29/03/2026
বাসন্তী পুজোর অষ্টমী , নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে তখন কুমারী পুজো চলছে। সেজেগুজে বসা কুমারীকে লাগছে বেশ, হঠাৎ সেই ছোট্ট মা কেঁদে ফেলল। মঠের মহারাজ তখন সব ছেড়ে ছোট্ট আদ্যাশক্তিকে ভোলাতে লাগলেন, দেখতে লাগলেন যাতে তার কোনোরকম অসুবিধা না হয়। শিশুটিকে কিছু খাওয়ার কথা বললে সে তরমুজ দেখালো, মহারাজ তাই দিলেন।
এ দৃশ্য আমাকে বেশ ভাবালো। এই যে আমরা সর্বদা নিজেদের মায়ের সন্তান বলি, কখনো কি ভেবে দেখেছি মায়ের স্বরূপ শুধু এটাই নয়। মা নিজেও এক চঞ্চল শিশু, যিনি বিভিন্ন প্রকারে প্রতিকূলতা তৈরি করছেন, দেখতে চাইছেন আমরা অভিভাবক হয়ে কেমনে তার সমাধান করি! ঘরের ছোট্ট সদস্যটি যখন ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতে বসে, তখন ঘরের অন্যান্য বড়রা তাকে খেলনা দিয়ে অথবা নানা অঙ্গভঙ্গি করে তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করি! তাতে সফল হলে সেই শিশুটি যখন হাসে, তখন সেই বড়দের মুখেও হাসি আসে, তৃপ্তি আসে। সাধনাও তাই। শিশুসুলভ দেবীকে আমরা নানাভাবে সন্তুষ্ট করতে বিভিন্ন উপাচারের সাহায্য নিই। দেবীর সন্তুষ্টিতে সাধকের সন্তুষ্টি । আবার এই ক্রন্দনরত শিশুকে ভোলাতে গিয়ে বড়রাও বিভিন্ন শিশুসুলভ আচরণ করেন যাতে তার মুখে হাসি আসে। প্রকৃত সাধকের বহু ক্রিয়াকলাপ শিশুসুলভ হয়, হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে সে পাগল। কিন্তু সাধনার এক বিশেষ স্তরে গিয়ে সাধক শিশুসুলভ হয়ে যান।
এই প্রতিদিনের জীবনযাপনে মা স্বয়ং এইভাবে আমাদের পরীক্ষা নিয়ে চলেছেন, অধৈর্য হলেই শেষ! ঠিক যেমন ছোট বাচ্চা দেখতে বড় সুন্দর, কিন্তু যে অভিভাবক তাকে লালন করে সে জানে এর আসল সত্য।
পুজো চলাকালীন মহারাজ শিশুকন্যাটিকে ভোলানোই প্রধান মনে করলেন, ঐ মুহুর্তে ঐটাই সাধনা, ঐটাই উপাসনা। ঐটাই দেবীর পরীক্ষা, মহারাজ পাশ করে গেলেন।
যার পরীক্ষা থেকে স্বয়ং শ্রীরঘুবীর ও মূর্ত মহেশ্বর স্বামীজি নিস্তার পান নি, আমরা তো অতি সাধারণ। এই প্রতিদিনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই আমাদের সাধনা, শুধু দেখার চঞ্চলা মা কে কতটা শান্ত করে কোলে ধরে রাখতে পারলাম...
#কুমারী_পূজা
#মহা_অষ্টমী_পূজা
#বাসন্তী_পূজা