20/08/2026
বিহার কী ও বিহারের উৎপত্তি: একটি তত্ত্বভিত্তিক আলোচনা—
লিখেছেন- প্রফেসর ড.জ্ঞানরত্ন মহাথের
ভূমিকা
বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে ‘বিহার’ (Vihāra) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাধারণ অর্থে বিহার বলতে বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের আবাসস্থল বা বৌদ্ধ মঠকে বোঝানো হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে বিহার শুধু বসবাসের স্থান নয়; এটি ছিল সাধনা, ধ্যান, ধর্মশিক্ষা, ধর্মদেশনা, সংঘজীবন, পাণ্ডিত্যচর্চা এবং সমাজের সঙ্গে বৌদ্ধ সংঘের সম্পর্ক রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পরবর্তী সময়ে নালন্দা, বিক্রমশীলা, ওদন্তপুরী, সোমপুর মহাবিহার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান বিহারকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্রের পর্যায়ে উন্নীত করে।
‘বিহার’ শব্দটির প্রাচীন অর্থ ও ব্যবহার বর্তমানের ‘মঠ’ অর্থের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত ছিল। পালি vihāra শব্দের প্রাথমিক অর্থ ছিল ‘বাসস্থান’, ‘আবাস’ বা ‘থাকার স্থান’; পরবর্তী সময়ে এটি সমগ্র বৌদ্ধ মঠ বা সংঘারামের অর্থে ব্যবহৃত হয়। পালি ভাষার প্রাচীন ব্যবহারে vihāra কখনো ধ্যান বা আধ্যাত্মিক অবস্থাকেও নির্দেশ করে।
বিহারের উৎপত্তি হঠাৎ কোনো একদিনে ঘটেনি। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন পরিব্রাজক ও শ্রামণ্য সংস্কৃতি, বর্ষাকালে স্থায়ীভাবে অবস্থানের প্রয়োজন, সংঘের ক্রমবর্ধমান আকার, গৃহী সমাজের দানশীলতা এবং বুদ্ধের সংঘসংগঠন—এই সবগুলো কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বিহার-প্রথার বিকাশ ঘটে। অতএব, বিহারের উৎপত্তি বুঝতে হলে প্রাক্-বৌদ্ধ তপস্যাজীবন থেকে শুরু করে বুদ্ধের সময়কার āvāsa, ārāma, leṇa এবং পরবর্তী saṅghārāma ও mahāvihāra পর্যন্ত ধারাবাহিক বিবর্তন আলোচনা করা প্রয়োজন।
১. ‘বিহার’ শব্দের অর্থ
পালি vihāra এবং সংস্কৃত vihāra শব্দটি বৌদ্ধ সাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত। প্রাচীন পালি ব্যবহারে এর অর্থ মূলত বাসস্থান, আবাস বা অবস্থানের স্থান। আধুনিক ব্যাখ্যায় ‘বিহার’ বলতে সাধারণত বৌদ্ধ মঠ বা monastery বোঝানো হয়। তবে গবেষণায় দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে vihāra দ্বারা সমগ্র মঠ-প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কোনো ভিক্ষুর থাকার জন্য নির্মিত একটি আবাস বা কক্ষকেও বোঝানো হতো। পরবর্তী ভাষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিবর্তনের মাধ্যমে শব্দটি পুরো মঠ বা সংঘের আবাসস্থলের অর্থ লাভ করে।
অন্যদিকে vihāra শব্দটি বৌদ্ধ ধর্মীয় সাহিত্যে আধ্যাত্মিক অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন—diṭṭhadhammasukhavihāra অর্থ ‘এই জীবনেই সুখকর অবস্থান’ বা ধ্যানমগ্ন অবস্থান। ফলে vihāra শব্দের মধ্যে একদিকে শারীরিক আবাস এবং অন্যদিকে মানসিক-আধ্যাত্মিক অবস্থান—উভয় অর্থই নিহিত ছিল।
সুতরাং, সাধারণ সংজ্ঞায় বলা যায়—
বিহার হলো বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের আবাস, সাধনা, শিক্ষা, ধর্মচর্চা ও সংঘীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
২. বিহার ও সংঘারামের পার্থক্য
বিহারকে বুঝতে গেলে ārāma, āvāsa, leṇa, saṅghārāma প্রভৃতি শব্দের সঙ্গেও এর সম্পর্ক বুঝতে হয়।
ক. আবাস (Āvāsa)
Āvāsa অর্থ বাসস্থান বা থাকার জায়গা। বর্ষাকালে ভিক্ষুরা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করলে সেই অবস্থানের স্থান āvāsa হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো অনেক সময় অস্থায়ী প্রকৃতির ছিল।
খ. আরাম (Ārāma)
Ārāma সাধারণত উদ্যান, বাগান বা মনোরম আবাসিক স্থানকে বোঝায়। বুদ্ধের সময়ে ধনী গৃহী ও রাজপুরুষেরা উদ্যান বা ভূমি সংঘকে দান করতেন। এই ārāma-এর মধ্যেই ভিক্ষুদের থাকার জন্য কুটির ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মিত হতো।
আধুনিক গবেষণায় ārāma-কে প্রাথমিক বৌদ্ধ বিহার-প্রথার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে āvāsa ছিল অপেক্ষাকৃত অস্থায়ী আবাস, leṇa ছিল নির্জন আশ্রয় বা গুহা-ভিত্তিক আবাস, আর স্থায়ী আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ārāma পরবর্তী বিহার-প্রথার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
গ. লেণ (Leṇa)
Leṇa অর্থ গুহা বা আশ্রয়স্থল। প্রাচীন ভারতীয় পরিব্রাজক ও তপস্বীরা প্রাকৃতিক গুহা বা কৃত্রিমভাবে নির্মিত গুহায় বসবাস করতেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও পরবর্তী সময়ে গুহা-আবাস গ্রহণ করেন।
ঘ. সংঘারাম (Saṅghārāma)
Saṅghārāma অর্থ সংঘের জন্য প্রতিষ্ঠিত আবাস বা মঠ। ব্যক্তিগত ভিক্ষুর কুটির থেকে যখন একটি সংগঠিত সংঘীয় আবাসিক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হলো, তখন saṅghārāma ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অতএব, প্রাথমিক আবাস → আরাম → সংঘারাম → বিহার—এই ধারাবাহিক বিকাশকে বিহার-প্রথার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবর্তন হিসেবে দেখা যায়।
৩. প্রাক্-বৌদ্ধ ভারতে বিহারের সম্ভাব্য পটভূমি
বিহার বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও এর সামাজিক ও স্থাপত্যিক পূর্বসূরি বৌদ্ধধর্মের পূর্বেই ভারতীয় সমাজে বিদ্যমান ছিল।
বুদ্ধের সময়ের ভারত ছিল শ্রামণ্য ও ব্রাহ্মণ্য—দুই ধরনের ধর্মীয়-দার্শনিক আন্দোলনের ক্ষেত্র। বহু পরিব্রাজক, তপস্বী, জৈন সন্ন্যাসী, আজীবিক এবং অন্যান্য শ্রামণ গোষ্ঠী সংসার ত্যাগ করে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতেন। তাঁরা কখনো অরণ্যে, কখনো বৃক্ষতলে, কখনো গুহায় এবং কখনো সাধারণ আশ্রমে অবস্থান করতেন।
ভারতের প্রাচীন তপস্বীরা একাকী বা ছোট ছোট গোষ্ঠীতে কুটির নির্মাণ করে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে এই কুটিরগুলো কোনো একটি উন্মুক্ত স্থানকে কেন্দ্র করে সমবেত হয়ে বৃহত্তর আবাসিক কাঠামোর রূপ নেয়। ভারতীয় স্থাপত্য-গবেষণাতেও প্রাচীন বনবাসী তপস্বীদের পত্রকুটির ও গুহা-বাসকে পরবর্তী মঠ-প্রথার পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ কারণে বলা যায়, বুদ্ধ শূন্য থেকে বিহার-ব্যবস্থা সৃষ্টি করেননি। বরং তিনি তাঁর সময়ের প্রচলিত শ্রামণ্য-আবাসিক সংস্কৃতিকে বৌদ্ধ সংঘের প্রয়োজন অনুযায়ী সংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
৪. বর্ষাবাস ও বিহারের উৎপত্তি
বৌদ্ধ বিহারের উৎপত্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো বর্ষাবাস বা Vassa।
প্রাচীন ভারতে বর্ষাকালে পরিব্রাজকদের চলাচল অত্যন্ত কঠিন ছিল। বৃষ্টির কারণে রাস্তা কর্দমাক্ত হতো, ক্ষুদ্র প্রাণীর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকত এবং কৃষিকাজও চলত। এই পরিস্থিতিতে বুদ্ধের শিষ্যদের একটি নির্দিষ্ট সময় একই স্থানে অবস্থানের প্রয়োজন দেখা দেয়।
বৌদ্ধ বিনয় সাহিত্যে বর্ষাবাসের সঙ্গে আবাসস্থল, কুটির ও অন্যান্য বাসস্থান সম্পর্কিত বহু বিধান পাওয়া যায়। বিনয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বর্ষাকালে ভিক্ষুদের থাকার স্থান যথাযথভাবে আচ্ছাদিত হওয়া এবং দরজা থাকার মতো বিষয়ও নির্ধারিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে সংঘের স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থা বৌদ্ধধর্মের প্রাথমিক পর্যায়েই গড়ে উঠেছিল।
একজন আধুনিক গবেষকও যুক্তি দিয়েছেন যে বুদ্ধ যখন ভিক্ষুদের বর্ষাকালে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেন, তখনই পরিব্রাজক-জীবন থেকে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী সংঘজীবনে রূপান্তরের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়।
অতএব, বর্ষাবাস বিহার প্রতিষ্ঠার একমাত্র কারণ না হলেও অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক প্রেরণা।
৫. বুদ্ধের সংঘ এবং স্থায়ী আবাসের প্রয়োজন
বুদ্ধের বোধিলাভের পর তাঁর ধর্মপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গে শিষ্যসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথমদিকে ভিক্ষুরা ছিল মূলত পরিব্রাজক। তাঁরা গ্রাম থেকে গ্রামে, নগর থেকে নগরে গিয়ে ধর্মপ্রচার করতেন এবং বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করতেন।
কিন্তু সংঘ যত বড় হতে থাকে, ততই একটি সংগঠিত আবাসনের প্রয়োজন দেখা দেয়। ভিক্ষুদের মধ্যে নিয়মিত সভা, ধর্মশিক্ষা, ধ্যান, বিনয়চর্চা ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য নির্দিষ্ট আবাস প্রয়োজন ছিল।
বৌদ্ধ গ্রন্থের বিবরণ অনুযায়ী, বুদ্ধের জীবদ্দশাতেই সংঘ বিভিন্ন মঠে অবস্থান করতে শুরু করে। SuttaCentral-এর আধুনিক গবেষণামূলক উপস্থাপনায়ও বলা হয়েছে যে বুদ্ধের সংঘ প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই মঠসমূহ গড়ে ওঠে এবং ভিক্ষুরা বিশেষ করে বর্ষাকালে সেখানে অবস্থান করতেন।
অর্থাৎ বিহারের উৎপত্তির পেছনে তিনটি বাস্তব প্রয়োজন কাজ করেছিল—
১. বর্ষাকালে নিরাপদ আশ্রয়;
২. সংঘের সদস্যদের সম্মিলিত জীবনযাপন;
৩. ধর্মশিক্ষা ও সাধনার জন্য স্থায়ী পরিবেশ।
৬. বেণুবন বিহার: প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
বুদ্ধের সময়কার বিহারের ইতিহাসে বেণুবন (Veḷuvana) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজগৃহে অবস্থিত বেণুবন ছিল বুদ্ধ ও তাঁর সংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
মগধরাজ বিম্বিসার বুদ্ধ ও সংঘকে বেণুবন দান করেছিলেন বলে বৌদ্ধ ঐতিহ্যে উল্লেখ আছে। এটি শুধু ভিক্ষুদের থাকার স্থান ছিল না; এখান থেকে বুদ্ধ বহু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মদেশনা প্রদান করেন।
বেণুবনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়—প্রথম যুগে বিহার নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজা ও ধনী গৃহীদের পৃষ্ঠপোষকতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৭. অনাথপিণ্ডিক ও জেতবন বিহার
বিহারের ইতিহাসে জেতবন (Jetavana) আরও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
শ্রাবস্তীর ধনী গৃহী অনাথপিণ্ডিক বুদ্ধ ও সংঘের জন্য জেতবন ক্রয় ও দান করেন—এমন বিবরণ বৌদ্ধ সাহিত্যে সুপরিচিত। জেতবন পরবর্তীকালে বুদ্ধের অন্যতম প্রধান আবাসস্থলে পরিণত হয়।
বুদ্ধের জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মদেশনা জেতবনে প্রদত্ত হয়েছিল। ফলে এটি প্রমাণ করে যে বিহার শুধু ভিক্ষুদের শোয়ার জায়গা ছিল না; এটি ছিল ধর্মপ্রচার ও বৌদ্ধ শিক্ষার সক্রিয় কেন্দ্র।
বুদ্ধের সময়ের উল্লেখযোগ্য বিহারের মধ্যে জেতবন, বেণুবন ও বৈশালীর মহাবন বিশেষভাবে পরিচিত।
৮. গৃহী সমাজের দান ও বিহারের বিকাশ
বিহার প্রতিষ্ঠার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল দান (dāna)।
বুদ্ধের শিক্ষা অনুসারে গৃহী সমাজ সংঘকে চীবর, পিণ্ডপাত, শয়নাসন ও গিলানপ্রত্যয় ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করত। সংঘের সদস্যরা যেহেতু ব্যক্তিগত সম্পদ সঞ্চয় করতেন না, তাই তাঁদের জীবনধারণের জন্য গৃহী সমাজের সহযোগিতা অপরিহার্য ছিল।
এই দানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ ছিল আরাম ও বিহার দান।
রাজা, শ্রেষ্ঠী ও ধনী গৃহীরা ভূমি, উদ্যান এবং আবাসন সংঘকে দান করতেন। এই দানের ফলে অস্থায়ী আশ্রয় ধীরে ধীরে স্থায়ী মঠে রূপান্তরিত হয়।
অতএব, বিহারের বিকাশকে শুধু ধর্মীয় প্রয়োজন দিয়ে ব্যাখ্যা করলে অসম্পূর্ণ হবে। এর সঙ্গে বৌদ্ধ সংঘ ও গৃহী সমাজের পারস্পরিক নির্ভরতার সম্পর্কও গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
৯. বিনয় পিটক এবং বিহার-প্রথার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
বিহারের বিকাশের সঙ্গে বিনয় পিটক-এর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিনয় পিটকে ভিক্ষুদের বাসস্থান, কুটির, বর্ষাবাস, সংঘীয় সম্পত্তি, দান, সীমা (sīmā), উপোসথ, সংঘকর্ম ইত্যাদি বিষয়ে বহু বিধান রয়েছে।
আধুনিক বিনয় গবেষণা দেখায় যে বিনয় কোনো একবারে পরিকল্পিত আইনসংহিতা হিসেবে তৈরি হয়নি; সংঘের বাস্তব সমস্যার প্রতিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিধান সংযোজিত হয়েছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিহার-ব্যবস্থাকেও একটি ক্রমবিকাশমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা যায়। প্রথমে ছিল ব্যক্তিগত বা অস্থায়ী আবাস; পরে সেখানে একাধিক ভিক্ষু বসবাস করতে শুরু করেন; এরপর সংঘীয় কার্যক্রমের প্রয়োজন দেখা দেয়; অবশেষে নির্দিষ্ট নিয়ম, সম্পত্তি, সীমা, আবাসিক কক্ষ, সভাস্থল এবং অন্যান্য স্থাপত্য উপাদান যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিহারের সৃষ্টি হয়।
১০. প্রাথমিক বিহারের স্থাপত্য
প্রাথমিক বিহার খুব জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিক্ষুদের নিরাপদ আবাস প্রদান।
প্রাচীন বিহারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল মাঝখানে একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এবং তার চারদিকে ছোট ছোট আবাসিক কক্ষ। পরবর্তীকালে এর সঙ্গে সভাকক্ষ, ধর্মশালা, ভোজনালয়, স্নানাগার, কূপ, স্তূপ, চৈত্যগৃহ এবং অন্যান্য স্থাপনা যুক্ত হয়।
ভারতীয় শৈলগুহা-বিহারগুলোর ক্ষেত্রেও একটি সাধারণ পরিকল্পনা দেখা যায়—একটি কেন্দ্রীয় হলের চারদিকে ছোট কক্ষ। ভারতীয় গুহা-স্থাপত্যের গবেষণায় এই ধরনের বিহারকে মূলত ভিক্ষুদের সম্মিলিত আবাস হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
১১. বিহার ও চৈত্যের পার্থক্য
বৌদ্ধ স্থাপত্যে বিহার ও চৈত্য দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান।
বিহার প্রধানত ভিক্ষুদের আবাস, শিক্ষা ও সংঘীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।
অন্যদিকে চৈত্য ছিল মূলত উপাসনা বা পবিত্র স্মৃতিচিহ্নকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সমাবেশের স্থান। অনেক প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপত্যে বিহার ও চৈত্য পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে।
অর্থাৎ—
বিহার = আবাস ও সংঘজীবনের কেন্দ্র।
চৈত্য = উপাসনা ও পবিত্র স্মৃতির কেন্দ্র।
পরবর্তী সময়ে অবশ্য বিহারের মধ্যেও চৈত্য, স্তূপ বা উপাসনাকেন্দ্র যুক্ত হতে থাকে।
১২. বিহারের ক্রমবিকাশ: সংঘারাম থেকে মহাবিহার
বৌদ্ধ সংঘের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিহারের চরিত্রও পরিবর্তিত হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিহার ছিল মূলত আবাসিক স্থান। পরে সেখানে ধর্মশিক্ষা ও পাণ্ডিত্যচর্চা বৃদ্ধি পায়। আরও পরে এগুলো বৃহৎ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
এই বিবর্তনকে মোটামুটি তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়—
প্রথম পর্যায়: আবাসিক বিহার
এ পর্যায়ে বিহারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভিক্ষুদের বাসস্থান ও বর্ষাবাসের ব্যবস্থা করা।
দ্বিতীয় পর্যায়: সংঘারাম
এ পর্যায়ে একাধিক ভিক্ষুর জন্য কক্ষ, সভাস্থল, ধর্মদেশনার স্থান এবং সংঘীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠে।
তৃতীয় পর্যায়: মহাবিহার
পরবর্তী যুগে বিহার বৃহৎ শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। নালন্দা, বিক্রমশীলা, ওদন্তপুরী এবং সোমপুরের মতো মহাবিহার শুধু আবাসিক প্রতিষ্ঠান ছিল না; এগুলো আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল।
‘মহাবিহার’ বলতে বৃহৎ বৌদ্ধ মঠ বা বিস্তৃত মঠ-কমপ্লেক্সকে বোঝানো হয়। নালন্দা এই ধারার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
১৩. নালন্দা ও বিহারের শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিকাশ
বৌদ্ধ বিহারের সর্বোচ্চ বিকাশের অন্যতম উদাহরণ নালন্দা মহাবিহার।
নালন্দায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিক্ষু ও শিক্ষার্থীরা এসে অধ্যয়ন করতেন। এখানে বৌদ্ধ দর্শনের পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, চিকিৎসাবিদ্যা, দর্শন ও অন্যান্য জ্ঞানচর্চাও বিকশিত হয়।
এর ফলে বিহারের ধারণা ‘ভিক্ষুদের আবাস’ থেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়-সদৃশ জ্ঞানকেন্দ্র’-এ উন্নীত হয়।
পরবর্তী সময়ে বিক্রমশীলা, ওদন্তপুরী, জগদ্দল এবং পূর্ববঙ্গের সোমপুর মহাবিহারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।
১৪. বাংলাদেশে বিহারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডও প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার-সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
বিশেষ করে পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, ময়নামতির শালবন বিহার, আনন্দ বিহার প্রভৃতি বৌদ্ধ স্থাপত্য বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।
চট্টগ্রামের পণ্ডিত বিহারও পূর্ববঙ্গের বৌদ্ধ শিক্ষা ও তান্ত্রিক বৌদ্ধচর্চার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলোচিত। গবেষণামতে, পণ্ডিত বিহারের বিকাশ অষ্টম শতকের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল।
আধুনিক বাংলাদেশেও বিহার বৌদ্ধদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্র। গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে থেরবাদী বৌদ্ধদের মঠজীবন পালি বিনয়ের নীতির দ্বারা সংগঠিত এবং বিহারগুলো সংঘের ধর্মীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
১৫. বিহারের সামাজিক ভূমিকা
বিহারের ভূমিকা কেবল ধর্মীয় নয়; এর সামাজিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক. ধর্মশিক্ষা
বিহার ছিল ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। ভিক্ষু-সামণেররা এখানে পালি, ত্রিপিটক, বুদ্ধের জীবন ও বৌদ্ধ দর্শন অধ্যয়ন করতেন।
খ. নৈতিক শিক্ষা
বিহার সাধারণ মানুষকে পঞ্চশীল, দশশীল, অষ্টশীল, দান, মৈত্রী, করুণা ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করত।
গ. ধ্যান ও আধ্যাত্মিক সাধনা
ভিক্ষুদের জন্য বিহার ছিল ধ্যান ও মননচর্চার নিরাপদ পরিবেশ।
ঘ. সামাজিক ঐক্য
বিহার স্থানীয় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে একটি ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করে।
ঙ. সংস্কৃতি সংরক্ষণ
পালি ভাষা, বৌদ্ধ সাহিত্য, পাণ্ডুলিপি, ধর্মীয় শিল্প, ভাস্কর্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণে বিহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
চ. জনকল্যাণ
অনেক ঐতিহাসিক বিহার দরিদ্রদের সহায়তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
১৬. বিহারের উৎপত্তি সম্পর্কে তাত্ত্বিক মূল্যায়ন
বিহারের উৎপত্তি সম্পর্কে একক কোনো কারণকে চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং কয়েকটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত তত্ত্বের আলোকে এর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা উচিত।
প্রথম তত্ত্ব: শ্রামণ্য-ঐতিহ্য তত্ত্ব
বিহারের প্রাথমিক রূপ প্রাক্-বৌদ্ধ তপস্বী ও পরিব্রাজকদের আবাসিক ব্যবস্থা থেকে বিকশিত হয়েছে। বৌদ্ধরা সেই বিদ্যমান সংস্কৃতিকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করে।
দ্বিতীয় তত্ত্ব: বর্ষাবাস তত্ত্ব
বর্ষাকালে ভিক্ষুদের একটি স্থানে থাকার প্রয়োজন বিহারের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। বিনয় সাহিত্যে বর্ষাবাসের সঙ্গে আবাসনসংক্রান্ত বিধানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এ তত্ত্বকে শক্তিশালী করে।
তৃতীয় তত্ত্ব: দান ও পৃষ্ঠপোষকতা তত্ত্ব
রাজা, শ্রেষ্ঠী ও গৃহীদের দান বিহারকে স্থায়ী ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। বেণুবন ও জেতবনের মতো বিহার এটির উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
চতুর্থ তত্ত্ব: সংঘের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ তত্ত্ব
সংঘের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিয়ম-কানুনের প্রয়োজনীয়তা বিহারকে একটি সংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলে। বিনয়ের ক্রমবিকাশ এই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সাক্ষ্য দেয়।
পঞ্চম তত্ত্ব: শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা তত্ত্ব
পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় শিক্ষা ও পাণ্ডিত্যচর্চার প্রয়োজন বিহারকে আবাসিক মঠ থেকে মহাবিহারে উন্নীত করে। নালন্দা ও বিক্রমশীলার মতো প্রতিষ্ঠান এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
১৭. বিহারের উৎপত্তি সম্পর্কে সমন্বিত সিদ্ধান্ত
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে বিহার কোনো একক ব্যক্তির হঠাৎ আবিষ্কার নয়। এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক-ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিবর্তনের ফল।
প্রথমে ভারতীয় তপস্বীরা অরণ্য, বৃক্ষতল ও গুহায় অবস্থান করতেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও প্রথমদিকে পরিব্রাজক জীবনযাপন করতেন। বর্ষাবাসের প্রয়োজন তাঁদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানের সুযোগ তৈরি করে। গৃহী সমাজের দান ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার ফলে সেই অস্থায়ী আবাস স্থায়ী রূপ লাভ করে। সংঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাসিক ব্যবস্থাপনা, বিনয় ও সংঘীয় কার্যক্রমের প্রয়োজন হয়। এই ধারায় āvāsa, leṇa, ārāma ও saṅghārāma ক্রমে সংগঠিত হয়ে ‘বিহার’-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ সৃষ্টি করে।
আধুনিক গবেষণাতেও এই ধারাবাহিক বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ārāma থেকে saṅghārāma এবং পরবর্তীতে mahāvihāra—এই বিবর্তনকে বৌদ্ধ বিহারের ইতিহাস বোঝার একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে দেখা হয়।
উপসংহার
সার্বিকভাবে বলা যায়, বিহার হলো বৌদ্ধ সংঘের আবাসিক, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ভিক্ষুদের নিরাপদ আবাস ও সাধনার পরিবেশ প্রদান করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কার্যক্রম বহুগুণে বিস্তৃত হয়।
বিহারের উৎপত্তির পেছনে প্রাক্-বৌদ্ধ শ্রামণ্য ঐতিহ্য, অরণ্যবাস ও গুহাবাস, বর্ষাবাসের প্রয়োজন, বৌদ্ধ সংঘের বিকাশ, গৃহী সমাজের দান, রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিনয়-নির্ভর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ—সবগুলো বিষয় সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে।
বুদ্ধের সময়ে বেণুবন ও জেতবনের মতো বিহার এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পরবর্তী সময়ে বিহার শুধু ভিক্ষুদের বাসস্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; নালন্দা, বিক্রমশীলা ও সোমপুরের মতো মহাবিহার আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
অতএব, বিহারের ইতিহাস মূলত পরিব্রাজক জীবন থেকে স্থায়ী সংঘজীবন, অস্থায়ী আশ্রয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক আবাস, আবাসিক মঠ থেকে শিক্ষাকেন্দ্র এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক জ্ঞানকেন্দ্রে উত্তরণের ইতিহাস। এই কারণে বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাসে বিহারকে শুধু একটি স্থাপত্যিক কাঠামো হিসেবে নয়, বরং বৌদ্ধ ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বাহক হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।
তথ্যসূত্র
১. Vinaya Piṭaka, Pāli Text Society/Traditional Theravāda recension—বিশেষত Mahāvagga ও Cullavagga।
২. Bhikkhu Brahmali, The Theravāda Vinayapiṭaka: General Introduction. SuttaCentral. বিনয় ও প্রাথমিক সংঘের উৎপত্তি সম্পর্কে আধুনিক গবেষণামূলক আলোচনা।
৩. Bhikkhu Sujato, A Guide to the Middle Discourses (Majjhima Nikāya)—বুদ্ধের সময় সংঘ ও বিহারজীবনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
৪. SuttaCentral, “Vihāra: A Monastic Dwelling; Meditation”—vihāra শব্দের প্রাথমিক ও পরবর্তী অর্থের আলোচনা।
৫. SuttaCentral, Khandhaka—বর্ষাবাস, আবাস ও প্রাথমিক সংঘজীবন সম্পর্কিত আলোচনা।
৬. Encyclopaedia/Dictionary sources on Vihāra, Buddhist monastic institutions and early Buddhist monasteries.
৭. Buddhist Cave Temples of India, Indira Gandhi National Centre for the Arts—প্রাচীন গুহা-বিহার ও ভারতীয় মঠস্থাপত্যের উৎপত্তি বিষয়ে গবেষণা।
৮. “불교 비하라(vihāra)의 기원과 전개” — বৌদ্ধ বিহারের উৎপত্তি ও প্রাথমিক বিকাশ বিষয়ে গবেষণা; ārāma, āvāsa, leṇa, saṅghārāma ও mahāvihāra-এর বিবর্তন বিশ্লেষণ।
৯. Dilip Kumar Barua, “Monastic Life in Bangladesh: A Case Study,” Journal of Indian and Buddhist Studies, Vol. 48, No. 2, 2000—বাংলাদেশের বিহার ও সংঘজীবন বিষয়ে গবেষণা।
১০. Sutta Nipāta, Sabhiya Sutta—প্রাথমিক বৌদ্ধ সংঘ ও প্রব্রজ্যা-ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিক তথ্য।
১১. A. K. Coomaraswamy, History of Indian and Indonesian Art—ভারতীয় বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
১২. A. L. Basham, The Wonder That Was India—প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম, সমাজ ও শ্রামণ্য সংস্কৃতির ঐতিহাসিক পটভূমি।
১৩. Romila Thapar, Aśoka and the Decline of the Mauryas—মৌর্য যুগে বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
১৪. Richard Gombrich, Theravāda Buddhism: A Social History from Ancient Benares to Modern Colombo—বৌদ্ধ সংঘ, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান বিকাশের সামাজিক ইতিহাস।
১৫. Gregory Schopen, Buddhist Monks and Business Matters—বৌদ্ধ সংঘ, মঠ ও অর্থনৈতিক-সামাজিক কাঠামোর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ।