27/05/2026
প্রেস রিলিজ
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রথমেই আপনাদেরকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ১৯২৮ইং থেকে শাইখুল মাশাইখ, রাইসুল মুনাযেরীন, বিশ্ব মুফতী আল্লামা ইসহাক রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুর জেলার এই ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ ও দেশের বিভিন্ন দরবারের লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃন্দ সহ বাংলাদেশের প্রায় ৩০টি জেলায় অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সর্বপ্রথম নবচঁন্দ্র দর্শনের নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে, প্রতি বছরই পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা সহ ধর্মীয় সকল উৎসবাদি পালন করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৬-মে-২০২৬ইং মোতাবেক ২৯-জিলক্বদ-১৪৪৭হিজরী, রোজ শনিবার পৃথীবির কোথাও জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ১৭-মে-২০২৬ইং তারিখ রবিবার জিলক্বদ মাসের ৩০ তারিখ পুর্ণ করার পাশাপাশি ১৪৪৭হিজরী সালের জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ায় ১৮-মে-২০২৬ইং রোজ সোমবার জিলহজ্ব মাসের ১তারিখ ঘোষিত হয় এবং সেই অনুযায়ী গতকাল ২৬-মে-২০২৬ইং মোতাবেক ০৯-জিলহজ্ব-১৪৪৭হিজরী রোজ মঙ্গলবার মুসলমানদের সর্ববৃহত জমায়েতস্থল আরাফাহ’র ময়দানে পবিত্র হজ্ব পালিত হয় এবং আজ ২৭-মে-২০২৬ইং মোতাবেক ১০-জিলহজ্ব-১৪৪৭হিজরী রোজ বুধবার, মহান আল্লাহর সম্মানীত মেহমান হাজ্বী সাহেবগণ সহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ’র সাথে এক যোগে তথা একই তারিখে ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ এবং অত্র দরবারের সকল খানকাহ সমুহে বিশেষ করে চাঁদপুর জেলায় শতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে।
অত্র দরবারের পক্ষ থেকে দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব মুফতী আল্লামা ইসহাক রহ. এঁর মাযার শরীফ সংলগ্ন ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ ময়দানে, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অত্র দরবারে পীর সাহেব কিবলা উস্তাযুল উলামা ওয়াল ফুকাহা অধ্যক্ষ আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল-মাদানী(মুঃ জিঃ আঃ) এর ইমামতিতে প্রধান জামাত কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ এর পর মীলাদ শরীফ পাঠান্তে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ’র কল্যান, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
নামাজের পূর্ব বক্তব্যে অত্র দরবারের পীর সাহেব কেবলা অধ্যক্ষ আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষই আমরা মুসলমান, আমাদের ধর্ম ইসলাম এবং আমাদের দেশের মুসলমানগণ অধিকাংশই হানাফী মাযহাবের অনুসারী। ইসলামী শরীয়াহ’র দলীল চারটি যথাঃ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস এবং মাযহাব চারটি যথাঃ হানাফী, মালেকী, হাম্বলী ও শাফেয়ী। বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানই এই চারটি মাযহাবের যেকোন একটিকে অনুসরণ করে থাকেন। শরীয়তের চারটি দলীলের আলোকে রিসার্চ করলেই পাওয়া যায়, হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী এই তিনটি মাযহাবের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে সর্বপ্রান্তের মুসলমানদের উপর রোজা রাখা ও ঈদ করা আবশ্যক।
তিনি আরো বলেন আপনারা নিশ্চই জানেন যে, আরাফাহ’র দিন রোজা রাখা সুন্নাত এবং ইহাও জানেন যে, ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। সর্বপ্রথম চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে গতকাল ইয়াওমে আরাফাহ তথা পবিত্র হজ্ব হয়ে গিয়েছে এবং আজ বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া সকল দেশে তথা সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ আজ একই তারিখে পবিত্র ঈদুল আযহা পালন করছে। সুতরাং গতকাল আরাফার দিন ছিলো এটা জানার পরও যারা আজ ঈদের দিনে আরাফাহ’র রোজা রেখেছে, তারা যেনে বুঝেই ঈদের দিনে রোজা রেখে হারামে লিপ্ত হলো। অতএব বিজ্ঞানের যুগে সকল সচেতন মুসলমান বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে রোজা-ঈদ সহ ধর্মীয় সকল উৎসবাদি সঠিক দিনে পালন করা ঈমানী কর্তব্য।
প্রিয় কলম যোদ্ধা ভাইয়েরা, আশাকারি আপনারা এই সঠিক বিষয়টি জাতির কাছে উপস্থাপন করে সত্য প্রচারে সহযোগী হবেন। অতিতের ধারাবাহিকতায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে লক্ষ্যে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসায় আপনাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
শুভেচ্ছান্তে-
পীরজাদা মাওলানা আহমাদ রিদ্বা চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফ