04/02/2026
🌹🌹🌹অধরা🌹🌹🌹
👉 # #দুনিয়ার মঙ্গলের জন্য যেসব বিধিবিধান শ্রীশ্রীঠাকুর দান করেছেন তার অন্যতম বিষয় হ'ল মানুষকে সৎনামে দীক্ষিত করে তোলা।পাবনায় অবস্থান করার সময় থেকেই শ্রীশ্রীঠাকুর দীক্ষার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করার কথা বলে আসছেন।তিনি দেখছেন,সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিমান করে গড়ে তুলতে হলে মানুষগুলিকে বৈশিষ্ট্যপালী আপূরয়মাণ আদর্শের ছত্রছায়াতলে সমবেত করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।
এইসব প্রশ্ন যখন উঠত তখন তিনি বার-বার মারাঠা-বীর শিবাজী ও শিখনেতা গুরুগোবিন্দ সিং-এর নাম উল্লেখ করতেন।গল্প করে বলতেন কিভাবে তাঁরা জাতিটাকে গড়ে তুলেছিলেন।বিশেষ,জোর দিয়ে বলতেন,আগে প্রবৃত্তি-অধীশ কোন আদর্শ পুরুষের সঙ্গে নিজেকে অচ্ছেদ্য বাঁধনে বেঁধে ফেলতে হবে,তাঁর তৃপ্তি ও প্রীতি সাধনের জন্য সবরকম কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।এমনতর বন্ধনক্রিয়ার নামই হল দীক্ষা।
👉দীক্ষার ভিতর দিয়ে আসে ইষ্টপুরুষের প্রতি অনুরাগ।দীক্ষিতরা তাঁর ভাবে অনুরঞ্জিত হ'য়ে অর্থাৎ রাঙ্গিয়ে ওঠে।এই হ'ল ভালবাসা।আর ভালবাসা সবসময় প্রিয়কে সুস্থ ও আনন্দিত রাখতে চায়,তাঁর অনভিপ্রেত কিছু করতে চায় না।এইভাবে জীবনটা এককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।প্রবৃত্তিগুলিও আপনা থেকেই কল্যাণের পথে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে।ভক্তপ্রবর হনুমানের ক্রোধরিপু প্রবল ছিল,কিন্তু তা তিনি নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেন নি,করলেন তাঁর প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের স্বার্থরক্ষার্থে।
👉তাই,প্রবৃত্তিগুলি যদি সুনিয়ন্ত্রিত না হয় তা'হলে চরিত্র হয়--ঠাকুরের ভাষায়--কতগুলি কেউটে* সাপের আস্তানা।কখন যে কোনটা ছোবল মেরে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে তার ঠিক নেই।
👉প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হ'লেই মানুষ পায় শান্তি ও সাম্যচলন,ভোগ করে প্রকৃত স্বাধীনতার সুখ।এ জন্য দরকার ঈশ্বরাভিমুখিনতা।কিন্তু অব্যক্ত ঈশ্বরের প্রতি প্রাণের টান হয় না,তাঁর ইচ্ছা অনিচ্ছার সাথে মানুষের সংযোগ স্থাপিত হয় না।তাই মানুষের জন্য প্রয়োজন হয় মানুষ-ঈশ্বর,ঈশ্বরের ব্যক্ত প্রতীক,আচার্য্য বা সদগুরু,যাঁর সঙ্গে নিত্য যোগ রেখে মানুষ চলতে পারে।তিনিই অবতার পুরুষ,গুরুপুরুষোত্তম,নররূপী ভগবান।তাঁর অসীম প্রেমের আকর্ষণে তিনি সবাইকে কাছে টানেন,বুকে তুলে নিতে চান প্রতিপ্রত্যেকটি জীবনকে।আর তারই মাধ্যম হল দীক্ষা।সদগুরুর নিকট দীক্ষা ও তদনুগ চলনের মধ্যে দিয়েই কাটে মানুষের বৃত্তিফাঁস,সে পায় আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ।
গ্রন্থ--প্রিয়পরমের কথা
শ্রী দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়