Shaikh Jubayer Ahmad

Shaikh Jubayer Ahmad Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Shaikh Jubayer Ahmad, Religious Center, Bhairab Town.

23/04/2025
23/04/2025
05/07/2023

হাদিস ইবারত পাঠে ১৯ টি ভুল

সাধারণ ফেল, ফায়েল, মাফউল, হরফে জর, হরফে মুশাব্বাহা বিল ফেল চিনে না। অথচ Tarikul bin soleman
তার প্রায় বক্তব্যে হানাফী আলেমদের সে মুকাল্লিদ মানে জাহেল গণ্ডমূর্খ বলে, মাজহাবীরা হাদিস পড়ে ঘোমটা চশমা দিয়ে এবং হানাফীদের ফতোয়া না জেনেই অসংখ্য মিথ্যাচার করে যা আজকে ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে দেখলাম। অথচ সে চরম পর্যায়ের গণ্ডমূর্খ। যে ভুল মাদ্রাসার নাহভেমিরের ছাত্ররাও করে না। ভিডিও করে মূলত ভাইরাল হয়ে লা-মাজহাবী সাধারণ পাবলিকদের থেকে টাকা কামিয়ে মাদ্রাসা করার জন্য। যেমন মীর মোয়াজ্জেম হোসেন সাইফী সহ বহু শাইখ বহু টাকা কামিয়েছে এবং ব্যবসায়িক মাদ্রাসা করেছে।

রাসুল সা. বলেন

اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
লোকেরা মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিনা ইলমেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরকেও গোমরাহ করবে’’। বুখারী, অধ্যায়ঃ ইলম।

14/09/2022

মদকে পবিত্র করে দেয় লবণ, মাছ ও সূর্যের তাপ

📖১// সহিহ বুখারীতে আছে-

وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ فِي الْمُرِي ذَبَحَ الْخَمْرَ النِّينَانُ وَالشَّمْسُ.

আবু দারদা الْمُرِي (যে শরাবে লবণ ও মাছ দিয়ে সূর্যের তাপের রাখার ফলে শরাবের স্বাদ পরিবর্তন হয়) সম্পর্কে বলেনঃ মাছ ও সূর্যের তাপ শরাবকে পাক করে।
(বুখারী, হাদিসঃ ৫৪৯৩, অধ্যায়ঃ তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার হালাল করা হয়েছে)

ইবনে হাজার আসকালানী রাহঃ উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় الْمُرِي সম্পর্কে ফাতহুল বারীতে লিখেন

وقال أبو الدرداء في المري ذبح الخمر النينان والشمس
قال الحربي يؤخذ الخمر فيجعل فيه الملح والسمك ويوضع في الشمس فيتغير عن طعم الخمر.
ولابن أبي شيبة من طريق مكحول عن أبي الدرداء: لا بأس بالمري ذبحته النار والملح. وهذا منقطع، وعليه اقتصر مغلطاي ومن تبعه، واعترضوا على جزم البخاري به وما عثروا على كلام الحربي، وهو مراد البخاري جزما، وله طرق أخرى أخرجها الطحاوي من طريق بشر بن عبيد الله عن أبي إدريس الخولاني: أن أبا الدرداء كان يأكل المري الذي يجعل فيه الخمر ويقول ذبحته الشمس والملح.
وأخرجه عبد الرزاق من طريق سعيد بن عبد العزيز عن عطية بن قيس قال: مر رجل من أصحاب أبي الدرداء بآخر - فذكر قصة في اختلافهم في المري - فأتيا أبا الدرداء فسألاه فقال: ذبحت خمرها الشمس والملح والحيتان.

হারবী রাহঃ বলেন, শরাবে লবণ ও মাছ দিয়ে সূর্যের তাপের রাখার ফলে শরাবের স্বাদ পরিবর্তন হয়

ইবনে শায়বাতে মাকহুল রাহঃ এর সূত্রে আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত, আগুন ও লবন মদকে পাক করে দেয়।

ইমাম তহাবী রাহঃ বিশর বিন উবাইদুল্লাহর সূত্রে আবু ইদ্রিস খাওলানী রাহঃ থেকে বর্ণিত,
আবু দারদা রাঃ الْمُرِي শরাব খেতেন ও বলতেন সূর্য ও লবণ তাকে পাক করে দিয়েছে।

আঃরাজ্জাক (মুসান্নাফে আঃরাজ্জাকে) তাখরিজ করেন। আতিয়্যা বিন কায়েস থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে নিয়ে আবু দারদা রাঃ এর সংগীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে...রাবী الْمُرِي সম্পর্কে তাদের মতানৈক্যর ঘটনা আলোচনা করেন....
এই দুই ব্যক্তি আবু দারদা রাঃ এর কাছে এসে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেন, সূর্য, লবণ ও মাছ এই মদকে পবিত্র করে দিয়েছে

📖 ২// উত্তম সিরকা হল যা মদ থেকে তৈরি হয়

عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم خير خلكم خل خمركم
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- তোমাদের উত্তম সিরকা সেটা যা তোমাদের মদ থেকে বানানো হয়।
(মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৩৭০৫, সিলসিলা সহিহা-৫/২৫৮)

✍️ M***i Jubayer Ahmad

25/07/2022

ছেলে বাচ্চার প্রস্রাব ধৌত করতে হবে

হানাফীরা কেন উপরোক্ত মতকে প্রাধান্য দেয়❓

ছেলে বা মেয়ে শিশু এখনও কেবল মায়ের দুধ খায়; অন্য খাবার খায় না, তার প্রস্রাব নাপাক কিনা–এই মাসআলায় বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, তার প্রস্রাবও অপবিত্র এবং তা কাপড়ে/গায়ে লাগলে পবিত্র করা ব্যতিত নামাজ আদায় শুদ্ধ হবে না। ছেলে হলে কাপড় ধৌত করতে হবে #হালকাভাবে। আর মেয়ে হলে #খুব_ভাল করে ধৌত করতে হবে।

🛑 ছেলে বাচ্চার পেশাবে পানি দেয়ার ব্যাপারে হাদিসে ৫ধরনের শব্দ ব্যবহার বর্ণিত আছে

(١)رش (٢) نضح (٣) صب (٤) أتبعه بالماء (٥) لم يغسله غسلا

🎙️ ১-২নম্বরঃ পানির ছিটা দেয়া
🎙️ ৩-৪ নম্বরঃ পানি ঢেলে দেয়া
🎙️ ৫ নম্বরঃ হালকাভাবে ধৌত করা

✍️ ১-২নম্বরঃ পানির ছিটা দেয়া

عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، قَالَتْ دَخَلْتُ بِابْنٍ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ فَبَالَ عَلَيْهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَرَشَّهُ عَلَيْهِ ‏.‏
উম্মু ক্বাইস বিনতু মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। সে তখনও শক্ত খাবার ধরেনি। বাচ্চাটি তার কোলে পেশাব করে দিল। তিনি পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তা পেশাবের জায়গায় #ছিটিয়ে_দিলেন।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

✍️ ৩ — ৪ নম্বরঃ ভালোভাবে পানি ঢেলে দেয়া

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِصَبِيٍّ، فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ، فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَتْبَعَهُ إِيَّاهُ‏
উম্মুল মু’মিনীন আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর কাছে একটি শিশুকে আনা হল। শিশুটি তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং এর ওপর #ঢেলে_দিলেন। (সহীহ বুখারী ২২২)

عن عائشة قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤتى بالصبيان فيدعو لهم وإنه أتي بصبي فبال عليه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم صبوا عليه الماء صبا رواه الطحاوي وإسناده صحيح آثار السنن ١/١٧
আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাঃ এর কাছে ছোট শিশুদের আনা হতো, ফলে তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন। একবার এক ছেলে বাচ্চাকে আনা হলে সে রাসুল সাঃ এর কাপড়ের উপর প্রস্রাব করে দেয়। অতঃপর রাসুল সাঃ বললেন, তোমরা তার উপর #ভালভাবে_পানি_ঢেলে_দাও।

( মুসনাদে আহমাদ-২৩৬৭২, তহাবী ও আছারুস সুনান -১/১৭, ইলাউস সুনান-১/৪১০, সনদ সহিহ, হাদিস নাম্বারঃ ৪০১, অধ্যায়ঃ দুগ্ধপোষ্য ছেলে বাচ্চার প্রস্রাব লাগলে কাপড় ধৌত করা)

✍️ ৫ নম্বরঃ হালকাভাবে ধৌত করা

قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ وَأَخْبَرَتْنِي أَنَّ ابْنَهَا ذَاكَ بَالَ فِي حَجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ عَلَى بَوْلِهِ وَلَمْ يَغْسِلْهُ غَسْلاً ‏.‏
‘উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, তার ঐ ছেলেটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। সে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামান্য পানি নিয়ে আসতে বললেন এবং তার প্রস্রাবের উপর পানি #ঢেলে_দিলেন, কিন্তু #একেবারে_পুরোপুরি_ধুলেন_না।
(ই. ফা. ৫৫৭৫, ই. সে. ৫৬০০)

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৬৫৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

🛑 #হানাফীদের_জবাবঃ হাদিসের শব্দ গুলোর মধ্যে ৩-৪ নম্বর পয়েন্ট দুটির অর্থ ধৌত করা। এখানে কোন দ্বিমত নেই।

বাকি ১-২পয়েন্টে رش نضح শব্দের হাকিকি অর্থ যদিও #ছিটিয়ে_দেয়া।
কিন্তু রূপক অর্থে #ধৌত_করা অর্থেও ব্যবহার করা হয়। যেমন নিম্নোক্ত ২টি হাদিসে দেখুন

✍️ ১নাম্বারঃ হায়েযের রক্তে পানি ছিটিয়ে দেয়া।

এখানে "ছিটিয়ে দেয়া" দারা পৃথিবীর সকল ইমামের ঐক্যমতে অর্থ হচ্ছে ধৌত করা। কারণ হায়েযের রক্তে পানি ছিটিয়ে দিলে কাপড় পাক হয় না।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ سَأَلَتِ امْرَأَةٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا إِذَا أَصَابَ ثَوْبَهَا الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ كَيْفَ تَصْنَعُ قَالَ ‏ "‏ إِذَا أَصَابَ إِحْدَاكُنَّ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضِ فَلْتَقْرِصْهُ ثُمَّ لْتَنْضَحْهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ لْتُصَلِّي ‏"‏ ‏.
আসমা বিনতু আবূ বাক্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, এক মহিলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো কাপড়ে রক্ত লেগে গেলে করণীয় কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের কারো কাপড়ে হায়িযের রক্ত লেগে গেলে তা হাত দিয়ে খুঁটে ফেলবে। অতঃপর তাতে পানি #ছিটিয়ে_দিয়ে ঐ কাপড়ে সলাত আদায় করবে।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

✍️ ২ নম্বরঃ মযী'তে পানি ছিটিয়ে দেয়া।

এখানে " ছিটিয়ে দেয়া" দারা পৃথিবীর সকল ইমামের ঐক্যমতে অর্থ হচ্ছে ধৌত করা। কারণ মযীতে পানি ছিটিয়ে দিলে কাপড় পাক হয় না।

عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الْمَذْىِ شِدَّةً وَعَنَاءً فَكُنْتُ أُكْثِرُ مِنْهُ الْغُسْلَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلْتُهُ عَنْهُ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّمَا يُجْزِئُكَ مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءُ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَا يُصِيبُ ثَوْبِي مِنْهُ قَالَ ‏"‏ يَكْفِيكَ أَنْ تَأْخُذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَتَنْضَحَ بِهِ ثَوْبَكَ حَيْثُ تَرَى أَنَّهُ أَصَابَ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, বীর্যরস বের হওয়ার কারণে আমি কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিলাম। কেননা এ কারণে আমাকে প্রায়ই গোসল করতে হত। আমি ব্যাপারটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করলাম এবং তার বিধান জানতে চাইলাম। তিনি বললেনঃ “এটা বের হলে তোমার জন্য ওযূই যথেষ্ট”। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তা যদি আমার কাপড়ে লেগে যায়, তবে কি করব? তিনি বললেনঃ “এক আঁজলা পানি তোমার কাপড়ের যে অংশে বীর্যরস দেখতে পাও সেখানে #ছিটিয়ে_দাও, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। “

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১১৫
হাদিসের মান: হাসান হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRDIRD

#সারসংক্ষেপ_জবাবঃ এমতাবস্থায় হাদিসের ১-২-৩-৪ সকল শব্দ গুলোর অর্থ দাড়ালো প্রস্রাবে পানি ঢেলে দেয়া। তাই হানাফীরা ৫নম্বর পয়েন্টের আমল করেন। অর্থাৎ হালকাভাবে ধৌত করা।

ফলে প্রস্রাবে পানি হালকা ছিটিয়ে দেয়াও বুঝায় না এবং মেয়েদের প্রস্রাবের ন্যায় খুব ভাল করে ধৌত করাও বুঝায় না। যার ফলে ৫নং পয়েন্টের উপর আমল করলে হাদিসের ৫টি পয়েন্টের শব্দের উপরই আমল হয়ে যায়।

✍️ M***i Jubayer Ahmad

আল্লাহর কসম। এই পর্যন্ত ব্রাদার রাহুল আমার ২টি আইডি নস্ট করেছে গত করোনায়। যখনই তারে নিয়ে কিছু লিখেছি আর সে কমেন্ট করেছে।...
07/05/2022

আল্লাহর কসম।

এই পর্যন্ত ব্রাদার রাহুল আমার ২টি আইডি নস্ট করেছে গত করোনায়। যখনই তারে নিয়ে কিছু লিখেছি আর সে কমেন্ট করেছে। এর কিছুক্ষণ পরই আইডি রিপোর্ট ও ব্লক হয়েছে। আজকে সে মিথ্যাচার করেছে আমি ধরিয়ে দেয়ায় সে বাহাসের চ্যালেঞ্জ করেছে, আমিও তাকে চ্যালেঞ্জ করেছি। কিন্তু সে আমার আইডিতে ১০মিনিটের ভিতরে তার মুরীদদের নিয়ে রিপোর্ট মেরে ৭দিনের ব্লকে ফেলেছে।।
সংবাদটা শেয়ার করলে ভাল হয়

আজান চলাকালীন সাহরি খাওয়া এই পর্বে আমরা সুনানে আবু দাউদের সেই হাদিস নিয়ে আলোকপাত করবো যে হাদিসের মাধ্যমে কতিপয় সালাফী ভা...
07/05/2022

আজান চলাকালীন সাহরি খাওয়া

এই পর্বে আমরা সুনানে আবু দাউদের সেই হাদিস নিয়ে আলোকপাত করবো যে হাদিসের মাধ্যমে কতিপয় সালাফী ভাইয়েরা এ বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে 'যে ফজরের আযান হয়ে গেলেও সাহরী খাওয়া চালিয়ে যেতে পারবে।'

দলিল হিসাবে তাঁরা সুনানে আবু দাউদের এই হাদিসটি পেশ করতেছে,'হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন,

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا سمع أحدكم النداء والإناء على يده فلا يضعه حتى يقضي حاجته منه

অর্থ: ‘তোমাদের কেউ যখন আজান শোনে, আর এ সময় তার হাতে খাবারের প্লেট থাকে, সে যেন আজানের কারণে খাবার বন্ধ না করে, যতক্ষণ না সে পেট ভরে খেয়ে নেয়।’ সুনানে আবু দাউদ,হাদিস নং ২৩৫০

সেই কথিত শায়খগন এই হাদিসের অনুবাদের ক্ষেত্রে জালিয়াতিরও আশ্রয় নেন নিজেদের পক্ষ্য থেকে অনুবাদে 'সাহরী খাবার সময়' অতিরিক্ত বৃদ্ধি করার মাধ্যমে।
তারা অনুবাদ করে 'রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ( সাহরী খাবার সময় ) তোমাদের কেউ ফজরের আযান শুনতে পেলে সে যেন হাতের বাসন রেখে না দেয় । বরং নিজের প্রয়োজন সেরে নেয় । সহীহ আবূ দাঊদ ২৩৫০

অথচ হাদিসের মূল মতনে দেখুন তাতে 'সাহরী খাবারের সময়' বাক্য কোথাও লেখা নেই।

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا سمع أحدكم النداء والإناء على يده فلا يضعه حتى يقضي حاجته منه

অর্থ: ‘তোমাদের কেউ যখন আজান শোনে, আর এ সময় তার হাতে খাবারের প্লেট থাকে, সে যেন আজানের কারণে খাবার বন্ধ না করে, যতক্ষণ না সে পেট ভরে খেয়ে নেয়।’ সুনানে আবু দাউদ,হাদিস নং ২৩৪২

#যাইহোক_মূল_আলোচনায়_যাই, মুহাদ্দিসীনে কেরাম সুনানে আবু দাউদের সেই হাদিসের ব্যাখ্যায় নিম্নোক্ত কথা বলেছেন:

সুনানে আবু দাউদের বর্ণনায় "نداء"(নিদা) শব্দটি উল্লেখ রয়েছে, যার অর্থ নামাজের জন্য ডাকা,আহ্বান করা।

🔺ক. এখন সেই "نداء"(নিদা) তথা ডাকা দ্বারা মাগরিবের নামাযের ইকামতও উদ্দেশ্য হতে পারে যে,যখন কেউ রোজা রাখে এবং মাগরিবের নামাযের ইকামত এমন অবস্থায় দেওয়া হয় যে তার সামনে খানা হাজির থাকে তাহলে সে যেন তার প্রয়োজন পূরণ করে নেয়।

এই অর্থের সমর্থন পাওয়া যায় সহীহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনায়

” عن أنس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أقيمت الصلاة وأحدكم صائم فليبدأ بالعشاء قبل صلاة المغرب ولا تعجلوا عن عشائكم“

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,যখন মাগরিবের নামাযের ইকামত দেয়া হয় এবং তোমাদের কেউ রোযাদার হয়, তখন সে যেন মাগরিবের নামাযের আগেই খেয়ে নেয় এবং রাতের খাবারের জন্য তাড়াহুড়া না করে। সহীহ ইবনে হিব্বান ৫/৪২২।

এ কারণেই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) যে দিন রোজা রাখতেন এবং রাতের খাবার যদি এসে যেতো তাহলে প্রথমে খাবার খেতেন তারপর নামায পড়তেন।

এমনটায় রয়েছে সহীহ ইবনে হিব্বানে

”كان ابن عمر إذا غربت الشمس وتبين له الليل، فكان أحيانا يقدم عشاءه وهو صائم والمؤذن يؤذن، ثم يقيم وهو يسمع فلا يترك عشاءه ولا يعجل حتى يقضي عشاءه، ثم يخرج فيصلي، ويقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تعجلوا عن عشائكم إذا قدم إليكم» “

সহীহ ইবনে হিব্বান ৫/৪২০

🔺খ. হাদিসের সেই "نداء"(নিদা) তথা ডাকা দ্বারা মাগরিবের আযানও উদ্দেশ্য হতে পারে এবং যদি আযান উদ্দেশ্য হয় তাহলে হয়তো মাগরিবের আযান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে, যদি পাত্রটি অন্য কোন উদ্দেশ্যে হাতে নেয়া হয়, এমতাবস্থায় আযান হয়ে যায়, তাহলে এখন পাত্রটি রাখার পূর্বে ইফতার করে ফেলো,দেরি করবে না।

মিরকাতুল মাফাতিহে এসেছে,

:”وقال ابن حجر تبعا للطيبي: إيماء ويصح أن يراد من الحديث طلب تعجيل الفطر، أي إذا سمع أحدكم نداء المغرب وصادف ذلك أن الإناء في يده لحالة أخرى فليبادر بالفطر منه ولا يؤخر إلى وضعه“

ইবনে হাজার রহ. আল্লামা তীবী রহ.এর অনুসরণে ইঙ্গিতে বলেন,যে এই হাদীসে ইফতার দ্রুত করার উদ্দেশ্য নেওয়াও সহীহ হবে। অর্থাৎ উদ্দেশ্য এই হবে যে, যখন তোমাদের কেউ মাগরিবের আযান এমতাবস্থায় শুনবে যে তার হাতে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পাত্র থাকে, তখন সে যেন তা দ্বারা দ্রুত ইফতার করে এবং সেটা রাখা পর্যন্ত ইফতার কে বিলম্বিত না করে। মিরকাতুল মাফাতিহ ৪/১৩৮৪


🔺গ. সেই "نداء"(নিদা) তথা ডাকা দ্বারা হযরত বিলাল (রা.)-এর সেই আযানও উদ্দেশ্য হতে পারে যা তিনি সুবহে সাদিক হওয়ার আগে রাতে আযান দিতেন। তখন উদ্দেশ্য হবে যে,যদি বিলাল রা. এর আযান হয় এবং কেউ সেহরি খেতে থাকে তাহলে সে সেহরি খাওয়া বন্ধ করবে না বরং আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আযান না দেওয়া পর্যন্ত খেতে থাকবে।

সুতরাং এখনও যদি কেউ সুবহে সাদিক হওয়ার আগেই আযান দেয় এবং সেহরি খাওয়ারত ব্যক্তি জানে যে এখনো সুবহে সাদিক হয়নি, তাহলে সে সুবহে সাদিক পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া চালিয়ে যেতে পারে।

সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকীতে এসেছে,

”وقول النبي صلى الله عليه وسلم"إذا سمع أحدكم النداء والإناء على يده"خبرا عن النداء الأول ليكون موافقا لما أخبرنا أبو عبد الله الحافظ، أنبأ أبو الفضل بن إبراهيم، ثنا أحمد بن سلمة، ثنا إسحاق بن إبراهيم، أنبأ جرير، والمعتمر بن سليمان، عن سليمان التيمي، عن أبي عثمان النهدي، عن عبد الله بن مسعود، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " لا يمنعن أحدا منكم أذان بلال من سحوره، فإنما ينادي ليوقظ نائمكم، ويرجع قائمكم “

নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন তোমাদের কেউ আযান শুনতে পায় এবং পাত্রটি তার হাতে থাকে”। এটা সম্ভব যে এখানে প্রথম আযানের খবর দেওয়া হয়েছে। যে আযান বিলাল রা. রাত্রে দিতেন,যাতে লোকজন ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুত করতে পারে এবং সালাত শেষে সেহরির প্রস্তুতি নিতে পারে। এখানে প্রথম আযান উদ্দেশ্য এজন্য নেওয়া হবে যাতে আবু দাউদের রেওয়ায়েতটি সেসব রেওয়ায়েতের অনুকূলে হয়ে যায় যা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন,যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সেহরী থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে তো আযান দেয় বা আহবান করে যেন, ঘুমন্ত লোকেরা জাগ্রত হয় এবং তাহাজ্জত কারী মুসল্লী লোকেরা বাড়ি ফিরে যায়। বায়হাকী ৪/৩৬৯

এই অর্থের সমর্থন পাওয়া যায় সহীহ বুখারী শরীফের একটি বর্ণনায়,

”عن عبد الله بن عمر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن بلالا ينادي بليل، فكلوا واشربوا حتى ينادي ابن أم مكتوم»“

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত,রাসুল সা. বলেছেন,“নিশ্চয় বেলাল রা. রাতে আজান দেয়। অত:এব তোমরা পানাহার করো ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আজান দেয়া পর্যন্ত।” সহীহ বুখারী ১/১২৭

বুখারীর অপর রেওয়ায়েতে রয়েছে,

إنَّ بِلالا كَانَ يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ ، فَإِنَّهُ لا يُؤَذِّنُ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ

“বেলাল রা. রাতে আজান দেয়। অত:এব তোমরা পানাহার করো ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আজান দেয়া পর্যন্ত। আর তিনি ফজর উদিত না হলে আজান দেন না।” (বুখারি হা/১৯১৯)

সহিহ বুখারির অন্য বর্ণনায় আছে, “তিনি অন্ধ ছিলেন। তিনি আজান দিতেন না যতক্ষণ না তাকে বলা হতো যে, ফজর হয়ে গেছে, ফজর হয়ে গেছে।” [সহিহ বুখারি হা/৬১৭]

উল্লেখ্য যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে রাতের শেষ প্রহরে দুটি আজান হত। প্রথমটি দিতেন বিলাল রা.। এ সময় মানুষ ঘুম থেকে উঠত ও তাহাজ্জুদ আদায়কারীগণ সালাত শেষে সেহরির প্রস্তুতি নিতো। কিন্তু ২য় আজান দিতেন অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতুম রা.। এ আজান শুনে মানুষ সেহরি খাওয়া বন্ধ করে রোজা রাখা শুরু করতো। অত:পর ফজরের সালাত আদায় করতো।

এই অর্থের সমর্থনে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এর ফতোয়াও রয়েছে,

মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর বর্ণনা,

”سئل ابن عباس عن الرجل يسمع الأذان، وعليه ليل قال: «فليأكل»“

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে রাত থাকা সত্ত্বেও নামাযের আযান শোনেন। তখন জবাবে তিনি বলেন সে যেন খেতে থাকে। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৪/১৭২

🔺ঘ. আল্লামা খাত্তাবী রহ.(৩৮৮ হি.) সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শরহু মাআলিমুস সুনানে' আবু

আবু দাউদের প্রশ্নে উল্লিখিত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করার পর, সেই ব্যাখ্যা তার নিজের ভাষায় এভাবে তুলে ধরেছেন

”قلت هذا على قوله إن بلالا يؤذن بليل فكلوا واشربوا حتى يؤذن ابن أم مكتوم “

আমি বলি,এই বর্ণনাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই নির্দেশ অনুসারে যে, বিলাল রাত্রিতে আযান দেয়, সুতরাং তোমরা ইবনে উম্মে মাকতুম আযান না দেওয়া পর্যন্ত পানাহার করো। শরহু মাআলিমুস... ২/১০৬

তাছাড়া অন্য হাদিসে আছে,

الْفَجْر فَجْرَانِ , فَأَمَّا الأَوَّل فَإِنَّهُ لا يُحَرِّم الطَّعَام ، وَلا يُحِلّ الصَّلاة , وَأَمَّا الثَّانِي فَإِنَّهُ يُحَرِّم الطَّعَام ، وَيُحِلّ الصَّلاة

“ফজর দু ধরণের। প্রথম ফজর পানাহার হারাম করে না এবং নামাজকেও (ফজর নামাজ) হালাল করে না। কিন্তু দ্বিতীয় ফজর (সুবহে সাদেক) পানাহার হারাম করে এবং নামাজকেও হালাল করে”। [হাকেম, বাইহাক্বী, সহীহুল জামে হা/৭৭২৭]

🔺ঙ. মেরকাতে আবু দাউদের সেই বর্ণনার ব্যাখায় এভাবে লেখা হয়েছে:

” وهذا إذا علم أو ظن عدم الطلوع وقال ابن الملك: هذا إذا لم يعلم طلوع الصبح، أما إذا علم أنه قد طلع أو شك فيه فلا “

আবু দাউদের বর্ণনাটি সে সময় প্রযোজ্য হবে, যখন সেহরি কারী জানে অথবা ধারনা করে যে এখনও সুবহে সাদিক উদিত হয়নি। আর ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, ইহা তখন প্রযোজ্য হবে যখন সে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার কথা না জানে, তবে যদি সে জানতে পারে যে সুবহে সাদিক উদিত হয়েছে বা এ ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দেয়, তখন তার জন্য খাওয়া-দাওয়া জায়েয হবে না। মিরকাতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবিহ ৪/১৩৮৪

🔺চ. আল্লামা ইবনুল-কাইয়্যিম রহ. বলেছেন:

قال العلامة ابن القيم: [وذهب الجمهور إلى امتناع السحور بطلوع الفجر , وهو قول الأئمة الأربعة , وعامة فقهاء الأمصار , وروي معناه عن عمر وابن عباس رضي الله عنهم.] شرح ابن القيم على سنن أبي داود 6/341.

'জমহুরের মতে ফজর উদিত হয়ে গেলে পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক, এটাই চার মাযহাবের ইমামদের অফিশিয়াল বক্তব্য এবং সমকালীন সাধারণ ফকীহদের বক্তব্য, এবং এ অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে ওমর ও ইবনে আব্বাস রা.থেকে।'

আর আবু দাউদের হাদিসটি

إذا سمع أحدكم النداء والإناء على يده فلا يضعه حتى يقضي حاجته منه

‘তোমাদের কেউ যখন আজান শোনে, আর এ সময় তার হাতে খাবারের প্লেট থাকে, সে যেন আজানের কারণে খাবার বন্ধ না করে, যতক্ষণ না সে পেট ভরে খেয়ে নেয়।’ এটি বর্ণানা করেছেন ইমাম আহমদ,ইমাম আবু দাউদ, হাকিম এবং ইমাম বায়হাকী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। এটি একটি হাসান পর্যায়ের হাদীস এবং এর সনদের ব্যাপারে আলবানী রহ. তার সিলসিলাতিল-আহাদিসিস -সহীহা, হাদীস নং 1394-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

وأما المراد بالحديث فقد قال الإمام البيهقي: [وهذا إن صح فهو محمول عند عوام أهل العلم على أنه صلى الله عليه وسلم علم أن المنادي كان ينادى قبل طلوع الفجر بحيث يقع شربه قبيل طلوع الفجر ]السنن الكبرى 4/218.

আর হাদিস দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সে সম্পর্কে, ইমাম বায়হাকী রহ. বলেছেন: [ এই বর্ণানা যদি সহীহ হয়, তাহলে সাধারণ আহলে ইলমদের মতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানতেন যে আহবানকারী আহবান করে ফজর উদিত হওয়ার আগে। যাতে তার পানাহার ফজর উদিত হওয়ার আগে ঘটে।] আস-সুনানুল কুবরা 4/218।

🔺ছ. ইমাম নববী রহ. বলেন

وقال الإمام النووي: [ذكرنا أن من طلع الفجر وفى فيه – فمه – طعام فليلفظه ويتم صومه فان ابتلعه بعد علمه بالفجر بطل صومه وهذا لا خلاف فيه ودليله حديث ابن عمر وعائشة رضي الله عنهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: “إن بلالاً يؤذن بليل فكلوا واشربوا حتى يؤذن ابن أم مكتوم”. رواه البخاري ومسلم وفى الصحيح أحاديث بمعناه.

আমরা উল্লেখ করেছি যে, যে ব্যক্তি ফজর উদিত হওয়ার সময় খাবারে মুখ পূর্ণ করে, তবে সে যেন তা মুখ থেকে ফেলে দেয় এবং রোজা পূর্ণ করে। আর যদি সে ফজর উদিত হওয়ার কথা জানার পরও তা গিলে ফেলে তাহলে তার রোজা বাতিল হয়ে যাবে এবং এতে কোন মতভেদ নেই।

আর এর প্রমাণ হল ইবনে ওমর ও আয়েশা রা. এর হাদিস, আল্লাহ্‌র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বিলাল রাত্রে নামাযের আযান দেয়, তাই তোমরা খাও ও পান কর। যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম নামাযের আযান দেন। মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।

🔺জ. আল্লামা আলী কারী রহ. বলেন

وقال العلامة علي القاري: [ قوله صلى الله عليه وسلم (حتى يقضي حاجته منه) هذا إذا علم أو ظن عدم الطلوع.

রাসুল সা. এর উক্তি, حتى يقضي حاجته منه [যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন পূরন করে] এটা তখন প্রযোজ্য হবে যখন সে
জানে বা মনে করে যে সুবহে সাদিক এখনোও উদিত হয়নি।

এখন সারকথা হলো, রাসুল সা. থেকে আবু দাউদে যে বর্ণনাটি রয়েছে সেটি হল 'হাসান হাদিস'। কিন্তু সেই হাদিস রোজাদারকে ফজরের আযানের সময় খাওয়া-দাওয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না যদি সে নিশ্চিত জানে যে, ফজর বা সুবহে সাদিক উদিত হয়েছে বা এব্যাপারে সংশয় হয়। তাই রোজাদারের জন্য কর্তব্য হল ফজরের আযান শোনার সাথে সাথে পানাহার থেকে বিরত থাকা,অন্যথায় রোজা সহীহ হবে না এবং সেটার কাজা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা দিতে হবে না।

উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে সে সব লোকদের ভ্রান্তি নিরসন হয়ে গেল যারা আবু দাউদের মুতলাক বর্ণনাকে পুজি করে জনসাধারণ কে ফজরের আযান চলাকালীন সময়ে পানাহার চালিয়ে যেতে ফেসবুকে পোস্ট করে উদ্ধুদ্ধ করে। আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সকলকে এরূপ ব্যক্তিদের অনুসারী হওয়া থেকে হেফাজত করুন,আমিন।

Khairul Islam 23/04/2022
হানাফী ফিকহ (Hanafi Fiqh)

ফরজ সালাতের পর সম্মলিত মোনাজাত 🎙️আল্লামা মোবারকপুরী রাহঃ 📖 কিতাবঃ তুহফাতুল আহওয়াযী- ২/১৬৮, ১৭৩পৃ.আহলে হাদিস উলামাগণ এই ব...
07/05/2022

ফরজ সালাতের পর সম্মলিত মোনাজাত

🎙️আল্লামা মোবারকপুরী রাহঃ
📖 কিতাবঃ তুহফাতুল আহওয়াযী- ২/১৬৮, ১৭৩পৃ.

আহলে হাদিস উলামাগণ এই বিষয়ে ২ দল। মুবারকপুরী রাহঃ এর মতে প্রাধান্যযোগ্য হচ্ছে জায়েজ

اعلم أن *علماء أهل الحديث* قد اختلفوا في هذا الزمان في أن الإمام إذا انصرف من الصلاة المكتوبة هل يجوز له أن يدعو رافعا يديه ويؤمن من خلفه من المأمومين رافعي أيديهم ، فقال *بعضهم بالجواز* ، وقال بعضهم بعدم جوازه ظنا منهم أنه بدعة ، قالوا : إن ذلك لم يثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بسند صحيح بل هو أمر محدث ، وكل محدث بدعة ، وأما القائلون بالجواز فاستدلوا بخمسة أحاديث .
জেনে রাখো, আহলে হাদিস উলামাগণ এই যামানায় ফরজ সালাত থেকে ফারেগ হবার পর ইমাম সাহেব দুহাত তুলে দোয়া মোনাজাত করা আর মুক্তাদিগণ দুহাত তুলে পিছন থেকে আমিন আমিন বলা জায়েজ হবার বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন।

কেউ কেউ নাজায়েজ বলেছেন এই ধারণা করে যে, এটি বেদআত। তারা বলেন, এই বিষয়ে রাসুল সাঃ থেকে সহিহ সনদে কোন কিছু বর্ণিত হয় নি। বরং এটি নবআবিস্কৃত। আর প্রত্যেক নবআবিস্কৃত জিনিস বেদআত।

তাদের কেউ কেউ জায়েজ বলেছেন। তারা ৫টি হাদিস দারা দলিল পেশ করেন। (সংক্ষিপ্তভাবে একটি দিলাম)

الحديث الثاني : حديث عبد الله بن الزبير ، ذكر السيوطي في رسالته فض الوعاء عن محمد بن يحيى الأسلمي ، قال : رأيت عبد الله بن الزبير ورأى رجلا رافعا يديه قبل أن يفرغ من صلاته فلما فرغ منها قال : إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه حتى يفرغ من صلاته قال رجاله ثقات .

قلت : وذكره الحافظ الهيثمي في مجمع الزوائد وقال رواه الطبراني وترجم له فقال محمد بن يحيى الأسلمي عن عبد الله بن الزبير ورجاله ثقات ، انتهى .

আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ এর হাদিস, ইমাম সুয়ুতী রাহঃ তার গ্রন্থ 'ফাদ্দুল ওয়াআ'তে মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন,

আমি আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ কে দেখেছি তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে নামাজ থেকে ফারেগ হবার আগেই দুহাত তুলে মোনাজাত করছেন। যখন দোয়া থেকে ফারেগ হলেন তখন সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ বলেন, রাসুল সাঃ নামাজের পর ছাড়া দুই হাত তুলে দোয়া করতেন না।

আমি (মুবারকপুরী) বলছি,
এই হাদিসটি ইমাম হায়ছামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, ইমাম তাবরানী হাদিসটি রেওয়াত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন,
মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আল-আসলামী আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ থেকে ও বাকি সকল রাবীগণ ছিকাহ/নির্ভরযোগ্য।

المباركفوري أيضا: قلت : القول الراجح عندي أن رفع اليدين في الدعاء بعد الصلاة جائز لو فعله أحد لا بأس عليه إن شاء الله تعالى ، والله تعالى أعلم

আমি মুবারকপুরী বলছিঃ
আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য বক্তব্য হচ্ছে, নামাজের পর দুহাত তুলে মোনাজাত করা জায়েজ। কেউ যদি তা করে তাহলে কোন অসুবিধা নেই ইংশা আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহু আ'লাম

✍️ M***i Jubayer Ahmad

07/05/2022

তাবাররুক ➡️ বরকত হাসিল করা

লা-মাজহাবী ইমাম ও সালাফদের হাদিসের ব্যাখা ⬇️

তাবাররুক শব্দটি এসেছে বরকত থেকে। সুতরাং তাবাররুক মানে হল বরকত নেয়া।

বরকত কাকে বলে...?

জবাব-লিসানুল আরব প্রণেতা লিখেছেন,

البَرَكة: النَّماء وَالزِّيَادَةُ. والتَّبْريك: الدُّعَاءُ للإِنسان أَوْ غَيْرِهِ بِالْبَرَكَةِ
অনুবাদ- বরকত হল, বাড়ন্ত ও অতিরিক্ত হওয়া। আর তাবরীক হল, মানুষ বা অন্য কারো জন্য বরকতের দুআ করা। {লীসানুল আরব-১০/৪৭৭}

বরকত বিষয়ে আল্লামা রাগেব ইস্ফাহানী রহঃ মুফরাদাতুল কুরআনে লিখেছেন, কোন বস্তুতে বরকত থাকার মানে হল, এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও সৌভাগ্য রাখা হয়েছে। আর তাবাররুক হল সেই কল্যাণ ও সৌভাগ্য তালাশ করাকে বলা হয়।

এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাঃ থেকে রাসূল সাঃ এর ব্যবহৃত বস্তু দিয়ে বা ববুযুর্গদের হাটা-চলার জায়গা, তাদের নামাজের জায়গা থেকে বরকত হাসিল প্রমাণিত হয়। তাবাররুক হাসিল করার অসংখ্য বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।

বোখারী-মুসলিমের কিছু হাদীস ও তথাকথিত শিরক বিশারদদের নিকট কিছু প্রশ্ন হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মক্কার মুশরিকদের প্রতিনিধি ছিলেন উরউয়া ইবনে মাসউদ।
✅ ১নং হাদিসঃ তিনি মক্কায় ফিরে গিয়ে রাসূল স. এর সাহাবীদের সম্পর্কে মক্কার মুশরিকদেরকে বলেন,

ﺃﻱ ﻗﻮﻡ!!، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻟﻘﺪ ﻭﻓﺪﺕ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﻠﻮﻙ، ﻭﻭﻓﺪﺕ ﻋﻠﻰ ﻗﻴﺼﺮ ﻭﻛﺴﺮﻯ ﻭﺍﻟﻨﺠﺎﺷﻲ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺇﻥ ﺭﺃﻳﺖ ﻣﻠﻜﺎ ﻗﻂ ﻳُﻌﻈﻤﻪ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﻣﺎ ﻳﻌﻈﻢ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺤﻤﺪﺍ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺇﻥ ﺗﻨﺨﻢ ﻧﺨﺎﻣﺔ ﺇﻻ ﻭﻗﻌﺖ ﻓﻲ ﻛﻒ ﺭﺟﻞ ﻣﻨﻬﻢ ﻓﺪﻟﻚ ﺑﻬﺎ ﻭﺟﻬﻪ ﻭﺟﻠﺪﻩ، ﻭﺇﺫﺍ ﺃﻣﺮﻫﻢ ﺍﺑﺘﺪﺭﻭﺍ ﺃﻣﺮﻩ، ﻭﺇﺫﺍ ﺗﻮﺿﺄ ﻛﺎﺩﻭﺍ ﻳﻘﺘﺘﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻭﺿﻮﺋﻪ، ﻭﺇﺫﺍ ﺗﻜﻠﻢ ﺧﻔﻀﻮﺍ ﺃﺻﻮﺍﺗﻬﻢ ﻋﻨﺪﻩ، ﻭﻣﺎ ﻳﺤﺪﻭﻥ ﺇﻟﻴﻪ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﺗﻌﻈﻴﻤﺎ ﻟﻪ
অর্থ: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আল্লাহর শপথ, আমি বহু রাজা-বাদশার নিকট প্রতিনিধি হয়ে গমন করেছি। আমি কায়সার, কিসরা, ও নাজ্জাশীর নিকট প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছি। আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ স. এর সাহাবীরা তাকে যে পরিমাণ সম্মান করে, কোন রাজা-বাদশাকে
এধরনের সম্মান করতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ, তিনি যদি কফ ফেলেন, তাহলে সেটা তার কোন সাহাবীর হাতে পড়ে। আর সেই সাহাবী সেটি তার মুখে ও শরীরে মেখে নেয়। তিনি কোন আদেশ করলে সেটি পালনে তারা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি ওজু করলে তার ওজু পানি নেয়ার জন্য এত বেশি প্রতিযোগিতা করে যেন তারা যুদ্ধ করছে। রাসূল স. এর সামনে তারা অত্যন্ত নিচু স্বরে কথা বলে। তাঁর সম্মানে তারা চোখ তুলে তার দিকে তাকায় না। [বোখারী শরীফ, হাদীসনং ২৭৩৪]

হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:

🛑১. ইমাম ইবনে হাজার রহ. বলেন,

ﻭﻓﻴﻪ ﻃﻬﺎﺭﺓ ﺍﻟﻨﺨﺎﻣﺔ ﻭﺍﻟﺸﻌﺮ ﺍﻟﻤﻨﻔﺼﻞ، ﻭﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﻔﻀﻼﺕ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﺓ
অর্থ: এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, মানুষের কফ ও কর্তিত চুল পবিত্র এবং নেককার বুজুর্গদের শরীরের পবিত্র জিনিস দ্বারা বরকত হাসিল করা যায়।
[ফাতহুল বারী, খ.৫,পৃ.৩৪১]

বোখারী শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার
🛑আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি রহ. বলেন,

ﻭﻣﻦ ﺍﻻﺳﺘﻨﺒﺎﻁ ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ، ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺒﺰﺍﻕ ﺍﻟﻨﺒﻲ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗﻮﻗﻴﺮﺍ ﻟﻪ ﻭﺗﻌﻈﻴﻤﺎ
অর্থ: এই হাদীস থেকে গবেষণালব্ধ শিক্ষণীয় বিষয় হল, রাসূল স. এর সম্মানে তার থুতু দ্বারা বরকত হাসিল করা ।[উমদাতুল কারী, খ.৩, পৃ.১৭৮]

✅২ য় হাদীস:-----হযরত আনাস ইবনে মালেক
রা. বর্ণনা করেন,

ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﺟﺎﺀ ﺧَﺪَﻡُ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﺑﺂﻧﻴﺘﻬﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺎﺀ، ﻓﻤﺎ ﻳﺆﺗﻰ ﺑﺈﻧﺎﺀ ﺇﻻ ﻏﻤﺲ ﻳﺪﻩ ﻓﻴﻬﺎ، ﻓﺮﺑﻤﺎ ﺟﺎﺀﻭﻩ ﻓﻲ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﺍﻟﺒﺎﺭﺩﺓ ﻓﻴﻐﻤﺲ ﻳﺪﻩ ﻓﻴﻬﺎ
অর্থ: রাসূল স. যখন ফজরের নামাজ শেষ করতেন, মদীনার খাদেমরা পানিভর্তি পাত্র নিয়ে উপস্থিত হত। রাসূল স. সকল পাত্রে নিজের হাত ডুবিয়ে নিতেন। এমনকি অনেক শীতের
সকালে পাত্র নিয়ে এলেও রাসূল স. হাত ডুবাতেন।
[ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩২৪, অধ্যায়, সাধারণ মানুষকে রাসূল স. এর নৈকট্য প্রদান এবং রাসূল স. এর থেকে তাদের বরকত হাসিল]

হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:এই হাদীসের ব্যাখ্যায়

🛑আল্লামা ইবনুল জাওযী রহ. বলেন,

ﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻄﻠﺒﻮﻥ ﺑﻬﺬﺍ ﺑﺮﻛﺘﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻭﻳﻨﺒﻐﻲ ﻟﻠﻌﺎﻟﻢ ﺇﺫﺍ ﻃﻠﺐ ﺍﻟﻌﻮﺍﻡ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻣﺜﻞ ﻫﺬﺍ ﺃﻻ ﻳﺨﻴﺐ ﻇﻨﻮﻧﻬﻢ
অর্থ: সাহাবীরা এভাবে রাসূল স. এর বরকত হাসিল করত। একইভাবে কোন আলেম থেকে সাধারণ মানুষ যদি বরকত হাসিল করতে চায়, তাহলে তাদেরকে সুযোগ দেয়া উচিৎ, যেন তাদের ধারণা নষ্ট না হয়।
[কাশফুল মুশকিল মিন হাদিসিস সহীহাইন, খ.৩, পৃ.৩১২]

মুসলিম শরীফের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থে
🛑ইমাম নববী রহ. বলেন,

ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺂﺛﺎﺭ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ، ﻭﺑﻴﺎﻥ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺂﺛﺎﺭﻩ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺗﺒﺮﻛﻬﻢ ﺑﺈﺩﺧﺎﻝ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻜﺮﻳﻤﺔ ﻓﻲ ﺍﻵﻧﻴﺔ
অর্থ: এই হাদীস থেকে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হল, নেককার বুজুর্গদের থেকে বরকত হাসিল।
সাহাবায়ে কেরাম রা. রাসূল স. এর থেকে কীভাবে বরকত হাসিল করতেন তার বর্ণনাও রয়েছে এই হাদীসে । অর্থাৎ বরকতের উদ্দেশ্যে রাসূল স. এর মোবারক হাত তাদের পাত্রে ঢোকাতেন।
[শরহু সহীহি মুসলিম, খ.১৫, পৃ.৮২]

✅৩ য় হাদীস:---;;হযরত আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন,

ﻟﻘﺪ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺍﻟﺤﻼﻕ ﻳﺤﻠﻘﻪ، ﻭﺃﻃﺎﻑ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﻓﻤﺎ ﻳُﺮﻳﺪﻭﻥ ﺃﻥ ﺗﻘﻊ ﺷﻌﺮﺓ ﺇﻻ ﻓﻲ ﻳﺪ ﺭﺟﻞ
অর্থ: আমি রাসূল স. এর মাথার চুল হলক করতে দেখেছি। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল স. এর চার পাশে চক্কর দিতেন। রাসূল স. এর মাথা থেকে কোন চুল পড়লে যেন কোন সাহাবীর হাতে পড়ে।
[মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩২৫]

হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়: ---

🛑 ইমাম নববী, ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম বদরুদ্দিন আইনি রহ. বলেন, ” এই হাদীস থেকে রাসূল স. এর চুলের মাধ্যমে বরকত হাসিল প্রমাণিত হয়”
[ শরহু সহীহি মুসলিম, খ.৯, পৃ.৫৪, ফাতহুল বারী, খ.১, পৃ.২৭৫, উমদাতুল কারী, খ.৩, পৃ. ৩৮]

🛑 আহলে হাদীস-সালাফীদের অনুসরণীয় আলেম ইমাম শাওকানী, আব্দুর রহমান মুবারকপুরী ও শামসুল হক আজীমাবাদী বলেন, ” এই হাদিস থেকে বুজুর্গদের চুল ও অন্যান্য জিনিস দ্বারা বরকত হাসিলের বৈধতা প্রমাণিত হয়”

[নাইলুল আওতার, খ.৫, পৃ.১২৮,তুহফাতুল আহওয়াজী, খ.৩, পৃ.৫৬, আউনুল মা’বুদ, খ.৫, পৃ.৩১৭]

✅৪ র্থ হাদীস:-----হযরত আনাস ইবনে মালিক রা.বলেন,

ﻗﺎﻝ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻨﺪﻧﺎ ﻓﻌﺮﻕ ﻭﺟﺎﺀﺕ ﺃﻣﻲ ﺑﻘﺎﺭﻭﺭﺓ ﻓﺠﻌﻠﺖ ﺗﺴﻠﺖ ﺍﻟﻌﺮﻕ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﺎﺳﺘﻴﻘﻆ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺃﻡ ﺳﻠﻴﻢ ﻣﺎ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺬﻱ ﺗﺼﻨﻌﻴﻦ ﻗﺎﻟﺖ ﻫﺬﺍ ﻋﺮﻗﻚ
ﻧﺠﻌﻠﻪ ﻓﻲ ﻃﻴﺒﻨﺎ ﻭﻫﻮ ﻣﻦ ﺃﻃﻴﺐ ﺍﻟﻄﻴﺐ
অর্থ: রাসূল স. আমাদের বাড়ীতে আগমন করেন এবং বিশ্রামের উদ্দেশ্যে শয়ন করেন। রাসূল স. ঘেমে যাচ্ছিলেন। আমার মা একটি বোতল নিয়ে এলেন এবং রাসূল স. এর শরীর থেকে ঘাম মুছে সেই বোতলে ভরছিলেন। রাসূল স. জেগে উঠলেন এবং বললেন, হে উম্মে সুলাইম, তুমি এটি কী করো? তিনি বললেন, এটি আপনার ঘাম। আমরা একে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করি। কেননা এটি সর্বোত্তম সুগন্ধি।
[মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩৩১]
মুসলিম শরীফের অপর বর্ণনায় রয়েছে,
ﻣﺎ ﺗﺼﻨﻌﻴﻦ ﻳﺎ ﺃﻡ ﺳﻠﻴﻢ ﻓﻘﺎﻟﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﺮﺟﻮ ﺑﺮﻛﺘﻪ ﻟﺼﺒﻴﺎﻧﻨﺎ ﻗﺎﻝ ﺃﺻﺒﺖ
অর্থ: হে উম্মে সুলাইম, তুমি কী করছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের শিশুদের
জন্য এর থেকে বরকত হাসিল করতে চাই। রাসূল স. বললেন, তুমি ঠিক করেছ। এছাড়াও সাহাবায়ে কেরাম রাসূল স. এর পরিহিত পোশাক দ্বারা বরকত হাসিল করতেন।
এ সংক্রান্ত বর্ণনার জন্য দেখুন, বোখারী শরীফের ৫৬৮৯ নং হাদীস।

✅৫ম হাদীস:-----হযরত মাহমুদ ইবনে রবী আল-আনসারী বর্ণনা করেন,
ﺃﻥ ﻋﺘﺒﺎﻥ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻛﺎﻥ ﻳﺆﻡ ﻗﻮﻣﻪ ﻭﻫﻮ ﺃﻋﻤﻰ، ﻭﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻧﻬﺎ ﺗﻜﻮﻥ ﺍﻟﻈﻠﻤﺔ ﻭﺍﻟﺴﻴﻞ ﻭﺃﻧﺎ ﺭﺟﻞ ﺿﺮﻳﺮ، ﻓﺼﻞ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻲ ﻣﻜﺎﻧﺎ ﺃﺗﺨﺬﻩ ﻣﺼﻠﻰ، ﻓﺠﺎﺀﻩ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ” :ﺃﻳﻦ ﺗﺤﺐ ﺃﻥ
ﺃﺻﻠﻲ؟” ﻓﺄﺷﺎﺭ ﺇﻟﻰ ﻣﻜﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻴﺖ، ﻓﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
অর্থ: হযরত ইতবান বিন মালিক রা. একজন অন্ধ সাহাবী ছিলেন। তিনি তার সম্প্রদায়ের ইমাম ছিলেন। তিনি রাসূল স. কে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, অনেক সময় পথ অন্ধকার থাকে, বৃষ্টি হলে পানির প্রবাহ থাকে। আর আমি
একজন অন্ধ। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার ঘরের একটি জায়গায় নামায পড়ুন। এটাকে আমার নামাযের জায়গা বানাব। রাসূল স. তার বাড়ী আগমন করলেন এবং বললেন, আমি কোথায় নামায পড়লে তুমি খুশি হবে? তিনি ঘরের একটি জায়গা দেখালেন। রাসূল স. সেখানে নামায আদায় করলেন।
[বোখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৩৬]

হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:---

🛑কাজী ইয়াজ রহ. বলেন,

ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺎﻟﻔﻀﻼﺀ، ﻭﻣﺸﺎﻫﺪ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﺃﻫﻞ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﻣﻮﺍﻃﺌﻬﻢ، ﻭﻣﻮﺍﺿﻊ ﺻﻼﺗﻬﻢ، ﻭﺇﺟﺎﺑﺔ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻔﻀﻞ ﻟﻤﺎ ﺭﻏﺐ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ
” এই হাদীস থেকে বুজুর্গদের থেকে বরকত হাসিলের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এছাড়া নবী ও
ওলীগণের স্মরণীয় স্থান, তাদের হাটা-চলার জায়গা, তাদের নামাজের জায়গা থেকে বরকত হাসিল প্রমাণিত হয়। সেই সাথে এটাও প্রমাণিত হয় যে, বুজুর্গদের থেকে এভাবে কেউ বরকত লাভ করতে চাইলে তার আবেদনে সাড়া দেয়া উচিৎ।
“[ইকমালুল মু’লিম,কাজী ইয়াজ রহ. খ.২, পৃ.৩৫৩]

🛑ইমাম নববী রহ. বলেন,
ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺎﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻭﺁﺛﺎﺭﻫﻢ، ﻭﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺍﺿﻊﺍﻟﺘﻲ ﺻﻠﻮﺍ ﺑﻬﺎ، ﻭﻃﻠﺐ ﺍﻟﺘﺒﺮﻳﻚ ﻣﻨﻪ
অর্থ: এই হাদীস থেকে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হল, নেককার বুজুর্গদের মাধ্যমে বরকত লাভ। এবং বুজুর্গরা যেখানে নামায আদায় করেছেন সেখানে নামায আদায় করে বরকত অর্জন করা।
[শরহু সহীহি মুসলিম, খ.৫, পৃ.১৬১]

🛑কাজী শাওকানী নাইলুল আওতারে লিখেছেন,
“ﻭﻓﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻳﺸﺮﻉ ﻟﻤﻦ ﺩﻋﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻟﻠﺘﺒﺮﻙ ﺑﻪ ﺍﻹﺟﺎﺑﺔ، ﻭﺇﺟﺎﺑﺔ ﺍﻟﻔﺎﺿﻞ ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﻔﻀﻮﻝ، ﻭﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺪ
অর্থ: এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোন নেককার বুজুর্গ থেকে কেউ যদি বরকত হাসিল করতে চাই, তাহলে তার আবেদনে সাড়া দেয়া উচিৎ । এছাড়াও অনুত্তমের দাওয়াতে উত্তমের সাড়া প্রদানসহ আরও অনেক শিক্ষণীয় বিষয় এই হাদীসে রয়েছে।
[নাইলুল আওতার, খ.৩, পৃ.৯৫]

✅৬ষ্ঠ হাদীস:------হযরত আবু বকর রা. এর কন্যা আসমা এর নিকট রাসূল স. এর জুব্বা ছিল। রাসূল স. তিনি জুব্বাটি বের করে বলেন,
ﻭﻗﺎﻟﺖ: ﻫﺬﻩ ﺟﺒﺔ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﻨﺪ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻓﻠﻤﺎ ﻗﺒﻀﺖ ﻗﺒﻀﺘﻬﺎ، ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻠﺒﺴﻬﺎ، ﻓﻨﺤﻦ ﻧﻐﺴﻠﻬﺎ ﻟﻠﻤﺮﺿﻰ ﻧﺴﺘﺸﻔﻲ ﺑﻬﺎ
অর্থ: এটি রাসূল স. এর জুব্বা। এটি হযরত আয়েশা রা. এর কাছে ছিল। হযরত আয়েশার
যখন ইন্তেকাল হলে আমি এটি নিয়েছি। রাসূল স. জুব্বাটি পরতেন। আমরা এই জুব্বা ধৌত করে অসুস্থদেরকে পানি পান করায় যেন তারা এর দ্বারা আরোগ্য লাভ করে।
[মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২০৬৯]

🛑ইমাম যাহাবী সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে লিখেছেন,
ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ -ﺃﻱ ﺍﺑﻦ ﺣﻨﺒﻞ- ﺭﺃﻳﺖ ﺃﺑﻲ ﻳﺄﺧﺬ ﺷﻌﺮﺓ ﻣﻦ ﺷﻌﺮ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﻓﻴﻀﻌﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﺃﺣﺴﺐ
ﺃﻧﻲ ﺭﺃﻳﺘﻪ ﻳﻀﻌﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻋﻴﻨﻪ ﻭﻳﻐﻤﺴﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺎﺀ ﻭﻳﺸﺮﺑﻪ ﻳﺴﺘﺸﻔﻲ ﺑﻪ ﻭﺭﺃﻳﺘﻪ ﺃﺧﺬ ﻗﺼﻌﺔ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﻓﻐﻤﺴﻬﺎ ﻓﻲ ﺟﺐ ﺍﻟﻤﺎﺀ ﺛﻢ ﺷﺮﺏ ﻓﻴﻬﺎ
অর্থ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি রাসূল স. এর একটি চুল নিয়ে চুমু খাচ্ছিলেন। এছাড়াও তিনি রাসূল স. এর চুল তার চোখের উপর রাখতেন। রোগমুক্তির জন্য চুল পানিতে ডুবিয়ে পানি পান করতেন। আমি তাকে আরও দেখেছি, তিনি রাসূল স. এর ব্যবহৃত পাত্র পানিতে ডুবাতেন এবং সেই পানি পান করতেন।

এই বর্ণনার পর ইমাম যাহাবী নিজের মন্তব্য লিখেছেন,
ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ﻗﻠﺖ -ﺃﻱ ﺍﻟﺬﻫﺒﻲ :- ﺃﻳﻦ ﺍﻟﻤﺘﻨﻄﻊ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻋﻠﻰ ﺃﺣﻤﺪﻭﻗﺪ ﺛﺒﺖ ﺃﻥ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﺄﻝ ﺃﺑﺎﻩ ﻋﻤﻦ ﻳﻠﻤﺲ ﺭﻣﺎﻧﺔ ﻣﻨﺒﺮ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﻭﻳﻤﺲ ﺍﻟﺤﺠﺮﺓ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ، ﻓﻘﺎﻝ – ﺃﻱ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺣﻨﺒﻞ:- ﻻ ﺃﺭﻯ ﺑﺬﻟﻚ ﺑﺄﺳﺎ. ﺃﻋﺎﺫﻧﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺇﻳﺎﻛﻢ
ﻣﻦ ﺭﺃﻱ ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ
অর্থ: “ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সমালোচনাকারীরা এখন কোথায়..? অথচ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে প্রমাণিত যে, তার ছেলে আব্দুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেউ যদি বরকত হাসিলের জন্য রাসুল স. এর মেম্বার ও তার হুজরা স্পর্শ করে, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি? ইমাম আহমাদ বলেন, এতে আমি কোন অসুবিধা দেখি না। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে খারেজী ও বিদয়াতীদের মতাদর্শ থেকে হেফাজত করুন।
“[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ.১১, পৃ.২১২]

পরিশেষে তথাকথিত শিরক বিশারদদের নিকট এসকল হাদীস, হাদীসের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিখ্যাত
ইমামগণের উক্তি ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, এগুলো সব কি শিরক?

রাসূল স. এর সামনে কি সাহাবীগণ শিরক করেছেন? রাসূল স. এর ইন্তেকালের পরে তার ব্যবহৃত জিনিস থেকে বরকত হাসিল করে
সাহাবীরা কি শিরক করেছেন?

বরকত হাসিলকে যারা অস্বীকার করে তাদেরকে ইমাম যাহাবী রহ. খারেজী আখ্যা দিয়েছেন, এসম্পর্কে আপনাদের মতামত কী..?
আশা করি উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন।

Address

Bhairab Town

Telephone

+8801777999959

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shaikh Jubayer Ahmad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Shaikh Jubayer Ahmad:

Share