29/11/2025
হযরত সুলাইমান (আঃ) এর মৃত্যু সম্পর্কে অজানা ঘটনা।
হযরত সুলাইমান (আঃ) ছিলেন একজন অত্যন্ত ক্ষমতাধর নবী,যাঁর রাজত্বে মানুষ,পশুপাখি এবং জিনেরা পর্যন্ত তাঁর অনুগত ছিল। আল্লাহর নির্দেশে তিনি জিনদের দিয়ে বড় বড় ও কঠিন কাজ করিয়ে নিতেন।
সুলাইমান (আঃ) একজন শক্তিশালী একজন নবী ছিলো। একবার তিনি মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা)-কে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:
"আপনি যখন আমার রূহ কবজ করতে আসবেন, তখন কি আমার মৃত্যুর কিছু সময় আগে আমাকে অবহিত করবেন? কারণ, আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যা আমি সম্পন্ন করতে চাই।"
ঠিক যেমনটি কথা ছিল, মালাকুল মউত সুলাইমান (আঃ)-এর কাছে এসে বললেন: "টাইম ইজ ওভার (Time is over), সময় শেষ! আপনার হাতে আর অল্প কিছু সময় বাকি। যা করার আছে, দ্রুত করে নিন।"
মালাকুল মাউত মৃত্যুর কিছু সময় আগে বলেন সুলাইমান time is over সময় শেষ। অল্প কিছু সময় বাকি। কি করবেন করেন।
🔨 জিনদের মহাপ্রকল্প
সংকেত পেয়েই সুলাইমান (আঃ) কালক্ষেপণ না করে জিনদেরকে ডাকলেন। তিনি বললেন: "ওহে জিনের দল! একটি বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের কাজ শুরু করো। দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।
একইসাথে, তিনি তাঁর বিশ্বস্ত কিছু অনুচরকে নির্দেশ দিলেন যেন চারদিকে কাঁচ (গ্লাস) দিয়ে ঘেরা একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হয়। সেই কাঁচের ঘরে প্রবেশ করে সুলাইমান (আঃ) নিজের লাঠির ওপর ভর করে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং জিনদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।
আসলে, জিনদের একটি অংশ ছিল অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির। তারা সুলাইমান (আঃ)-এর ভয়েই কাজ করত; যদি তিনি দাঁড়িয়ে না থাকতেন বা তদারকি না করতেন, তবে তারা কাজ থেকে বিরত থাকত।
🐜 লাঠি ভক্ষণ ও সত্য প্রকাশ
সুলাইমান (আঃ) এমনভাবেই লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যে, মালাকুল মউত তাঁর রূহ (প্রাণ) কবজ করে নিয়ে গেলেন। তাঁর শরীরটা তখন নিথর হয়ে কেবল একটি লাশে পরিণত হয়েছিল, কিন্তু লাঠির ওপর ভর থাকার কারণে তিনি জমিনে লুটিয়ে পড়েননি—তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন।
দূরে থাকা জিনেরা দেখল যে, তাদের 'বস' (সুলাইমান আঃ) স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। জিনেরা মনে করলো যে, বস যেহেতু দাঁড়িয়ে আছেন, তাই কাজ করতেই হবে। ভয়ে ও কর্তব্যের তাড়নায় তারা বিরতিহীনভাবে সেই বিশাল প্রজেক্টের কাজ চালিয়ে যেতে লাগলো।
অনেকদিন ধরে জিনেরা কাজ করতে করতে সেই পুরো প্রজেক্টের কাজ শেষ করে ফেলল।
ইন দ্য মিনটাইম (In the mid time), একটি ছোট পোকা (তেলাপোকা বা উইপোকা) সুলাইমান (আঃ)-এর লাঠির ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে তা খেয়ে ফেলছিল। একসময় পোকাটি যখন লাঠির ভেতরের কাঠ শেষ করে দিল, তখন সেই দুর্বল লাঠিটি ভেঙে গেল। আর তখনই, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর নিথর দেহটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
সুলাইমান (আঃ)-এর লাশ জমিনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিনেরা বুঝতে পারল যে, তিনি বহু আগেই ইন্তেকাল করেছেন। এই দেখে তারা আফসোস করে বলতে শুরু করল: "হায় হায়! আমরা এত কঠিন কাজ করলাম! খালি খালি এত দিন ধরে কাজ করছি! যদি আমরা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানতাম, তবে কখনও এমন অপমানজনক শাস্তি ভোগ করতাম না।"
এভাবে সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জিনেরা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না।
আল্লাহর পরিকল্পনা: এটি ছিল আল্লাহর এক বিস্ময়কর পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে তিনি জিনদের ক্ষমতা ও অদৃশ্য জ্ঞান সম্পর্কে তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।
শিক্ষা: এই ঘটনার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ যা চান তা কোন না কোন উপায়ে সম্পন্ন করেন। এমনকি মৃত ব্যক্তির মাধ্যমেও তিনি তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন।
অপ্রত্যাশিত ঘটনা: জিনরা এই অপমানের শিকার হয়েছিল কারণ তারা গায়েবের বা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করত।