বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমদ রহঃ

  • Home
  • Bangladesh
  • Brahmanbaria
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমদ রহঃ

বীর মুক্তিযোদ্ধা  জামাল উদ্দিন আহমদ রহঃ He was a Heroic Freedom Fighter, Head Teacher, Fearless, Socially Conscious, Scholar, God-loving, Spiritual Devotee. A Great Wise Teacher in Islamic Sufism.

হযরত শাহ জামাল উদ্দিন আহমদ (রহঃ)

আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ পীরে কামেল ওলীয়ে মুকাম্মাল শাহ্ সুফি হযরত জামাল উদ্দিন আহমদ Institute of Brain and Spine. New Delhi ভারতে ১৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১১ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮ হিজরি, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীস্টাব্দ তারিখ রোজ রবিবার তিনি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আপন মাষুক’র সাথে বিলীন হওয়ার উদ্দেশে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)।

তাহার

পবিত্র মাজার (সমাধী) নীচের ঠিকানায় অবস্থিত

গাউসিয়া রফিকিয়া জামালিয়া খানকা শরীফ
হাবলাউচ্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

মনে মনে জিকির করা কি শরিয়ত সম্মত?প্রশ্ন: ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়াচাড়া না করে তথা মনে মনে জিকির করলে তা কি সহিহ হবে?উত্তর:সাধার...
25/05/2026

মনে মনে জিকির করা কি শরিয়ত সম্মত?

প্রশ্ন: ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়াচাড়া না করে তথা মনে মনে জিকির করলে তা কি সহিহ হবে?
উত্তর:
সাধারণভাবে নফল ইবাদত হিসেবে ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়াচাড়া না করে মনে মনে জিকির করা শরিয়ত সম্মত। এ বিষয়ে এটি অধিক নির্ভরযোগ্য অভিমত।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاذْكُر رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ الْغَافِلِينَ
“আর তোমার রবের জিকির করো ভয়ভীতি ও কাকুতি-মিনতি সহকারে এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর অবহেলাকারীদের দলভূক্ত হয়ো না।” (সূরা আরাফ: ২০৫)
বিশিষ্ট তাবেঈ মুফাসসির মুজাহিদ এ আয়াতের তাফসিরে বলেন,
أمروا أن يذكروه في الصدور تضرعًا وخيفة
“মানুষকে ভয়ভীতি ও কাকুতি-মিনতি সহকারে মনে মনে তাঁর (আল্লাহর) জিকির করতে আদেশ করা হয়েছে।” (তাফসিরে ত্ববারি)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي ملإٍ، ذَكَرْتُهُ فِي مَلإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ
“সুতরাং যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি।” (সহিহ বুখারি/৭৪০৫; মুসলিম/১৬৭৫)
◍ কোনটি বেশি ভালো?
মনে মনে জিকির করা বেশি ভালো না কি জিহ্বা ও ঠোঁট নেড়ে মুখে উচ্চারণ করে জিকির করা বেশি ভালো সে বিষয়ে পূর্বসূরিদের মাঝে দ্বিমত দেখা যায়। যেমন:
➧ মা আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“لأن أذكرَ الله في نفسي أحبُّ إليَّ من أن أذكُره بلساني سبعين مرَّة”،
[التوضيح لشرح الجامع الصحيح – كتاب الرقاق]
“মনে মনে আল্লাহর জিকির করা আমার কাছে জিহ্বা নেড়ে জিকির করা থেকে সত্তরগুণ বেশি উত্তম।” [আত তাওযীহ লি শারহিল জামে-কিতাবুর রাকায়েক-ইবনুল মুলাক্কিন]
➧ পক্ষান্তরে আবু উবায়দা বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন,
“ما دام قلْب الرَّجُل يذكر الله تعالى فهو في صلاة، وإن كان في السُّوق، وإن تحرَّك بذلك اللِّسان والشَّفتان، فهو أعظم”.”التوضيح لشرح الجامع الصحيح لابن الملقن (29/ 542)
“মানুষ যতক্ষণ মনে মনে আল্লাহর জিকির করে ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যেই থাকে যদিও সে বাজারে থাকে। আর যদি জিহ্বা ও দু ঠোঁট নাড়িয়ে জিকির করে তাহলে তা অধিক মর্যাদাপূর্ণ।” [আত তাওযীহ লি শারহিল জামে-কিতাবুর রাকায়েক-ইবনুল মুলাক্কিন ২৯/৫৪২]
ইমাম ত্ববারি তাফসিরে উপরোক্ত মতোবিরোধ উল্লেখ করার পর বলেন,
والصواب عندي أنَّ إخْفاء النَّوافل أفضل من ظهورها لِمن لم يكن إمامًا يُقتدَى به، وإن كان في محفل اجتمع أهلُه لغير ذكر الله أو في سوق؛ وذلك أنه أسلم له من الرياء. [شرح صحيح البخاري لابن بطال]
“আমার দৃষ্টিতে সঠিক কথা হল, নফল ইবাদত প্রকাশ করার চেয়ে গোপন করাই অধিক উত্তম যদি কেউ ইমাম বা অনুসরণীয় ব্যক্তি না হয় বা যদি সে এমন লোক সমাবেশে থাকে যেখানে মানুষ আল্লাহর জিকির ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে বা বাজারে থাকে । কারণ তা রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাব সৃষ্টি থেকে নিরাপদ।” [ইবনে বাত্তাল রচিত শারহু সহিহিল বুখারি ১০/৪৩০]
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন, অন্তর ও জিহ্বা উভয়টার সমন্বয়ে যে জিকির করা হয় তা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। আর যা কেবল অন্তর দ্বারা করা হয় তা অপূর্ণাঙ্গ।”
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
أَنا مَعَ عبدي إذا هوَ ذَكَرَني وتحرَّكت بي شفتاهُ
“আমি আমার বান্দার সাথে থাকি যখন সে আমার জিকির করে এবং তার দু ঠোঁট নাড়ে।” [সহিহ ইবনে মাজাহ, হা/৩৭৪] এ হাদিস থেকে ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর কথা যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়।
মোটকথা, অন্তরে জিকির করা জায়েজ। তবে যদি কেউ নির্জনে থাকে তাহলে ঠোঁট ও জিহ্বা নেড়ে জিকির করবে। কারণ তা পূর্ণাঙ্গ ও‌ অধিক উত্তম। অনুরূপভাবে লোকজনের সামনে থাকলেও মুখে উচ্চারণ করে বা ঠোঁট ও জিহ্বা নেড়ে জিকির করা যেতে পারে লোকজনকে শেখানোর উদ্দেশ্যে- যদি সে দীনী বিষয়ে অনুসরণীয় ব্যক্তি হয়। যেমন: মসজিদের ইমাম, দীনী শিক্ষক, আলেম প্রমুখ।
কিন্তু যদি অন্তরে রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাব সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে তাহলে মনে মনে জিকির করবে। কারণ রিয়া থেকে ইবাদতকে রক্ষা করা অপরিহার্য। অন্যথায় ইবাদত বাতিল বলে গণ্য হবে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
সালাতে কুরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য দুআ, তাসবিহ, দরুদ ইত্যাদি মুখে উচ্চারণ করে পাঠ করা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে মনে মনে এগুলো স্মরণ করলে সালাত শুদ্ধ হবে না। কেননা হাদিসে সালাতে এই সকল কিরাআত ও দুআ, তাসবিহ ইত্যাদি ‘পাঠ করা’র কথা বলা হয়েছে। আর মুখে উচ্চারণ ছাড়া পাঠ করা সম্ভব নয়। পাঠ করতে হলে অবশ্যই জিব্বা ও ঠোঁট নাড়াতে হবে-যেন প্রতিটি অক্ষর সঠিকভাবে উচ্চারিত হয়।
আল্লাহু আলাম।

হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি:-মা’রিফাত হাছিলের প্রচেষ্টায় প্রাথমিক অবস্থা:হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি...
24/05/2026

হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি:-

মা’রিফাত হাছিলের প্রচেষ্টায় প্রাথমিক অবস্থা:

হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রথম অবস্থায় “আল্লাহ” শব্দের প্রতি এমন আগ্রহান্বিত ছিলেন যে, কেউ “আল্লাহ” শব্দ উচ্চারণ করলে তিনি তার মুখে চিনি দ্বারা পূর্ণ করে দিতেন। তিনি ছেলেপেলেদের মধ্যে চিনি বন্টন করতেন, যেন তারাও “আল্লাহ” শব্দ উচ্চারণ করে। অতঃপর কিছুদিন উনার অভ্যাস এরূপ হয়েছিলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ শব্দ বলতো, তিনি তার মুখ টাকা ও মোহর দ্বারা পূর্ণ করে দিতেন। কিছুকাল পরে উনার মধ্যে এমন আত্মাভিমান উৎপন্ন হলো যে, উন্মুক্ত তরবারী হাতে নিয়ে ঘুরতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি “আল্লাহ” শব্দ বলবে আমি তার মস্তক কেটে ফেলবো। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, হযরত! কিছুকাল পূর্বে তো আপনি আল্লাহ শব্দ উচ্চারণকারীকে চিনি ও টাকা দান করতেন, এখন এরূপ বলছেন কেন? তিনি বললেন, প্রথমে আমি এরূপ ধারণা করেছিলাম যে, তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উনার মহত্ব ও হাক্বীক্বত উপলব্ধি করে উচ্চারণ করছে, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি যে, তারা গাফলতি ও অভ্যাস অনুযায়ী বলছে। ইহা আমি জায়েয মনে করি না যে, গাফলতির সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক কেউ উচ্চারণ করুক। তিনি যেখানেই আল্লাহ শব্দের নক্শা দেখতে পেতেন, তৎক্ষণাৎ উহাকে চুম্বন করতেন এবং খুব তা’যীম করতেন।

একদিন গায়েব থেকে আওয়াজ আসলো, “আর কতদিন শুধু নামের সাথে মশগুল থাকবে? যদি তুমি সত্যিকারের অন্বেষণকারী হয়ে থাকো, তবে নাম ছেড়ে সত্তার অন্বেষণে কদম রাখো”। এই আওয়াজ শুনে খোদাপ্রেমে উনার হƒদয় আচ্ছন্ন করে ফেললো। তিনি দজলা নদীতে লাফিয়ে পড়লেন। একটি ঢেউ এসে উনাকে তীরের উপর রেখে গেলো। অতঃপর তিনি আগুনে লাফিয়ে পড়লেন, কিন্তু দগ্ধ হলেন না। এইরূপে তিনি বহু ধ্বংসের স্থানে নিজকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইলেন, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সকল স্থানেই রক্ষা করলেন। এতে উনার অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পেলো। তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলেন, আফসোস সে ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তিকে পানি, আগুন, হিংস্র জন্তু, পাহাড় কিছুই ধ্বংস করে না! তৎক্ষণাৎ তিনি এক গায়েবী আওয়াজ শুনতে পেলেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নিহত, তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া আর কেউ কতল করতে পারে না। অতঃপর তিনি এমন দিওয়ানা হয়ে গেলেন যে, দশ বার উনাকে শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হলো। কিন্তু কোন প্রকারেই উনার শান্তি হতো না। অতঃপর উনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো এবং একটি প্রকোষ্ঠে উনাকে দীর্ঘদিন বন্দী অবস্থায় রাখা হলো। সকলে বলতো শিবলী পাগল হয়ে গেছে। তিনি বলতেন, আমি তোমাদের নিকট পাগল, আর তোমরা আমার নিকট পাগল। (তাজকিরাতুল আওলিয়া)

হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রথম দিকে রিয়াজত-মাশাক্কাত করার কালে চোখে লবণ ছিঁটিয়ে দিতেন যেন নিদ্রা না আসে। বর্ণিত আছে, এভাবে অল্প অল্প করে তিনি মোট সাত মন লবণ চোখে ছিঁটিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার অন্তরে তাজালী প্রকাশ করে বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘুমায় সে গাফেল, যে ব্যক্তি গাফেল তার ও মহান আল্লাহ পাক উনার মধ্যে পর্দা পড়ে রয়েছে। (তাজকিরাতুল আওলিয়া)

কামালিয়ত হাছিলের পর:

এভাবে অনবরত বিভিন্ন প্রকার রিয়াজত ও মোজাহাদায় তিনি কামালিয়ত বা পরিপূর্ণতা অর্জন করলেন। অতঃপর উনার খ্যাতি ও কারামত প্রসিদ্ধি লাভ করে। উনার শায়েখ সাইয়্যিদুত ত্বায়িফা, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ব্যাপারে বলেন-

لِكُلِّ قَوْمٍ نَاجٍ، وَ نَاجُ هَذَا الْقَوْمِ الشِّبْلِيُّ

(প্রত্যেক ক্বাওমের জন্য একজন উদ্ধারকারী আছে, আর এই উম্মতের উদ্ধারকারী হচ্ছেন হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ) (মিরাতুল আসরার)

যখন হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি চাইলেন যে, তিনি দুনিয়া থেকে আযাদ হয়ে যাবেন, তখন নিজকে পাগল বানিয়ে দিলেন। লোকেরা উনার চিকিৎসার জন্য উনাকে পাগলা গারদে প্রবেশ করিয়ে দিলো। কেউ যদি উনার কুশল জিজ্ঞাসা করার জন্য যেতেন, তার প্রতি তিনি পাথর নিক্ষেপ করতেন। তিনি বুঝে শুনে পাগলের মত প্রলাপ বকতেন। এভাবে তিনি দুনিয়ার ফাঁদ থেকে আযাদ হয়ে গেলেন।

একদিন তিনি বাজারে গেলেন। লোকেরা বললো, পাগল এসেছে। তিনি বললেন, আমি তোমাদের নিকট পাগল, এবং তোমরা আমার নিকট হুঁশিয়ার লোক। আমার পাগলামী মুহব্বতের আধিক্যের কারণে হয়েছে, আর তোমাদের সুস্থতা গাফলতির কারণে হয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে এই দোয়া করি, তিনি যেন আমার পাগলামী আরো বৃদ্ধি করেন, যেন আমার নৈকট্য আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং তোমাদের হুঁশিয়ারীও যেন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, যাতে তোমাদের দূরত্ব আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

দেহের গুরু হয় কেবা? ভক্ত হয়ে কে দেয় সেবা?"এই মাটির দেহ কেবল এক আধার মাত্র, আসল মালিক তো ভেতরে বসে আছেন। নফস বা আমিত্বের ...
13/05/2026

দেহের গুরু হয় কেবা? ভক্ত হয়ে কে দেয় সেবা?"
এই মাটির দেহ কেবল এক আধার মাত্র, আসল মালিক তো ভেতরে বসে আছেন। নফস বা আমিত্বের বিনাশ ঘটিয়ে আত্মার আলোয় আলোকিত হোক আমাদের পথ। আত্মানুসন্ধানের এই যাত্রা অনন্তকাল চলুক। 🕯️

সুফি দর্শনের মরমী ভাবধারায় এই প্রশ্নগুলো কেবল জিজ্ঞাসাই নয়, বরং আত্মানুসন্ধানের এক গভীর পথ। লালন সাঁই বা সমসাময়িক মরমী সাধকদের গানেও আমরা এমন ভাবের প্রতিফলন দেখতে পাই। আপনার চরণের মাধ্যমে যে আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা উঠে এসেছে, সুফি তত্ত্ব অনুযায়ী তার একটি সহজ অথচ গভীর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১ . দেহের গুরু হয় কেবা?
সুফি দর্শনে দেহের ‘গুরু’ বা চালিকাশক্তি হলো ‘রুহ’ বা আত্মা। দেহ মাটির তৈরি একটি আধার মাত্র, আর রুহ হলো সেই স্বর্গীয় নূর বা পরমাত্মার অংশ যা এই মাটির খাঁচাকে সচল রাখে।
মুর্শিদ বা পীর: বাহ্যিক অর্থে যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনি গুরু। কিন্তু সুফিদের মতে, প্রকৃত গুরু আপনার হৃদয়ের গভীরে বাস করেন। যখন কেউ নিজের নফস বা প্রবৃত্তি দমন করতে পারে, তখন তার ভেতরের ‘বিবেক’ বা ‘জাগরিত আত্মা’ গুরুর দায়িত্ব পালন করে।

২. ভক্ত হয়ে কে দেয় সেবা?
এখানে ‘ভক্ত’ বলতে আমাদের ‘পঞ্চেন্দ্রিয়’ এবং ‘নফস’-কে বোঝানো হয়েছে।
আমাদের চোখ, কান, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক—এরা সবাই রুহ বা গুরুর সেবক হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু মোহ বা মায়ার কারণে এরা সঠিক সেবা দিতে পারে না।
সুফি মতে, যখন কোনো সাধক নিজেকে চিনে ফেলে (আত্মজ্ঞান লাভ করে), তখন তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেবল স্রষ্টার ইবাদত এবং সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, দেহ তখন আত্মার প্রকৃত অনুসারী বা ভক্ত হয়ে ওঠে।

৩. ভুলের ঘোর যাবে তখন
সুফি দর্শনে একে বলা হয় ‘কাশফ’ বা পর্দা উন্মোচন। মানুষ দুনিয়াবি মোহ, কাম, ক্রোধ এবং অহংকারে আচ্ছন্ন হয়ে ‘আমি’র ঘোরে বন্দি থাকে। এই ‘আমি’র বিনাশ বা ‘ফানা’ যখন ঘটে, তখনই ভুলের ঘোর কাটে।
সুফি পরিভাষায়— "মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু" অর্থাৎ, "যে নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রভুকে চিনেছে।

সারমর্ম
আত্মজ্ঞান। যেদিন মানুষ বুঝতে পারে যে তার দেহটা নশ্বর এবং এর ভেতরে থাকা রুহ-ই আসল অধিপতি, সেদিনই দুনিয়ার সব মায়া ও ভুলের পর্দা ছিঁড়ে যায়। দেহের গুরু হলো আপন আত্মা বা নূর, আর এই নশ্বর দেহটাই তার সেবক হওয়ার কথা।

প্রকৃত সুফি ও আধ্যাত্মিক সাধকরা গাদিরে খুম -এর ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে দেখেন না। তাদের কা...
13/05/2026

প্রকৃত সুফি ও আধ্যাত্মিক সাধকরা গাদিরে খুম -এর ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে দেখেন না। তাদের কাছে এটি মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক হযরত আলী (আ:)-এর হাতে 'আধ্যাত্মিক খিলাফত' বা 'বেলায়েত' হস্তান্তরের এক ঐশ্বরিক স্বীকৃতি।সুফি দর্শনে গাদিরে খুমের গুরুত্বের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ও মাওলা: নবী (সা.) যখন গাদিরে খুমে ঘোষণা করেন, "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা", তখন সুফিরা এটিকে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও জ্ঞানের উত্তরাধিকার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। হযরত আলী (আ.)-কে সুফিরা জ্ঞানের শহর বা 'ইলম'-এর দরজা মনে করেন।

সিলসিলার মূল ভিত্তি: প্রায় সব সুফি তরিকা বা সিলসিলার (যেমন- চিশতিয়া, কাদেরিয়া, নকশবন্দিয়া) আধ্যাত্মিক ধারা হযরত আলী (রা.)-এর মাধ্যমেই মহানবী (সা.)-এর সাথে যুক্ত। গাদিরে খুমের ঘটনা তাদের সেই আধ্যাত্মিক চেইনের প্রধান ভিত্তি।

বাতেনী বা অভ্যন্তরীণ জ্ঞান: সুফি তরিকায় প্রকাশ্য খেলাফতের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বা 'বাতেনী' আধ্যাত্মিকতার মূল্য অপরিসীম। গাদিরে খুমের ঘোষণাটি ছিল নবী (সা.)-এর কাছ থেকে আলী (আ:)-এর মাঝে সেই আধ্যাত্মিক আলো ও জ্ঞানের সরাসরি স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিকতা।

আহলে বাইতের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা: সুফিরা নবী পরিবারের (আহলে বাইত) প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। গাদিরে খুমের ঘটনা তাদের কাছে আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা প্রচারের একটি অন্যতম প্রধান উপলক্ষ।

সংক্ষেপে, সুফি সাধকদের মতে গাদিরে খুম হলো এমন একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মিলনক্ষণ, যেখানে হযরত আলী (রা.)-কে উম্মতের আত্মিক পথপ্রদর্শক বা আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই বিশ্বাস থেকেই সুফিরা জিকির এবং মানক্বাবাত বা কবিতার মাধ্যমে এই দিন ও ঘটনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য স্মরণ করেন।

একদিন শায়খ আলী সনজরী (রহ.)-এর খানকায় সেমার মাহফিল চলছিল। আধ্যাত্মিক গুরু ও কামিল দরবেশগণ এ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যে...
10/05/2026

একদিন শায়খ আলী সনজরী (রহ.)-এর খানকায় সেমার মাহফিল চলছিল। আধ্যাত্মিক গুরু ও কামিল দরবেশগণ এ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যেখানে হযরত কুতুব উদ্দিন কাকী সাহেব (রহ.) স্বয়ং উপস্থিত। কাওয়াল এ শেরটি পড়ছিলেন,

عاشق رویت کجا بیند مکین چل بسته رویت کی یا بد خلاص

“যে জনা তোমার দর্শনে পাগল, সে-কি তা পাবে তোমা দর্শন? পাগলপারা সে-কি তা পাবে?”

এটি শ্রবণ করে খাজা কুতুব সাহেব (রহ.)-এর মধ্যে ইশকের উন্মত্ততা এসে গেল। কাওয়াল বার বার এ শেরটি গাইতে রইলেন। এরপর কাওয়ালগণ একত্রে হযরত আহমদ জামের (রহ.) গযলগুলো আওড়াতে লাগলেন। তখন সালাহ উদ্দীন তাঁর সন্তানগণসহ করীম উদ্দিন নাসির উদ্দীন নিচের শেরটি একত্রে পড়ছিলেন,

هر زمان از غیب جان دیگر است کشتگان خخر تسلیم را

“আত্মশুদ্ধির তীর বিদ্ধ হয়ে কুরবান হতে প্রস্তুত যারা
অদৃশ্য হতে নব প্রাণ লভে তাঁরা।”

এ শের শুনে হযরত কুতুব সাহেব (রহ.)-এর মধ্যে এমন হর্ষোল্লাশ বিরাজ করছিল যে, তিনি রীতিমত বেহুঁশ হয়ে পড়েন।

কাজী হামীদ উদ্দীন নাগোরী এবং শায়খ বদরুদ্দীন গজনবী (রহ.) দু'জনে মিলে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। কাওয়ালও তাঁদের সঙ্গে গেলেন। কাওয়ালী চলছিল। খাজা কুতুব উদ্দীন (রহ.)-এর মাঝেমধ্যে একটু হুঁশ ফিরে এলে তিনি গযল পুনরাবৃত্তি করার অনুরোধ জানাতেন। এতে তিনি পুনরায় উন্মত্ততায় মিশে যেতেন। এভাবে তিনি চারদিন পর্যন্ত অস্থির ছিলেন। তিনি বেহুঁশ হতেন ঠিকই কিন্তু নামাযের ঠিক সময় হলে পূর্ণ হুঁশ ফিরে পেতেন। নামায আদায় শেষ হলে পুনরায় ওই ইশকের সাগরে ডুব দিয়ে বেহুঁশ পড়ে থাকতেন।

🔸ফারসি ভাষায় লিখা গ্রন্থ সিয়ারুল আকতাব ও সালিকুস সালিকীনের দ্বিতীয় খণ্ড এবং খযীনাতুল আসফিয়া গ্রন্থে নিম্নের মর্মস্পর্শী বিবরণগুলো পাওয়া যায়: তৃতীয় দিনে তাঁর সুবাসিত মুখ থেকে জাতে আল্লাহর তসবীহের আওয়াজ সবাই শুনত, মুখ দিয়ে জমাট রক্ত বেরিয়ে আসত। রক্তের জমাট যে মাটিতে পড়ত সেখানে স্পষ্ট আল্লাহ শব্দ প্রতিভাত হত এবং সেই নকশা থেকে আল্লাহ শব্দ প্রকাশ্য শোনা যেত।

🔸পরবর্তী দিবসে তাঁর অন্তরাত্মা থেকে سُبْحَانَ اللَّهِ আওয়াজ শোনা যেত। মুখ দিয়ে যে রক্ত বেরিয়ে আসত সেখানেও নকসে سُبْحَانَ اللَّهِ ভেসে উঠত।

কাওয়ালীর মাহফিল চলতেই ছিল। যখন সেই শের প্রথম লাইন পড়তেন তখন দৃশ্যত তাঁর অভ্যন্তরে রুহ মুবারক থাকত না। দ্বিতীয় লাইন পাঠ করলে দেখা যেত ধমনীর স্পন্দন শুরু হয়ে হারানো প্রাণ ফিরে আসছে।

তিনি যখন আহ উহ বা নারায়ে তকবীর ধ্বনি দিতে উদ্যত হতেন তখন কাজী হামীদ উদ্দীন নাগোরী (রহ.) তাঁর উন্মুক্ত মুখখানা চেপে ধরতেন। তিনি বুঝিয়ে বলতেন, আপনি কি ইচ্ছা করেন, সমগ্র পৃথিবীটাই উলট পালট হয়ে যাক? দুনিয়াটা কি আপনি ইশকে মওলার প্রেমানলে জ্বালিয়ে দেবেন?

তাঁর মুখটাই তো বন্ধ করা গেল কিন্তু তাঁর শরীর মুবারক শুকিয়ে কাষ্ঠ হয়ে যেতে লাগল। তাঁর এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে হেকীম শামসুদ্দীন (রহ.) বলতে লাগলেন, “এটাতো একমাত্র ইশকের রোগ। ইশকের আগুনে তাঁর অন্তরকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিয়েছে। এ রোগের কোন চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।”

তিনি ১০ রবিউল আউয়াল ৬৩৩ হিজরীতে ইশকে মওলার শরাব পান করে চারদিন বেহুঁশ হয়ে পড়ে ছিলেন। পঞ্চম দিবসে যখন সেই গযলের প্রথম লাইন কাওয়াল গেয়ে উঠলেন তখন হযরত কুতুব উদ্দীন বখতিয়ার কাকী (রহ.) ১৪ রবিউল আউয়াল ৬৩৩ হিজরী মোতাবেক ২৭ নভেম্বর ১২২৫ সালে এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে ভক্তদেরকে নয়নজলে ভাসিয়ে পরপাড়ে পাড়ি জমান।

তাঁর ওফাত সংবাদ মুহূর্তে ওয়াসত থেকে দিল্লির অলিগলিতে পৌঁছে গেল। সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুতমিস (রহ.)-সহ দিল্লির ফকীর-দরবেশগণ, পীর-মাশায়িখ, সুফি সাধকগণ, সর্বস্তরের জনমণ্ডলী তাঁর ঐতিহাসিক জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

🔸সূত্র:
سوانح قطب الاقطاب خواجہ قطب الدین بختیار کا کی رحمہ اللہ
“কুতুবুল আকতাব কুতুব উদ্দীন বখতিয়ার কাকী (রহ.) জীবন ও কর্ম” (৫৬৯-৬৩৩ হি.)।

মূল: ড. জহুরুল হাসান শারেব
অনুবাদ:মুহাম্মদ আবদুল হাই আল নদভী
(আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার ফাউন্ডেশন)

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন– আমার ‘আহলে বাইত’ হলো হযরত নূহ (عليه السلام)’র নৌকার মতো।যে এতে উঠলো সে নাজাতপ্রাপ্ত হলো‚,আর যে উঠল...
10/05/2026

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন– আমার ‘আহলে বাইত’ হলো হযরত নূহ (عليه السلام)’র নৌকার মতো।
যে এতে উঠলো সে নাজাতপ্রাপ্ত হলো‚,
আর যে উঠলো না সে ধ্বংস হলো।।
[মিশকাত, হাদিস নং- ৫৭৩]

আল্লাহুম্মা সাব্বিতনি ওয়াজআলনি হাদিয়াম মাহদিয়্যা (اللهم ثبتني واجعلني هاديا مهديا) হলো মানসিক শক্তি, দৃঢ়তা এবং হেদায়ে...
08/05/2026

আল্লাহুম্মা সাব্বিতনি ওয়াজআলনি হাদিয়াম মাহদিয়্যা (اللهم ثبتني واجعلني هاديا مهديا) হলো মানসিক শক্তি, দৃঢ়তা এবং হেদায়েত বৃদ্ধির একটি বিশেষ দোয়া, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবী জারির (রা.)-কে শিখিয়েছিলেন।
এই দোয়াটি মনকে স্থির রাখতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে।
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ছাব্বিতনি, ওয়াজআলনি হাদিয়াম মাহদিয়্যা।অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে স্থির রাখুন এবং আমাকে হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াতকারী বানিয়ে দিন"।

দোয়াটির প্রেক্ষাপট ও ফজিলত:মানসিক প্রশান্তি: এটি মনের সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি করে।

দৃঢ়তা: বিপদে বা কঠিন সময়ে মনকে স্থির বা অবিচল রাখতে এই দোয়ার আমল করা হয়।

হেদায়েত: আল্লাহর কাছে হেদায়েত বা সঠিক পথ পাওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।
সূত্র: এই দোয়াটি বুখারি শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (সহিহ বুখারি: ৬৩৩৩)

শাকীক আল-বলখী (রহ.) ছিলেন অষ্টম শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট সুফি সাধক, যিনি আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস (তওয়াক্কুল) এবং আত্মশুদ্ধ...
08/05/2026

শাকীক আল-বলখী (রহ.) ছিলেন অষ্টম শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট সুফি সাধক, যিনি আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস (তওয়াক্কুল) এবং আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দিতেন। তাঁর বাণীগুলো দুনিয়াত্যাগ, আধ্যাত্মিকতা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করার মূলনীতি তুলে ধরে, যেমন—"যে ব্যক্তি দুঃখ-দুর্দশায় আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে অভিযোগ করে, সে ইবাদতের মিষ্টতা পায় না"।

শাকীক আল-বলখী (রহ.)-এর কিছু উল্লেখযোগ্য বাণী:

আল্লাহর ওপর ভরসা: "তওয়াক্কুল এমন এক অবস্থা, যেখানে বান্দা তাঁর প্রয়োজনের জন্য সৃষ্টির দিকে না তাকিয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করে"।

দুঃখ ও অভিযোগ: "বিপন্ন হয়ে চিৎকার করে যে অস্থির হয়, সে যেন তীর ধনুক নিয়ে আল্লাহর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়"।

রিজিক ও আমল: "যে ব্যক্তি রুজির ব্যাপারে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, তার স্বভাব উত্তম হয় এবং উপাসনা থেকে প্রেরণা আসে"।

সত্যিকারের তওবা: "পাপের জন্য চোখের পানি ফেলা, পুনরায় পাপ করার ভয় রাখা, খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করা এবং নেককারদের সঙ্গী হওয়াই হলো সত্যিকারের তওবার লক্ষণ"।

দুনিয়ার মোহ: "মানুষ যখন বুঝে ফেলে যে দুনিয়া ধ্বংসশীল, তখনই তার অন্তরে আখিরাতের চেতনা জেগে ওঠে"।

পাঁচটি জিনিস তালাশ: তিনি রুজির বরকত চাশতের নামাজে, কবরের আলো তাহাজ্জুদে, মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের উত্তর কুরআন তিলাওয়াতে, পুলসিরাত পার হওয়ার শক্তি সাওমে (রোজা) এবং আল্লাহর রহমত অসহায়কে সাহায্য করার মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন যে, দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করাই হলো প্রকৃত আধ্যাত্মিক জীবন।

হযরত বাবা ফারিদউদ্দীন গঞ্জে শকর (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)-এর পাকপত্তন শরীফে অবস্থানকালের শুরুর দিকের ঘটনা যে, তিনি এক ...
05/05/2026

হযরত বাবা ফারিদউদ্দীন গঞ্জে শকর (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)-এর পাকপত্তন শরীফে অবস্থানকালের শুরুর দিকের ঘটনা যে, তিনি এক জঙ্গলে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় এক বৃদ্ধা মহিলা মাথায় দুধের পাত্র নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি (রহঃ) জিজ্ঞাসা করলেন: ‘আম্মা! কোথা থেকে আসছ? কোথায় যাচ্ছ? আর মাথায় কী আছে?’ সে কাঁদতে কাঁদতে বলল: ‘হে আল্লাহর নেক বান্দা! এই শহরে একজন জাদুকর আছে, যে গরিবদের উপর অত্যাচার করে। সে বলল: ‘যে তার কথা মানে না, সে তাকে কষ্ট দিয়ে খুবই ক্ষতি করে। যার কাছ থেকে যা ইচ্ছা, তার সাথীদের দিয়ে নিয়ে নেয়, আর কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না। এই দুধও তার আদেশে নিয়ে যাচ্ছি। যদি না যাই, তবে আমার ঘরে যে দুধ আছে সব রক্ত হয়ে যাবে। এই কথাবার্তা বলতে বলতে যে দেরি হয়ে গেছে, জানি না তার শাস্তি কী পাবো! জাদুকরের অত্যাচারের কাহিনী শুনে তিনি (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ) সেই মহিলাটিকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: ‘বসে যাও! ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এই সমস্ত দুধ আনন্দচিত্তে ফকিরদের মাঝে বণ্টন করে দাও, তোমাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না।’ এরই মধ্যে জাদুকরের এক সাথী সেখানে পৌঁছাল এবং সে বৃদ্ধা মহিলাটিকে ধমক দিতে চাইল। তিনি (রহঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেন: ‘চুপ হয়ে বসে যাও।’ সে বসতেই তার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। এমন সময় আরেকজন সাথী এসে পৌঁছাল, সেও চুপচাপ বসে গেল। এভাবে তার সাথীরা আসতে লাগল এবং বসতে লাগল। যদি কেউ উঠতে চাইত, তবে উঠতে পারত না।
অবশেষে জাদুকরও সেখানে এসে পৌঁছাল। নিজের সঙ্গীদের অসহায় অবস্থা দেখে সে অত্যন্ত রাগান্বিত হলো এবং জাদুর মাধ্যমে তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু কিছুই করতে পারল না। যখন তার কোনো জাদুই কাজ করল না, তখন শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বিনয়ের সাথে বলল: ‘হুজুর! আমার সঙ্গীদের ছেড়ে দিন।’ তিনি (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ) বললেন: ‘একটি শর্তে মুক্তি দিতে পারি—তুমি এই শহর থেকে চলে যাবে এবং আর কখনো এ ধরনের অত্যাচার করবে না।’
জাদুকর শর্ত মেনে নিল এবং তখনই সমস্ত মালামাল নিয়ে পাকপত্তন শরীফ থেকে চলে গেল।
এভাবেই তাঁর কারামতের মাধ্যমে জাদুকরের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে পাকপত্তনের অধিবাসীরা মুক্তি পেল।

সিয়ারুল আকতাব, পৃষ্ঠা: ১৯০ | খাজিনাতুল আসফিয়া, পৃষ্ঠা: ১১৯ | মাহবুবে ইলাহী, পৃষ্ঠা: ৬১

একবার বয়ানের সময় হযরত বাবা ফারিদউদ্দীন গঞ্জে শকর (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ) বলেন:‘অসংখ্য গুনাহগার কিয়ামতের দিন বুযুর্গা...
04/05/2026

একবার বয়ানের সময় হযরত বাবা ফারিদউদ্দীন গঞ্জে শকর (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ) বলেন:
‘অসংখ্য গুনাহগার কিয়ামতের দিন বুযুর্গানে দ্বীনের (رَحِمَهُمُ اللّٰهُ) মুবারক হাত চুম্বন করার কারণে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে এবং দোযখ থেকে মুক্তি লাভ করবে।’ অতঃপর তিনি বলেন: ‘এক বুযুর্গ (রহঃ)-কে তাঁর ইন্তেকালের পর কেউ স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করল-“مَا فَعَلَ اللّٰهُ بِكَ؟ (অর্থাৎ: আল্লাহ তা’আলা আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?) তিনি উত্তরে বললেন: ‘দুনিয়ার সকল ভালো ও মন্দ কাজ আমার সামনে উপস্থিত করা হলো। এমনকি নির্দেশ দেওয়া হলো-“একে দোযখে নিয়ে যাও।”
এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছিল, এমন সময় হঠাৎ বলা হলো: “থামো! একবার সে দামেস্কের জামে মসজিদে হযরত খাজা সাইয়্যিদ শরীফ জানদানী (رَحْمَةُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)-এর মুবারক হাত চুম্বন করেছিল। এই হাত চুম্বনের বরকতেই আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।

(নুজহাতুল মজালিস, পৃষ্ঠা: ৩৮২)

জামালিয়া দরবার শরিফ ব্রাহ্মনবাড়িয়া

Address

' Gausiya Rofiqiya Jamaliya Dorbar Shorif ' , Village/Hablauttcha, Upazilla/Brahmanbaria
Brahmanbaria
3400

Opening Hours

Monday 03:00 - 19:00
Tuesday 03:00 - 19:00
Wednesday 03:00 - 19:00
Thursday 03:00 - 19:00
Friday 03:00 - 19:00
Saturday 03:00 - 19:00
Sunday 03:00 - 19:00

Telephone

+8801819193395

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমদ রহঃ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমদ রহঃ:

Share