20/07/2025
🍂🌾ভিক্ষু পারাজিকা বা পরাজয় কি?
"পারাজিকা" শব্দের অর্থ পরাজয় অর্থাৎ ভিক্ষু ধর্ম থেকে বিচ্যুত বা বহিস্কৃত। পারাজিকা হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ যা প্রাপ্ত হলে কোন ভিক্ষু, ভিক্ষু ধর্মে আর অবস্থান করতে পারেন না। ভিক্ষু ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ভিক্ষু হিসাবে জীবন যাপনের আচার আচরণে নিয়ম ২২৭ টি। এদের মধ্যে চারটি পারাজিকাই হলো সবচেয়ে দোষাবহ বা প্রধান শীল । এই চারটি প্রধান শীলের একটি ভঙ্গ হলে সে আর ভিক্ষু থাকে না। ভগবান বুদ্ধ এই পারাজিকাপ্রাপ্ত ভিক্ষুদের বুদ্ধের শাসনে মহাচোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এই চারটি পারাজিকা হলো :
১) প্রথম পারাজিকা :
"যদি কোনো ভিক্ষু মৈথুনধর্ম (ব্যভিচার) প্রতিসেবন করে, তবে সেই ভিক্ষুর পারাজিকা আপত্তি হবে এবং সে ভিক্ষুদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করতে পারবে না।”
অর্থাৎ যদি কোন ভিক্ষু, ভিক্ষু শীল বর্জন না করে এবং শীল পালনে দুর্বলতা প্রকাশ না করে সজ্ঞানে গুহ্যমার্গ, প্রস্রাব ও মুখ দিয়ে মৈথুন সেবন করে এমনকি তির্যক প্রাণীর সাথে ও একই আচরণ করে তাহলে সে ভিক্ষুর পারাজিকা আপত্তি বা ভিক্ষু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়।
২) দ্বিতীয় পারাজিকা :
"কোন বস্তু চুরি করলে যদি দন্ডপ্রাপ্ত হয়। সে ভিক্ষুর পারাজিকা বা ভিক্ষু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়।"
অর্থাৎ যে কোন ভিক্ষু গ্রাম হতে বা অপরের অধিকার ভুক্ত বস্তু চৌর্য চিত্তে যদি গ্রহণ করে এবং সে বস্তু গ্রহণের জন্য রাজা কর্তৃক চোররুপে ধৃত হয়ে হনন, বন্ধন, নির্বাসন ইত্যাদি নানারূপ দন্ড প্রদত্ত হয় এবং চোর, বাল মূর্খ, প্রবঞ্চক বলে তিরস্কৃত হয় তবে সেরুপ দ্রব্য গ্রহণ করলে ভিক্ষুর পারাজিকা বা ভিক্ষু ধর্ম হতে বিচ্যুত হয়।
৩) তৃতীয় পারাজিকা :
"স্বজ্ঞানে নরহত্যা করলে করলে বা করালে ভিক্ষু পারাজিকা হয়।"
অর্থাৎ যদি কোন ভিক্ষু সজ্ঞানে নরহত্যা করে কিংবা অসি, রজ্জু প্রভৃতি দ্বারা মারবার উপায় করে, অথবা মরণের ফল ও মরণার্থে উপায় শিক্ষা দেয় এবং উত্তেজিত করবার জন্য বলে, "তোমার পাপময় জীবনে বেঁচে থেকে কি লাভ? বরং বেঁচে থাকা চেয়ে মরণই ভাল" এরুপ মরবার চেতনায় নানা প্রকার মরনের কুবুদ্ধি দেয় বা ভ্রুন হত্যার জন্য নির্দেশ দেয় এবং তাতে মৃত্যু বরন করে, তাহলে সে ভিক্ষুর পারাজিকা বা ভিক্ষু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়।
৪) চতুর্থ পারাজিকা :
"ধ্যান বিমোক্ষাদি বা মার্গ লাভ না করে ও লাভ সৎকার, আধিপত্য ও প্রতিপত্তি লাভের ইচ্ছায় লাভ করেছে বলে মিথ্যা ভাষণ করে বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রকাশ করে অর্থাৎ লোকত্তর ধর্ম অধিজ্ঞান না হয়েও হয়েছি বলে মিথ্যা ভাষণ করলে সে ভিক্ষুর পারাজিকা বা ভিক্ষু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়।"
অর্থাৎ যদি কোন ভিক্ষু অর্হৎ বা মার্গফল, ধ্যান-বিমোক্ষাদি লাভ না করে ও লাভ সৎকার বা প্রতিপত্তি লাভের ইচ্ছায় অর্হৎ বা মার্গফল লাভ করেছি বলে মানুষকে মিথ্যা কথা বলে, মানুষের সাথে প্রতারণা করে, যাকে বলে সে যদি বুঝতে পারে তবে সে ভিক্ষুর ও পারাজিকা আপত্তি বা ভিক্ষু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়।
বর্তমানে দেখা যায় কোন ভিক্ষু পারাজিকা প্রাপ্ত হলে তাকে বাঁচানোর জন্য ভিক্ষু দায়ক সবাই তার পক্ষে মরিয়া হয়ে উঠে কিন্তু যারা পারাজিকা ভিক্ষুদের সমর্থন দেয় তারা ও পারাজিকা প্রাপ্ত ভিক্ষু বলে বিবেচিত হয় এবং বুদ্ধের শাসনের মহাপরিহানি করে থাকে।
বুদ্ধ বলেছেন, "পারাজিকা অবস্থায় অন্ন বস্ত্র শয়ন আসন পরিভোগ করা আগুনের গোলা ভক্ষণ করা সমান" তাই কোন ভিক্ষু পারাজিকা প্রাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে চীবর ত্যাগ করা উচিত।
(পারাজিকা বর্গ)