শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির

শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির সনাতন ধর্ম প্রাচীন ধর্ম যা কর্তব্যের দিকে নির্দেশ করে, যেমন সততা, অহিংসা, পবিত্রতা, সদিচ্ছা, দয়া, ধৈর্য, সহনশীলতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, উদারতা, এবং তপস্যা।

শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনপশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীশুভেন্দু অধিকারী
04/05/2026

শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী
শুভেন্দু অধিকারী

শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা
15/04/2026

শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা

বঙ্গজননী সুদেষ্ণার কথাবঙ্গ বা বাঙালি জাতির উৎপত্তি এবং প্রাচীনতা নিয়ে বর্তমানে অনেক অপব্যাখ্যা দেখা যায়। একশ্রেণির বাঙাল...
15/04/2026

বঙ্গজননী সুদেষ্ণার কথা

বঙ্গ বা বাঙালি জাতির উৎপত্তি এবং প্রাচীনতা নিয়ে বর্তমানে অনেক অপব্যাখ্যা দেখা যায়। একশ্রেণির বাঙালি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে এ অপব্যাখ্যার সাথে যুক্ত। তাদের যুক্তি, বঙ্গ বা বাঙালির উৎপত্তি হয়েছে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ পরবর্তী মুসলিম শাসনামলে। কিন্তু তথ্যটি সত্য নয়। বঙ্গের উৎপত্তিকথা ভারতবর্ষে মুসলিম আগমনের বহুপূর্বে মহাভারতেই বর্ণিত হয়েছে। দীর্ঘতমা মুনির আশীর্বাদে রাজা বলির সহধর্মিণী সুদেষ্ণার গর্ভে সূর্যের ন্যায় মহাতেজস্বী পঞ্চপুত্রের জন্ম হয়। সেই পঞ্চপুত্র অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র, এবং সুহ্ম এ পাঁচটি জনপদের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে পঞ্চজনপদ শাসন করেন। সেই মহাপরাক্রমশালী পঞ্চপুত্রের নাম অনুসারেই ভারতবর্ষের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি জনপদের নাম হয় অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র, এবং সুহ্ম।

তাং স দীর্ঘতমাঙ্গেষু স্পৃষ্ট্বা দেবীমথাব্রবীৎ ।
ভবিষ্যন্তি কুমারাস্তে তেজসাদিত্যবর্চসঃ ॥
অঙ্গো বঙ্গঃ কলিঙ্গশ্চ পুণ্ড্রঃ সুহ্মশ্চ তে সুতাঃ ।
তেষাং দেশাঃ সমাখ্যাতাঃ স্বনাম প্রথিতা ভুবি ॥ অঙ্গস্যাঙ্গোঽভবদ্দেশো বঙ্গো বঙ্গস্য চ স্মৃতঃ। কলিঙ্গবিষয়শ্চৈব কলিঙ্গস্য চ স স্মৃতঃ ॥
পুণ্ড্রস্য পুণ্ড্রাঃ প্রখ্যাতাঃ সুহ্মাঃ সুহ্মস্য চ স্মৃতাঃ ।
এবং বলেঃ পুরা বংশঃ প্রখ্যাতঃ পরমর্ষিজঃ ॥
(মহাভারত: আদিপর্ব, ৯৮.৫০-৫৩)

" এরপরে দীর্ঘতমা মুনি মহারাণী সুদেষ্ণার শরীর স্পর্শ করে বললেন, হে দেবি! আপনার গর্ভে সূর্যের তেজতুল্য পাঁচটি তেজস্বী পুত্র জন্মগ্রহণ করবে।

সে তেজস্বী পুত্রগণের নাম হবে — অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র, এবং সুহ্ম। এবং তাঁদের অধিকৃত দেশগুলিও তাঁদের নামেই জগতে প্ৰসিদ্ধ হবে।

অঙ্গের নামে অঙ্গদেশ, বঙ্গের নামে বঙ্গদেশ, কলিঙ্গের নামে কলিঙ্গদেশ, পুণ্ড্রের নামে পুণ্ড্রদেশ এবং সুহ্মের নামে সুহ্মদেশ খ্যাত হয়েছিলো। পূর্বকালে বলিরাজার বংশ এভাবে মহর্ষি হতে উৎপন্ন হয়েছিলো বলে বর্ণিত।"

অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র, এবং সুহ্ম এ পঞ্চপুত্রের জননী হলেন মহারাণী সুদেষ্ণা। সেই হিসেবে এ পাঁচটি জনপদেরও আদি জননী হলেন মহারাণী সুদেষ্ণা। এ পাঁচটি জনপদের মধ্যে প্রধানতম হলো বঙ্গ। তাই বঙ্গের আদি জননী হলেন মহারাণী সুদেষ্ণা। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বঙ্গের আদি জননী সুদেষ্ণার কথা বঙ্গের অধিবাসী অধিকাংশ বাঙালিই জানে না। তাই বঙ্গের এ ভুলে যাওয়া আদি ইতিহাস, উত্তর-প্রজন্মকে জানানোও কর্তব্য। মহারাজ বলি, মহারাণী সুদেষ্ণা এবং দীর্ঘতমা মুনির এ ঘটনাটি মহাভারতে বর্ণিত হলেও, কাহিনীটি মহাভারত পূর্ববর্তী। এ কারণেই মহাভারতের শ্লোকে "পুরা বংশঃ প্রখ্যাতঃ পরমর্ষিজঃ" বলা হয়েছে। অর্থাৎ কাহিনী মহাভারতকালীন নয়, মহাভারতেরও পূর্ববর্তী। তাই তো দেখা যায় বঙ্গ শব্দটির কথা বেদে যেমনি আছে, তেমনি রামায়ণেও আছে।

বৈদিক যুগ থেকেই বঙ্গের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। হয়তো সে সময়ের ভাষা বর্তমান কালের বাংলার মত ছিলো না। ভাষার কাজই স্বেচ্ছা প্রবাহমানতা, সে তার নিজের মর্জি অনুযায়ী প্রবাহিত হয়ে চলে। এ চলতে চলতে বিভিন্ন বাঁকে বাঁকে সে পরিবর্তিত হয়।ঋগ্বেদীয় ঐতরেয় আরণ্যকে বঙ্গ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

ইমাঃ প্রজাস্তিস্রো অত্যায়মায়ংস্তানীমানি
বয়াংসি বঙ্গাবগধাশ্চেরপাদাঃ ।
(ঋগ্বেদীয় ঐতরেয় আরণ্যক:২.১.১)

বেদের সাথে সাথে রামায়ণেও বঙ্গের কথা আছে।
রামায়ণ থেকে জানা যায়, শ্রীরামচন্দ্রের পিতা রাজা দশরথের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বঙ্গদেশ। রামায়ণের অযোধ্যাকাণ্ডে রাজা দশরথ রাণী কৈকেয়ীকে তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বঙ্গদেশের নাম উচ্চারণ করেন।

যাবদাবর্ততে চক্রং তাবতী বসুন্ধরা৷৷
দ্রাবিড়াঃ সিন্ধুসৌবীরাঃ সৌরাষ্ট্রা দক্ষিণাপথাঃ।
বঙ্গাঙ্গমগধা মৎস্যাঃ সমৃদ্ধাঃ কাশিকোসলাঃ৷৷
তত্র জাতং বহু দ্রব্যং ধনধান্যমজাবিকম্।
ততো বৃণীষ্ব কৈকেয়ি যদ্ যৎ ত্বং মনসেচ্ছসি৷৷
(রামায়ণ: অযোধ্যা, ১০.৩৬-৩৮)

"দ্রাবিড়দেশ, সিন্ধু-সৌবীর দেশ, সৌরাষ্ট্র, দক্ষিণাপথ, বঙ্গদেশ, অঙ্গদেশ, মগধ ও মৎস্যদেশ, কাশি, কোশল – এই সকল সমৃদ্ধ দেশ, যতদূর পর্যন্ত সৌরচক্র আবর্তিত হচ্ছে ততদূর পর্যন্ত এই বসুন্ধরা আমার অধীন ; সেই সকল স্থানে জাত ধন-ধান্য, ছাগ-মেষ, সকলই আমার অধীনে। হে কৌকেয়ি! তুমি মনে মনে যা ইচ্ছা কর, তা আমার থেকে চেয়ে নাও।"

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

04/04/2026

শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের
২০তম শ্রী শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাহাদুরপুর, বোয়ালীয়া, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।

শুভ দোল পুর্ণিমা বা হলি উৎসব আজও প্রতি সনাতনী গৃহে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং প্রতি পূর্ণিমাতিথিতে নারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার দেব...
02/03/2026

শুভ দোল পুর্ণিমা বা হলি উৎসব

আজও প্রতি সনাতনী গৃহে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং প্রতি পূর্ণিমাতিথিতে নারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার দেবী লক্ষ্মীর সন্তুষ্টির জন্য লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করেন। গৃহে বিভিন্ন লক্ষ্মীর চিহ্ন ধারণ করেন। পাঁচালিটি শুরুই হয়েছে দোলপূর্ণিমা শব্দটি দিয়ে।

"দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ।
ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস ।।
লক্ষ্মীদেবী বামে করি বসি নারায়ণ।
করিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন।।"

"কলিযুগে এই দোলোৎসব সকল উৎসবের মধ্যে অন্যতম প্রধান। যথাবিধি ভক্তিপূর্বক সাদা, লাল, গেরুয়া, হলুদ এই চারপ্রকারের ফল্গুচূর্ণ (আবির) দ্বারা এবং নানাবিধ সুগন্ধ দ্রব্য তাতে মিশ্রিত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণেকে সন্তুষ্ট করে। এ দোলোৎসব পাঁচদিন বা তিনদিনব্যাপী হয়ে থাকে। দক্ষিণাভিমুখে কৃষ্ণকে দোলযানে স্থাপন করে। যারা এই দোলস্থ কৃষ্ণকে দর্শন করে, তারা নিঃসংশয়ে সকল প্রকার পাপ হতে মুক্তিলাভ করে। "

স্বামী–স্ত্রীর দৈহিক মিলন নিয়ে সনাতন শাস্ত্র কী বলে?সনাতন ধর্মে দাম্পত্য মিলনকে শুধু ইন্দ্রিয়সুখ হিসেবে দেখা হয় না। এ...
23/02/2026

স্বামী–স্ত্রীর দৈহিক মিলন নিয়ে সনাতন শাস্ত্র কী বলে?

সনাতন ধর্মে দাম্পত্য মিলনকে শুধু ইন্দ্রিয়সুখ হিসেবে দেখা হয় না। এটিকে গৃহস্থ জীবনের একটি পবিত্র কর্তব্য, এমনকি এক ধরনের যজ্ঞ বলা হয়েছে। গৃহস্থাশ্রম মানবজীবনের চার আশ্রমের একটি, আর এই আশ্রমই সমাজ ও বংশরক্ষার ভিত্তি।

১️/ কাম একটি পুরুষার্থ

সনাতন দর্শনে মানুষের জীবনের চারটি লক্ষ্য হলো ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। এখানে ‘কাম’ মানে নিয়ন্ত্রিত ও ধর্মসম্মত ইচ্ছা পূরণ।

📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (৭.১১)-তে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন:
“ধর্মাবিরুদ্ধো ভূতেষু কামোঽস্মি ভরতর্ষভ।”
অর্থাৎ, ধর্মবিরুদ্ধ নয় এমন কাম স্বয়ং ঈশ্বরের প্রকাশ।

অর্থ পরিষ্কার—বিবাহিত জীবনে শাস্ত্রসম্মত মিলন পাপ নয়, বরং ধর্মের অংশ।

২️/ সন্তান উৎপাদন ও পিতৃঋণ

বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য ‘সুপ্রজা’ লাভ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, পুত্র-কন্যা জন্মের মাধ্যমে মানুষ পিতৃঋণ শোধ করে এবং বংশধারা রক্ষা করে।

📚 মনুস্মৃতি ও গৃহ্যসূত্রে দাম্পত্য মিলনকে নিয়ন্ত্রিত, সচেতন ও পবিত্র মানসিকতার সঙ্গে সম্পাদনের নির্দেশ আছে। শুধু ভোগ নয়, দায়িত্ব ও আধ্যাত্মিক সচেতনতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৩️/ গৃহস্থ ব্রহ্মচর্য

ব্রহ্মচর্য মানেই আজীবন অবিবাহিত থাকা নয়। গৃহস্থও ব্রহ্মচারী হতে পারেন, যদি তিনি সংযমী হন এবং শাস্ত্রনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন। অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সংযমই এখানে মূল শিক্ষা।

৪️/ ঋতুকাল ও শাস্ত্রীয় নিয়ম

শাস্ত্রে ঋতুকালকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে মাসিকের পর নির্দিষ্ট সময়কে সন্তান ধারণের উপযোগী ধরা হয়েছে।

কিছু স্মৃতিশাস্ত্রে জোড়-বিজোড় রাত নিয়ে উল্লেখ আছে, তবে এগুলো আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের অংশ। আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সব বিষয়ের মিল নাও থাকতে পারে।

এছাড়া একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা প্রভৃতি তিথিতে সংযম পালন করতে বলা হয়েছে। কারণ এসব দিন উপাসনা ও সাধনার জন্য নির্ধারিত।

৫️/ স্ত্রীর সম্মান ও সন্তুষ্টি

📖 কামসূত্র এবং অন্যান্য শাস্ত্রে স্ত্রীকে ‘সহধর্মিণী’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি কেবল সংসারের অংশীদার নন, ধর্মপথের সঙ্গী।

মিলন যেন একতরফা ইচ্ছার ফল না হয়। পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও সম্মতি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রে স্ত্রীর সন্তুষ্টিকে স্বামীর কর্তব্য বলা হয়েছে।

৬️/ আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি

গৃহস্থের জন্য দাম্পত্য জীবনও এক ধরনের সাধনা। শারীরিক মিলনের আগে-পরে শুচিতা, মনোসংযম ও ঈশ্বরস্মরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দাম্পত্য মিলনকে সৃষ্টির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই এটি লালসার বিষয় নয়, বরং সৃষ্টির মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ।

সংক্ষেপে শাস্ত্রের শিক্ষা

✔ সংযম
✔ ধর্মসম্মত আচরণ
✔ পারস্পরিক সম্মান
✔ সঠিক সময় ও শুচিতা
✔ সন্তানকে সৎ ও ধর্মপরায়ণ করে তোলা

উপসংহার

সনাতন শাস্ত্রের দৃষ্টিতে স্বামী–স্ত্রীর মিলন পাপ নয়। এটি জীবনের স্বাভাবিক, পবিত্র ও দায়িত্বপূর্ণ অংশ। তবে তা যেন কামাসক্তি নয়, বরং ধর্ম ও সংযমের আলোয় পরিচালিত হয়—এই শিক্ষা দেওয়াই শাস্ত্রের উদ্দেশ্য।

🙏🏻সংগৃহীত🙏🏻

15/02/2026
24/01/2026

কালীগঞ্জ সাহা বাড়ি, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।

দেবী সরস্বতী কে ?পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বরের সৃষ্টিকারী রূপের নাম ব্রহ্মা আর ব্রহ্মার নারী শক্তির নাম সরস্বতী; এর মানে হলো সরস্...
23/01/2026

দেবী সরস্বতী কে ?

পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বরের সৃষ্টিকারী রূপের নাম ব্রহ্মা আর ব্রহ্মার নারী শক্তির নাম সরস্বতী; এর মানে হলো সরস্বতীই ব্রহ্মা, আর ব্রহ্মা মানেই পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বর, অর্থাৎ সরস্বতীই পরমেশ্বর বা ঈশ্বর। অনেকেই সরস্বতীকে ছোটো দেবী হিসেবে মনে করে, প্রকৃতপক্ষে দেব-দেবীদের মধ্যে ছোট বা বড় বলে কিছু নেই, সব দেব-দেবী ই সমান; সুতরাং সরস্বতী, ঈশ্বরেরই একটা রূপের নাম এবং স্ত্রীলিঙ্গে স্বয়ং ঈশ্বরীরূপে সরস্বতীই পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বর।

সরস্বতীর গায়ের রং সাদা কেনো ?

দেবী সরস্বতীর শুভ্র মূর্তি নিষ্কলুষ চরিত্রের প্রতীক; এটা এই শিক্ষা দেয় যে, প্রত্যেক ছেলে মেয়েকে হতে হবে নিষ্কলুষ নির্মল চরিত্রের অধিকারী; যে ছেলে মেয়েবাল্য কাল থেকে নিজেকে নিষ্কলুষ রাখার চেষ্টা করবে, সে যে সারা জীবন তার সকল কর্ম ও চিন্তায় নিজেকে নিষ্কলুষ রাখতে পারবে, তাতে তো আর কোনো সন্দেহ নেই।

সরস্বতীর সাথে রাজহাঁস থাকে কেনো ?

রাজ হাসেঁর মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে যে, এক পাত্রে থাকা জল মিশ্রিত দুধের থেকে সে শুধুমাত্র দুধ শুষে নিতে পারে। সরস্বতী যেহেতু শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট পূজা, সেই প্রেক্ষাপটে এটা বলা যেতে পারে যে, রাজহাসেঁর এই তথ্য শিক্ষার্থীদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে, সমাজে ভালো মন্দ সবকিছুই থাকবে, তার মধ্যে থেকে তোমাদেরকে শুধু ভালোটুকু শুষে নিতে হবে। অধিকাংশ হিন্দু ছেলে-মেয়েরা যে মেধাবী এবং চরিত্রবান বা চরিত্রবতী, সরস্বতী পূজা এবং তার রাজহাঁসজনিত এই শিক্ষাই তার কারণ।

সরস্বতীর হাতে বীণা থাকে কেনো ?

এর কারণ হচ্ছে-হিন্দুধর্ম হলো নাচ, গান সমৃদ্ধ শিল্পকলার ধর্ম; যা সামাজিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণভাবে সাপোর্ট করে। কারণ, প্রত্যেক ছেলে মেয়েই কোনো না কোনো প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহন করে; প্রকৃতির ধর্ম হিসেবে হিন্দুধর্ম এই সামাজিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে, এই কারণেই দেবী সরস্বতীর হাতের বীণা হচ্ছে সেই শিল্পকলার প্রতীক।
আর এটা সুধীজন স্বীকৃত যে, যারা- নাচ, গান, কবিতা লেখা বা নাট্যচর্চার মতো শিল্পকলার সাথে জড়িত, তারা সাধারণত কখনো মিথ্যাও বলে না; চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ তো দূরের ব্যাপার। সাধারণ ভাবে সকল হিন্দুই যে সৎ প্রকৃতির এবং প্রত্যেক হিন্দু ছেলে মেয়েই যে শিল্পকলার কিছু না কিছু না জানে, এটাই তার অন্যতম কারণ।

সরস্বতীর হাতে পুস্তক থাকে কেনো ?

পুস্তক হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার বা জ্ঞানের বাস হলো পুস্তকে। যেহেতু সরস্বতী হলো জ্ঞানের দেবী, তাই তার হাতে থাকে পুস্তক বা পূজায় পাঠ্যপুস্তক দিতে হয়। পৃথিবীতে হিন্দুরাই একমাত্র জাতি যারা জ্ঞানার্জনের জন্য পূজা প্রার্থনা করে। একারণেই হিন্দুরা একটি জ্ঞান পিপাসু এবং জ্ঞান সমৃদ্ধ জাতি। এখনও যেকোনো স্কুলে যে কয়জন হিন্দু ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যাবে, দেখা যাবে তাদের মধ্যে৯০% ই জিনিয়াস।

সরস্বতীর দুই হাত না চার হাত ?

বর্তমানে দেবী সরস্বতীকে দুই হাত বিশিষ্ট দেখা গেলেও দেবী সরস্বতীর মূল মূর্তি আসলে চার হাত বিশিষ্ট, এরকম ছবি আপনারা অনেকে জায়গায় দেখলেও দেখে থাকতে পারেন, সরস্বতীর মূল থিমের সাথে এই চার হাত ই মানানসই; কারণ হলো- পড়াশুনার পাশাপাশি কেউ যদি নাচ গান বা অন্য যে কোনো শিল্পকলায় এক্সপার্ট হতে চায়, তাকে দুই হাতের শক্তি ও ব্যস্ততা নিয়ে কাজ করলে চলবে না, তাকে চার হাতের শক্তি ও ব্যস্ততা নিয়ে কাজ করত হবে।

সরস্বতীর আসন, রাজহাঁস, না পদ্মফুল ?

অনেক কাঠামোতে দেখা যায়, সরস্বতী দেবী হাঁসের উপর বসে আছে আবার কোনো কাঠামোয় দেখা যায় পদ্মফুলের উপর; পদ্মফুলের উপর সরস্বতীর আসন ই সঠিক আসন। এর কারণ- পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্মফুল হলো সফল ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রতীক; এই কারণেই লেখা হয়েছে- “ফুলের মতো গড়বো মোরা মোদের এই জীবন” এই ধরণের কবিতা।

এককথায় ফুলের বিকাশের সাথে মানুষের জীবনের বিকাশকে তুলনা করা হয়েছে। পূর্ণ বিকশিত একটি পদ্মফুলের উপর সরস্বতীর বসে থাকার মানে হলো- সরস্বতীর আদর্শকে লালন করে নিজের জীবনকে বিকশিত করতে পারলে সেই জীবনও ফুলের মতোই পবিত্র, সুন্দর, বিকশিত ও সমৃদ্ধ হবে।

সরস্বতী কেনো মাতৃ মূর্তি ?

স্বয়ং ঈশ্বর হলেও সরস্বতী নারী মূর্তি অর্থাৎ মাতৃমূর্তি, এর কারণ হলো- পিতার চেয়ে মায়ের কাছে কোনো কথা বলা সহজ বা কোনো কিচু চাওয়া সহজ। সরস্বতীর পূজারীরা যেহেতু সাধারণভাবে শিশু বা বালক-বালিকা অর্থাৎ শিক্ষার্থী, তাই তারা যাতে সহজে নিজের মনের কথা নিজের মনের আকুতি, দেবী মায়ের কাছে জানাতে পারে, এজন্যই সরস্বতীকে কল্পনা করা হয়েছে মাতৃরূপে।

----------------------------------------------------

তারিখঃ ১৯/০১/২০২৬ইংব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম রাউজান প্রীতিলতা/সূর্যসেন এরা হিন্দু ধর্মের অনু...
19/01/2026

তারিখঃ ১৯/০১/২০২৬ইং
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম রাউজান প্রীতিলতা/সূর্যসেন এরা হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন,আর পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র এবং দেশের মানুষ জানে হিন্দুদের মধ্যে দেশ প্রেম বেশি।
মহারাজার মাথায় ছাতা! এটা শুধু একটি ছাতা নয়, এটা রাজকীয় মর্যাদা, ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। প্রাচীনকালে ভৃত্যরা রাজার মাথার ওপর ধারণ করত।

বিশ্বাসঘাতকতার বলি সূর্যসেনমানুষের যাপিত জীবনের বড়  শত্রুকে কখনই সহজে চেনা যায় না। একসাথে চলতে চলতে অবশেষে স্বরূপ প্রকাশ...
12/01/2026

বিশ্বাসঘাতকতার বলি সূর্যসেন

মানুষের যাপিত জীবনের বড় শত্রুকে কখনই সহজে চেনা যায় না। একসাথে চলতে চলতে অবশেষে স্বরূপ প্রকাশিত হয়।বন্ধু বা প্রিয় আপনজন শত্রু হলে এর থেকে ভয়ংকর আর কিছুই হতে পারে না। জগতের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত বা কুখ্যাত ব্যক্তি বিপদে পরেছে শুধু আপনজনদের দ্বারা। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনও সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশের ধরা পরে কাছের নিকটাত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতায়। মাস্টারদা সূর্য সেন ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি পটিয়া উপজেলার গৈরালা গ্রামে আত্মগোপন করেন। সে সময়ে বিদেশি ব্রিটিশ সরকার তাঁর মাথার দাম প্রথমে পাঁচহাজার টাকা ধার্য করে। পরবর্তীতে সেই টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দশহাজার টাকায় পরিণত করে দেয়। যাতে টাকার লোভে পরে কেউ মাস্টারদাকে ব্রিটিশ শাসকদের কাছে ধরিয়ে দেয়। মাস্টারদা সূর্য সেন পটিয়ায় তাঁর এক আত্মীয় ব্রজেন সেনের ব্যবস্থাপনায় তাদের গ্রামের বিশ্বাস-বাড়ির গৃহবধু ক্ষিরোদাপ্রভা বিশ্বাসের ঘরে আশ্রয় নেন। ব্রজেন সেনের বাসা থেকে কার জন্য খাবার নিয়ে ক্ষিরোদাপ্রভা বিশ্বাসের ঘরে যাচ্ছে, তা জানার জন্য ব্রজেন সেনের ভাই নেত্র সেন বিশেষ আগ্রহী হয়ে, পরবর্তীতে সূর্য সেনের অবস্থানের কথা জানতে পরে।সেই নেত্র সেনই টাকার লোভে দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ব্রিটিশ পুলিশকে মাস্টারদার অবস্থানের তথ্য পাচার করে দেয়। রাতেরবেলা আলোর সংকেত দেখিয়ে নেত্র সেন সৈন্যদের পথ দেখায়। বিষয়টি ব্রজেন সেন বুঝতে পেরে শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করেও সূর্য সেনকে রক্ষা করতে পারেননি। মাস্টারদা গোর্খা ব্রিটিশ সৈন্যের হাতে ধরা পড়ে যায়।পরবর্তীতে ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জানুয়ারিতে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

চট্টগ্রাম বীর প্রসবিনী ভূমি। যুগে যুগে অসংখ্য জ্ঞাত বা অজ্ঞাত বীরের জন্ম হয়েছে এই ভূমিতে। তাই চট্টগ্রামকে গর্ব করে বলা হয় 'বীর চট্টলা'। চট্টগ্রাম যেমন মাস্টারদা সূর্য সেনের পবিত্র ভূমি, তেমনি পক্ষান্তরে নেত্র সেনেরও ভূমি। এ আত্মঘাতী বিশ্বাসঘাতক নেত্র সেনেরা যুগে যুগেই ছিল আছে এবং থাকবে ।তাদের কারণেই ইতিহাসে অনেক বড় বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আজও নেত্র সেনের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায় কোনো আন্দোলন, সংগ্রামকে ধ্বংস করার জন্য। তারা লিখতে না জানলেও ভালো করে মুছতে জানে। তারা ব্যক্তিস্বার্থে সকল কিছুই করতে পারে। তাদের বিবেক কখনো তাদের সম্মুখে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আয়নাতে নিজের স্বার্থপর চেহারাটি দেখলেও তারা কখনো লজ্জিত হয় না।

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী....................

Address

Bakarganj

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির:

Share