মোক্ষ - Moksh

মোক্ষ - Moksh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মোক্ষ - Moksh, Religious Center, Chittagong.

ওঁ জয়জয় দেবী চরাচর সারেকুচযুগশোভিত মুক্তাহারে,বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তেভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।অনুবাদঃ সর্বব্যাপী বি...
13/02/2024

ওঁ জয়জয় দেবী চরাচর সারে
কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে,
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে
ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।

অনুবাদঃ সর্বব্যাপী বিরাজমান পরমাত্মারূপী দেবীর জয়,যাহার অঙ্গুলীর অগ্রাংশ দীপ্তিময় মুক্তোমালা দ্বারা শোভিত।যিনি বীনা দ্বারা রঞ্জিত, হাতে বই ধারণ করে আছেন, সেই পরমাত্মারূপী বাণীদেবীকে দু'হাতে প্রণাম জানায়।🙏

মনের অবস্থা, স্থিতপ্রজ্ঞ ও ব্রাহ্মীস্থিতিঃদুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ।বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে।।অ...
03/12/2023

মনের অবস্থা, স্থিতপ্রজ্ঞ ও ব্রাহ্মীস্থিতিঃ

দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ।
বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে।।

অর্থাৎ, দুঃখ উপস্থিত হলেও যার মন উদ্ধিগ্ন হয় না, সুখ উপস্থিত হলেও যার একটুও স্পৃহা উৎপন্ন হয় না।যিনি রাগ, ক্রোধ ও ভয় থেকে মুক্ত তিনিই স্থিতপ্রজ্ঞ।

স্থিতপ্রজ্ঞ মহাপুরুষ তো সেই হয়,যার মন একদম স্থির ও শান্ত থাকে। এই মনের স্থিরতার ফলে মানুষ পরমানন্দ অনুভব করে। কিন্তু মানুষের মন বায়ুর ন্যায় সদা চঞ্চল।এই মন কিছুক্ষণের জন্য একটা বিষয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার পর, পরক্ষণেই আবার অন্য বস্তুর দিকে ধাবিত হয়।বস্তুত মনের এই অস্থিরতার কারণেই, মানুষ সুখ-দুঃখ ও সদা তৃষ্ণা অনুভব করে।যার ফলে মানুষ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাই এই অস্থির মনকে বশিভূত করা আবশ্যক।

আত্মার সারথি যেমন এই দেহ, তেমনি এই মন দেহের সারথি স্বরূপ। এই মন'ই তো দেহ ও দেহে অবস্থিত ইন্দ্রিয় সকলকে পরিচালিত করে।তাইতো গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, মনকে ইন্দ্রিয় সকলের শ্রেষ্ঠ বলেছেন। এই মন দেহে অবস্থিত থেকেও অদৃশ্য, কিন্তু দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই করে থাকে। এই মনের সাহায্যেই তো মানুষ জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হয়ে থাকে।

কিন্তু, দুঃখের বিষয় এই যে,এই মন জীবদের মায়া ও মোহের অন্ধকারে সদা নিমজ্জিত করে রাখে।জীবদের অজ্ঞানতার কারণে মৃত্যু অবধি এই মন নানা দিকে ধাবিত করতে থাকে।কিন্তু, যিনি জ্ঞানী তিনি অবশ্যই মনকে নিজের অধীনে রাখার চেষ্টা করে।এইরকম মহাত্মারা নিজের মন দ্বারা হৃদয়ে অবস্থিত সেই আত্মা ও আত্মার মধ্যে সেই পরমাত্মার প্রত্যক্ষ দর্শন করে থাকেন।

মানুষের মন নিয়ন্ত্রণে না থাকার ফলে, মন সবসময় ইন্দ্রিয় আসক্তিতে মত্তে থাকে।যার ফলস্বরূপ মানুষ জড় বিষয়ের প্রতি সদা আকর্ষিত থাকে।কিন্তু, যার মন নিজ আত্মাতে একদম স্থির হয়ে গিয়েছে,সে মন জীবাত্মার আদেশ পালন করা শুরু করে দেয়।তখন তার কাছে ভোগ্য জড় বিষয়সমূহ বিষস্বরূপ মনে হয়।এই বিষয়ের প্রতি বৈরাগী মন'ই তাকে একসময় পরমাত্মার চরণে নিয়ে যায়।এর অর্থ এই যে-"মনের অধীনে নিজেকে রাখলে এই মন মায়া-মোহের অন্ধকারে মানুষকে ডুবিয়ে রাখবে, যদি এই মনকে নিজের অধীনে রাখা যায়,তবে এই মন মানুষকে মোক্ষের দরজায় নিয়ে যাবে।"

মনকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,
অসংশয়ং মহাবাহো মনো দুর্নিগ্রহং চলম্।
অভ্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ্যেণ চ গৃহ্যতে।।

অর্থাৎ, হে মহাবাহো! মন যে দূর্দমনীয় ও চঞ্চল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।কিন্তু হে কৌন্তেয়, ক্রমশ অভ্যাস ও বৈরাগ্যের দ্বারা মনকে বশ করা যায়।[৬/৩৫]

অভ্যাস অর্থাৎ, নিরন্তর অভ্যাস।মন এইদিক ঐদিক ঘুরাঘুরি সত্ত্বেও বারবার নিজের আত্মাতে স্থির করতে হবে।যেমন, একটি পাগলা ঘোড়া এইদিক -ঐদিক ছোটাছুটি করে, তেমনিও মন পাগলা ঘোড়ার মতো এইদিক-ঐদিকে ঘুরাঘুরি করে।কিন্তু, কোনো মানুষ যখন ঐ পাগলা ঘোড়ার পিঠে উঠতে চাইলে, প্রথমে মানুষটিকে বারবার আঘাত পেতে হবে।যদি মানুষটি নিষ্ঠাবান হয়, তবে একসময় আঘাত পেতে পেতে মানুষটি ঘোড়ার পিঠে আসীন হয়ে যাবে।একবার পিঠের উপর আসীন হতে পারলেই, ঘোড়াটি তখন চালকের নিয়ন্ত্রণের রশির কারণে চালকের আজ্ঞা পালন করা শুরু করবে।তেমনি মনকে একবার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেই, সে মন আপনাতেই জীবাত্মার আদেশ পালন করা শুরু করবে।কিন্তু, অনেক সময় মন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও, ইন্দ্রিয়সকলের বিষয়াসক্তির কারণে মন আবার ভূল পথে চলে যেতে পারে।
তাই মনকে বারবার স্মরণ করানো উচিত যে, এই ভোগ,কাম,লালসা সব মিথ্যা।তখন, মানুষের মধ্য থেকে এইসব বিষয়ের প্রতি মোহ নষ্ট হয়ে, বৈরাগ্য উৎপন্ন হবে।আর তখনিই মানুষ মন থেকে সন্ন্যাসী হয়ে উঠে। তখন সেই মহাত্মার মন আত্মনিষ্ঠ হয়ে আত্মাতে স্থির হয়ে যায়।এই আত্মনিষ্ঠার ফলে যোগীর মনে তখন বাসনার লেশমাত্র থাকে না। ফলে যোগীর মনে থাকা সমস্ত কামনা একেবারে মরে যায়।তখন সেই যোগীর মন নিরাসক্ত হয়ে যায়। যার ফলে যোগীর বুদ্ধিও স্থির হয়ে যায়। দর্শন, শ্রবণ,স্পর্শ, ঘ্রাণ, ভোজন,গমন, নিদ্রা ও নিশ্বাস আদি ক্রিয়া করেও সেই যোগী ব্যক্তি জানেন যে,তিনি কিছুই করছেন না।কারণ জড় ইন্দ্রিয়গুলিই কেবল ইন্দ্রিয়ের বিষয়ে প্রবৃত্ত হচ্ছে। এইরকম মহাপুরুষ ইন্দ্রিয়সকলকে নিরাসক্ত হয়েই উপভোগ করে।এইরকম যোগীদের শাস্ত্র 'নরোত্তম' বলে সম্বোধন করে।

এইরকম স্থিতপ্রজ্ঞতাকে নিষ্কাম কর্মযোগের চরম অবস্থা বুঝায়।এইরকম পুরুষ সমবুদ্ধি অর্থাৎ জয়-পরাজয়, লাভ-হানীর কথা না ভেবে যোগ দ্বারা পরমাত্মায় আস্থা রেখে কাজ করে যায়,একে সমত্বযোগও বলা হয়ে থাকে।সেই মহাপুরুষ জানেন যে, সৃষ্টিকর্তা তার সাথে সবসময় রয়েছেন। তাই তিনি সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় পান না।এইরকম মহাত্মা, না সুখের সময় অতিরিক্ত খুশী হন,না দুঃখে অতিরিক্ত শোক করেন! এইসব মহাত্মাদের ইন্দ্রিয় সকল কচ্ছপের অঙ্গ সমূহের ন্যায় সর্বদা সঙ্কুচিত থাকে।কারণ, ইন্দ্রিয় সকলের বাসনা এতটাই প্রবল থাকে যে,একজন স্থির মানুষের প্রজ্ঞাও হরণ করে নিতে পারে।তাই স্থিতপ্রজ্ঞ মহাপুরুষেরা সবসময় বিষ সমান বিষয়সমূহকে নিগ্রহ করে চলে।কারণ, তাদের কাছে এইসব বিষয়সমূহ রাত্রিস্বরূপ মনে হয়।বায়ুরহিত স্থানে যেমন প্রদীপ স্থির থাকে,তেমনি স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির প্রজ্ঞাও সেইরূপ স্থির থাকে।যার কারণে, এইসব বিষয়সমূহ এইরকম স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির সামনেও যদি থাকে, তাকে সেইসব আকর্ষণ করতে পারে না।যেমনটা নদীর পানি সাগরে এসে বিলীন হয়ে যায়, তেমনি স্থিতপ্রজ্ঞ মহাপুরুষের প্রজ্ঞার সামনে বিষয়সমূহ বিলীন হয়ে যায়।এইরূপ স্থিরপুরুষ সম্পূর্ণরূপে কামনারহিত ও আত্মমননের ফলে, তার চিত্ত ব্রহ্মে নিরন্তর বিচরণ করতে থাকে।এইরূপ নিত্য মননের ফলে স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির মন সর্বদা ব্রহ্মে অবস্থান করে।চিত্তের এইরূপ স্থিতিকেই ব্রাহ্মীস্থিতি বলে,এই অবস্থা'ই হচ্ছে জীবাত্মার মুক্তির অবস্থা।

অনেক বড় বড় সাধু পুরুষও সৃষ্টিকর্তার কৃপা ব্যতীত এইরকম মানসিক স্তরে উন্নীত হতে পারে না।তাই সর্বদা অনাসক্ত হয়ে সৃষ্টিকর্তায় আস্থা রেখে নিষ্কাম কর্মযোগের অনুষ্ঠান করুন।কারণ, নিষ্কাম কর্মই সহজে আপনাকে স্থির করতে সাহায্য করবে।

-ধ্রুবরাজ ভৌমিক।

যোগঃ কর্মসু কৌশলম্।অর্থাৎ, কর্মের কুশলতায় যোগ।পৃথিবী কর্মক্ষেত্র, তাই  মানুষকে প্রতিনিয়তই কর্ম করতে হয়।সেটা মানুষের ইচ্ছ...
28/11/2023

যোগঃ কর্মসু কৌশলম্।
অর্থাৎ, কর্মের কুশলতায় যোগ।

পৃথিবী কর্মক্ষেত্র, তাই মানুষকে প্রতিনিয়তই কর্ম করতে হয়।সেটা মানুষের ইচ্ছা হোক আর না হোক,প্রকৃতি তাকে কর্ম করিয়েই ছাড়ে।বস্তুত হাত পা নাড়াও কর্মের আওতায় পড়ে। এই কর্মক্ষেত্রে মানুষ তার বিবেকবোধ দিয়ে শুধু নির্ধারণ করতে পারেন,'তিনি কি করবেন আর কি না করবেন'।কারণ, কর্মফল মানুষের ইচ্ছে অনুযায়ী হয় না।তাই কর্মফলে মানুষের কোনো অধিকার নেই, অধিকার আছে শুধু কর্মে।মহাভারত যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন,'তুমি যুদ্ধ করবে কিনা, না করবে এটা তোমার উপর নির্ভর করছে।কিন্তু যুদ্ধের পরিণাম তোমার হাতে নেই।তুমি জয়ের আশা নিয়েও যদি যুদ্ধ কর,তাহলে তুমি হয়তো যুদ্ধে পরাজিতও হতে পার।এই পরাজিত হওয়ার ফল তোমাকে তখন দুঃখ দিবে।যদি যুদ্ধের পরিণামের কথা চিন্তা না করে যুদ্ধ কর, তাহলে তোমার পরাজিত হওয়ার ও ভয় থাকবে না'।এই ফলত্যাগ'ই নিষ্কাম কর্মযোগ।যিনি ফলের আশা ত্যাগ করে কর্ম অনুষ্ঠান করেন, তিনি সুখে-দুঃখে সমান ভাব রাখেন।এই সমত্ব ভাবকেই স্থিতধী বলে।অর্থাৎ, তিনি সর্ব অবস্থায় স্থির থাকেন।

বস্তুত, কর্ম ৩ প্রকার-কর্ম,অকর্ম ও বিকর্ম। এই নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভাগবদ গীতায় বলেছেন,

কর্মণো হ্যপি বোদ্ধবং বোদ্ধবং চ বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ।।
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমাম্মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৎস্নকর্মকৃৎ।।

অনুবাদঃকর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব হৃদয়াঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন।তাই কর্ম,অকর্ম ও বিকর্মের স্বরূপ যথাযথভাবে জানা আবশ্যক।
যিনি কর্মে অকর্ম ও অকর্মে কর্ম দর্শন করেন,তিনি মনুষ্যের মধ্যে বুদ্ধিমান। তিনি সব রকম কর্ম করেও পরমাত্মার সাথে যুক্ত থাকেন।(গীতা-৪/১৭-১৮)

কর্ম তো কর্মই।হোক সেটা আসক্তি ও আসক্তি বিহীন। কিন্তু যার কর্মফলে আসক্তি নেই, তিনি কর্ম করেও আসক্ত রহিত থাকেন।কর্মে লিপ্ত হয়েও যিনি সর্বদা নিরাসক্ত থেকে যোগে যুক্ত থাকেন, সেই কর্মই তখন অকর্ম হয়ে পড়ে।আর, সকল প্রকার নিষিদ্ধ ও দূষিত কর্মই বিকর্ম।

বিকর্ম থেকে কর্ম শ্রেষ্ঠ, আর কর্ম থেকে অকর্ম শ্রেষ্ঠ। যিনি এই কর্ম,অকর্ম ও বিকর্মের স্বরূপকে যথাযথভাবে উপলদ্ধি করতে পেরেছেন। তার জন্য কর্মযোগ সহজ হয়ে যায়।নিরাসক্ত কর্মই হোক জীবের লক্ষ্য।

_ধ্রুবরাজ ভৌমিক।

15/11/2023

মনের শুচিতাই শ্রেয়।অন্তঃকরণ শুদ্ধ না হইলে বাহ্যিক শুচিতা অর্থহীন হইয়া পরে।

ওঁ কৃষ্ণম্ বন্দে জগৎগুরুম্।আজকের এই গুরুপূর্ণিমায় শতকোটি প্রণাম জানাচ্ছি, সচ্চিদানন্দ জগৎগুরু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। 🙏আপনি যেভ...
03/07/2023

ওঁ কৃষ্ণম্ বন্দে জগৎগুরুম্।

আজকের এই গুরুপূর্ণিমায় শতকোটি প্রণাম জানাচ্ছি, সচ্চিদানন্দ জগৎগুরু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। 🙏
আপনি যেভাবে অন্ধকারে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, সেই জার্নিটা অসাধারণ ছিলো।❤️

গো বা গরু আমাদের সনাতন ধর্মের জন্য মঙ্গলসূচক প্রাণী ধরা হয়।কারণ, গরু থেকে আমরা যে দুগ্ধ বা দুধ পেয়ে থাকি তা অমৃতস্বরূপ।য...
28/06/2023

গো বা গরু আমাদের সনাতন ধর্মের জন্য মঙ্গলসূচক প্রাণী ধরা হয়।কারণ, গরু থেকে আমরা যে দুগ্ধ বা দুধ পেয়ে থাকি তা অমৃতস্বরূপ।যা সর্ব রোগ নিরোধক। আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদে এই সম্পর্কে লেখা আছে যে-

সংজগ্মানা অবিভ্যূষী রস্মিন্ গোষ্ঠে করীষিনীঃ
বিভ্রতীঃ সোম্যং মধ্বনমীবা উপেতন।।

অনুবাদঃ এই গোশালায় ধেনু সকল নির্ভয়ে থাকুক, একসঙ্গে মিলিয়া বিচরণ করুক, গোময় উৎপন্ন করুক,অমৃতময় দুগ্ধ ধারণ করুক এবং নিরোগ হইয়া আমার নিকট আসুক।(অথর্ববেদ-৩/১৪/৩)

গরুর এই অমৃত দুগ্ধ দ্বারা মানুষের অনেক কল্যান সাধিত হয়।গরুর দুধ দ্বারা মানুষ হৃষ্টপুষ্ট হয়।এর কোমল দুগ্ধ পান করলে অনেক অশুচি মনের মানুষের মধ্যেও শুচিতা আসে।এই নিয়ে বেদে আরও আছে-

যূয়ং গাবো মেদয়থা কৃশং চিদশ্রীরং চিৎ কৃণুথা সুপ্রতীকম্।
ভদ্রং গৃহং কৃণুথ ভদ্রবাচো বৃহদ্বো বয় উচ্যতে সভাসু।।

অনুবাদঃ হে ধেনু সকল! তোমরা কৃশ মনুষ্যকে হৃষ্টপুষ্ট কর, বিশ্রী মনুষ্যকে সশ্রী কর।অশুচি মনুষ্যদের পবিত্র কর, গৃহকে মঙ্গলময় কর।তোমাদের সুশব্দ মঙ্গলময় হউক।সভাসমূহে তোমাদের বহুগুণ বর্ণনা করা হয়।(অথর্ববেদ-৪/২১/৬)

বস্তুত অনেকে গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে।যার দ্বারা আমার সংসার বা আমার অর্থ উপার্জন হয়, তাকে কি হত্যা করে খাওয়া উচিত। আর আমাদের সনাতন ধর্মে ভোজনেরও বিধি রয়েছে। এই নিয়ে অথর্ববেদে আছে-

ব্রীহি মত্তং যবমত্তমথো মাষমথো তিলম্।
এষ বাং ভাগো নিহিতো রত্ন ধেয়ায় দন্তৌ
মা হিংসিষ্টং পিতরং মাতরং চ।।

অনুবাদঃচাউল,যব,মাষকলাই এবং তিল ভক্ষণ কর।রমণীয়তার জন্য ইহায় তোমাদের জন্য অধিকার বিহিত হইয়াছে।পালক ও রক্ষককে ভক্ষণ করিও না।(অথর্ববেদ-৬/১৪০/২)

আর গোহত্যা নিয়ে সরাসরি নিষিদ্ধ আছে আমাদের ঋগ্বেদে-
প্র নু বোচং চিকিতুষে জনায়,
মা গামনাগা মদিতিং বধিষ্ট।।

অনুবাদঃ আমি জ্ঞানবান পুরুষদের নিকট বলিতেছি যে নিরপরাধ অহিংস পৃথিবী সদৃশ গো জাতিকে হনন করিও না।(ঋগ্বেদ-৮/১০১/১৫)

আর যারা হনন বা হত্যা করে তাদের নিয়ে লেখা আছে যে,
যদি নো গাং হংসি যদ্যশ্বং যদি পুরুষম্।
তাং ত্বা সীসেন বিধ্যামো যথা নোহসো অবীরহা।।

অনুবাদঃ যদি তুমি আমাদের গরু, অশ্ব ও প্রজাদিগকে হত্যা কর, তবে তোমাকে সীসকের গুলি দ্বারা বিদ্ধ করিব।আমাদের সমাজের মধ্যে যেন বীরদের বিনাশকারী কেহই না থাকে।(অথর্ববেদ-১/১৬/৪)।

#মোক্ষ_Moksh

বিধর্মী কিছু মানুষ আমাদের ধর্ম সম্পর্কে না জেনেই মুর্তি-পূজক বলে নিজেদের শত্রু ভাবছে। তারা কি আদৌ জানে মুর্তিপূজা আসলে আ...
27/06/2022

বিধর্মী কিছু মানুষ আমাদের ধর্ম সম্পর্কে না জেনেই মুর্তি-পূজক বলে নিজেদের শত্রু ভাবছে। তারা কি আদৌ জানে মুর্তিপূজা আসলে আমাদের আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

তারা নিরাকার ঈশ্বরের আরাধনা করে। ঈশ্বর অবশ্যই নিরাকার। আর তিনি একজনই। এমনটা নয় যে একজন ঈশ্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সৃষ্টি করেছেন আর অন্য একজন ঈশ্বর অন্য ধর্মাবলম্বীদের। আমাদের সনাতন ধর্ম সবথেকে পুরাতন ধর্ম পৃথিবীতে তার প্রমাণ আছে সমগ্র বিশ্বে। অর্থাৎ আদিতে সবাই সনাতনী-ই ছিলো। তাহলে পৃথিবীতে কেন এতো ধর্ম?
কারণ যুগে যুগে অনেকেই ধর্মমত প্রকাশ করেছে। পরবর্তীতে সেগুলো কালে কালে তাদের অনুসারীরা অজান্তে বিভেদ করে ফেলেছেন। যারা প্রবর্তক ছিলেন তাদের জীবনী দেখলেই দেখা মিলবে সনাতন সংস্কৃতির।

সৃষ্টিকর্তা নিরাকার এবং সর্বশক্তিমান। তিনি কোনো নিয়মের আবদ্ধ নন যে তাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসীরা বিভিন্ন গ্রন্থ মতে সৃষ্টিকর্তাকে জানার চেষ্টা করে। আদৌ কি তা সম্ভব। যারা মনে করেন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তারা কি কখনো এটা মেনে নেবে যে ঈশ্বরকে একটি গ্রন্থে সীমাবদ্ধ করা যায়!
আমরা যেসব বিগ্রহের পূজা করি সেগুলো শুধু মাটির মুর্তি না। আমরা যদি শুধু মাটির মুর্তি-ই পূজো করতাম তবে তা বিসর্জন কিভাবে দিতে পারতাম?...
সৃষ্টিকর্তার গুণ অনন্ত। তার এক একটি গুণের আরাধনা করা হয় একেক জন দেব-দেবীর মাধ্যমে। শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করলে তার কোনো দেব-দেবীর পুজো করার আবশ্যকতা পড়ে না। তবে আমরা শুধু একারণেই পুজো করি না। সকল দেব-দেবী আমাদের জন্যে আদর্শ চরিত্র। আমরা সকল রুপেই সৃষ্টিকর্তারই আরাধনা করি। যেহেতু বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সকল কিছুর উৎস সয়ং ঈশ্বর। তার মানে আমরা সকলের উৎসও তিনিই।দেব-দেবীগণও তিনি। প্রকৃতিও তিনি এবং পুরুষ তথা আত্মাও তিনিই।

শ্রীমদ্ভগবদ-গীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেইছেন যে, যে যেভাবে ঈশ্বরের আরাধনা করে সে সেভাবেই তাঁকে পায়। অতএব কেউ যদি দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা তবে সে ঈশ্বর হতে শ্রী প্রাপ্ত হবে। কেউ যদি দেবী সরস্বতীর আরাধনা করে তবে সে বিদ্যা প্রাপ্ত হবে। আর কেউ যদি নিজের অনুভব দ্বারা সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করে, সৃষ্টিকর্তাকে অনুভব করতে পারে তবে সে তার ইচ্ছাসমগ্র স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার কাছেই বলতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রকৃত জ্ঞানী কখনো নিজের জন্যে কিছু চান না এবং স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে অনুভবকারী ব্যক্তির অন্য পূজা করার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু দেব-দেবীর আরাধনা আমাদের হৃদয়ের সাত্বিকতা বৃদ্ধি করে। তাই সনাতন ধর্মে বিগ্রহ পূজার প্রথা। এতে সনাতন ধর্ম কোনো ধর্ম থেকে আলাদা হয়ে যায় না। বরং পৃথিবীর সকল সংস্কৃতির মাতৃরূপা হচ্ছে সনাতন ধর্ম।
অতএব, মুর্তিপূজক বলে আলাদা ভাবাপন্ন কোনো আলোচনার উত্তর এভাবেই দেওয়া উচিত। অন্য ধর্মের সকল শুভ সংস্কৃতি আমাদের ধর্মে আছে। কিন্তু আমাদের ধর্মের সকল সংস্কৃতি অন্য ধর্মে নেই।

পবিত্র বেদের জ্ঞান যে সকলের জন্য সমান ও পরমাত্মা যে সকলের প্রতি সমদর্শী তা আবারও বেদের আলোকেই দেখবঃযারা বেদের জ্ঞান যে শ...
29/04/2022

পবিত্র বেদের জ্ঞান যে সকলের জন্য সমান ও পরমাত্মা যে সকলের প্রতি সমদর্শী তা আবারও বেদের আলোকেই দেখবঃ
যারা বেদের জ্ঞান যে শুধু ব্রাহ্মণের জন্য মনে করে,তাদের জন্য যজুর্বেদ থেকে এই মন্ত্রটাই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি।
ওঁ যথেমাং বাচং কল্যানীমাবদানি জনেভ্যঃ।
ব্রহ্ম রাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায় চ।।
প্রিয়ো দেবানাং দক্ষিনায়ৈ দাতুরিহ,
ভূয়াসময়ং মে কামঃ সমৃধ্যতামুপ মাদো নমতু।।

অনুবাদঃহে মনুষ্যগণ,আমি যেরূপ ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য,শূদ্র,স্ত্রীলোক এবং অন্যান্য সমস্ত জনগণকে এই কল্যানদায়িনী পবিত্র বেদবাণী বলিতেছি,তোমরাও সেইরূপ কর।যেমন বেদবাণীর উপদেশ করিয়া আমি বিদ্বানদের প্রিয় হইয়াছি,তোমরাও সেইরূপ হও।আমার ইচ্ছা বেদ বিদ্যার প্রচার বৃদ্ধি হউক।আমার মধ্য যেমন সর্ববিদ্যাহেতু সুখ রহিয়াছে, তোমরাও সেইরূপ বেদ বিদ্যার গ্রহণ ও প্রচার দ্বারা মোক্ষ সুখ লাভ কর।(যজুর্বেদ-২৬/২)।

এখন আসি পরমাত্মা সকলের প্রতি যে সমদর্শী।অনেকে মনে করেন যে,'আমার সাথে সৃষ্টিকর্তা এমন কেন করলো,আমি তো এই জন্মে এমন কিছুই পাপ করিনি!' তারা হয়তো জানেন এই না যে 'প্রারব্ধ কর্ম' বলে কিছু আছে।এ-সম্পর্কে বিস্তারিত অন্য একদিন আলোচনা করব।
সমানতার দিকদিয়ে ঋগ্বেদে সৃষ্টিকর্তার আদেশ এই যে,
ওঁ সমানো মন্ত্রঃ সমিতি সমানং মনঃ সহ চিত্তমেষাম।
সমানং মন্ত্রমভিমন্ত্রয়ে বঃ সমানেন বো হবিষা জুহোমি।।

অনুবাদঃতোমাদের সকলের মত এক হউক,মিলনভূমি এক হউক,মন এক হউক,সকলের চিত্ত সম্মিলিত হউক,তোমাদের একই মন্ত্রে সংযুক্ত করিতেছি,তোমাদের সকলের জন্য অন্ন ও উপভোগ একই প্রকারের প্রদান করিতেছি।(ঋগ্বেদ-১০/১৯১/৩)।
আবারও বলেছে,
ওঁ সমানী ব আকূতি সমানা হৃদয়ানি বঃ
সমানমস্তু বো মনো যথা বঃ সুসহাসতি।।

অনুবাদঃতোমাদের সকলের লক্ষ্য সমান হউক।তোমাদের সকলে হৃদয় সমান হউক,তোমাদের মন এক হউক,তোমাদের সকলের সুন্দর ঐক্য যাহাতে হয় সেইরূপ হউক।এইভাবে তোমাদের সকলের শক্তি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হউক।(ঋগ্বেদ-১০/১৯১/৪)।
আরও বলেছে,
তে অজ্যেষ্ঠা অকনিষ্ঠায় উদ্ভিদো হমধ্যমাসো মহসা বি বাবৃধুঃ।
সুজাতাসো জনুষা পৃশ্নি মাতরো দিবো মর্য্যা আ নো অচ্ছা জিগাতন।।

অনুবাদঃমানবের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয়,তাহারা সকলে উন্নতি লাভ করিতেছে।উৎসাহের সঙ্গে বিশেষভাবে ক্রমোউন্নতির প্রযত্ন করিতেছে।জন্ম হইতেই তারা কুলীন।তাহারা জন্মভূমির দিব্য মনুষ্য। তাহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।(ঋগ্বেদ-৫/৫৯/৬)

পবিত্র বেদে এমন অনেক জায়গায় সকলের সমানতার কথা বলেছে।স্বয়ং যোগেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,
বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পন্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ।।

অনুবাদঃবিদ্যা-বিনয় সম্পন্ন জ্ঞানবান পন্ডিতগণ ব্রাহ্মণ,চন্ডাল, গাভী, হাতিতে,কুকুরে সমান জ্ঞান করেন।তারা সকলের প্রতি সমদর্শী হন।(গীতা-৫/১৮)।
স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা যেখানে সবাইকে সকলের প্রতি সমদর্শী হওয়ার আদেশ দিয়ে গেছেন।সেখানে সকল জীবের বুদ্ধি ও মুক্তিদাতা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বসুদেব কতটা সকলের প্রতি সমদর্শী, তা একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেন।

কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরণ। ইন্দ্রিয়ার্থান বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে।।(অঃ৩ শ্লোঃ৬)সরলার্থঃ যে কর্মেন...
05/04/2022

কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরণ।
ইন্দ্রিয়ার্থান বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে।।(অঃ৩ শ্লোঃ৬)

সরলার্থঃ যে কর্মেন্দ্রিয়গুলিকে হঠতাপূর্বক রূদ্ধ করে মন দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলির বিষয় চিন্তা করে থাকে, সেই মূঢ়মতি ব্যক্তিকে মিথ্যাচারি বা ভন্ড বলা হয়।

05/04/2022

যদি কোনো ব্যক্তি এমন পর্যায়ে থাকেন যে সাধারণ মানুষ তার কথা বিশ্বাস করবে এবং পালন করবে, তাহলে তার উচিত সাধারণ মানুষদের নৈতিক পথের নির্দেশ দেওয়া। হিংসা, ক্ষমতা, আধিক্য এসব অনিত্য...ক্ষণিকের লাভ। মানুষের হৃদয়ের প্রেম স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদ এবং চিরস্থায়ী।

ধর্মীয় আচরণ বহন করুন।🙏
17/02/2022

ধর্মীয় আচরণ বহন করুন।🙏

Dharma always wins no matter how much power Adharma has..🙏
13/02/2022

Dharma always wins no matter how much power Adharma has..🙏

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মোক্ষ - Moksh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share