20/04/2026
ইসলামে 'শিরক' (আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইবাদতে, ক্ষমতায় বা গুণে অংশীদার স্থাপন করা) হলো সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ পাপ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা শিরক সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং কঠোর বাণী প্রদান করেছেন।
কুরআনের আলোকে শিরক সম্পর্কে আল্লাহর প্রধান ঘোষণাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শিরক ক্ষমার অযোগ্য পাপআল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন যে, কেউ যদি শিরক করা অবস্থায় (তওবা না করে) মারা যায়, তবে তিনি সেই পাপ কখনোই ক্ষমা করবেন না। তবে শিরক ছাড়া অন্য যেকোনো পাপ তিনি চাইলে ক্ষমা করতে পারেন।
সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ রটনা করে।"
২. শিরক সমস্ত নেক আমল ধ্বংস করে দেয়কেউ যদি জীবনে অনেক ভালো কাজ বা ইবাদত করে, কিন্তু এর পাশাপাশি শিরক করে, তবে তার অতীতের সমস্ত ভালো কাজ বাতিল বা নিস্ফল হয়ে যাবে।
সূরা আয-যুমার, আয়াত ৬৫: "তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, যদি তুমি আল্লাহর সাথে শরীক করো, তবে তোমার সমস্ত আমল নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
৩. শিরক চরম অন্যায় (মহা জুলুম)আল্লাহ তাআলা শিরককে সবচেয়ে বড় জুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত লোকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন, আল্লাহ তা কুরআনে উল্লেখ করেছেন।
সূরা লুকমান, আয়াত ১৩: "স্মরণ করো, যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলেছিল, 'হে বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক এক চরম অন্যায় (মহা জুলুম)।'"
৪. মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারামযারা শিরক করে (মুশরিক), তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত চিরতরে হারাম করে দিয়েছেন এবং তাদের চূড়ান্ত ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৭২: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বাসস্থান হলো জাহান্নাম। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।"
সারসংক্ষেপ:কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, শিরক হলো একমাত্র পাপ যা তওবা ছাড়া মৃত্যুর পর ক্ষমা করা হবে না। এটি মানুষের পরকালীন জীবনকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। তবে, কোনো ব্যক্তি যদি তার ভুল বুঝতে পেরে মৃত্যুর আগে খাঁটি অন্তরে আল্লাহর কাছে তওবা করে এবং শিরক থেকে সম্পূর্ণ ফিরে আসে, তবে আল্লাহ পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু, তিনি অবশ্যই তাকে ক্ষমা করবেন। (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩)।
* বিদআত *
ইসলাম ধর্মে "বিদআত" (Bid'ah) সম্পর্কে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।বিদআত কী?"বিদআত" একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হলো— নতুন কিছু সৃষ্টি করা বা উদ্ভাবন করা।ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়, সওয়াবের আশায় বা ধর্মের অংশ মনে করে এমন কোনো নতুন ইবাদত, প্রথা বা বিশ্বাস চালু করা, যার কোনো ভিত্তি পবিত্র কোরআন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে ছিল না, তাকে বিদআত বলা হয়।ইসলামে বিদআত সম্পর্কে মূল দৃষ্টিভঙ্গিইসলাম ধর্মে ধর্মীয় ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বিদআত বা নতুন উদ্ভাবনকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম) এবং ভ্রষ্টতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো, ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা এই ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।কোরআনে বলা হয়েছে:
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ধর্মকে) পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)
যেহেতু ধর্ম পরিপূর্ণ, তাই এতে নতুন করে কোনো ইবাদত যোগ করা বা কমানোর কোনো সুযোগ নেই।হাদিসের আলোকে বিদআতরাসূলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় তাঁর ভাষণে বিদআত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন:প্রত্যাখ্যাত আমল: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমাদের এই ধর্মে (ইসলামে) নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (বাতিল) হবে।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
ভ্রষ্টতা: তিনি আরও বলেছেন, "সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়, এবং প্রত্যেক নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা (পথভ্রষ্টতা)।" (সহিহ মুসলিম)
বিদআত এবং জাগতিক উদ্ভাবনের মধ্যে পার্থক্যইসলামে বিদআত বলতে শুধুমাত্র ধর্মীয় ইবাদত এবং আকিদার (বিশ্বাসের) ক্ষেত্রে নতুন কিছু তৈরি করাকে বোঝায়।দুনিয়াবি বা জাগতিক উন্নতির জন্য নতুন আবিষ্কার (যেমন— বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, যাতায়াত ব্যবস্থা, ইন্টারনেট ইত্যাদি) বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং মানুষের কল্যাণকর যেকোনো জাগতিক উদ্ভাবনকে ইসলাম সমর্থন ও উৎসাহিত করে, যদি তা শরীয়তের কোনো মৌলিক বিধান লঙ্ঘন না করে।সারসংক্ষেপ:ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে— এক. কাজটি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা এবং দুই. কাজটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে করা। সওয়াবের নিয়তে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর বাইরে নতুন কোনো পদ্ধতি বা উৎসব তৈরি করাই হলো বিদআত, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
"যারা শিরক অথবা বিদআত করে, তারা জাহান্নামে যাবেই। তাই দাসত্বের গণতন্ত্র ত্যাগ করে শিরক ও বিদআতমুক্ত দলে যোগ দিন।"
যুক্ত হোন
বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস, ভোলা জেলা শাখায় ,
তাওহীদ ও সহীহ সুন্নাহ প্রচার ও প্রসারের এক অনন্য প্লাটফর্ম ,
যোগাযোগে :
কোষাধ্যক্ষ - মাজেদুল হক রাব্বি গোলদার - 01961-110220
সেক্রেটারী - জাকির হোসেন - 01712-776716
সভাপতি - মফিজুল ইসলাম - 01718-714231
সহ-সভাপতি - শিহাব আল দীন - 01974-775011
সহ-সভাপতি - মিলন পাটোয়ারী - 01737-012965
প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক - আজমল - 0195-3322665"