06/11/2024
*আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা হচ্ছে,*
১- জগতের একজন স্রষ্টা আছেন, আর তিনি হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাঁর সত্তা, নাম ও গুণ ব্যতীত সবই সৃষ্ট।
২- স্রষ্টা ও সৃষ্টি আলাদা। স্রষ্টা সবকিছুর উপরে। তিনি সম্মান, ক্ষমতা ও অবস্থানের দিক থেকে সবার উপরে।
৩- আল্লাহ তাআলা আরশের উপরে। আরশ সর্বোচ্চ বড় সৃষ্টি। আরশের নিচে জান্নাতুল ফিরদাউস।আরশের নিচ থেকে জান্নাতের নাহরসমূহ প্রবাহিত।
৪- কেউ আল্লাহকে আরশের উপর না মানলে সে ঈমানদার নয়। তিনি আরশের উপরে। কিন্তু জগতের সবকিছু তাঁর ক্ষমতা ও জ্ঞানের অধীন।
৫- আরশ ও কুরসী আলাদা দুটি জিনিস। কুরসী আল্লাহর পা রাখার জায়গা। কুরসী এত বড় যে আসমান ও যমীন তাতে বিস্তীর্ণ ভূমিতে রাখা সাতটি মুদ্রার মত। আর আরশ কত বড় তা কেবল আল্লাহ জানেন।
৬- আল্লাহর সত্তা, নাম, গুণ সর্বদা থাকবে, এগুলো ধ্বংস হবে না, ধ্বংসযোগ্যও নয়।
তবে আল্লাহর কর্ম বা সৃষ্টি সবই ধ্বংসযোগ্য, যদিও কিছু সৃষ্টি কখনো ধ্বংস হবে না।
৭- বান্দার উপর প্রথম কর্তব্য হচ্ছে ঈমান আনয়ন করা। আর যতক্ষণ কেউ এ সাক্ষ্য না দিচ্ছে যে “আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ বা উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল” ততক্ষণ তার ঈমান শুদ্ধ হবে না।
৮- ঈমান শব্দটির আভিধানিক অর্থ স্বীকৃতি প্রদান করা, মেনে নেয়া। শুধু বিশ্বাস নয়।
৯- পারিভাষিক অর্থে ঈমান কথা ও কাজের নাম। অন্তরের ও মুখের কথা ও কাজ আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ।
১০- ঈমান একক জিনিস নয়। ঈমান ব্যাপক জিনিসের নাম। ঈমানের রয়েছে ষাটোর্ধ্ব শাখা। যেমনটি হাদীসে এসেছে।
১১- ঈমান বাড়ে ও কমে। কারণ ঈমান কথা ও কাজের সমষ্টিগত নাম। কথা ও কাজ কম বেশি হয়। সুতরাং ঈমান বাড়ে ও কমে। সেজন্য কুরআনে কারীমে ও রাসূলের হাদীসে ঈমান বাড়ে ও কমে বলা হয়েছে।
১২- ঈমানের ষাটের বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ শাখাটি হচ্ছে ‘কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (অন্তর ও মুখের কথা), সবচেয়ে ক্ষুদ্রটি হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা। (অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল)।
১৩- ঈমানের কোনো দিক দিয়েই সকলে সমান নয়। কোনো দিক দিয়েই আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও অন্য কোনো সাহাবী সমান নয়, সাধারণ কোনো মুসলিম তাঁর সমান হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
১৪- আল্লাহর উপর ঈমান মানে:
* আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর ঈমান।
* আল্লাহর তাওহীদের ওপর ঈমান।
-ড. আবুবকর মুহাম্মদ যাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহ
(চলমান.....)