05/10/2024
লাইলি মজনুর কথা তো সবারই জানা। মজনু লাইলির ঘর থেকে সামান্য দূরে একটি গাছতলায় বসে অপেক্ষা করতো। যদি কখনো লাইলির দেখা পাওয়া যায়। এই সুযোগে একজন নকল মজনুর আবির্ভাব হয়। সে লাইলির ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে দারোয়ান কে বললো, লাইলি কে বলো তার মজনু তার জন্য অপেক্ষা করছে। লাইলি যেহেতু ইজ্জতদার নারী ছিল সে দেখা করতে যেতো না, কিন্তু দারোয়ান কে দিয়ে তার জন্য খাবার পাঠাতো। সেই খাবার খেয়ে নকল মজনু চলে যেতো। এভাবে বেশ কয়েকদিন চলতে লাগলো৷ নকল মজনুও ভালো ভালো খাবার খেতে খেতে মোটাতাজা হতে লাগলো। লাইলির সন্দেহ হলো এ আমার কেমন দিওয়ানা? যে শুধু খাওয়া দাওয়া করেই চলে যায়? তো একদিন সে খালি বাটি দিয়ে দারোয়ান কে পাঠিয়ে বললো, মজনু কে গিয়ে বলো আজকে লাইলি এই বাটিতে তোমার শরীরের রক্ত চেয়েছে। যখন দারোয়ান খালি বাটি নিয়ে নকল মজনুর কাছে উপস্থিত হলো এবং বললো লাইলি তোমার রক্ত চেয়েছে, নকল মজনু ভয় পেয়ে গেল। সে বললো, আমি তো ভালো ভালো খাবার খাওয়ার মজনু, লাইলির প্রেমে রক্ত ঝরানো মজনু ওই যে দূরে দাঁড়িয়ে আছে।
এই গল্প বর্তমান মুসলমানদের সাথে একেবারে মিলে যায়। আজকাল মানুষ রোজা রাখা থেকে খাওয়া কে বেশি সওয়াবের কাজ মনে করে। মানুষ মরছে, ডেক পাকাও। নবী (সা) এর মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ ছিল এই দলিল দিয়ে মিষ্টি খাওয়া কে সুন্নত বানিয়ে ফেলেছে। মিলাদুন্নবী, ওরশ, খানেকা, চার দিন্না, চল্লিশা ইত্যাদি অলীক উৎসব তৈরি করে খাওয়া দাওয়া চলছে। কিন্তু যখন আল্লাহর পথে কোনো কোরবানি দেওয়ার কথা আসে তখন হাত উপর করে ফেলে। হুজুররা যখন বলে খাওয়া দাওয়ার নামই ইসলাম না তখন তারা বলে হুজুরদের জন্যই সমাজ নষ্ট হচ্ছে। খাওয়া দাওয়া করার সময় খুব গর্ব হয় যে দেখুন আমাদের ইসলামের সৌন্দর্য! আল্লাহর জন্য রক্ত ঝরানোর সময় আর কেউ থাকে না।