চাটগাইয়া ভক্ত /Chittagong Devotees

চাটগাইয়া ভক্ত /Chittagong Devotees হরে কৃষ্ণ! আত্মকল্যাণে আপনাকে স্বাগতম!!!

বন্যাকবলিত ২০০০ অসহায় জনসাধারণের মাঝে নির্বিচারে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন শ্রী শ্রী রাধা গিরিধারী মন্দির, ইসকন বান্দ...
12/07/2026

বন্যাকবলিত ২০০০ অসহায় জনসাধারণের মাঝে নির্বিচারে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন শ্রী শ্রী রাধা গিরিধারী মন্দির, ইসকন বান্দরবন। এত দিনব্যাপী ভারী বর্ষণের ফলে ২০২৬ সালে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। অসংখ্য পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে এবং অনেকেই খাদ্যসংকটে ভোগেন
এই দুর্যোগময় সময়ে মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে শ্রী শ্রী রাধা গিরিধারী মন্দির, ইসকন বান্দরবান।বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে
এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সকলকে এগিয়ে এসে মানবকল্যাণে অবদান রাখার জন্য আহবান জানানো হলো🙏

হরে কৃষ্ণ আগামীকাল পবিত্র "যোগিনী (ত্রিস্পৃশা মহাদ্বাদশী) ব্রত। ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন। ...
10/07/2026

হরে কৃষ্ণ
আগামীকাল পবিত্র "যোগিনী (ত্রিস্পৃশা মহাদ্বাদশী) ব্রত। ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন।

যোগিনী একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য :

যোগিনী একাদশী ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংবাদরূপে বর্ণিত আছে। যুধিষ্ঠির বললেন-হে বাসুদেব! আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী মাহাত্ম্য কৃপাপূর্বক আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে মহারাজ! সকল পাপবিনাশিনী ও মুক্তিপ্রদ এই উত্তম ব্রতের কথা বলছি, আপনি শ্রবণ করুন। আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী ‘যোগিনী’ নামে খ্যাত। মহাপাপ নাশকারী এই তিথি ভবসাগরে পতিত মানুষের উদ্ধার লাভের একমাত্র নৌকাস্বরূপ। ব্রত পালনকারীদের পক্ষে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত বলে প্রসিদ্ধ। এই প্রসঙ্গে আপনাকে একটি পবিত্র পৌরাণিক কাহিনী বলছি। অলকা নগরে শিবভক্ত পরায়ণ কুবের নামে এক রাজা ছিল। তিনি প্রত্যহ শিবপূজা করতেন। তার হেমমালী নমে একজন মালী ছিল। প্রতিদিন শিব পূজার জন্য মানস সরোবর থেকে সে ফুল তুলে যক্ষরাজ কুবেরকে দিত। বিশালাক্ষী নামে হেমমালীর এক পরমা রূপবতী পত্নী ছিল। সে তার সুন্দরী পত্নীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল। একদিন সে তার স্ত্রীর প্রতি কামাসক্ত হয়ে পড়ল। রাজভবনে যাওয়ার কথাও ভুলে গেল। বেলা দুই প্রহর অতীত হল। অর্চনের সময় চলে যাচ্ছে দেখে রাজা ক্রুদ্ধ হলেন। মালীর বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে এক দূত প্রেরণ করলেন। দূত এসে রাজাকে বলল-‘সে গৃহে স্ত্রীর সাথে আনন্দে মত্ত।’ দূতের কথা শুনে কুবের অত্যন্ত রেগে তখনি মালীকে তার সমনে হাজির করতে আদেশ দিল।

এদিকে মালী কুবেরের পূজার সময় অতিবাহিত হয়েছে বুঝতে পেরে অত্যন্ত ভয় পেল। তাই স্নান না করেই সে রাজার কাছে উপস্থিত হল। তাকে দেখামাত্র রাজা ক্রোধবশে চোখ রাঙিয়ে বললেন-রে পাপিষ্ঠ, দুরাচার! তুই দেবপূজার পুষ্প আনতে অবজ্ঞা করেছিস তাই আমি তোকে অভিশাপ দিচ্ছি তুই শ্বেতকুষ্ঠগ্রস্থ হয়ে যা এবং তোর প্রিয়তমা ভার্যার সাথে তোর চিরবিয়োগ সংগঠিত হোক। রে নীচ, তুই এখনি এই স্থান থেকে ভ্রষ্ট হয়ে অধোগতি লাভ কর। কুবেরের এই অভিশাপে হেমমালী পত্নীর সাথে স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ কুষ্ঠরোগ ভোগ করতে লাগল। রোগের যন্ত্রণায় দিন বেদনায় বহুকষ্টে সে জীবনযাপন করতে লাগল। কিন্তু দীর্ঘদিন মহাদেবের অর্চনের ফুল সংগ্রহের সুকৃতির ফলে সে শাপগ্রস্ত হয়েও বৈষ্ণবশ্রেষ্ঠ শিবের বিস্মরণ হয়নি। একদিন হেমমালী ভ্রমণ করতে করতে হিমালয়ে শ্রীমার্কন্ডেয় ঋষির আশ্রমে উপস্থিত হল। কুষ্ঠরোগে পীড়িত সপত্নী হেমমালীকে দর্শন করে শ্রীমার্কেন্ডয় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন-‘তুমি কার অভিশাপে এইরকম নিন্দনীয় কুষ্ঠরোগগ্রস্ত হয়েছ?’ সে উত্তর দিল-‘হে মুনিবর! রাজা ধনকুবেরের আমি ভৃত্য ছিলাম। আমার নাম হেমমালী। আমি প্রত্যহ মানসসরোবর থেকে ফুল তুলে শিব পূজার জন্য রাজাকে দিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একদিন স্ত্রীর মনোরঞ্জন হেতু কামাসক্ত হওয়ায় সেই ফুল দিতে বিলম্ব হয়। রাজার অভিশাপে এইরকম দুর্দশাগ্রস্থ হয়েছি। পরোপকারই সাধুগণের স্বাভাবিক কর্ম। হে ঋষিশ্রেষ্ঠ! আমি অত্যন্ত অপরাধী। কৃপা করে আমার প্রতি প্রসন্ন হোন।’ তখন দয়ার্দ্র চিত্ত মার্কন্ডেয় মুনি বললেন-হে মালী! তোমার মঙ্গলের জন্য শুভফল প্রদানকারী এক ব্রতের উপদেশ করছি। তুমি আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘যোগিনী’ নামক একাদশী ব্রত পালন কর। এই ব্রতের প্রভাবে তুমি অবশ্যই কুষ্ঠব্যাধি থেকে মুক্ত হবে। শ্রীকৃষ্ণ বললেন-ঋষির উপদেশ শ্রবণ করে হেমমালী তাকে প্রণাম জানাল। পরে অত্যন্ত আনন্দে ঋষির আদেশমতো নিষ্ঠার সঙ্গে যোগিনী একাদশী ব্রত পালন করল। এইভাবে হেমমালী সমস্ত রোগ থেকে মুক্ত হল ও পত্নীসহ সুখে জীবনযাপন করতে লাগল। হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! আমি আপনার কাছে এই ব্রত উপবাসের মহিমা কীর্তন করলাম। এই ব্রত পালনে অষ্টাশি হাজার ব্রাহ্মণকে ভোজন করানের ফল লাভ হয়। যে ব্যক্তি এই মহাপাপ বিনাশকারী ও পুন্যফল প্রদায়ী যোগিনী একাদশীর কথা পাঠ এবং শ্রবণ করে সে অচিরেই সর্বপাপ থেকে মুক্ত হবে।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

27/06/2026
হরে কৃষ্ণ আগামী ২৬ জুন ২০২৬ পবিত্র পান্ডবা নির্জলা (পক্ষবর্ধিনী মহাদ্বাদশী) একাদশী ব্রত।ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে...
25/06/2026

হরে কৃষ্ণ
আগামী ২৬ জুন ২০২৬ পবিত্র পান্ডবা নির্জলা (পক্ষবর্ধিনী মহাদ্বাদশী) একাদশী ব্রত।ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন।

পান্ডবা নির্জলা একাদশীর মাহাত্ম্যঃ

জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের এই নির্জলা একাদশী ব্রত সম্পর্কে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে শ্রীভীমসেন-ব্যাসসংবাদে বর্ণিত হয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন---হে জনার্দন! আমি অপরা একাদশীর সমস্ত মাহাত্ম্য শ্রবণ করলাম এখন জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপাপূর্বক আমার কাছে বর্ণনা করুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, এই একাদশীর কথা মহর্ষি ব্যাসদেব বর্ণনা করবেন। কেননা তিনি সর্বশাস্ত্রের অর্থ ও তত্ত্ব পূর্ণরূপে জানেন। রাজা যুধিষ্ঠির ব্যাসদেবকে বললেন---হে মহর্ষি দ্বৈপায়ন! আমি মানুষের লৌকিক ধর্ম এবং জ্ঞানকাণ্ডের বিষয়ে অনেক শ্রবণ করেছি। আপনি যথাযথভাবে ভক্তিবিষয়িনী কিছু ধর্মকথা এখন আমায় বর্ণনা করুন।

শ্রীব্যাসদেব বললেন---হে মহারাজ! তুমি যেসব ধর্মকথা শুনেছ এই কলিযুগের মানুষের পক্ষে সে সমস্ত পালন করা অত্যন্ত কঠিন। যা সুখে, সামান্য খরচে, অল্প কষ্টে সম্পাদন করা যায় অথচ মহাফল প্রদান করে এবং সমস্ত শাস্ত্রের সারস্বরূপ সেই ধর্মই কলিযুগে মানুষের পক্ষে করা শ্রেয়। সেই ধর্মকথাই এখন আপনার কাছে বলছি।

উভয় পক্ষের একাদশী দিনে ভোজন না করে উপবাস ব্রত করবে। দ্বাদশী দিনে স্নান করে শুচিশুদ্ধ হয়ে নিত্যকৃত্য সমাপনের পর শ্রীকৃষ্ণের অর্চন করবে। এরপর ব্রাহ্মণদেরকে প্রসাদ ভোজন করাবে। অশৌচাদিতেও এই ব্রত কখনও ত্যাগ করবে না। যে সকল ব্যক্তি স্বর্গে যেতে চায়, তাদের সারা জীবন এই ব্রত পালন করা উচিত। পাপকর্মে রত ও ধর্মহীন ব্যক্তিরাও যদি এই একাদশী দিনে ভোজন না করে, তবে তারা যমযাতনা থেকে রক্ষা পায়।

শ্রীব্যাসদেবের এসব কথা শুনে গদাধর ভীমসেন অশ্বত্থ পাতার মতো কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগলেন---হে মহাবুদ্ধি পিতামহ! মাতা কুন্তী, দ্রৌপদী, ভ্রাতা যুধিষ্ঠির, অর্জুন, নকুল ও সহদেব এরা কেউই একাদশীর দিনে ভোজন করে না। আমাকেও অন্ন গ্রহণ করতে নিষেধ করে। কিন্তু দুঃসহ ক্ষুধাযন্ত্রণার জন্য আমি উপবাস করতে পারি না।

ভীমসেনের এরকম কথায় ব্যাসদেব বলতে লাগলেন---যদি স্বর্গাদি দিব্যধাম লাভে তোমার একান্ত ইচ্ছা থাকে, তবে উভয় পক্ষের একাদশীতে ভোজন করবে না। তদুত্তরে ভীমসেন বললেন---আমার নিবেদন এই যে, উপবাস তো দূরের কথা, দিনে একবার ভোজন করে থাকাও আমার পক্ষে অসম্ভব। কারণ আমার উদরে ‘বৃক’ নামে অগ্নি রয়েছে। ভোজন না করলে কিছুতেই সে শান্ত হয় না। তাই প্রতিটি একাদশী পালনে আমি একেবারেই অপারগ।

হে মহর্ষি! বছরে একটি মাত্র একাদশী পালন করে যাতে আমি দিব্যধাম লাভ করতে পারি এরকম কোন একাদশীর কথা আমাকে নিশ্চয় করে বলুন। তখন ব্যাসদেব বললেন---জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে জলপান পর্যন্ত না করে সম্পূর্ণ উপবাস থাকবে। তবে আচমনে দোষ হবে না। ঐদিন অন্নাদি গ্রহণ করলে ব্রত ভঙ্গ হয়।

একাদশীর দিন সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশীর দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত জলপান বর্জন করলে অনায়াসে বারোটি একাদশীর ফল লাভ হয়। বছরের অন্যান্য একাদশী পালনে অজান্তে যদি কখনও ব্রতভঙ্গ হয়ে যায, তা হলে এই একটি মাত্র একাদশী পালনে সেই সব দোষ দূর হয়। দ্বাদশী দিনে ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নানাদিকার্য সমাপ্ত করে শ্রীহরির পূজা করবে। সদাচারী ব্রাহ্মণদের বস্ত্রাদি দানসহ ভোজন করিয়ে আত্মীয়স্বজন সঙ্গে নিজে ভোজন করবে। এরূপ একাদশী ব্রত পালনে যে প্রকার পুণ্য সঞ্চিত হয়, এখন তা শ্রবণ কর।

সারা বছরের সমস্ত একাদশীর ফলই এই একটি মাত্র ব্রত উপবাসে লাভ করা যায়। শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাকে বলেছেন---‘বৈদিক ও লৌকিক সমস্ত ধর্ম পরিত্যাগ করে যারা একমাত্র আমার শরণাপন্ন হয়ে এই নির্জলা একাদশী ব্রত পালন করে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়। বিশেষত কলিযুগে ধন-সম্পদ দানের মাধ্যমে সদ্গতি বা স্মার্ত সংস্কারের মাধ্যমেও যথার্থ কল্যাণ লাভ হয় না। কলিযুগে দ্রব্যশুদ্ধি নেই। কলিতে শাস্ত্রোক্ত সংস্কার বিশুদ্ধ হয় না। তাই বৈদিক ধর্ম কখনও সুসম্পন্ন হতে পারে না। হে ভীমসেন! তোমাকে বহু কথা বলার আর প্রয়োজন কি? তুমি উভয় পক্ষের একাদশীতে ভোজন করবে না। যদি তাতে অসমর্থ হও তবে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীতে অবশ্যই নির্জলা উপবাস করবে। এই একাদশী ব্রত ধনধান্য ও পুন্যদায়িনী। যমদূতগণ এই ব্রত পালনকারীকে মৃত্যুর পরও স্পর্শ করতে পারে না। পক্ষান্তরে বিষ্ণুদূতগণ তাঁকে বিষ্ণুলোকে নিয়ে যান।

শ্রীভীমসেন ঐদিন থেকে নির্জলা একাদশী পালন করতে থাকায় এই একাদশী ‘পাণ্ডবা নির্জলা বা ভীমসেনী একাদশী’ নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। এই নির্জলা একাদশীতে পবিত্র তীর্থে স্নান, দান, জপ, কীর্তন ইত্যাদি যা কিছু মানুষ করে তা অক্ষয় হয়ে যায়। যে ব্যক্তি ভক্তিসহকারে এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণ করেন তিনি বৈকুণ্ঠধাম প্রাপ্ত হন।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

বিশ্ব সঙ্গীত দিবস ২১ জুনভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে রাগের সংখ্যা আসলে অসংখ্য ও হাজারেরও বেশি!তবে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে "৮...
24/06/2026

বিশ্ব সঙ্গীত দিবস ২১ জুন

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে রাগের সংখ্যা আসলে অসংখ্য ও হাজারেরও বেশি!

তবে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে "৮৩" সংখ্যাটির একটি বিশেষ ব্যাকরণগত তাৎপর্য আছে। পণ্ডিত জশরাজ যে মেওয়াতী ঘরানার শিল্পী ছিলেন, সেই ঘরানার মূল শাস্ত্র এবং প্রাচীন সঙ্গীত গ্রন্থগুলোতে রাগ সৃষ্টির একটি নিখুঁত গাণিতিক কাঠামো বা বংশলতিকা দেওয়া আছে। সেখানে মূল ৬টি রাগ এবং তাদের রাগিণী ও পুত্ররাগের হিসাব মেলালে মোট ৮৪টি (কারো মতে ৮৩টি) রাগ-রাগিণীর একটি পরিবার তৈরি হয়।

নিচে ভারতীয় সঙ্গীতের রাগের আসল হিসাব এবং বহুল প্রচলিত প্রধান প্রধান রাগগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

৮৩ বা ৮৪টি রাগের রহস্য (রাগ-রাগিণী পদ্ধতি)

প্রাচীন ভারতীয় সঙ্গীতশাস্ত্রে (বিশেষ করে শিব-মত বা কল্লিনাথ মতে) রাগগুলোকে একটি পরিবারের মতো সাজানো হয়েছে।

মূল রাগ: ৬টি
প্রতিটি রাগের ঘরণী বা রাগিণী: ৫ জন করে (৬ $\times$ ৫ = ৩০টি রাগিণী)

প্রতিটি রাগ-রাগিণী জুটির পুত্র রাগ: ৮টি করে (৬ $\times$ ৮ = ৪৮টি পুত্র রাগ)

এই কাঠামোতে মোট রাগ হয়: ৬ + ৩০ + ৪৮ = ৮৪টি। (কোনো কোনো প্রাচীন পুথিতে একটি কম হিসাব করে ৮৩টি মূল ও উপ-রাগের তালিকা দেওয়া হয়েছে)।

প্রধান ও বহুল প্রচলিত রাগসমূহের তালিকা
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ১০টি মূল ঠাট বা মেলের ওপর ভিত্তি করে যে প্রধান রাগগুলো তৈরি হয়েছে এবং যেগুলো আজ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি গাওয়া হয়, তার একটি গোছানো তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. কল্যাণ ঠাটের রাগসমূহ
রাগ ইমন (বা কল্যাণ)
রাগ ভূপালী
রাগ শুদ্ধ কল্যাণ
রাগ ছায়ানট
রাগ হমীর
রাগ কেদার

২. বিলাবল ঠাটের রাগসমূহ
রাগ বিলাবল (আলহৈয়া বিলাবল)
রাগ হংসধ্বনি
রাগ দেশকার
রাগ বিহাগ
রাগ দুর্গা
রাগ শংকরা

৩. খাম্বাজ ঠাটের রাগসমূহ
রাগ খাম্বাজ
রাগ দেশ
রাগ তিলক কামোদ
রাগ জয়জয়ন্তী
রাগ রাগেশ্রী
রাগ ঝিনঝুটি
রাগ গাবতী

৪. কাফী ঠাটের রাগসমূহ
রাগ কাফী
রাগ ভীমপলাশ্রী
রাগ বাগেশ্রী
রাগ বৃন্দাবনী সারং
রাগ পিলু
রাগ শিবরঞ্জনী
রাগ মেঘ

৫. আসাবরী ঠাটের রাগসমূহ
রাগ আসাবরী
রাগ জৌনপুরী
রাগ দরবারী কানাড়া
রাগ অড়ানো

৬. ভৈরব ঠাটের রাগসমূহ
রাগ ভৈরব
রাগ রামকেলি
রাগ কলিংড়া
রাগ আহীর ভৈরব
রাগ আনন্দ ভৈরব
রাগ বৈরাগী

৭. ভৈরবী ঠাটের রাগসমূহ
রাগ ভৈরবী
রাগ মালকোষ
রাগ বিলাসখানী টোড়ী
রাগ ভূপাল টোড়ী

৮. টোড়ী ঠাটের রাগসমূহ
রাগ মিঁয়া কি টোড়ী (শুদ্ধ টোড়ী)
রাগ গুর্জরী টোড়ী
রাগ মূলতানী

৯. পূরবী ঠাটের রাগসমূহ
রাগ পূরবী
রাগ মারু বিহাগ
রাগ ললিত
রাগ বসন্ত
রাগ পরজ

১০. মারোয়া ঠাটের রাগসমূহ
রাগ মারোয়া
রাগ সোহিনী
রাগ পুরিয়া
রাগ জেত
অপ্রচলিত ও মিশ্র রাগ

এখন "অনেকগুলোই রাগ অপ্রচলিত"—তা একদম সত্যি। সময়ের সাথে সাথে অনেক জটিল রাগ হারিয়ে গেছে। আবার বড় বড় পণ্ডিতেরা দুটি রাগের মিশ্রণে নতুন নতুন রাগ তৈরি করেছেন (যেমন: মিঁয়া কি মল্লার, হংসধ্বনি, বসন্ত বাহার)। তাই খাতায়-কলমে রাগের কোনো শেষ নেই, তবে ওপরের তালিকাভুক্ত রাগগুলোই ভারতীয় সঙ্গীতের প্রাণ।

'সময় তত্ত্ব' (Time Theory) ----------

রাগ এবং তাদের পরিবেশনের সময়ের এই তালিকাটি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান একটি গাইড। রাগ-সংগীতের মূল সৌন্দর্যই লুকিয়ে আছে এর 'সময় তত্ত্ব' (Time Theory)-এর মাঝে। প্রকৃতি, আলো-ছায়া এবং মানুষের মনের ভাবাবেগের সাথে সুরের যে গভীর সংযোগ, তা এই তালিকাটি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।

১. ছয়টি মৌলিক রাগ (পণ্ডিত জশরাজের মতে)

ভৈরব: ভোরের শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ।

হিন্দোল: সকালের প্রথম আলো (দিনের প্রথমাংশ)।

মেঘ: তীব্র তাপদাহে বৃষ্টির আবাহন।

দীপক ও শ্রী: আলো-আঁধারির সান্ধ্যকালীন গম্ভীর পরিবেশ।

মালকোষ: গভীর রাতের (তৃতীয় প্রহর) একাত্মতা।

২. দিন ও রাতের প্রহর অনুযায়ী অন্যান্য রাগ
প্রাতঃকাল ও প্রথম প্রহর (ভোর ৬:০০ - সকাল ৯:০০): আশাবরী, জৌনপুরি, বিলাসখানি, বিভাষ, রামকেলি ।

দিবা দ্বিতীয় প্রহর (সকাল ৯:০০ - দুপুর ১২:০০): বিলাবল, টৌড়ি, গুর্জরী।

বিকাল ও দিবা শেষ প্রহর: বৃন্দাবনী সারং, মুলতানী।

দিনের শেষ প্রহর (সায়ংকাল): মারোয়া, পূরবী (সন্ধি প্রকাশ রাগ)।

রাত্রির প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা ৬:০০ - রাত ৯:০০): ইমন, কেদার, ভূপালী।

রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর (রাত ৯:০০ - রাত ১২:০০): কাফী, বেহাগ, দূর্গা, রাগেশ্রী, কলাবতী, খাম্বাজ।

মধ্যরাত্রি ও তৃতীয় প্রহর (রাত ১২:০০ - ভোর ৩:০০): বাগেশ্রী, দরবারি কানাড়া, বৃহৎ সাম।

রাত্রির শেষ প্রহর (ভোর ৩:০০ - সকাল ৬:০০): সোহিনী, বসন্ত (বসন্ত ঋতু ছাড়া অন্য সময়ে)।

৩. ব্যতিক্রমী ও সর্বকালীন রাগ
ভৈরবী: চিরন্তন এবং সদা জাগ্রত রাগ। একে রাগ-সংগীতের "রানী" বলা চলে, যা যেকোনো সময় গাওয়া গেলেও রাত ১২টা থেকে দিনের ১২টা পর্যন্ত এর প্রভাব সবচেয়ে মধুর।

বসন্ত: ঋতুপ্রধান রাগ, তাই বসন্তকালে সময়ের কোনো বাঁধন ছাড়াই এটি প্রকৃতির বুকে সুরের রং ছড়ায়।

একটি দারুণ পর্যবেক্ষণ: রাগগুলোর এই সময় বণ্টন কিন্তু মোটেও কাকতালীয় নয়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, ভোর থেকে যত বেলার দিকে যাওয়া যায়, রাগের স্বরগুলো তত তীব্র হতে থাকে; আবার সন্ধ্যার পর থেকে রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে কোমল স্বরের ব্যবহার বাড়তে থাকে। প্রকৃতির এই নিয়মের সাথে মিলিয়েই সুর সাধনা করা হয়।

বৈষ্ণবীয় ভজন এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র গাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগ এবং সময় তত্ত্ব অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে ২৪ ঘণ্টাকে 'অষ্টকালীয় লীলা' বা আটটি ভাগে ভাগ করে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবা করা হয়। বৈষ্ণব আচার্যগণ ও কীর্তনীয়ারা সেই সময়ের ভাবের সাথে মিলিয়ে নির্দিষ্ট রাগে ভজন ও মহামন্ত্র পরিবেশন করেন।

নিচে সময় এবং ভাব অনুযায়ী হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ও বৈষ্ণব ভজন কোন রাগে গাওয়া হয়, তার একটি শাস্ত্রীয় ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেওয়া হলো:

১. ব্রাহ্মমুহূর্ত ও প্রাতঃকাল (ভোর ৪:০০ - সকাল ৯:০০)
দিনের এই সময়টা অত্যন্ত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং জপ-ধ্যানের জন্য সেরা। এই সময়ের প্রধান ভাব হলো জাগরণ এবং ভক্তি।

ব্যবহৃত রাগ: ভৈরব, আহীর ভৈরব, বিভাষ, রামকেলি, ললিত, আশাবরী, জৌনপুরী।

কখন গাওয়া হয়: মঙ্গল আরতি (ভোর ৪:৩০) এবং সকালের জপ ও কীর্তনের সময়।

ভজনের উদাহরণ: শ্রীনিবাস আচার্যের "ষড়গোস্বামী-অষ্টকম" বা শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুরের "শ্রীশ্রীগুরু-অষ্টকম" (সংসার দাবানল লীঢ়লোেক) মূলত ভৈরব বা ললিত রাগে গাওয়া হয়। সকালের মহামন্দির কীর্তনে আহীর ভৈরব ও জৌনপুরী বহুল প্রচলিত।

২. পূর্বাহ্ণ ও মধ্যাহ্ন (সকাল ৯:০০ - দুপুর ২:০০)
এই সময় কৃষ্ণ তাঁর সখাদের সাথে গরু চরাতে বনে যান (গোষ্ঠলীলা)। এর ভাব কিছুটা চঞ্চল, আনন্দময় এবং উৎসবমুখর।

ব্যবহৃত রাগ: বিলাবল, সারং (বৃন্দাবনী সারং), গৌড় মালব, টোড়ী।

কখন গাওয়া হয়: ভোগ আরতি এবং রাজভোগ নিবেদনের সময় (দুপুর ১২:০০)।

ভজনের উদাহরণ: শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের বিখ্যাত ভজন "ভজরে ভজরে আমার মন দৃঢ় করি" কিংবা "ভজা হূঁ রে মন শ্রীনন্দনন্দন"—এই মধ্যাহ্নকালীন ভজনগুলো অনেক সময় সারং বা বিলাবল রাগের আশ্রয়ে গাওয়া হয়।

৩. অপরাহ্ণ ও সায়াহ্ন (বিকাল ৪:০০ - সন্ধ্যা ৬:০০)
কৃষ্ণ বন থেকে ব্রজে ফিরে আসছেন, ধূলি উড়ছে (গোথূলি বেলা)। ব্রজবাসীরা কৃষ্ণের পথ চেয়ে বসে আছেন। এর মূল ভাব হলো ব্যাকুলতা ও প্রতীক্ষা।

ব্যবহৃত রাগ: দেশ, ধানশ্রী, মুলতানী, মারোয়া, পূরবী।

কখন গাওয়া হয়: বৈকালিক আরতি বা সন্ধ্যার ঠিক আগের কীর্তনে।
ভজনের উদাহরণ: শ্রীকৃষ্ণের গৃহে ফেরার সময় ব্রজবাসীদের যে আনন্দ ও ব্যাকুলতা, তা রাগ দেশ বা ধানশ্রী-তে খুব সুন্দর ফোটে।

৪. রাত্রির প্রথম প্রহর ও সন্ধ্যা (সন্ধ্যা ৬:০০ - রাত ৯:০০)
দিনের অন্যতম প্রধান আরতি বা 'গৌর আরতি' হয় এই সময়ে। এর ভাব হলো সম্পূর্ণ সমর্পণ এবং গভীর ভক্তি।

ব্যবহৃত রাগ: ইমন (কল্যাণ), ভূপালী, কেদার, খাম্বাজ, শ্রী।

কখন গাওয়া হয়: সন্ধ্যা আরতি এবং সান্ধ্যকালীন প্রবচনের আগে ও পরে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনে।

ভজনের উদাহরণ: শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভজন "জয় জয় গোরাচাঁদের আরতিক শোভা" (গৌর আরতি) সাধারণত রাগ ভূপালী বা ইমন রাগের সুরে বাঁধা হয়। এই সময়ে মহামন্ত্র কীর্তনে ইমনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

৫. মধ্যরাত্রি (রাত ৯:০০ - রাত ১২:০০ ও তার পর)
এটি রাধাকৃষ্ণের মধুর নিকুঞ্জ লীলা বা রাসলীলার সময়। এর ভাব গভীর প্রেম, বিরহ এবং একাত্মতা।

ব্যবহৃত রাগ: বিহাগ, বাগেশ্রী, দরবারী কানাড়া, মালকোষ।

কখন গাওয়া হয়: শয়ন আরতি বা গভীর রাতের বিশেষ কোনো উৎসবে (যেমন জন্মাষ্টমী বা রাধাশ্টমীর রাত)।

ভজনের উদাহরণ: শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুরের বিরহ ও আকুলতার ভজন যেমন—"গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর" বা "হরি হরি বিফল জনম গোঙাইনু"—এগুলো গভীর রাতে বিহাগ বা বাগেশ্রী রাগে গাইলে অন্তরের ভক্তিভাব পূর্ণতা পায়।

হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র ও বৈষ্ণব ভজনের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাগ: ভৈরবী
আপনার আগের তালিকায় আপনি একদম সঠিক লিখেছিলেন যে, ভৈরবী যেকোনো সময় গাওয়া যায়। বৈষ্ণব সঙ্গীতেও এর ব্যতিক্রম নেই।
হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের সবচেয়ে চিরন্তন এবং হৃদয়স্পর্শী সুরগুলো রাগ ভৈরবী-র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে কীর্তন বা উৎসবের একদম শেষ অংশে যখন সমাপনী মহামন্ত্র গাওয়া হয়, তখন ভৈরবী রাগ ব্যবহার করা হয়। এটি এমন এক রাগ যা মানুষের মনকে বৈরাগ্য ও পরমেশ্বরের চরণে আশ্রয়ের অনুভূতি এনে দেয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কীর্তনীয়াগণ কোনো কঠোর নিয়ম মেনে রাগ পরিবেশন না করলেও, তাঁদের অবচেতন মনে সময়ের ভাব অনুযায়ী সুরের যে খেলা চলে, তা শাস্ত্রীয় রাগের সাথেই হুবহু মিলে যায়।

ষষ্ঠী দেবীর ব্রতকথা প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে জামাই ষষ্ঠী ব্রত পালন করা হয়। জৈষ্ঠ্যমামের শুক্লপক্ষ...
20/06/2026

ষষ্ঠী দেবীর ব্রতকথা

প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে জামাই ষষ্ঠী ব্রত পালন করা হয়। জৈষ্ঠ্যমামের শুক্লপক্ষীয় ষষ্ঠীকে অরণ্য ষষ্ঠী, স্কন্দ ষষ্ঠী জামাই ষষ্ঠী প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়। বাংলাসহ সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন নামে এ ষষ্ঠীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।আতপ চালের পিটুলি দিয়ে একটি বিড়াল এঁকে এ ব্রত করা হয় । আম, কাঠাল, লেচুসহ বিবিধ প্রকারের ফলফলাদি দিয়ে নৈবেদ্য সাজাতে হয়। ৬টা পান ও ৬টা সুপারি হলুদে ছোপানো কাপড়ের টুকরো বাঁশ পাতায় জড়িয়ে, ৬ গাছা সুতো পাকিয়ে ও হলুদ মাখিয়ে তার সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। এই সুতোকে ষাট সুতো বলা হয়। চিড়ে, খই, দই, তেল ও হলুদ দিয়ে দেবী ষষ্ঠীর ব্রতপূজা করতে হয়। ষষ্ঠী দেবী বা অরণ্যষষ্ঠী দেবী স্বয়ং আদ্যাশক্তি মহামায়া জগদ্ধাত্রী। তিনি মহাশক্তি মহামায়ার সন্তানপ্রদাত্রী রূপ। বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে দেবীর ধ্যানমন্ত্রেই পাওয়া যায়।

দ্বিভুজাং যুবতীং ষষ্ঠীং বরাভয়যুতাং স্মরেৎ।
গৌরবর্ণাং মহাদেবীং নানালংকারভূষিতাম্।।
দিব্যবস্ত্র পরিধানাং বামক্রোড়ে সষুত্রিকাম্ ।
প্রসন্নবদনাং নিত্যাং জগদ্ধাত্রীং সুতপ্ৰদাম্ ॥
সর্বলক্ষণ সম্পন্নাং পীনোন্নতপয়োধরাম্ ॥

"দ্বিভুজা, যুবতী, বর ও অভয়মুদ্রাধারিণী, গৌরবর্ণা, নানা অলংকারে বিভূষিতা, দিব্যবস্ত্রপরিহিতা, বামক্রোড়ে স্থিত পুত্রসহিতা, প্রসন্নবদনা, নিত্যা, জগদ্ধাত্রী, সন্তানদায়িনী, সর্বলক্ষণাযুক্তা, উন্নত পয়োধর বিশিষ্টা ষষ্ঠী দেবীর ধ্যান করি।"

সকলের কপালে কাঁচা হলুদ স্পর্শ করে দেবীর আশীর্বাদসূচক ষাট সুতা ডান হাতে মঙ্গল কামনায় বাঁধতে হয়। ষাট সুতা হাতে বেঁধেই সকলকেই জামাই বা অরণ্য ষষ্ঠীর ব্রতকথা শুনতে হয়। ষষ্ঠী দেবীর পূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ হল দেবীর মাহাত্ম্যসূচক ব্রতকথার বর্ণনা বা পাঠ। সাধারণত দেবীর পূজা সমাপনান্তে এ ব্রতকথা পাঠ করতে হয়। সংক্ষেপে ষষ্ঠী দেবীর ব্রতকথাটি হল:

এক ব্রাহ্মণীর তিন ছেলে ছিল। তিন ছেলেই বিবাহিত ছিল। সেই তিন ছেলের বউয়ের মধ্যে ছোটবউয়ের খাবারের প্রতি খুব দুর্বলতা ছিল। ঘরের বিভিন্ন প্রকারের খাবার সে নিজে চুরি করে খেয়ে, সে সকল দোষ বাড়ির পোষা একটি কালো বেড়ালের ওপর দিয়ে দিত। বেড়াল দেবী ষষ্ঠীর বাহন। সে অত্যন্ত দুঃখিত হৃদয়ে দেবী ষষ্ঠী কাছে এই অপবাদের বিচার দিত।

প্রতিদিন পোষ্য বিড়ালের নামে অপবাদ দিতে দিতে ছোট বউয়ের সাহস বেড়ে যায়। সে এই কাজটি নিয়মিত করতেই থাকে। এমনি করে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে অরণ্য ষষ্ঠী ব্রতের দিন এসে গেলো। ব্রাহ্মণী ষষ্ঠীব্রত করবে, বাড়িতে আনন্দ উৎসব শুরু হল। ব্রাহ্মণী ষষ্ঠী দেবীর জন্য নিজের হাতে পায়েস, মিষ্টি, ক্ষীর ও নাড়ু তৈরী করল। ছোটবউকে বলল, বউমা, আমি তো সকালবেলাতেই স্নানটা সেরে মায়ের ভোগের বিবিধ প্রকারের উপাচার তৈরি করেছি, এখন পুনরায় আরেকবার স্নান করে এসে মায়ের পূজা সারবো; তুমি ততক্ষণ এখানে বসে একটু খেয়াল রাখো যেন কালো বেড়ালটা দেবীর জন্য তৈরিকৃত প্রসাদের উপাচারে মুখ না দেয়। পুত্রবধূকে এ নির্দেশনা দিয়ে ব্রাহ্মণী চলে গেলো স্নান সারতে। এদিকে বিবিধ প্রকারের ভালো ভালো খাবার দেখে ছোটবউ আর লোভ সংবরণ করতে পারলো না। সে মিষ্টি, ক্ষীর, পায়েস, দই যা পারলো তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল। নিজেই দেবীর প্রসাদ খেয়ে নিয়ে খানিকটা দই তিনি বেড়ালটার মুখে মাখিয়ে দিলেন। এদিকে ব্রাহ্মণী স্নান সেরে এসে দেখলেন যে, দেবীর উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত প্রসাদ কে যেন খাবলে খাবলে খেয়ে নিয়ে গেছে। ব্রাহ্মণী ছোটবউকে তখন জিগ্যেস করল, ও বউমা! দেবীর উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত প্রসাদ কে এমন করে খাবলে খেয়ে গেল? ছোটবউ তখন বলল, কী জানি মা! একটু অন্যমনস্ক হয়ে ছিলাম সে সময় আমার চোখে ধুলো দিয়ে কালো বেড়ালটা সব খেয়ে নিয়েছে হয়ত। দেখুন না মা, ওর মুখে এখনো দই লেগে আছে। এই পাজি বিড়ালটিই যে সব খেয়েছে এটাই বড় প্রমাণ যে, ওর মুখে দই লেগে আছে। এ বলে ছোটবউ নিরপরাধ বেড়ালটাকে চোর সাজিয়ে বেশ দু'চার ঘা দিয়ে আহত করলো।

ব্রাহ্মণী আবার সব নতুন করে যোগাড় করে পূজার ব্যবস্থা করল। এদিকে কালো বেড়ালটা মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে বনে চলে গেল। যেখানে দেবী অরণ্যষষ্ঠী আবির্ভূতা হলেন।বিড়ালটি দেবীর কাছে সকল কথা বলে দিল। বিড়ালের কথা শুনে দেবী ষষ্ঠী বললেন, দুঃখ করিস না, আমি সকলই জানি তুই কাঁদিস না—আমি অতিদ্রুত ছোটবউকে তার কৃতকর্মের প্রতিফল প্রদান করবো।

এভাবে দিন চলে যায়। কিছু মাস পরে ছোটবউয়ের সন্তান সম্ভাবনা দেখা দেয়। দশ মাস দশ দিন পরে সে ফুটফুটে সুন্দর চাঁদের মতন একটি ছেলে প্রসব করল। ব্রাহ্মণী নাতির মুখ দেখে অত্যন্ত খুশি হল।তিনি গরীব দুঃখীদের সাধ্যমত দান করতে লাগলেন। এদিকে ছোটবউ তার ছেলেকে কোলের কাছে নিয়ে রাত্রে ঘুমিয়ে পড়লো। কিন্তু হায়, সকালবেলা ঘুম ভাঙতে দেখে তার ছেলে তার কোলের কাছে বিছানায় নেই। শাশুড়ী ও বৌসহ সাড়া পরিবার চিন্তিত হয়ে চারিদিকে খোজাখুজি করতে লাগল। কিন্তু সকল স্থানেই খোজাখুজি করার পরেও তার ছেলেকে কোথাও পাওয়া গেল না।একই রকম করে ছোটবউয়ের পর পর সাতটি ছেলে আর একটি মেয়ে হল, কিন্তু প্রত্যেকটি সন্তানই এভাবে রহস্যময়ভাবে হারিয়ে গেল। রাত্রিরে ছোটবউ কোলের কাছে সন্তান নিয়ে শুতো আর সকাল হলেই সেই সন্তানকে আর কোথাও পাওয়া যেত না। এভাবে বেশ কয়েকবছর চলে যাওয়ার পরে পাড়া প্রতিবেশী সকলেই একদিন বলতে শুরু করলো যে, ছোটবউ মানুষ নয় নিশ্চয়ই রাক্ষসী। সদ্যোজাত সন্তানগুলোকে সে নিজেই খেয়ে ফেলছে। এই বউকে কিছুতেই আর বাড়িতে বা এ গ্রামে রাখা উচিত হবে না, ওকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

এক কান দুইকান করতে করতে পাড়ার লোকের এই সকল কথাগুলো ছোটবউয়ের কানে গেল। সে আর সহ্য করতে পারলো না। এমনিতেই তার কাছে জীবন এবং সংসার অসহ্য হয়ে যাচ্ছিল। সকলের অজান্তে সে নিজেই বাড়ি ছেড়ে একদিন গভীর বনে চলে গেল। সে বনে একাকিনী বিচরণ করতে করতে গিয়ে কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে সে সন্তানের রক্ষাকর্ত্রী দেবীর উদ্দেশ্যে বলে- আমার এ কী দশা হল মা ? তুমি আমায় সাত-সাতটি ছেলে আর একটি মেয়ে দিয়েও সব কেড়ে নিলে? কেন মা তুমি এমন নিষ্ঠুর? যখন আমার সকল সদ্যোজাত সন্তানকেই তুমি তলে নিলে, তখন তুমি আমাকেও তোমার কাছে তুলে নিয়ে নাও, আমি আর একদিন দূরে থাক একদণ্ডও বাঁচতে চাই না। গভীর বনে একাকিনী ছোটবউয়ের কান্নায় দেবী ষষ্ঠীর তার প্রতি দয়া হয়। দেবী তখন একটি বুড়িমার রূপ ধরে তার কাছে আসে। সে বুড়িমা রূপী দেবী ষষ্ঠী ছোটবউকে বলে- এই বন-বাদাড়ে, তুমি একলা বসে কাঁদছো কেন মা? ছোটবউ তখন দেবী ষষ্ঠীকে সদ্যোজাত সন্তান হারানোর সকল বৃত্তান্ত খুলে বলে। বুড়িমা রূপী দেবী ষষ্ঠী তখন ক্রুদ্ধ হলে বললেন, ওরে বেটি! আসল কথাগুলো সব লুকিয়ে রাখলি কেন? তুই যে লুকিয়ে লুকিয়ে মাছ, দুধ, পূজোর মিষ্টিসহ বিবিধ উপাচার সব নিজে খেয়ে শাশুড়ীর কাছে কালো বেড়ালটার নামে নিত্য দোষ দিতিস সে কথা ভুলে গেছিস? নিজের দোষ অন্য নিরপরাধের উপরে দিতে তোর লজ্জা হত না, নির্লজ্জ কোথাকার! তোর সেই পাপের কারণেই আজ তোর এই দুর্দশা হয়েছে।বুড়িমার কথা শুনে ছোটবউ ভয়ে আৎকে উঠে। সে বুঝতে পারে এ বুড়িমা কোন সাধারণ কেউ নয়। সে তখন আছড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে- তুমি কে মা? কেমন করে আমার সব গোপনীয় কথা জানতে পারলে? আমায় দয়া করো, তা না হলে আমি তোমার পা ছাড়বো না। আমি আমার পূর্ববর্তী পাপকর্মের জন্যে অনুতপ্ত। সেই পাপ খণ্ডানোর জন্য তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। ছোটবউয়ের কাতরতা দেখে, অবশেষে দেবী বললেন, শোন বাছা! আমিই দেবী ষষ্ঠী, পৃথিবীর লোক প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যা করে আমি সকলই জানতে পারি। ছোটবউ তখন আবার কেঁদে বলতে বলে- মা! আমি খুব অন্যায় করেছি, আমার পাপের শেষ নেই, আজ যখন দয়া করে আমায় দেখা দিয়েছো তখন তুমি আমায় এই পাপের হাত থেকে রক্ষা করো। পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। দেবী ষষ্ঠী তখন বললেন, ঐ দেখ পথের ধারে ওইখানে একটা মরা বেড়াল পঁচে পড়ে আছে। যদি এক হাঁড়ি দই ওই বেড়ালটার গায়ে ঢেলে দিয়ে সে দই জিভ দিয়ে চেটে ফের হাড়িতে তুলতে পারিস, তবে তোর পাপের খণ্ডন হবে এবং তুই তোর সন্তানদের পুনরায় ফিরে পাবি।

দেবী কথা শুনে ছোটবউ একদণ্ডও আর অপেক্ষা না করে, এক হাঁড়ি দই এনে সেই পচা বেড়ালটার গায়ে ঢেলে দেয়। পরে জিভ দিয়ে চেটে সমস্ত দই আবার হাঁড়িতে তুলে আনে। দেবী ষষ্ঠীও ছোটবউয়ের কর্মে প্রসন্ন হয়। সে ছোটবউকে তার সকল সন্তান ফিরিয়ে দিয়ে বলে- এই নাও তোমার ছেলে-মেয়ে। এই অমৃত দই দিয়ে সকলের কপালে ফোঁটা দাও, আর এদের নিয়ে। সুখে ঘরসংসার কর। আর কখনও পূজার প্রসাদ লুকিয়ে খেয়ে অন্যের নামে দোষ দিও না। ছেলে-মেয়েদের কখনো দূর হ, মরে যা ইত্যাদি বলবে না। অন্য কাউকে যদি সন্তানের প্রতি এ সকল কুবাক্য বলতে শোন, তবে দেবী ষষ্ঠীকে স্মরণ করে 'ষাট ষাট' বলবে। এ সকল কথা বলে দেবী ষষ্ঠী অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

ছোটবউ তখন তার সাত ছেলে ও এক মেয়েকে সাথে নিয়ে আনন্দে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসে। শাশুড়ীকে প্রণাম করে সে ষষ্ঠীদেবীর সকল কথা শাশুড়ীকে সে জানায়। সকল কথা শুনে ব্রাহ্মণী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। তার চোখে আনন্দাশ্রু চলে আসে। সে বারংবার দেবী ষষ্ঠীকে স্মরণ করে তাঁর উদ্দেশ্যে প্রণাম করতে থাকে। নাতি-নাতনীকে পেয়ে ব্রাহ্মণীর অত্যন্ত আনন্দ হল। দেখতে দেখতে নাতি-নাতনী বড় হয়ে যায়। তাদের সে বিয়ে করায়।জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষে ষষ্ঠী তিথিতে খুব জাঁক-জমক করে ছোটবউ সন্তানাদি নিয়ে অরণ্যষষ্ঠী ব্রত করে। লোকমুখে অরণ্যষষ্ঠী বা জামাই ষষ্ঠীর ব্রতের মাহাত্ম্যের কথা দেশেদেশে ছড়িয়ে যায়।

তথ্য সহায়তা:
১. কালীকিশোর বিদ্যাবিনোদ সংকলিত, 'মেয়েদের ব্রতকথা', অক্ষয় লাইব্রেরী, কোলকাতা: পুনর্মুদ্রণ ২০০৮

 #প্রতিবাদ_লিপি:গাইবান্ধা জেলার অন্তর্গত পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নির্মাণাধীন মর্যাদাপুরুষো...
15/06/2026

#প্রতিবাদ_লিপি:
গাইবান্ধা জেলার অন্তর্গত পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নির্মাণাধীন মর্যাদাপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহ ভাঙার হুমকি এবং ছবি অবমাননার বিরুদ্ধে ইসকন বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

আপনরা কি অম্বুবাচী সম্পর্কে জানেন❓❓আমি এই প্রথম জানলাম..🙏🙏👉যোদি না যেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন..👇👇🛑গৌরীয় বৈষ্ণব ধর্মে অম্ব...
14/06/2026

আপনরা কি অম্বুবাচী সম্পর্কে জানেন❓❓
আমি এই প্রথম জানলাম..🙏🙏

👉যোদি না যেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন..👇👇

🛑গৌরীয় বৈষ্ণব ধর্মে অম্বুবাচী পালনের মূল ভিত্তি হলো শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তি এবং ধরণী মাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তিত এই দর্শনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে 'পরম পুরুষ' এবং জগতকে তাঁর শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শাক্ত বা তান্ত্রিকদের মতো বৈষ্ণবরা শ্রীবিগ্রহের পূজা বন্ধ করেন না, বরং কিছু স্বতন্ত্র নিয়মে এই দিনগুলি অতিবাহিত করেন।

🛑গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের প্রধান আচার ও নিয়মাবলী নিচে আলোচনা করা হলো:

🛑শ্রীবিগ্রহের নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও নিত্যপূজাপূজা সচল থাকে: গৌড়ীয় বৈষ্ণব মন্দিরে (যেমন মায়াপুর শ্রী চৈতন্য মঠ বা নবদ্বীপের শ্রীপাটসমূহ) রাধা-কৃষ্ণ, গৌর-নিতাই বা জগন্নাথ দেবের নিত্যপূজা, আরতি ও ভোগ নিবেদন প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক থাকে।

🛑বিগ্রহ ঢাকা হয় না: শাক্তদের মতো শ্রীবিগ্রহ বা পট লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা হয় না। বৈষ্ণবদের বিশ্বাস, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অপ্রাকৃত ও পরম চিন্ময়, জড় জগতের কোনো নিয়মে তাঁর সেবা বিঘ্নিত হতে পারে না।

🛑রন্ধন ও প্রসাদ নিবেদনের নিয়মমহাপ্রসাদ রান্না ও গ্রহণ: বৈষ্ণবরা ভগবানকে ভোগ নিবেদন না করে কোনো খাবার গ্রহণ করেন না। তাই ভগবানের সেবার জন্য মন্দিরে ও ঘরে অন্ন-ব্যঞ্জন রান্না করা হয় এবং সেই মহাপ্রসাদ ভক্তরা গ্রহণ করেন।

🛑সাত্ত্বিক আহার: এই দিনগুলিতে পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল ছাড়া সম্পূর্ণ নিরামিষ ও সাত্ত্বিক অনুকল্প বা মহাপ্রসাদ গ্রহণ করা হয়। অনেকেই এই তিন দিন শস্যজাতীয় খাবার এড়িয়ে কেবল ফলমূল, মিষ্টি ও দুধ খেয়ে ব্রত পালন করেন।

🛑. ধরিত্রী মাতা ও তুলসী দেবীর প্রতি শ্রদ্ধাভূমিক্ষয় ও খনন নিষিদ্ধ: বৈষ্ণব শাস্ত্রমতে ধরিত্রী হলেন শ্রীবিষ্ণুর পত্নী 'ভূদেবী'। তাই ধরণী মাতার ঋতুকালীন অবস্থায় তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে মাটিতে কোদাল চালানো, লাঙল দেওয়া বা মাটি খোঁড়াখুঁড়ি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।

🛑তুলসী সেবা: এই তিন দিন তুলসী গাছের পাতা ছেঁড়া বা গোড়ার মাটি খোঁড়া নিষেধ। তবে দূর থেকে তুলসী দেবীকে জল অর্পণ ও প্রদীপ দেখানো যায়।

🛑নাম জপ ও আধ্যাত্মিক সাধনা অতিরিক্ত নাম জপ: গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মূল সাধনা হলো নাম সংকীর্তন। অম্বুবাচীর দিনগুলিতে ভক্তরা জড়জাগতিক কাজ কমিয়ে বেশি সময় ধরে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন।

🛑গ্রন্থ পাঠ: এই সময়ে শ্রীমদ-ভাগবতম, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত বা ভগবদ্গীতা পাঠ ও শ্রবণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

🛑সংক্ষেপে, গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ বাহ্যিক অশুচিতার চেয়ে অন্তরের ভক্তি ও নিরবচ্ছিন্ন কৃষ্ণসেবাকেই অম্ববাচী উদযাপনের প্রধান মাধ্যম মনে করেন।

হরে কৃষ্ণ..🙏🙏

#হরে_কৃষ্ণ ゚ ゚

হরে কৃষ্ণ আগামীকাল পবিত্র "পরমা একাদশী" ব্রত। ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন। পরমা একাদশী ব্রতের...
11/06/2026

হরে কৃষ্ণ
আগামীকাল পবিত্র "পরমা একাদশী" ব্রত। ভগবানের প্রীতি বিধানের জন্য সকলে একাদশী ব্রত পালন করুন।

পরমা একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্যঃ

পুরুষোত্তম মাস অধিমাস কৃষ্ণপক্ষীয়া ‘পরমা’ একাদশীপদ্মপুরাণোল্লেখিত যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে অধিমাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একদাশী মহিমা দেখতে পাওয়া যায়। যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণের নিকট প্রশ্নকরলেন-অধিমাসে কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি? ব্রতের বিধান বা কি?

শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে যুধিষ্ঠির! মানুষের ভুক্ত মুক্তি প্রদাতা এই পবিত্র একাদশীর নাম পরমা একাদশী অথবা কমলা একাদশী! তোমার প্রতি স্নেহ বশতঃঅশেষ মহিমাযুক্ত পুরুষোত্তম মাসের কৃষ্ণ-পক্ষীয়া একাদশীর মহিমা বলছি ব্রহ্ম মূহুর্তে শয্যা পরিত্যাগপূর্বক যথাবিহিত স্নান-আহ্নিকাদি সেরে ভগবানশ্রীবিষ্ণুর প্রীতি কামনায় শ্রীভগবানের নাম মন্ত্র জপ করতে হয়। গৃহেতে যে পরিমাণে জপ করবে নদীতীরে তার দ্বিগুণ, তদপেক্ষা গোষ্ঠে সহস্রবার,তীর্থে শতবার, তুলসীর নিকটে লক্ষবার এবং বিষ্ণুর সম্মুখে অসংখ্যবার জপ করতে হয়। অবন্তীনগরে বিশ্বকর্মা নামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তাঁর পাঁচটি পুত্র ছিল। তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ পুত্রের নাম জয় শর্মা। কোন দুষ্কর্ম করায় পিতা মাতাও তাকে বাড়ী থেকে বহিষ্কৃত করে দেয়। কোন এক সময়ভ্রমণ করতে করতে এলাহবাদে এসে ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান কার্য সমাপনান্তে ক্ষুধায় কাতর হয়ে মলিন বদনে কোন একমুনির আশ্রমে উপস্থিত হলেন।সে দিন আবার এই একাদশী তিথি। অনেক ভক্তবৃন্দ মুনি মুখপদ্ম বিগলিত একাদশী মহিমা শ্রবণ করতঃ ব্রত পালন করছেন। ঐ ব্রাহ্মণও ব্রত পালনকরে ব্রত কথা শুনলেন। তাঁর ব্রতোপবাসে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী দর্শন দিয়ে বললেন- “ভক্তির সঙ্গে এই উপবাস পালন করায় আমি সন্তুষ্ট হয়েছি।তোমাকে বরদ দান করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে আমি এসেছি। আমার নাম লক্ষ্মী আমি পরম কৃপালু নারায়ণ কর্তৃক প্রেরিত। বৈকুন্ঠ থেকে এসেছি। এইব্রতানুষ্ঠানে তোমার অধীনা হয়েছি। তোমার বংশে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণ জন্মগ্রহণ করবে। আমি সত্যই বলছি-আমার নাম লক্ষ্মী।”

ব্রাহ্মণ বললেন- হে কমলে! সত্যিই যদি আমা প্রতি প্রসন্ন হয়ে বর দিতে চান তবে এই ব্রতকথা ভালরূপে বর্ণন করলে আরও দ্বিজগণ এই ব্রতকথায়প্রবৃত্তি লাভ করতে পারবেন। এই ব্রতে ভগবান শ্রীনারায়ণকে ভক্তিভরে পূজা করতে হয়, নিরাহারে অবস্থান পূর্বক পরদিন দ্বাদশীতে পুণ্ডরীকাক্ষেরপূজা নৈবেদ্যান্তে প্রসাদন্ন পারণ করতে হয়। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, লক্ষ্মীদেবী বর প্রদান করে অন্তর্হিতা হলেন। অনন্তর সেই বিপ্রধনশালী হয়ে সুখে হরিস্মরণ করে দেহান্তে ভগদ্ধামে গমণ করেন।কমলার আশীর্বাদে ব্রাহ্মণ ধন্য হইয়েছিলেন। তাই এই একাদশীকে ‘কমলা’ একাদশীও বলা হয়। আবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে একমনোরম কাহিনী বলছেন! একদা কাম্পিল্য নগরে সুমেধা নামে এক ধার্মিক ব্রাহ্মণ বাস করতেন। পবিত্রা নাম্নী তাঁর এক পতিব্রতা সহধর্মিনী ছিল। কিন্তুকোন পাপকার্য্যরে জন্য তারা এত দরিদ্র হলো যে অন্ন-বস্ত্র পর্যন্তও তাদের জোটেনি। এর মধ্য দিয়েও যদি কখনও অতিথি আসে তখন নিজেরা না খেয়েযতটুকু সম্ভব অতিথি সৎকার করতেন। ব্রাহ্মণের স্ত্রীর মনে একটুও দুঃখ ছিল না। একদিন ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণীকে বলছেন- হে ব্রাহ্মণী! আমি কিছু ধনেরপ্রত্যাশী হয়ে বিদেশী যাত্রা করতে চাই, বুদ্ধিমান ব্যক্তি উদ্যম ও উৎসাহকে ভঙ্গ করে না, সামর্থকে অবহেলা করা উচিৎ নয়। তখন ব্রাহ্মণী বলছেন- হেস্বামিন! আপনার চেয়ে অধিক বিদ্বান আমি নই, তবে এইটুকু জানি-বিদ্যা, ধন, দারিদ্রতা সর্বত্রই পূর্বজন্মার্জিত ফল।

পূর্বজন্মে কোন ফল না থাকলেবর্তমানে কি কেউ সুখে থাকতে পারে। আমরা ধন সম্পদ অনেক পেয়েছিলাম-কিন্তু কাউকে অন্ন দান করিনি। তাই আমাদের অন্ন জুটছে না। হে পতিদেবতা! তুমি ধনের জন্য অন্যত্র গেলে আমাকে লোকে দুর্ভাগা বলে নিন্দা করবে অতএব তুমি এখানে থেকে যা লাভ কর ওতেই আমি সন্তুষ্ট হই।পতিব্রতার কথা শুনে ব্রাহ্মণ দেশে রয়ে গেলেন। একদিন তাদের ভগ্ন কুটিরে কৌণ্ডিল্য মুনি এলেন। পরম শ্রদ্ধা সহকারে পাদ্যার্ঘদ্বারা উভয়ে মুনিকেপ্রণাম করে সস্ত্রীক বিধিপূর্বক ভোজন করালেন। ব্রাহ্মণী জিজ্ঞাসা করলেন- হে মহামুনে! কিসে দারিদ্রতা নাশ হয়? এমন কোন উত্তম ব্রতের কথা বলুনযাতে পাপ-দুঃখ দারিদ্রতা দুর হয় এবং ভগবানে ভক্তির উদয় হয়! তখন কৌণ্ডিল্য মুনি বললেন, মলমাসে অধিমাসে কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী ব্রত ভুক্ত মুক্তিপ্রদায়িনী, সর্বপাপ বিনাশিনী, সর্ব সুখদায়িনী এবং ভগবানের অতীব প্রিয়তমা তিথি। প্রথমে কুবের এই ব্রত পালন করেছিলেন। রাজা হরিশ্চন্দ্র এইব্রত পালনে স্ত্রী-পুত্র ও রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। হে বিশালাক্ষী! এই জন্য তোমারাও এই ব্রত পালন কর।

হে পাণ্ডব! কৌণ্ডিন্য মুনির উপদেশে পতি-পত্নী উভয়ে একসঙ্গে বিধীমতো পুরুষোত্তম মাসের পরমা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রত সমাপনের পররাজভবন থেকে এক রাজকুমার তাঁদের কাছে এলেন। ব্রহ্মার প্রেরণায় তিনি বউ ধনসম্পদ, নতুন গৃহ ও গাভী এই দম্পতীকে দান করেলন। এই দানেরফলে মৃত্যুর পর সেই রাজা বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হয়েছিল। এইভাবে পরমা ব্রতের প্রভাবে ব্রাহ্মণ-দুম্পতির সকল দুঃখের অবসান হল। যে মানুষ এই একাদশী ব্রত পালন না করেন তিনি চূড়াশি লক্ষ যোনিতে ভ্রমণ করেও কখনও সুখী হয় না। বহু পূণ্য কর্মের ফলে দুর্লভ মানব-জন্ম লাচহয়। তাই মানব-জীবনে এই একাদশী ব্রত পালন করা অবশ্য কর্তব্য। এই মাহাত্ম শুনে মহারাজ যুধিষ্ঠির তাঁর আত্মীয়বর্গের সঙ্গে এই ব্রত পালন করেছিলেন ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

Address

Dhaka
Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when চাটগাইয়া ভক্ত /Chittagong Devotees posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share