02/08/2020
রাসূল (সা.) প্রদত্ত শেষ যমানায় ঘটতব্য ফিতনার সময় করণীয় বিষয়াবলী অনুসরণ করবো।
এই ক্ষেত্রে যে দুটো হাদিস আমার কাছে প্রায়োরিটি পায় তা হলো:
ℹ নবী (ছা.) বলেন,
অচিরেই বিভিন্ন রকম ফিতনার আবির্ভাব ঘটবে। ফিতনার সময় বসে থাকা ব্যক্তি ফিতনার দিকে পায়ে হেঁটে অগ্রসরমান ব্যক্তির চেয়ে এবং পায়ে হেঁটে চলমান ব্যক্তি আরোহী ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক নিরাপদ ও উত্তম হবে। ফিতনা শুরু হয়ে গেলে যার উট থাকবে সে যেন উটের রাখালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং যার ছাগল আছে সে যেন ছাগলের রাখালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে । আর যার চাষাবাদের যমিন আছে, সে যেন চাষাবাদের কাজে ব্যস্ত থাকে।
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী! যার কোন কিছুই নেই সে কি করবে?
নবী (ছা.) বললেন, পাথর দিয়ে তার তলোয়ারকে ভোঁতা করে ফেলে নিরস্ত্র হয়ে যাবে এবং ফিতনা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে।
অতঃপর তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি?
হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌছে দিয়েছি?
হে আল্লাহ আমি কি আমার দায়িত্ব পৌছে দিয়েছি?
অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি আমাকে জোর করে কোন দলে নিয়ে যায় এবং সেখানে গিয়ে কারো তলোয়ার বা তীরের আঘাতে আমি নিহত হই তাহলে আমার অব্যস্থা কি হবে?
উত্তরে নবী (ছা.) বললেন,
সে তার পাপ এবং তোমার পাপের বোঝা নিয়ে জাহান্নামের অধিবাসী হবে।
(মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।)
ℹ মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাদিঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেনঃ
লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে কল্যাণের বিষয়াদি জিজ্ঞাসা করত।
কিন্তু আমি তাকে অকল্যাণের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এ ভয়ে যে, যেন অকল্যাণ আমাকে পেয়ে না বসে।
আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ
ইয়া রাসুলুল্লাহ!
আমরা তো জাহলিয়াতের ও অকল্যাণের মাঝে ছিলাম। এরপর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এ কল্যাণের মধ্যে নিয়ে আসলেন। এ কল্যাণের পর আবারও কি অকল্যান আসবে?
তিনি বললেনঃ
হ্যা।
আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ
সে অকল্যাণের পর আবার কি কোন কল্যাণ আসবে?
তিনি বললেনঃ হ্যা। তবে এর মধ্যে কিছুটা ধূম্রাচ্ছনতা থাকবে।
আমি প্রশ্ন করলামঃ
এর ধূম্রাচ্ছনতা কিরুপ?
তিনি বললেনঃ
এক জামাআত আমার তরীকা (কুরআন ও সুন্নাহ বা সরল পথ) ছেড়ে অন্য পথ অবলম্বন করবে। তাদের থেকে ভাল কাজও দেখবে এবং মন্দ কাজও দেখবে।
আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ
সে কল্যাণের পর কি আবার অকল্যাণ আসবে?
তিনি বললেনঃ হ্যা। জাহান্নামের প্রতি আহবানকারী এক সম্প্রদায় হবে। যে ব্যাক্তি তাদের আহবানে সাড়া দেবে, তাকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে।
আমি বললামঃ
ইয়া রাসুলাল্লাহ!
তাদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা আমাদের বর্ণনা করুন।
তিনি বললেনঃ
তারা আমাদের লোকই এবং আমাদের ভাষায়ই কথা বলবে।
আমি বললামঃ
যদি এরুপ পরিস্থিতি আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে কি করতে নির্দেশ দেন?
তিনি বললেনঃ
মুসলিমদের জামাআত ও ইমামকে আকড়ে থাকবে।
আমি বললামঃ
যদি তখন মুসলমানদের কোন (সংঘবদ্ধ) জামাআত ও ইমাম না থাকে?
তিনি বললেনঃ
তখন সকল দলমত পরিত্যাগ করে সম্ভব হলে কোন গাছের শিকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকবে, যতক্ষন না সে অবস্হায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়। (বুখারী)
👉 বাকীগুলো পড়তে পারেন:
নবী (ছা.) বললেন, পাথর দিয়ে তার তলোয়ারকে ভোঁতা করে ফেলে নিরস্ত্র হয়ে যাবে এবং ফিতনা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে।…