17/03/2025
📌বদ নজর মানুষকে কি ধরনের ক্ষতি করে থাকে? এবং বদ-নজরের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পরিপুর্ণ পোস্ট পড়ুন।
-----------------------------------------------------------------
১.সাহল ইবনু হুনাইফ (রা:) আনহু কোথাও গোসলের জন্য জামা খুলেছিলেন।তিনি অত্যন্ত সুশ্রী এবং ফর্সার অধিকারি ছিলেন।বদরি সাহাবী আমির ইবনু রাবীয়া ( রা:) তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, এতো সুন্দর কাউকে আমি জীবনে কখনো দেখিনি ; এমনকি সুন্দরী যুবতিও এত সুন্দর দেহবিশিস্ট দেখিনি।
আমিরের এই কথা বলার সাথে সাথে সাহল ইবনু হুনাইফ সেখানে বেহুশ হয়ে পরল।তার গায়ে জ্বর চলে আসলো এবং তিনি জ্বরের প্রচন্ডভাবে ছটফট করতে লাগলেন।
অন্য সাহাবিরা রাসুল (সাঃ) - কে অবস্থা জানালেন। সংবাদ পেয়ে নবিজী (সাঃ) দেখতে আসলেন।সাহল রা. কে হঠাত করে এমনটা হবার কারন জিজ্ঞেস করলে তিনি পুরো ঘটনা খুলে বল্লেন।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তখন বললেন, তোমরা কেন তোমাদের ভাইকে নজর দিয়ে হত্যা করছ? তুমি যখন তাকে দেখলে, তখন বরকতের দোয়া কেন করলেনা? নিশ্চয়ই বাদ নজর সত্য।(অর্থাৎ দোয়া করলে আর নজর লাগতোনা) এরপর নবিজী (সাঃ)আমির ইবনু রাবিয়া (রাঃ) আনহা কে বললেন, তার জন্য অজু কর।তখন তিনি অজু করলেন।তারপর নবিজী সাঃ এর নির্দেশে অজুর পানি সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) এর গায়ে ঢেলে দিলেন। তখন আল্লাহর রহমতে তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।(মুয়াত্তা মালিক: ১৬৮১)
২. রাসুল (সাঃ) বারবার বাদ নজরের সাথে ভাগ্যের তুলনা করেছেনে। যেমন ঃ- আল্লাহর ফায়সালা এবং ভাগ্যের পরে আমার উম্মত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু বরন করবে বদ নজরের কারনে। (মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসি: ১৮৫৮)
৩. যদি কোনকিছু ভাগ্যেকে অতিক্রম করতে পারতো, তবে তা হত বদনজর।(সুনানে আত তিরমিজি : ২০৫৯)
বদ নজরের কিছু লক্ষন অবিজ্ঞতা থেকে
-------------------------------------------------------
১. শরীরে জ্বর থাকা, কিন্তু থার্মোমিটারে না উঠা। এধরণের অন্য কোন অসুস্থ থাকা, কিন্তু মেডিকেল টেস্টে ধরা না পরা।
২. বিভিন্ন ধরনের অসুখ লেগে থাকা। একটা অসুখ ভালো হতে না হতেই আরেকটা শুরু হওয়া।
৩. সাধারণ রোগ যেমন ঃ- সর্দি কাশি,জ্বর, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা দিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও তা ভালো না হওয়া,ঔষধে কাজ না করা।
৪. পড়াশোনা বা কাজে মন না বসা।নামাজ - জিকিরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। কিছুতেই মনোযোগ দিতে না পারা।
৫. প্রায়শই শরির দুর্বল থাকা। বমি বমি ভাব লাগা।
৬. সবসময় ঘুম ঘুম ভাব,সারাদিন হাই উঠে।
৭. অতিরিক্ত চুল পরা। সেম্পুতে কাজ না হওয়া।
৮. ক্ষুধামন্দা, খাবারে রুচি না পাওয়া।
৯. অহেতুক মেজাজ বিগ্রে থাকা।
১০. বুক ধরফর করা, দমবন্দ বা অস্বস্তি লাগা।
১১. পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া।
১২. হাতপায়ে মাঝেমধ্যে ব্যাথা করা। কিংবা পুরো শরীরে ব্যাথা অনুভব করা।
১৩. ব্যবসায় ঝামেলা লেগে থাকা। কোন ভাবেই উন্নতি না হওয়া।
১৪. যে কাজে ভালো অবিজ্ঞতা রয়েছে সেটা করতে গেলেই অস্থির হয়ে যাওয়া। মনে না চাওয়া।
১৫. স্বপ্নে মৃত মানুষ দেখা ইত্যাদি.....
উল্লেখিত বিষয়গুলো এমন না যে, শুধু বদ নজরের কারনেই এসব হয়।অন্য কারণে ও হতে পারে।এ ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বা অন্যান্য সমস্যা মিলিয়ে বুঝতে হবে সমস্যা কোথায়।এরপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরাসরি রুকইয়াহ করে দেখতে পারেন।
এই সকল রোগের জন্য চিকিৎসক এর সাথে জরুরী পরামর্শ করুণ।
এখন জানব নিজের অবিজ্ঞতা থেকে
----------------------- ----------------------- ---
ছেলেটির বয়স ৯-১০ বছর । বাড়ী তার চট্টগ্রামে। ছেলেটি খুবই হাসিখুশি প্রকৃতির ছিলো। কথাবার্তা এমন ভাবে বলতো মানুষ অবাক হয়ে যেত! একেবারেই জ্ঞানী মানুষের মতো কথা বলতো।হঠাৎ করে একেবারে নির্জিত হয়ে গেলো। কারো সাথে কোন কথাবার্তা বলেনা।
এমনকি মা বাবার সাথেও না। খাওয়া দাওয়া ঠিকমতো করেনা। সারাক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকে। বিষন্ন মনে কথাগুলি বললেন চট্টগ্রাম থেকে ট্টিটমেন্ট নিতে আসা ছেলেটির বাবা।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম প্রব্লেম শুরু কখন থেকে?
----------------------- ----------------------- ------------------
তিনি জানান: আমাদের সাথে একদিন বেড়াতে গিয়েছিল,সেখান থেকে ফেরার পথে গাড়ীতে বসে কথাবার্তা বলছিল,হটাৎ করে দেখি সে নিশ্চুপ, তখন আমরা বিষয়টি লক্ষ করিনি ; কিন্তু তখন থেকেই প্রব্লেম শুরু।এরপর ডাক্তার দেখিয়েছি,ওজা - ফকির, কাউকে বাদ রাখেনি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
আমি ছেলেটির অভিভাবকদের সাথে বসলাম,আপনাদের ছেলের মারাত্মক বদ নজর লেগেছে এবং এর ইফেক্ট এতই সিরিয়াস যে, আপনারা নিজেই তার প্রমান পাচ্ছেন।
যাইহোক, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।ঘাবড়ানোর কিছুই নেই।এরপর তার উপর রুকইয়াহ শুরু করা হলো। প্রথম যখন তার উপর রুকইয়াহ করলাম, তখন কোন প্রতিক্রিয়া হলোনা।
পরে যখন আবার একটানা রুকইয়াহ করলাম। তখন কিছুক্ষণ পর তার প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো। সাথে সাথেই সে কিছুটা সাভাবিক হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ। সাথে দুই সপ্তাহের আমল বলে দিলাম এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বলে দিলাম।
তাদেরকে ধৈর্যের সাথে আমল করতে বললাম।দুইসপ্তাহের মধ্যেই আল্লাহর রহমতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে।
📌কিভাবে বদ-নজরের চিকিৎসা করবো? বিস্তারিত 👇
🌼আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো, বাচ্চাদের ওপর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথা কর্মস্থলের ওপর এবং গৃহপালিত পশু-পাখির উপর বদনজর লাগলে তা কাটানোর নিয়ম।
[১ম পদ্ধতি]
যদি আপনি জানেন যে, অমুক আপনার বাচ্চাকে/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে/পালিত পশু-পাখির উপর বদনজর দিয়েছে (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) তাহলে তাঁর কাছ থেকে অযুর পানি নিন। এরপর বাচ্চার/পশু-পাখির গায়ে ঢেলে দিন বা কর্মক্ষেত্রে ছিটিয়ে দিন। সাথে সাথে ইংশা আল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে। একইভাবে যেকোনো জিনিসের উপর কারও নজর লাগলে চিকিৎসা করতে পারবেন। আপনি নিজের নজর লাগলেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। (বাবা-মার বদনজর সন্তানের লাগে না এটা ভুল কথা।)
[২য় পদ্ধতি]
যদি বুঝতে না পারেন কে বদনজর দিয়েছে অথবা অনেকে বদনজর দিয়েছে মনে করেন অথবা অযুর পানি নেয়া সম্ভব না হয় তাহলে আক্রান্ত বাচ্চা, ব্যক্তি, পশু-পাখির মাথায় হাত রেখে নিচের সূরা ও দুয়াগুলো পড়বেন এবং মাঝে মাঝে ফুঁ দিবেন গায়ে। নিজের সমস্যার জন্য পড়তে চাইলে মাথায় বা বুকে হাত রেখে পড়বেন। অথবা পড়া শেষ করে ফুঁ দিবেন। এই সূরা ও দুয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি ঘরে, অফিসে, দোকানে, গাছে, খামারে ইত্যাদিতে ছিটিয়ে দিলেও ইংশা আল্লাহ বদনজর কেটে যাবে। পরপর কয়েকদিন করা যেতে পারে।
১.
أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উ”ঈযুকুম বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ। মিং কুল্লি শাইত্বা-নিও- ওয়াহা-ম্মাহ। ওয়ামিং কুল্লি “আঈনিল্লা-ম্মাহ।
২.
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
বিসমিল্লা-হি আরকীক। মিং কুল্লি শাইয়িই ইউ’যীক। মিং শাররি কুল্লি নাফসিন আও “আইনি হাসিদ। আল্লা-হু ইয়াশফীক। বিসমিল্লা-হি আরকীক।
৩.
بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
বিসমিল্লা-হি ইউবরীক। ওয়ামিং কুল্লি দা-ঈই ইয়াশফীক। ওয়ামিং শাররি হাসিদিন ইযা- হাসাদ। ওয়া শাররি কুল্লি যী “আঈন ।
৪.
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স। আযহিবিল বা’স । ইশফি ওয়াআংতাশ শা-ফী। লা-শিফাআ ইল্লা-শিফাউক। শিফাআল লা-ইউগা-দিরু সাক্বামা-।
এরপর সুরা ফাতিহা এবং আয়াতুল কুরসি ৩ বার। এবং সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার পড়বেন এরপর রুগীকে/নিজেকে ফুঁ দিবেন। চাইলে সুরা ফালাক নাস অনেকবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, সবধরনের রুকইয়াহ তে এগুলো বিশেষভাবে উপকারী।
সমস্যা বেশি হলে উল্লেখিত পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করা শেষে, আরেকবার এগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন খেতে হবে এবং গোসল করতে হবে। সমস্যা ভালো না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন করবেন এই দুটো কাজ। এছাড়া কোন অঙ্গে ব্যাথা থাকলে এসব দোয়া-কালাম পড়ে তেলে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন মালিশ করতে পারেন।
(শুধুমাত্র বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই না, আপনি অন্য কোনো ব্যক্তির উপর বদনজরের রুকইয়াহ করতে চাইলেও এই পদ্ধতি ফলো করবেন।)
উল্লেখিত সবগুলো দোয়া রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হাদিস থেকে নেয়া।
প্রাপ্তবয়স্ক কেউ নিজেই নিজের বদনজরের চিকিৎসা করতে চাইলে এই পোস্ট ফলো করবেন।
💊প্রাপ্তবয়স্ক যারা আপনারা উপরের পদ্ধতি ফলো করার পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল রাতে দুইবেলা সেলফ রুকইয়াহ তথা রুকইয়াহ অডিও তেলাওয়াত শুনতে পারেন। তাতে আপনি অধিক ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ্।
🌼 https://youtu.be/lV4cv24SYGg?si=QP75nLu9XI2KDjeJ
বদ-নজর দুর করার নিয়ত করে ওজু করে,দুরুদ পাঠ করে চক্ষু বন্ধ করে শুনতে হবে।
📌রুকাইয়া শুনতে গেলে হয়তো প্রচুর ঘুম আসবে,শরীরে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাথা, জ্বালাপোড়া শুরু হতে পারে,মেজাজ খিটখিটে হতে পারে,শুনতে অসহ্য লাগতে পারে, আপনার কন্ট্রোল ও চলে যেতে পারে...! এমন অবস্থায় আপনি ধৈর্য হারাবেন না, বরংচ আরো হিম্মত করে শুনবেন।
📌তিন সপ্তাহ উপরের নিয়ম গুলো পরিপুর্ণ ফলো করার পরে আমাদের Rukyah Helpline পেইজে মেসেজ করে আপডেট জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
রুকইয়াহ শরঈয়াহ সম্পর্কে আরো জানতে আমাদের ইনবক্সে মেসেজ করুন।
🌼 সদাকায়ে যারিয়ার নিয়তে পোস্ট শেয়ার করে দিতে পারেন।
جزاكم الله