20/10/2023
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনের মাধ্যমেই আমাদের কে জানিয়ে দিয়েছেন ইহুদীদের পরিচয়:
ইহুদীরা হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর বংশধর। ইহুদী শব্দটি এসেছে ইয়াহুদা থেকে, যিনি ছিলেন হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর জ্যেষ্ঠপুত্র। মূলত শব্দটি ছিল ইয়াহুযা। যালকে দাল দিয়ে পরিবর্তন করে আরবি করা হয়েছে। ইয়াহুদা শব্দের অর্থ তাওবাকারী। গো বৎসপূজা থেকে তাওবা করার কারণে তাদের নাম হয়েছে ইয়াহুযা। অর্থাৎ তাওবাকারী। (কুরতুবি প্রথম খণ্ড পৃষ্ঠা-৩৩৮)
ইহুদীরা হযরত মূসা (আঃ) কে নবী মানলেও তাঁহার কোনো আদর্শ তাদের মধ্যে নেই। এমনকি তারা তাওরাত কিতাবকে বিকৃত করেছে এবং হযরত উজাইর (আঃ) কে আল্লাহর পুত্র বলে মনে করে।
মুসলমানদের প্রধান শত্রু ইহুদীরা আল্লাহ তা‘আলা বলেন ।
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا ۖ
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন। (সূরা মায়েদা ৮২)
# ইহুদীরা একটি অভিশপ্ত জাতি। কুরআন মাজিদের বহু জায়গায় তাদের অপকর্মের কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন।
وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ ۚ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا ۘ
আর ইহুদীরা বলে আল্লাহর হাত বন্ধ হয়ে গেছে। তাদেরই হাত বন্ধ হোক। এ কথা বলার জন্য তাদের প্রতি অভিসম্পাত। (সূরা মায়েদা-৬৪) মহান আল্লাহ বলেছেন ।
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿٧٨﴾
বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কাফের, (ইহুদী) তাদেরকে দাউদ ও মরিয়ম তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা সীমালঙ্ঘন করত। (সূরা আল মায়েদা ৭৮)
# ইহুদীরা নবীদের হত্যা করতো
ইহুদীরা যুগে যুগে সব নবী - রাসূলদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং হত্যার প্রচেষ্টা করেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত ইহুদীরা ৩০০ জন নবীকে হত্যা করেছে (ইবনে কাসির প্রথম খণ্ড পৃষ্ঠা-১০৯)।
আল্লাহ তাআলা বলেন।
إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٢١﴾
যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে এবং পয়গম্বরগণকে হত্যা করে অন্যায়ভাবে, আর সেসব লোককে হত্যা করে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন। (সূরা আলে ইমরান ২১)
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আরো বলেন।
كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ ﴿٧٠﴾
যখনই তাদের কাছে কোনো পয়গম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসতেন যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যা আরোপ করত এবং অনেককে হত্যা করে ফেলত। (সূরা মায়েদা ৭১)
আল্লাহ আরো বলেছেন।
وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ ۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۗ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿٦١﴾
আর তাদের (ইহুদীদের) ওপর আরোপ করা হয়েছে লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধিবিধান মানত না এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান-সীমালঙ্ঘনকারী (সূরা বাকারা ৬১)
# আল্লাহর নিদর্শনাবলি অস্বীকার
ইহুদীরা তাওরাত ছাড়া অন্যান্য আসমানি গ্রন্থকে অস্বীকার করে এবং হযরত ইয়াহিয়া, জাকারিয়া, ঈসা (আঃ) হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) মুজিযাকে অস্বীকার করে। অথচ ঈমানের দাবি হলো- সমস্ত আসমানি কিতাব ও সব নবী-রাসূলকে বিশ্বাস করা এবং তাদের মুজিযাকে স্বীকার করা।
# অঙ্গীকার ভঙ্গ করা
ইহুদীদের অভিশপ্ত হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো- তাদের সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করা। তারা আল্লাহর সাথে এবং নবীদের সাথে কৃত সব অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। কোনো অঙ্গীকার ঠিক রাখেনি। আল্লাহর বলেন
وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا ۖ وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ فَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ ﴿١٢﴾ فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً ۖ
আর আল্লাহ বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে ১২ জন সর্দার নিযুক্ত করেছিলাম। আল্লাহ বলে দিলেন আমি তোমাদের সাথে আছি। যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, জাকাত দিতে থাকো, আমার পয়গম্বরদের প্রতি বিশ্বাস রাখো, তাদের সাহায্য করো এবং আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋণ দিতে থাকো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গুনাহ দূর করে দেবো এবং অবশ্যই তোমাদেরকে উদ্যান সমূহে প্রবেশ করাব, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এর পরও কাফের হয়, সে নিশ্চিতই সৎ পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। (সূরা মায়েদা ১২-১৩)
# নিয়ামতে নাশুকরি
আল্লাহ তায়ালা ইহুদীদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। যেমন- সমগ্র বিশ্বের কর্তৃত্ব নেতৃত্ব দান। আল্লাহ তায়ালা বলেন
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٤٧﴾
হে বনি ইসরাইল! তোমাদের প্রতি প্রদত্ত আমার নিয়ামতের কথা স্মরণ করো। আর আমি তোমাদেরকে সমস্ত জগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (সূরা বাকারা-৪৭)
# আসমানি কিতাব বিকৃতি
ইহুদীরা তাদের কাছে প্রেরিত আসমানি কিতাবকে বিকৃত করেছে। আল্লাহর কালামে নিজেদের মনগড়াভাবে পরিবর্তন সাধন করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ ۙ وَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ ۚ
তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয়’ আর তাদের যে-সব নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তার অংশবিশেষ ভুলে যায়। (সূরা মায়েদা-১৩)
# ইহুদীদের মরণ হবে মুসলিমদের হাতেই
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ]، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ [ قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ. إِلاَّ الْغَرْقَدَ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ
আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমদের সঙ্গে ইহুদী সম্প্রদায়ের যুদ্ধ না হবে। মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। ফলে তারা পাথর বা গাছের পিছনে লুকিয়ে থাকবে। তখন পাথর বা গাছ বলবে, হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দা! এই তো ইয়াহুদী আমার পিছনে লুকিয়ে আছে। এসো, তাকে হত্যা কর। কিন্তু ’গারকাদ’ নামক গাছ দেখিয়ে দিবে না। কারণ এটা হচ্ছে ইহুদীদের সহায়তাকারী গাছ। (মুসলিম: ২৯২২)
গেলো ৭ই অক্টোবর হতে মুসলিম সংগঠন হামাস ও ইসরাইলের ইহুদীদের সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়েছে। ইসরাইল নির্বিচারে মুসলিমদের হত্যা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ইহুদিরা চরম মার খেয়েছে। হিটলার, সালাহউদ্দিন আইয়ুবি, মুসলিনি, বখতে নাসসার প্রমুখ লাখ লাখ ইহুদিকে হত্যা ও দেশ ছাড়া করেছে। বর্তমানে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং কতিপয় ইউরোপীয় দেশ তাদের ঘাঁটি হিসেবে ইসরাইল নামক একটি ইহুদি রাষ্ট্র ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠা করেছে। এবং মুসলমানদেরকে হত্যা করে যাচ্ছে।
তবে খুশির সংবাদ হলো একটা সময় এমন আসবে যে পৃথিবীর সকল ইহুদী মুসলিমদের হাতেই নিহত হবে। সারা বিশ্বের মুসলিমদের একযুগে ফিলিস্তীনের মুসলিমদের সাহায্য করা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বুল আলামিন।
ছবিঃ ইয়াহুদীদের উপাস্য দেবতা!
...এর টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত।