31/07/2026
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
জুম্মা মোবারক 💝💝
➤➤➤➤ *সংক্ষেপে* *দুরূদ* *শরীফের* *কয়েকটি* *অসাধারণ* *ফজিলত*-----
০১.
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থিব জীবনে আমার ওপর অত্যাধিক দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে কিয়ামতের ভয়-ভীতি ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকবে। (আল্লামা ইসপাহানি,আত তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস নং: ১৬৮৭)।
০২.
হযরত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলে করিমকে ইরশাদ করতে শুনেছেন। রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর দশটি রহমত নাযিল করেন, তাঁর দশটি পাপ মোচন করে দেন এবং তাঁর দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
[ইমাম নাসায়ি, আস সুনানুল কুবরা, হাদিস নং: ৯৮০৭]।
০৩.
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর দিনে এক হাজার বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, সে তাঁর জান্নাতের ঠিকানা না দেখা পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করবে না।
[আল্লামা মুনযিরি, আত তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস নং: ২৫৭৯]।
০৪.
হযরত তুফাইল ইবন উবাই রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তাঁর পিতা উবাই ইবন কা’ব থেকে বর্ণনা করেন। উবাই ইবন কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পরে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বলতেন, হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করো,তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করো। প্রথম শিংগা ধ্বনির সময় ঘনিয়ে আসছে,যাকে অনুসরণ করে পরবর্তী শিংগা ধ্বনিত হবে। মৃত্যু তার সব (ভয়াবহতা) নিয়ে সমাগত হয়, মৃত্যু তার সবকিছু নিয়ে সমাগত হয়। হযরত উবাই ইবন কা’ব বলেন, হে আল্লাহ’র রাসুল, আমি আপনার ওপর অধিকহারে দরূদ শরীফ পাঠ করে থাকি। আমার (ওয়াজিফা'র)সময়ের কতটুকু আপনার প্রতি দুরূদ পাঠে ব্যয় করব? তিনি ইরশাদ করেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। আমি ( উবাই) বললাম, আমার একচতুর্থাংশ সময়? তিনি ইরশাদ করেন, তোমার যা ইচ্ছা; তবে বেশি পারলে, তা আরো ভালো হবে। আমি (উবাই) বললাম,আমার অর্ধেক সময়? তিনি ইরশাদ করেন, তোমার যা ইচ্ছা; তবে আরো বেশি পারলে, তা তোমার জন্যে আরো ভালো। আমি ( উবাই) বললাম,আমার সময়ে দুই তৃতীয়াংশ সময়? তিনি ইরশাদ করেন, তোমার ইচ্ছা, তবে আরো বাড়াতে পারলে ,তা তোমার জন্য কল্যাণকর। আমি (উবাই) বললাম, তাহলে কি আমার সবটুকু সময় আপনার ওপর দুরূদ পাঠে ব্যয় করবো? তিনি ইরশাদ করেন, তাহলে তো তোমার (উভয় জগতের) চিন্তামুক্তির জন্যে যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।
[তিরমিযি শরিফ, হাদিস নং: -২৬৪৫]।
০৫.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পার্থিব জীবনে আমার প্রতি অত্যাধিক দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আমার সর্বাধিক নিকটে থাকবে।
[ইমাম তিরমিযি, সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং::৪৮৪]।
০৬.
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান,যে (ব্যক্তি) আমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তাঁর ওপর দশটি রহমত নাযিল করেন।যে আমার ওপর দশবার দুরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি একশত রহমত নাযিল করেন। আর যে আমার ওপর একশ বার দরূদে পাক প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর উভয় চোখের মধ্যখানে লিপিবদ্ধ করে দেন, এ বান্দা নিফাক ও দোযখের আগুন থেকে মুক্ত। আর কিয়ামতের দিন তাঁকে শহীদদের সাথে রাখবেন।
(মুজামুল আওসাত, ৫ম খন্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৭২৩৫)।
০৭.
মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীস শরীফের অংশবিশেষ:-
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি আমার উপর এক বার দরূদে পাক পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য এক ‘ক্বীরাত’পরিমাণ সাওয়াব লিখে দেন। ক্বীরাত হচ্ছে: উহুদ পর্বতের সম-পরিমাণ।
(মুসান্নিফে আবদুর রাজ্জাক, ১ম খন্ড,৩৯ পৃষ্ঠা,হাদীস- ১৫৩)।
০৮.
জুমার দিন ও রাতে দুরূদ শরীফ পাঠের ফজিলত।
"হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইরশাদ করেছেন: “জুমার দিন ও(বৃহস্পতিবার দিবাগত) জুমার রাতে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দুরূদ শরীফ পাঠ করো। কেননা যে এমনটি করবে, আমি কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশকারী ও সাক্ষী হবো।"
(শুয়াবুল ঈমান,৩য় খন্ড, ১১১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩০৩৩)
০৯.
"খাদিমে নবী হযরত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,মহানবী সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লামা ইরশাদ ফরমান,তোমাদের মধ্যে যাঁরা দুনিয়ায় আমার প্রতি অধিকহারে দুরূদ শরীফ পাঠ করবে,ক্বিয়ামতের দিন প্রতিটি স্থানে তাঁরা আমার সর্বাধিক নিকটে থাকবে।
জুমার দিন ও (বৃহঃস্পতিবার দিবাগত)জুমাবার রাতে যিনি আমার প্রতি১০০বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে,তাঁর ৭০টি পরকালীন ও ৩০টি ইহকালীন সর্বমোট১০০টি চাহিদা পূরণ করা হবে।
এ ব্যাপারে (দুরূদ শরীফ সংক্রান্ত বিষয়ে) আল্লাহ তা'য়ালা একজন ফেরেশতাকে দায়িত্ব প্রদান করেন, যিনি তা (পঠিত দুরূদ শরীফ) নিয়ে আমার রাওজায়ে পাকে এমনভাবে আসেন, যেভাবে তোমাদের কাছে কেউ হাদিয়া নিয়ে আসে। তিনি আমার প্রতি দুরূদ পাঠকারীর নাম, বংশ এমনকি আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কেও আমাকে অবিহিত করেন। অত:পর আমি তা আমার একটি সাদা পুস্তিকায় লিখে রাখি।"
(শোয়াবুল ইমান,৩য় খন্ড, ১১১পৃষ্ঠা, হাদীস শরীফ নং৩০৩৫)।
ইমাম শাযলি আলাইহির রাহমাহ্ বলেন,
“রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা'র সাথে স্বপ্নে আমার সাক্ষাত হলে আমি জিজ্ঞেস করি, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,
‘যে ব্যক্তি আপনার প্রতি একবার দুরূদ শরিফ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর দশটি রহমত নাযিল করেন’-
এ ফযিলত কি একাগ্রচিত্তে দুরূদ পাঠকারীর জন্যে প্রযোজ্য? রাসুলে করিম ইরশাদ করেন, “না”, বরং অন্যমনষ্ক প্রত্যেক দুরূদ পাঠকারীর জন্যে প্রযোজ্য। আল্লাহ তায়ালা ওই পাঠকারীর জন্যে পাহাড়সম ফেরেশতাদেরকে নিয়োজিত করে দেন। যাঁরা তাঁর জন্যে প্রার্থনা করেন এবং ক্ষমা চান। আর একাগ্রচিত্তে দরূদ পাঠকারীর প্রতিদান কী হবে, তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।”[ইমাম শা’রানি,আত তাবাকাতুল কুবরা,পৃ.২৯৬]
আসুন আমরা প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার প্রতি দৈনিক কমপক্ষে ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করি। সম্ভব হলে প্রতি ওয়াক্তে ১০০বার বা এর বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করি।আমীন।
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺻَﻞِّ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﻴِّﺪِﻧَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﺳَﻴِّﺪِﻧَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻭَ ﺳَﻠِّﻢ
➤➤ কয়েকটি সংক্ষিপ্ত দুরূদ শরীফ--
১.আল্লাহুম্মা সল্লি আলা ছাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আলি ছাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ, ওয়া বা-রিক ওয়া ছল্লিম।
২. আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া ছল্লিম আলা নবীয়্যিনা মুহাম্মাদ।
৩. আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নবীয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া ছল্লিম তছলিমান।
৪. সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ছাল্লামা।***
**সংগৃহীত**