23/09/2022
একদিন রুক্মিণী শ্রীকৃষ্ণকে দুধ খেতে দিলেন। দুধটা বেশী গরম ছিল, কৃষ্ণের জিহ্বা খুব বাজে ভাবে পুড়ে গেল৷ উনি ব্যাথা আর জ্বালার জন্য ছটফঠ করে উঠলেন, ওনার মুখ দিয়ে একটাই শব্দ বের হলো-
"হে রাধে"!
কথাটা শুনেই রুক্মিণী বলে উঠলেন, প্রভু! রাধার মধ্যে কি এমন আছে যা আমার মধ্যে নেই, আপনি প্রত্যেকটি নিশ্বাসের সঙ্গে রাধার নাম নেন, আমিওতো আপনাকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসি, আপনি কখনো কোনো কষ্টে আমার নাম নেন না কেন?
শ্রীকৃষ্ণ ততক্ষনে স্বাভাবিক হয়ে গেছেন। উনি বললেন, তুমি কি কখোনো রাধাকে দেখেছ? এইটুকু বলেই স্মিতভাবে হাসতে লাগলেন।
পরেরদিন রুক্মিণী রাধার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।
রাধার ঘরের বাইরে অপরূপ সুন্দরী দাঁড়িয়ে ছিলেন, ওনাকে দেখে রুক্মিণী ভাবলেন যে ইনিই হবেন রাধা, আর ওনার চরণ স্পর্শ করতে গেলেন।
সুন্দরী মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "কে আপনি"?
রুক্মিণী নিজের পরিচয় দিলেন এবং আসার কারণ বললেন৷
সুন্দরী মহিলা বললেন, আমি রাধার দাসী! আর রাধার ঘরে যাওয়ার আগে এইরকম সাতটি দরজা পার করতে হয়।
রুক্মিণী এক একটি দরজা পার করছিলেন আর অপূর্ব সুন্দরী দাসীদের দেখে মনে মনে ভাবছিলেন, যাঁর দাসীরা এমন সুন্দরী, তিনি নিজে না জানি কত সুন্দরী হবেন৷ ভাবতে ভাবতে উনি পৌঁছোলেন রাধার কক্ষে।
ওনার অপরুপ চেহারায় সূর্যের থেকেও বেশী তেজ ছিল।
রুক্মিণী সোজা রাধার পায়ে পড়লেন, কিন্তু একি রাধার সারা শরীরে ফোসকা! রুক্মিণী কারণ জিজ্ঞাসা করলেন ?
রাধা বললেন, আপনি যেই দুধ শ্রীকৃষ্ণকে খেতে দিয়েছিলেন, ওটা বেশী গরম ছিল, দুধ খেয়ে ওনার জিহ্বাতে ফোসকা পড়েছিল। আর উনি "হে রাধে" বলার সঙ্গে সঙ্গে সব ফোসকা আর সব ব্যাথা আমার শরীরে এসে গেছে। এরপর শ্রীকৃষ্ণকে কিছু খেতে দেওয়ার আগে নিজে চোখে দেখে নেবেন।
রুক্মিণী বললেন, এটা কি করে সম্ভব?
রাধা বললেন, এটা তখনই সম্ভব যখন আপনি কারোর হৃদয়ে বাস করবেন মস্তিষ্কে নয়৷