13/10/2021
শুরু করছি পরম করুনাময় ও অশেষ দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইসলাম ও হিন্দুধর্ম এবং ঈশ্বর ও মূর্তিপূজা!
—————————————————————
প্রত্যেক ধর্মের মূল ভিত্তি হলো সে ধর্মের গ্রন্থ। যেমনঃ যারা পবিত্র কোরআনকে জীবন পরিচালনার নির্দেশনা হিসেবে মানে তারা মুসলিম এবং যারা সনাতনধর্ম গ্রন্থ মেনে চলে তারা সনাতন ধর্মাবলম্বী। অতএব, আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন আপনাকে সে ধর্মের গ্রন্থগুলো মেনে চলতে হয়।
দুনিয়াতে একমাত্র ধর্ম ইসলাম, যাতে আহবান করা হয়েছে সকল মানুষকে পরষ্পর সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এবং মৌলিক সত্যকে মেনে নিয়ে একতা বজায় রাখার জন্য। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
❝বলুন, হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আসো যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সাদৃশ্য যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না।❞
সুরা আল-ইমরান (৩ঃ৬৪)
প্রথম কথা হচ্ছে আহলে কিতাব কারা? পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে যারা পূর্বের বিকৃত কিতাব মেনে চলে তারাই হচ্ছে আহলে কিতাব। আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত। তিনি জানেন সব ধর্মগ্রন্থে কিছু সাদৃশ্য বিষয় আছে, যা কিনা ধর্ম ও সত্য বিশ্বাসের মূল বিষয়। এই আয়াতে আল্লাহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যে বিষয় Common বা সাদৃশ্য সে বিষয়গুলো মেনে নিতে বলেছেন। এই আয়াত থেকে যে কমন বিষয়গুলো পাই, সেগুলো হচ্ছেঃ—
১. একমাত্র আল্লাহ যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি ব্যতিত অন্য কারো উপাসনা না করা।
২. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করা।
3. পালনকর্তা হিসেবে একমাত্র আল্লাহকে মেনে নেওয়া।
কথাগুলো অবাক লাগলেও সত্য যে অন্যান্য ধর্মের পাশাপাশি হিন্দুধর্মেও এই বিষয়গুলোসহ অনেককিছু রয়েছে যা ইসলাম ধর্মের সাথে সাদৃশ্য। অতি দুঃখের বিষয়, হিন্দুদের কাছে এই চিরন্তন সত্যগুলো অজানা, যদিও তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোতেই উল্লেখ রয়েছে। যেমন হিন্দুধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে বেদ। বেদের ব্রহ্মা সুত্রে উল্লেখ আছে যে,
❝একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চণ।❞ অর্থাৎ ঈশ্বর এক, তার মত কেউ নেই! কেউই নেই! সামান্যও নেই। তাছাড়াও ঋগবেদে (২:৪৫:১৬) উল্লেখ আছে "ঈশ্বর এক, তার উপাসনা করো।" বেদের এই স্লোক জোড়ালোভাবে প্রমাণ করে হিন্দুদেরগ্রন্থেও ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা একক এবং একমাত্র তারই উপাসনা করতে হবে। যা মুসলিমদের বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়।
এবার প্রশ্ন হচ্ছে ঈশ্বরের উপাসনার জন্য কোনো মূর্তি আছে কিনা বা ঈশ্বরের কোনো মূর্তি আছে কিনা? উত্তর দিচ্ছে হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ, উল্লেখ করা হয়েছে যে, ❝না তাস্তে প্রাতিমা আস্থি।❞
অর্থাৎ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কোনো প্রতিমা, মূর্তি বা ছবি নেই।
যজুর্বেদ অনুচ্ছেদ: ৩২, শ্লোক: ৩।
এরপর আবার প্রশ্ন; তাহলে মূর্তিপূজা কি হিন্দুধর্ম গ্রন্থ অনুযায়ী সমর্থিত নয়? আবার উত্তর দিচ্ছে হিন্দুধর্ম গ্রন্থ ভগবত গীতা, উল্লেখ আছে যে, "যারা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি হারিয়েছে তারাই মূর্তিপূজা করে।"
-ভগবত গীতা অধ্যায়: ৭ অনুচ্ছেদ: ২০।
অর্থাৎ যারা ঈশ্বর সম্পর্কে অজ্ঞ বা বিবেকহীন তারা মূর্তিপূজায় লিপ্ত থাকে।
পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ মূর্তিপূজাকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন। যেমনঃ
আল্লাহ বলেন,
❝নিশ্চয়ই মদ ও জুয়া আর প্রতিমা-মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারক তীর সমূহ অপবিত্র শয়তানের কাজ, তাই তোমরা তা পরিহার কর যেন তোমরা সফলকাম হতে পার।❞
-সূরা মায়িদা, আয়াত ৯০
আল্লাহ আরো বলেন,
❝তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাকো এবং মিথ্যা কথা পরিহার করো।❞
-সূরা হাজ্জ, আয়াত ৩০
উপরিউক্ত আয়াত ও শ্লোকসমূহ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, ঈশ্বর (আল্লাহ) একক এবং তার কোনো শরিক নেই, নেই তার কোনো প্রতিমা-প্রতিমুর্তি বা ছবি। একমাত্র তারই উপাসনা করতে হবে এবং মূর্তিপূজা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।
শেয়ার প্লিজ!