩০৪-৩০৫]

🏝১৫🏝আবূ আব্দুর রাহমান আব্দুল্লাহ ইবন দাউদ ইবন আমির কূফী রহঃ বলেন:

أخبرنَا عمر بن إِبْرَهِيمُ قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا أَحْمد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا نصر عَن عَليّ قَالَ ثَنَا عبد الله بن دَاوُد قَالَ من أَرَادَ ان يخرج من ذل الْعَمى وَالْجهل ويجد لَذَّة الْفِقْه فَلْينْظر فِي كتب أبي حنيفَة

أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الصَّيْرَفِي قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد المسكي قَالَ ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد ابْن كأس قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مَحْمُود الصيدلاني قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن شُجَاع قَالَ قَالَ عبد الله بن دَاوُد مَا يعيب ابا حنيفَة إِلَّا أحد رجلَيْنِ جَاهِل لَا يعرف فضل قَوْله أَو حَاسِد لم يقف على علمه فحسده ينبغي للناس أن يدعوا في صلاتهم لابي حنيفة، لحفظه الفقه والسنن عليهم

‘‘যদি কেউ অন্ধত্ব ও মুর্খতার লাঞ্ছনা থেকে বের হতে চায় এবং ফিকহের স্বাদ লাভ করতে চায় তবে তাকে আবূ হানীফার বইগুলো পড়তে হবে। হিংসুক অথবা জাহিল এ দুয়ের একজন ছাড়া কেউ আবূ হানীফার বিষয়ে মন্দ বলে না। মানুষদের উচিত তাদের সালাতের মধ্যে আবূ হানীফার জন্য দুআ করা; কারণ তিনিই মানুষদের জন্য ফিকহ এবং সুন্নাহ (হাদীস) সংরক্ষণ করেছেন।’

(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফাহ, পৃ. ৮৫; যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৪০২; ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/১১৪)

🏝১৬🏝হাফিজুল হাদীস ইমাম ইয়াযিদ ইবন হারূন ওয়াসিতী (২০৬হি) রহঃ বলেন:—

اُخْبُرْنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا تَمِيم بن الْمُنْتَصر قَالَ كنت عِنْد يزِيد بن هَارُون فَذكر أَبُو حنيفَة فنال إِنْسَان مِنْهُ فَأَطْرَقَ طَويلا قَالُوا رَحِمك الله حَدثنَا فَقَالَ كَانَ أَبُو حنيفَة تقيا نقيا زاهدا عَالما صَدُوق اللِّسَان احفظ اهل زَمَانه سَمِعت كل من أَدْرَكته من أهل زَمَانه يَقُول إِنَّه مَا رأى أفقه مِنْهُ

‘‘আবূ হানীফা আল্লাহ-ভীরু, পবিত্র ও সংসার বিরাগী আলিম ছিলেন। তিনি সত্যপরায়ণ এবং তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় হাফিযে হাদীস ছিলেন। তাঁর যুগের যত মানুষকে আমি পেয়েছি সকলকেই বলতে শুনেছি: ফিকহের বিষয়ে আবূ হানীফার রহঃ চেয়ে অধিক পারদর্শী আর কাউকে দেখেন নি।’’

[সাইমারী, আখবারু আবি হানিফাঃ ৪৮)

🏝১৭🏝 বুখারীর রাবী ঈসা ইবনে ইউনুস রহঃ বলেন:—

قَالَ نَا جَعْفَرُ بْنُ إِدْرِيسَ الْقَزْوِينِيُّ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الطَّرَسُوسِيُّ قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ الشَّاذَكُونِيَّ قَالَ قَالَ عِيسَى بن يُونُس لاتتكلمن فِي أَبِي حَنِيفَةَ بِسُوءٍ وَلا تُصَدِّقَنَّ أَحَدًا يسئ الْقَوْلَ فِيهِ فَإِنِّي وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ أَفْضَلَ مِنْهُ وَلا أَوْرَعَ مِنْهُ وَلا أَفْقَهَ مِنْهُ

তোমরা কেউ আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে মন্দ বলো না ৷ যে আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে খারাপ বলে, তাকে বিশ্বাস করো না ৷ কেননা, আল্লাহর কসম! আমি আবূ হানিফার রহঃ চাইতে উত্তম কাউকে দেখিনি ৷ তার চাইতে অধিক সাবধানী কাউকে দেখিনি, তার চাইতে শ্রেষ্ঠ ফকীহ কাউকে দেখিনি ৷
(আল ইনতিকাঃ ১৩৭)

🏝১৮🏝মুহাদ্দিস ইবনে দাউদ আল খুরায়বী রহঃ বলেনঃ

وقال أيضًا - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى قَالَ ابْنُ أَبِي دَاوُدُ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، سَمِعْتُ ابْنَ دَاوُدَ يَعْنِي الخُرَيْبِيَّ يَقُولُ: «النَّاسُ فِي أَبِي حَنِيفَةَ حَاسِدٌ وَجَاهِلٌ».
“মানুষ আবু হানীফা রহঃ সম্পর্কে হয় মূর্খতার স্বীকার অথবা হিংসার। ”

[মানাকিবে ইমাম আবু হানিফা আব্দুর আব্দুর রশীদ নোমানী ১/১২৩]

🏝১৯🏝 হাফস ইবনে গিয়াস রহঃ বলেনঃ

كلام أبي حنيفة في الفقه أدق من الشعر لا يعيبه إلا جاهل.
‘‘ফিকহের বিষয়ে আবূ হানীফার বক্তব্য চুলের চেয়েও সুক্ষ্ম। জাহিল-মুর্খ ছাড়া কেউ তাঁকে খারাপ বলে না।’’

[যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৪০৩।]

🏝২০🏝 ইমাম যহাবী রহঃ বলেনঃ.

قُلْتُ: الإِمَامَةُ فِي الفِقْهِ وَدَقَائِقِه مُسَلَّمَةٌ إِلَى هَذَا الإِمَامِ، وَهَذَا أَمرٌ لاَ شَكَّ فِيْهِ.
وَلَيْسَ يَصِحُّ فِي الأَذْهَانِ شَيْءٌ ... إِذَا احْتَاجَ النَّهَارُ إِلَى دَلِيْلِ

ইলমুল ফিকহ ও এর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে নেতৃত্বের মর্যাদা ইমাম আবূ হানিফার রহঃ জন্য সংরক্ষিত। এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
‘‘যদি দিবসকে প্রমাণ করতে দলিলের প্রয়োজন হয় তবে আর বুদ্ধি-বিবেক বলে কিছুই থাকে না’’।

[যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৪০৩।]

সুতরাং, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির মতো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমামের বিষয়ে কোনো রকমের সমালোচনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বনাশা আহলে হাদিস ফিরকার ফেতনা থেকে হেফাজত করুন।

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ashiqui -E- Muhammad saw posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share