16/10/2025
__^গীবত-
পর্ব:- ৮....
গীবতের কারণ সমূহ:
নানাবিধ কারণে মানুষ গীবতের মতো জঘন্য পাপে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। নিমেণ কতিপয় কারণ ধারাবাহিকভাবে আলোকপাত করা হ’ল-
১. আল্লাহর ভয় কম থাকা :
যেকোন পাপ সংঘটিত হওয়ার মূল কারণ হ’ল আল্লাহর ভয় না থাকা। যদি কারো হৃদয়ে আল্লাহভীতির চিহ্ন থাকে, তাহ’লে তিনি কখনোই গীবতের মত জঘন্য পাপে জড়াবেন না। কিন্তু বাহ্যিক পরহেযগার যদি অন্যায়ভাবে গীবত চর্চা করেন, তাহ’লে তার তাক্বওয়া পূর্ণাঙ্গ নয় বলে প্রমাণিত হয়। ইমাম ইবনু হাযম আন্দালুসী (রহঃ) বলেন,، ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না, সে যা তা বলে ফেলে’।[ইবনু হাযম, হাজ্জাতুল ওদা‘, পৃ. ৩৮৪।]
কিন্তু বান্দা যখন আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে, তখন সে মেপে মেপে কথা বলে। পরনিন্দা করতে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, - ‘যখন দু’জন ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমলনামা লিপিবদ্ধ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তা গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্ত্তত প্রহরী রয়েছে’ (ক্বা-ফ ৫০/১৭-১৮)। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরকুল শিরোমণি আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, ‘সে ভালো-মন্দ যা কিছু বলে সব লিখে নেওয়া হয়। এমনকি ‘আমি খেয়েছি, পান করেছি, গিয়েছি, এসেছি, দেখেছি’ তার এই কথাগুলোও লেখা হয়। তারপর বৃহস্পতিবারে তার কথা ও আমল (লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা আল্লাহর সামনে) পেশ করেন’।[তাফসীর ইবনে কাছীর ৭/৩৯৯; ফাৎহুল ক্বাদীর ৫/৯৩।]
২. অলস-অবসর ও বেকারত্ব :
সবচেয়ে বেশী গীবত চর্চা হয় অবসর সময়ে। মানুষের যখন কর্ম ব্যস্ততা থাকে না, তখন সে অবসর পায়। আর এই অবসর সময় অতিবাহিত করার জন্য চলে যায় গল্পের আড্ডায়, চা স্টলে, ক্লাবে, রাস্তার মোড়ে, হাট-বাজারে অথবা ইন্টারনেটের সুবিস্তৃত প্রান্তরে। শুরু হয় অপ্রয়োজনীয় গাল-গল্প। এক পর্যায়ে মুখরোচক কথায় মানুষের নিন্দা ও দোষকীর্তন শুরু হয়ে যায়। চায়ের চুমুকে চুমুকে গীবতের চর্চা হয়। দুর্ভাগ্যজনক হ’লেও সত্য যে, আল্লাহর ঘর মসজিদে গীবত করতেও তাদের বুক কেঁপে উঠে না। ছালাতের পরে মুসলিম ভাইয়ের গোশত ভক্ষণের মহোৎসবে মেতে উঠে। মহিলারাও পিছিয়ে নেই; বরং তারা অবসর সময়ে গীবত চর্চাতে পুরুষের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকে।
তাছাড়া অবসর সময়গুলোতে মিডিয়া পাড়াও মুখরিত হয়ে উঠে পরনিন্দার অনুশীলনে। কোথায় কে কি করেছে বা না করেছে- তা সুনিপুণভাবে ফুটে ওঠে গীবতকারীর স্ট্যাটাসে। শুরু হয় লাইক-কমেন্ট আর শেয়ারের উম্মাতাল ঝড়। যেন সবাই পাপের ভাগ-বাটোয়ারাতে উঠে পড়ে লেগেছে। জাহান্নামের পথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলছে। তাই তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ ধোঁকায় নিপতিত হয় দু’টি নে‘মতের ব্যাপারে: সুস্বাস্থ্য এবং অবসর’।[বুখারী হা/৬৪১২; মিশকাত হা/৫১৫৫]
৩. অধিক ঠাট্টা-মশকরা করার প্রবণতা :
অনেক সময় হাসি-তামাশা ও ঠাট্টা-মশকারার মাধ্যমে পরনিন্দা করা হয়। মানুষের শারীরিক গঠন, কথার ভঙ্গি, পোশাক-পরিচ্ছদ, বাড়ি-গাড়ি প্রভৃতি নিয়ে আমরা মজা করার চেষ্টা করি। যেন আমরা হেসে-খেলে নিজের দেহকে আগুনের খোরাক বানাচ্ছি। গীবতের বিভিন্ন কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে ইমাম গাযালী (রহঃ) বলেন,، ‘ক্রীড়া-কৌতুক, ঠাট্টা-রসিকতা এবং কৌতুক-মশকরায় সময় কাটানোর জন্য গীবত করা হয়। মানুষকে হাসানোর জন্য অঙ্গ-ভঙ্গি নকল করে অপরের দোষ বর্ণনা করা হয়। মূলতঃ এর উৎপত্তি স্থল হ’ল অহংকার ও দাম্ভিকতা’।[গাযালী, ইহয়াউ উলূমিদ্দীন, ৩/১৪৭।]
৪. আত্মমর্যাদা ও অহমিকা :
অহংকার ও আত্মমর্যাদাবোধ মানুষের বিবেকের চোখ অন্ধ করে দেয়। তখন সে মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে থাকে এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করতে থাকে। যেমন কারো সম্পর্কে বলা সে তো মূর্খ, কিছুই বোঝে না। এই কথার উদ্দেশ্য হ’ল তার চেয়ে আমি বেশী জানি। মূলতঃ বুদ্ধি-বিবেক লোপ পাওয়ার কারণে সে অন্যের দোষকীর্তন করে থাকে। মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন (রহঃ) বলেন, ، ‘কখনো যদি কারো হৃদয়ে সামান্য অহমিকাও প্রবেশ করে, তাহ’লে সেই পরিমাণ তার বিবেক লোপ পায়, সেটা কম হোক বা বেশী হোক’।[ইবনু আবিদ্দুনয়া, আত-তাওয়াযু‘ ওয়াল খুমূল, পৃ. ২৭২] সুতরাং যে নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করবে, নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে, অথবা কারো ব্যাপারে মনে ঘৃণা পুষে রাখবে, নিশ্চিতভাবে তার মাধ্যমে গীবত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
৫. রাগ ও প্রতিশোধ :
রাগ মানুষকে অনেক নীচে নামাতে পারে। রাগের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনেক অস্বাভাবিক কাজ করে ফেলতে পারে। রাগের কারণে মুখের ভাষা বল্গাহীন হয়ে যায় এবং মুখ দিয়ে বেফাঁশ কথা-বার্তা বের হয়। মনের ঝাল মিটানোর জন্য অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে লাগামহীন কথা বলা হয়। সেজন্য ভিন্নমত পোষণকারী, শত্রু ও অসদাচরণকারীর উপর রেগে গিয়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়া থেকে সাবধান থাকা উচিত। কারণ শয়তান রাগের সুযোগে বান্দার উপর আক্রমণ করে বসে এবং তার মাধ্যমে গীবত করিয়ে নেয়। আর মানুষ যখন রাগের আগুনে দগ্ধ হয়, তখন সে পশুর মত প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, ‘ হে আল্লাহর রাসূল! আমকে অছিয়ত করুন’। রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি রাগ করো না’। অপর বর্ণনায় এসেছে, লোকটা কয়েকবার প্রশ্ন করলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রত্যেকবার একই জবাব দেন যে, রাগ করো না। রাবী বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে দেখলাম, রাগ সব ধরনের অনিষ্টকারির মূল’।[আহমাদ হা/২৩১৭১; বুখারী হা/৬১১৬; ছহীহুত তারগীব হা/২৭৪৬; সনদ সহীহ] জা‘ফর ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, ، ‘রাগ সকল অকল্যাণের চাবিকাঠি’।[ইবনু রজব হাম্বলী, জামে‘উল উলূম ওয়াল হিকাম ১/৩৬৩।] ইবনে তীন (মৃ. ৬১১ হি.) বলেন,، ‘রাগ করো না, এই উপদেশের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণকে একত্রিত করেছেন। কেননা রাগ সম্পর্কচ্ছেদের দিকে ধাবিত করে এবং কোমলতা থেকে বঞ্চিত রাখে। কখনো কখনো রোষানলে পতিত ব্যক্তির ক্ষতি করতে প্ররোচিত করে। ফলে দ্বীনদারিতা চরমভাবে হ্রাস পায়’।[আসক্বালানী, ফাৎহুল বারী ১০/৫২০।] এই বিষয়টি সবার কাছে পরীক্ষিত যে, অনেক সময় মানুষ রাগের বশবর্তী হয়ে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে পরনিন্দা করে থাকে।
৬. শত্রুতা ও হিংসা :
গীবতের একটি প্রত্যক্ষ কারণ হ’ল শত্রুতা ও হিংসা। শত্রুর দোষ-ত্রুটি যত সামান্যই হোক তা প্রকাশ করে গীবতকারী মনের ঝাল মেটানোর চেষ্টা করে। অনুরূপভাবে হিংসার আগুন পরনিন্দার প্রবণতাকে উসকে দেয়। ইমাম গাযালী (রহঃ) বলেন, ‘হিংসার কারণে মানুষ গীবতে লিপ্ত হয়। সে যখন কাউকে দেখে যে, সবাই তার প্রশংসা করে এবং সম্মান করে তখন সে হিংসায় জ্বলে যায় এবং অন্য কোন কিছুর ক্ষমতা না থাকায় তার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করতে থাকে, যেন তার প্রশংসা ও সম্মান না করা হয়। সে কামনা করে মানুষের মাঝে তার মর্যাদা না থাকুক, যাতে মানুষ তাকে সম্মান করা থেকে বিরত থাকে। কেননা মানুষের মুখে ঐ ব্যক্তির প্রশংসা শোনা তার কাছে অনেক কঠিন মনে হয়। এটাই হিংসা। এটা রাগ বা ক্ষোভ না। কারণ যার উপর রাগ করা হয় তার থেকে কোন অপরাধ দাবী করা হয় না। পক্ষান্তরে হিংসা উত্তম বন্ধু ও নিকটাত্মীয়দের সাথেও হয়ে থাকে’।[ইহয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ৩/১৭৪।]
৭. অন্যের প্রতি কুধারণা :
কুধারণাকে বলা হয় মনের গীবত। কারো ব্যাপারে মনে খারাপ ধারণা তৈরী হ’লে পরনিন্দার দুয়ার খুলে যায়। কুধারণার ভিত্তিতে করা গীবতের ভয়াবহতা বেশী। কারণ সাধাণভাবে গীবত হ’ল ব্যক্তির মাঝে যে দোষ-ত্রুটি বাস্তবেই থাকে, সেই বাস্তবসম্মত বিষয়টিই অন্যের কাছে বলে ফেলা গীবত। কিন্তু কুধারণার মাধ্যমে অধিকাংশ সময় ব্যক্তির মাঝে যে দোষ নেই তা কল্পনা করা হয় এবং সন্দেহমূলকভাবে তা অন্যের কাছে প্রচার করা হয়। সেজন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতে কুধারণা পোষণ করাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা ধারণা করা থেকে বেঁচে থাক! কেননা ধরণা করে কথা বলা সবচেয়ে বড় মিথ্যা’।[বুখারী হা/৬০৬৪; মুসলিম হা/২৫৬৩] ইবনু রাসলান বলেন, ، ‘কুধারণা থেকে বিরত থেকে তুমি তোমার অন্তরকে নীরব রাখ। কেননা মুসলিমের ব্যাপারে খারাপ ধারণা করা অন্তরের গীবত। আর এটা নিষিদ্ধ’।[ইবনু রাসলান আর-রাম্লী, শরহ সুনান আবী দাঊদ ১৯/১৩৯।]
৮. নিজের দোষ-ত্রুটির দিকে না তাকানো :
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কম-বেশী সবার মাঝে দোষ-ত্রুটি বিদ্যমান। কিন্তু যারা নিজেদের দোষ-ত্রুটির দিকে নযর দেয় না এবং নিজেকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারাই অপরের নিন্দাবাদে বেশী তৎপর থাকে। তাই তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,، ‘তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের চোখে সামান্য খড়-কুটো দেখতে পায়, কিন্তু নিজের চোখে আস্ত গাছের গুঁড়ি দেখতে ভুলে যায়’।[ সহীহ ইবনু হিববান হা/৫৭৬১; সহীহুল জামে‘ হা/৮০১৩] অর্থাৎ মানুষ অন্যের সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি অনেক বড় করে দেখে এবং সেগুলো নিয়ে গীবতে লিপ্ত হয়। কিন্তু নিজের মধ্যে যে তার চেয়ে শতগুণ মারাত্মক ত্রুটি আছে সেদিকে তার কোন ভ্রূক্ষেপ থাকে না।
৯. ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির নৈকট্য কামনা :
বিভিন্ন অফিস-আদালত ও সংগঠনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা নেতার কাছে ভালো সাজার জন্য অন্যের দোষ চর্চা করা কিছু মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। অন্যকে অযোগ্য প্রমাণিত করে নিজেকে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে উপস্থাপনের কোশেশ থেকে এই গীবতের উৎপত্তি হয়। আবার কখনো নিজের দোষ ঢাকার জন্য গীবত করা হয়, যাতে নিজের ত্রুটিকে হালকা প্রমাণিত করা যায়।
ইমাম গাযালী বলেন, ‘গীবতকারী যখন বুঝতে পারে যে, অমুক ব্যক্তি উচ্চপদস্থ লোকের কাছে তার দোষ বর্ণনা করবে বা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে, তখন সে পূর্ব থেকেই ঐ লোকের দোষ বর্ণনা করা শুরু করে, যাতে তার সম্পর্কে কিছু বলা হ’লে সেটা শোনার মতো অবস্থা না থাকে। অথবা সত্য বিষয়গুলো দিয়ে আলোচনা শুরু করে, যাতে পরবর্তীতে মিথ্যা বলতে পারে। তখন প্রথম সত্যের সাথে মিথ্যা চালিয়ে
দিবে। আবার কখনো কখনো সে নিজের দোষ থেকে নির্দোষ হওয়ার জন্য অন্যের গীবত করে। এমতাবস্থায় অপর ব্যক্তির নাম নিয়ে বলা হয়- সেও তো এরকম করেছে কিংবা এ কাজে সেও আমার সাথী ছিল’।[ইহ্য়াউ ‘উলূমিদ্দীন ৩/১৪৬-১৪৭]
১০. গীবতের মজলিসে বসা এবং গীবতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা :
পরিবেশ ও সঙ্গের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া মানুষের স্বভাব। বিবেকের লাগাম টেনে এটাকে যদি নিয়ন্ত্রণে না রাখা যায়, তাহ’লে বন্ধু-বান্ধব ও আশ-পাশের লোকের প্রভাবে পরনিন্দার ঘেরাটোপে আটকে যাওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া গীবতের পরিবেশে বেড়ে উঠলে গীবতকে পাপ মনে করার মানসিকতা লোপ পেয়ে যায়। ইমাম গাযালী বলেন, ‘অন্যের দেখাদেখি এবং তার সুরের সাথে সুর মিলানোর জন্য অনেকে গীবতে লিপ্ত হয়। আপন সঙ্গী কারো ব্যাপারে মন্দ আলোচনা করলে সে মনে করে তার মতো না বললে সে বুঝি বেজার হয়ে যাবে কিংবা বন্ধুত্ব ছেড়ে দিবে। তখন সে তার বন্ধুর কথার ন্যায় কথা বলতে থাকে এবং এটাকে সামাজিকতা মনে করে। সে মনে করে এর মাধ্যমে সে পরিবেশের সাথে তাল মিলাচ্ছে। অনেক সময় সঙ্গী-সাথীরা কারো প্রতি রাগ দেখালে সেও তার ওপর রাগ দেখায়, সে তার বন্ধুদের একথা বুঝাতে চায় যে, বিপদ-আপদে, দুঃখ-কষ্টে সর্বদা সে তাদের সাথেই আছে’।[ঐ ৩/১৪৬]
গাযালী (রহঃ)-এর কথাটা যে কতটা বাস্তবসম্মত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেক সময় আমরা শুধু মুখ রক্ষার স্বার্থে, সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এবং সামাজিকতা বজায় রাখার নিমিত্তে গীবত চর্চা করি। এমনকি কখনো কখনো গীবত অপসন্দ করা সত্ত্বেও ঈমানী দুর্বলতার কারণে এখান থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারি না। অথচ আমরা জানি গীবত করা যেমন মহাপাপ, তেমনি মুগ্ধ হয়ে গীবত শোনা এবং তাতে সায় দেওয়াও পাপ। মহান আল্লাহ আমাদের গীবত করা এবং শোনা থেকে হেফাযত করুন। গীবতকারী ও গীবতের পরিবেশ থেকে আমাদেরকে যোজন যোজন দূরে রাখুন- আমীন! - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
আগের পর্ব: https://www.facebook.com/share/p/1D4FvubmpQ/
©️ Ziaur Rahman