25/08/2026
যারা নানা রকম কুযুক্তি, শব্দের কারসাজি, মনগড়া ব্যাখ্যার মাধ্যমে বাদ্যযন্ত্রকে জায়েজ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, এবং ইসলামী লেবাস ধারণ করে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে গান পরিবেশন করেন– তাদের অবস্থার কথা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। অথচ এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১৪০০ বছর আগেই সতর্ক করে গেছেন। তিঁনি (ﷺ) বলেছেন,
“আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে।” (সহীহ বুখারী : ৫৫৯০)
দ্বীনের বিধান আমাদের পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। শরীয়তে যা হারাম করা হয়েছে, তা হারামই থাকবে– মানুষ সেটাকে যত কুযুক্তি ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করুক না কেন।
মানুষ যুক্তি সাজাতে পারে, শব্দের ব্যাখ্যা পাল্টাতে পারে, নিজের প্রবৃত্তির পক্ষে অসংখ্য উদাহরণ দাঁড় করাতে পারে– কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) যে বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা হারাম করেছেন; তা একজন মুসলিমকে কোনোরূপ দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই মেনে নিতে হবে এবং তা থেকে বিরত থাকতে হবে। এটাই হলো ঈমান।
হারামকে হারাম মানতে কষ্ট হওয়া, কিংবা নিজের পছন্দের কোনো বিষয়কে জায়েজ প্রমাণ করার জন্য যুক্তি খোঁজা– একজন মুসলমানের ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট। শরীয়ত কখনো আমাদের পছন্দের ওপর নির্ভর করে না; বরং আমাদের পছন্দকেই শরীয়ত তথা আল্লাহর বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। একজন মুসলিমের কাজ নিজের প্রবৃত্তিকে সন্তুষ্ট করা নয়; বরং সত্যের সামনে নিজের প্রবৃত্তিকে নত করা।
যারা নিজেদের প্রবৃত্তিকে খুশির করার জন্য, শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করছেন এবং বাধ্যযন্ত্রকে জায়েজ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। আপনারা নিজেদেরই ক্ষতি করছেন। শ*য়তানের ধোঁকায় পড়ে নিজেদের ঈমানের ক্ষতি করবেন না। শ*য়তানের কাজই এমন, শ*য়তান মানুষকে যখন পথভ্রষ্ট করতে চায়, তখন সে মানুষের মধ্যে এমন কু*ফরি চিন্তাভাবনা জাগিয়ে দেয়। তাই এখনো সময় আছে, নিজেদের সংশোধন করুন।
সবশেষে বলবো, আপনারা যতই কুযুক্তি ও মনগড়া ব্যাখ্যা দেন না কেন– বাধ্যযন্ত্র হারাম ছিল এবং কে*য়ামত পর্যন্ত তা হারামই থাকবে। ফুলস্টপ!
লেখা : মাহমুদুল হাছান