Islamic Dawah -with Riazul

Islamic Dawah -with Riazul ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ

27/05/2026

চারিদিকে ধর্ষনের সাহস বেড়েছে
আগে মেয়ে শিশুকে শুধু জীবিত কবর দেওয়া হতো।
এখন ধর্ষন করে গলা কেটে কবর দেওয়া হয়।
তার প্রতিরোধে একালের আধুনিক বিচারব্যাবস্থাই নাকি শ্রেয়।
ইসলামের পরিপূর্ণ জীবন ব্যাবস্থা হলো সেকেলে।
তার মানে আল্লাহর দ্বীন পরিপূর্ণ ছিলোনা (তাদের ভাষ্যমতে)
অথচ ইসলাম ই সেই জাহিলিয়াতের যুগ থেকে মানুষকে ইসলামের পথ দিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলো।
সমস্যা হলো গদি দখল করতে পশ্চিমারা যা গেলায় তাই গিলতে হয়।
এই আধুনিক বিচার ব্যাবস্থায় ধর্ষক দোষ স্বীকার করার পরেও শুনানি আসতে ১ বছর লাগে।
কার্যকর হতে আরো কিছু বছর।
ততদিন জনগনের টাকাই ই তাকে পালা হয়।
টাকা ক্ষমতার দাপট থাকলে তো জাবিন একটা ফর্মালিটির অপেক্ষামাত্র।
অনেকে বিচার ই চায়না লোকলজ্জায়,জানে বিচার পাবেনা এইজন্য।
তো এইদেশে ধর্ষন হবেনা কেন?

যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করেনা তারাই ( হচ্ছে ) কাফের।
-সূরা মায়িদা আয়াত ৪৫
আর, যারাই আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করবে না তারাই ( হচ্ছে ) জালেম ।
-সূরা মায়িদা আয়াত ৪৭

21/10/2025

--------------------------------------------------------
➡ সুখি হতে চান?- ক্ষমা করতে শিখুন।
➡ ধনী হতে চান? - পরিশ্রমী হোন।
➡ ক্ষমা পেতে চান?- বিনয়ী হোন।
➡ ব্যক্তিত্ববান হতে চান?- ঠাট্টা ছাড়ুন।
➡ জ্ঞানী হতে চান ?- কম কথা বলুন।
➡প্রিয়পাত্র হতে চান?- হাসতে শিখুন।
➡ সম্পদশালী হতে চান?-বেশীবেশী দানকরুন।
➡ মহৎ হতে চান?-নিজের ভুল খুজুঁন।
➡ সফলতা চান?- ধৈর্য্যধারন করুন।
➡ হীনমন্যতা এড়াতে চান?-প্রত্যাশা বর্জন করুন।
➡ পাপ থেকে বাঁচতে চান? -লোভ ত্যাগ করুন।
➡ স্রষ্টার কৃপা চান?-সুসময়ে শোকরিয়া করুন।
➡ অন্তরে শান্তি চান?-আপনজনদের সাথে ভাল ব্যহার করুন।

05/06/2025

মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না
মাওলানা শিব্বীর আহমদ
গত শতাব্দীর পৃথিবীতে আলো ছড়ানো এক মনীষী—মাওলানা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাযের কিছুক্ষণ আগে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। সারা জীবন যেমন আলো ছড়িয়েছেন মাওলানা নদভী, তাঁর মৃত্যুর দৃশ্যটিও ছিল তেমনি হৃদয়ছোঁয়া। জুমার নামাযের প্রস্তুতির জন্যে খাদেম এসে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি স্বাভাবিক অভ্যাস মোতাবেক সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবেন। কিন্তু কুরআন কারীম হাতে নিয়ে তিলাওয়াত শুরু করলেন সূরা ইয়াসীন। ১১তম আয়াতটি যখন তিলাওয়াত করলেন—

اِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَ خَشِيَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَّ اَجْرٍ كَرِيْمٍ.

[অর্থাৎ তুমি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারবে, যে কুরআন অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে, তাই তাকে তুমি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দাও]—তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এ মনীষী! ভাবা যায়, কত সুন্দর মৃত্যু! আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আগত ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ পড়তে পড়তে চলে গেলেন আল্লাহ তাআলারই সান্নিধ্যে। এমন মৃত্যু কে না চায়!

মৃত্যু যাদের এমন নেক হালতে হয়, তাদের জন্যে স্বভাবতই আমরা এক সুন্দর সমৃদ্ধ পরকালের আশা করি। কিন্তু মৃত্যু তো আমাদের কারো হাতে নয়। মৃত্যু থেকে আমাদের কারো যেমন পালিয়ে থাকার অবকাশ নেই, তেমনি সুযোগ নেই নিজে নিজে মৃত্যুকে জড়িয়ে ধরার। মৃত্যুর সময় নির্ধারিত। এ নির্ধারিত সময়েই প্রতিটি মানুষকে, প্রতিটি জীবকে গ্রহণ করতে হবে মৃত্যুর স্বাদ। এ মৃত্যু হচ্ছে সীমাহীন আখেরাতের প্রবেশদ্বার। মৃত্যুটা যদি সুন্দর হয়, নেক হালতে হয়, আশা করা যায়, আখেরাতের জীবনটাও সুন্দর হবে। আর এ তো বলাবাহুল্য— একজন মুমিনের কাছে সুন্দর মৃত্যু মানেই ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু। ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুই হচ্ছে একজন মুমিনের দুনিয়ার জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার মানদণ্ড। শেষটা যদি সুন্দর হয়, মৃত্যুটা যদি ঈমানের হালতে হয়, তবেই মুমিনের জীবন সফল। এ সফলতার সামনে দুনিয়ার শত অপ্রাপ্তি বঞ্চনা ও ব্যর্থতা নিতান্তই তুচ্ছ। প্রশ্ন হল, এ সুন্দর মৃত্যু পাওয়ার জন্য আমরা কী করতে পারি? পবিত্র কুরআন আমাদেরকে এ পথনির্দেশিকাই দিয়েছে—

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ.

হে মুমিনেরা! তোমরা আল্লাহকে পরিপূর্ণরূপে ভয় করো আর মুসলিম না হয়ে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না। —সূরা আলে ইমরান (০৩) : ১০২

মুমিনদেরকে ডেকে আল্লাহ তাআলা এখানে দুটি উপদেশ দিয়েছেন—

এক. আল্লাহকে পরিপূর্ণরূপে ভয় করো।

দুই. মুসলিম না হয়ে কেউ মরো না।

মৃত্যুর সময় যেহেতু আমাদের কারোই জানা নেই, তাই এখানে এমন অর্থ করা যাবে না— মৃত্যুর আগে তোমরা সকলে মুসলমান হয়ে যেয়ো। এটাও সম্ভব নয়— মৃত্যু দেখে কেউ ইসলাম গ্রহণ করবে, কিংবা কোনো মুসলিম তার যাবতীয় পাপ ও মন্দ কাজ থেকে তওবা করে নেবে। মৃত্যু যখন চলে আসবে, তখন তো আর এ সুযোগটুকু পাওয়া যাবে না। তাই তাফসীরকারদের কাছে এর স্বীকৃত অর্থ— জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই তোমরা মুসলিম হিসেবে কাটাও। এ অর্থে আয়াতের বাক্যদুটি একে অন্যের পরিপূরক, সমার্থক। পরিপূর্ণরূপে ভয়ের অর্থই হচ্ছে— সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা; জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার যত আদেশ ও নিষেধ তার সবগুলো পালন করা; কখনোই আল্লাহ তাআলার কোনো হুকুম অমান্য না করা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মুসলিম হিসেবে কাটানোর জন্যও এগুলো অপরিহার্য। আল্লাহ-রাসূল-কিতাব-পরকাল ইত্যাদি বিষয়গুলোতে কেবল বিশ্বাস স্থাপন করাই একজন মুসলিমের জন্যে যথেষ্ট নয়: বরং জীবনজুড়ে এ বিশ্বাসের প্রতিফলনও জরুরি। আল্লাহ তাআলার দেওয়া বিধান ও শরীয়ত মেনে চলার মাধ্যমেই আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে এ বিশ্বাস। তাই আয়াতের দুই বাক্যে উপদেশ মূলত একটাই। এ উপদেশটা মেনে চললে, স্বাভাবিক কথা, মৃত্যু আমাদের সুন্দর হবে।

দুর্বল মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে— দিবানিশি সারাক্ষণ কি সম্ভব আল্লাহ তাআলার হুকুম মেনে চলা? যে কোনো মুহূর্তে আমরা কোনো বিধানের কথা ভুলে যেতে পারি, শয়তানের প্ররোচনায় লঙ্ঘিত হতে পারে যে কোনো আদেশ। তাহলে কী করে সম্ভব আল্লাহ তাআলাকে পরিপূর্ণরূপে ভয় করা এবং প্রতিটি মুহূর্ত মুসলিম হিসেবে কাটানো? সূরা নিসায় আল্লাহ তাআলা এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন—

اِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَي اللهِ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السُّوْٓءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوْبُوْنَ مِنْ قَرِيْبٍ فَاُولٰٓىِٕكَ يَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِمْ وَ كَانَ اللهُ عَلِيْمًا حَكِيْمًا.

তওবা, যা কবুল করা আল্লাহর দায়িত্বে, তা তো তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, এরপর দ্রুতই তওবা করে। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। —সূরা নিসা (০৪) : ১৭

বোঝাই যাচ্ছে, ভুলবশত কোনো অন্যায় হয়ে যাওয়ার পর যখনই কেউ তওবা করবে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন। ভুল করার পর যখন কেউ অনুতপ্ত মনে লজ্জাবনত হয়ে ফিরে আসে, আল্লাহর দরবারে এবং কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চায়, তওবা ও ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তাআলা তখন তাকে অভাবনীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত করেন।

পবিত্র কুরআনের আরেকটি আয়াত—

اِلَّا مَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓىِٕكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّاٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ.

তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও নেক আমল করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেন। —সূরা ফুরকান (২৫) : ৭০

তওবা যে কেউ যে কোনো সময় করতে পারে। এর জন্য কোনো আয়োজন লাগে না। যে কোনো মুহূর্তে মনে মনে নিজের কৃত গোনাহের জন্যে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে সে পাপ কাজটি আর না করার প্রতিজ্ঞা করলেই তওবা হয়ে গেল। এক মুহূর্তের তওবাতেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যেতে পারে পেছনের দীর্ঘ জীবনের যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা। তবে যারা তওবার জন্য মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকবে, মৃত্যু আসলেই তওবা করে নেবে বলে ভাববে, তাদের জন্যে উচ্চারিত হয়েছে কঠোর সতর্কবাণী—

وَ لَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّاٰتِ حَتّٰي اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّيْ تُبْتُ الْـٰٔنَ وَ لَا الَّذِيْنَ يَمُوْتُوْنَ وَ هُمْ كُفَّارٌ اُولٰٓىِٕكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا.

তওবা তাদের জন্য নয়, যারা মন্দ কাজ করে চলে, অবশেষে যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলে, আমি এখন তওবা করলাম এবং তাদের জন্যও (তওবা) নয়, যারা কাফের অবস্থায় মারা যায়। তাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। —সূরা নিসা (০৪) : ১৮

সূরা আলে ইমরানের উপরোক্ত আয়াতে যে তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ইসলামী বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কেউ যখন তা প্রতিপালন করতে সক্ষম হবে, তখন তার নিরেট পার্থিব বিষয়গুলোও হয়ে উঠবে অফুরন্ত নেকির একেকটি উৎস। কোনো মুমিনের জীবনে যখন তাকওয়া থাকে, তখন তার দুনিয়াদারিও শুধু দুনিয়ার বিষয় থাকে না, তা দ্বীনের অংশ হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ ব্যবসার কথা বলি। ব্যবসা তো দুনিয়াতে নিজের ও অধীনস্থদের জীবিকা নির্বাহের জন্যই। সে হিসেবে এ তো নিরেট একটি পার্থিব বিষয়। কিন্তু একজন মুমিন ব্যবসায়ী যখন ব্যবসা করতে গিয়েও আল্লাহর কথা স্মরণ রাখবে, তাঁর দেওয়া বিধিবিধান মেনে চলবে, তখন এ ব্যবসাও হতে পারে তার মুমিন জীবনের সফলতার মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْاَرْضِ وَ ابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَ اذْكُرُوا اللهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.

(জুমার) নামায যখন শেষ হয়ে যায়, তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর দয়া (অর্থাৎ রিযিক) তালাশ করো এবং আল্লাহর কথা অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যেন তোমরা সফল হতে পার। —সূরা জুমা (৬২) : ১০

সফলতার এ ঘোষণা পাক কুরআনের। আগের আয়াতে বলা হয়েছে— যখন জুমার আযান হয় তখন ব্যবসা গুটিয়ে দ্রুত নামাযে যাও। আর এ আয়াতে বলা হয়েছে— নামায যখন শেষ হয় তখন আবারও ব্যবসায় লেগে যাও, তবে আল্লাহর কথা মনে রেখো, এতেই তোমাদের সফলতা।

এ তো গেল টাকা উপার্জনের প্রসঙ্গ। টাকা ব্যয়ের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—

وَ مَا تُنْفِقُوْنَ اِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللهِ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَيْرٍ يُّوَفَّ اِلَيْكُمْ وَ اَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ.

তোমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই খরচ কর; তোমরা যে সম্পদই খরচ কর তোমাদের তা(র প্রতিদান) পূর্ণরূপে দেওয়া হবে এবং তোমাদের ওপর জুলুম করা হবে না। —সূরা বাকারা (০২) : ২৭২

আমরা আমাদের সম্পদ তো কত উপলক্ষেই খরচ করি। দ্বীনী কোনো কাজে সহযোগিতা, ঈসালে সওয়াব, সদকায়ে জারিয়া ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে যেমন টাকা খরচ করি, আবার নিজের ও নিজের অধীনস্থদের প্রয়োজন মেটাতেও টাকা খরচ করি। আয়াতের ভাষ্য হল— দ্বীনী কাজে টাকা খরচ করলে যেমন এর প্রতিদান পাওয়া যাবে, নিজের ও নিজের অধীনস্থদের প্রয়োজনে টাকা খরচ করলেও পরকালে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে। শর্ত একটাই— উপার্জন ও খরচ হতে হবে আল্লাহ তাআলার বিধান মেনে। বলাবাহুল্য, আল্লাহর বিধান মেনে ব্যয় করলেই কেবল তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা করা যায়।

হাদীস শরীফে তো আরো স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে—

دِينَارٌ أَنْفَقْتَهٗ فِى سَبِيلِ اللهِ، وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهٗ فِى رَقَبَةٍ، وَدِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهٖ عَلَى مِسْكِينٍ، وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهٗ عَلٰى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا، الَّذِى أَنْفَقْتَهٗ عَلَى أَهْلِكَ..

একটি দিনার তুমি আল্লাহর পথে (জিহাদে) ব্যয় করলে, আরেকটি দিনার তুমি গোলাম আজাদ করার জন্য ব্যয় করলে, আরেকটি দিনার একজন মিসকীনকে দান করলে আর একটি দিনার তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করলে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে সেটিতেই, যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করলে। —সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৯৫

এভাবেই একজন মুমিনের পুরো জীবনটাকেই কল্যাণকর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের ও পরিবারের চাহিদা মেটানো, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করাটাও ইসলামে পুণ্যের কাজ বলে বিবেচিত। এমনকি পেশাব-পায়খানার মতো একান্ত মানবীয় প্রয়োজনগুলোও যখন শরীয়তের বিধান মেনে পূরণ করা হয়, সুন্নতে নববীর অনুসরণ করা হয়, তখন সেখানকার সময়টুকুও দ্বীনের অনুসরণেই অতিবাহিত হয়। অথচ দুনিয়াতে এর চেয়ে দৃষ্টিকটু জায়গা কি আর কিছু আছে?

এর বিপরীত দিকটিও অবশ্য-লক্ষণীয়। হাম্মামের ভেতরে থেকেও কেউ যেমন সুন্নতের অনুসরণ করে নেকি অর্জন করতে পারে, আল্লাহর ঘর মসজিদে গিয়ে যখন কেউ অন্যায় করে, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ও পবিত্র জায়গাটিতে থেকেও তার গোনাহ হতে থাকে। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের সুবাদে মসজিদে থেকেও চোখের গোনাহে জড়িয়ে পড়া বিচিত্র কিছু নয়। গীবত-পরনিন্দা তো সবযুগেই এক মারাত্মক ব্যাধি। এর পাশাপাশি মসজিদে ইবাদত করতে গিয়েও যদি অন্যায়ভাবে কারো ইবাদত বা বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানো হয়, তবে এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য সে পাপী সাব্যস্ত হবে। বোঝা গেল, সময় কিংবা স্থানটাই মূল বিষয় নয়। জীবনের নানামুখী চাহিদা— সে তো আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি। বেঁচে থাকার জন্য খেতে হয়, স্বাভাবিক জীবন কাটানোর জন্য বস্ত্র ও বাসস্থানের প্রয়োজন হয়। নিজের, পরিবারের সদস্যদের এসব চাহিদা মেটানোর দায়ভার শরীয়তের পক্ষ থেকেই আরোপিত। সৃষ্টিগত এক শারীরিক চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনেই সাংসারিক জীবনে প্রবেশ করতে হয়। এসব দায়দায়িত্ব পালনের জন্য আর্থিক সঙ্গতিও অনস্বীকার্য। এসব নানাবিধ চাহিদা মেটানোর জন্য একজন মুমিন যে সময়টুকু ব্যয় করে, তা যদি শরীয়তের বিধান মেনে করা হয় এবং চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও দ্বীনের অনুসরণ করা হয়, তবে দুনিয়াবী এসব কাজও নেক কাজ হয়ে যায়। তাই ঘরে-বাইরে, বাজারে কিংবা মসজিদে, অফিস-আদালত কিংবা দ্বীনী মজলিস— যেখানেই আমরা থাকি না কেন, প্রয়োজন সর্বত্র দ্বীন মেনে চলা, দ্বীনী নির্দেশনা পুরোপুরি অনুসরণ করা। জীবনের পদে পদে শরীয়তের বিধান যদি মেনে চলতে পারি, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে যদি আমরা আমাদের আদর্শ বানাতে পারি, তাহলে মৃত্যু আমাদের যেখানেই হোক, যখনই হোক, সে মৃত্যু আমাদের জন্য হবে এক সসীম সুন্দরের সমাপ্তি আর এক অসীম সুন্দরের শুভ সূচনা— ইনশাআল্লাহ।

প্রতিটি মুমিন তো এমন মৃত্যুরই অপেক্ষায় থাকে।
[ মাসিক আলকাউসার || জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৬ || ডিসেম্বর ২০২৪ ]

16/05/2025
11/02/2025

যেদিন থেকে আমি জানতে পেরেছি, আমার রিজিক আমি ছাড়া অন্য কেউ ভোগ করতে পারবে না, সেদিন থেকে আমার হৃদয়ে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি তৈরি হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ!!!

সেদিন থেকে আমি কাউকে নিজের প্রতিদ্বন্দি ভাবিনা, কারও ভালো দেখে আমি আফসোস করি না। জীবনে যা যা পাইনি তার কোনটাই আমার রিজিকে ছিলোনা বিশ্বাস করেছি এবং সেজন্য আফসোস হয়নি আর কোনদিন। আমি একটা শান্তির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সবকিছু আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছি।

নিজের রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তার কিচ্ছু নেই। আমার বা আপনার ভাগেরটুকু কেও নিতে পারবেনা, এই অধিকার আল্লাহ তায়ালা কাউকে দেননি।
"রিজিকের ফা'য়'সালা আ'স'মানে হয়, জ'মিনে না"

আর হ্যা! শুধু খাদ্যদ্রব্যই কিন্তু রিজিক নয়! পরিবারের সুখশান্তি, পেশাজীবনের সফলতা, নেক জীবনসঙ্গী, নেক সন্তান, উত্তম আখলাক, টাকা পয়সা, নেককার বন্ধুও রি'জিকের অন্তর্ভুক্ত আলহামদুলিল্লাহ ❤️

31/01/2025

জীবন আমাকে শিখিয়েছে,
প্রথম হলো নিজেকে নিয়ে খুশি থাকা,
দ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া কারো প্রতি কোন আশা না রাখা।

সেদিন সত্যিকারের মানুষ হবে, যেদিন সেদিন অন্যের ভুল ধরার আগে নিজের ভুল ধরতে শিখবে।

আমাদের ইচ্ছার থেকে আল্লার সিদ্ধা'ন্ত উত্তম। কারন তিনি যা করেন আমাদের ভালোর জন্যই করেন।

25/01/2025

একটা প্রশ্ন অনেকের মনেই জন্মাতে পারে- "বিয়ে নিয়ে এতো কথা বলার কি দরকার আছে? বিয়ের সময় হলে তো মানুষ বিয়ে করবেই! তাছাড়া ফেসবুকে বসে চিল্লাইলে তো লাভ নাই। অধিকাংশ পরিবারের অভিভাবকরা তো এসব পড়ে না কিংবা দেখে না।"
আরেকটা ভুল ধারনা আছে অনেকের মাঝে, বিয়ে নিয়ে কথা বলছে মানেই সে সম্ভাবত বিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগে। এটাকে কেউ কেউ রোগও বলে! আবার অনেকে মনে করে বিয়ে নিয়ে যারা কথা বলে তারা মনে হয় পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান এটার মাঝেই খুজে পায়! তা না হলে বিয়ে নিয়ে এত কথা কেন! এত ফ্যান্টাসি কেন? সেটার প্রতিবাদে অনেক পোষ্টও হয়!
আসুন, প্রথমে বোঝার চেষ্টা করি, বিয়ে নিয়ে আমাদের কেন এত বেশি আলোচনা করা জরুরি! এমনকি কারো নিজের এই মুহুর্তে বিয়ের প্রয়োজন না হলেও কেন এটার দাওয়াতি কাজে অংশ নেয়া তার জন্যও গুরুত্বপুর্ন?! যদি এই বিষয়টা বুঝা যায় তাহলে বিয়ে নিয়ে এত আলোচনা কেন করো? বিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগো? এরকম কথা কেউ বলবে না, কিংবা বললেও আমরা তাকে বিষয়টা বুঝাতে পারবো!
একটু পিছনের দিকে দৃষ্টি দিন। আমাদের সমাজে আগে বিয়ের বয়স কেমন ছিলো? উত্তর হবে বাল্যকাল। ভারত উপমহাদেশ তো বটেই সারা পৃথিবীতেই খুব দ্রুত সময় বিয়ের প্রচলন ছিলো। ছেলে মেয়েদের ১০/১২ বছর হলেই বাবা মা বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে দ্রুত বিয়ে করাটাই হলো কল্যানকর এবং সন্তানদের দ্রুত বিয়ে দেয়া নির্দেশ। এতে করে বিয়ের যে মুল উদ্দেশ্য '“চরিত্র পবিত্র রাখা'” তা অর্জিত হবে। অন্যথায় বিলম্ব বিয়ের ব্যবস্থা করলে বিয়ে ব্যতিত ব্যভিচারের সমাজ কায়েম হবে।
এখন আসুন...! আমাদের দেশে তো দ্রুত বিয়ের সংস্কৃতিই ছিলো। এই তো পল্লী কবি জসিম উদ্দিন মাত্র কয়েক বছর আগেও তার কবর কবিতার বিখ্যাত দুইটি লাইন লিখেছিলেন:
“এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।”

হ্যাঁ, এটাই ছিলো আমাদের সংস্কৃতি। যেখানে শশুরবাড়ি গিয়েও পুত্রবধু পুতুল খেলতো! কিন্তু আমাদের এই সংস্কৃতি কারা নষ্ট করলো? কেন নষ্ট করলো?
বাংলাদেশে প্রচুর এনজিও কাজ করে! এর মধ্যে ইউনিসেফ সবার কাছেই পরিচিত। এই ইউনিসেফের প্রধান ও মুল একটা মিশনই হলো '“মেয়েদের দ্রুত বিয়ে রুখে দেয়া।” আমাদের সমাজে কেন দ্রুত বিয়ে হচ্ছে, তার একটা কারন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “আমাদের দেশে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়।” এর মানে হলো দ্রুত বিয়েকে রোখার জন্য বিয়ের আগের সম্পর্ককে সাধারন মানুষের কাছে অপরাধ নয়, এরকম প্রচার চালাতে হবে! যে কারনে বিভিন্ন টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, সিনেমা, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজে হারাম প্রেমের পক্ষে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। প্রেম করা কি অপরাধ! পবিত্র ভালোবাসা ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে প্রেমকে স্বাভাবিক বিষয় পরিনত করা হয়েছে এবং বিয়েকে বানানো হয়েছে অপরাধ। এখন সমাজের অনেক যুবক যুবতি জানেই না যে বিয়ে ছাড়া প্রেমের সম্পর্ক হারাম। বন্ধু মহলেও প্রেম করা কোনো ঘৃনার বিষয় নয়, বরং হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। এমনকি অনেক বাবা মাও একথা বলে “এই বয়সে তো একটু একটু প্রেম করবেই”! অভিভাবক শ্রেনীর কাছেও প্রেম এখন স্বাভাবিক বিষয়।
দেখুন, ইউনিসেফ দ্রুত বিয়েকে রুখে দেওয়ার জন্য কেনো কোটি টাকা খরচ করছে! ঘরে ঘরে দাওয়াত দিচ্ছে! যেনো মেয়েদের দ্রুত বিয়ে না দেওয়া হয়। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলিম সমাজে ব্রেনওয়াস করা হচ্ছে। আজকে আমাদের সমাজে যে বিয়ে কঠিন বিষয়ে পরিনত হয়েছে, তার অন্যতম কারন তাদের এই এক চেটিয়া প্রচারনা।
তারা যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে ঘরে ঘরে গিয়ে বিয়েকে কঠিন করার জন্য দাওয়াত দিয়েই যাচ্ছে আর আমরা এ বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্বই দেইনি! এখন সেই কাফিরদের ভাষায়-ই অধিকাংশ মুসলিমদের কথা বলতে শোনা যায়! কিন্তু বিয়ের গুরুত্ব নিয়ে তেমন আলোচনা আমাদের সমাজে হচ্ছে না।
ফলাফল?! “বিয়ে কঠিন হচ্ছে আর সহজ হচ্ছে জিনা ব্যভিচার।” মুসলিম সমাজে জিনা ব্যভিচার ছড়িয়ে দেয়া কাফিরদের একটা মিশন।
একটা ঐতিহাসিক ঘটনা আছে- “স্পেন যখন কাফিররা ধ্বংস করেছিলো, তখন এক রাজা স্পেনে একজন গোয়েন্দা পাঠিয়েছিলেন এটা দেখার জন্য যে, তাদের যুবকদের অবস্থা কী! সেখানে গোয়েন্দা এক বাগানে গিয়ে দেখে যে একটা বাচ্চা কান্না করছে। তিনি সেই বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কেন কান্না করছো?‘ বাচ্চা জবাব দেয়, ‘আমি পাঁচটা তীর নিক্ষেপ করেছিলেম। আমার একটা তীরও লক্ষবস্তু ভেদ করেনি, এজন্য আমি কান্না করছি।’ ঐ গোয়েন্দা বাদশার কাছে রিপোর্ট পাঠায় এই বলে যে, ‘এই মুহুর্তে এই দেশে আক্রামন করবেন না।’ ঠিক তার কয়েক বছর পর এক বাগানে গিয়ে দেখে, এক যুবক কান্না করছে। তাকে কান্নার কারন জিজ্ঞাসা করা হলে সে জবাব দিয়েছিলো, ‘তার প্রেমিকা তাকে ছেড়ে চলে গেছে।‘ তখন ঐ গোয়েন্দা বলেন, ‘এখন আক্রামন করুন, এদেশের যুবকরা প্রেমাসক্ত’।”
ভাই আমার! কাফিররা যুগ যুগ ধরে মুসলিম যুবক যুবতির মাঝে ব্যভিচার ছড়িয়ে দেয়াটাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই জাতিসংঘ, যার জন্মই হয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য, যাতে আর কোনো খেলাফত ব্যবস্থা ফিরে না আসে। সেই জাতীসংঘেরই একটি শাখা সংগঠন হলো ইউনিসেফ। তার মিশনও উম্মাহ যাতে জাগ্রত না হয় সেটাই। এর জন্যই দরকার উম্মাহর মাঝে জিনা ব্যভিচার ছড়িয়ে দেয়া, এটাকে আইনি করা। আর বিয়েকে বে-আইনি ঘোষনা করা। আর তারা করছেও তা-ই। যারা প্রেমে জড়াবে তারা বহু গুনাহে জড়িয়ে পড়বে। যুবকরা যখন প্রেম করবে, স্বাভাবিকই সে ধর্ম থেকে দূরে চলে যাবে।
আজকে সমাজে প্রেমের কারনে গুনাহের ছড়াছড়ি। ব্যভিচার, পরকীয়া এবং নিষ্পাপ শিশু হত্যা সহ ব্যাপক আকারে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়েছে যুব সমাজে। আপনি চিন্তা করুন, কাফিরদের এনজিও গুলো এবং কাফিরদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব বেহায়াপনাই প্রোমোট করছে।

তাহলে আজকে যুব সমাজ দ্বীন থেকে সরে যাওয়ার অন্যতম কারন, “সমাজে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি।”
এখন আমরা যদি দ্রুত বিয়ে নিয়ে কথা না বলি, কাফিরদের মিথ্যা যুক্তিগুলো খন্ডন না করি, ইসলামের বিয়ের গুরুত্ব যদি সমাজে প্রচার না করি, তাহলে তো একচেটিয়া ভাবে সেই কাফিরদের এনজিওদের কথাই মানুষ শুনবে। দেখুন, ওরা স্কুল-কলেজ, বাসা-বাড়ি, হাটে-বাজারে সব স্থানে প্রচার চালাচ্ছে, যাতে দ্রুত বিয়ে না হয়। এটাই ওদের মিশন। সেই তুলনায় বিয়ের প্রচারনা কতটুকু হচ্ছে? অনলাইনে কিছুটা আলোচনা হলেও অফলাইনে তো এসব নিয়ে আলোচনাই নেই! কোনো সেমিনার নেই! কোনো অভিভাবক সভা নেই! অথচ এটা নিয়ে ব্যাপক প্রচার দরকার ছিলো।
মনে রাখবেন, দ্রুত বিয়ে করতে না দেয়া এটা বর্তমান বিশ্বের মুসলমানদের সাথে কাফিরদের যুদ্ধেরই অংশ। কারন যুবকরা যদি তাদের ধর্ম নিয়ে সচেতন হয়, তবে ইসলামের হারানো ইঞ্চি ইঞ্চি ভুমি আবার ইসলামি শরিয়াহর শাসনে চলে আসবে। এটাই ওদের ভয়। এই জন্যই যুবকদেরকে এক প্রকার মিথ্যা পাপাচারের দুনিয়ায় ব্যস্ত রাখছে।
তাই দয়া করে বিয়ে নিয়ে আলোচনা করাকে কম গুরুত্বপূর্ণ ভাববেন না। আপনার কাছে এটার গুরুত্ব না থাকলেও, শত শত এনজিও মাঠপর্যায় এটা নিয়ে কাজ করছে। কাফিররা কোটি কোটি টাকা খরচ করে যাচ্ছে এই প্রোজেক্টে..! তাই এটার গুরুত্ব উপলদ্ধি করুন।
আপনি বিয়ে করতে পারুন বা না পারুন, এটা উপলদ্ধি করুন, দ্রুত বিয়ে নিয়ে এই আলোচনার উদ্দেশ্য আপনার বিয়ে করা নয়, বরং এই সমাজকে পরিবর্তন করা। নতুন প্রজম্মের জন্য বিয়েকে সহজ করা। তাই যারা বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে, তাদের দিকে বিরুপ মন্তব্য না ছুড়ে বরং নিজে এর গুরুত্ব ও বাস্তবতা উপলদ্ধি করার চেষ্টা করুন...

💚ইন শা আল্লাহ 🥰
©

এক লোক ফল বিক্রেতার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল—ক্রেতা : আপেলের কেজি কত?বিক্রেতা : ১০ রিয়াল।ক্রেতা : কলা?বিক্রেতা : ৮ রিয়ালক্র...
23/01/2025

এক লোক ফল বিক্রেতার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল—
ক্রেতা : আপেলের কেজি কত?
বিক্রেতা : ১০ রিয়াল।
ক্রেতা : কলা?
বিক্রেতা : ৮ রিয়াল
ক্রেতা : কমলা?
বিক্রেতা : ৬ রিয়াল।

ক্রেতা-বিক্রেতা দামাদামী চলছে এমন সময় জনৈকা বয়স্ক মহিলা দোকানে ঢুকেই জিজ্ঞেস করল,
মহিলা : আপেলের কেজি কত?
বিক্রেতা : ৩ রিয়াল।
মহিলা : কলা?
বিক্রেতা : ২ রিয়াল
মহিলা : কমলা?
বিক্রেতা : ২ রিয়াল।

মহিলাটি বলল, এগুলো ১ কেজি করে আমাকে দিন।

ওদিকে পুরুষ ক্রেতাটি তো হতবাক। চোখ রাঙিয়ে দোকানদারকে কিছু বলতে যাবে, এমন সময় সে চোখের ইশারা দিয়ে বলল, একটু অপেক্ষা করুন।

মহিলাটি দাম চুকিয়ে দোকান থেকে বিদায় নেয়ার পর দোকানদার বলল, ভাই! আমার উপর খারাপ ধারণা করবেন না। আমাকে অ-স‍‌ৎ ও ধোঁ-কা-বাজ মনে করবেন না। আল্লা-হর কসম! আমি আপনাকে প্র-তারণা করতে চাইনি।

এই মহিলাটি কয়েকজন 'ইয়াতীম' বাচ্চার মাতা। আমি জানি তারা অভাবী পরিবার। ঐ ইয়াতীমগুলোর জন্য আমি মহিলাটিকে বিভিন্নভাবে সহায়তার কথা বলেছি। কিন্তু মহিলাটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সে চায় তার সন্তানরা যেন কারো গ-লগ্রহ না হয়। কারো কাছে হাত বাড়াতে না হয়।

তাই তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য অনেক ভেবে-চিন্তে আমি এই পন্থা অবলম্বন করেছি। যেন বুঝতে পারে যে, সে কারো মুখাপেক্ষী নয়।

এর মাধ্যমে আমি আমার রবের সাথে ব্যবসা করতে চেয়েছি। সামান্য কিছু হলেও এই অভাবী মহিলা এবং তার ইয়াতীমগুলোর খেদমত করতে চেয়েছি। আমার আমল নামায় কিছু সওয়াব যেন আল্লাহ লিখে দেন।

আল্লাহর কসম, সপ্তাহে সে মাত্র ১ বার আসে। আর যেদিন সে আমার নিকট থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায়, সেদিন আমার প্রচুর ব্যবসা হয়। অনেক লাভবান হই। কিভাবে যে আমার কাছে রিযিক আসে আমি অনুভব করতে পারি না।

ঘটনা শুনে পুরুষ ক্রেতাটির চক্ষু দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। দোকানদারের মাথায় চুম্বন করে বলল, আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

- শায়খ আব্দুল্লাহিল কাফি!

15/01/2025

- একজন দ্বীনি বোনের আর্তনাদ !

আমি নুজাইরাহ। আজ আমার বিয়ে। বিয়ে পুরোপুরি ঠিক করার পর আব্বু আমার মতামত শুনতে চেয়েছিলো একবার। বড্ড হাসি পাচ্ছিলো!

আমার "হ্যাঁ, না" জবাব উনি তখনই শুনতে চেয়েছে যখন 'না' বলার দরজা বন্ধ প্রায়। বাবার কথার কোন উত্তর দেই নি। নীরবতাকে সম্মতির বহিঃপ্রকাশ মনে করে বাবা চলে গেছে। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে মাকে বলেছিলাম,

মা, লোকটার যে দাড়ি ছিলো না, টাখনুর উপর প্যান্টও নেই! দ্বীন সম্পর্কে কি পরিপূর্ণ ধারণা আছে তার?

আমাকে কি পরিপূর্ণ পর্দা করতে দিবে?

মায়ের জবাবটা এমন ছিলো—

"ছেলেটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। দশ গ্রামে ছেলেটার ভালো নাম। এতো ভালো চাকরী করে। তোর পর্দা, তোর কাছে। ও তোকে বাধা করবে কেনো!"

আমি বরাবরের মতো আজও বাবা মায়ের একটু বেশিই বাধ্য সন্তান! তাই বিয়ের আয়োজন নির্বিঘ্নে এগিয়ে চললো...

এই পরিসরে আমি আমার সম্পর্কে একটু বলে নেই, খুব ইসলামিক নয় সামাজিক একটা পরিবারে আমার জন্ম। এখানে কেউ দ্বীন মেনে চললে, সবাই খুশি হয়, কিন্তু না মানলেও খুব একটা রাগ করে না। সেই সুবাদে আমার পর্দা করতে কোন সমস্যা হয়নি এখানে। গত দু বছর আগে, পর্দা সম্বন্ধে, ইসলাম সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানতাম না! কিন্তু আমার এক দ্বীনদার বান্ধবীর কাছে এসব সম্বন্ধে অনেকটাই জেনেছি। খুব ভালো লেগেছে আল্লাহর দেওয়া প্রতিটা বিধি নিষেধকে। তাই নিজেরই জীবনে সেগুলো বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি দুইটা বছর। অনাবিল এক শান্তি আছে, আল্লাহকে হুকুমদাতা মেনে নিতে পারায়। এটা খুব বুঝেছি এই দুই বছরে।

আমি এখন শশুড়বাড়িতে। সবাই বেশ ভালোই। এ বাসাটা একেবারে গ্রামে। বিশাল আঙিনা।

চাকরির সুবাদে শহরের যাওয়ার কথা উঠলেও বৃদ্ধ শশুড়-শাশুড়িকে রেখে যাওয়াটা ভালো লাগছিলো না। তাই এখানেই থাকা। বাসার সদর দরজাটা সব সময় খোলাই থাকে কে কখন বাসায় ঢুকে বলাই যায় না। পরিবেশটা খুব অস্বস্তিকর লাগে আমার কাছে। আমার দেবর-ভাসুরের সামনে গেলে উড়নার একপাশটায় মুখটা ঢেকে দেই। কিন্তু বিষয়টা কারও কাছেই ভালো লাগে না তেমন!

সেদিন আমার উনি তো বলেই দিলো, এটা কি বেশি বেশি নয়। ওরা তো বাড়িরই লোক। আর মুখ খোলা রাখাটা কি জায়েজ নয়। তারপরও একতরফা সংগ্রামটা করেই গেলাম কিছুদিন। কিন্তু লাভ হলো না।

রান্না করতে, কাপড় মেলতে অথবা বাবার চা টা দিতে গিয়ে একবার না একবার গায়রে মাহরামদের সামনে পড়তেই হচ্ছে!!

আজ দুপুরে গোসল সেরে ফ্যানের নীচে চুল শুকাচ্ছিলাম। অবশ্য এসময়ে ঘরের দরজাটা লাগিয়েই দিতাম। কিন্তু কাল মা বলল, দিনের বেলায়ও দরজা লাগানোর কি প্রয়োজন?

তাই আজ খোলাই ছিলো দরজাটা। আজ হঠাৎ আমার ছোট দেবর ঘরে ঢুকে পড়ল। আমাকে দেখে একগাল হেসে বলল,

ভাবী আজ তো তোমার চুলও দেখে ফেললাম! তারপরে আরও একতরফা হাসতে হাসতে বলল, ভাইয়ার নেইলকাটার টা নিতে এলাম, দাও তো।

অগত্যা নেইল কাটার টা এগিয়ে দিয়ে ধপ করো বসে পড়লাম বিছানায়। কান্না এলো, খুব করে কান্না এলো। কিন্তু কাঁদারও বেশি সময় নেই যে। মা ডাকছে বাবাকে ভাত বেড়ে দিতে হবে। এভাবেই চলছে দিনগুলো....

হঠাৎ একদিন আমার দেবরের এক বন্ধু বাসায় এলো। আঙিনায় কাজ করছিলাম। বুঝতেই পারি নি পেছন থেকে কখন এসে পড়েছে। হঠাৎ আমার সামনে এসে দাঁড়ালো! ওড়না দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেললাম। তবে দেরী হয়ে গেলো! ছেলেটা আমার চেহারা ভালো করেই দেখেছে। কমেন্ট করতেও ভোলে নি!

"বাহ্! ভাবীর চেহারাটা তো বেশ মিষ্টি!"

আমি তখন পুরো বোবা বনে!

পর্দা করার পর থেকে কেউ আমাকে সুন্দর, কিউট, মিষ্টি বলার সুযোগটা ও পায় নি কোনদিন!

ইশ্, আমি বুঝি অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি! কই বুক ফেঁটে কান্নাটা তো আসছে না আর!

তবে আজ সারাদিন ছেলেটার "মিষ্টি" কথাটা বুকের মধ্যে হাতুড়ির আঘাত করছে অবিরাম। কোন কাজেই শান্তি পাচ্ছি না।

আমার বিয়ের দুবছর হলো। আমি নার্সিং হোমে আজ। কাল সিজার করে আমার এক ছেলে হয়েছে। আমি এখন পুরোই শয্যাশায়ী! নড়তে পারছি না। আমার স্বামীই আমার দেখাশোনা করছে। আজ আমার ননদ আর ননদের স্বামী এসেছে আমাকে দেখতে! আমার গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে দেওয়া আছে! নড়তে না পারলেও বুঝতে পারছি, আমার পা দুটো টাখনু পর্যন্ত বাইরে বেড়িয়ে আছে। আমার ননদের স্বামী আমার পায়ের দিকের সোফায় গিয়ে বসল! আমি যখন তার দিকে তাকালাম তখন দেখি তার চোখদুটো আমার পায়ের দিকেই নিবন্ধ! এখন তো আমার শক্তি নেই আমার পা দুটোকে ঢেকে দেওয়ার!!

আর ওকে (স্বামী) বলার মতো কোন ইচ্ছেই নেই এখন!

এটা তার কাছে নিছকই ছেলে মানুষই মনে হবে!

অতীত স্মৃতিগুলো কেনো জানি খুব মনে পড়ছে আজকে। যখন থেকে শুনেছি, এই পা দুটো ঢাকাও ফরয। তখন থেকে কতনা বিড়ম্বনার মধ্যে ও পা দুটোকে ঢেকে রেখেছি। মোজা না পড়ে কখনই বাড়ি থেকে বের হই নি। আজ যে পারলাম না!

আজ আমার সিজারের পাঁচদিন হলো। এখনো একা-একা হাঁটতে পারি না। আমার হাজবেন্ড আমার বাহুটা ধরে, বাথরুমে নিয়ে যায়। আজও তাই হচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎই তার মোবাইল বেজে উঠল। তাই জরুরী ফোন কিনা!

তাই উনি আমার দেবরকে আমাকে ধরতে ইশারা করে, দ্রুতই বেলকনিতে চলে গেলো! এবার আমার দেবর, আলতো করে ধরলো আমার বাহুটা!!!

ইশ্ আজ যদি সুস্থ থাকতাম দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে বাঁচাতাম। কিন্তু সে শক্তি যে নেই আমার শরীরে! হঠাৎই মনে হলো,

আল্লাহ! নন মাহরামের হাতের স্পর্শ পাওয়ার আগেই, যদি ঐ অপারেশন টেবিলেই চলে যেতাম তোমার কাছে! ভালো হতো না কি!

না, হতো না হয়তোবা!

তাই বেঁচে আছি। আলহামদুলিল্লাহ!

আমি এখন বৃদ্ধাপ্রায়। ২৫ বছর কেটে গেলো বিয়ের। আমার ছেলের বয়স ২৩ বছর। আমার আরও একটা মেয়েও হয়েছে। ওর বয়স ২০। আজ খাবার টেবিলে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললাম, বাবা, দাড়িটা আর কাটিস না, রেখে দে। একটা হাসি দিয়ে ছেলে আমাকে বলল,

বাবার আগেই আমি দাঁড়ি রাখবো! তার এই কথাটার যুতসই কয়েকটা জবাব জানা ছিলো। কিন্তু না, বলা যাবে না! আমার উনিও তো এখনো দাড়ি রাখেনি! ছেলেকে বলতে গিয়ে, যদি ছেলের বাপ কষ্ট পেয়ে যায়!

বেলকনিতে দাড়িয়ে, ঐ বিশাল আকাশটা দেখছি। আজ ২৫ বছর পর! তোমার কথাগুলো খুব মনে পড়ছে মা। তুমি না বলেছিলে সব ঠিক হয়ে যাবে! কই মা, কিছুই তো ঠিক হলো না! উল্টো তোমার মেয়েটাই এখন জীবন্ত লাশ!

যৌবন বয়সটাও ঠিকঠাক পর্দা করা হলো না, তোমার মেয়ের!!

তবে জানো মা! একটা জিনিস ঠিকই ছিলো! তোমার মেয়েকে কোনদিন অভাবের ছিটে ফোটাও দেখতে হয় নি! তোমার জামাই তো আজও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে!! কিন্তু তারপরে ও বুকের ভিতরে একটা বিশাল শূণ্যতা! আমি তো শুধু কোন নামাজীকে বিয়ে করতে চাই নি! আমি একজন সাহাবাকে বিয়ে করতে চেয়ছি! যে নিজের জীবনের চেয়েও ভালোবাসবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ)-কে।

জানো মা, আজও আমার মনে হয়, যদি চলে যেতে পারতাম, ২৫ বছর আগের দিনগুলোতে! ছোট্ট নুজাইরার, বোরকা নিকাবগুলো যদি আবার ফিরে পেতাম! সেগুলোতে একটা শান্তির পরশ আছে মা! আল্লাহকে ভালোবাসার এবং তাঁর ভালোবাসা পাবার এক অনাবিল শান্তি.....!

লিখাটি সংগৃহীত

কার্টেসী: رضا - সন্তুষ্টি

15/01/2025

প্রশ্নঃ
আসসালামুয়ালাইকুম,
নামাজে চিন্তা আসলে কি করবো?

উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

নামাজ এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এ ইবাদত আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার অনন্য একটি মাধ্যম।

মুমিন জীবনের অন্যতম একটি ইবাদত হলো সালাত বা নামাজ। ইসলামের প্রথম স্তম্ভ সালাত এবং কেয়ামতের দিন সর্ব প্রথম বিচার ফয়সালা হবে সালাতের মাধ্যমে।

রাসূল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব হবে। (তিরমিজি)

দৈনন্দিন জীবনে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে বিঘ্নতা, অলসতা ও নানা ধরনের চিন্তার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। এর প্রধান কারণ হলো সালাতে একনিষ্ঠতা, মনোযোগ না থাকা।

একনিষ্ঠ ছাড়া সালাত কখনো আল্লাহ কবুল করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা একনিষ্ঠতার সঙ্গে আমার ইবাদত কর। (সুরা বাইয়্যিনা-৫)

সালাতে পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ সাধনে পাঁচটি কৌশল রয়েছে।

১/ প্রথম কৌশল হলো,
অন্তরের মধ্যে এই অনুভব করা এটা শেষ নামাজ। মৃত্যু এমন একটি বিষয়ের যা কখন আসে বলা যায় না।

দুনিয়া এখন গ্লোবাল ভিলেজের মাধ্যমে হাতের মুঠোয়, কিন্তু মৃত্যু এর বাহিরের একটি অজানা-অধরা বিষয়।

সালাতে যখন দাঁড়াবে তখন এটা অনুভব করতে হবে এটাই বিদায়ী নামাজ। রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন তুমি সালাতে দাঁড়াও তখন তুমি বিদায়ী সালাত পড়। (মুসনাদে আহমদ)। হতে পারে এটি জীবনের শেষ নামাজ।

২/ সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির দ্বিতীয় কৌশল হলো,
এ অনুভব করা সালাত হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথনের মাধ্যম।

সালাতের মাধ্যমে গোলাম ও মনিবের মাঝে কথা বলা যায়। যদিও সেটা আমাদের শ্রবণ হয় না, তবুও এ মনোভাব ধারণ করতে হবে অন্তর দ্বারা আমরা কথা বলছি।

আল্লাহতায়ালা বলেন, বান্দা যখন নামাজ পড়ে তখন তা আমি আধা-আধি ভাগ করি এবং তার কথার উত্তর দিয়ে থাকি। (বুখারী)

বান্দা যখন বলে, সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই বিশ্বজগতের মালিক। তখন আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার প্রশংসা আদায় করেছে।

এভাবে প্রতিটি কথার উত্তর দিয়ে থাকেন।
এই অনুভবটা অন্তরের মাধ্যে লালন করতে পারলে নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি হবে।

৩/ সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির তৃতীয় কৌশল হলো, ধীরস্থির হয়ে সালাত আদায় করা। সালাত মুমিন জীবনে সবরের (ধৈর্য) শিক্ষা দেয়।

সালাত নম্র-ভদ্র হয়ে বিনয়ের সাথে আদায় করতে হয়।

আল্লাহতায়ালা বলেন, মুমিনরা তাদের সালাতে বিনয়ী অবলম্বন করে। (সুরা মুমিনুন-০২)

যত্নসহকারে সালাত আদায় না করলে সালাতে মনোযোগ সাধন হবে না। কেরাত, রুকু ও সেজদায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করতে হবে।

রাসূল (সা.) বলেছেন, লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চোর ওই ব্যক্তি যে, ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়ে না ও রুকু সেজদায় দেরি করে না। (তীবরানি)

তাসবিহ তাহলিলগুলো অর্থসহ জানার মাধ্যমে ধীরস্থিরভাবে সালাত আদায় করতে হবে; যার ফলে মনোযোগ অন্যদিকে ঝুঁকে পড়ার সুযোগ থাকবে না।

৪/ সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির চতুর্থ কৌশল হলো
এ অনুভব করা- আমি আল্লাহর সঙ্গে দেখা করছি।

আল্লাহতায়ালা সার্বক্ষণিক আমাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন কিন্তু দুনিয়ার কোনো চর্মচক্ষু দ্বারা তাকে প্রত্যক্ষ করা সম্ভব না।

সালাতের ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এমনভাবে, যেন তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন। (বুখারি, মুসলিম)

আল্লাহর সামনে যখন মাথানত করতে হয় তখন এই ভয়ে করতে হবে তিনি যেন আমাকে দেখতে পাচ্ছেন।

পৃথিবীর সব চোখ এড়ানো যায় কিন্তু আল্লাহর চোখ কখনো এড়ানো সম্ভব নয়। বান্দা যখন সেজদা দেয় তখন আল্লাহর কুদরতি পায়ের উপরে সিজদা দেয়।

সুতরাং এক্ষেত্রে খুবই সজাগ থাকতে হবে। এই অনুভব লালন করতে পারলে ভয় বৃদ্ধি পাবে ও পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ সাধন হবে।

৫/ সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির সর্বশেষ কৌশল হলো- পূর্ববর্তীদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

পূর্ববর্তী হলো- সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে-তাবেইন ও বিশিষ্ট ইসলামী স্কলাররা। কারণ তারা সর্বত্র আল্লাহকে বেশি ভয় করে এবং তাদের মতের ভিত্তিতে অসংখ্য মাসয়ালার সমাধান হয়ে থাকে।

রাসূল (সা.) যেভাবে নামাজ পড়তেন সাহাবায় কেরাম নিজ চোক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাদের থেকে ধারাবাহিকভাবে আলেমরা শিক্ষা লাভ করেছেন।

তাদের এই শিক্ষার আলোকে দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করতে পারলে খুশু, বিনয়ীভাব ও পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ লাভ সম্ভব হবে।

তাই আমাদের সবার উচিত এই পাঁচটি কৌশল দৈনন্দিন অনুশীলন করা। এগুলোর মাধ্যমে নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা রাখি- ইন শা আল্লাহ।

07/01/2025

একাকিত্বের ৮ টি কারন :

১. আল্লাহর দিকে মনোযোগ না থাকা।
(সূরা ত্বহা আয়াত ১২৪)

২.আত্নসমালোচনা ও তাওবার অভাব।
(সূরা নূর আয়াত ৩১)
(সূরা হাশর আয়াত ১৮)

৩.মানুষ থেকে দূরে থাকা (সব মানুষ নয়)
(সূরা মায়িদা আয়াত ০২)

৪.কৃতজ্ঞতার অভাব।
(সূরা ইবরাহীম আয়াত ০৭)

৫.অপরের প্রতি খারাপ ধরনা রাখা।
(সূরা হুজরাত আয়াত ১২)

৬.আত্মঅহংকার।
(সূরা লোকমান আয়াত ১৮)

৭.পরকালের চিন্তা ও প্রস্ততির অভাব।
(সূরা আ'লা আয়াত ১৭-১৮)

৮.পাপ সম্পর্কে ইস্তেগফার না করা।
( সূরা ফুরক্বন আয়াত ৭০)

একাকিত্ব দূর করে:

আল্লাহ সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক।
(সূরা রাদ আয়াত ১৮)
(সহীহ মুসলিম ৪৮২)

পরিবারের সাথে সু সম্পর্ক এবং সামাজিক কাজ।
(সহীহ মুসলিম ২৪)

Address

Chittagong

Telephone

+8801303441975

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Dawah -with Riazul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share