08/04/2024
✍️ ফিতরা নিয়ে ফিতনা কেন?
ফোনটা ধরতেই উত্তেজিত কণ্ঠ শোনা গেল ‘আপনারা নবীর কথা মানেন না তাহলে আপনারা কিসের উম্মতে মুহাম্মদী?
- কিভাবে?
- নবীজী বললেন খাদ্যশস্য দিয়ে সদকাতুল ফিতির দাও, আর আপনারা বলেন টাকা দিয়ে দিতে।
- নবীজী কি দিয়ে সদকা দিতে বলেছেন?
- প্রতিটি এলাকার প্রধান খাদ্যশস্য দিয়ে।
- কোন হাদীসে আছে যে, প্রধান খাদ্যশস্য দিয়ে সদকা দিতে হবে?
- গম, যব, কিশমিস, পনির ও খেজুর দিয়ে সদকা দিতে হাদীসে বলা হয়েছে।
- তো?
- সে সময় আরবের প্রধান খাদ্য যা তা সদকা দিতে বলা হয়েছে। সুতরাং আমরাও আমাদের দেশের অনুপাতে প্রধান খাদ্যশস্য সদকা দিবো।
- আপনি যা মনে চায় তা দিয়ে সদকা দেন। এতে কার কী? কিন্তু নবীর নামে মিথ্যা বলেন কেন?
- কিভাবে?
- পনির, কিসমিস আরবের প্রধান খাদ্যদ্রব্য ছিল? এমন আজগুবী কথা আপনি কোথায় পেলেন?
- জি মানে…..।
- শায়েখদের শিখানো বুলি তোতাপাখির মতো আউড়ানো ছাড়া আর কিছুতো শিখেননি। আপনি কি পনির, কিসমিস দিয়ে সদকা দেবার কথা বলেন?
- না, আমাদের কথা হলো, বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যদ্রব্য চাউল দিয়ে সদকা দিতে হবে।
- নবীজী কোন হাদীসে চাউলের কথা বলেছেন?
- না বলেননি, তবে তিনিতো খাদ্য এর কথা বলেছেন। চাউল যেহেতু একটি খাদ্যদ্রব্য। তাই এটা দিয়েই দিতে হবে।
- নবীজী খাদ্যদ্রব্য বলেছেন কথা ঠিক। কিন্তু তিনিতো সেই খাদ্রদ্রব্যগুলোর নামও বলে দিয়েছেন। সেগুলো হলো, গম, যব, পনির, খেজুর, কিসমিস। এভাবে নির্ধারিত খাদ্য বলার পরও অন্য খাদ্য বাড়ানোর ক্ষমতা আপনাদের কে দিয়েছে?
দ্বিতীয় কথা হলো, চাউল আপনি কি হিসাব করে দিবেন? কিসমিস হিসেবে, না পনির হিসেবে? নাকি খেজুর হিসেবে? নাকি যব ও গম হিসেবে?
- গম ও যব হিসেবে।
- কেন? পনির ও কিসমিস কি দোষ করলো? আপনাদের এভাবে গম ও যবের উপর কিয়াস করে চাউল নির্ধারণ করা হাদীস সম্মত হলে নবীজীর বলা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা কেন হাদীস সম্মত নয়?
- বুঝি নাই।
- বুঝার কথাও না। শায়েখদের কাছে মস্তিস্ক বর্গা দিলে মাথার ঘিলু কম থাকারই কথা। আপনাদের শায়েখরা বেশ কিছু হাস্যকর কাজ করে সাদকাতুল ফিতির টাকা দিয়ে নিষেধ প্রমাণ করতে। যেমন-
১ প্রধান খাদ্য দিয়ে সদকা দিতে হবে। এটা সুস্পষ্ট নবীজীর নামে মিথ্যাচার। এমন কথা হাদীসে আসেনি। এটি শায়েখদের মনগড়া একটি কথা।
২ চাউল দিয়ে দেয়ার কথা হাদীসে আসেনি। চাউলকে গম ও যবের উপর কিয়াস করে নির্ধারণ করা হাদীস সম্মত দাবী করে, গম ও যবের মূল্য প্রদানকে নাজায়েজ বলা মূর্খতা এবং দ্বিচারিতাও বটে।
শায়েখদের কিয়াস সহীহ হাদীসের উপর আমল আর ফুক্বাহায়ে কেরামের কিয়াস হাদীস বিরোধী এটা মাদায়েনী দ্বিচারিতা ছাড়া আর কী?
- আমরা কি নবীর হাদীস মানবো না? নবীর হাদীস থাকতে কিয়াস করা দরকার কী?
- কথা ঠিক। শায়েখদের বলেন। নবীর হাদীসে পরিস্কার খাদ্যপণ্যের নাম, গম, যব, পনির, খেজুর এবং কিসমিসের কথা উল্লেখ থাকার পরও বিদআতি তরীকায় কিয়াস করে চাউল দিয়ে সদকা আদায়ের কথা কেন বলে? নবীর হাদীসের প্রকৃত মর্ম সাহাবায়ে কেরাম বুঝতেন।
- সাহাবী থেকে টাকা দিয়ে আদায়ের কথা আছে?
- অবশ্যই আছে। যেমন
حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يَقُولُ: «أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدَّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطَّعَامِ
তাবেয়ী ইমাম আবু ইসহাক রহঃ বলেন, আমি সাহাবায়ে কেরাম রাঃ কে পেয়েছি যে, তারা রমজানের সদকায়ে ফিতির খাদ্যের মূল্য দ্বারা পরিশোধ করতেন। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৬/৫০৮, বর্ণনা নং-১০৪৭২, ১০৩৭১]
এছাড়া ইমাম বুখারী রহঃ টাকা দিয়ে সদকাতুল ফিতির আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।
قَالَ بن رَشِيدٍ وَافَقَ الْبُخَارِيُّ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ الْحَنَفِيَّةَ
ইবনে রশীদ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ এ মাসআলায় [টাকা দিয়ে সদকায়ে ফিতির আদায় করা] হানাফীদের সাথে সহমত পোষণ করেছেন। [ফাতহুল বারী-৩/৪৯৭]
সুতরাং এ মাসআলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা লা মাযহাবীদের হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক।
- অনেক কিছু পরিস্কার হলো। জাযাকাল্লাহু খাইরান।