17/03/2026
শ্রীগুরু জয়🙏
নিম্নের এই লীলা কাহিনীটি শ্রীগুরু সঙ্ঘাশ্রিত সকলকে পড়ার অনুরোধ জানাই🙏 এই লীলা কাহিনীটুকু পড়লে বুঝতে পারবেন আপনি কোন গুরুর আশ্রয় লাভ করেছেন।
"গুরু নারায়ণ এই নিবেদন
থাকে যেন মন তব শ্রীচরণে "।🙏
একবার মহালয়ার কয়েকদিন আগের কথা। শ্রীশ্রীগুরুদেব পলাশী আশ্রমের বার্ষিক মহাষ্টমী মহাযজ্ঞ ও দুর্গাপূজার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদির জন্য তখনও টালীগঞ্জ আশ্রমেই আছেন-সেখান থেকে পলাশী আসার আয়োজনও চলছে। বিকাল- বেলা পিতৃপক্ষে তর্পনাদি, পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধকর্ম ও গয়ায় পিন্ডদান ইত্যাদি প্রসঙ্গ আলোচনা হচ্ছে। স্বর্গত বেণীদা (৺বেণীমাধব মুখোপাধ্যায় নিজে 'মুখোপাধ্যায়ের পরিবর্তে 'দাস' উপাধি ব্যবহার করতেন) গদগদ ভাবে প্রশ্ন করলেন- "বাবা, গয়ায় গিয়ে পিতৃ-পুরুষের পিন্ডদান করার মত সামর্থ্য যেসব দীন দুঃখী ব্যক্তির নাই, তাদের গতি কী হবে?” শ্রীশ্রীগুরুদেব উত্তর দিলেন- "সকলের গতির কর্তাই শ্রীভগবান্ -অগতিরও তিনিই গতি, তবে আমাদের শাস্ত্রের ব্যবস্থা বড় সুন্দর। শ্রাদ্ধের মন্ত্রই হল আসল আর সেই মন্ত্রে আছে-পিন্ডদানের পূর্বে শ্রাদ্ধকর্তা জিজ্ঞাসা করবেন - শেষমন্নং ক দেয়ম্ ? প্রতিবচন হল ইন্টায় দীয়তাম্। কাজেই শ্রীগদাধর পাদপম্মে পিন্ডদান ও ইষ্টচিন্তা করে করাই কর্তব্য। সমর্থ- অসমর্থ সকলের পক্ষেই তো এই বিধি।"
বেনীদার চোখ দুটী উজ্জল হয়ে উঠল-গয়াধামে শ্রীবিষ্ণুপদে তিনি পিতামাতার পিন্ডদান করতে পারেন নি বলে গভীর মর্ম-বেদনায় ভিতরে ভিতরে গুমরে উঠছিলেন, শ্রীশ্রীগুরুদেবকে অনেকবার বলি বলি করেও কথাটা তিনি বলে উঠতে পারেন নি। করুণাময় ঠাকুর আজ স্বতঃফর্তভাবে কৃপা করে তাঁর এক জটিল প্রশ্নের সমাধান করে দিলেন। মহালয়ার পুর্বেই শ্রীশ্রীগুরুদেব পলাশী চলে আসবেন। তাই বেনীদা আর অপেক্ষা না করে পরদিন ভোরবেলায় তর্পনাদি সেরে গয়ায় পিন্ডদানের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রী যবের ছাতু ইত্যাদি দিয়ে একটী মালসা ভর্তি পিন্ড তৈরী করে আশ্রমে এসে হাজির। অপেক্ষা করতে লাগলেন শ্রীশ্রীগুরুদেব প্রাতঃসন্ধ্যা বন্দনাদি ও পূজার্চনা সেরে কখন বাইরে আসেন।
পূজান্তে শ্রীশ্রীগুরুদেব ঠাকুরঘরের সামনে এসে যথারীতি বসলেন। বেনীদা প্রথমে পুষ্পাদি দ্বারা শ্রীশ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণ অর্চনা করলেন। চোখে তাঁর দরবিগলিত ধারা (প্রায় প্রতিনিয়ত তার এই প্রেমাশ্রু নির্গত হত বলে শ্রীশ্রীগুরুদেব আদর করে বেনীদার নাম দিয়েছিলেন 'নরোত্তম' অর্থাং নরোত্তম ঠাকুর)। তারপর সেই মালসা ভর্তি যবের ছাতুর পিণ্ড একটী একটী করে শ্রীশ্রীগুরুদেবের শ্রীপাদপদ্মে দান করলেন বেনীদা তাঁর পিতৃপুরুষগণের মুক্তির জন্য। শ্রীশ্রীগুরুদেব নির্বিকার-নির্বাক, নিষ্পন্দ, অপলক-নেত্র। অথচ তিনি সমাধিস্থ না মানবীর ভাবাধিষ্ঠিত, তাও বোঝা গেল না অর্থাৎ তখন সেখানে উপস্থিত কেউ বুঝতে পারেন নি। পিন্ডদান শেষে বেনীদা শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করলেন- "বাবা, এবারে বলুন, আমার পিন্ডদান কর্ম সম্পন্ন হল কিনা।" শ্রীশ্রীগুরুদেব ভাব-গম্ভীর স্বরে উত্তর দিলেন- "সুসম্পন্নম্ সুসম্পন্নম্ সুসম্পন্নম্। বেনী, তোমার মত ভক্তের পক্ষেই এ কাজ সাজে। তোমার পিতৃগণের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান সার্থক হয়েছে।" আত্মসংবরণ করতে না পেরে বেনীদা শ্রীগুরু চরণে লুটিয়ে পড়লেন। সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী হয়েও শ্রীশ্রীগুরুদেব মমতার মুর্ত' প্রতীক- জীবসেবা অঙ্গীকার ক'রে পরম করুণাময় ঠাকুর তাঁর স্নেহ-করুণা-মমতার প্রস্রবণ বইয়ে দিয়েছেন শিষ্য-ভক্ত নির্বিশেষে সকলের প্রতি। আশ্রমবাসিগণকে যেন তিনি একেবারে কোলে করে রেখেছেন-প্রতি মহুর্তে' তাঁদের সুখদুঃখ, সুবিধা অসুবিধার দিকে তীক্ষ্ম লক্ষ্য রাখতেন। আশ্রমবাসী কারও কোন অসুখবিসুখ হলে তিনি যেন আর স্থির থাকতে পারতেন না-সঙ্গে সঙ্গে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করাতেন, নিজেও তাঁর দৈব ওষুধপত্র প্রয়োগ করতেন।
গুরু কৃপাহি কেবলম্ 🙏
ঠাকুর তোমার চরণ ছাড়া করো নাহে🙏
তথ্য সংগ্রহে : বিপ্লব কর্মকার, গুরুভ্রাতা সোনাউঠা।