শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির

শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির সনাতন ধর্ম প্রাচীন ধর্ম যা কর্তব্যের দিকে নির্দেশ করে, যেমন সততা, অহিংসা, পবিত্রতা, সদিচ্ছা, দয়া, ধৈর্য, সহনশীলতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, উদারতা, এবং তপস্যা।

শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের গুরু...ভারতবর্ষে বৈদিককাল থেকেই গুরুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। আট,দশ, এবং বারো বছর থেকে পঁচিশ বছ...
27/07/2026

শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের গুরু...

ভারতবর্ষে বৈদিককাল থেকেই গুরুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। আট,দশ, এবং বারো বছর থেকে পঁচিশ বছর পর্যন্ত সকল শিশুকেই গুরুগৃহে শিক্ষা লাভ করতে হত। জীবনে গুরু যে আবশ্যিক, এ কথাটি জোর দিয়ে বলতে গিয়ে বর্তমানকালে অনেকে শ্রীরামচন্দ্র এবং শ্রীকৃষ্ণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেন। গুরুর আবশ্যকতা প্রসঙ্গে তারা বলে থাকেন: শ্রীরামচন্দ্রের গুরু ছিল, শ্রীকৃষ্ণের গুরু ছিল, তাহলে আমাদের কেন গুরু থাকবে না? কথাগুলো সত্য। কিন্তু আমরা সে সত্য কথাকে গভীরে তলিয়ে দেখি না।আমরা হয়ত ভুলে যাই, মথুরার রাজা কংসকে যখন বধ করা হয় তখন শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর বড়ভাই শ্রীবলরামের বয়স ছিল প্রায় দশবছরের কাছাকাছি। ক্ষত্রিয় শিশু শিক্ষা লাভের জন্য দশবছরের মধ্যে গুরুগৃহে যেতেই হবে। তাই শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীবলরামকে সান্দীপনী মুনির আশ্রমে শিক্ষালাভের জন্যে পাঠানো হয়। এ আশ্রমটি বর্তমানে ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত। সেই সান্দীপনী মুনির আশ্রমে অবস্থিত গুরুকুলে শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীবলরাম দুইভাই চৌষট্টিবিদ্যা সহ বিবিধ বিদ্যা শিক্ষা লাভ করে।যদুশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীবলরাম জগতে পরম্পরাগত গুরু-শিষ্য শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে অবন্তিপুরবাসী সান্দীপনিমুনির নিকট অস্ত্রশিক্ষা করতে গমন করেন। ভগবান সর্বজ্ঞানময় তাঁর অবিদিত কিছুই নেই।জগতের সকল জ্ঞানরাশি তাঁর থেকেই এসেছে। তথাপি তিনি গুরুর সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মহিমান্বিত করতে নিজে শিক্ষা লাভের জন্যে সান্দীপনিমুনির গৃহে গমন করে জগতের মানুষকে শিক্ষার পথে অগ্রসর হতে প্রেরণা দিলেন। বিষয়টি বিষ্ণুপুরাণে অত্যন্ত সুন্দর করে বর্ণিত হয়েছে :

বিদিতাখিলবিজ্ঞানৌ সর্বজ্ঞানময়াবপি।
শিষ্যাচার্য্যক্রমং বীরৌ খ্যাপয়ন্তৌ যদূত্তমৌ।।
ততঃ সান্দীপনিং কাশ্যমবস্তীপুরবাসিনম্।
অস্ত্রার্থং জগ্মতুর্বীরৌ বলদেব-জনার্দনৌ॥
তস্য শিষ্যত্বমভ্যেত্য গুরুবৃত্তপরৌ হি তৌ। দর্শয়াঞ্চক্রতুবীরাবাচারমখিলে জনে ॥
(বিষ্ণু পুরাণ:৫.১১.১৮-২০)

"যদুশ্রেষ্ঠ বীর কৃষ্ণ এবং বলরাম যদিও সর্বজ্ঞানময় ও সমস্ত বিজ্ঞান অবগত ছিলেন, তথাপি তাঁরা মনুষ্যলােকে আচার্য্য হতে শিক্ষানুক্রমের কৰ্তব্যতা পালন অর্থাৎ পরম্পরাগত গুরু-শিষ্য শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে কাশীতে জন্ম নেয়া অবন্তিপুরবাসী সান্দীপনিমুনির নিকট অস্ত্রশিক্ষা জন্য গমন করলেন। বলভদ্র এবং কৃষ্ণ সান্দীপনিমুনির শিষ্যত্ব স্বীকার করে শিক্ষাগুরুর প্রতি উচিত ব্যবহারে প্রবৃত্ত হয়ে জগতের মানুষকে আচার শিক্ষা দিলেন।"

শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীবলরাম চৌষট্টি দিনের মধ্যেই সরহস্য ধনুর্বেদ বা অস্ত্রবিদ্যা এবং এ অস্ত্রবিদ্যার প্রায়োগিক কৌশলে দুইভাই অতুল্য পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁদের দুজনের এমন অতিমানবীয় ও অসম্ভাবনীয় কৰ্ম দেখে সন্দীপনিমুনি উপলব্ধি করেন; এই বালকদ্বয় কোন সাধারণ বালক নয়। চন্দ্র ও সূর্যের মত প্রতিভার আলোর সাথে সাথে, তাঁদের দেহ থেকেও আলো বিচ্ছুরিত হয়।বালকদ্বয়ের আলোতে তাঁর গৃহেও আলোকিত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে তাঁরা অস্ত্রবিদ্যা সহ বেদাদিশাস্ত্র সন্দীপনিমুনি কাছে অধ্যয়ন করেন। গুরু উপদেশ মাত্রেই তাঁরা গুরুবর্ণিত বিদ্যা আয়ত্ত করে ফেলেন।প্রাচীনকালে গুরুগৃহে বারোবছর লাগতো, শিক্ষা সমাপন করতে । কিন্তু সেই তাঁরা মাত্র চৌষট্টিদিনেই সকল বিদ্যা সমাপন করে ফেলে। সর্বপ্রকার বিদ্যা আয়ত্ত করে সান্দীপনিমুনিকে তাঁদের কাছে গুরুদক্ষিণার আদেশ দিতে বললেন।কারণ গুরুদক্ষিণা ছাড়া শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে সমাপ্ত হয় না, কার্যকরী হয় না। তৎকালীন সময়ে শিক্ষা ছিল অবৈতনিক। ছাত্রারা বিনেপয়সাতে নিম্নে বারোবছর গুরুগৃহে থেকে শিক্ষা লাভ করে পঁচিশ বছর বয়সে সমাবর্তন নিয়ে গুরুগৃহ ত্যাগ করে সংসার জীবনে প্রবেশ করত। শিক্ষা সমাপনান্তে এ গুরুগৃহ ত্যাগের সময়েই শিক্ষাগুরুকে যথাসাধ্য দক্ষিণা প্রদান করে সম্মানিত করত ছাত্ররা। মহামতি সান্দীপনি মুনি শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীবলরামের মাত্র চৌষট্টি দিনেই অলৌকিক কৰ্ম অবলোকন করে তাঁদের কাছে গুরুদক্ষিণাস্বরূপ পুত্রকে জীবিত অবস্থায় এনে দিতে বললেন।

সরহস্যং ধনুর্বেদং সসংগ্ৰহমধীয়তাম্।
অহােরাত্রৈশ্চতুঃষষ্ট্যা তদদ্ভুতমভূদ্দ্বিজ॥ সান্দীপনিরসম্ভাব্যং তয়ােঃ কর্মাতিমানুষম্।
বিচিন্ত্য তৌ তদা মেনে প্রাপ্তৌ চন্দ্র-দিবাকরৌ॥ অস্ত্রগ্রামমশেষঞ্চ প্রােক্তমাত্রমবাপ্য তৌ।
ঊচতুর্ব্রিয়তাং যা তে দাতব্যা গুরুদক্ষিণা ॥ সােহপ্যতীন্দ্রিয়মালােক্য তয়ােঃ কৰ্ম মহামতিঃ।
অযাচত মৃতং পুত্রং প্রভাসে লবণার্ণবে ॥
(বিষ্ণু পুরাণ:৫.১১.১৮-২০)

"হে দ্বিজ! বড় আশ্চর্যের কারণ এই যে, তাঁরা চতুঃষষ্টি (৬৪) দিবসের মধ্যেই সরহস্য ( অস্ত্রবিদ্যা) সসংগ্রহ ( অস্ত্রপ্রয়ােগ ) ধনুর্বেদে পারদর্শী হয়েছিলেন।
সন্দীপনিমুনি তাঁদের এই প্রকার অতিমানুষিক ও অসম্ভাবনীয় কৰ্ম চিন্তা করে বিবেচনা করলেন যে, নিশ্চয়ই চন্দ্র ও দিবাকর তাঁর গৃহে উপস্থিত হয়েছে। তাঁরা গুরুর উপদেশ মাত্রেই সর্বপ্রকার অস্ত্রশিক্ষা করে সান্দীপনিমুনিকে বললেন, আপনাকে গুরুদক্ষিণাস্বরূপ যা দিতে হবে, আপনি আমাদের তা আদেশ করুন।তখন মহামতি সান্দীপনি তাঁদের অলৌকিক কৰ্ম অবলোকন করে তাঁদের কাছে গুরুদক্ষিণাস্বরূপ প্রভাসের লবণ সমুদ্রে মৃত স্বকীয় পুত্রকে জীবিত অবস্থায় এনে দিতে বললেন।"

শ্রীরামচন্দ্রের গুরু বশিষ্ঠ মুনিও তাঁকে আধ্যাত্ম এবং অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা দেন। কিন্তু বর্তমানের গুরুরা কি শিষ্যদের চৌষট্টিবিদ্যার মধ্যে একটি বিদ্যাও শিক্ষা দেন? হয়ত দুইএকজন দেন, অধিকাংশই দেন না বা শিষ্যদের শিক্ষা দিতে তাদের হাতে সময়ও নেই। বর্তমানের গুরুরা শিষ্যদের নিয়ে সম্প্রদায় বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গ্রুপ তৈরিতে যতটা আগ্রহী, বেদবেদান্তের শিক্ষা এবং প্রচারে যদি ততটাই আগ্রহী হতেন, তবে তা জাতির জন্যে অনেক কল্যাণকর হত। তবে যোগসাধনে ও তান্ত্রিকমতে সদগুরুর প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত। কারণ সেখানে গুরুকে সাধনপদ্ধতি হাতে-কলমে শিখিয়ে দিতে হয়।

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

বিউটি রানি পাল সে একজন স্কুল শিক্ষক। ২০২৬ শে তার জেলায় প্রথম স্থান দখল করে শিক্ষক হিসাবে। এটাই কি তার দোষ নাকি সে সনাতনী...
27/07/2026

বিউটি রানি পাল সে একজন স্কুল শিক্ষক। ২০২৬ শে তার জেলায় প্রথম স্থান দখল করে শিক্ষক হিসাবে।

এটাই কি তার দোষ নাকি সে সনাতনী এটা দোষ??

পৃথিবীর কোথায় লেখা আছে একজন শিক্ষিকা সে শাড়ি পরে রিল বানাতে পারবেনা?? সেতো চটি ভিডিও বানায় নায়।।

পরিমনি অশ্লীল ছবি পোস্ট করে তাতে এই হনুদের সমস্যা নাই, হাজারো নারী উ #ল #ঙ্গ হয়ে রিল বানায় বাংলাদেশে তাতে এই হনুদের সমস্যা নাই। সমস্যা একজন সনাতনী কেনো রিল বানাবে???

মূর্খ জাতি মানুষ হ নারীদের সম্মান করতে শেখ।

বিউটি রানী পাল এমন কিছু করেনি যাতে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে হবে

যারা প্রতিদিন বলৎকারের মতো জঘন্য কাজ করে, নারী নিয়ে হোটেলে ধরা খায় আবার কিছু মানুষ তাদের ছাপাই গায় তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিন।

আজ জগন্নাথদেবর রথযাত্রা আজ বৃহস্পতিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু হচ্ছে। প্রতিবছর চা...
16/07/2026

আজ জগন্নাথদেবর রথযাত্রা

আজ বৃহস্পতিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু হচ্ছে। প্রতিবছর চান্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রা শুরু হয়। এর ৯ দিনের মাথায় অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা। এবারের উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তাঁর অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেব ছাড়াও বলরাম ও শুভদ্রার প্রতিমূর্তি স্থাপন করে যাত্রা করা হয়। সেই রথ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে।

গাইবন্ধা পলাশবাড়ী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র ঢাকা উত্তরা থেকে গ্রেফতার...এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ...
13/07/2026

গাইবন্ধা পলাশবাড়ী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র ঢাকা উত্তরা থেকে গ্রেফতার...
এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।।

মহাভারতের সময় অবশ্য বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ ছিল না। আজকের বাংলাদেশ ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তখন বঙ্গ, পুণ্ড্র, সুহ্ম...
11/07/2026

মহাভারতের সময় অবশ্য বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ ছিল না। আজকের বাংলাদেশ ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তখন বঙ্গ, পুণ্ড্র, সুহ্মসহ বিভিন্ন প্রাচীন জনপদে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে মহাভারতে সবচেয়ে পরিচিত নাম হলো ‘বঙ্গ’। তাই মহাভারতের পাতায় বাংলাদেশের অতীত খুঁজতে গেলে বঙ্গ ও পুণ্ড্র জনপদের কথাই সবচেয়ে বেশি সামনে আসে।

কিসারী মোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের ইংরেজি অনুবাদের ডিজিটাল পাঠে ‘Vanga’ এবং ‘Vangas’ শব্দ অনুসন্ধান করে মোট ২৪টি উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলো মহাভারতের ছয়টি পর্বের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে আছে। তবে এই সংখ্যাকে একেবারে চূড়ান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ মহাভারতের বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি, সংস্কৃত সংস্করণ ও অনুবাদে শব্দ, শ্লোক এবং অধ্যায় বিন্যাসের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবু এই হিসাব থেকে অন্তত বোঝা যায়, মহাভারতের কাহিনিতে বঙ্গ কোনো অচেনা বা গুরুত্বহীন অঞ্চল ছিল না।

মহাভারতে বঙ্গের প্রথম পরিচয় পাওয়া যায় আদিপর্বের একটি পৌরাণিক বংশকাহিনিতে। সেখানে ঋষি দীর্ঘতমা, রাজা বলি ও রানি সুদেষ্ণার প্রসঙ্গ এসেছে। কাহিনি অনুযায়ী, সুদেষ্ণার গর্ভে দীর্ঘতমার ঔরসে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও সুহ্ম নামে পাঁচ পুত্র জন্ম নেয়। পরে তাদের নামেই পাঁচটি দেশের নাম হয়। অর্থাৎ মহাভারতের কাহিনিতে ‘বঙ্গ’ প্রথমে একজন ব্যক্তির নাম, পরে সেই ব্যক্তির নামে পরিচিত একটি জনপদ।

এটি অবশ্য আধুনিক অর্থে কোনো ঐতিহাসিক দলিল নয়। প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন জনপদের সম্পর্ক বোঝাতে এ ধরনের পৌরাণিক বংশকাহিনি তৈরি হয়েছিল। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও সুহ্মকে একই বংশের সন্তান হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে সম্ভবত তাদের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য বোঝানো হয়েছে।

আদিপর্বের আরেক জায়গায় অর্জুনের তীর্থভ্রমণের বর্ণনায় বঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। নির্বাসনে থাকার সময় অর্জুন বঙ্গ ও কলিঙ্গের বিভিন্ন পবিত্র স্থান ও নদীতে ভ্রমণ করেছিল বলে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মহাভারতে বঙ্গ শুধু একটি রাজ্য বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়, একটি পরিচিত তীর্থভূমি হিসেবেও এসেছে।

সভাপর্বে বঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। যুধিষ্ঠিরের নতুন সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজা ও শাসকের মধ্যে অঙ্গ ও বঙ্গের রাজাদের নাম রয়েছে। এতে বোঝা যায়, বঙ্গের শাসকেরা উত্তর ভারতের বৃহত্তর রাজনীতি ও রাজকীয় যোগাযোগের বাইরে ছিলেন না।

একই পর্বে পৌণ্ড্রক বাসুদেব নামে একজন শাসকের কথা এসেছে। তাকে বঙ্গ, পুণ্ড্র ও কিরাত অঞ্চলের শাসক বা অধিপতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সে মগধরাজ জরাসন্ধের মিত্র ছিল এবং কৃষ্ণের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে ‘বাসুদেব’ বলে দাবি করত। পরবর্তী পুরাণগুলোতে তার সঙ্গে কৃষ্ণের যুদ্ধের কাহিনিও পাওয়া যায়।

তবে এখান থেকে এমন সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না যে পৌণ্ড্রক বাসুদেবই সবসময় বঙ্গের একমাত্র রাজা ছিল। মহাভারতের বিভিন্ন অধ্যায়ে ভিন্ন সময় ও ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। কোথাও বঙ্গের রাজাকে নামসহ উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোথাও শুধু ‘বঙ্গরাজ’ বা ‘বঙ্গের অধিপতি’ বলা হয়েছে।

সভাপর্বে ভীমের পূর্বাঞ্চল বিজয়ের বর্ণনাও গুরুত্বপূর্ণ। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞের আগে তার চার ভাইকে চারদিকে রাজ্য জয় করতে পাঠানো হয়েছিল। ভীম পূর্বদিকে গিয়ে পুণ্ড্ররাজ বাসুদেব, মহৌজ এবং বঙ্গরাজসহ বিভিন্ন শাসককে পরাজিত করে। এরপর সমুদ্রসেন, চন্দ্রসেন এবং তাম্রলিপ্তের শাসকদের কথাও এসেছে।

অনেকেই সমুদ্রসেন বা চন্দ্রসেনকে বঙ্গের রাজা বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু মূল বর্ণনাটি সতর্কভাবে পড়লে দেখা যায়, প্রথমে নামহীন এক বঙ্গরাজের কথা বলা হয়েছে, তারপর আলাদাভাবে সমুদ্রসেন ও চন্দ্রসেনের নাম এসেছে। তাই তাদের মধ্যে কে বঙ্গরাজ ছিল, অথবা তারা আদৌ বঙ্গের শাসক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞেও বঙ্গের উপস্থিতি ছিল। বঙ্গসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের শাসকেরা যুধিষ্ঠিরের কাছে কর ও উপহার নিয়ে এসেছিল। এসব উপহারের মধ্যে হাতির উল্লেখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মহাভারতে বঙ্গের সঙ্গে বারবার হাতি ও হস্তীবাহিনীর সম্পর্ক দেখা যায়।

সভাপর্বের আরেক জায়গায় কর্ণকে অঙ্গ ও বঙ্গের অধিপতি বলা হয়েছে। কর্ণ মূলত অঙ্গরাজ হিসেবেই পরিচিত। দুর্যোধন তাকে অঙ্গের রাজা করেছিল। বঙ্গের ওপর তার সরাসরি রাজত্ব ছিল, নাকি সামরিক প্রভাব বা কর্তৃত্ব ছিল, তা স্পষ্ট নয়। সম্ভবত অঙ্গের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের আরও কিছু এলাকার ওপর তার প্রভাব বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।

বনপর্বে বঙ্গের নাম এসেছে যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞের প্রসঙ্গে। কৃষ্ণ সেখানে যেসব রাজ্য ও জাতি যুধিষ্ঠিরের কর্তৃত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের মধ্যে বঙ্গ, অঙ্গ, পুণ্ড্র, ওড্র, চোল ও দ্রাবিড়দের নাম উল্লেখ করে। এই বর্ণনা থেকেও বোঝা যায়, বঙ্গকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বঙ্গের সামরিক পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভীষ্মপর্বে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জনপদের তালিকায় অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গের নাম পাশাপাশি এসেছে। এরপর যুদ্ধের বর্ণনায় বঙ্গের রাজা ও তার বিশাল হস্তীবাহিনীকে দুর্যোধনের পক্ষে লড়তে দেখা যায়।

একপর্যায়ে ঘটোৎকচ দুর্যোধনের বাহিনীর ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চালালে বঙ্গের অধিপতি দশ হাজার হাতি নিয়ে দুর্যোধনকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। এই বর্ণনা থেকে ধারণা করা যায়, বঙ্গের সামরিক শক্তির প্রধান অংশ ছিল যুদ্ধহাতি। নদীমাতৃক ও বনাঞ্চলসমৃদ্ধ পূর্ব ভারতে হাতির সহজলভ্যতার কারণে এ ধরনের শক্তিশালী হস্তীবাহিনী থাকা অস্বাভাবিক নয়।

এখানে ভগদত্তের নামও আসে। কিছু অনুবাদে বঙ্গের অধিপতির কথা বলার পরপরই ভগদত্তের উল্লেখ রয়েছে। ফলে অনেকেই ভগদত্তকে বঙ্গের রাজা বলে ধরে নেন। কিন্তু মহাভারতের অন্যান্য জায়গায় ভগদত্তকে স্পষ্টভাবে প্রাগজ্যোতিষের রাজা বলা হয়েছে। প্রাগজ্যোতিষকে সাধারণত বর্তমান আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়।

তাই ভগদত্তকে সরাসরি বঙ্গের রাজা বলা নিরাপদ নয়। হতে পারে সে বঙ্গসহ পূর্বাঞ্চলীয় হস্তীবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল। আবার অনুবাদ বা পাণ্ডুলিপির পাঠভেদের কারণেও এই বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে সতর্কভাবে বলা যায়, ভগদত্তের নেতৃত্বাধীন পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে বঙ্গের সেনাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

দ্রোণপর্বেও বঙ্গের উল্লেখ কয়েকবার এসেছে। একটি জায়গায় কৃষ্ণের বিভিন্ন সামরিক বিজয়ের কথা বলতে গিয়ে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ ও মগধের নাম এসেছে। আরেক জায়গায় পরশুরামের হাতে নিহত বিভিন্ন ক্ষত্রিয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, বিদেহ ও তাম্রলিপ্তের কথা বলা হয়েছে।

কুরুক্ষেত্রের সরাসরি যুদ্ধবর্ণনায় যুধিষ্ঠিরের আক্রমণে অম্বষ্ঠ, মালব, বঙ্গ, শিবি ও ত্রিগর্তদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও পাওয়া যায়। এখানে বঙ্গকে শুধু কোনো রাজার ব্যক্তিগত বাহিনী হিসেবে নয়, একটি স্বতন্ত্র জাতি বা আঞ্চলিক সেনাদল হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কর্ণপর্বে বঙ্গের উল্লেখ প্রায় পুরোপুরি যুদ্ধকেন্দ্রিক। কলিঙ্গ, বঙ্গ ও নিষাদের বীর যোদ্ধারা হাতিতে চড়ে অর্জুনকে আক্রমণ করেছিল। অর্জুন তাদের হস্তীবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়ে বহু হাতি ও যোদ্ধাকে হত্যা করে।

আরেকটি যুদ্ধে অঙ্গ, বঙ্গ, পুণ্ড্র, মগধ ও তাম্রলিপ্তের হস্তীবাহিনী পাঞ্চালদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। পাঞ্চালরা ছিল পাণ্ডবদের প্রধান মিত্র। সেই সংঘর্ষে সাত্যকি একজন বঙ্গরাজের হাতি ও তার আরোহীকে হত্যা করে। কিন্তু সেই বঙ্গরাজের ব্যক্তিগত নাম মহাভারতে বলা হয়নি।

ভীমের হাতেও কলিঙ্গ, বঙ্গ, অঙ্গ, নিষাদ ও মগধের বহু সৈন্য ও হাতি নিহত হয়েছিল বলে কর্ণপর্বে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মহাভারতের যুদ্ধবর্ণনায় বঙ্গের সবচেয়ে বড় পরিচয় দাঁড়ায় একটি শক্তিশালী হস্তীবাহিনীসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ হিসেবে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। ‘বাংলাদেশ কৌরবদের পক্ষে ছিল’ কথাটি শুনতে আকর্ষণীয় হলেও ইতিহাসের দিক থেকে এটি পুরোপুরি সঠিক নয়। তখন বাংলাদেশ নামে কোনো রাষ্ট্র ছিল না। আজকের বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশ তখন বঙ্গ, পুণ্ড্র ও অন্যান্য জনপদের অধীন ছিল। মহাভারতের যুদ্ধবর্ণনায় বঙ্গ ও পুণ্ড্রের অধিকাংশ বাহিনীকে কৌরবপক্ষে দেখা যায়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আজকের বাংলাদেশের পুরো ভূখণ্ড এককভাবে কৌরবদের সমর্থন করেছিল।

মহাভারতে বঙ্গের সঙ্গে অনেক পরিচিত চরিত্রের নাম জড়িয়ে আছে। দীর্ঘতমা, রাজা বলি, রানি সুদেষ্ণা, অর্জুন, যুধিষ্ঠির, ভীম, কৃষ্ণ, পৌণ্ড্রক বাসুদেব, জরাসন্ধ, কর্ণ, দুর্যোধন, ঘটোৎকচ, ভগদত্ত, ধৃষ্টদ্যুম্ন ও সাত্যকির কাহিনিতে কোনো না কোনোভাবে বঙ্গের নাম এসেছে।

তবে এদের সবাই বঙ্গের রাজা ছিল না। পৌণ্ড্রক বাসুদেবের সঙ্গে বঙ্গের শাসনসম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় নামহীন বঙ্গরাজের কথাও পাওয়া যায়। ভগদত্তের পরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। আর সমুদ্রসেন ও চন্দ্রসেনকে নিশ্চিতভাবে বঙ্গরাজ বলা যায় না।

সব মিলিয়ে মহাভারতের কাহিনিতে বঙ্গ ছিল বংশকথার অংশ, তীর্থভূমি, রাজনৈতিক জনপদ, রাজসূয় যজ্ঞে অংশগ্রহণকারী শক্তি এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সক্রিয় পক্ষ। বিশেষ করে বঙ্গের হস্তীবাহিনী তার সামরিক পরিচয়কে আলাদা করেছে।

তবে মহাভারতকে সরাসরি ইতিহাসের বই হিসেবে পড়া যাবে না। এখানে পৌরাণিক কাহিনি, রাজনৈতিক স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং কাব্যিক কল্পনা একসঙ্গে মিশে আছে। তাই আধুনিক বাংলাদেশের মানচিত্র হাতে নিয়ে মহাভারতের বঙ্গকে বিচার করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারপরও এসব উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, আজকের বাংলাদেশ ও তার আশপাশের ভূখণ্ড প্রাচীন উপমহাদেশের কল্পনা ও রাজনৈতিক স্মৃতিতে একেবারে অনুপস্থিত ছিল না।

লেখালেখিতে মন ফেরানোর জন্য মহাভারত নিয়ে বসেছিলাম। বঙ্গের উল্লেখগুলো খুঁজতে গিয়ে মনে হলো, পুরোনো মহাকাব্য পড়া শুধু রাজা, যুদ্ধ বা পৌরাণিক চরিত্রের গল্প জানা নয়। এর ভেতর দিয়ে নিজের ভূখণ্ডের দীর্ঘ স্মৃতির কিছু চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেই দীর্ঘ অতীতের কথা ভাবলে একধরনের আশ্বাস পাওয়া যায়। এই ভূখণ্ড অনেক উত্থান-পতন, যুদ্ধ, শাসন ও বিভাজনের মধ্য দিয়ে টিকে আছে। বর্তমানের সংকট যত কঠিনই মনে হোক, সেটিই বঙ্গের শেষ পরিচয় নয়। বঙ্গের গল্প আরও অনেক পুরোনো, আরও বিস্তৃত এবং এখনও চলমান।

#মহাভারতে_বঙ্গ

সনাতন ধর্মে তুলসীকে "সবচেয়ে পবিত্র" এবং "কল্যাণকারী" মনে করা হয়। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে:​আধ্যাত্মিক কারণ: বৈষ্ণ...
24/06/2026

সনাতন ধর্মে তুলসীকে "সবচেয়ে পবিত্র" এবং "কল্যাণকারী" মনে করা হয়। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে:
​আধ্যাত্মিক কারণ: বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুসারে, তুলসী হলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত এবং তাঁর অর্ধাঙ্গিনী লক্ষ্মীদেবীর একটি রূপ (বা বৃন্দা দেবী)। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী পাতা ছাড়া ভগবান বিষ্ণুর কোনো পূজা বা ভোগ সম্পূর্ণ হয় না। তুলসী গাছ যে বাড়িতে থাকে, সেখানে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না এবং সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
​বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ: তুলসী একটি চমৎকার ঔষধি উদ্ভিদ। এটি বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে এবং প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর পাতা সর্দি, কাশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ অসংখ্য শারীরিক সমস্যায় প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এই বহু গুণাগুণের কারণেই একে অত্যন্ত ভক্তি করা হয়।

সনাতন ধর্মে সকালের সময়টাকে (বিশেষ করে ব্রহ্ম মুহূর্ত ও সূর্যোদয়ের সময়) আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য সবচেয়ে শুভ মনে করা হয়। সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে তুলসী মূলে জল অর্পণ করা, প্রদীপ জ্বালানো এবং প্রদক্ষিণ করাকে দিনটি শুভভাবে শুরু করার একটি মাধ্যম মনে করা হয়।
​প্রকৃতির সাথে সংযোগ: সকালে জল দিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। এছাড়া সকালের তাজা বাতাসে তুলসী গাছের চারপাশে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।
​একটি জরুরি নিয়ম: সনাতন ধর্মে সকালে জল অর্পণ ও পূজার নিয়ম থাকলেও, সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার পর তুলসী পাতা ছেঁড়া বা স্পর্শ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। সন্ধ্যায় কেবল গাছের সামনে প্রদীপ (তুলসী তলায় প্রদীপ) জ্বালিয়ে প্রণাম করার নিয়ম রয়েছে।

সনাতন ধর্মের প্রাচীন গ্রন্থ 'পদ্ম পুরাণ', 'ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ' এবং 'শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ'-এ তুলসী (বৃন্দা) এবং ভগবান বিষ্ণুর কাহিনী বর্ণিত আছে। সেই সৃষ্টির আদি কাল থেকেই তুলসীকে বিষ্ণুপ্রিয়া হিসেবে পূজা করার বিধান দেওয়া হয়েছে।
​ গবেষকদের মতে, বৈদিক যুগের পর যখন পুরাণ ও ভক্তি আন্দোলনের প্রসার ঘটে (আজ থেকে অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার বছর আগে), তখন থেকেই ঘরে ঘরে তুলসী গাছ রোপণ এবং তাকে দেবী রূপে নিত্য পূজা করার প্রচলন পুরোপুরি স্থায়ী রূপ নেয়।
​তুলসী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আধ্যাত্মিক চেতনা, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সুস্বাস্থ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।

শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনপশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীশুভেন্দু অধিকারী
04/05/2026

শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী
শুভেন্দু অধিকারী

Address

Bakarganj

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী রাঁধা কৃষ্ণ মন্দির:

Shortcuts

Share