07/07/2022
"কোরবানি যেন হয় আল্লাহর রাজি খুশির জন্য"
কুরবানীর দিন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে কুসুমের মা কুসুমের বাবাকে বললেন, আমি তো পিঁয়াজ মরিচ কেটে রেখেছিলাম, কেউ তো গোশত পাঠালো না! প্রতিবেশীরা আমাদের কথা ভুলে গেলো না তো ?
আপনি কি একটু গিয়ে দেখবেন?
কুসুমের বাবাঃ তুমি তো জানো আজ পর্যন্ত কারো কাছে আমি হাত পাতিনি।
আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কোন না কোন ব্যবস্থা করে দেবেন।
দুপুরের পর কুসুমের মা'র পীড়াপীড়িতে বের না হয়ে পারলেন না। প্রথম গেলেন বড় সাহেবের বাড়ীতে। বললেন,বড় সাহেব! আমি আপনার পড়শী। কিছু গোশত দেবেন ?
গোশত চাইতেই বড় সাহেবের চেহারা গোস্বায় লাল হয়ে গেল। তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, কি জানি কোত্থেকে গোশত চাইতে চলে আসে-বলেই ধরাস করে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
অপমানে কুসুমের বাবার চোখে পানি চলে আসলো। ভারী পায়ে চলতে চলতে এবার গেলেন মিঁয়া সাহেবের ঘরের দিকে, দরজায় করাঘাত করে বিনীতভাবে কিছু গোশত চাইলেন। মিঁয়া সাহেব গোশতের কথা শুনেই বিরক্তিভরে তাকালেন, পলিথিনে কয়েক টুকরো গোশত দিয়ে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলেন।
যাক ছোট মেয়েটাকে তো একটা বুঝ দেয়া যাবে, এমনটা ভাবতে ভাবতে কুসুমের বাবা ঘরে ফিরে এলেন। ঘরে ফিরে পলিথিন খুলে দেখলেন শুধু দুটো হাড্ডি আর কিছু চর্বি।
কুসুমের বাবা চুপচাপ ঘরে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
এরই মধ্যে ছোট কুসুম -কিছু বুঝতে পেরে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা ! গোশত লাগবে না। আমি গোস্ত খাবো না, আমার পেট ব্যাথা করছে। মেয়ের একথা শুনে বাবা আর চাপা কান্না ধরে রাখতে পারলেন না,হাও মা-ও করে কাঁদতে থাকলেন।
এমন সময় বাইরে থেকে সবজি বিক্রেতা আকরাম ভাই ডাক দিলো।
কুসুমের বাপ ঘরে আছেন ? কুসুমের বাবা দরজা খুলতেই আকরাম ভাই তিন- চার কেজি গোশতের একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে বলল- গ্রাম থেকে ছোট ভাই নিয়ে এসেছে। এতো গোশত কি একা খাওয়া সম্ভব, বলেন? এটা আপনাদের জন্য।
আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় কুসুমের বাবা ভেজা চোখ মুছতে লাগলেন!!
অন্তর থেকে আকরামের জন্য দোয়া করতে লাগলেন। গোশত রান্না করে সবাই মজা করে খেয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচন্ড তুফান শুরু হলো। বিদ্যুৎ চলে গেল। সারা রাত গেল, এমনকি দ্বিতীয় দিনও গেল বিদ্যুৎ এলো না। তুফানে ট্রান্সমিটার জ্বলে গিয়েছে। তাই তিন দিন বিদ্যুৎ নেই।
কুসুমের বাবা তৃতীয় দিন কুসুমকে নিয়ে হাঁটতে বের হলেন। বাবা-মেয়ে দেখলেন,
বড় সাহেব ও মিঁয়া সাহেব গোশতে ভরা অনেক গুলো পোঁটলা ডাস্টবিনে ফেলছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা সব গোশত নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
সাহেবদের ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুর কে হামলে পড়তে দেখে,কুসুম বলল- বাবা তারা কি,কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করেছিলেন ?
পাশ থেকে মিঁয়া সাহেব ও বড় সাহেব ছোট কুসুমের কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন।
হ্যাঁ, এটিই আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষের বাস্তবচিত্র। ইসলাম এটাকে ঘৃনা করে।
আমরা যেন মিঁয়া সাহেব ও আর বড় সাহেবদের মতো না হই। লাইনে দাঁড় করিয়ে নয়। বরং (সম্ভব হলে) অভাবীদের ঘরে গিয়ে এবং প্রতিবেশি যাঁরা কোন কারনে কুরবানী দিতে পারেননি তাঁদের নিকট গোশত পোঁছে দেই আন্তরিকতার সাথে নিজেরা গিয়ে। কোন কাজের লোক বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য হয় এমন কাউকে দিয়ে নয়,তাঁরা যেন লজ্জিত না-হয় কোন আচরণে তাহলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন।
আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশায় আমরা সকলেই কাজ করে যাব। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত নেক আ'মল গুলো কবুল করুন। আমাদের ভুল-ত্রুটি গুলো যেন মাফ করে দেন- আমিন।