07/05/2022
তাবাররুক ➡️ বরকত হাসিল করা
লা-মাজহাবী ইমাম ও সালাফদের হাদিসের ব্যাখা ⬇️
তাবাররুক শব্দটি এসেছে বরকত থেকে। সুতরাং তাবাররুক মানে হল বরকত নেয়া।
বরকত কাকে বলে...?
জবাব-লিসানুল আরব প্রণেতা লিখেছেন,
البَرَكة: النَّماء وَالزِّيَادَةُ. والتَّبْريك: الدُّعَاءُ للإِنسان أَوْ غَيْرِهِ بِالْبَرَكَةِ
অনুবাদ- বরকত হল, বাড়ন্ত ও অতিরিক্ত হওয়া। আর তাবরীক হল, মানুষ বা অন্য কারো জন্য বরকতের দুআ করা। {লীসানুল আরব-১০/৪৭৭}
বরকত বিষয়ে আল্লামা রাগেব ইস্ফাহানী রহঃ মুফরাদাতুল কুরআনে লিখেছেন, কোন বস্তুতে বরকত থাকার মানে হল, এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও সৌভাগ্য রাখা হয়েছে। আর তাবাররুক হল সেই কল্যাণ ও সৌভাগ্য তালাশ করাকে বলা হয়।
এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাঃ থেকে রাসূল সাঃ এর ব্যবহৃত বস্তু দিয়ে বা ববুযুর্গদের হাটা-চলার জায়গা, তাদের নামাজের জায়গা থেকে বরকত হাসিল প্রমাণিত হয়। তাবাররুক হাসিল করার অসংখ্য বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।
বোখারী-মুসলিমের কিছু হাদীস ও তথাকথিত শিরক বিশারদদের নিকট কিছু প্রশ্ন হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মক্কার মুশরিকদের প্রতিনিধি ছিলেন উরউয়া ইবনে মাসউদ।
✅ ১নং হাদিসঃ তিনি মক্কায় ফিরে গিয়ে রাসূল স. এর সাহাবীদের সম্পর্কে মক্কার মুশরিকদেরকে বলেন,
ﺃﻱ ﻗﻮﻡ!!، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻟﻘﺪ ﻭﻓﺪﺕ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﻠﻮﻙ، ﻭﻭﻓﺪﺕ ﻋﻠﻰ ﻗﻴﺼﺮ ﻭﻛﺴﺮﻯ ﻭﺍﻟﻨﺠﺎﺷﻲ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺇﻥ ﺭﺃﻳﺖ ﻣﻠﻜﺎ ﻗﻂ ﻳُﻌﻈﻤﻪ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﻣﺎ ﻳﻌﻈﻢ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺤﻤﺪﺍ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺇﻥ ﺗﻨﺨﻢ ﻧﺨﺎﻣﺔ ﺇﻻ ﻭﻗﻌﺖ ﻓﻲ ﻛﻒ ﺭﺟﻞ ﻣﻨﻬﻢ ﻓﺪﻟﻚ ﺑﻬﺎ ﻭﺟﻬﻪ ﻭﺟﻠﺪﻩ، ﻭﺇﺫﺍ ﺃﻣﺮﻫﻢ ﺍﺑﺘﺪﺭﻭﺍ ﺃﻣﺮﻩ، ﻭﺇﺫﺍ ﺗﻮﺿﺄ ﻛﺎﺩﻭﺍ ﻳﻘﺘﺘﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻭﺿﻮﺋﻪ، ﻭﺇﺫﺍ ﺗﻜﻠﻢ ﺧﻔﻀﻮﺍ ﺃﺻﻮﺍﺗﻬﻢ ﻋﻨﺪﻩ، ﻭﻣﺎ ﻳﺤﺪﻭﻥ ﺇﻟﻴﻪ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﺗﻌﻈﻴﻤﺎ ﻟﻪ
অর্থ: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আল্লাহর শপথ, আমি বহু রাজা-বাদশার নিকট প্রতিনিধি হয়ে গমন করেছি। আমি কায়সার, কিসরা, ও নাজ্জাশীর নিকট প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছি। আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ স. এর সাহাবীরা তাকে যে পরিমাণ সম্মান করে, কোন রাজা-বাদশাকে
এধরনের সম্মান করতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ, তিনি যদি কফ ফেলেন, তাহলে সেটা তার কোন সাহাবীর হাতে পড়ে। আর সেই সাহাবী সেটি তার মুখে ও শরীরে মেখে নেয়। তিনি কোন আদেশ করলে সেটি পালনে তারা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি ওজু করলে তার ওজু পানি নেয়ার জন্য এত বেশি প্রতিযোগিতা করে যেন তারা যুদ্ধ করছে। রাসূল স. এর সামনে তারা অত্যন্ত নিচু স্বরে কথা বলে। তাঁর সম্মানে তারা চোখ তুলে তার দিকে তাকায় না। [বোখারী শরীফ, হাদীসনং ২৭৩৪]
হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
🛑১. ইমাম ইবনে হাজার রহ. বলেন,
ﻭﻓﻴﻪ ﻃﻬﺎﺭﺓ ﺍﻟﻨﺨﺎﻣﺔ ﻭﺍﻟﺸﻌﺮ ﺍﻟﻤﻨﻔﺼﻞ، ﻭﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﻔﻀﻼﺕ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﺓ
অর্থ: এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, মানুষের কফ ও কর্তিত চুল পবিত্র এবং নেককার বুজুর্গদের শরীরের পবিত্র জিনিস দ্বারা বরকত হাসিল করা যায়।
[ফাতহুল বারী, খ.৫,পৃ.৩৪১]
বোখারী শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার
🛑আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি রহ. বলেন,
ﻭﻣﻦ ﺍﻻﺳﺘﻨﺒﺎﻁ ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ، ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺒﺰﺍﻕ ﺍﻟﻨﺒﻲ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗﻮﻗﻴﺮﺍ ﻟﻪ ﻭﺗﻌﻈﻴﻤﺎ
অর্থ: এই হাদীস থেকে গবেষণালব্ধ শিক্ষণীয় বিষয় হল, রাসূল স. এর সম্মানে তার থুতু দ্বারা বরকত হাসিল করা ।[উমদাতুল কারী, খ.৩, পৃ.১৭৮]
✅২ য় হাদীস:-----হযরত আনাস ইবনে মালেক
রা. বর্ণনা করেন,
ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﺟﺎﺀ ﺧَﺪَﻡُ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﺑﺂﻧﻴﺘﻬﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺎﺀ، ﻓﻤﺎ ﻳﺆﺗﻰ ﺑﺈﻧﺎﺀ ﺇﻻ ﻏﻤﺲ ﻳﺪﻩ ﻓﻴﻬﺎ، ﻓﺮﺑﻤﺎ ﺟﺎﺀﻭﻩ ﻓﻲ ﺍﻟﻐﺪﺍﺓ ﺍﻟﺒﺎﺭﺩﺓ ﻓﻴﻐﻤﺲ ﻳﺪﻩ ﻓﻴﻬﺎ
অর্থ: রাসূল স. যখন ফজরের নামাজ শেষ করতেন, মদীনার খাদেমরা পানিভর্তি পাত্র নিয়ে উপস্থিত হত। রাসূল স. সকল পাত্রে নিজের হাত ডুবিয়ে নিতেন। এমনকি অনেক শীতের
সকালে পাত্র নিয়ে এলেও রাসূল স. হাত ডুবাতেন।
[ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩২৪, অধ্যায়, সাধারণ মানুষকে রাসূল স. এর নৈকট্য প্রদান এবং রাসূল স. এর থেকে তাদের বরকত হাসিল]
হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:এই হাদীসের ব্যাখ্যায়
🛑আল্লামা ইবনুল জাওযী রহ. বলেন,
ﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻄﻠﺒﻮﻥ ﺑﻬﺬﺍ ﺑﺮﻛﺘﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻭﻳﻨﺒﻐﻲ ﻟﻠﻌﺎﻟﻢ ﺇﺫﺍ ﻃﻠﺐ ﺍﻟﻌﻮﺍﻡ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻣﺜﻞ ﻫﺬﺍ ﺃﻻ ﻳﺨﻴﺐ ﻇﻨﻮﻧﻬﻢ
অর্থ: সাহাবীরা এভাবে রাসূল স. এর বরকত হাসিল করত। একইভাবে কোন আলেম থেকে সাধারণ মানুষ যদি বরকত হাসিল করতে চায়, তাহলে তাদেরকে সুযোগ দেয়া উচিৎ, যেন তাদের ধারণা নষ্ট না হয়।
[কাশফুল মুশকিল মিন হাদিসিস সহীহাইন, খ.৩, পৃ.৩১২]
মুসলিম শরীফের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থে
🛑ইমাম নববী রহ. বলেন,
ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺂﺛﺎﺭ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ، ﻭﺑﻴﺎﻥ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺂﺛﺎﺭﻩ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺗﺒﺮﻛﻬﻢ ﺑﺈﺩﺧﺎﻝ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻜﺮﻳﻤﺔ ﻓﻲ ﺍﻵﻧﻴﺔ
অর্থ: এই হাদীস থেকে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হল, নেককার বুজুর্গদের থেকে বরকত হাসিল।
সাহাবায়ে কেরাম রা. রাসূল স. এর থেকে কীভাবে বরকত হাসিল করতেন তার বর্ণনাও রয়েছে এই হাদীসে । অর্থাৎ বরকতের উদ্দেশ্যে রাসূল স. এর মোবারক হাত তাদের পাত্রে ঢোকাতেন।
[শরহু সহীহি মুসলিম, খ.১৫, পৃ.৮২]
✅৩ য় হাদীস:---;;হযরত আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন,
ﻟﻘﺪ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺍﻟﺤﻼﻕ ﻳﺤﻠﻘﻪ، ﻭﺃﻃﺎﻑ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﻓﻤﺎ ﻳُﺮﻳﺪﻭﻥ ﺃﻥ ﺗﻘﻊ ﺷﻌﺮﺓ ﺇﻻ ﻓﻲ ﻳﺪ ﺭﺟﻞ
অর্থ: আমি রাসূল স. এর মাথার চুল হলক করতে দেখেছি। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল স. এর চার পাশে চক্কর দিতেন। রাসূল স. এর মাথা থেকে কোন চুল পড়লে যেন কোন সাহাবীর হাতে পড়ে।
[মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩২৫]
হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়: ---
🛑 ইমাম নববী, ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম বদরুদ্দিন আইনি রহ. বলেন, ” এই হাদীস থেকে রাসূল স. এর চুলের মাধ্যমে বরকত হাসিল প্রমাণিত হয়”
[ শরহু সহীহি মুসলিম, খ.৯, পৃ.৫৪, ফাতহুল বারী, খ.১, পৃ.২৭৫, উমদাতুল কারী, খ.৩, পৃ. ৩৮]
🛑 আহলে হাদীস-সালাফীদের অনুসরণীয় আলেম ইমাম শাওকানী, আব্দুর রহমান মুবারকপুরী ও শামসুল হক আজীমাবাদী বলেন, ” এই হাদিস থেকে বুজুর্গদের চুল ও অন্যান্য জিনিস দ্বারা বরকত হাসিলের বৈধতা প্রমাণিত হয়”
[নাইলুল আওতার, খ.৫, পৃ.১২৮,তুহফাতুল আহওয়াজী, খ.৩, পৃ.৫৬, আউনুল মা’বুদ, খ.৫, পৃ.৩১৭]
✅৪ র্থ হাদীস:-----হযরত আনাস ইবনে মালিক রা.বলেন,
ﻗﺎﻝ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻨﺪﻧﺎ ﻓﻌﺮﻕ ﻭﺟﺎﺀﺕ ﺃﻣﻲ ﺑﻘﺎﺭﻭﺭﺓ ﻓﺠﻌﻠﺖ ﺗﺴﻠﺖ ﺍﻟﻌﺮﻕ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﺎﺳﺘﻴﻘﻆ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺃﻡ ﺳﻠﻴﻢ ﻣﺎ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺬﻱ ﺗﺼﻨﻌﻴﻦ ﻗﺎﻟﺖ ﻫﺬﺍ ﻋﺮﻗﻚ
ﻧﺠﻌﻠﻪ ﻓﻲ ﻃﻴﺒﻨﺎ ﻭﻫﻮ ﻣﻦ ﺃﻃﻴﺐ ﺍﻟﻄﻴﺐ
অর্থ: রাসূল স. আমাদের বাড়ীতে আগমন করেন এবং বিশ্রামের উদ্দেশ্যে শয়ন করেন। রাসূল স. ঘেমে যাচ্ছিলেন। আমার মা একটি বোতল নিয়ে এলেন এবং রাসূল স. এর শরীর থেকে ঘাম মুছে সেই বোতলে ভরছিলেন। রাসূল স. জেগে উঠলেন এবং বললেন, হে উম্মে সুলাইম, তুমি এটি কী করো? তিনি বললেন, এটি আপনার ঘাম। আমরা একে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করি। কেননা এটি সর্বোত্তম সুগন্ধি।
[মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩৩১]
মুসলিম শরীফের অপর বর্ণনায় রয়েছে,
ﻣﺎ ﺗﺼﻨﻌﻴﻦ ﻳﺎ ﺃﻡ ﺳﻠﻴﻢ ﻓﻘﺎﻟﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﺮﺟﻮ ﺑﺮﻛﺘﻪ ﻟﺼﺒﻴﺎﻧﻨﺎ ﻗﺎﻝ ﺃﺻﺒﺖ
অর্থ: হে উম্মে সুলাইম, তুমি কী করছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের শিশুদের
জন্য এর থেকে বরকত হাসিল করতে চাই। রাসূল স. বললেন, তুমি ঠিক করেছ। এছাড়াও সাহাবায়ে কেরাম রাসূল স. এর পরিহিত পোশাক দ্বারা বরকত হাসিল করতেন।
এ সংক্রান্ত বর্ণনার জন্য দেখুন, বোখারী শরীফের ৫৬৮৯ নং হাদীস।
✅৫ম হাদীস:-----হযরত মাহমুদ ইবনে রবী আল-আনসারী বর্ণনা করেন,
ﺃﻥ ﻋﺘﺒﺎﻥ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻛﺎﻥ ﻳﺆﻡ ﻗﻮﻣﻪ ﻭﻫﻮ ﺃﻋﻤﻰ، ﻭﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻧﻬﺎ ﺗﻜﻮﻥ ﺍﻟﻈﻠﻤﺔ ﻭﺍﻟﺴﻴﻞ ﻭﺃﻧﺎ ﺭﺟﻞ ﺿﺮﻳﺮ، ﻓﺼﻞ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻲ ﻣﻜﺎﻧﺎ ﺃﺗﺨﺬﻩ ﻣﺼﻠﻰ، ﻓﺠﺎﺀﻩ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ” :ﺃﻳﻦ ﺗﺤﺐ ﺃﻥ
ﺃﺻﻠﻲ؟” ﻓﺄﺷﺎﺭ ﺇﻟﻰ ﻣﻜﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻴﺖ، ﻓﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
অর্থ: হযরত ইতবান বিন মালিক রা. একজন অন্ধ সাহাবী ছিলেন। তিনি তার সম্প্রদায়ের ইমাম ছিলেন। তিনি রাসূল স. কে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, অনেক সময় পথ অন্ধকার থাকে, বৃষ্টি হলে পানির প্রবাহ থাকে। আর আমি
একজন অন্ধ। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার ঘরের একটি জায়গায় নামায পড়ুন। এটাকে আমার নামাযের জায়গা বানাব। রাসূল স. তার বাড়ী আগমন করলেন এবং বললেন, আমি কোথায় নামায পড়লে তুমি খুশি হবে? তিনি ঘরের একটি জায়গা দেখালেন। রাসূল স. সেখানে নামায আদায় করলেন।
[বোখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৩৬]
হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:---
🛑কাজী ইয়াজ রহ. বলেন,
ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺎﻟﻔﻀﻼﺀ، ﻭﻣﺸﺎﻫﺪ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﺃﻫﻞ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﻣﻮﺍﻃﺌﻬﻢ، ﻭﻣﻮﺍﺿﻊ ﺻﻼﺗﻬﻢ، ﻭﺇﺟﺎﺑﺔ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻔﻀﻞ ﻟﻤﺎ ﺭﻏﺐ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ
” এই হাদীস থেকে বুজুর্গদের থেকে বরকত হাসিলের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এছাড়া নবী ও
ওলীগণের স্মরণীয় স্থান, তাদের হাটা-চলার জায়গা, তাদের নামাজের জায়গা থেকে বরকত হাসিল প্রমাণিত হয়। সেই সাথে এটাও প্রমাণিত হয় যে, বুজুর্গদের থেকে এভাবে কেউ বরকত লাভ করতে চাইলে তার আবেদনে সাড়া দেয়া উচিৎ।
“[ইকমালুল মু’লিম,কাজী ইয়াজ রহ. খ.২, পৃ.৩৫৩]
🛑ইমাম নববী রহ. বলেন,
ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻟﺘﺒﺮﻙ ﺑﺎﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻭﺁﺛﺎﺭﻫﻢ، ﻭﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺍﺿﻊﺍﻟﺘﻲ ﺻﻠﻮﺍ ﺑﻬﺎ، ﻭﻃﻠﺐ ﺍﻟﺘﺒﺮﻳﻚ ﻣﻨﻪ
অর্থ: এই হাদীস থেকে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হল, নেককার বুজুর্গদের মাধ্যমে বরকত লাভ। এবং বুজুর্গরা যেখানে নামায আদায় করেছেন সেখানে নামায আদায় করে বরকত অর্জন করা।
[শরহু সহীহি মুসলিম, খ.৫, পৃ.১৬১]
🛑কাজী শাওকানী নাইলুল আওতারে লিখেছেন,
“ﻭﻓﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻳﺸﺮﻉ ﻟﻤﻦ ﺩﻋﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻟﻠﺘﺒﺮﻙ ﺑﻪ ﺍﻹﺟﺎﺑﺔ، ﻭﺇﺟﺎﺑﺔ ﺍﻟﻔﺎﺿﻞ ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﻔﻀﻮﻝ، ﻭﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺪ
অর্থ: এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোন নেককার বুজুর্গ থেকে কেউ যদি বরকত হাসিল করতে চাই, তাহলে তার আবেদনে সাড়া দেয়া উচিৎ । এছাড়াও অনুত্তমের দাওয়াতে উত্তমের সাড়া প্রদানসহ আরও অনেক শিক্ষণীয় বিষয় এই হাদীসে রয়েছে।
[নাইলুল আওতার, খ.৩, পৃ.৯৫]
✅৬ষ্ঠ হাদীস:------হযরত আবু বকর রা. এর কন্যা আসমা এর নিকট রাসূল স. এর জুব্বা ছিল। রাসূল স. তিনি জুব্বাটি বের করে বলেন,
ﻭﻗﺎﻟﺖ: ﻫﺬﻩ ﺟﺒﺔ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﻨﺪ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻓﻠﻤﺎ ﻗﺒﻀﺖ ﻗﺒﻀﺘﻬﺎ، ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻠﺒﺴﻬﺎ، ﻓﻨﺤﻦ ﻧﻐﺴﻠﻬﺎ ﻟﻠﻤﺮﺿﻰ ﻧﺴﺘﺸﻔﻲ ﺑﻬﺎ
অর্থ: এটি রাসূল স. এর জুব্বা। এটি হযরত আয়েশা রা. এর কাছে ছিল। হযরত আয়েশার
যখন ইন্তেকাল হলে আমি এটি নিয়েছি। রাসূল স. জুব্বাটি পরতেন। আমরা এই জুব্বা ধৌত করে অসুস্থদেরকে পানি পান করায় যেন তারা এর দ্বারা আরোগ্য লাভ করে।
[মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২০৬৯]
🛑ইমাম যাহাবী সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে লিখেছেন,
ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ -ﺃﻱ ﺍﺑﻦ ﺣﻨﺒﻞ- ﺭﺃﻳﺖ ﺃﺑﻲ ﻳﺄﺧﺬ ﺷﻌﺮﺓ ﻣﻦ ﺷﻌﺮ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﻓﻴﻀﻌﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﻳﻘﺒﻠﻬﺎ ﻭﺃﺣﺴﺐ
ﺃﻧﻲ ﺭﺃﻳﺘﻪ ﻳﻀﻌﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻋﻴﻨﻪ ﻭﻳﻐﻤﺴﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺎﺀ ﻭﻳﺸﺮﺑﻪ ﻳﺴﺘﺸﻔﻲ ﺑﻪ ﻭﺭﺃﻳﺘﻪ ﺃﺧﺬ ﻗﺼﻌﺔ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﻓﻐﻤﺴﻬﺎ ﻓﻲ ﺟﺐ ﺍﻟﻤﺎﺀ ﺛﻢ ﺷﺮﺏ ﻓﻴﻬﺎ
অর্থ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি রাসূল স. এর একটি চুল নিয়ে চুমু খাচ্ছিলেন। এছাড়াও তিনি রাসূল স. এর চুল তার চোখের উপর রাখতেন। রোগমুক্তির জন্য চুল পানিতে ডুবিয়ে পানি পান করতেন। আমি তাকে আরও দেখেছি, তিনি রাসূল স. এর ব্যবহৃত পাত্র পানিতে ডুবাতেন এবং সেই পানি পান করতেন।
এই বর্ণনার পর ইমাম যাহাবী নিজের মন্তব্য লিখেছেন,
ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ﻗﻠﺖ -ﺃﻱ ﺍﻟﺬﻫﺒﻲ :- ﺃﻳﻦ ﺍﻟﻤﺘﻨﻄﻊ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻋﻠﻰ ﺃﺣﻤﺪﻭﻗﺪ ﺛﺒﺖ ﺃﻥ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﺄﻝ ﺃﺑﺎﻩ ﻋﻤﻦ ﻳﻠﻤﺲ ﺭﻣﺎﻧﺔ ﻣﻨﺒﺮ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﻭﻳﻤﺲ ﺍﻟﺤﺠﺮﺓ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ، ﻓﻘﺎﻝ – ﺃﻱ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺣﻨﺒﻞ:- ﻻ ﺃﺭﻯ ﺑﺬﻟﻚ ﺑﺄﺳﺎ. ﺃﻋﺎﺫﻧﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺇﻳﺎﻛﻢ
ﻣﻦ ﺭﺃﻱ ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ
অর্থ: “ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সমালোচনাকারীরা এখন কোথায়..? অথচ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে প্রমাণিত যে, তার ছেলে আব্দুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেউ যদি বরকত হাসিলের জন্য রাসুল স. এর মেম্বার ও তার হুজরা স্পর্শ করে, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি? ইমাম আহমাদ বলেন, এতে আমি কোন অসুবিধা দেখি না। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে খারেজী ও বিদয়াতীদের মতাদর্শ থেকে হেফাজত করুন।
“[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ.১১, পৃ.২১২]
পরিশেষে তথাকথিত শিরক বিশারদদের নিকট এসকল হাদীস, হাদীসের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিখ্যাত
ইমামগণের উক্তি ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, এগুলো সব কি শিরক?
রাসূল স. এর সামনে কি সাহাবীগণ শিরক করেছেন? রাসূল স. এর ইন্তেকালের পরে তার ব্যবহৃত জিনিস থেকে বরকত হাসিল করে
সাহাবীরা কি শিরক করেছেন?
বরকত হাসিলকে যারা অস্বীকার করে তাদেরকে ইমাম যাহাবী রহ. খারেজী আখ্যা দিয়েছেন, এসম্পর্কে আপনাদের মতামত কী..?
আশা করি উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন।