16/07/2023
অভিমন্যুর পরাক্রম (সিরিয়াল বনাম ইতিহাস)
লিখা শুরু করার পূর্বে পাঠকের প্রতি অনুরোধ, কমপক্ষে ২০ মিনিট সময় এবং ধৈর্য নিয়ে পড়তে বসবেন।
সিরিয়ালে আমরা যে অভিমন্যুকে দেখেছি আর মহাভারত গ্রন্থের অভিমন্যু প্রায় আকাশ পাতাল তফাৎ! এক লাইনে বলতে গেলে সিরিয়ালের অভিমন্যুর মৃত্যু আমাদের কাঁদিয়েছে বটে কিন্তু অভিমন্যুর প্রকৃত তেজ কখনোই উপলব্ধি করতে দেয়নি, বরং অভিমন্যুকে অবাধ্য বালক হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আচার্য দ্রোণ কৌরব সৈন্য দ্বারা নির্মাণ করেছিলেন চক্রব্যূহ। যেটি ভেদ করতে অর্জুনের সমকক্ষ ধনুর্বিদের প্রয়োজন। চক্রব্যূহের মধ্যস্থলে অবস্থান করে যুদ্ধ করলে তবেই চক্রব্যূহ ধ্বংস হতে পারে। অর্জুন সেদিন সমন্তপঞ্চকে নেই। কেন নেই সেই আলোচনায় যাচ্ছি না কারণ আর্টিকেল খুব বেশি বড় হতে চলছে।
যাইহোক, অর্জুনের সমকক্ষ ধনুর্বিদ যেসকল যোদ্ধা রয়েছেন তাদের সকলেই কৌরবপক্ষীয়। আর পাণ্ডবপক্ষে অর্জুন, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীকৃষ্ণপুত্র প্রদ্যুম্ন এবং অর্জুনপুত্র অভিমন্যু-এই চারজনই কেবল চক্রব্যূহ ভেদ করতে পারেন। সিরিয়ালে আমরা দেখেছি এমন মূহুর্তে এগিয়ে আসে অভিমন্যু। কিন্তু মৃত্যুর আশংকায় বাঘা বাঘা ধনুর্বিদদের সম্মুখে পুত্র অভিমন্যুকে ছাড়তে নারাজ চার পাণ্ডব। যুধিষ্ঠির, ভীমসেন, নকুল এবং সহদেব বহুভাবে বুঝিয়েও পুত্র অভিমন্যুকে আটকাতে পারলেন না। কেন? কারণ আজ অভিমন্যু ইতিহাস রচনা করবে। সে অবাধ্য হয়েই ভেদ করলেন চক্রব্যূহ। চক্রব্যূহের মধ্যস্থলে অবস্থানরত অভিমন্যুর যে আচরণ দেখানো হয়েছে সেটা নিতান্তই হাস্যকর। সিরিয়ালে দুর্যোধনপক্ষের সকলের মনোভাব ছিল এমন যে, এক নিতান্ত পরাক্রমশালী বালকের চক্রব্যূহ ভেদ দেখে তারা অভিমন্যুর বালখিল্য আচরণে সহানুভূতিশীল হয়েছিলেন। বিশেষ করে গুরু দ্রোণ, কর্ণ, দুঃশাসনপ্রমুখ শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাগণ। অবশেষে বালখিল্য যুদ্ধ (বালখিল্য বলছি কারণ মাহাভারতে অভিমন্যুর যুদ্ধ বর্ণনা অনুসারে এটি বালখিল্যই বটে) করে ক্লান্ত এক বালকের মৃত্যুদান করার জন্য কর্ণ এগিয়ে আসলেন। আঘাত করলেন তলোয়ার দিয়ে। সিরিয়ালে অভিমন্যু হত্যার মূল পরামর্শদাতা শকুনি।
এখানে সিরিয়াল লেখকে তিনটা ভুল প্রথমেই শুধরে দিতে চাই।
অভিমন্যু প্রথম থেকেই চক্রব্যূহ ভেদ করার ইচ্ছায় বিচরণ করছিলেন বটে, কিন্তু অভিমন্যু অবাধ্য হয়ে চক্রব্যূহতে প্রবেশ করেননি। চার পাণ্ডব যখন দ্রোণের ধনুনির্গত বাণ থেকে সৈন্যদের রক্ষা করতে পারছিলেন না তখন স্বয়ং যুধিষ্ঠির অভিমন্যুকে চক্রব্যূহ ভেদ করার ভার অর্পণ করেছিলেন। সিরিয়াল লেখক হয়তো এটা ভুলেই গিয়েছিলেন যে, মহাভারতে বিশেষ করে রাজা পাণ্ডুর পুত্র ও পৌত্রগণ কখনো গুরুজনের অবাধ্য হননি!
অভিমন্যুর হত্যা কর্ণ করেননি, করেছিলেন দুঃশাসনের পুত্র। গদা দিয়ে মস্তকে আঘাত করেছিলেন। এবিষয়ে নিচে বিস্তারিত লিখব। সম্ভবত সিরিয়াল লেখক কর্ণ চরিত্রের মাহাত্ম্য বৃদ্ধির জন্যই এই দৃশ্যপট তৈরি করেছিলেন।
হত্যার মূল পরামর্শদাতা শকুনি নয়, গুরু দ্রোণাচার্য।
এবার আমরা মূল বিষয়ে আলোকপাত করি। কেমন ছিল দ্রোণকর্তৃক নির্মিত চক্রব্যূহে অভিমন্যুর পরাক্রম? আসুন শুরু করি। প্রিয় পাঠক, আশাকরি ধৈর্যহারা না হয়ে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়বেন। আমি কেবল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ গুলো এখানে উল্লেখ করব। নিচে রেফারেন্স দেওয়া থাকবে, আপনারা চাইলে মহাভারত থেকে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ পড়ে নিবেন।
যুধিষ্ঠির অভিমন্যুর উপর চক্রব্যূহ ভেদ করা দায়িত্ব অর্পণ করলেন। কেননা, অভিমন্যু স্বয়ং অর্জুনের নিকট অস্ত্রবিদ্যা লাভ করেছিলেন। অভিমন্যু প্রায় অর্জুনের সমকক্ষ যোদ্ধা ছিলেন। সুতরাং যুধিষ্ঠির তাঁকেই এই দায়িত্ব দিলেন। অভিমন্যু যুধিষ্ঠিরের আদেশ পেয়ে বললেন- ‘‘আমার পিতা আমার নিকট কেবল চক্রব্যূহ ভেদ করার উপায় বলেছিলেন। সুতরাং কোনো বিপদ উপস্থিত হলে আমি নির্গত হতে সমর্থ হব না।’’ এই কথা শুনে যুধিষ্ঠির বললেন- ‘‘তুমি ব্যূহ ভেদ করো এবং দ্বার প্রস্তুত করে দাও, তারপর তুমি যে পথে যাবে, আমরা সেই পথে তোমার পিছনে পিছনে যাব।’’ মূলত এভাবেই পরিকল্পনা করে অর্জুনপুত্র অভিমন্যু সারথি সুমিত্রকে আদেশ করলেন দ্রোণসৈন্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য এবং চার পাণ্ডবও তাঁকে অনুসরণ করে অগ্রসর হন।
কৌরবপক্ষীয় সৈন্যগণ এই দৃশ্য দর্শন করা মাত্রই পাণ্ডবগণকে প্রতিহত করার জন্য যুদ্ধ শুরু করেন। এদিকে অভিমন্যু দ্রোণের সম্মুখেই ব্যূহ ভেদ করে তার মধ্যে প্রবেশ করলেন। অভিমন্যু ব্যূহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে কৌরবপক্ষীয় সৈন্যগণ অভিমন্যুর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেন। অভিমন্যু মর্মভেদী বাণ দ্বারা তাদের বধ করতে লাগলেন। এগুলো দেখেও কৌরবপক্ষীয় সৈন্যগণ এমনভাবে অভিমন্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন যেন হাজার হাজার পতঙ্গ অগ্নির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তখন অগণিত সৈন্য অভিমন্যু সংহার করেন। এই দৃশ্য দেখে কৌরবপক্ষীয় অন্যান্য সৈন্যগণ পলায়ন করা শুরু করলে দুর্যোধন অত্যন্তক্রুব্ধ হয়ে নিজেই অভিমন্যুর দিকে ধাবিত হলেন। এই ছিল অভিমন্যুর যুদ্ধসূচনা।
এবার আসল খেলা শুরু... 😎
গুরু দ্রোণাচার্য অভিমন্যুর এই পরাক্রম দেখে কৌরবপক্ষীয় বীরগণকে বললেন- ‘‘আপনারা রাজাকে (দুর্যোধনকে) রক্ষা করুন। কেননা, বলবান্ অভিমন্যু আমাদের সামনেই দুর্যোধনকে হত্যা করতে পারে।’’
অর্থাৎ দ্রোণের এই বক্তব্য থেকে আমরা অনুমান করতে পারি যে দুর্যোধনের মত বীরকে অভিমন্যু নিহত করার শক্তি রাখে।
যাইহোক, এরপর দ্রোণ, অশ্বত্থমা, কৃপ, কর্ণ, কৃতবর্মা, শকুনি, বৃহদ্বল, শল্য, ভূরি, ভূরিশ্রবা, শল, পৌরব ও বৃষসেন-এই ১৩ জন একত্রে বাণ নিক্ষেপ করে অভিমন্যুকে আবৃত করেন এবং দুর্যোধনকে অভিমন্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু অভিমন্যু তা সহ্য করলেন না। তিনি সিংহনাদ করলেন। অভিমন্যুর এই গর্জন শুনে দ্রোণপ্রভৃতি বীরগণ অত্যন্তক্রব্ধ হয়ে অভিমন্যুকে পরিবেষ্টন করে দলে দলে নানারকম বাণসমূহ একত্রে নিক্ষেপ করলেন। আর অভিমন্যু সেই বাণসমূকে আকাশেই ছেদন করে উল্টো তাদেরকেই প্রতিবিদ্ধ করে দিলেন। এ যেন ধনুর্বিদ্যার এক অদ্ভুত প্রদর্শন! এভাবে অনেক্ষণ যুদ্ধ চলল। অভিমন্যু ১০টি বাণ দ্বারা অশ্মকরাজপুত্রের সারথি, চারটা অশ্ব, ধ্বজ, বাহুযুগল, ধনু ও মস্তক ছেদন করে তাকে ভূমিতে নিপাতিত করলেন। এই দৃশ্য দেখে প্রায় সমগ্র কৌরবসৈন্যই পলায়নোৎসুক হয়ে বিচলিত হলেন। এমতাবস্থায় কৌরবপক্ষীয় বীরগণ অভিমন্যুর দিকে একত্রে বাণ নিক্ষেপ করে অভিমন্যুকে আবৃত করলেন।
তখন অভিমন্যু অনেকগুলো বাণে বিদ্ধ হয়ে কর্ণের উদ্দেশ্যে একটা বর্ম ও দেহভেদী বাণ নিক্ষেপ করলেন। সেই বাণ কর্ণের বর্ম অর্থাৎ কবজ ও দেহ ভেদ করলো। তারপর আরো তিনটা বাণ দ্বারা সুষেণ, দীর্ঘলোচন ও কুণ্ডভেদি-এই ৩ জনকে হত্যা করলেন। এই দৃশ্য দেখে কর্ণ ২৫টি, অশ্বত্থমা ২০টি এবং কর্তবর্মা ৭টি বাণ নিক্ষেপ করলেন। এসকল বাণ অভিমন্যুর কোনো ক্ষতি করতে পারলো না। বরং অভিমন্যু অসংখ্য বাণ নিক্ষেপ করে নিকটবর্তী শল্যকে আবৃত্ত করে ফেললেন এবং কৌরবপক্ষীয় বীরগণকে আহ্বান করতে লাগলেন। পরে শল্যকে মর্মভেদী বাণ দ্বারা আহত করলে শল্য মূর্ছা গেলেন। এই অবস্থা থেকে এবার কৌরবসৈন্যগণ দ্রোণের সম্মুখেই পলায়ন করতে শুরু করলেন। এই অবস্থায় এগিয়ে আসেন শল্যের ভাই। তিনি বাণ নিক্ষেপ করে অশ্ব, সারথি এবং অভিমন্যুকে বিদ্ধ করলেন। আহত অভিমন্যু এবার অসংখ্য বাণ নিক্ষেপ করে শল্যের ভাইয়ের সমগ্র শরীর বিদ্ধ করলেন এবং তাকে হত্যা করলেন। তখন অসংখ্য সৈন্য একত্রে অভিমন্যুর দিকে বাণ নিক্ষেপ করেন। আর অভিমন্যুও তাদেরকে লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরু করেন এবং দ্রোণ, দুর্যোধনসহ প্রধান বীরগণ, কৌরবপক্ষীয় অসংখ্য সৈন্যগণকে বাণদ্বারা আহত করতে থাকলেন।
এভাবে অনেক্ষণ যুদ্ধ চলল।
এই অবস্থায় দ্রোণ নিজের প্রিয় শিষ্য অর্জুনের পুত্র অভিমন্যুর এই পরাক্রম দেখে কৃপাচার্যকে বললেন- ‘‘এই যুবক ইচ্ছা করলে আমাদের কৌরবসৈন্যগণকে জয় করতে সমর্থ। কেননা, যুদ্ধে এঁর তুল্য ধনুর্ধর আমি কাওকে মনে করি না।’’ দ্রোণের এই কথা শুনে দুর্যোধন বিস্মিত হয়ে ক্রোধের সহিত কর্ণসহ সকল বীরগণকে বললেন-‘‘দ্রোণ ইচ্ছা করে অর্জুনপুত্রকে বধ করছেন না। শিষ্যের পুত্র বলে উনি অভিমন্যুকে রক্ষা করছেন। আর এজন্য অভিমন্যু নিজেকে বীর মনে করছে। যাইহোক, আপনারা বিলম্ব না করে একে হত্যা করুন।’’
দুর্যোধন এই কথা বলার পর দুঃশাসন বললেন-‘‘আমিই ওকে বধ করব।’’ তারপর অভিমন্যুর দিকে ধাবিত হলেন। আর অভিমন্যু এই দৃশ্য দেখে মোট ২৬টি বাণদ্বারা দুঃশাসনকে আহত করলেন। তারপর তাদের মধ্য কিছুক্ষণ যুদ্ধ হলো এবং অবশেষে অভিমন্যু একটি মহাশক্তিশালী বাণ দ্বারা তার স্কন্ধসন্ধিস্থান ভেদ করলেন। এরপর আরো ২৫টি বাণ দ্বারা তাকে আহত করলেন। তখন দুঃশাসন গুরুতর অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলেন। এই অবস্থা দেখে সারথি অচেতন দুঃশাসনকে নিয়ে প্রস্থান করলেন।
অর্থাৎ এপর্যন্ত দুজন মহাপরাক্রমশালী যোদ্ধা শল্য এবং দুঃশাসন অভিমন্যুর হাতে পরাস্ত হলেন।
এবার খেলা আরো জমবে... 😎😎
দুঃশাসনের এই অবস্থা দেখে দুর্যোধন এবার কর্ণের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং দুঃশাসনের অসহায়ত্বের বিষয়ে আলোকপাত করলেন। তখন কর্ণ অত্যন্তক্রব্ধ হয়ে অভিমন্যুর উপর অগণিত বাণ নিক্ষেপ করতে থাকলেন। কিছু বাণ অভিমন্যুকে বিদ্ধ করলো। আর অভিমন্যুও দ্রোণের নিকট যাওয়ার ইচ্ছায় ত্রিসপ্ততি বাণদ্বারা কর্ণকে বিদ্ধ করলেন। তখন কর্ণও নানাবিধ অস্ত্রদ্বারা অভিমন্যুকে আহত করতে লাগলেন। শুরু হয় তুমুলযুদ্ধ। তখন অভিমন্যু শিলাশাণিত, তীক্ষ্ম ও নতপর্ব ভল্লসমূহদ্বারা কর্ণের সহচর বীরগণের ধনুগুলো ছেদন করে কর্ণের রথের ছাতা, ধ্বজ, সারথি ও অশ্বসমূহকে বিদ্ধ করলেন। কর্ণও অভিমন্যুর উপর একই প্রকার বাণ নিক্ষেপ করতে লাগলেন। অভিমন্যু অবিচল চিত্তে সেই সকল বাণ গ্রহণ করে পুনরায় বাণ নিক্ষেপ করে কর্ণের ধ্বজ ও ধনু ছেদন করে মাটিতে ফেলে দিলেন। তখন কর্ণের বিপদ দেখে এগিয়ে আসেন কর্ণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা (নাম জানা যায়নি, সম্ভবত অধিরথ ও রাধার সন্তান হবে)। অভিমন্যু মাত্র একটি বাণদ্বারা কর্ণের ভ্রাতার মস্তক ছেদন করে হত্যা করলেন। এই দৃশ্য দেখে কর্ণ অনেক ব্যথিত হয়ে পালিয়ে গেলেন।
লজ্জা! লজ্জা! অর্থাৎ দুর্যোধনের শ্রেষ্ঠ তিন বীরকেই অভিমন্যু পরাজিত করলেন। 😅
কী ভাবছেন? খেলা শেষ? খেলা আরো বাকী... 😎
কর্ণের পরাজয় দেখে কৌরবসৈন্যগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে ছুটতে লাগলো। কেবল জয়দ্রথ ছাড়া আর কেউ উক্ত রণাঙ্গনে রইলো না। অভিমন্যুও ভয়ংকরমূর্তি ধারণ করে বিচ্ছিন্ন সৈন্যগণের উপর ধাবিত হয়ে সৈন্যগণকে সংহার করতে লাগলেন। এদিকে যুধিষ্ঠিরসহ অন্যান্য পাণ্ডবপক্ষীয় বীরগণ অভিমন্যুকে অনুসরণ করতে থাকলে মহাধনুর্ধর জয়দ্রথ দৈব অস্ত্রসমূহ তাদের উপর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। ফলে পাণ্ডবরা আর অগ্রসর হতে পারেনি। জয়দ্রথ শক্তি মূলত তপস্যা করে অর্জন করেছিল।
এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো যে, শুধু জয়দ্রথ একা পাণ্ডবগণকে আটকে রাখেনি। জয়দ্রথের সঙ্গে বিশাল সৈন্যবাহিনী ছিল। এরা মূলত পাণ্ডবগণকে আটকে রাখার জন্যই যুদ্ধে ব্যস্ত রেখেছিলেন। আর দলের প্রধান ছিলেন জয়দ্রথ। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই কেবল জয়দ্রথের নামটিই আসে।
জয়দ্রথ এবং তার সৈন্যগণ পাণ্ডবগণকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে দেখে পাণ্ডবপক্ষীয় সৈন্যগণ ভয় পেলো এবং অন্যদিকে কৌরবপক্ষীয় অন্যান্য সৈন্যগণের অন্তরে সাহসের সঞ্চারণ হলো। এখানে জয়দ্রথের সঙ্গে পাণ্ডবগণের অনেক যুদ্ধ হয়। কিন্তু পাণ্ডবগণ তাকে পরাজিত করতে পারছিলেন না।
যাইহোক আমরা সেই আলোচনায় না গিয়ে অভিমন্যুর দিকে অগ্রসর হই।
এদিকে অভিমন্যু বড় বড় বীরগণকে হত্যা করতে শুরু করলো এবং বহু বীরসেনাকে হত্যা করলেন। কৌরবপক্ষীয় যেকোনো বীর অভিমন্যু সম্মুখে অবস্থান করলে তাকেই সে হত্যা করে দিচ্ছে-এমন অবস্থা দেখে শল্যের পুত্র রুক্মবথ নির্ভয়চিত্তে ভীত কৌরবসৈন্যকে বললেন-‘‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমি থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমি এখুনি তাকে হত্যা করব।’’ এই কথা বলে মোট ৬টি বাণ দ্বারা অভিমন্যুর দুই বাহু বিদ্ধ করলেন। আর আহত অভিমন্যু সঙ্গে সঙ্গেই অসংখ্য বাণ নিক্ষেপ করে রুক্মবথের ধনু, দুই বাহু, দুই নয়ন ও কপাল ছেদন করে হত্যা করেন। এই দৃশ্য দেখে শল্যের অন্য পুত্রগণ একত্রিত হয়ে অভিমন্যুর উপর বাণ নিক্ষেপ করতে শুরু করেন, আর অভিমন্যু নানাপ্রকার দৈব অস্ত্র নিক্ষেপ করে তাদের হত্যা করেন। শল্যপুত্রদের এক অভিমন্যু নিহত করে দিয়েছে দেখে দুর্যোধন এবার ভয় পেয়ে গেলেন।
খেলা জমেছে... 😎
এবার আসলেন মহাতেজা লক্ষ্মণ (দুর্যোধনের পুত্র)। দুর্যোধন নিজের পুত্রকে অভিমন্যু সম্মুখে অগ্রসর হতে দেখে তিনি নিজেও পুত্রের পিছন পিছন চললেন এবং অন্য বীরগণও দুর্যোধনকে অনুসরণ করলেন। এখানে লক্ষ্মণ আর অভিমন্যুর কিছুক্ষণ বাক্ বিতণ্ডা হয়। তারপর যুদ্ধ শুরু হলে অভিমন্যু দ্রুতই তাকে হত্যা করেন। প্রিয় পুত্রকে নিহত দেখে দুর্যোধন বীরগণকে বললেন-‘‘আপনারা শিঘ্রই এটাকে বধ করুন।’’
তারপর পুনরায় দ্রোণ, কৃপ, কর্ণ, অশ্বত্থমা, বৃহদ্বল ও কৃতবর্মা-এই ৬ জন অভিমন্যুর দিকে অগ্রসর হলেন। এদিকে অভিমন্যু জয়দ্রথের বিশাল সৈন্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকলেন। কিন্তু কলিঙ্গ ও নিষাদদেশীয় যোদ্ধারা অভিমন্যুর পথ রোধ করেন। এই সুযোগে ক্রাতপুত্র বাণসমূহদ্বারা অভিমন্যুকে আবৃত করে ফেললেন। এদিকে দ্রোণসহ অন্য বীরগণও অভিমন্যুর নিকট আসতে আসতে উত্তম অস্ত্রসমূহ নিক্ষেপ করতে থাকেন। অপরদিকে অভিমন্যু এসকল বাণের প্রতিউত্তর দিয়ে ক্রাতপুত্রকে হত্যা করেন। ক্রাতপুত্র হত্যার পর কলিঙ্গ ও নিষাদদেশীয়গণ পলায়ন করতে থাকেন। ফলে অভিমন্যু জয়দ্রথের সৈন্যগণের মধ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। সেখানে প্রবেশ করেই কৌরববীরগণের দিকে ফিরলেন (কারণ তারা পিছন দিক থেকে ধাওয়া করছিলেন)।
পাঠকগণ, ভাববেন না খেলা এখুনি শেষ হবে... 😎😎
অভিমন্যু কৌরবপক্ষীয় বীরগণের উপর বাণ নিক্ষেপ করতে শুরু করলেন। শুরু হয় বিশাল যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অভিমন্যু দ্রোণকে ৫০টি বাণ দ্বারা, বৃহদ্বলকে ২০টি বাণ দ্বারা, কর্তবর্মাকে ৮০টি বাণ দ্বারা এবং কৃপাচার্যকে ৬০টি বাণ দ্বারা বিদ্ধ করেন। এরপর অভিমন্যু মহাবেগে কর্ণ পর্যন্ত এগিয়ে অশ্বত্থমার উদ্দেশ্যে ১০টা বাণ নিক্ষেপ করেন। অশ্বত্থমার উদ্দেশ্যে বাণ নিক্ষেপ করার পর সঙ্গে সঙ্গে কর্ণের উদ্দেশ্যে সুধার কর্ণি নামক একটি উত্তম বাণ নিক্ষেপ করে, যা কর্ণের কানে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গেই অভিমন্যু কর্পাচার্যের চারটি অশ্ব এবং দুইজন পৃষ্ঠসারথিকে আহত করে কৃপাচার্যের উপর ১০টি বাণ নিক্ষেপ করেন এবং সেই ১০টি বাণ কৃপাচার্যের বক্ষস্থলে প্রহার করে। তারপর অভিমন্যু কৌরবগণের সম্মুখেই বীর বৃন্দাবককে বধ করেন। এমতাবস্থায় অশ্বত্থমা অভিমন্যুর উপর ২৫টি বাণ নিক্ষেপ করলেন। অভিমন্যু এগুলোর উপর পাল্টা বাণ নিক্ষেপ করে উল্টো অশ্বত্থমাকে ৭৩টি বাণে বিদ্ধ করেন। এই দৃশ্য দেখে গুরু দ্রোণ ক্রোধেরসহিত ১০০টি বাণ নিক্ষেপ করলেন এবং আহত অশ্বত্থমাও ৬০টি বাণ নিক্ষেপ করলেন; একই সাথে কর্ণ ২২টি বাণ, কৃতবর্মা ২০টি বাণ, বৃহদ্বল ৫০টি বাণ এবং কৃপাচার্য ১০টি ভল্ল নিক্ষেপ করলেন।
অর্থাৎ এতগুলো যোদ্ধা একত্রে অভিমন্যুর উপর আক্রমন করলেন।
অভিমন্যু এই সকল বাণ ও ভল্ল প্রতিহত করলেন, কিন্তু বৃহদ্বলের ১টি বাণ অভিমন্যুর বক্ষস্থলে আঘাত করলো। আহত অভিমন্যু বৃহদ্বলের অশ্ব, ধ্বজ, ধনু ও সারথিকে আঘাত করলেন এবং আরেকটি বাণ অভিমন্যু বৃহদ্বলের হৃদয়ে বিদ্ধ করলো। ফলে বৃহদ্বল নিহত হলেন।
ক্লান্ত হবেন না, খেলা আরো বাকী... 😎
এবার অভিমন্যু কর্ণের উদ্দেশ্যে ৫০টি বাণ নিক্ষেপ করলেন এবং ১টি বাণ পুনরায় কর্ণের কান বিদ্ধ করলো। তারপর কর্ণও অভিমন্যুর উদ্দেশ্যে ৫০টি বাণ নিক্ষেপ করলেন। এগুলোই অধিকাংশই অভিমন্যুর শরীর বিদ্ধ করলো। রক্তের স্রোত বইছে অভিমন্যুর শরীর থেকে। এমতাবস্থায় অভিমন্যুও কর্ণের উদ্দেশ্যে বাণ নিক্ষেপ করলে কর্ণও বাণ বিদ্ধ হলেন। ফলে কর্ণের শরীর থেকেও রক্তের স্রোত বইতে শুরু করলো। কর্ণের সাথে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই অভিমন্যু কর্ণের দুইপাশে থাকা কর্ণের ৬ জন সহচরকে হত্যা করে এবং এভাবে আশেপাশের আরো ১০জন বীরসেনাকে হত্যা করেন। এরপর আরো ৬টি বাণ দ্বারা জযৎসেনের পুত্র অশ্বকেতুকে আহত করেন। এভাবে অভিমন্যু কিছুটা অগ্রসর হয়ে গজধ্বজ ভোজকে বাণ নিক্ষেপ করে তাড়া করেন।
তখন দুঃশাসনের পুত্র অভিমন্যুর সম্মুখে এসে ৪টি অশ্ব, সারথিকে আহত করলেন এবং অভিমন্যুকে ১০টি বাণ দ্বারা বিদ্ধ করলেন। আহত অভিমন্যুও ৭টি বাণ দ্বারা দুঃশাসনের পুত্রকে বিদ্ধ করে উচ্চস্বরে এই কথা বলে যে, ‘‘তোমার পিতা কাপুরুষের ন্যায় রণস্থল পরিত্যাগ করেছেন। ভাগ্যবশত তুমিও যুদ্ধ করতে জানো বটে, তবে আজ আমার হাত থেকে মুক্তি পাবে না।’’ এ পর্যন্ত বলে অভিমন্যু একটি নাবাচ দুঃশাসনপুত্রের উপরে নিক্ষেপ করেন। তখন সেই স্থানে অশ্বত্থমা উপস্থিত হয়ে ৩টি বাণ দ্বারা অভিমন্যুর অস্ত্র ছেদ করেন। তারপর অভিমন্যু অশ্বত্থমার ধ্বজ ছেদন করে ৩টি বাণ দ্বার শল্যর দিকে নিক্ষেপ করে অগ্রসর হন। তখন শল্য ৯টি বাণ অভিমন্যুর দিকে নিক্ষেপ করলেন। অভিমন্যু পুনরায় আহত হন। কিন্তু তবুও পিছুপাঁ হলেন না। তিনি শল্যের ধ্বজ ছেদন করে শল্যকে বাণ দ্বারা বিদ্ধ করলেন এবং তার সারথিকে হত্যা করলেন। তখন শল্য অন্য রথে চড়ে পালিয়ে গেলেন। এই মুহুর্তেই চলে আসে শকুনি।
এবার শকুনির চাল...
শকুনি এসে অভিমন্যুর পরাক্রম দেখছিলেন। এই সময়ের মধ্যে অভিমন্যু শকুনির সম্মুখে শত্রুঞ্জয়, চন্দ্রকেতু, মেঘবেগ, সুবার্চা ও সূর্যাভাস-এই ৫ জনকে হত্যা করেন। তারপর শকুনির উদ্দেশ্যে বাণ নিক্ষেপ করে শকুনিকেও বিদ্ধ করলেন। শকুনি অভিমন্যুর দিকে ৩টি বাণ নিক্ষেপ করে কৌরবপক্ষীয় বীরগণের উদ্দেশ্যে বললেন-‘‘আমরা সকলে মিলে একে হত্যা করি। অন্যতায় ও আমাদের এক এক জনকে হত্যা করবে।’’ শকুনির সঙ্গে সুর মিলিয়ে কর্ণও গুরু দ্রোণাচার্যকে একই কথা বললেন এবং অভিমন্যুকে হত্যার উপায় জিজ্ঞাসা করলেন।
তারপর গুরু দ্রোণাচার্য তাদেরকে বললেন-‘‘এই কুমারটির কোনো ছিদ্র আছে বা আপনারা দেখছেন কী?’’
অর্থাৎ অভিমন্যুর কোনো দুর্বল স্থান আছে কি না সেটাই দ্রোণ জানতে চাইছেন।
দ্রোণ আরো বললেন-‘‘এ (অভিমন্যু) যে দ্রুত বাণসন্ধান ও বাণ নিক্ষেপ করছে, এ অবস্থায় কেবল ধনুকটিই দেখা যাচ্ছে। বিপক্ষবীরহন্তা এই সুভদ্রানন্দন বাণদ্বারা আমার প্রাণ ব্যথিত করেও আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করছে। যুদ্ধে অর্জুন আর অভিমন্যুর মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখছি না!’’
অর্থাৎ সাধারণত ভালো যোদ্ধার দর্শণে ভালো গুরুর যেরকম মনোভাব হয় সেরকম মনোভাবই দ্রোণের উদয় হলো। আর শকুনি এবং কর্ণের উক্ত বক্তব্যে আমরা বুঝতে পারছি যে, তাদের মধ্যেও মৃত্যুভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে অভিমন্যু! এতটাই পরাক্রমশালী হয়েছিল অভিমন্যুর যুদ্ধ। যাইহোক আমরা পরের দৃশ্যে যাই...
কর্ণও দ্রোণের সঙ্গে সহমত হয়ে বললেন-‘‘আচার্য! এই তেজস্বী কুমারের অতিদারুণ ও অগ্নির ন্যায় বিশাল বাণগুলো আমার হৃদয় বিদীর্ণ করেছে।’’ তখন দ্রোণ মৃদু হেসে কর্ণকে বললেন-‘‘এর কবজ অভেদ্য, এই যুবকের পরাক্রমও দ্রুত কার্যকারী। আমিই এর পিতাকে কবচ ধারণের নিয়ম বলে দিয়েছিলাম, নিশ্চই অভিমন্যু সেই সমস্ত জানে।’’
অর্থাৎ অভিমন্যুকে এই অবস্থায় হত্যা করাটা প্রায় অসম্ভব।
তাই গুরু দ্রোণাচার্য অভিমন্যু হত্যার উপায় বললেন...
গুরু দ্রোণ কর্ণকে বললেন-‘‘বিশেষসন্ধানপূর্বক বাণ দ্বারা অভিমন্যুর ধনু, গুণ ও ঘোড়ার লাগাম ছেদন করা যেতে পারে এবং ঘোড়াগুলোকে ও পিছনের সারথি দুজনকে হত্যা করা সম্ভব। অতএব কর্ণ! যদি পারো, তাহলে তুমি তাই করো। তারপর তুমি অভিমন্যুকে পিছন দিক থেকে প্রহার করতে থাকো। অভিমন্যু যদি ধনুযুক্ত থাকে তাহলে আমারা কোনোভাবেই তাকে হত্যা করতে পারব না। তাই তাকে রথবিহীন এবং ধনুশূন্য করো।’’
শেষ দৃশ্য... 🙁
কর্ণ দ্রোণের কথা মতো অভিমন্যুর পিছন দিক থেকে বাণ নিক্ষেপ করে তার ধনু ছেদন করলেন। আর দ্রোণ অভিমন্যুর অশ্বগুলোকে এবং কৃপাচার্য অভিমন্যুর দুইজন সারথিকে হত্যা করলেন। আর তাদের সঙ্গে থাকা অন্য মহারথগণ অভিমন্যুর উপর বাণ নিক্ষেপ করতে থাকলেন। তখন আহত অভিমন্যু রথবিহীন হয়ে ক্ষত্রিয়ধর্ম রক্ষার্থে খড়্গ নিয়ে এবং চর্ম ধারণ করে মাটিতে নামলেন। কৌরবপক্ষীয় মহারথগণের বাণ বর্ষণে অভিমন্যুর অসি ও চর্ম নষ্ট হয়ে গেল আর সমস্ত শরীর বাণে পরিপূর্ণ হয়ে পড়ল। তথাপি অভিমন্যু ক্রব্ধ হয়ে মাটি থেকে চক্র উত্তোলন করে দ্রোণের দিকে ধাবিত হলো। এ যেন এক রুদ্রমূর্তি, এ যেন ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় রূপ!
এ অবস্থায় দ্রোণের চারপাশে থাকা মহারথগণ সেই চক্রটিকে বহুখণ্ডে ছেদন করলেন। তারপর আহত অভিমন্যু বিশাল গদা ধারণ করে অশ্বত্থমাকে আঘাত করতে ধাবিত হলেন। তখন অশ্বত্থমা অভিমন্যুর এই রুদ্রমূর্তি দেখে রথ থেকে নেমে দৌড় দিলেন। তখন অভিমন্যু অশ্বত্থমার ৪টি অশ্ব ও পৃষ্ঠসারথি ২ জনকে হত্যা করেন। তারপর সেই গদা দ্বারাই সুবলপুত্র কালিকেয়কে এবং তার অনুচরগণকে হত্যা করেন। আবার বসাতিদেশীয় ১০ জন রথীকে সংহার করেন।
তারপর অভিমন্যু সেই গদা দ্বারাই ১০টি হাতী হত্যা করে দুঃশাসনপুত্রের অশ্বগুলোর সাথে সেই রথখানা চূর্ণ করেন। এবার দুঃশাসনপুত্রও গদা উত্তোলন করে অভিমন্যুর দিকে ধাবিত হলেন। পরস্পরের মধ্যে শুরু হলো গদাযুদ্ধ। দুজনেই বারংবার মাটিতে পতিত হচ্ছিলেন এবং দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করছিলেন। এভাবে অনেক্ষণ যুদ্ধের পর একসময় দুঃশাসনপুত্র অভিমন্যুর পূর্বেই উঠে দাঁড়িয়ে আহত অভিমন্যুর মস্তুকে আঘাত করলেন। গুরুতর সেই আঘাতের ফলে ক্লান্ত এবং আহত অভিমন্যু অচৈতন্য অবস্থায় মাটিতে পতিত হলেন। তখন ব্যাধনিহত বন্য হস্তীর ন্যায় অভিমন্যু নিহত হয়ে পড়ে রইলেন। 🙏
বলা যায়, কৌরবপক্ষীয় সকল মহান যোদ্ধাদেরকে পরাস্ত করে শেষ নিঃশ্বাস নিলেন অভিমন্যু। এমন মহান পরাক্রমশালী বীরযুবকের মৃত্যুর কাহিনী আমি যতবার পড়েছি ততবার অশ্রুসিক্ত হয়েছি।
[অভিমন্যুর এই পরাক্রম আপনারা হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ প্রণীত মহাভারতের দ্রোণপর্বে (৩২-৪৩ অধ্যায়ে) পাবেন। আমি যথাসম্ভব সংক্ষেপে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। টাইপিং মিস্টেকজনিত ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।]