রাজানগর রাণীরহাট ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদ

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • রাজানগর রাণীরহাট ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদ

রাজানগর রাণীরহাট ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদ Educational development of the people of society.

নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার অনন্য মর্যাদা আলোচক: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম আরবি প্রভাষক ও ইসলামী ...
28/08/2026

নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার অনন্য মর্যাদা

আলোচক: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম
আরবি প্রভাষক ও ইসলামী গবেষক

মানবজাতির ইতিহাসে অসংখ্য মহান ব্যক্তি আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কারও মর্যাদা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মর্যাদার সমকক্ষ নয়। তিনি শুধু একজন নবী নন; তিনি খাতামুন্নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ, আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল এবং সমগ্র উম্মতের হিদায়াতের পথপ্রদর্শক।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ

“আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।”
—সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:১০৭

এই একটি আয়াতই তাঁর রিসালাতের ব্যাপ্তি ও মহত্ত্বের এক অসাধারণ ঘোষণা। তাঁর রহমত কোনো নির্দিষ্ট জাতি, ভূখণ্ড কিংবা যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি আল-আলামীন—সমগ্র জগতের জন্য রহমত।

১. রাসূলুল্লাহ ﷺ—আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল

মহান আল্লাহ বলেন—

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ

“মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীগণের শেষ।”
—সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৪০

তিনি হলেন খাতামুন নাবিয়্যীন—নবীগণের সমাপ্তিদাতা। তাঁর পরে কোনো নতুন নবী আসবেন না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই ইরশাদ করেছেন—

وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَّ بَعْدِي

“আমি নবীগণের শেষ; আমার পরে কোনো নবী নেই।”
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

অতএব, তাঁর রিসালাতের প্রতি ঈমান রাখা এবং তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করা ঈমানের মৌলিক দাবি।

২. নূরনবী ﷺ—সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত

পূর্ববর্তী নবীগণ সাধারণত নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রিসালাত সর্বজনীন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا

“বলুন, হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল।”
—সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:১৫৮

আরও ইরশাদ হয়েছে—

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا

“আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।”
—সূরা সাবা, ৩৪:২৮

তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো একটি জাতির নবী নন; তিনি আরবের নবী নন, কেবল সপ্তম শতাব্দীর নবী নন—তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির রাসূল।

৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মর্যাদার অন্যতম বিস্ময়কর দিক হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে কুরআনে বহুবার পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন। শাহাদাতের বাণী—

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ

আযানে আল্লাহর একত্বের ঘোষণার সঙ্গে রাসূল ﷺ-এর রিসালাতের ঘোষণা যুক্ত হয়েছে।কুরআনে আল্লাহ বলেন—

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

“আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।”
—সূরা আশ-শরহ, ৯৪:৪

মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাআলা পৃথিবী ও আখিরাতে রাসূল ﷺ-এর স্মরণকে বিশেষভাবে সমুন্নত করেছেন। আজ পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মুখে প্রতিদিন তাঁর নাম উচ্চারিত হয়—আযানে, ইকামতে, সালাতে, দরুদে ও কালিমায়।

৪. আল্লাহ নিজেই নবী ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠ করেন

আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করো।”
—সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৬

এখানে লক্ষ্য করুন—আল্লাহ প্রথমে নিজে নবী ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠের কথা ঘোষণা করেছেন, তারপর ফেরেশতাদের উল্লেখ করেছেন, এরপর মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনন্য সম্মানের এক মহিমান্বিত নিদর্শন।

৫. নবী ﷺ-এর প্রতি আনুগত্য—আল্লাহর আনুগত্য

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ

“যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে অবশ্যই আল্লাহর আনুগত্য করল।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:৮০

আর ইরশাদ করেন—

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ

“বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১

সুতরাং আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার পথ হলো রাসূল ﷺ-এর অনুসরণ।

এখানে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা করা উচিত—আমরা কি সত্যিই নবী ﷺ-কে ভালোবাসি? যদি ভালোবাসি, তবে তাঁর সুন্নাহ আমাদের জীবনে কতটুকু?

৬. নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

“তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।”
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ... أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا

“তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমানের মাধুর্য লাভ করবে—তার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া...”
—সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

অতএব, নবী ﷺ-এর ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়; এটি ঈমানের প্রাণ।

৭. নবী ﷺ-এর চরিত্র—মহানতম চরিত্র
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—

وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ

“নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।”
—সূরা আল-কলম, ৬৮:৪

হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূল ﷺ-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন—

كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ

“তাঁর চরিত্রই ছিল কুরআন।”
—সহিহ মুসলিম

অর্থাৎ কুরআনের শিক্ষা তাঁর জীবনে বাস্তব রূপ লাভ করেছিল।

তিনি ছিলেন সত্যবাদিতার মূর্ত প্রতীক, আমানতের রক্ষক, ক্ষমার আদর্শ, দয়ার প্রতীক, ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠাতা এবং মানবতার মহান শিক্ষক।

৮. নবী ﷺ-এর প্রতি আল্লাহর শপথ

কুরআনে আল্লাহ তাআলা রাসূল ﷺ-এর জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ বলেন—

لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ

“আপনার জীবনের শপথ! তারা তাদের উন্মত্ততায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরছিল।”
—সূরা আল-হিজর, ১৫:৭২

মুফাসসিরগণ এ আয়াতে রাসূল ﷺ-এর জীবনের শপথের বিষয়টিকে তাঁর সম্মান ও মর্যাদার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৯. নবী ﷺ-এর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উঁচু করাও নিষিদ্ধ

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠের ওপর তোমাদের কণ্ঠ উঁচু করো না।”
—সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:২

এ আয়াত প্রমাণ করে, রাসূল ﷺ-এর প্রতি আদব ও সম্মান ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

আজ তাঁর দরবারে আমরা শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর নাম উচ্চারণের সময় সম্মান, বিনয় ও দরুদ-সালাম বজায় রাখা মুমিনের শিষ্টাচার।

১০. নবী ﷺ-এর সিদ্ধান্তের সামনে মুমিনের কোনো স্বাধীন বিরোধিতা নেই

আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ

“আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না নিজেদের পারস্পরিক বিরোধে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:৬৫

আরও বলেন—

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা নারীর সে বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকে না।”
—সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৩৬

অতএব, রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ মুমিনের জীবনের পথনির্দেশ।

১১. নবী ﷺ—উত্তম আদর্শ: আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”
—সূরা আল-আহযাব, ৩৩:২১

তিনি কেবল মসজিদের ইমাম ছিলেন না; তিনি ছিলেন—আদর্শ পিতা, আদর্শ স্বামী, আদর্শ শিক্ষক, আদর্শ দল প্রধান, আদর্শ বিচারক,
আদর্শ প্রতিবেশী, আদর্শ সেনাপতি এবং সর্বোপরি আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা ও রাসূল।তাই তাঁর সীরাত কোনো এক দিনের আলোচনার বিষয় নয়; বরং তা আমাদের সমগ্র জীবনের পাঠ্য।

১২. নবী ﷺ-এর আগমনে মানবতার মুক্তি: রাসূল ﷺ এমন এক সময় পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজে শিরক, কুসংস্কার, গোত্রবাদ, জুলুম, কন্যাশিশু হত্যা, মদ্যপান ও নৈতিক অবক্ষয় ব্যাপক ছিল।

তিনি তাওহিদের পতাকা উড্ডীন করলেন এবং মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করলেন।আল্লাহ তাআলা বলেন—

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ

“তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।”
—সূরা আল-জুমুআহ, ৬২:২

তিনি মানুষের আকীদা সংশোধন করেছেন, আত্মা পরিশুদ্ধ করেছেন, জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন এবং সভ্যতা নির্মাণ করেছেন।

১৩. রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ

“তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো।”
—সুনান আবু দাউদ, জামে তিরমিজি

সুতরাং রাসূল ﷺ-এর মর্যাদা আলোচনা করার প্রকৃত ফল তখনই আসবে, যখন আমরা তাঁর সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করব।

১৪. দরুদ শরিফের মহত্ত্ব: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا

“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন।”
—সহিহ মুসলিম

অতএব, আসুন আমরা আমাদের জিহ্বাকে দরুদে সিক্ত করি—

صَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّدٍ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

১৫. নূরনবী ﷺ-এর মর্যাদা ও আমাদের দায়িত্ব: সম্মানিত মুসল্লিগণ!রাসূল ﷺ-এর মর্যাদা যত মহান, তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্বও তত গভীর।

তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি—
১. আকিদায় তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করা।
২. তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা।
৩. বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা।
৪. তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা।
৫. তাঁর চরিত্র ধারণ করা।
৬. তাঁর সীরাত সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া।
৭. তাঁর আদর্শ অনুযায়ী পরিবার ও সমাজ গঠন করা।
৮. তাঁর আনীত দ্বীনকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করা।
শুধু মুখে ভালোবাসার দাবি নয়—জীবনে সুন্নাহর প্রতিফলনই ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ।

আমাদের আত্মসমালোচনা: আজ আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি—নবী ﷺ কি আমাদের ব্যবসায় আছেন? তিনি কি আমাদের পারিবারিক জীবনে আছেন?তিনি কি আমাদের লেনদেনে আছেন? তিনি কি আমাদের সামাজিক আচরণে আছেন?তিনি কি আমাদের ভাষায় আছেন? তিনি কি আমাদের চরিত্রে আছেন?
আমরা যদি সত্যিই নূরনবী ﷺ-কে ভালোবাসি, তাহলে তাঁর সুন্নাহ আমাদের জীবনকে আলোকিত করবে।

হে মুসলমান! তোমার নবী ﷺ-কে ভালোবাসো; কিন্তু শুধু আবেগে নয়—আনুগত্যে।‌ মহব্বত সহ তাঁর নাম উচ্চারণ করো—দরুদের সঙ্গে। তাঁর সীরাত পড়ো—শিক্ষা গ্রহণের জন্য। তাঁর সুন্নাহ পালন করো—নাজাতের প্রত্যাশায়। তাঁর চরিত্র গ্রহণ করো—মানবতার কল্যাণে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন উম্মত বানান, যাদের দেখে মানুষ রাসূল ﷺ-এর আদর্শের সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে। আমীন বিহুরমাতি সৈয়্যিদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

26/08/2026

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, হে নবী! আপনি বলুন, মুসলমানগণ আল্লাহর ফযল ও রহমত পাওয়ার কারণে যেন নির্মল খুশি ও আনন.....

26/08/2026

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শ্রেষ্ঠ ইবাদত|| মাওলানা মুুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল...

জুমার খুতবা: ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.): করণীয় ও বর্জনীয় মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম আরবি প্রভাষক ও ইসলামী গবেষক ঈদে...
20/08/2026

জুমার খুতবা: ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.): করণীয় ও বর্জনীয়
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম
আরবি প্রভাষক ও ইসলামী গবেষক

ঈদে মিলাদুন্নবী’র পরিচিতি
ক.শাব্দিক পরিচয়: ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ শব্দটি যৌগিক শব্দ, যা তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত । এক. ঈদ দুই. মিলাদ তিন. নবী। প্রথমত ঈদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ উৎসব, আনন্দ, খুশি। বিশ্ববিখ্যাত অভিধান প্রণেতা ইবনু মনযুর বলেন- العيد كل يوم فيه جمع অর্থ- ‘সমবেত হবার প্রত্যেক দিনকে ঈদ’ বলা হয়। মুফতি আমীমূল ইহসান আলাইহির রাহমাহ বলেন-العيد كل يوم فيه جمع او تذكار لذي فضل অর্থ- ‘কোন মর্যদাবান ব্যক্তিকে স্মরণের দিন বা সমবেত হবার দিনকে ঈদের দিন বলা হয়।’ দ্বিতীয়ত মিলাদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ জন্মকাল, জম্মদিন। এ অর্থে মাওলিদ (مولد) শব্দের ব্যবহার আরবি ভাষায় অত্যধিক। তৃতীয়ত নবী শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ দূত, অদৃশ্যের সংবাদ বা খবরদাতা ইত্যাদি। এখানে নবী বলতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে।

খ. ‘ঈদে মিলাদুন্নবীর পারিভাষিক পরিচয়: ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে এ ধরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আগমনে আনন্দিত হওয়া এবং এ অদ্বিতীয় নিয়ামত পাবার কারণে সৎকাজ ও ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করা।

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন
ক. কুরআন মজীদের আলোকে নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের নির্দেশ: মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে তার দেয়া নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি ইরশাদ করেছেন- فاذكروني اذكركم واشكروا لي ولاتكفرون অর্থ- ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না। তাই আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করা প্রত্যেক মানুষের ওপর কর্তব্য। শোকরিয়া জ্ঞাপনের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে, যা মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন।

নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের পদ্ধতি
১.নিয়ামতের স্মরণ: নিয়ামতের স্মরণ করাও শোকরিয়া জ্ঞাপনের একটি মাধ্যম। নিয়ামতের স্মরণ করার মাধ্যমে আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করা যায়। তাই মহান রব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন- يا بني اسرائيل اذكروا نعمتي التي انعمت عليكم ‘হে বণী ঈসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর যদ্দারা আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছিলাম’ তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেছেন-واذكروا نعمة الله عليكم অর্থ- তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর।’
২.নিয়ামতের বর্ণনা দেয়া : নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের আরেকটি মাধ্যম হল নিয়ামতের বর্ণনা দেয়া, অপরকে জানানো ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন- وأما بنعمة ربك فحدث অর্থ- ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা জানিয়ে দাও।’ এ আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন মানুষদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা বর্ণনা করে। ৩.ঈদ উদযাপন করা: আল্লাহর নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমেও নিয়ামতের শোকরিয়া করা যায়। যেমন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন- ربنا أنزل علينا مائدة من السماء تكون لنا عيدا لاولنا واخرنا واية منك অর্থ- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন; এটি আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হবে ঈদস্বরূপ এবং আপনার নিকট হতে নিদর্শন।’ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তায়ালার নিকট ফরিয়াদ করেছিলেন যেন তিনি তাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করেন। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন যে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ হলে তারা সে দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করবেন। মহান রাব্বুল আলামীন তাদের ওপর সেই নিয়ামত রবিবারে অবতীর্ণ করেছিলেন বিধায় তারা আজও রবিববারকে ঈদের দিন হিসেবে মেনে থাকে এবং এদিনকে তারা ছুটির দিন হিসেবেও পালন করে। কুরআন মজীদের এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার স্বীকৃতি রয়েছে; কারণ তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ঈদ উদযাপনের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর উক্তি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন এবং কোন প্রকার নিষেধ করেননি। এটি অবৈধ হলে তিনি অবশ্যই তা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করতেন। ৪.খুশি উদযাপন করা: আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হল নিয়ামতের ওপর খুশি উদযাপন করা। তাই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون অর্থ- ‘(হে রাসুল) আপনি বলুন, (সবকিছু) আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই প্রতি তারা (মুসলমান) যেন খুশি উদযাপন করে। তারা যা সঞ্চয় করছে তা থেকে এটিই শ্রেষ্ঠতর।’ এ আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন খুশি উদযাপনের দুটি উপকরণ সাব্যস্ত করেছেন। একটি হল (فضل) আর অপরটি হল (رحمة) । এতদুভয়ের মর্ম কী- এর ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত তাফসির বিশারদ আল্লামা মাহমূদ আলুসী , ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতী, ইমাম আবু হাইয়ান আনদুলসী আলাইহিমুর রাহমান স্ব-স্ব তাফসীর গ্রন্থের তাফসিরকারকদের শিরোমণি হযরত ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন যে এখানে فضل)) দ্বারা জ্ঞান এবং (رحمة) দ্বারা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য। আল্লামা ইবনু জাওযী (রহ.)বলেন- ان فضل الله العلم ورحمته محمد صلى الله عليه وسلم رواه الضحاك অর্থ- ‘নিশ্চয় আল্লাহর ‘ফদ্বল’ হল জ্ঞান আর ‘রহমত’ হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যা ইমাম দাহ্হাক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন। আল্লামা তিবরিসী উল্লিখিত আয়াতের অর্থ করতে গিয়ে বলেন- فافرحوا بفضل الله عليكم ورحمته لكم بإنزال هذا القرآن وإرسال محمد إليكم فانكم تحصلون بهما نعيما دائما مقيما هو خير لكم من هذه الدنيا الفانية অর্থ- ‘তোমাদের প্রতি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করে এবং কুরআন অবতীর্ণ করে আল্লাহ তায়ালা তোমদের ওপর যে দয়া ও করুণা করেছেন, তাতে তোমরা খুশি উদযাপন কর। কেননা উভয়ের (ফদ্বল ও রহমত) মাধ্যমে নিশ্চয় তোমরা চিরস্থায়ী নিয়ামত অর্জন করবে, যা এ নশ্বর পৃথিবী থেকে তোমাদের জন্য অধিকতর শ্রেয়।’ উল্লিখিত আয়াতে ‘রহমত’ দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহকে উদ্দেশ করে ইরশাদ করেছেন- وما أرسلناك إلا رحمة للعالمين ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা মাহমূদ আলূসী আলাইহির রাহমাহ প্রমুখের মতে ‘রহমত’ হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নাম। এ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত। এতে কারো দ্বিমত নেই। তাই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন- ولقد من الله على المؤمنين إذ بعث فيهم رسولا من أنفسهم অর্থ- ‘আল্লাহ মুমিনদের ওপর অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন।’ সুতরাং বুঝা গেল যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য বড় অনুগ্রহ ও নিয়ামত। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এ বড় অনুগ্রহ তথা রাসূলুল্লাহকে পাবার ওপর খুশি উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর রাসূলুল্লাহকে পাবার দিন হল ‘মিলাদুন্নবী’ এবং ‘মিলাদুন্নবী’ কে কেন্দ্র করে খুশি উদযাপন করাই হল ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ যা পালন করার নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন। দেওবন্দীদের গুরু মওলভী আশরাফ আলী থানভী সাহেব বলেন যে, “উল্লিখিত আয়াতে ‘রহমত’ও ‘ফদ্বল’ দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামাকে বুঝানো হয়েছে,যার জন্মের ওপর আল্লাহ তায়ালা খুশি উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ তিনি সকল নিয়ামতের মূল। তাই তাঁর আগমনে যতই খুশি উদযাপন করা হোক না কেন তা কমই হবে।” এ ছাড়াও উপরিউক্ত আয়াতের ‘রহমত’ শব্দ দ্বারা রাসূলুল্লাহকে খাস বা নির্দিষ্ট অর্থে বুঝানো না হলেও ‘আম’ বা ব্যাপক অর্থে তাঁকে বুঝাতে কারো দ্বিমত থাকতে পারে না; কারণ তিনি সৃষ্টি জগতের প্রতি আল্লাহর বড় রহমত। আল্লাহর অন্যান্য নিয়ামতের মত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা যেহেতু একটি নিয়ামত, সেহেতু তার আগমনের ওপর খুশি উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশ পালন মাত্র। আর রাসূলুল্লাহর জন্ম উপলক্ষে খুশি উদযাপন করার নামই হল ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’। অতএব কুরআনের আয়াত থেকে প্রমাণিত হল যে রাসূলের জন্ম উপলক্ষে খুশি উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত ।

খ.হাদিস শরিফের আলোকে: ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করা হাদিস শরিফ দ্বারাও প্রমাণিত হয়। রাসূলুল্লাহ নিজেও শোকরিয়া স্বরূপ এ ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করেছেন, ছাগল জবাই করে এবং রোযা রেখে। এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হল।
১.প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু বলেন- قدم النبي المدينة فرأى اليهود تصوم يوم عاشوراء فقال: ما هذا؟ قالوا: هذا يوم صالح هذا يوم نجى الله بني اسرائيل من عدوهم فصيامه موسى قال فأنا أحق بموسى منكم فصيامه وأمر بصيامه অর্থ- ‘নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা শরিফ আগমন করলেন এবং সেখানে ইয়াহুদিদেরকে আশুরার দিনে রোযা রাখতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন- এটা কিসের রোযা? তারা বলল, এটা উত্তম দিন, আর এ দিনেই আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে তাদের শত্র“দের থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এ দিনে রোযা রেখেছিলেন। রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমাদের চেয়ে মূসা আলাইহিস সালামের আমিই অধিকতর হক্বদার। অতঃপর তিনি স্বয়ং রোযা রাখলেন এবং তার উম্মতদের এ রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন।’
২.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অন্য হাদিসে বর্ণনা করেন- هذا اليوم الذي أظفر الله فيه موسى وبني اسرائيل على فرعون ونحن نصومه تعظيما له فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : نحن اولى بموسى منكم ثم امر بصومه ‘এ দিনেই আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং বনি ইসরাঈলদেরকে ফিরাউনের ওপর বিজয় দান করেছেন। আমরা এ দিনের সম্মানার্থে রোযা রাখছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-“আমরা তোমাদের চেয়ে মূসা আলাইহিস সালাম’র অধিকতর হক্বদার।” তারপর তিনি (মুমিনদেরকে)এ রোযা রাখার নির্দেশ দেন।’ উপরিউক্ত হাদিসদ্বয় থেকে যা বুঝা যায় – এক. ১০ মুহররম তারিখে আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং বনি ইসরাঈলকে ফিরাউন থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ কারণে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম রোযা রেখেছেন। সুতরাং আমরা সবচেয়ে বড় নিয়ামত রাসূলুল্লাহকে পাবার দিনকে স্মরণ করে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করি মিলাদুন্নবী উদযাপন মাধ্যমে। দুই. ইয়াহুদিরা নিয়ামত পাবার দিনকে স্মরণ করে প্রতি বছর একই দিনে রোযা রাখতেন। এ কথা রাসূলুল্লাহ জেনেও নিষেধ করেননি যে, তোমরা তো অনেক বছর পূর্বে নিয়ামত পেয়েছ, তা এখন স্মরণ করে প্রতি বছর রোযা রাখার প্রয়োজন নেই; বরং নিয়ামত পাবার দিনকে স্মরণ করার সমর্থন জানিয়েছেন। তিন. মূসা আলাইহিস সালাম’র মুক্তির দিনকে স্মরণ করে রাসূলুল্লাহ স্বয়ং নিজেও রোযা রেখেছেন এবং তাঁর উম্মতদেরকে এ রোযা রাখার নির্দেশ দেন। সুতরাং নিয়ামতের দিনকে সৎকাজের মাধ্যমে স্মরণ করা রাসূলুল্লাহকে পাবার দিনকে স্মরণ করে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করা স্বয়ং রাসুলুল্লাহর সুন্নাত। এ হাদিস শরিফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহর রহমত পাবার কারণে বা কোন বিপদ থেকে মুক্তি লাভের পর আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করা বৈধ। প্রতি বছর সেই একই দিনে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করা যাবে আর আল্লাহ তায়ালার শোকরিয়া জ্ঞাপন বিভিন্ন রকম ইবাদতের মাধ্যমে করা যায় যেমন নামায, রোযা, সদকা এবং কুরআন তিলাওয়াত। আমাদের জন্য যেদিন নবী করিম রাহমাতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আগমন করেছেন সেদিনের চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে? উল্লিখিত বর্ণনা থেকে বুঝা গেল যে, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম ইবনু হাজর আসকালানী আলাইহির রাহমাহ আশুরার হাদিস ‘ঈদে মিলাদুন্নবীউদযাপনের গ্রহণযোগ্য ভিত্তি বলেছেন এবং তা প্রতি বছর পালনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সুতরাং ঈদে মিলাদুন্নবী দযাপন করা শরিয়ত সম্মত একটি সৎকাজ।
৩. হযরত আবু ক্বাতাদাহ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন- إن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الاثنين قال: ذاك يوم ولدت فيه ويوم بعثت او أنزل على فيه অর্থ- ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামকে সোমবারে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, সেদিন আমার জন্ম হয়েছে, আমি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি এবং আমার ওপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।’ উল্লিখিত হাদিস শরিফ থেকে বুঝা গেল যে, রাসূলুল্লাহ সোমবারে রোযা রাখতেন। সাহাবায়ে কিরাম এর কারণ জানতে চাইলে তিনি ইরশাদ করেন যে, সেদিন তার জন্মদিন ও নবুয়ত প্রকাশের দিন। তার ওপর আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করে তিনি প্রতি সোমবার আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে রোযা রাখতেন। তিনি জন্মদিনে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করতেন। সুতরাং আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ উদযাপন করা রাসূলুল্লাহর সুন্নাত।
৪. হযরত আউস বিন আউস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- أن من أفضل اياكم يوم الجمعة فيه خلق آدم অর্থ- ‘তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে শুক্রবার শ্রেষ্ঠতর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন- أن يوم الجمعة يوم عيد অর্থ- ‘নিশ্চয় শুক্রবার হল ঈদের দিন।’ উল্লিখিত হাদিসসমূহ থেকে বুঝা গেল যে, শুক্রবার হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার কারণে সেদিনকে উত্তম দিন এবং ঈদের দিন বলা হয়েছে। সুতরাং যেদিন সৃষ্টি জগতের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নবীর আগমন হয়েছে, সেদিনকে কেন ঈদের দিন হিসেবে মানা যাবে না?
৫. হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন- إن النبي صلى الله عليه وسلم عق عن نفسه بعد النبوة অর্থ- নবুয়ত প্রকাশের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আক্বীক্বাহ করেছেন। ’ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ইমাম জালাল উদ্দিন সূয়ূতী (রাহ.) বলেন- ان جده عبد المطلب عق عنه في سابع ولادته والعقيقة لاتعاد مرة ثانية فيحمل ذلك على أن الذي فعله النبي صلى الله عليه وسلم إظهارا للشكر على إيجاد الله تعالى رحمة للعالمين وتشريفا لامته كما كان يصلي على نفسه لذلك فيستحب لنا ايضا إظهار الشكر بمولده باجتماع الاخوان وإطعام الطعام ونحو ذلك من وجوه القربات وإظهار المسرات অর্থ- ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র দাদা রাসুল্ল্লুাহ জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর আক্বীক্বাহ সম্পন্ন করেছেন। বস্তুত: আক্বীক্বাহ্ দু’বার হয় না। সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয়বার আকীকাহ তথা ছাগল জবাই করেছেন আল্লাহ তায়ালার শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে। কেননা, আল্লাহ তায়ালা তাকে ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’ এবং উম্মতের কাছে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে নিজের ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করতেন। অতএব রাসূলুল্লাহর জন্ম উপলক্ষে মুসলিম ভাইদের একত্র হবার মাধ্যমে, খাবার খাওয়ানো, অন্যান্য ইবাদত পালন এবং ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করা ও খুশী প্রকাশ করা আমাদের জন্যও মুস্তাহাব।’ উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে বুঝা গেল যে, রাসূলুল্লাহর জন্ম উপলক্ষে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ উদযাপন করা স্বয়ং রাসুলুল্লাহর সুন্নত আর আমরা এ সুন্নাতের উপরই আমল করি। এ ব্যাখ্যা বর্তমান সময়ের নয়; বরং শত শত বছর পূর্বের যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফিকাহবিদ ও ইতিহাসবিদের।

মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে কী কী করা উচিত?
শরিয়তসম্মত নেক আমল ও নবী ﷺ-এর সীরাত অনুসরণের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া যায়—
১. বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ
اللهم صل وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
২. কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন
৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাত পাঠ ও আলোচনা
৪. তাঁর উত্তম চরিত্র অনুশীলন
৫. গরিব-অসহায়দের খাদ্য ও বস্ত্র প্রদান
৬. নফল ইবাদত ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়
৭. পরিবারে নবী ﷺ-এর জীবন ও শিক্ষা আলোচনা
৮. সন্তানদের হৃদয়ে রাসূল ﷺ-এর ভালোবাসা সৃষ্টি করা
৯. সুন্নাহকে জীবনে বাস্তবায়ন করা
১০. সমাজ থেকে অন্যায়, অশ্লীলতা, মাদক, প্রতারণা ও হিংসা দূর করার চেষ্টা করা
১০. মিলাদুন্নবী পালনে যে বিষয়গুলো অবশ্যই বর্জনীয়
নবী ﷺ-এর সম্মান ও ভালোবাসার নামে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা শরিয়তের বিধানের বিরোধী। যেমন—
ফরজ নামাজ অবহেলা করা; অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা; নারী-পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা;
গান-বাজনা বা হারাম বিনোদন; অপচয় ও লোকদেখানো; অন্য মুসলমানকে গালি বা অপমান করা; নবী ﷺ-এর মর্যাদা রক্ষার নামে শরিয়তবিরোধী আচরণ করা। কারণ নবী ﷺ-এর ভালোবাসার নামে এমন কিছু করা চলে না যা তাঁরই শিক্ষা ও সুন্নাহর বিরোধী।

মতভেদে মুসলিমদের করণীয়
ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের পদ্ধতি ও শরয়ী অবস্থান নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ বিষয়টি আলোচনা করতে গিয়ে পরস্পরকে গালি দেওয়া, ফাসিক/কাফির বলা কিংবা মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
যে বিষয়ে মতভেদ আছে, সেখানে জ্ঞান, আদব, দলিল ও সহনশীলতার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আর যেসব বিষয় সর্বসম্মত—নবী ﷺ-এর ভালোবাসা, তাঁর ওপর দরুদ পাঠ, তাঁর সীরাত অধ্যয়ন, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর চরিত্র ধারণ—এসবকে সামনে আনতে হবে।

মিলাদুন্নবীর বার্তা
সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম!
আজ আমাদের ঘরে যদি নবী ﷺ-এর সুন্নাহ না থাকে, ব্যবসায় যদি আমানতদারি না থাকে, কথায় যদি সত্যবাদিতা না থাকে, পরিবারে যদি রহমত না থাকে, সমাজে যদি ন্যায়বিচার না থাকে—তাহলে শুধু একটি অনুষ্ঠান করলেই নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার দাবি পূর্ণ হবে না।
মিলাদুন্নবীর প্রকৃত বার্তা হলো—
নামাজে নবী ﷺ, চরিত্রে নবী ﷺ, ব্যবহারে নবী ﷺ, ব্যবসায় নবী ﷺ, পরিবারে নবী ﷺ, সমাজে নবী ﷺ-এর আদর্শ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا
“রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং তিনি যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” —সূরা আল-হাশর, ৫৯:৭
আর এটাই হলো প্রকৃত অনুসরণ। আল্লাহ তাআলা আমাদের আমল করার তাওফীক দান করুন আমীন বিহুরমাতি সৈয়্যিদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

নামায তত্ত্ব: নামক গ্রন্থে☑️ নামাজের প্রকৃত তাৎপর্য ও নিগূঢ় রহস্য কি?☑️ ৫ ওয়াক্তে (সময়ে) কেন নামাজ ফরজ হলো?☑️ নামাজের র...
17/08/2026

নামায তত্ত্ব: নামক গ্রন্থে
☑️ নামাজের প্রকৃত তাৎপর্য ও নিগূঢ় রহস্য কি?
☑️ ৫ ওয়াক্তে (সময়ে) কেন নামাজ ফরজ হলো?
☑️ নামাজের রাকাত সংখ্যা ২-৩-৪-এর রহস্য কি?
☑️ নামাজে কেবলামুখী হওয়া জরুরি কেন?
☑️ কেবলা পরিবর্তনের রহস্য কী?
☑️ নামাজ তাকবিরে তাহরিমা দ্বারা কেন শুরু করা হয়?
☑️ তাকবির বলার সময় হাত কেন উত্তোলন করা হয়?
☑️ নামাজে হাত বেঁধে দাঁড়ানোর হিকমত কী?
☑️ নামাজের শুরুতে সানা পড়া হয় কেন?
☑️ নামাজে আলহামদুলিল্লাহ কেন পড়া হয়?
☑️ আলহামদুর পর সুরা মেলানোর রহস্য কি?
☑️ রুকুতে অবনত হওয়ার রহস্য কী?
☑️ সেজদা করার রহস্য কী?
☑️ নামাজের প্রতি রাকাতে দুটি করে সেজদা কেন?
এরূপ হাজারো জানা অজানা তত্ত্ব ও রহস্যমূলক প্রশ্নের জবাব রয়েছে বক্ষমান গ্রন্থটিতে।
আপনার কপি আজই সংগ্রহ করুন।
প্রিমিয়াম কোয়ালিটি ছাপা এ গ্রন্থটি উপহার দিতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
ফোন : 01815145793

জুমার খুতবাফিতনার আগ্রাসন থেকে ঈমানের সুরক্ষা: পরিবার, নারী ও যুবসমাজের করণীয়মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম আরবি প...
13/08/2026

জুমার খুতবা

ফিতনার আগ্রাসন থেকে ঈমানের সুরক্ষা: পরিবার, নারী ও যুবসমাজের করণীয়
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম
আরবি প্রভাষক ও ইসলামী গবেষক

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম!
আজকের জুমার আলোচনার বিষয়—“ফিতনার আগ্রাসন থেকে ঈমানের সুরক্ষা: পরিবার, নারী ও যুবসমাজের করণীয়।”

মানুষের জীবনে সম্পদ হারানো বড় ক্ষতি, সম্মান হারানো বড় বিপদ; কিন্তু ঈমান হারানো সর্বনাশের চূড়ান্ত পর্যায়। দুনিয়ার সম্পদ পুনরায় অর্জন করা যায়, হারানো সম্মানও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফিরে পাওয়া যায়; কিন্তু ঈমান নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের আখিরাত বিপন্ন হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর।” —সূরা আত-তাহরীম, ৬

এই আয়াত আমাদের সামনে একটি বিশাল দায়িত্ব স্থির করে দিয়েছে—নিজের ঈমান রক্ষা এবং পরিবারের ঈমান রক্ষা।

ফিতনা কী?

আরবি “ফিতনা” (الفتنة) শব্দের মধ্যে পরীক্ষা, বিপর্যয়, বিভ্রান্তি ও ঈমানের ওপর আঘাতের অর্থ রয়েছে।

ফিতনা কখনো আসে অর্থের মাধ্যমে, কখনো ক্ষমতার মাধ্যমে, কখনো যৌবনের আকর্ষণের মাধ্যমে, কখনো ভুল মতাদর্শের মাধ্যমে, কখনো প্রযুক্তির মাধ্যমে, আবার কখনো সম্পর্কের নামে।
আজকের যুগে ফিতনার একটি বড় দরজা হলো—
অপরিচিত মানুষের সঙ্গে অবাধ যোগাযোগ, গোপন সম্পর্ক, আবেগের অপব্যবহার, অনলাইন প্রতারণা এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি।
তবে মনে রাখতে হবে—কোনো একটি ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের প্রত্যেক ব্যক্তিকে অপরাধী বলা ইসলামসম্মত নয়। আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন।

وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ

“কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা ন্যায়বিচার করো; এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।” —সূরা আল-মায়িদাহ, ৮

অতএব আমাদের সতর্কতা হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়।

আমাদের করণীয়
১) ঈমান ও আকিদার জ্ঞান অর্জন : যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন সম্পর্কে জানে না, তাকে বিভ্রান্ত করা সহজ। আজ আমাদের অনেক সন্তান দুনিয়ার শিক্ষা অর্জন করছে, কিন্তু নিজের আকিদা, কালিমা, নামাজ, কুরআন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করছে না।ফলে কেউ যদি সুন্দর ভাষায় বলে—
“তোমাদের ধর্মে এটা কেন?”
“আমাদের ধর্মে তো ভালোবাসা আছে।”
“তোমার পরিবার তোমাকে বোঝে না।”
“তুমি আমাকে বিশ্বাস করো।”
তখন আবেগের কারণে একজন দুর্বল জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ নিজের বিশ্বাস নিয়েই সংশয়ে পড়তে পারে।তাই পরিবারে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আকিদা শিক্ষা চালু করতে হবে।

২) সম্পর্কের স্তর শরিয়তের সীমায় রাখতে হবে
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ

“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।”—সূরা আন-নূর, ৩০
পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরও দৃষ্টি সংযত রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
লক্ষ করুন—ইসলাম শুধু চূড়ান্ত পাপ নিষেধ করেনি; বরং পাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন পথও বন্ধ করতে বলেছে।

তাই—অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত চ্যাট, গোপন ফোনালাপ, আবেগঘন মেসেজ, একান্ত সাক্ষাৎ, ব্যক্তিগত ছবি বিনিময়, গোপন ভিডিও কল এবং পরিবারের কাছ থেকে সম্পর্ক লুকানো— প্রভৃতি বিষয়ে মুসলিম যুবক-যুবতীদের সতর্ক হতে হবে।
৩) গোপন সম্পর্কের বিপদ বুঝতে হবে: প্রতারণামূলক সম্পর্ক সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না।
প্রথমে— “বন্ধুত্ব” তারপর— “শুধু কথা বলি” তারপর—“তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি বোঝো” তারপর—“আমাদের সম্পর্কের কথা কাউকে বলো না।” এভাবে আবেগের নির্ভরতা তৈরি হতে পারে।
কেউ যদি বারবার বলে—

“তোমার পরিবার তোমার শত্রু, শুধু আমিই তোমার আপন।”

তাহলে সতর্ক হতে হবে। কারণ সুস্থ সম্পর্ক মানুষকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় না; বরং সম্মানজনক ও বৈধ সম্পর্ক স্বচ্ছতার পথে এগিয়ে যায়।
৪) ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের বিষয়ে আবেগ নয়, জ্ঞান
ইসলাম ঈমানকে মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ

“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অনুসন্ধান করবে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না।” —সূরা আলে ইমরান, ৮৫

তাই মুসলিম সন্তানদের ইসলাম সম্পর্কে এমন জ্ঞান দিতে হবে, যাতে তারা প্রশ্নের উত্তর জানতে পারে, যুক্তি বুঝতে পারে এবং নিজের ঈমানের ব্যাপারে সচেতন থাকে।

তবে ইসলাম কাউকে ধর্ম গ্রহণে জবরদস্তি অনুমোদন করে না—
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ

“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।”—সূরা আল-বাকারা, ২৫৬

অতএব মুসলমানের কাজ হলো নিজের ঈমান রক্ষা করা এবং হিকমতের সঙ্গে সত্যের দাওয়াত দেওয়া, জবরদস্তি বা সহিংসতা নয়।

৫) নারীকে শুধু পাহারা নয়, ঈমানের শক্তি দিতে হবে: আমাদের কন্যা ও বোনদের নিয়ে শুধু “সাবধান” বললে হবে না। তাদেরকে দিতে হবে—ঈমানের শিক্ষা,
আত্মমর্যাদার শিক্ষা, সঠিক-ভুল সম্পর্ক বোঝার শিক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তার শিক্ষা,
এবং পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগের সুযোগ ইত্যাদি।

একজন মেয়ে যদি কোনো সমস্যায় পড়ে মায়ের কাছে বলতে ভয় পায়, বাবার কাছে বলতে ভয় পায়, ভাইয়ের কাছে বলতে ভয় পায়—তাহলে সে বাইরের কারও কাছে মানসিক আশ্রয় খুঁজতে পারে। তাই পরিবারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করুন—
“ভুল করলেও বাড়িতে ফিরে আসতে পারবে।”
এই নিরাপত্তা অনেক বিপদ থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে পারে।
৬) অভিভাবকের দায়িত্ব: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিসে পরিবারসহ প্রত্যেকের দায়িত্বের কথা এসেছে।অতএব পিতা-মাতার দায়িত্ব শুধু সন্তানের খাবার, পোশাক ও পড়াশোনা নিশ্চিত করা নয়; তার ঈমান, চরিত্র, বন্ধুত্ব, মানসিক অবস্থা ও নৈতিক পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়া।
৭) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতা:
আজ ফিতনার একটি বড় মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। একটি অপরিচিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচয় হতে পারে। পরিচয়ের পর বন্ধুত্ব, বন্ধুত্বের পর আবেগ এবং আবেগের পর এমন সিদ্ধান্ত—যা সারাজীবনের অনুশোচনার কারণ হতে পারে।
তাই— অপরিচিত ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও পাঠাবেন না। পাসওয়ার্ড ও OTP কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। গোপন সম্পর্ক তৈরি করবেন না।
বিয়ের প্রস্তাব হলে পরিবারকে জানান।
সন্দেহজনক যোগাযোগ হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরামর্শ নিন।

৮) প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন?

এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

কেউ যদি ইতোমধ্যে কোনো প্রতারণামূলক সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে, তাকে গালাগালি করে বা অপমান করে আরও দূরে ঠেলে দেবেন না। বরং—
১. তার কথা শান্তভাবে শুনুন।
২. তাকে নিরাপদ পরিবেশ দিন।
৩. প্রতারণার প্রমাণ থাকলে সংরক্ষণ করুন।
৪. ব্ল্যাকমেইল বা হুমকি থাকলে বিষয়টি গোপন না করে আইনসম্মত সহায়তা নিন।
৫. প্রয়োজনে বিশ্বস্ত আলেম, পরিবার, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।
৬. ভুল সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করুন।
৭. তওবা ও দ্বীনের দিকে ফিরে আসতে উৎসাহিত করুন।
ভুল করেছে বলে একজন মানুষকে শেষ করে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়াও ইসলামী দায়িত্ব।
৯) ঘৃণা নয়, ন্যায় ও হিকমত:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

“তোমার রবের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।” —সূরা আন-নাহল, ১২৫

অতএব ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের ভাষা হবে মার্জিত। কোনো ব্যক্তির অপরাধ থাকলে অপরাধের প্রতিবাদ হবে, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে অপবাদ, বিদ্বেষ বা হামলা হবে না। ইসলামের শক্তি হলো—সত্য, ন্যায়, জ্ঞান, চরিত্র ও প্রজ্ঞা।

যুবকদের প্রতি আহ্বান:

হে প্রিয় যুবসমাজ! তোমাদের যৌবন আল্লাহর আমানত। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সুন্দর কথা, আকর্ষণীয় ছবি, মিষ্টি ভাষা কিংবা আবেগঘন আচরণ দেখে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করো না। মনে রেখো—যে সম্পর্ক আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয়, তা ভালোবাসা নয়—পরীক্ষা।
যে সম্পর্ক তোমাকে নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে, মিথ্যা বলতে শেখায় এবং গোপনীয়তার ওপর দাঁড়ায়—সেটি থেকে দূরে থাকো।

আসুন, হে মুসলিম উম্মাহ! আজ আমাদের তিনটি অঙ্গীকার করা দরকার—
ক. নিজের ঈমান রক্ষা করব: কুরআন-সুন্নাহ শিখব, আকিদা শিখব, নামাজ কায়েম করব এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করব।
খ. পরিবারকে রক্ষা করব: সন্তানের সঙ্গে কথা বলব, তার বন্ধু ও অনলাইন জগত সম্পর্কে সচেতন থাকব এবং তাকে ভালোবাসা ও ঈমানের পরিবেশ দেব।
গ. ফিতনার মোকাবিলা করব জ্ঞান ও হিকমতের মাধ্যমে: গুজব ছড়াব না, কাউকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করব না, আইন নিজের হাতে তুলে নেব না; বরং প্রয়োজন হলে আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তওবার দরজা খোলা
যে যুবক বা যুবতী কোনো ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে, তার জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ

“তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”
—সূরা আয-যুমার, ৫৩
তাই আজকের জুমা হোক ফিরে আসার জুমা।
হারাম সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার জুমা। গাফেলত থেকে ফিরে আসার জুমা।
অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে ফিরে আসার জুমা।

আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসার জুমা।

দোয়া

اللَّهُمَّ احْفَظْ إِيمَانَنَا وَإِيمَانَ أَوْلَادِنَا وَأَهْلِنَا.

হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান, আমাদের সন্তান-সন্ততি ও পরিবারের ঈমান হেফাজত করুন।

اللَّهُمَّ احْفَظْ شَبَابَنَا وَنِسَاءَنَا مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ.

হে আল্লাহ! আমাদের যুবক-যুবতী ও নারীদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।

اللَّهُمَّ ارْزُقْنَا الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى.

হে আল্লাহ! আমাদের হেদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও আত্মমর্যাদা দান করুন।

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ شَبَابَ الْمُسْلِمِينَ وَنِسَاءَهُمْ، وَاحْفَظْهُمْ مِنْ سُوْءِ الْفِتَنِ وَالضَّلَالَاتِ.

হে আল্লাহ! মুসলিম যুবসমাজ ও নারীদের সংশোধন করুন এবং সব ধরনের ফিতনা ও বিভ্রান্তি থেকে তাদের রক্ষা করুন।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا.

হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.

হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতে কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রাজানগর রাণীরহাট ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share