04/04/2026
একটি ঐতিহাসিক কাল্পনিক ঘটনা এবং ৫০% ডিসকাউন্টে স্টক ক্লিয়ারেন্স সেল
ইয়া হাবিবি।
পেছন থেকে ভেসে আসা ভারী অথচ সংযত কণ্ঠে আমি থমকে দাঁড়ালাম। চারপাশে মাগরিবের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। আমি তখন দিল্লির পুরোনো এক গলির ভেতর দিয়ে হাঁটছিলাম। গলির দুই পাশে লাল পাথরের দেয়াল, কোথাও কোথাও পুরনো ঝরোখা, আর বাতাসে কাবাব আর আতরের গন্ধ মিশে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করেছে। আমি ধীরে ধীরে পেছন ফিরলাম।
দেখলাম এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। সাদা জামা, গাঢ় রঙের পাগড়ি, চোখে এমন এক তীক্ষ্ণতা যেন শত মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সবকিছু ভেদ করে দেখতে পান। তার দাড়ি লম্বা , মুখে এক ধরনের রাজকীয় কঠোরতা, কিন্তু তবু ভদ্রতা আছে। আমি সালাম দিলাম। তিনি উত্তর দিয়ে বললেন, তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করব, আপত্তি আছে?
আমি বললাম, জি জনাব, বলুন।
তিনি কয়েক মুহূর্ত আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, তুমি এই শহরের মানুষ নও, তবু শহরটাকে এমনভাবে দেখছ যেন বহুদিনের চেনা। বলো তো, তুমি কি ইতিহাস খুঁজছ, না ইতিহাস তোমাকে খুঁজে নিয়েছে?
প্রশ্নটা শুনে আমি কিছুটা থমকে গেলাম। বললাম, জনাব, আমি তো শুধু ঘুরছিলাম। পুরোনো দিল্লির ভেতর হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল প্রতিটি ইট যেন কিছু বলতে চায়।
লোকটি মৃদু হেসে বললেন, তাহলে এসো, তোমাকে এমন একজনের কথা বলি, যাকে অনেকে ভয় পেত, অনেকে শ্রদ্ধা করত, আর অনেকে কখনও সত্যি বুঝতেই পারেনি।
আমি ভাবলাম, নিশ্চয়ই কোনো ইতিহাসবিদ বা গাইড হবেন। তিনি আমাকে নিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলেন। গলির শেষে ছোট্ট এক উঠান, সেখানে পিতলের কেতলি থেকে ধোঁয়া উঠছে। দুজন লোক নিঃশব্দে বসে কাহওয়া খাচ্ছে। আমরা এক কোণে বসলাম। আমি কিছু বলার আগেই তিনি দু কাপ কাহওয়া অর্ডার দিয়ে দিলেন।
আমি হেসে বললাম, মনে হচ্ছে মেহমানদারিতে আপনি মুঘলদেরও হার মানাবেন।
তিনি এবার একটু গম্ভীর হলেন। বললেন, মুঘলদের নাম নিয়েছ যখন, তবে শোনো। যার কথা বলব, তার নাম আওরঙ্গজেব আলমগীর। কেউ তাকে শুধু সম্রাট বলে, কেউ বলে ধার্মিক শাসক, কেউ বলে কঠোর মানুষ, কেউ আবার বলে রাজ্যের ভারে একাকী হয়ে পড়া এক অদ্ভুত আত্মা।
আমি কাপটা হাতে নিলাম। কাহওয়ার গরম ভাপ মুখে এসে লাগছে। লোকটি বলতে শুরু করলেন।
আওরঙ্গজেব ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি সিংহাসনকে ভোগের আসন ভাবেননি, দায়িত্বের আসন ভেবেছিলেন। তার দরবার ছিল জাঁকজমকের, কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল অনেক সংযত। তিনি কোরআন নকল করে নিজের উপার্জনের কথা ভাবতেন, টুপি সেলাই করতেন বলে যে কথা লোকমুখে শোনা যায়, তাতেও মানুষ তার ভিতরের কঠোর শাসকের পাশাপাশি এক সাদামাটা মানুষকে খুঁজে পায়। কিন্তু এটাই পুরো গল্প নয়।
আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।
তিনি আবার বললেন, ভাবো তো, এক মানুষ যার সামনে অগণিত সৈন্য, বিশাল সাম্রাজ্য, রাজদরবার, ক্ষমতা, সোনা, রত্ন সবই আছে; তবু তার ভেতরে শান্তি নেই। দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধ, প্রজাদের অসন্তোষ, বিদ্রোহ, রাজনীতির বিষ, ভাইদের রক্ত, পিতার বন্দিত্ব, সবকিছু মিলিয়ে তার রাতগুলো হয়তো ছিল অনেক দীর্ঘ। রাজমুকুট বাইরে থেকে ঝলমলে, কিন্তু ভেতরে তা কাঁটার মুকুটও হতে পারে।
আমি বললাম, জনাব, তাহলে কি তিনি খারাপ ছিলেন, না ভালো?
লোকটি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন এই প্রশ্ন তিনি বহুবার শুনেছেন। বললেন, ইতিহাসে এক লাইনের উত্তর খুব কমই পাওয়া যায়। তিনি কঠোর ছিলেন, সন্দেহ নেই। তিনি নীতির ব্যাপারে অনমনীয় ছিলেন, এ কথাও সত্যি। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, প্রশাসক হিসেবে সচেতন, আর নিজের দায়িত্বকে খুব গুরুতরভাবে নেওয়া একজন সম্রাট। মানুষের চোখে তিনি যেমন, তার ভেতরে মানুষটি হয়তো তার থেকেও জটিল।
কাহওয়া শেষের দিকে। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। উঠানের বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে। আমি জানি না কেন, কিন্তু মনে হচ্ছিল আমি আর কোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি যেন তার কথা খুব কাছ থেকে জানেন।
তিনি ধীরে ধীরে কাপটা নামিয়ে রাখলেন। তারপর বললেন, কারণ আমি দূর থেকে তার গল্প শুনিনি।
আমার বুকের ভেতর কেমন যেন কেঁপে উঠল। আমি বললাম, তাহলে আপনি কে?
লোকটি সোজা হয়ে বসলেন। তার চোখে তখন অদ্ভুত এক দীপ্তি। তিনি বললেন, মানুষ আমাকে নানা নামে ডেকেছে। কেউ বলেছে জিন্দাপীর, কেউ বলেছে আলমগীর, কেউ শুধু বলেছে আওরঙ্গজেব।
আমার হাত থেকে কাপটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। চারপাশের শব্দ হঠাৎ যেন দূরে সরে গেল। বাতাস ভারী হয়ে উঠল। আমি তাকিয়ে আছি, অথচ গলা দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না। তিনি বললেন, ইতিহাসকে বিচার কোরো, তাতে দোষ নেই। কিন্তু তাকে একপাশা করে ফেলো না। প্রতিটি সম্রাটের সিংহাসনের নিচে থাকে কিছু অশ্রু, কিছু রক্ত, আর কিছু অপূর্ণ প্রার্থনা।
আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, এমন সময় ঝটকা দিয়ে সবকিছু কেঁপে উঠল। আলো নিভে গেল। উঠান, কাহওয়া, লাল দেয়াল, সেই লোকটির চোখের দীপ্তি সবকিছু একসঙ্গে ঝাপসা হয়ে গেল।
চোখ মেলে দেখি আমি নিজের ঘরে শুয়ে আছি। সিলিং ফ্যান বন্ধ। কারেন্ট চলে গেছে। গরমে সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। পাশে বই খোলা, তাতে মুঘল ইতিহাসের অধ্যায়। বুঝলাম, এতক্ষণ আমি আধো ঘুমে আধো জাগরণে স্বপ্নই দেখছিলাম।
উপরের কাল্পনিক ঘটনার সাথে যেমন অনেক ইতিহাস জড়িত আছে, তেমনি আমাদের এই সুগন্ধি গুলো কালেক্ট করতে গিয়ে যে পরিমাণ কষ্ট করতে হয়েছে সেটা নিয়েও আর একটা ইতিহাস লেখা যায়। আমাদের এখানকার সব সুগন্ধি গুলো ইন্ডিয়া থেকে আনা হয়েছে, একটি বাদে। আমরা যাদের কাছ থেকে সুগন্ধি গুলো এনেছি তারা ইন্ডিয়ার একটি বেশ নামি ব্র্যান্ড Aafiya perfumes। সুগন্ধি গুলোর প্রাইসগুলো নিচে দিলাম
1. Oud Arabian 3 ml 300 taka, 6 ml 500 taka
2. Turkish flower 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
3. Majmua natural 3 ml 300 taka, 6 ml 500 taka
4. White musk 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
5. Musk rose 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
6. Musk shafaq 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
7. Dark rebel 3 ml 150 taka, 6 ml 250 taka
8. Sandal rose 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
9. Miziyaan 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
10. Bakhoor top 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka
11. Civet musk 3 ml 400 taka, 6 ml 750 taka
12. Oud satin mood 3 ml 250 taka, 6 ml 400 taka