10/07/2026
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গীর্জা ও খ্রীষ্টানদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই✊
ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
অতি সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ, প্রার্থনা সভায় বাধা, গীর্জায় ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগ ও বেদনার বিষয়।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুভাস গ্রামের একটি গীর্জার ক্রুশ ভেঙে ফেলা, গীর্জায় হামলা, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি, মুরশিদাবাদে একজন বিধবা খ্রিষ্টান নারীকে ধর্ম পরিবর্তনের হুমকি এবং মন্দির নির্মাণের জন্য জমি ছেড়ে দেওয়ার চাপ, বাঁকুরা জেলায় প্রার্থনায় বাধা, বাইবেল জব্দ এবং উপাসকদের আটকে রাখা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সোনাপুরের গীর্জায় হামলা—এসব অভিযোগ শুধু খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা নয়, মানবতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপরও আঘাত।
ধর্ম কখনো ঘৃণা, সহিংসতা কিংবা জবরদস্তি শেখায় না। প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন, উপাসনা করা এবং বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে। এই মৌলিক অধিকার সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার মাধ্যমে স্বীকৃত।
আমরা এই ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন ও অসহিষ্ণুতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক, ক্ষতিগ্রস্ত গীর্জা ও পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের সাংবিধানিক অধিকার কার্যকরভাবে রক্ষা করা হোক।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কোনো নাগরিক তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়, হামলা বা বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আসুন, আমরা ঘৃণা নয়—ভালোবাসা বেছে নিই; সহিংসতা নয়—শান্তি প্রতিষ্ঠা করি; বিভেদ নয়—মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানকে শক্তিশালী করি।
“ধন্য শান্তি স্থাপনকারীরা, কারণ তারা ঈশ্বরের সন্তান বলে পরিচিত হবে।” — মথি ৫:৯