20/03/2026
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রথমেই আপনাদেরকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ১৯২৮ইং থেকে বিশ্ব মুফতী আল্লামা ইসহাক রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানাধীন আমাদের এই ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ ও দেশের বিভিন্ন দরবারের লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃন্দ সহ বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি জেলায় অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সর্বপ্রথম নবচঁন্দ্র দর্শনের নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে প্রতি বছরই পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা সহ ধর্মীয় সকল উৎসবাদি পালন করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭-ফেব্রুয়ারী-২০২৬ইং রোজ মঙ্গলবার সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র মাহে রমাদ্বানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ১৮-ফেব্রুয়ারী-২০২৬ইং রোজ বুধবার থেকে ১৪৪৭হিজরী সালের পবিত্র মাহে রমাদ্বান এর রোযা শুরু হয় এবং সেই অনুযায়ী গত ১৮-মার্চ-২০২৬ইং মোতাবেক ২৯-রামাদ্বান-১৪৪৭হিজরী রোজ বুধবার, শাওয়াল মাসের চাঁদ উদয়ের নির্ভরযোগ্য সংবাদ না পাওয়ায় গতকাল ১৯-মার্চ-২০২৬ইং রোজ বৃহস্পতিবার পবিত্র মাহে রমাদ্বানের ৩০ রোযাা পুর্ণ করে আজ ২০-মার্চ-২০২৬ইং মোতাবেক ১-শাওয়ল-১৪৪৭হিজরী রোজ শুক্রবার, ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ এবং অত্র দরবারের সকল খানকাহ সমুহে বিশেষ করে চাঁদপুর জেলায় ৫০টির উপরে গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর এর নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ ময়দানে, পীর সাহেব কিবলা অধ্যক্ষ আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী মু.জি.আ এর ইমামতিতে সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হলো। নামাজ পূর্ব বক্তব্যে পীর সাহেব কিবলা বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষই আমরা মুসলমান, আমাদের ধর্ম ইসলাম এবং আমাদের দেশের মুসলমানগণ অধিকাংশই হানাফী মাযহাবের অনুসারী। ইসলামী শরীয়াহ’র দলীল চারটি যথাঃ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস এবং মাযহাব চারটি যথাঃ হানাফী, মালেকী, হাম্বলী ও শাফেয়ী। বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানই এই চারটি মাযহাবের যেকোন একটিকে অনুসরণ করে থাকেন। শরীয়তের চারটি দলীলের আলোকে রিসার্চ করলেই পাওয়া যায়, হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী এই তিনটি মাযহাবের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে সর্বপ্রান্তের মুসলমানদের উপর রোজা রাখা ফরজ ও ঈদ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন সকলেরই একটি কথা জানা রয়েছে যে, ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। তাই সর্বপ্রথম চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে রোজারেখে বিশ্বের অসংখ্য মুসলমানরা যখন আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছে তখন আমাদের দেশের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর আলেমগণ কোন কারনে ঈদের দিনে রোজা রেখে নিজেরাও হারাম কাজ করছেন এবং গোটা জাতির দ্বারাও হারাম কাজ করাচ্ছেন তা আজ জাতির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব বিজ্ঞানের যুগে সকল সচেতন মুসলমান বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে রোজা-ঈদ সহ ধর্মীয় সকল উৎসবাদি সঠিক দিনে পালন করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী কর্তব্য।
দরবার শরীফের পীরজাদা পীর মুফতী ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন ১৮-মার্চ-২০২৬ইং তারিখ আফগানিস্তান ও মালিতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে মর্মে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচার করা হলেও তা নির্ভরযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তির্ণ না হওয়ার কারণ হচ্ছে محاق বা Conjunction বা সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর কেন্দ্র এক সরল রেখায় আসার পর কমপক্ষে ১০ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার আগে শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়েও হিলাল দেখা সম্ভব নয়। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অবস্থান ৬৯.১৭° ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায়। UTC হতে সময় অগ্রগামী ৪:৩০ ঘন্টা। ২০২৬ সনের ঈদুল ফিতরের তথা শাওয়াল মাসের চাঁদের Conjunction বা محاق হয়েছে ১৯মার্চ বৃহস্পতিবার UTC ১:২৩ মিনিটে যখন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:২৩ মিনিট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সময় ১৯-মার্চ-২০২৬ইং বৃহস্পতিবার সকাল ৫:৫৩ মিনিট। অতএব আফগানিস্তানে ১৯-মার্চ-২০২৬ইং বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের সময় টেলিস্কোপ দিয়ে হিলাল দেখা সম্ভব কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ১৮-মার্চ-২০২৬ইং বুধবার হিলাল দেখা সম্ভব নয়, সম্ভব নয়। তাই তাঁরা হয়তো ভুল করে আগের মাসের শেষ চাঁদকে হিলাল হিসেবে প্রচার করছে। তাছাড়া ১৮-মার্চ-২০২৬ইং বুধবার আফগানিস্তানে যদি হিলাল দেখা যেত, তাহলে অবশ্যই ক্রমান্বয়ে তার পশ্চিমের দেশগুলো ইরান, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান, লেবান, ইজরায়েল, মিশর, লিবিয়া ও মরক্কোতে অবশ্যই হিলাল আরো ভালোভাবে দেখা যেত কিন্তু ১৮-মার্চ-২০২৬ইং বুধবার এসব দেশে হিলাল দেখার কোনো প্রমাণ নেই। আর মলির চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন মালিতে চাঁদ অস্তমিত হয়েছে সেখানকার সময় সন্ধ্যা ৬:২২মিনিটে এবং সূর্য অস্তমিত হয়েছে সেখানকার সময় সন্ধ্যা ৬:৪২ মিনিটে অর্থাৎ সূর্য অস্তমিত হওয়ার ২০মিনিট পূর্বে চাঁদ অস্তমিত হয়েছে বিধায় তাঁদের দ্বারা হিলাল বা নতুন চাঁদ দেখা অসম্ভব। অতএব নির্ভরযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তির্ণ না হওয়ার কারণে ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ আফগানিস্তান ও মালির সংবাদ গ্রহণ করেনি।
প্রিয় কলম যোদ্ধা ভাইয়েরা, আশাকারি আপনারা সঠিক বিষয়টি জাতির কাছে উপস্থাপন করে সত্য প্রচারে সহযোগী হবেন। অতিতের ধারাবাহিকতায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে লক্ষ্যে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসায় আপনাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
শুভেচ্ছান্তে-
পীরজাদা মাওলানা আহমাদ রিদ্বা চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ